নারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের মুখ হারান প্যাট্রিক, ১৪ বছর পর পেলেন নতুন চেহারা
একজন নারীকে আগুনের হাত থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে নিজের মুখ ও শরীরের গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী প্যাট্রিক হার্ডিসনের। ১৪ বছর ধরে একের পর এক অস্ত্রোপচারের পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালে নিউইয়র্কে ২৬ ঘণ্টার এক জটিল মুখ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার বদলে দেয় তার জীবন।
২০০১ সালের সেপ্টেম্বর। মিসিসিপির সেনাটোবিয়ায় একটি জ্বলন্ত বাড়িতে আটকে থাকা এক নারীকে খুঁজতে ঢুকেছিলেন হার্ডিসন। তিনি তখন স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী। উদ্ধার অভিযানের সময় হঠাৎ ভবনের ছাদ ধসে পড়ে তার ওপর। কোনোভাবে একটি জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলেও ততক্ষণে তার মাথা ও শরীরের ওপরের অংশে আগুন ধরে যায়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এই দুর্ঘটনায় তার চোখের পাতা, কান, ঠোঁট এবং নাকের বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়। মাথা থেকে বুক পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় তৈরি হয় গুরুতর ক্ষত ও দাগ। পরবর্তী ১৪ বছরে স্বাভাবিক চেহারা ও শরীরের কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে তাকে ৭১টি পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এত চিকিৎসার পরও তিনি স্বাভাবিকভাবে চোখ বন্ধ করতে বা পলক ফেলতে পারতেন না।
চোখের পাতা না থাকায় তার চোখ সবসময় খোলা থাকত। এতে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও পরিষ্কার রাখার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতো এবং ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। খাওয়াদাওয়া ও হাসার মতো স্বাভাবিক কাজও তার জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। বাইরে বের হলে মানুষের দৃষ্টিও তার দৈনন্দিন জীবনের একটি বড় অস্বস্তির কারণ ছিল।
২০১৫ সালে তার সামনে আসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি অভূতপূর্ব সুযোগ। নিউইয়র্কের এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন মেডিকেল সেন্টারের প্লাস্টিক সার্জন এডুয়ার্ডো রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ১০০ জনের বেশি চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য চিকিৎসাকর্মী দীর্ঘ প্রস্তুতির পর হার্ডিসনের মুখ প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন।
১৪ আগস্ট ২০১৫ সকালে শুরু হয় অস্ত্রোপচার। প্রায় ২৬ ঘণ্টা ধরে দুইটি পাশাপাশি অপারেশন কক্ষে চলে জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়া। হার্ডিসনের ক্ষতিগ্রস্ত মুখ ও মাথার টিস্যু সরিয়ে সেখানে একজন মৃতদাতার মুখ, মাথার ত্বক, কান, নাকের কাঠামো, ঠোঁট এবং চোখের পাতা প্রতিস্থাপন করা হয়। চোখের পাতা ও পলক ফেলার সঙ্গে যুক্ত পেশি প্রতিস্থাপন ছিল এই অস্ত্রোপচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
হার্ডিসনের নতুন মুখের দাতা ছিলেন ২৬ বছর বয়সী ডেভিড রোডবগ। সাইক্লিং দুর্ঘটনায় গুরুতর মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তিনি মস্তিষ্ক-মৃত অবস্থায় ছিলেন। তিনি নিবন্ধিত অঙ্গদাতা ছিলেন। তার পরিবার মুখসহ অন্যান্য অঙ্গ দানের সিদ্ধান্ত নেয়। রোডবগের হৃদ্যন্ত্র, কিডনি ও যকৃতও অন্য রোগীদের প্রতিস্থাপনের জন্য দান করা হয়েছিল।
রোডবগের মুখ হার্ডিসনের সঙ্গে শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও টিস্যুর সামঞ্জস্যের দিক থেকে ভালোভাবে মিলে যায়। চিকিৎসকেরা এই মিলকে অস্ত্রোপচারের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেছিলেন। মুখ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে শুধু রক্তের গ্রুপ বা টিস্যুর মিল নয়, মুখের গঠন ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্যও বিবেচনায় নিতে হয়।
অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। দাতা ও গ্রহীতার মাথার সিটি স্ক্যানের ভিত্তিতে বিশেষ কাটিং গাইড তৈরি করা হয়েছিল, যাতে রোডবগের মুখের হাড় হার্ডিসনের মুখের কাঠামোর সঙ্গে যথাসম্ভব নিখুঁতভাবে বসানো যায়। মুখের হাড়কে নির্দিষ্ট অবস্থানে ধরে রাখতে বিশেষ ধাতব প্লেট ও স্ক্রুও ব্যবহার করা হয়।
অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার পর শুরু হয় আরও কঠিন পুনর্বাসন। হার্ডিসনকে নতুন মুখের মাধ্যমে কথা বলা, গিলতে পারা এবং বিভিন্ন মুখের পেশি ব্যবহার করার জন্য আবার প্রশিক্ষণ নিতে হয়। অস্ত্রোপচারের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি নতুন চোখের পাতা ব্যবহার করে পলক ফেলতে সক্ষম হন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কথা বলা ও শক্ত খাবার খাওয়ার ক্ষমতাও ফিরে আসতে শুরু করে।
