সুদীর্ঘ তিন দশকের পেশাগত সাফল্য, বিশাল অভিজ্ঞতা এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের দক্ষতা যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই যা হওয়ার কথা ছিল সবচেয়ে বড় সম্পদ। অথচ বর্তমান বিশ্বব্যাপী পরিবর্তিত শ্রমবাজারে সেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ বছর বয়সী মার্কিন যোগাযোগের মাধ্যম ও বিষয়বস্তু (কন্টেন্ট) বিশেষজ্ঞ লেসলি সোনেনক্লারের জন্য। গত বছরের মার্চ মাসে চাকরি হারানোর পর টানা ১৪ মাসে তিনি ৩০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করেছেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিজের এই হতাশাজনক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন আমেরিকার এরিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরের বাসিন্দা লেসলি। পেশাগত জীবনে এত বড় ধাক্কা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি তিনি এর আগে কখনো হননি। ১৯৯৪ সালে একজন বিপণন সমন্বয়ক (মার্কেটিং কোঅর্ডিনেটর) হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন লেসলি। পরবর্তীতে তিনি টানা ১১ বছর নিজস্ব ব্যবসা সফলভাবে পরিচালনা করেন এবং সম্প্রতি একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় বিষয়বস্তু ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান বা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু অর্থনৈতিক মন্দা ও প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের প্রবাহে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তিনি চাকরিচ্যুত হন। চাকরি হারানোর পর থেকে নতুন কর্মসংস্থানের জন্য লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই অভিজ্ঞ নারী। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় নিজের অভিজ্ঞতা পুনর্মূল্যায়ন করে প্রতিটি আবেদনের জন্য আলাদা ‘জীবনবৃত্তান্ত’ (রিজিউমি) তৈরি করেছেন। পেশাদার নেটওয়ার্ক লিংকডইন থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এমনকি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের পদ মর্যাদার চাকরির জন্যও আবেদন করতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। তবুও বারবার তিনি উপেক্ষিত হয়েছেন। নিজের এই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লেসলি বিজনেস ইনসাইডারকে বলেন, “চাকরির বিজ্ঞাপনে দেখা যায় শত শত মানুষ আবেদন করছেন। লিংকডইনে যখন দেখি এক একটি পদের জন্য শতাধিক আবেদন জমা পড়েছে, তখন ভাইভা বা সাক্ষাতকারের আগেই মনে হয় আমার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। কোম্পানিগুলো অভিজ্ঞতা চায় ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে তারা এমন এক অদ্ভুত যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী খোঁজে যিনি একই সাথে কৌশল তৈরি করবেন, লেখালেখি করবেন, এসইও সামলাবেন, আবার ডিজাইনও করবেন। একজন জ্যেষ্ঠ পেশাজীবীর ক্ষেত্রে সব বিষয়ে একসাথে সর্বগুণসম্পন্ন হওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে না।” লেসলির ধারণা, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তার বয়সই প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। অনেক নিয়োগকারী সংস্থাই তাকে জীবনবৃত্তান্তে পুরো ৩২ বছরের অভিজ্ঞতার কথা না লিখে কেবল শেষ ১০ বছরের কাজের বিবরণ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা ও বয়সভিত্তিক বৈষম্য (এজইজম) এখন স্পষ্ট। প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় বয়স কম এমন তরুণ কর্মীদের কম বেতনে নিয়োগ দিয়ে নিজের মতো গড়ে নিতে পছন্দ করে, যা জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের সুযোগ সংকুচিত করে দিচ্ছে। প্রথমে শুধুমাত্র ঘরে বসে বা দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে (রিমোট জব) কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও, দীর্ঘ ৯ মাস পর বাধ্য হয়ে নিজের এলাকার স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে সরাসরি কাজের আবেদন শুরু করেন লেসলি। অনলাইনে সরাসরি আবেদনের চেয়ে পরিচিতদের মাধ্যমে বা রেফারেন্সে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিনের পরিচিত ও সহকর্মীদের অনেকেই এখন আর মেসেজের জবাব দেন না, যা তাকে মানসিকভাবে আরও ভেঙে ফেলছে। তবে দীর্ঘ সময় বেকার থাকলেও আগাম আর্থিক পরিকল্পনার কারণে লেসলির অবসরকালীন ফান্ড বা বর্তমান জীবনযাত্রায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি। তিনি আগে থেকেই সঞ্চয়মুখী হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে টানা এক বছর ধরে অবসরকালীন তহবিলে জমা করতে না পারায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খানিকটা চিন্তা থেকে যাচ্ছে। এত সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করছেন এই প্রবীণ পেশাজীবী। তার বিশ্বাস, এটি একটি সাময়িক বিপর্যয় মাত্র এবং দ্রুতই তিনি তার যোগ্যতার মর্যাদা পাবেন। এই ঘটনাটি শুধু লেসলির একার নয়, বরং বিশ্বজুড়ে অভিজ্ঞ ও বয়স্ক কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে যে বৈষম্য ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, এটি তারই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনে গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে কর্মী ছাঁটাই অব্যাহত রয়েছে। ২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া পুনর্গঠন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ৫৭ হাজারের বেশি করপোরেট কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতেই প্রায় ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, শুধু চাকরি হারানো কর্মীরাই নন, প্রতিষ্ঠানে থেকে যাওয়া কর্মীরাও এখন বাড়তি কাজের চাপ, মানসিক ক্লান্তি এবং অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য নেক্সট ওয়েব (টিএনডব্লিউ)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে আগের সমপরিমাণ কাজ এখন কমসংখ্যক কর্মীকে সামলাতে হচ্ছে। অনেক কর্মী একাধিক দলের দায়িত্ব পালন করছেন, ফলে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ বেড়েছে। অনেকের মতে, চাকরি টিকে থাকলেও কাজের পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠান—মেটা, মাইক্রোসফট, সিসকো ও ওরাকল—এছাড়াও হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। ফলে প্রযুক্তি খাতে নতুন চাকরির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে এবং প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগে যেখানে একজন প্রযুক্তি পেশাজীবীর নতুন চাকরি পেতে গড়ে চার মাস সময় লাগত, এখন অনেকের ক্ষেত্রে সেই সময় বেড়ে ১৮ মাস পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতে নিয়োগের ধীরগতি এবং ব্যাপক ছাঁটাইয়ের কারণে অভিজ্ঞ পেশাজীবীরাও দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে বেতন, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও। অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি জ্যাসি এর আগে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানকে আরও দক্ষ, দ্রুতগতির এবং কম প্রশাসনিক স্তরবিশিষ্ট করতে পুনর্গঠন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগের ফলে অনেক ক্ষেত্রে কর্মীসংখ্যা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে কিছু ধরনের করপোরেট চাকরির চাহিদা আরও কমতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যামাজনের এই পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়; বরং পুরো প্রযুক্তি শিল্পের পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। মহামারির সময় দ্রুত সম্প্রসারণের পর এখন অধিকাংশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এআই-নির্ভর কার্যক্রমে জোর দিচ্ছে। এর ফলে একদিকে কর্মী ছাঁটাই অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে যারা চাকরিতে রয়েছেন তাদের ওপরও বাড়ছে কাজের চাপ ও কর্মদক্ষতার প্রত্যাশা। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরে প্রযুক্তি খাতের চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে। তাই বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাকরিপ্রার্থীদের নতুন প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডেটা-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।