সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
স্বাস্থ্য

বিশ্বে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হলো এআইয়ের তৈরি ভাইরাস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ০:১৫
এআই-নকশার ব্যাকটেরিওফাজ মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহারের দাবি ঘিরে নতুন সম্ভাবনা ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
এআই-নকশার ব্যাকটেরিওফাজ মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহারের দাবি ঘিরে নতুন সম্ভাবনা ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

অ্যান্টিবায়োটিকে কাজ হচ্ছে না, এমন গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে নকশা করা ভাইরাস ব্যবহারের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকস। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, তাদের ‘অমনি-১’ নামের এআই মডেল দিয়ে তৈরি ব্যাকটেরিওফাজ একজন রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োগ করা হয়েছে। ২০ অক্টোবর নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ঘোষণায় তারা ঘটনাটিকে এ ধরনের ভাইরাসের প্রথম মানব-প্রয়োগ বলে উল্লেখ করে। তবে দাবিটি এখনো কোনো সমকক্ষ-পর্যালোচিত বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যাচাই হয়নি।

 

ব্যাকটেরিওফাজ হলো এমন এক ধরনের ভাইরাস, যা নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে এবং ধ্বংস করতে পারে। এগুলো মানুষের কোষকে লক্ষ্য করে না। অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে ওঠা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ চিকিৎসায় এ ধরনের ভাইরাস ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন। প্রচলিত পদ্ধতিতে রোগীর শরীরে থাকা ব্যাকটেরিয়ার ধরন শনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রাকৃতিক ভাইরাস খুঁজে বের করতে হয়। নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার জন্য উপযুক্ত ভাইরাস খুঁজে পাওয়া সময়সাপেক্ষ হতে পারে।

 

র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকসের দাবি, তাদের অমনি-১ মডেল রোগীর সংক্রমণের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার ধরন শনাক্ত করে সেটিকে আক্রমণ করতে সক্ষম ব্যাকটেরিওফাজের নকশা তৈরি করতে পারে। প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা ব্যাকটেরিয়ার নমুনার ওপর পরীক্ষাগারে এআই-নকশার ভাইরাসের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। ওই পরীক্ষায় ভাইরাসের মিশ্রণটি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার নমুনা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। এরপর বিশেষ অনুমোদনপ্রাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার আওতায় রোগীকে পরীক্ষামূলক চিকিৎসাটি দেওয়া হয়।

 

তবে চিকিৎসা পাওয়ার পর রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে কি না, সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। রোগীর রোগনির্ণয় ও চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্যও গোপন রাখা হয়েছে। র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকস জানিয়েছে, রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থেই এসব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। ফলে পরীক্ষাগারে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের সাফল্যকে রোগীর শরীরে চিকিৎসার কার্যকারিতার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

 

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) ‘এক্সপ্যান্ডেড অ্যাকসেস’ বা বিশেষ ব্যবহারের ব্যবস্থায় গুরুতর অসুস্থ রোগীরা প্রচলিত চিকিৎসায় সন্তোষজনক বিকল্প না থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নিতে পারেন। এটি সাধারণ ব্যবহারের জন্য কোনো ওষুধ বা চিকিৎসাপদ্ধতির অনুমোদন নয়। এফডিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, এ ধরনের চিকিৎসার সম্ভাব্য উপকার ও ঝুঁকি বিবেচনা করে অনুমতি দেওয়া হয়। র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকসের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের তৈরি ভাইরাসও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এ ধরনের ব্যবস্থায় প্রয়োগ করা হয়েছে।

 