প্রতিস্থাপনের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি ছিল তার চোখ বন্ধ ও পলক ফেলার ক্ষমতা ফিরে পাওয়া। এর ফলে চোখ আর্দ্র রাখা ও পরিষ্কার করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া পুনরায় কাজ করতে শুরু করে। পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা জানান, এর মাধ্যমে তার দৃষ্টিশক্তি হারানোর যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, তা আর আগের মতো ছিল না। এক বছর পর হার্ডিসন স্বাভাবিকভাবে চোখ বন্ধ করতে, বিভিন্ন মুখের অভিব্যক্তি তৈরি করতে এবং ব্যথা ছাড়াই খেতে পারছিলেন। তিনি গাড়ি চালানোর সক্ষমতাও ফিরে পান।
হার্ডিসনের ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপনের পর শরীর নতুন মুখের টিস্যু প্রত্যাখ্যান করবে কি না, সেটিও ছিল বড় উদ্বেগ। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের প্রথম বছর তিনি বড় ধরনের প্রত্যাখ্যানজনিত জটিলতার মুখে পড়েননি। চিকিৎসকেরা মনে করেন, দাতার সঙ্গে ভালো টিস্যু মিল এবং বিশেষ ওষুধ ব্যবহারের কারণে এই সাফল্য সম্ভব হয়েছিল।
এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের তথ্য অনুযায়ী, এই অস্ত্রোপচার সে সময় পর্যন্ত করা সবচেয়ে বিস্তৃত মুখ প্রতিস্থাপন ছিল। একই সঙ্গে এটি ছিল প্রথমবারের মতো কোনো প্রথম সারির জরুরি সেবাকর্মীর মুখ প্রতিস্থাপন। মুখের পাশাপাশি চোখের পাতা, পলক ফেলার সঙ্গে যুক্ত পেশি, কান এবং নির্দিষ্ট মুখের হাড় প্রতিস্থাপন এই অস্ত্রোপচারকে বিশেষ করে তুলেছিল।
হার্ডিসনের জন্য এই অস্ত্রোপচার শুধু চেহারা পরিবর্তনের বিষয় ছিল না। দুর্ঘটনার পর যে কাজগুলো তিনি বছরের পর বছর করতে পারেননি, সেগুলোর অনেকটাই আবার সম্ভব হয়। চোখ বন্ধ করে ঘুমানো, পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে সময় কাটানো, গাড়ি চালানো এবং মানুষের সামনে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ ফিরে আসে তার জীবনে। এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরে তিনি পরিবারের সঙ্গে ছুটিতে গিয়ে সাঁতারও কাটেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে হার্ডিসনের ঘটনা মুখ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনাকে নতুন মাত্রা দেয়। একই সঙ্গে এটি দেখায়, অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত কীভাবে একজন মানুষের মৃত্যুর পর অন্য একজনের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে। ডেভিড রোডবগের পরিবার তার অঙ্গ ও মুখ দানের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হার্ডিসন আবারও স্বাভাবিক জীবনের অনেকটা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পান।
হার্ডিসনের অস্ত্রোপচারের পর মুখ প্রতিস্থাপন চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আরও এগিয়েছে। তবে এটি এখনো অত্যন্ত জটিল ও বিরল চিকিৎসা পদ্ধতি। দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ সেবন, শরীরের প্রতিস্থাপিত টিস্যু প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি এবং দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এর সঙ্গে জড়িত। হার্ডিসনের ক্ষেত্রে সফল ফলাফল চিকিৎসকদের এই পদ্ধতি নিয়ে আরও গবেষণা ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা দিয়েছে।
সূত্র: এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথ, নিউইয়র্ক।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফ্রাঙ্কোনিয়া টাউনশিপে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আবুল কালাম আজাদ নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কাউপাথ রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আজাদের দেশের বাড়ি চাঁদপুর। তিনি ল্যান্সডেলে বসবাস করতেন এবং হ্যাটফিল্ড মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আওয়াজ বিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার দুপুর ১টা ৭ মিনিটে কাউপাথ রোডের ১০০ ব্লকে একটি ধূসর ও একটি রুপালি রঙের সেডানের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে আবুল কালাম আজাদ নিহত হন। দুর্ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য গ্র্যান্ড ভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর কাউপাথ রোডের একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। লেইডি রোড থেকে মিডো উড লেন পর্যন্ত সড়কটি যান চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। দুর্ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল কাজ করে। ফ্রাঙ্কোনিয়া টাউনশিপ পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে হ্যাটফিল্ড ও টোওয়ামেসিন পুলিশ এবং মন্টগোমারি কাউন্টি ডিটেকটিভ ব্যুরো সহায়তা করছে। তবে দুই গাড়ির সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। নিহত আবুল কালাম আজাদ চার ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। সন্তানদের মধ্যে ১৪ ও ৮ বছর বয়সী দুই ছেলে, ৭ বছর বয়সী এক মেয়ে এবং ৯ মাস বয়সী যমজ দুই ছেলে রয়েছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে ল্যান্সডেল ও হ্যাটফিল্ড এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার কারণ ও ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি জানতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: আওয়াজ বিডির
