- প্রচ্ছদ
- Topic
গোলাগুলি
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরি (Erie) শহরের একটি বাড়িতে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী এবং তার দুই অবুঝ শিশুসহ মোট ৯ জন নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যাকাণ্ড চালানোর পর ৪৫ বছর বয়সী সন্দেহভাজন হামলাকারী নিজের বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করেছেন। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত অন্তঃসত্ত্বা নারীর নাম অ্যাঞ্জেলিনা স্টোন। তার সন্তান জন্মদানের কথা ছিল আর মাত্র চার দিন পর। এই হামলায় স্টোনের পাশাপাশি তার দুই সন্তান, দুই ভাই এবং এক পারিবারিক বন্ধুও প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত মোট ৯ জনের মধ্যে আটজনই একই পরিবারের সদস্য এবং একজন পারিবারিক বন্ধু। নিহত স্টোনের পারিবারিক বন্ধু লিসা সিমার্স জানান, স্টোনের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আইজায়া এবং প্রায় দুই বছর বয়সী মেয়ে আমারি’আনা দুজনেই অটিজম স্পেকট্রামে আক্রান্ত ছিল। সিমার্স আক্ষেপ করে বলেন, নিষ্পাপ এই শিশুরা চাইলেও হামলাকারীর বিরুদ্ধে কারো কাছে কিছু বলতে পারত না, অথচ তবুও তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থেকেও ভেতরে থাকা প্রিয়জনদের বাঁচাতে না পারার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন তিনি। শনিবার (১০ অক্টোবর) ইরি শহরের পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খবর পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই এই ৯ জনের মৃত্যু হয় এবং পরবর্তীতে সেখানে আর কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। ইরি শহরের পুলিশ প্রধান রিচার্ড লোরাহ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির বাইরে ৫১ ও ৩৭ বছর বয়সী দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা দেখেছেন, ওই দুই নারী বাড়ির ভেতর থেকে চিৎকার শুনে দরজায় ধাক্কা দিচ্ছিলেন এবং প্রতিবেশীদের সাহায্য চাইছিলেন। এসময় ভেতর থেকে চাপা গুলির শব্দ শোনা যায় এবং কিছুক্ষণ পর হামলাকারী বাইরে বেরিয়ে এসে ওই দুই নারীকে গুলি করে হত্যা করে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, বাড়ির নিচতলা থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলেশিশু ও এক বছর বয়সী এক মেয়েশিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া দোতলা ও সিঁড়ি থেকে ২৪ ও ৪৪ বছর বয়সী দুই নারী এবং ১৯ ও ২১ বছর বয়সী দুই তরুণের মরদেহ পাওয়া যায়। দোতলাতেই একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৪৫ বছর বয়সী সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহ পড়ে ছিল। পুলিশ প্রধান লোরাহ এই দৃশ্যকে তার কর্মজীবনের অন্যতম মর্মান্তিক ও ভীতিকর ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এদিকে, নিহত অ্যাঞ্জেলিনা স্টোন, তার দুই সন্তান এবং অনাগত সন্তান কাইরির (Kyrie) শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) প্ল্যাটফর্মে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। আকস্মিক এই ট্র্যাজেডির পর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে এত বড় খরচের বোঝা একা বহন করা অসম্ভব জানিয়ে স্থানীয়দের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি ব্লক পার্টিতে ভয়াবহ ও নির্বিচার গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন। দুলি কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, আটলান্টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা দক্ষিণের ভিয়েনা শহরের পাইন স্ট্রিটে রাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। একটি উৎসবমুখর জমায়েত মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। দুলি কাউন্টির শেরিফ ক্রেইগ পিভি নিহত দুজনকে শনাক্ত করেছেন। তারা হলেন ২১ বছর বয়সী জ্যাকুভিয়ন জ্যাকসন এবং ২৩ বছর বয়সী ম্যাকক্যালেব জ্যাকসন। এছাড়া আহত ৩৫ জনের বয়স ১৪ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল থেকে শুরু করে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে। শেরিফ পিভি জানান, সপ্তাহান্তের এই ব্লক পার্টিতে প্রায় এক হাজার মানুষ আনন্দে মেতে উঠেছিলেন, কিন্তু হঠাৎ করেই গুলির শব্দে সেখানে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শেরিফ আরও জানান, গোলাগুলি শুরু হওয়ার সময় ব্লক পার্টির দুই প্রান্তেই পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন। গুলির শব্দ শোনার পরপরই আতঙ্কিত জনতার ভিড় ঠেলে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত হতাহতদের কাছে পৌঁছান, যদিও সে সময় আশেপাশে আরও গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। তবে এই ভয়াবহ হামলার পেছনে কী কারণ ছিল বা এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি। অপরাধীদের ধরতে এবং ঘটনার পেছনের কারণ জানতে জোর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে চার দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার ফেডারেল অপরাধ দমন টাস্কফোর্সের এক সদস্যের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। বুধবার সকালে মাদক মামলার একটি পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন মাদকবিরোধী সংস্থা (DEA)-এর সদস্যরা একটি হোটেল কক্ষে অভিযান চালাতে গেলে ভেতরে থাকা ব্যক্তি দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানান। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দরজা ভেঙে প্রবেশ করেন। ঘটনার এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং একজন DEA এজেন্ট গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই ওই ব্যক্তি নিহত হন। প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের মার্শালস সার্ভিস জানায়, নিহত ব্যক্তি টাস্কফোর্স সদস্যদের দিকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেছিলেন। তবে পরে তদন্তকারী সংস্থা টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (TBI) জানায়, কীভাবে পরিস্থিতি গুলিবর্ষণের পর্যায়ে পৌঁছায় তা এখনও তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। এটি চার দিনের মধ্যে মেমফিস সেইফ টাস্কফোর্সের সঙ্গে জড়িত দ্বিতীয় প্রাণঘাতী গুলির ঘটনা। এর আগে গত রোববার ২০ বছর বয়সী টাইরিন জনসন নামে এক যুবক ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের গুলিতে নিহত হন। সেই ঘটনাও তদন্তাধীন রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এই টাস্কফোর্সের সঙ্গে জড়িত ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। ধারাবাহিক এসব মৃত্যুর ঘটনায় টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনার পদ্ধতি, বলপ্রয়োগের নীতি এবং জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির হারলেম এলাকার একটি পার্কে গোলাগুলির ঘটনায় দুই কিশোরসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে স্থানীয় সময় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চার্লস ইয়াং পার্কের খেলার মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (NYPD)। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোরকে বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। একই ঘটনায় ২০ বছর বয়সী এক যুবক কুঁচকিতে এবং ২১ বছর বয়সী আরেকজন ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করে NYPD। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, পার্কের চারপাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত বোতল ও আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, গুলির সুনির্দিষ্ট কারণ ও ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।