এআই দিয়ে ব্যাকটেরিওফাজ তৈরির গবেষণা অবশ্য এর আগেও হয়েছে। চলতি বছরের ৬ আগস্ট স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আর্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা ‘ইভো-২’ নামের এআই মডেল ব্যবহার করে ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে এমন নতুন ভাইরাস নকশার গবেষণা প্রকাশ করেন। প্রায় ৩০০টি নকশা তৈরি ও পরীক্ষার পর ১৬টি কার্যকর ভাইরাস পাওয়া যায়। তবে ওই গবেষণা হয়েছিল পরীক্ষাগারে ব্যাকটেরিয়ার ওপর, কোনো মানুষের শরীরে নয়।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ব্যাকটেরিওফাজ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় সম্ভাবনাময় হলেও এর কার্যকারিতা, নিরাপত্তা ও ব্যবহার নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। ব্যাকটেরিয়ার ধরনভেদে ভাইরাসের কার্যকারিতা বদলে যেতে পারে এবং ব্যাকটেরিয়াও সময়ের সঙ্গে ফাজের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। তাই এআই-নকশার ভাইরাস মানুষের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠায় নিয়ন্ত্রিত গবেষণা এবং দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ জরুরি।

 

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকস, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

স্বাস্থ্য

View more
এআই-নকশার ব্যাকটেরিওফাজ মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহারের দাবি ঘিরে নতুন সম্ভাবনা ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বিশ্বে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হলো এআইয়ের তৈরি ভাইরাস

অ্যান্টিবায়োটিকে কাজ হচ্ছে না, এমন গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে নকশা করা ভাইরাস ব্যবহারের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকস। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, তাদের ‘অমনি-১’ নামের এআই মডেল দিয়ে তৈরি ব্যাকটেরিওফাজ একজন রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োগ করা হয়েছে। ২০ অক্টোবর নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ঘোষণায় তারা ঘটনাটিকে এ ধরনের ভাইরাসের প্রথম মানব-প্রয়োগ বলে উল্লেখ করে। তবে দাবিটি এখনো কোনো সমকক্ষ-পর্যালোচিত বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যাচাই হয়নি।   ব্যাকটেরিওফাজ হলো এমন এক ধরনের ভাইরাস, যা নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে এবং ধ্বংস করতে পারে। এগুলো মানুষের কোষকে লক্ষ্য করে না। অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে ওঠা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ চিকিৎসায় এ ধরনের ভাইরাস ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন। প্রচলিত পদ্ধতিতে রোগীর শরীরে থাকা ব্যাকটেরিয়ার ধরন শনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রাকৃতিক ভাইরাস খুঁজে বের করতে হয়। নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার জন্য উপযুক্ত ভাইরাস খুঁজে পাওয়া সময়সাপেক্ষ হতে পারে।   র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকসের দাবি, তাদের অমনি-১ মডেল রোগীর সংক্রমণের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার ধরন শনাক্ত করে সেটিকে আক্রমণ করতে সক্ষম ব্যাকটেরিওফাজের নকশা তৈরি করতে পারে। প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা ব্যাকটেরিয়ার নমুনার ওপর পরীক্ষাগারে এআই-নকশার ভাইরাসের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। ওই পরীক্ষায় ভাইরাসের মিশ্রণটি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার নমুনা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। এরপর বিশেষ অনুমোদনপ্রাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার আওতায় রোগীকে পরীক্ষামূলক চিকিৎসাটি দেওয়া হয়।   তবে চিকিৎসা পাওয়ার পর রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে কি না, সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। রোগীর রোগনির্ণয় ও চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্যও গোপন রাখা হয়েছে। র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকস জানিয়েছে, রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থেই এসব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। ফলে পরীক্ষাগারে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের সাফল্যকে রোগীর শরীরে চিকিৎসার কার্যকারিতার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।   যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) ‘এক্সপ্যান্ডেড অ্যাকসেস’ বা বিশেষ ব্যবহারের ব্যবস্থায় গুরুতর অসুস্থ রোগীরা প্রচলিত চিকিৎসায় সন্তোষজনক বিকল্প না থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নিতে পারেন। এটি সাধারণ ব্যবহারের জন্য কোনো ওষুধ বা চিকিৎসাপদ্ধতির অনুমোদন নয়। এফডিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, এ ধরনের চিকিৎসার সম্ভাব্য উপকার ও ঝুঁকি বিবেচনা করে অনুমতি দেওয়া হয়। র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকসের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের তৈরি ভাইরাসও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এ ধরনের ব্যবস্থায় প্রয়োগ করা হয়েছে।   এআই দিয়ে ব্যাকটেরিওফাজ তৈরির গবেষণা অবশ্য এর আগেও হয়েছে। চলতি বছরের ৬ আগস্ট স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আর্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা ‘ইভো-২’ নামের এআই মডেল ব্যবহার করে ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে এমন নতুন ভাইরাস নকশার গবেষণা প্রকাশ করেন। প্রায় ৩০০টি নকশা তৈরি ও পরীক্ষার পর ১৬টি কার্যকর ভাইরাস পাওয়া যায়। তবে ওই গবেষণা হয়েছিল পরীক্ষাগারে ব্যাকটেরিয়ার ওপর, কোনো মানুষের শরীরে নয়।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ব্যাকটেরিওফাজ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় সম্ভাবনাময় হলেও এর কার্যকারিতা, নিরাপত্তা ও ব্যবহার নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। ব্যাকটেরিয়ার ধরনভেদে ভাইরাসের কার্যকারিতা বদলে যেতে পারে এবং ব্যাকটেরিয়াও সময়ের সঙ্গে ফাজের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। তাই এআই-নকশার ভাইরাস মানুষের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠায় নিয়ন্ত্রিত গবেষণা এবং দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ জরুরি।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকস, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ০:১৫
তিন বছর কাজের শর্তে মিলবে শিক্ষাঋণ পরিশোধের সুযোগ