পেনসিলভানিয়ায় দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাংলাদেশি আবুল কালাম নিহত
নারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের মুখ হারান প্যাট্রিক, ১৪ বছর পর পেলেন নতুন চেহারা
করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির সন্দেহে ৮ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে সরকারি ঋণ থেকে নিষিদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র
পৃথিবীর কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনীর কাছে বর্তমানে কক্ষপথে থাকা এমন অস্ত্র রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের আক্রমণাত্মক তৎপরতার বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনীকে রক্ষায় ব্যবহার করা যেতে পারে। সোমবার মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেইঙ্ক এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, মহাকাশে পরিবর্তিত ও ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই কক্ষপথে মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। তবে অস্ত্রগুলোর ধরন, সংখ্যা, কীভাবে কাজ করে কিংবা ঠিক কখন এগুলো কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি মেইঙ্ক। সাংবাদিকদের সঙ্গে পরে এক বৈঠকেও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, এসব সক্ষমতার বিস্তারিত প্রকাশ করলে প্রতিরোধমূলক উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মেইঙ্কের এই বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে মহাকাশে অস্ত্র থাকার সবচেয়ে সরাসরি প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা মহাকাশে সম্ভাব্য সামরিক সক্ষমতা, প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট মোকাবিলা এবং মহাকাশভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বললেও কক্ষপথে ইতোমধ্যে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি এভাবে প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, রাশিয়া ও চীন মহাকাশে এমন সক্ষমতা তৈরি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্যাটেলাইটের যোগাযোগ, নজরদারি ও নেভিগেশন ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত বা অকার্যকর করতে পারে। এসব আশঙ্কার কারণেই ওয়াশিংটন মহাকাশে নিজেদের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে। মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর ভাষায়, ‘মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ’ বলতে এমন সক্ষমতাকে বোঝায়, যার মাধ্যমে মহাকাশে নিজেদের ও মিত্রদের সম্পদ সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনে প্রতিপক্ষের সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করা, দুর্বল করা বা অকার্যকর করা যায়। এসব ব্যবস্থা প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক দুই ধরনের কাজেই ব্যবহার করা সম্ভব বলে বাহিনীটি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশভিত্তিক সামরিক পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই পরিকল্পনার আওতায় কক্ষপথ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করার সক্ষমতা তৈরির কাজ চলছে। বিমানবাহিনীর সচিব জানিয়েছেন, মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ব্যবস্থার জন্য ইতোমধ্যে উড়ান-প্রস্তুত হার্ডওয়্যার তৈরি হয়েছে। মেইঙ্ক আরও জানিয়েছেন, মহাকাশভিত্তিক আকাশপথের লক্ষ্য শনাক্ত করার স্যাটেলাইট ব্যবস্থার প্রথম উপগ্রহ চলতি মাসেই উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশে থাকা শত্রু বিমান বা অন্যান্য উড়ন্ত লক্ষ্য শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে মার্কিন মহাকাশ বাহিনী। মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন ইতোমধ্যে স্যাটেলাইট ও মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে। ফলে পৃথিবীর কক্ষপথ ভবিষ্যতে সামরিক প্রতিযোগিতার আরও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তবে মহাকাশে সব ধরনের অস্ত্র নিষিদ্ধ নয়। ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি বা মহাকাশ চুক্তি পৃথিবীর কক্ষপথে পারমাণবিক অস্ত্রসহ অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু প্রচলিত অস্ত্র, স্যাটেলাইট বাধাগ্রস্ত করার ব্যবস্থা বা অন্যান্য অ-পারমাণবিক সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে একই ধরনের পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা নেই। গত কয়েক বছর ধরে রাশিয়া ও চীনের মহাকাশ কার্যক্রম নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর মতে, চীন সামরিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মহাকাশ ও মহাকাশ-বিরোধী সক্ষমতা তৈরি করছে। রাশিয়াকেও মহাকাশকে ভবিষ্যৎ সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করার অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, রাশিয়া এমন একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে বলে তারা মনে করে, যা অন্য মহাকাশযানকে আক্রমণ করার সক্ষমতা রাখতে পারে। এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার দুটি স্যাটেলাইট ইউরোপের অন্তত এক ডজন স্যাটেলাইটের যোগাযোগে হস্তক্ষেপ করেছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনী ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কয়েক দশকের মধ্যে এটি ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর নতুন শাখা। মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ, নজরদারি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট সুরক্ষিত রাখাই শুরুতে এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। এখন সেই দায়িত্বের পাশাপাশি প্রয়োজনে প্রতিপক্ষের মহাকাশ সক্ষমতা মোকাবিলার জন্য আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে বাহিনীটি। মেইঙ্কের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কক্ষপথে মার্কিন অস্ত্র থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলো। তবে সেগুলো কী ধরনের অস্ত্র এবং কী পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দেশটির মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতার প্রকৃত পরিধি আপাতত অজানাই থাকছে। সূত্র: বিবিসি, এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিন ও মার্কিন মহাকাশ বাহিনী।
৪ বছর বয়সে চিকিৎসকরা বলেছিলেন সে কখনো স্বাবলম্বী হবে না, আজ তিনি হতে যাচ্ছেন ডাক্তার
নিউইয়র্কে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যয় সামলাতে সর্বোচ্চ ২০০ ডলার করে পাচ্ছেন বাসিন্দারা
প্রথম দেখা করতে ফ্লোরিডা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া, পরদিনই গাড়ি দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি গ্রিন কার্ডধারীদের মার্কিন কর-বাসিন্দার মর্যাদা শেষ করার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত চার প্রান্তিকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সংখ্যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ চার প্রান্তিকে মোট ৫ হাজার ৭৯০ জনের নাম যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বা দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা হারানো ব্যক্তিদের তালিকায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রবাসীদের করসংক্রান্ত সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান গ্রিনব্যাক এক্সপ্যাট ট্যাক্স সার্ভিসেসের বিশ্লেষণ বলছে, ছয় বছরের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ চার প্রান্তিকের মোট সংখ্যা। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। ওই সময়ে তালিকায় ১ হাজার ৭৮১ জনের নাম প্রকাশ করা হয়, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৬৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। ফলে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মোট নাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৪৩টি, যা গত বছরের প্রথমার্ধের তুলনায় ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। তবে এই তালিকা থেকে ঠিক কতজন ব্যক্তি ওই সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন, তা সরাসরি বলা যায় না। কারণ ফেডারেল রেজিস্টারে সাধারণত মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ কখন কোনো ব্যক্তির মর্যাদা পরিবর্তনের তথ্য পেয়েছে, সেই সময়ের ভিত্তিতে নাম প্রকাশ করা হয়। নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা ত্যাগের প্রকৃত তারিখ এর আগে বা পরে হতে পারে। তালিকায় সাবেক মার্কিন নাগরিকদের পাশাপাশি কিছু দীর্ঘমেয়াদি গ্রিন কার্ডধারীও থাকেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের কর-বাসিন্দার মর্যাদা শেষ করেছেন। গ্রিনব্যাকের ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে ৫০০ জনেরও কম মার্কিন নাগরিকত্ব হারিয়েছেন বা ত্যাগ করেছেন। ওই সময়ে বছরে গড়ে নাম প্রকাশিত হয়েছিল ৪৫২টি। ২০১০ সালে বিদেশে থাকা মার্কিন নাগরিকদের আর্থিক সম্পদ ও হিসাবের ওপর নজরদারি বাড়াতে ফরেন অ্যাকাউন্ট ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স অ্যাক্ট বা এফএটিসিএ পাস হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। এই আইনের আওতায় বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাদের মার্কিন গ্রাহকদের বিদেশে থাকা আর্থিক সম্পদের তথ্য জানাতে হয়। বিদেশে বসবাসকারী অনেক মার্কিন নাগরিকের জন্য এই করব্যবস্থা ও প্রতিবেদন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা বাড়তি ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম এমন দেশ, যেখানে নাগরিকরা বিদেশে বসবাস করলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাদের বৈশ্বিক আয়ের ওপর করসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতার মধ্যে থাকতে হয়। ২০১৪ সালে এফএটিসিএ কার্যকর হওয়ার পর নাগরিকত্ব ত্যাগের সংখ্যাও দ্রুত বাড়তে থাকে। গ্রিনব্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে এক বছরে ৫ হাজার ৪০৯ জনের নাম প্রকাশিত হয়েছিল। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা কমে ২ হাজার ৭১-এ নেমে আসে। এরপর ২০২০ সালে তা আরও বেড়ে ৬ হাজার ৭০৫ জনে পৌঁছে, যা তখন আধুনিক ইতিহাসের সর্বোচ্চ বার্ষিক সংখ্যা ছিল। এরপর সংখ্যায় কিছু ওঠানামা থাকলেও নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। সর্বশেষ চার প্রান্তিকের ৫ হাজার ৭৯০ জনের সংখ্যা সেই ধারাবাহিকতারই নতুন উদাহরণ। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশে বসবাসকারী কিছু মার্কিন নাগরিক করব্যবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আদর্শগত কারণেও নাগরিকত্ব ছাড়ার কথা জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতি অসন্তোষও কারও কারও সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক বৃদ্ধির পেছনে একটি বাস্তব ও সরাসরি কারণ হিসেবে নাগরিকত্ব ত্যাগের ফি কমে যাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল থেকে নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়াকরণ ফি ৮০ শতাংশ কমিয়ে ২ হাজার ৩৫০ ডলার থেকে ৪৫০ ডলারে নামিয়ে আনে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা ভাবছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় অনেক কম ব্যয়বহুল হয়েছে। ২০১০ সালের আগে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য কোনো ফি ছিল না। পরে ৪৫০ ডলার ফি চালু করা হয়। ২০১৫ সালে তা বাড়িয়ে ২ হাজার ৩৫০ ডলার করা হয়েছিল। ফলে ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের খরচ বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ছিল। চলতি বছর সেই ফি আবার ৪৫০ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিদেশে থাকা কোনো মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে চাইলে তাকে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সাধারণত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি পূরণ, সাক্ষাৎকার এবং আনুষ্ঠানিক শপথের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এরপর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আবেদন পর্যালোচনা করে নাগরিকত্ব হারানোর সনদ অনুমোদন করলে নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করে দিয়েছে, নাগরিকত্ব ত্যাগ একটি অত্যন্ত গুরুতর এবং সাধারণত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। কোনো ব্যক্তি অন্য দেশের নাগরিকত্ব না রাখলে এই প্রক্রিয়ার ফলে তিনি রাষ্ট্রহীনও হয়ে যেতে পারেন। নাগরিকত্ব ত্যাগের পর সাধারণভাবে মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করার অধিকারও থাকে না। করসংক্রান্ত বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকত্ব ত্যাগ করলেই আগের সব কর-দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নাগরিকত্ব ত্যাগের আগের সময়ের কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা এবং কিছু ক্ষেত্রে পরবর্তী করের দায়ও প্রযোজ্য হতে পারে। মার্কিন সরকার আরও জানিয়েছে, কর এড়ানোর উদ্দেশ্যে নাগরিকত্ব ত্যাগ করা হয়েছে বলে নির্ধারিত হলে কিছু পরিস্থিতিতে ওই ব্যক্তি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। গ্রিনব্যাকের সর্বশেষ বিশ্লেষণ বলছে, সাম্প্রতিক বৃদ্ধিকে শুধু একটি কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। করব্যবস্থার জটিলতা, বিদেশে বসবাসের খরচ, নাগরিকত্ব ত্যাগের ফি কমে যাওয়া এবং কিছু ব্যক্তির রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত মিলেই এই প্রবণতায় ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্য প্রকাশের সময় ও প্রকৃত নাগরিকত্ব ত্যাগের সময়ের মধ্যে পার্থক্য থাকায় সংখ্যাগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করাও জরুরি। সূত্র: নিউজউইক, গ্রিনব্যাক এক্সপ্যাট ট্যাক্স সার্ভিসেস ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা
সম্পূর্ণ পোশাক খুলে আশপাশের যাত্রীদের সঙ্গে অশা লী ন আচরণ, নারী আ ট ক