সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

চিকিৎসাবিজ্ঞান

এমএস চিকিৎসায় পরিবর্তিত এইচআইভির ওষুধের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা
এইচআইভির ওষুধ বদলে এমএস চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা, গবেষণায় মিলল সাড়া জাগানো ফল

এইচআইভি চিকিৎসায় ব্যবহৃত এক ধরনের ওষুধে পরিবর্তন এনে তৈরি করা নতুন একটি ওষুধ মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস বা এমএসের কারণে তৈরি হওয়া কিছু গুরুতর সমস্যা কমাতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ)-এর অর্থায়নে করা গবেষণায় প্রাণীর ক্ষেত্রে আগে থেকেই তৈরি হওয়া দৃষ্টিশক্তি হারানো ও চলাফেরার সমস্যায় উন্নতির দেখা মিলেছে। তবে এখনো মানুষের ওপর এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়নি।   গবেষণায় **কামুভুডিন-৯ বা কে-৯** নামের পরীক্ষামূলক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এটি এইচআইভি ও হেপাটাইটিস বি চিকিৎসায় ব্যবহৃত এনআরটিআই শ্রেণির অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ থেকে তৈরি একটি পরিবর্তিত সংস্করণ। গবেষকদের ধারণা, কে-৯ মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে থাকা **ইনফ্ল্যামাসোম** নামের একটি প্রক্রিয়া সক্রিয় হতে বাধা দেয়, যা অতিরিক্ত সক্রিয় হলে স্নায়ুকোষের ক্ষতি ও মৃ ত্যু ঘটাতে পারে।   গবেষণায় এমএসের মতো উপসর্গ তৈরি করা ইঁদুরকে কয়েক দিন পর কে-৯ দেওয়া হয়। তখন তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে স্নায়বিক সমস্যা, চলাফেরার দুর্বলতা ও দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি দেখা দিয়েছিল। চিকিৎসার পর গবেষকরা দেখতে পান, কে-৯ দেওয়া প্রাণীগুলো শুধু নতুন স্নায়বিক ক্ষতি থেকে সুরক্ষিতই থাকেনি, বরং আগের কিছু চলাফেরার সমস্যা ও দৃষ্টিশক্তির ক্ষতিও অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে।   গবেষকদের মতে, কে-৯ স্নায়ুর প্রধান অংশ **অ্যাক্সন** এবং তাকে ঘিরে থাকা সুরক্ষামূলক আবরণ **মাইলিন শিথ**কে ক্ষয় থেকে রক্ষা করতে পারে। এই অংশগুলো মস্তিষ্ক ও শরীরের মধ্যে স্নায়ুর সংকেত পৌঁছে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণীদের রক্তে স্নায়ুর ক্ষতির একটি জৈবচিহ্নও কম পাওয়া গেছে, যা চিকিৎসাটির সম্ভাব্য স্নায়ু-সুরক্ষাকারী প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।   গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল মানুষের স্বাস্থ্য-তথ্য বিশ্লেষণ। যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য পর্যালোচনা করে গবেষকরা দেখতে পান, এইচআইভি বা হেপাটাইটিস বি চিকিৎসায় ব্যবহৃত এনআরটিআই ওষুধ গ্রহণকারীদের মধ্যে এমএস শনাক্ত হওয়ার হার কম ছিল। যাদের আগে থেকেই এমএস ছিল, তাদের মধ্যেও পরবর্তী সময়ে রোগের পুনরাবৃত্তির হার তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তবে এই তথ্য থেকে সরাসরি বলা যায় না যে ওই ওষুধগুলো এমএস প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করে।   এমএস হলো কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি রোগ, যা মস্তিষ্ক ও শরীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে স্বাভাবিক তথ্য আদান-প্রদানে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে সুস্থ স্নায়ু টিস্যুতে আক্রমণ করাই মূল সমস্যা। প্রচলিত চিকিৎসাগুলো সাধারণত এই রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে নতুন করে রোগের আক্রমণ বা রিল্যাপ্স কমানোর চেষ্টা করে, কিন্তু আগে থেকে তৈরি হওয়া স্নায়ুর ক্ষতি সাধারণত ঠিক করতে পারে না।   নতুন গবেষণায় অবশ্য আরেকটি প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গবেষকদের মতে, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার আক্রমণ সরাসরি সবসময় স্নায়ুকোষ ধ্বংস করে না; বরং এটি মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের ভেতরে থাকা

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ইরানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে চমকপ্রদ সাফল্য, টিকাদানে বিশ্বসেরা ও বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় তৃতীয় I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে চমকপ্রদ সাফল্য, টিকাদানে বিশ্বসেরা ও বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় তৃতীয়

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসেবায় নিজেদের অভাবনীয় সক্ষমতার এক নতুন চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে ইরান। দেশটির মেডিকেল কাউন্সিলের প্রধান মোহাম্মদ রাইসজাদেহ জানিয়েছেন, সফল টিকাদান কর্মসূচির দিক থেকে ইরান বর্তমানে বিশ্বে প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে।   একই সঙ্গে বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণের আধুনিক চিকিৎসাতেও দেশটির অবস্থান এখন বিশ্বে তৃতীয়। ইয়ং জার্নালিস্টস ক্লাবের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে ইরানের স্বাস্থ্য খাতের এই চমকপ্রদ সাফল্যের তথ্য প্রকাশ করেছে।   স্বাস্থ্য খাতে ইরানের এই অভাবনীয় অগ্রগতির পেছনের অন্যতম কারণ হলো তাদের শক্তিশালী চিকিৎসক কাঠামো। মোহাম্মদ রাইসজাদেহ জানান, বর্তমানে দেশটিতে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি চিকিৎসক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে জনসংখ্যার অনুপাতে ইরানে প্রতি ১০ হাজার মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ১০ হাজার মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের গড় সংখ্যা যেখানে ১৬ জন, সেখানে প্রাপ্যতার দিক থেকে বৈশ্বিক গড়ের চেয়েও বেশ এগিয়ে রয়েছে দেশটি।   টিকাদান ও বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য জটিল অস্ত্রোপচারেও বিস্ময়কর সাফল্য দেখিয়েছে ইরান। দেশটির মেডিকেল কাউন্সিলের প্রধান দাবি করেন, লিভার ও কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেও তারা বর্তমানে বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।   এছাড়া ককলিয়ার ইমপ্লান্ট বা শ্রবণযন্ত্র প্রতিস্থাপন, হৃদ্‌যন্ত্রের জটিল অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল সার্জারির ক্ষেত্রেও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর কাতারে জায়গা করে নিয়েছে ইরান। রাইসজাদেহের মতে, চিকিৎসা খাতের এই ধারাবাহিক অর্জনগুলো মূলত ইরানের আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, দক্ষ চিকিৎসক ও শক্তিশালী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থারই এক অনন্য প্রতিফলন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
আগুনে পুড়ে যাওয়া প্যাট্রিক হার্ডিসনের মুখমণ্ডল ২৬ ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করেন চিকিৎসকরা। ছবি: সংগৃহীত
নারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের মুখ হারান প্যাট্রিক, ১৪ বছর পর পেলেন নতুন চেহারা

