যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তিনি চারটি পৃথক ঘটনায় ৯ হাজার ১০০ ডলারেরও বেশি মূল্যের প্রসাধনী, রান্নাঘরের সরঞ্জাম এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চুরি করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম CBS12-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোর্ট লডারডেলের বাসিন্দা লিয়ানা প্লাউ-এর বিরুদ্ধে পাম বিচ কাউন্টির বিভিন্ন উল্টা বিউটি (Ulta Beauty), লোয়েজ হোম ইমপ্রুভমেন্ট (Lowe's) এবং হোম ডিপো (Home Depot) শাখায় সংঘটিত চারটি চুরির ঘটনার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত শেষে গত ৮ জুলাই তাকে পাম বিচ কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয়। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ওয়েলিংটনের একটি উল্টা বিউটি স্টোরে। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, লিয়ানা প্লাউ ও তার সঙ্গে থাকা আরেক নারী দোকানে প্রবেশ করে বিভিন্ন প্রসাধনী ও তিনটি উচ্চমূল্যের চুলের স্টাইলিং যন্ত্র ব্যাগে ভরে মূল্য পরিশোধ না করেই বেরিয়ে যান। চুরি হওয়া পণ্যের মোট মূল্য ছিল ১ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৮৯ ডলার। পুলিশ জানায়, পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি ডাইসন এয়ারর্যাপ স্টাইলিং যন্ত্র মাটিতে পড়ে যায়, যার মূল্য ছিল ৬৪৯ দশমিক ৯৯ ডলার। পরে সেটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী ছবি দেখে লিয়ানা প্লাউকে শনাক্ত করেন। এ ছাড়া তদন্তে উঠে এসেছে, ৫ ডিসেম্বর বোকা রাটনের একটি লোয়েজ স্টোর থেকে তিনি দুই সহযোগীকে নিয়ে ১০টি কোহলার ব্র্যান্ডের রান্নাঘরের কল চুরি করেন। তদন্তকারীদের দাবি, তারা একটি ট্রলিতে কলগুলো তুলে বাগান বিভাগের বের হওয়ার পথ ব্যবহার করে মূল্য পরিশোধ ছাড়াই দোকান ছেড়ে যান। চুরি হওয়া পণ্যের মূল্য ছিল ৩ হাজার ৪০ ডলার। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, পরে এসব পণ্য একটি হোন্ডা সিআর-ভি গাড়িতে তোলা হয়। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনের এক প্রবেশন কর্মকর্তা নজরদারির ছবি দেখে লিয়ানা প্লাউকে শনাক্ত করেন। তিনি আগে থেকেই গুরুতর অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তদারকির সময় প্লাউকে চিনতেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাও তার পরিচয় নিশ্চিত করে। এর মাত্র নয় দিন পর, ১৪ ডিসেম্বর, রয়্যাল পাম বিচের আরেকটি লোয়েজ স্টোরে একই ধরনের আরেকটি চুরির ঘটনা ঘটে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, দোকানের পেছনের জরুরি বহির্গমন পথের অ্যালার্ম বেজে ওঠার পর কর্মীরা বিষয়টি টের পান। নজরদারি ফুটেজে দেখা যায়, লিয়ানা প্লাউ ও তার সহযোগী একাধিক কোহলার রান্নাঘরের কল নিয়ে সব ধরনের বিক্রয় কাউন্টার এড়িয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে যান। পরে সেগুলো একটি রুপালি রঙের টয়োটা ক্যামরি গাড়িতে তোলা হয়। চুরি হওয়া পণ্যের মূল্য ছিল ৩ হাজার ৬৯৮ ডলার। পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের দাবি, এই ঘটনাটি সংঘবদ্ধ খুচরা পণ্য চুরির একটি বড় চক্রের অংশ হতে পারে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের চুরি এবং প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের আরেকটি ঘটনায় দেখা যায়, ৮ ডিসেম্বর লান্টানার একটি হোম ডিপো শাখা থেকে লিয়ানা প্লাউ ও তার সহযোগী প্রবেশমুখের কাছে রাখা মিলওয়াকি ব্র্যান্ডের পাঁচটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র নিয়ে মূল্য পরিশোধ ছাড়াই দোকান ছেড়ে যান। এসব পণ্যের মূল্য ছিল ৪৯৫ ডলার। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ছোট পরিসরের চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ল্যাট্রিস হোয়াইট নামে ৪৭ বছর বয়সী এক নারীকে একাধিক মামলায় সহ-আসামি হিসেবে শনাক্ত করেছেন তদন্তকারীরা। তাদের দাবি, বিভিন্ন দোকান থেকে উচ্চমূল্যের পণ্য পরিকল্পিতভাবে চুরি করার ক্ষেত্রে একই ধরনের কৌশল ও একই ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতেই লিয়ানা প্লাউকে চারটি পৃথক চুরির মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম এখন আদালতে চলবে।