নার্সদের জন্য ৫০ হাজার ডলারের সহায়তা, তিন বছর কাজের শর্তে মিলবে শিক্ষাঋণ পরিশোধের সুযোগ

ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্তে নতুন রক্ত পরীক্ষার গবেষণা

ফুসফুসের ক্যানসার ফিরে আসার সংকেত মিলতে পারে স্ক্যানে ধরা পড়ার ১৬ মাস আগেই

চোখের বিরল রোগের চিকিৎসায় ক্ষুদ্র ইমপ্লান্ট

চোখের বিরল রোগে নতুন আশার আলো, চালের দানার সমান যন্ত্রে সুরক্ষিত থাকতে পারে দৃষ্টি

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে গর্ভবতী নারীদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বাড়ছে
পেনসিলভানিয়ায় গর্ভবতীদের মধ্যে বাড়ছে হাম, সংক্রমণ নিয়ে জন্ম নিচ্ছে নবজাতক

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে গর্ভবতী নারীদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বাড়ছে। এর প্রভাবে কিছু শিশু জন্মের সময়ই হামে আক্রান্ত হচ্ছে। এনবিসি নিউজকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে অঙ্গরাজ্যটিতে অন্তত ৬৬ জন গর্ভবতী নারী হামে আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, অন্তত ছয়টি শিশু জন্মের সময়ই এ ভাইরাসে সংক্রমিত ছিল। তাদের মধ্যে অন্তত দুজন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা নিয়েছে।   অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ আক্রান্ত নবজাতকের মোট সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে চিকিৎসকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থায় হামের সংক্রমণ মা ও অনাগত শিশুর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। হামকে সাধারণত শিশুদের জ্বর ও শরীরে ফুসকুড়ি ওঠার রোগ হিসেবে দেখা হলেও গর্ভাবস্থায় এর পরিণতি আরও জটিল হতে পারে। গর্ভবতী নারী আক্রান্ত হলে প্লাসেন্টার মাধ্যমে ভাইরাস ভ্রূণের শরীরে পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে সন্তান জন্মের কাছাকাছি সময়ে সংক্রমণ হলে নবজাতকের জীবনের প্রথম কয়েক দিনেই রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।   গর্ভাবস্থায় হামের সংক্রমণের সঙ্গে গর্ভপাত, সময়ের আগে সন্তান জন্ম, শিশুর কম ওজন এবং নিউমোনিয়ার মতো জটিলতার ঝুঁকি রয়েছে। নবজাতকের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ায় সংক্রমণ গুরুতর হয়ে উঠতে পারে এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। পেনসিলভানিয়ার ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টির এক বাবা এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, গত আগস্টে তাঁর স্ত্রী হামে আক্রান্ত হন। এর প্রায় এক মাস পর নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রসব শুরু হয়। জন্মের পরপরই তাঁদের শিশুর মৃত্যু হয়। তবে এই নির্দিষ্ট মৃত্যুর সঙ্গে হামের সংক্রমণের সম্পর্ক কীভাবে চিকিৎসকেরা নির্ধারণ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   গর্ভাবস্থায় হামে আক্রান্ত হলে শিশুর দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ঝুঁকিও থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সাবঅ্যাকিউট স্ক্লেরোজিং প্যানএনসেফালাইটিস (এসএসপিই), মস্তিষ্কের একটি বিরল ও প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী রোগ। হামের সংক্রমণের কয়েক বছর পরও এ রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ফলে জন্মের সময় সংক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়া শিশুর ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। পেনসিলভানিয়া স্বাস্থ্য বিভাগের ১৯ অক্টোবরের সতর্কবার্তায় চিকিৎসকদের গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়। অঙ্গরাজ্যটিতে ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ৪২টির বেশি কাউন্টিতে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৩৬০-এ পৌঁছেছে বলে সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে। এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ চিকিৎসকদের জন্য গর্ভাবস্থায় হাম শনাক্ত, সংক্রমণের পর করণীয় এবং নবজাতকের চিকিৎসা বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে।   গর্ভাবস্থায় হামের টিকা দেওয়া যায় না। এমএমআর টিকায় দুর্বল করা জীবিত ভাইরাস থাকায় গর্ভবতীদের জন্য এটি সুপারিশ করা হয় না। তবে সন্তান জন্মের পর যাঁদের হামের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নেই, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শে টিকা নিতে পারেন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও এমএমআর টিকা নেওয়া নিরাপদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভধারণের আগেই হামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া মা ও শিশুকে সুরক্ষিত রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এমএমআর টিকার দুটি ডোজ নেওয়া থাকলে হামের বিরুদ্ধে সুরক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।   কোনো গর্ভবতী নারী হামে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে বা সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। সরাসরি হাসপাতালে যাওয়ার আগে ফোন করে বিষয়টি জানাতে হবে, যাতে অন্য রোগীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো যায়। যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে সংস্পর্শে আসার ছয় দিনের মধ্যে ইমিউন গ্লোবিউলিন দেওয়া হলে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা বা রোগের তীব্রতা কমানো সম্ভব হতে পারে। নবজাতক নিয়মিত হামের টিকা নেওয়ার উপযুক্ত বয়সে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তাদের সুরক্ষার জন্য পরিবারের সদস্য ও পরিচর্যাকারীদের টিকা নেওয়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শিশুর চারপাশের মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সংক্রমণ থেকে তাকে রক্ষা করতে বড় ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থায় হামের সংক্রমণ শুধু মায়ের অসুস্থতার বিষয় নয়, জন্মের পর শিশুর জীবন ও ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যের ওপরও এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে।  

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ০:৫৩
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসে চীনের সাংহাইয়ে থাকা কৃত্রিম কিডনিতে সফলভাবে রোবটিক অস্ত্রোপচারের পরীক্ষা চালিয়েছেন এক চিকিৎসক। ছবি: সংগৃহীত

৭৫০০ কিলোমিটার দূরে বসে রোবটের মাধ্যমে চীনের রোগীর অস্ত্রোপচার করলেন অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসক

ফ্লোরিডার অ্যাডভেন্টহেলথ সেলিব্রেশনের গ্লোবাল রোবটিকস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. বিপুল প্যাটেল

ফ্লোরিডায় রোবটের সাহায্যে ৩৫ মাইল দূরের হাসপাতালে রোগীর সার্জারি করলেন চিকিৎসক

নার্সিংহোমে চাকরি

নার্সিংহোমে চাকরিতে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ, নতুন উদ্যোগ

দীর্ঘ পাঁচ বছর ভেগান ডায়েট অনুসরণ করার পর শারীরিক শক্তি কমে যাওয়ায় পুনরায় মাংস খাওয়া শুরু করেছেন বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ অভিযাত্রী বেয়ার গ্রিলস। ছবি: সংগৃহীত
পাঁচ বছর ভেগান ডায়েটে সুস্থ হয়ে শক্তি হারান, মাংস খেয়েই নিজেকে সুস্থ রাখতে পারছেন বেয়ার গ্রিলস

দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রাণিজ খাবার বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ উদ্ভিদনির্ভর বা ভেগান ডায়েট অনুসরণ করেছিলেন বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ অভিযাত্রী বেয়ার গ্রিলস। কিন্তু এই খাদ্যাভ্যাসের কারণে নিজের শারীরিক শক্তি অনেকটাই কমে গিয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। পরে সেই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে আবার মাংস খাওয়া শুরু করেন। বিশেষ করে প্রাণীর কলিজা, হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির মতো খাবার খাদ্যতালিকায় যুক্ত করার পর নিজের শারীরিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি অনুভব করেছেন বলে জানিয়েছেন ৫২ বছর বয়সী এই অভিযাত্রী। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পর তাঁর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’-এর মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া বেয়ার গ্রিলস গত ১৭ অক্টোবর ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি জানান, পাঁচ বছর ভেগান ডায়েট অনুসরণের সময় তাঁর শারীরিক শক্তি কমে গিয়েছিল। পরে প্রাণীর বিভিন্ন অঙ্গের মাংস খাওয়া শুরু করে সেই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠেছেন বলে মনে করেন তিনি। গ্রিলসের দাবি, ৫২ বছর বয়সে নিজেকে দশ বছর আগের তুলনায় আরও বেশি শক্তিশালী, সুস্থ ও ফিট মনে হচ্ছে। তবে তিনি এটিও স্বীকার করেছেন, এখনো তাঁর বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা রয়েছে এবং তিনি পুরোপুরি সমস্যামুক্ত নন।   বেয়ার গ্রিলসের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের গল্প অবশ্য নতুন নয়। ২০২০ সালের দিকে তিনি সম্পূর্ণ উদ্ভিদনির্ভর খাবার ছেড়ে আবার প্রাণিজ খাবার খাওয়া শুরু করেন। এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের কথা বিবেচনা করেই ভেগান ডায়েট বেছে নিয়েছিলেন তিনি। বাবার অকালমৃত্যুও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে তাঁর চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলেছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন এই খাদ্যাভ্যাস অনুসরণের পর নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের শারীরিক সুস্থতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বিশেষ করে বড় ছেলে জেসির শারীরিক সমস্যার অভিজ্ঞতা তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছিল বলে আগের এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন গ্রিলস।   বর্তমানে তাঁর খাদ্যতালিকায় গরুর মাংসের পাশাপাশি প্রাণীর কলিজা, হৃদ্‌যন্ত্র এবং কিডনির মতো খাবার রয়েছে। এসব খাবারে প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন বি১২ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। গ্রিলসের বিশ্বাস, প্রাণিজ খাবার পুনরায় গ্রহণ করার ফলে তাঁর শরীরের শক্তি ও কর্মক্ষমতা বেড়েছে। তবে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভেগান ডায়েটই শক্তি কমে যাওয়ার কারণ ছিল, এমন সিদ্ধান্ত বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কারণ শারীরিক দুর্বলতার পেছনে খাদ্যাভ্যাস ছাড়াও ঘুম, ব্যায়াম, বয়স, পুষ্টির