একজন নারীকে আগুনের হাত থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে নিজের মুখ ও শরীরের গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী প্যাট্রিক হার্ডিসনের। ১৪ বছর ধরে একের পর এক অস্ত্রোপচারের পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালে নিউইয়র্কে ২৬ ঘণ্টার এক জটিল মুখ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার বদলে দেয় তার জীবন।   ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর। মিসিসিপির সেনাটোবিয়ায় একটি জ্বলন্ত বাড়িতে আটকে থাকা এক নারীকে খুঁজতে ঢুকেছিলেন হার্ডিসন। তিনি তখন স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী। উদ্ধার অভিযানের সময় হঠাৎ ভবনের ছাদ ধসে পড়ে তার ওপর। কোনোভাবে একটি জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলেও ততক্ষণে তার মাথা ও শরীরের ওপরের অংশে আগুন ধরে যায়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।   এই দুর্ঘটনায় তার চোখের পাতা, কান, ঠোঁট এবং নাকের বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়। মাথা থেকে বুক পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় তৈরি হয় গুরুতর ক্ষত ও দাগ। পরবর্তী ১৪ বছরে স্বাভাবিক চেহারা ও শরীরের কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে তাকে ৭১টি পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এত চিকিৎসার পরও তিনি স্বাভাবিকভাবে চোখ বন্ধ করতে বা পলক ফেলতে পারতেন না।   চোখের পাতা না থাকায় তার চোখ সবসময় খোলা থাকত। এতে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও পরিষ্কার রাখার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতো এবং ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। খাওয়াদাওয়া ও হাসার মতো স্বাভাবিক কাজও তার জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। বাইরে বের হলে মানুষের দৃষ্টিও তার দৈনন্দিন জীবনের একটি বড় অস্বস্তির কারণ ছিল।   ২০১৫ সালে তার সামনে আসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি অভূতপূর্ব সুযোগ। নিউইয়র্কের এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন মেডিকেল সেন্টারের প্লাস্টিক সার্জন এডুয়ার্ডো রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ১০০ জনের বেশি চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য চিকিৎসাকর্মী দীর্ঘ প্রস্তুতির পর হার্ডিসনের মুখ প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন।   ১৪ আগস্ট ২০১৫ সকালে শুরু হয় অস্ত্রোপচার। প্রায় ২৬ ঘণ্টা ধরে দুইটি পাশাপাশি অপারেশন কক্ষে চলে জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়া। হার্ডিসনের ক্ষতিগ্রস্ত মুখ ও মাথার টিস্যু সরিয়ে সেখানে একজন মৃতদাতার মুখ, মাথার ত্বক, কান, নাকের কাঠামো, ঠোঁট এবং চোখের পাতা প্রতিস্থাপন করা হয়। চোখের পাতা ও পলক ফেলার সঙ্গে যুক্ত পেশি প্রতিস্থাপন ছিল এই অস্ত্রোপচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।   হার্ডিসনের নতুন মুখের দাতা ছিলেন ২৬ বছর বয়সী ডেভিড রোডবগ। সাইক্লিং দুর্ঘটনায় গুরুতর মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তিনি মস্তিষ্ক-মৃত অবস্থায় ছিলেন। তিনি নিবন্ধিত অঙ্গদাতা ছিলেন। তার পরিবার মুখসহ অন্যান্য অঙ্গ দানের সিদ্ধান্ত নেয়। রোডবগের হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি ও যকৃতও অন্য রোগীদের প্রতিস্থাপনের জন্য দান করা হয়েছিল।   রোডবগের মুখ হার্ডিসনের সঙ্গে শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও টিস্যুর সামঞ্জস্যের দিক থেকে ভালোভাবে মিলে যায়। চিকিৎসকেরা এই মিলকে অস্ত্রোপচারের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেছিলেন। মুখ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে শুধু রক্তের গ্রুপ বা টিস্যুর মিল নয়, মুখের গঠন ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্যও বিবেচনায় নিতে হয়।   অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। দাতা ও গ্রহীতার মাথার সিটি স্ক্যানের ভিত্তিতে বিশেষ কাটিং গাইড তৈরি করা হয়েছিল, যাতে রোডবগের মুখের হাড় হার্ডিসনের মুখের কাঠামোর সঙ্গে যথাসম্ভব নিখুঁতভাবে বসানো যায়। মুখের হাড়কে নির্দিষ্ট অবস্থানে ধরে রাখতে বিশেষ ধাতব প্লেট ও স্ক্রুও ব্যবহার করা হয়।   অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার পর শুরু হয় আরও কঠিন পুনর্বাসন। হার্ডিসনকে নতুন মুখের মাধ্যমে কথা বলা, গিলতে পারা এবং বিভিন্ন মুখের পেশি ব্যবহার করার জন্য আবার প্রশিক্ষণ নিতে হয়। অস্ত্রোপচারের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি নতুন চোখের পাতা ব্যবহার করে পলক ফেলতে সক্ষম হন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কথা বলা ও শক্ত খাবার খাওয়ার ক্ষমতাও ফিরে আসতে শুরু করে।   প্রতিস্থাপনের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি ছিল তার চোখ বন্ধ ও পলক ফেলার ক্ষমতা ফিরে পাওয়া। এর ফলে চোখ আর্দ্র রাখা ও পরিষ্কার করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া পুনরায় কাজ করতে শুরু করে। পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা জানান, এর মাধ্যমে তার দৃষ্টিশক্তি হারানোর যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, তা আর আগের মতো ছিল না। এক বছর পর হার্ডিসন স্বাভাবিকভাবে চোখ বন্ধ করতে, বিভিন্ন মুখের অভিব্যক্তি তৈরি করতে এবং ব্যথা ছাড়াই খেতে পারছিলেন। তিনি গাড়ি চালানোর সক্ষমতাও ফিরে পান।   হার্ডিসনের ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপনের পর শরীর নতুন মুখের টিস্যু প্রত্যাখ্যান করবে কি না, সেটিও ছিল বড় উদ্বেগ। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের প্রথম বছর তিনি বড় ধরনের প্রত্যাখ্যানজনিত জটিলতার মুখে পড়েননি। চিকিৎসকেরা মনে করেন, দাতার সঙ্গে ভালো টিস্যু মিল এবং বিশেষ ওষুধ ব্যবহারের কারণে এই সাফল্য সম্ভব হয়েছিল।   এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের তথ্য অনুযায়ী, এই অস্ত্রোপচার সে সময় পর্যন্ত করা সবচেয়ে বিস্তৃত মুখ প্রতিস্থাপন ছিল। একই সঙ্গে এটি ছিল প্রথমবারের মতো কোনো প্রথম সারির জরুরি সেবাকর্মীর মুখ প্রতিস্থাপন। মুখের পাশাপাশি চোখের পাতা, পলক ফেলার সঙ্গে যুক্ত পেশি, কান এবং নির্দিষ্ট মুখের হাড় প্রতিস্থাপন এই অস্ত্রোপচারকে বিশেষ করে তুলেছিল।   হার্ডিসনের জন্য এই অস্ত্রোপচার শুধু চেহারা পরিবর্তনের বিষয় ছিল না। দুর্ঘটনার পর যে কাজগুলো তিনি বছরের পর বছর করতে পারেননি, সেগুলোর অনেকটাই আবার সম্ভব হয়। চোখ বন্ধ করে ঘুমানো, পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে সময় কাটানো, গাড়ি চালানো এবং মানুষের সামনে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ ফিরে আসে তার জীবনে। এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরে তিনি পরিবারের সঙ্গে ছুটিতে গিয়ে সাঁতারও কাটেন।   চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে হার্ডিসনের ঘটনা মুখ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনাকে নতুন মাত্রা দেয়। একই সঙ্গে এটি দেখায়, অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত কীভাবে একজন মানুষের মৃত্যুর পর অন্য একজনের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে। ডেভিড রোডবগের পরিবার তার অঙ্গ ও মুখ দানের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হার্ডিসন আবারও স্বাভাবিক জীবনের অনেকটা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পান।   হার্ডিসনের অস্ত্রোপচারের পর মুখ প্রতিস্থাপন চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আরও এগিয়েছে। তবে এটি এখনো অত্যন্ত জটিল ও বিরল চিকিৎসা পদ্ধতি। দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ সেবন, শরীরের প্রতিস্থাপিত টিস্যু প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি এবং দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এর সঙ্গে জড়িত। হার্ডিসনের ক্ষেত্রে সফল ফলাফল চিকিৎসকদের এই পদ্ধতি নিয়ে আরও গবেষণা ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা দিয়েছে।   সূত্র: এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথ, নিউইয়র্ক।  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
টাইটানিয়ামেই নতুন জীবন পেলেন আলী
তৃতীয় তলা থেকে পড়ে ৮৩% খুলি ক্ষতিগ্রস্ত, থ্রিডি প্রযুক্তিতে নতুন জীবন পেলেন আলী

তুরস্কের ইস্তাম্বুলের ৪৫ বছর বয়সী দুই সন্তানের বাবা আলী চিফচি জন্মদিনে বাড়িতে ঢোকা এক চোরের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় তৃতীয় তলার জানালা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এতে তার মাথার খুলির প্রায় ৮৩ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ চিকিৎসার মাধ্যমে বিশেষ প্রযুক্তিতে তার খুলির বড় অংশ পুনর্গঠন করেন।  ঘটনার পর আলী মাসের পর মাস আইসিইউতে ছিলেন। পরবর্তী দুই বছরেও তাকে একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা তখন তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ১০ শতাংশ বলে জানিয়েছিলেন।  দীর্ঘ চিকিৎসার পর তার মাথার খুলির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্গঠনে ব্যবহার করা হয় বিশেষভাবে তৈরি টাইটানিয়ামের অংশ। এগুলো তৈরি করা হয়েছিল তুরস্কের হেলথ সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির গুলহানে ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ হাসপাতালের মেডিকেল ডিজাইন অ্যান্ড প্রোডাকশন সেন্টারে।  চিকিৎসকেরা জানান, দুর্ঘটনার পর আলীর কথা বলা, স্মৃতি, ভারসাম্য ও হাঁটার মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু শারীরিক সক্ষমতায় গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছিল। খুলির পুনর্গঠনের পর এসব স্নায়বিক সমস্যার প্রায় ৯০ শতাংশের উন্নতি হয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে আলীর জন্মদিনে। বাড়িতে ঢোকা চোরকে আটকাতে গিয়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে নিচে পড়ে যান। আলী নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন, আর চোর তার ওপর পড়ে পরে পালিয়ে যায় বলে আলী জানিয়েছেন।  দুই বছর চিকিৎসার পর আলীর মাথার আকৃতি অনেকটাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে কাজও শুরু করেন।  আলীর ঘটনা দেখিয়েছে, গুরুতর মাথার আঘাতের চিকিৎসায় আধুনিক মেডিকেল ডিজাইন ও টাইটানিয়াম ইমপ্লান্ট কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও প্রযুক্তির সমন্বয় ক্ষতিগ্রস্ত খুলির বড় অংশ পুনর্গঠনে সহায়তা করেছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
দুই চিকিৎসক ব্যারি মার্শাল ও রবিন ওয়ারেন, যাঁদের গবেষণায় আলসারের সঙ্গে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার সম্পর্কের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
আলসারের কারণ প্রমাণে নিজেই ব্যাকটেরিয়া পান করেছিলেন চিকিৎসক, পরবর্তীতে জিতলেন নোবেল পুরস্কার