ঘাটতি এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত কারণ থাকতে পারে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ গরিমা গোয়েলের মতামত তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, কোনো খাবার উদ্ভিদ থেকে এসেছে নাকি প্রাণী থেকে এসেছে, শুধু সেই পরিচয়ের ওপর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নির্ভর করে না। বরং খাবারের পরিমাণ, গুণগত মান এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণীর কলিজায় প্রচুর ভিটামিন বি১২, আয়রন, ভিটামিন এ ও ফোলেট পাওয়া যায়। অন্যদিকে হৃদ্‌যন্ত্রের মাংসে প্রোটিন, আয়রন ও বিভিন্ন বি ভিটামিন থাকে। এসব পুষ্টি উপাদান রক্তকণিকা তৈরি, শরীরে অক্সিজেন পরিবহন এবং পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।   তবে পুষ্টিবিদরা সতর্ক করেছেন, বেয়ার গ্রিলসের অভিজ্ঞতা থেকে সব ভেগান খাবার গ্রহণকারী ব্যক্তি দুর্বল হয়ে পড়বেন, এমন ধারণা করা ঠিক নয়। সঠিকভাবে পরিকল্পিত উদ্ভিদনির্ভর খাদ্যাভ্যাস থেকেও শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি ও প্রোটিন পাওয়া সম্ভব। সয়াবিন, টোফু, ডাল, ছোলা, বিভিন্ন ধরনের বিনস, বাদাম এবং বীজে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ক্যালরি গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং বিশ্রামের মাধ্যমে পেশির শক্তি বজায় রাখা সম্ভব। তবে সম্পূর্ণ ভেগান ডায়েটে বিশেষ করে ভিটামিন বি১২-এর নির্ভরযোগ্য উৎস নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।   যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বা এনএইচএসের নির্দেশনাতেও বলা হয়েছে, পরিকল্পিত ও সুষম ভেগান ডায়েটের মাধ্যমে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া সম্ভব। তবে ভিটামিন বি১২, আয়রন, ক্যালসিয়াম, আয়োডিন ও ভিটামিন ডির মতো উপাদানের ঘাটতি এড়াতে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে প্রাণীর কলিজা অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ারও স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। এতে ভিটামিন এ অনেক বেশি থাকায় নিয়মিত অতিরিক্ত গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এনএইচএস সাধারণভাবে সপ্তাহে একবারের বেশি কলিজা বা কলিজা দিয়ে তৈরি খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দেয়।   পুষ্টিবিদদের মতে, কোনো খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন দুর্বলতা, ক্লান্তি কিংবা পেশির শক্তি কমে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে শুধু খাবারের ধরন বদলে ফেলা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা এবং পুষ্টির ঘাটতি মূল্যায়ন করা উচিত। বেয়ার গ্রিলসের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় ইতিবাচক ফল এনে দিয়েছে বলে তিনি দাবি করলেও সবার ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি কার্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। শরীরের সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে ব্যক্তির বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও শারীরিক পরিশ্রম অনুযায়ী সুষম খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১০:১৭
পুরুষদের জন্য হরমোনবিহীন জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি তৈরিতে গবেষণা

হরমোন ছাড়াই পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণের নতুন পদ্ধতি, মানবদেহে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা

যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ ভয় বাড়াচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ ভয় বাড়াচ্ছে, চলতি বছরেই তৃতীয় মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত

ভিটামিন ডি ও কোষের বার্ধক্য নিয়ে গবেষণা

বার্ধক্যের গতি কমাতে পারে ভিটামিন ডি, হার্ভার্ডের গবেষণায় উঠে এল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

0 Comments