দশকের পর দশক ধরে পেটের আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণকেই দায়ী করা হতো। চিকিৎসকদের ধারণা ছিল, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার এবং পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিডের কারণেই আলসার হয়। রোগীদের মূলত অ্যাসিড কমানোর ওষুধ দেওয়া হতো এবং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হতো। কিন্তু এরপরও অনেক রোগীর আলসারের যন্ত্রণাদায়ক উপসর্গগুলো বারবার ফিরে আসত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই প্রতিষ্ঠিত ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার দুজন চিকিৎসক। তাদের যুগান্তকারী এক আবিষ্কার পাল্টে দিয়েছিল পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা।   ১৯৭৯ সালের কথা। ডা. রবিন ওয়ারেন নামের এক চিকিৎসক পাকস্থলীতে প্রদাহ হওয়া রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করছিলেন। তখন তিনি একধরনের অদ্ভুত সর্পিলাকার ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি লক্ষ্য করেন। ওই সময়ে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, পাকস্থলীর চরম অ্যাসিডিক পরিবেশে কোনো ব্যাকটেরিয়াই টিকে থাকতে পারে না। কিন্তু ডা. ব্যারি মার্শাল নামের আরেক চিকিৎসক ডা. ওয়ারেনের এই পর্যবেক্ষণের মাঝে বিশেষ কিছু খুঁজে পান। তারা দুজন মিলে প্রশ্ন তোলেন, আলসারের পেছনে আসলেই এই ব্যাকটেরিয়া দায়ী কি না।   তবে তাদের এই তত্ত্ব চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রবল সন্দেহের মুখে পড়ে। কেউই মানতে রাজি ছিলেন না যে আলসারের কারণ একটি ব্যাকটেরিয়া। এই পরিস্থিতি ডা. মার্শালকে এমন একটি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে, যা আজকের দিনের মানদণ্ডে নৈতিকভাবে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। তিনি নিজেই সেই ব্যাকটেরিয়া মেশানো একটি তরল পান করে বসেন। পরবর্তীতে এই ব্যাকটেরিয়ার নামকরণ করা হয় হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি। মূলত প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করতে তিনি নিজেকেই একটি পরীক্ষাগারে পরিণত করেছিলেন।   ব্যাকটেরিয়া মিশ্রিত তরল পানের কয়েকদিনের মধ্যেই ডা. মার্শাল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার বমি বমি ভাব, বমি হওয়া এবং মুখে দুর্গন্ধের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, তার পাকস্থলীতে মারাত্মক প্রদাহ সৃষ্টি হয়েছে এবং সেখানে ওই ব্যাকটেরিয়ার ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। এরপর তিনি অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেন এবং পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন। যদিও তার এই আত্মঘাতী পরীক্ষাটি একাই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি, তবে এটি এমন একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছিল যা পরবর্তী গবেষণায় সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।   এই যুগান্তকারী আবিষ্কার আলসারের চিকিৎসায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে। শুধু পাকস্থলীর অ্যাসিড কমানো এবং উপসর্গ ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকার বদলে চিকিৎসকরা এখন অ্যাসিড কমানোর ওষুধের পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সরাসরি ব্যাকটেরিয়ার চিকিৎসা করতে পারেন। একসময় যে রোগটিকে দীর্ঘস্থায়ী এবং বারবার ফিরে আসা একটি যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা হিসেবে দেখা হতো, তা এখন পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য হয়ে উঠেছে।   এই আবিষ্কারের গুরুত্ব কেবল আলসারের চিকিৎসাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পরবর্তী গবেষণায় দেখা গেছে, এই ব্যাকটেরিয়ার দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণ পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। তবে আক্রান্ত অনেক মানুষের শরীরে কখনোই আলসার বা ক্যান্সার দেখা দেয় না।   গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বজুড়ে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি বেশ সাধারণ। একটি বড় পরিসরের পর্যালোচনায় অনুমান করা হয়েছে যে, ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী এর উপস্থিতি ছিল ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ, যা ২০১১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে কমে ৪৩ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবুও বিশ্বের প্রতি ১০ জনের মধ্যে অন্তত চারজন এই ব্যাকটেরিয়া বহন করেন।   এই যুগান্তকারী আবিষ্কার চিকিৎসা ব্যবসার একটি বড় বাণিজ্যিক গল্পকেও পাল্টে দিয়েছিল। একসময় আলসারের চিকিৎসায় অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণের ওষুধগুলোই ছিল প্রধান ভরসা। কিন্তু নতুন এই প্রমাণের ফলে চিকিৎসার মনোযোগ শুধু উপসর্গ ব্যবস্থাপনার বদলে মূল কারণটি নির্মূলের দিকে সরে যায়। এটি প্রমাণ করে যে, কীভাবে দীর্ঘদিনের বদ্ধমূল ধারণা রোগীদের চিকিৎসাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। একইসঙ্গে সতর্ক পর্যবেক্ষণ, অধ্যবসায় এবং প্রমাণের ভিত্তিতে কীভাবে চিকিৎসকরা রোগীদের জন্য তাদের জ্ঞানকে নতুন করে লিখতে পারেন, এটি তার একটি বড় উদাহরণ।   এই অসামান্য আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৫ সালে ডা. ব্যারি মার্শাল এবং ডা. রবিন ওয়ারেন চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।   সূত্র: নোবেল পুরস্কার কর্তৃপক্ষ ও পিয়ার-রিভিউড চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
দুর্ঘটনায় হাত হারানোর পর অঙ্গদানের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা শ্রেয়া সিদ্ধানাগৌড়া। ছবি: সংগৃহীত
অন্য ছেলের হাত বসেছিল শরীরে, বদলে গেল চামড়ার রংও! যেন নিজেরই হাত ফিরে পেলেন তরুণী

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় দুই হাত হারিয়েছিলেন ভারতের শ্রেয়া সিদ্ধানাগৌড়া। ২০১৬ সালের ওই দুর্ঘটনায় বাস উল্টে তার দুই হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে কনুইয়ের নিচ থেকে দুই হাতই কেটে ফেলতে হয়। কিন্তু এক বছর পর অঙ্গদানের এক মানবিক সিদ্ধান্ত এবং চিকিৎসকদের অসাধারণ প্রচেষ্টায় আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পান তিনি।    ২০১৭ সালে কেরালার কোচির অমৃতা হাসপাতালে শ্রেয়ার দুই হাতে প্রতিস্থাপন করা হয় একজন পুরুষের দান করা হাত। ১৩ ঘণ্টার এই জটিল অস্ত্রোপচারটি ছিল এশিয়ায় প্রথম সফল ডাবল আপার-আর্ম হ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্ট। একই সঙ্গে পুরুষ দাতার দুই হাত একজন নারী রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপনের ঘটনাটিও ছিল বিশ্বে প্রথম বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল।    শ্রেয়ার জন্য দান করা হাত দুটি এসেছিল ২০ বছর বয়সী এক তরুণের কাছ থেকে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তাকে মস্তিষ্ক-মৃত ঘোষণা করা হলে তার পরিবার হাতসহ বিভিন্ন অঙ্গ দানের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তই শ্রেয়ার জীবনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।    অস্ত্রোপচারের পর শুরু হয় দীর্ঘ পুনর্বাসন। শরীর ও মস্তিষ্ককে নতুন হাতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শ্রেয়াকে এক বছরেরও বেশি সময় ফিজিওথেরাপি করতে হয়। ধীরে ধীরে তিনি নতুন হাতের নড়াচড়া ও অনুভূতি ফিরে পেতে শুরু করেন এবং দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতাও বাড়তে থাকে।    তবে চিকিৎসকদের সবচেয়ে বেশি অবাক করে আরেকটি পরিবর্তন। প্রতিস্থাপনের সময় হাত দুটি শ্রেয়ার নিজের হাতের তুলনায় বড়, গাঢ় রঙের ও বেশি লোমশ ছিল। কয়েক বছর পর দেখা যায়, হাত দুটি আগের তুলনায় সরু হয়েছে এবং ত্বকের রঙও শ্রেয়ার শরীরের রঙের সঙ্গে অনেকটাই মিলে গেছে। এমনকি তিনি নতুন হাত দিয়ে লিখতে, গয়না পরতে এবং নখে রং করতেও শুরু করেন।    এই পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। চিকিৎসকদের ধারণা, শরীরের হরমোন, মেলানিন উৎপাদন এবং দাতার হাতের আগের শারীরিক বৈশিষ্ট্যসহ একাধিক বিষয় এতে ভূমিকা রাখতে পারে। এ নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।  শ্রেয়ার এই ঘটনা শুধু একটি সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপনের গল্প নয়। অঙ্গদানের মাধ্যমে একজন মানুষের পরিবার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা আরেক তরুণীর জীবনকে নতুন করে গড়ে ওঠার সুযোগ দিয়েছে। ২০২৫ সালে অমৃতা হাসপাতাল জানিয়েছে, শ্রেয়া পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ও আইআইএম কলকাতা থেকে এমবিএ সম্পন্ন করে সফটওয়্যার পেশায় যোগ দিয়েছেন।    দুই হাত হারানোর পর যে জীবন থমকে যাওয়ার কথা ছিল, সেখান থেকেই শ্রেয়ার নতুন পথচলাশুরু হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান, অঙ্গদান এবং তার নিজের দৃঢ় মানসিকতার সমন্বয়ে এই ঘটনা আজও অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা ও মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
মাত্র ৮ বছর বয়সে বিরল স্নায়ুরোগ র‍্যাসমুসেনস এনসেফালাইটিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টিনা স্যান্থহাউস। ছবি: সংগৃহীত
৮ বছর বয়সে মস্তিষ্কের অর্ধেক বাদ! এরপর দুই ডিগ্রি অর্জন, করেছেন বিয়েও

মাত্র ৮ বছর বয়সে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ বার খিঁচুনিতে আক্রান্ত হতেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টিনা স্যান্থহাউস। বিরল স্নায়ুরোগ র‍্যাসমুসেনস এনসেফালাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর তার জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকেরা মস্তিষ্কের ডান পাশের পুরো অংশ অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জনস হপকিন্স চিলড্রেনস সেন্টারে প্রায় ১৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে তার মস্তিষ্কের ডান গোলার্ধ অপসারণ করা হয়।    অস্ত্রোপচারটি করেন নিউরোসার্জন ডা. বেন কারসন। র‍্যাসমুসেনস এনসেফালাইটিস একটি বিরল রোগ, যা মস্তিষ্কের একটি অংশে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং গুরুতর খিঁচুনি, শারীরিক দুর্বলতা ও অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যা তৈরি করতে পারে। ক্রিস্টিনার ক্ষেত্রে ওষুধে খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। একপর্যায়ে দিনে ১৫০টিরও বেশি খিঁচুনি হতে থাকে।    হেমিস্ফেরেকটমি নামে পরিচিত এই জটিল অস্ত্রোপচারে আক্রান্ত মস্তিষ্কের অর্ধেক অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর ক্রিস্টিনা শরীরের বাম পাশে বেশিরভাগ মোটর সক্ষমতা হারান। তবে তার স্মৃতি, বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিত্ব অক্ষুণ্ন থাকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অস্ত্রোপচারের পর তার ভয়াবহ খিঁচুনিও বন্ধ হয়ে যায়।    শৈশবের এই কঠিন অভিজ্ঞতা ক্রিস্টিনার পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ১৭ বছর বয়সে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ গাড়ি চালানোর ড্রাইভার লাইসেন্স অর্জন করেন তিনি। পরে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যান এবং মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।    পরবর্তী সময়ে ক্রিস্টিনা স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজিস্ট হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন। অন্যদের কথা বলা ও যোগাযোগের সক্ষমতা উন্নত করতে কাজ করার পাশাপাশি নিজের জীবনও গড়ে তোলেন তিনি। পরে বিয়ে করেন এবং নিজের বাড়ির মালিকও হন।    ক্রিস্টিনার ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানে মস্তিষ্কের অভিযোজন ক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। শৈশবে মস্তিষ্কের একটি গোলার্ধ অপসারণের পরও তার বাকি মস্তিষ্ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব নিতে সক্ষম হয়। ভয়াবহ রোগ ও বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের পরও শিক্ষা, পেশা, পরিবার ও নিজের স্বাভাবিক জীবন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে ক্রিস্টিনা দেখিয়েছেন, শারীরিক সীমাবদ্ধতা সবসময় মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
স্টেম সেল থেকে তৈরি মস্তিষ্কের অর্গানয়েড পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ল্যাবে জীবিত ও বিকশিত রাখা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ল্যাবে তৈরি ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক ৫ বছর ধরে বাঁচিয়ে রাখলেন বিজ্ঞানীরা, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত

বিজ্ঞানীরা ল্যাবে তৈরি ক্ষুদ্র আকারের কৃত্রিম মস্তিষ্ক বা মিনি ব্রেন প্রায় ছয় বছর ধরে জীবন্ত রাখতে সক্ষম হয়েছেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, মানুষের প্রাকৃতিক মস্তিষ্কের মতোই এসব কৃত্রিম মস্তিষ্কেও বার্ধক্যের লক্ষণ দেখা গেছে।   বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ন্যাচার এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে এই যুগান্তকারী সাফল্যের কথা জানানো হয়েছে। গবেষকরা স্টেম সেল থেকে মস্তিষ্কের টিস্যুর সমন্বয়ে এই ব্রেন অর্গানয়েড তৈরি করেছেন, যা মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশের প্রক্রিয়াকে অনুকরণ করতে পারে। সাধারণত এ ধরনের অর্গানয়েড বা কৃত্রিম কোষের পরীক্ষাগুলো মাত্র কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস স্থায়ী হয়। কিন্তু এবার গবেষকরা এগুলোকে কয়েক বছর ধরে টিকিয়ে রাখতে পেরেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে কোষগুলো পরিণত হয়েছে এবং একইসঙ্গে তাদের বয়সের একটি সেলুলার রেকর্ড বা কোষীয় স্মৃতি ধরে রেখেছে।   গবেষকরা দেখেছেন, আসল মস্তিষ্কে যেসব সাধারণ কোষ থাকে, এই কৃত্রিম মস্তিষ্কেও ঠিক সে ধরনের কোষের বিকাশ ঘটেছে। জেনেটিক ও আণবিক পরিমাপ ব্যবহার করে তারা প্রমাণ পেয়েছেন যে, জৈব মস্তিষ্কের টিস্যুগুলো যেভাবে বিকশিত হয়, ল্যাবের এই টিস্যুগুলোও ঠিক একই পথ অনুসরণ করেছে। গবেষকরা যখন পুরনো অর্গানয়েডগুলোকে ভেঙে কাইমেরয়েডস হিসেবে নতুন করে তৈরি করেন, তখন দেখা যায় কোষগুলো তাদের আগের বয়সের স্মৃতি ধরে রেখেছে। এমনকি তারা বিকাশের এমন কিছু ধাপ এড়িয়ে গেছে যা তারা আগেই সম্পন্ন করেছিল।   এই গবেষণা বিজ্ঞানীদের জন্য মস্তিষ্ক বিকাশের প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে আলঝেইমার্স এবং পারকিনসন্স এর মতো মারাত্মক স্নায়বিক রোগগুলো নিয়ে আরও বিশদ গবেষণার পথ খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।   তবে এই মিনি ব্রেনগুলো সত্যিকারের মানুষের মস্তিষ্কের মতো সম্পূর্ণ নয়। এগুলোতে কোনো রক্তনালী নেই। এছাড়া মানুষের মস্তিষ্ক যেভাবে শারীরিক অনুভূতি বা স্নায়বিক তথ্য গ্রহণ করতে পারে, ল্যাবে তৈরি এই মস্তিষ্কগুলোর সেই সক্ষমতা নেই। অর্থাৎ তারা অনেক ধরনের তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না।   ল্যাবে দীর্ঘসময় জীবন্ত মস্তিষ্ক টিকিয়ে রাখার ফলে একটি নৈতিক প্রশ্নও সামনে এসেছে। এই কৃত্রিম মস্তিষ্কের কি নিজস্ব কোনো চেতনা বা অনুভূতি তৈরি হতে পারে? বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা সায়েন্টিফিক আমেরিকান কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গবেষণাপত্রটির জ্যেষ্ঠ লেখক পাওলা আরলোটা জানিয়েছেন, এই অর্গানয়েডগুলোর সামান্যতম চেতনা থাকার সম্ভাবনাও একেবারে নেই বললেই চলে। কোনো কিছুর চেতনা আছে কি না তা নির্ধারণ করা বেশ জটিল বিষয়। তাই এই বিতর্ক দীর্ঘ সময় ধরেই চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত বিজ্ঞানীদের তৈরি এই মস্তিষ্কগুলো ল্যাবে রাখা কিছু স্নায়ুকোষের সমষ্টি মাত্র, যারা কেবল নিজেদের বয়স মনে রাখতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
১৯৯১ সালে কাগলিয়ারিতে এইচআইভি নিয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে রোসারিয়া ইয়ারদিনোকে চুমু দেন চিকিৎসক ফার্নান্দো আইউতি। ছবি: সংগৃহীত
চুম্বনে এইচআইভি ছড়ায় না, প্রমাণ করতে সংবাদমাধ্যমের সামনে আক্রান্ত নারীকে চুমু দেন চিকিৎসক

১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে ইতালির কাগলিয়ারিতে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে এমন এক দৃশ্যের জন্ম হয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে এইচআইভি ও এইডস নিয়ে সামাজিক ভয় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে। ইতালীয় রোগপ্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ ফার্নান্দো আইউতি এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী ২৫ বছর বয়সী রোসারিয়া ইয়ারদিনোকে প্রকাশ্যে ঠোঁটে চুমু দেন।   ঘটনাটি ঘটে ১৯৯১ সালের ২ ডিসেম্বর কাগলিয়ারি মেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এইডস বিষয়ক একটি সম্মেলনে। সে সময় এইচআইভি নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও ভুল ধারণা ছিল। বিশেষ করে চুম্বন বা লালার মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে কি না, তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ছিল। আইউতি ও ইয়ারদিনো সেই ভয় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতীকী বার্তা দিতে নিজেদের উদ্যোগেই এই চুম্বনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।   আইউতি ছিলেন ইতালির এইচআইভি ও এইডস গবেষণা এবং জনসচেতনতার অন্যতম পরিচিত চিকিৎসক। সম্মেলনের সময় এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি মঞ্চ থেকে নেমে ইয়ারদিনোর কাছে যান এবং তাকে আলিঙ্গন করে চুমু দেন। একজন ফটোসাংবাদিক সেই মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দী করেন। পরে ছবিটি ইতালির গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।   ইয়ারদিনো তখন ২৫ বছর বয়সী ছিলেন এবং কয়েক বছর ধরে এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছিলেন। পরে তিনি জানান, সেই চুম্বনের সিদ্ধান্তটি তারা আগের রাতেই নিয়েছিলেন। কারণ শুধু কথা বলা বা বৈজ্ঞানিক তথ্য তুলে ধরার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভয় দূর করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাদের ধারণা ছিল, একটি প্রতীকী ঘটনা মানুষের কাছে বিষয়টি আরও সরাসরি পৌঁছে দিতে পারে।   সেই সময় এইচআইভি আক্রান্ত মানুষদের ঘিরে সামাজিক বৈষম্য ছিল ব্যাপক। অনেকে ভুলভাবে মনে করতেন, আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করা, আলিঙ্গন করা কিংবা একই পরিবেশে থাকার মাধ্যমেও এইচআইভি ছড়াতে পারে। এমন ভুল ধারণার কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিরা পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজে নানা ধরনের বঞ্চনা ও দূরত্বের মুখোমুখি হতেন। ইয়ারদিনো পরবর্তী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তখন সামাজিক কলঙ্ক অনেক মানুষের জীবনে সংক্রমণের চেয়েও বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।   আইউতি ও ইয়ারদিনোর সেই ছবি দ্রুত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ইতালি ছাড়াও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশিত হয়। একসময়ের বিতর্কিত সেই দৃশ্য পরে এইচআইভি আক্রান্ত মানুষদের প্রতি বৈষম্য ও সামাজিক কলঙ্কের বিরুদ্ধে সচেতনতার প্রতীকে পরিণত হয়।   তবে ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক দিকও রয়েছে। এইচআইভি সাধারণ চুম্বন, আলিঙ্গন বা দৈনন্দিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়ায় না। ভাইরাসটি মূলত নির্দিষ্ট ধরনের শারীরিক তরল, যেমন রক্ত, বীর্য, যোনি ও মলদ্বারের তরল এবং বুকের দুধের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। লালায় ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেলেও সাধারণ চুম্বনের মাধ্যমে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি নেই।   ১৯৯১ সালে এই বিষয়গুলো নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে আজকের মতো পরিষ্কার ধারণা ছিল না। ফলে আইউতির প্রকাশ্য চুম্বনকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো পরীক্ষার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং মানুষের ভয় ও ভুল ধারণার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।   ইয়ারদিনো পরবর্তী সময়েও এইচআইভি সচেতনতা ও বৈষম্যবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। আইউতি ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৮৩ বছর বয়সে মারা যান। তার মৃত্যুর পর ইয়ারদিনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে স্মরণ করে সেই ঐতিহাসিক চুম্বনের কথা উল্লেখ করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সেই মুহূর্তকে তাদের দীর্ঘদিনের সচেতনতা কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।   তিন দশকেরও বেশি সময় পরেও কাগলিয়ারির সেই ছবিটি এইচআইভি আক্রান্ত মানুষদের প্রতি বৈষম্য দূর করার আলোচনায় ফিরে আসে। কারণ ঘটনাটি শুধু একজন চিকিৎসকের একজন রোগীকে চুমু দেওয়ার ছবি ছিল না, বরং এমন এক সময়ে সামাজিক ভয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান ছিল, যখন এইচআইভি সম্পর্কে ভুল তথ্য মানুষের আচরণ ও সামাজিক সম্পর্ককে গভীরভাবে প্রভাবিত করছিল।   সূত্র: এএনএসএ, কোরিয়েরে দেলা সেরা

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ব্রুস উইলিসের পরিবার তাঁর মৃত্যুর পর মস্তিষ্ক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দান করার পরিকল্পনা করেছে। ছবি: সংগৃহীত
ব্রুস উইলিসের মৃত্যুর পর মস্তিষ্ক বিজ্ঞান গবেষণায় দানের সিদ্ধান্ত পরিবারের

ব্রুস উইলিসের পরিবার তাঁর মৃত্যুর পর মস্তিষ্ক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দান করার পরিকল্পনা করেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়া বা এফটিডি নিয়ে গবেষণা এগিয়ে নিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।   ২০২৩ সালে উইলিসের পরিবার জানায়, তাঁর আগের অ্যাফেসিয়ার সমস্যা আরও জটিল হয়ে ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়ায় রূপ নিয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে শারীরিক অবস্থার কারণে অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।    ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়া মস্তিষ্কের সামনের ও পাশের অংশে প্রভাব ফেলে এবং এর কারণে ভাষা ও যোগাযোগের সমস্যা, আচরণ ও ব্যক্তিত্বের পরিবর্তনসহ নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে এই রোগের নিরাময় নেই এবং রোগের অগ্রগতি থামানোর নির্দিষ্ট চিকিৎসাও নেই।    পরিবারের পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ভবিষ্যতে গবেষকেরা রোগটির সঙ্গে মস্তিষ্কের পরিবর্তনের সম্পর্ক আরও গভীরভাবে বোঝার সুযোগ পেতে পারেন। এর মাধ্যমে এফটিডির কারণ, রোগের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য চিকিৎসা নিয়ে গবেষণায় নতুন তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।   ‘ডাই হার্ড’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া উইলিসের অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর পরিবার নিয়মিতভাবে রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের পারিবারিক বিবৃতিতেও এফটিডি নিয়ে আরও গবেষণা ও জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছিল।    ২০২৬ সালে তাঁর পরিবারের মস্তিষ্ক গবেষণায় দানের পরিকল্পনার খবর আবারও সামনে এসেছে। আলঝেইমার্স ফাউন্ডেশন অব আমেরিকাও সামাজিক মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    ব্রুস উইলিসের অভিনয়জীবন কয়েক প্রজন্মের দর্শকের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। তাঁর পরিবারের এই সিদ্ধান্ত তাই শুধু ব্যক্তিগত একটি উদ্যোগ নয়, বরং একটি জটিল স্নায়বিক রোগ সম্পর্কে ভবিষ্যৎ গবেষণায় অবদান রাখার একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
মায়ের জন্মের মাত্র এক বছর পরই ফ্রোজেন হয়েছিল ভ্রূণ, ২৪ বছর পর সেই ভ্রূণ থেকেই জন্ম নিলেন এমা
মায়ের জন্মের মাত্র এক বছর পরই ফ্রোজেন হয়েছিল ভ্রূণ, ২৪ বছর পর সেই ভ্রূণ থেকেই জন্ম নিলেন এমা

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে এমন এক ঘটনা ঘটেছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আছে। ২০১৭ সালে এমা রেন গিবসন নামে এক কন্যাশিশুর জন্ম হয় এমন একটি ভ্রূণ থেকে, যা জন্মের আগে প্রায় ২৪ বছর ফ্রোজেন অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, ভ্রূণটি যখন ফ্রোজেন করা হয়, তখন এমার মা টিনা গিবসনের বয়স ছিল মাত্র দেড় বছর।   এমার জন্ম হয় ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর। তার মা টিনা ও বাবা বেঞ্জামিন গিবসন পূর্ব টেনেসিয়ায় বসবাস করতেন। এমার জন্মের সময় তার ওজন ছিল প্রায় ৬ পাউন্ড ৮ আউন্স এবং দৈর্ঘ্য ছিল ২০ ইঞ্চি।   এমার গল্পের শুরু অবশ্য ২০১৭ সালে নয়। ভ্রূণটি ১৯৯২ সালের ১৪ অক্টোবর তৈরি হওয়ার পর ক্রায়োপ্রিজারভেশনের মাধ্যমে ফ্রোজেন করে রাখা হয়েছিল। অর্থাৎ, টিনা গিবসন যখন পৃথিবীতে মাত্র দেড় বছরের শিশু, তখনই ভবিষ্যতের এই সন্তানটির ভ্রূণ ল্যাবে সংরক্ষিত হয়ে যায়।   বহু বছর পর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন টিনা ও বেঞ্জামিন। তারা টেনেসির নক্সভিলের ন্যাশনাল এমব্রিও ডোনেশন সেন্টারের মাধ্যমে একটি দান করা ভ্রূণ গ্রহণ করেন। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে আইভিএফের মাধ্যমে তৈরি এবং অন্য দম্পতির অব্যবহৃত ভ্রূণ অন্য পরিবারকে গর্ভধারণের জন্য দেওয়া হয়।   ২০১৭ সালের মার্চে ভ্রূণটি গলিয়ে টিনার জরায়ুতে স্থানান্তর করা হয়। কয়েক মাসের গর্ভাবস্থার পর নভেম্বর মাসে জন্ম নেয় এমা। তখন এটি দীর্ঘ সময় ফ্রোজেন থাকা কোনো মানব ভ্রূণ থেকে সফলভাবে জন্ম নেওয়ার অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে আলোচিত হয়।   ঘটনাটির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক ছিল সময়ের হিসাব। এমার ভ্রূণটি ১৯৯২ সালে ফ্রোজেন হয়েছিল, অথচ তার মা টিনা জন্মেছিলেন ১৯৯১ সালে। অর্থাৎ, মা যখন শৈশবে, তখনই ভবিষ্যৎ মেয়ের ভ্রূণ একটি ল্যাবে ফ্রোজেন অবস্থায় অপেক্ষা করছিল।   তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ভ্রূণ কত বছর ফ্রোজেন ছিল, সেটিই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। ভ্রূণ গলানোর পর সেটি স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়ে সফল গর্ভধারণ ও জন্মের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এমার সুস্থ জন্ম সেই প্রক্রিয়ার সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছিল।   এমার জন্মের কয়েক বছর পর অবশ্য এই রেকর্ড আরও দীর্ঘ হয়। ২০২০ সালে একই পরিবারের আরেকটি শিশু, মলি গিবসন, এমন একটি ভ্রূণ থেকে জন্ম নেয় যা প্রায় ২৭ বছর ফ্রোজেন ছিল। মলির জন্মের মাধ্যমে এমার সেই সময়কার রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।   তবু এমা গিবসনের গল্পটি বিশেষ হয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য সময়ের ব্যবধানের কারণে। ১৯৯২ সালে ফ্রোজেন হওয়া একটি ক্ষুদ্র ভ্রূণ দুই দশকেরও বেশি সময় অপেক্ষা করে ২০১৭ সালে একটি সুস্থ শিশুর জন্মের মাধ্যমে পৃথিবীর আলো দেখে। আর সেই শিশুকে পৃথিবীতে আনেন এমন একজন মা, যিনি নিজেই ভ্রূণটি ফ্রোজেন হওয়ার সময় ছিলেন মাত্র এক বছরের শিশু।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
১৬ বছর বয়সে খিঁচুনি, এরপরই জেগে উঠল এক বিরল অসাধারণ ক্ষমতা
১৬ বছর বয়সে খিঁচুনি, এরপরই জেগে উঠল এক বিরল অসাধারণ ক্ষমতা

যুক্তরাষ্ট্রের এক তরুণীর জীবনে ১৬ বছর বয়সে হওয়া একটি খিঁচুনি অপ্রত্যাশিত মোড় এনে দেয়। খিঁচুনির পর তিনি এমন এক বিরল স্নায়বিক ক্ষমতার অভিজ্ঞতা পেতে শুরু করেন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানেও অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে বিবেচিত। ঘটনাটি সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং স্নায়ুবিজ্ঞানীদেরও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, খিঁচুনির আগে তার মধ্যে এ ধরনের কোনো বিশেষ দক্ষতার লক্ষণ ছিল না। তবে ঘটনার পর ধীরে ধীরে তিনি এমন সংবেদনগত অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, যা তাকে অন্যদের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে তথ্য উপলব্ধি করতে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে বিরল স্নায়বিক পরিবর্তনের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।   চিকিৎসকদের ভাষ্য, খিঁচুনির পর মস্তিষ্কে কিছু ক্ষেত্রে স্নায়বিক সংযোগের পরিবর্তন ঘটতে পারে। খুব বিরল পরিস্থিতিতে এমন পরিবর্তনের ফলে নতুন ধরনের দক্ষতা বা অস্বাভাবিক সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে। তবে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং অধিকাংশ খিঁচুনির রোগীর ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে না।    বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই ঘটনাকে সাধারণ নিয়ম হিসেবে দেখা উচিত নয়। খিঁচুনি বা স্নায়বিক রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, খিঁচুনির পেছনে টিউমার, এপিলেপসি বা অন্য কোনো স্নায়বিক সমস্যাও থাকতে পারে এবং সময়মতো চিকিৎসা জীবনরক্ষাকারী হতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ডাক্তার হওয়ার লক্ষ্য, ২০ লাখ ডলারের স্কলারশিপ নিয়ে হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে আলাবামার ছাত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের এলিসভিল শহরের এক মেধাবী শিক্ষার্থী অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে আলোচনায় এসেছেন। জাইরেউনা কাউসেট নামের এই হাইস্কুল ছাত্রী কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা কর্মসূচি থেকে মোট ২০ লাখ ডলারেরও বেশি স্কলারশিপ অর্জন করেছেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি মোট ২,০০০,০৪৭ মার্কিন ডলারের স্কলারশিপ পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ২০২৬ সালের ব্যাচের ভ্যালেডিক্টোরিয়ান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর জিপিএ ছিল ৪.২৩, যা তাঁর ধারাবাহিক শিক্ষাগত সাফল্যেরই প্রতিফলন।   জাইরেউনা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি থেকেই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা শুরু করি। তবে আমার সাফল্যের ভিত্তি তৈরি হয় প্রথম শ্রেণি থেকেই, কারণ আমি কখনও ‘বি’ গ্রেড পাইনি।”   তিনি আরও জানান, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে নিয়মিত পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং পরিবারের সমর্থন। স্কুলজীবনে তিনি শুধু পড়াশোনাতেই নয়, নেতৃত্বগুণ ও বিভিন্ন কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে।   আগামী শরতে তিনি হাওয়ার্ড ইউনিভারসিটিতে ভর্তি হবেন। সেখানে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ (OB-GYN) হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চান।   শিক্ষক ও কমিউনিটির সদস্যরা বলছেন, জাইরেউনার এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি বড় অনুপ্রেরণা। কঠোর পরিশ্রম, লক্ষ্য স্থির রাখা এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে যে বড় স্বপ্নও বাস্তবে রূপ নিতে পারে— তারই একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছেন তিনি।

তাবাস্সুম মে ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০