ক্যালিফোর্নিয়া, ৮ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের সময় হাসপাতালের কক্ষ থেকে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী। ঘটনাটি তদন্ত করছে সান দিয়েগো পুলিশ বিভাগ। ভুক্তভোগী সাহারা মোরকুয়েচো স্টেজ-৪ প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারে আক্রান্ত। সম্প্রতি ইউসি সান দিয়েগো হেলথের হিলক্রেস্ট মেডিকেল সেন্টারে তার অস্ত্রোপচার চলাকালে হাসপাতালের কক্ষ থেকে পার্স, মানিব্যাগ, পরিচয়পত্র, নগদ অর্থ, গয়না, এয়ারপডস এবং তার প্রয়াত বাবার কিছু স্মৃতিবিজড়িত ছবি চুরি হয়ে যায় বলে পরিবারের অভিযোগ। সাহারার বোন কালিনা মোরকুয়েচো স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, অস্ত্রোপচার শেষে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও শুরুতে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘটনা প্রতিবেদন করা হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন। পরিবারের দাবি, পরে সাহারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে সক্ষম হলে ‘ফাইন্ড মাই’ অ্যাপের মাধ্যমে তার হারিয়ে যাওয়া এয়ারপডসের অবস্থান সান দিয়েগো কাউন্টির লেমন গ্রোভ এলাকার একটি বাড়িতে শনাক্ত হয়। এরপর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে তদন্তের দায়িত্ব নেয় সান দিয়েগো পুলিশ বিভাগ। পরিবার আরও জানায়, অনুসন্ধানের সময় তারা জানতে পারেন, যে ঠিকানায় এয়ারপডসের অবস্থান শনাক্ত হয়েছে সেখানে বসবাসকারী একজন ব্যক্তি ইউসি সান দিয়েগো হেলথের কর্মী। তবে পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি এবং কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করা হয়নি। ইউসি সান দিয়েগো হেলথ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোগী ও তাদের স্বজনদের নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত সম্পদের সুরক্ষাকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। তবে গোপনীয়তা আইন এবং চলমান তদন্তের কারণে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। সান দিয়েগো পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার বা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, হারিয়ে যাওয়া অর্থ বা গয়নার চেয়েও তাদের কাছে বেশি মূল্যবান ছিল সাহারার প্রয়াত বাবার স্মৃতিবিজড়িত ছবিগুলো। সেগুলো উদ্ধার হওয়াই এখন তাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে একান্ত সচিবের ব্যবহৃত ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এই ভবনের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনের ১৬ তলায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপটি ব্যবহার করতেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলের একান্ত সচিব মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভবনের এই একই তলায় প্রধানমন্ত্রীর আরেক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. মাহাদি আমিন এবং প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরও অবস্থিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দুপুরে একান্ত সচিব নিজের কক্ষে প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই টেবিলের ওপর থেকে ল্যাপটপটি রহস্যজনকভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়। ঘটনার সময় বিদ্যুৎ ছিল না এবং কক্ষটিতে বেশ কিছু মানুষের উপস্থিতিও ছিল। পরবর্তীতে আশপাশে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি ও তল্লাশি চালিয়েও ল্যাপটপটির কোনো সন্ধান মেলেনি। তবে সিসিটিভি ফুটেজের বরাতে দাবি করা হয়েছে, খয়েরি রঙের শার্ট ও অ্যাশ রঙের প্যান্ট পরিহিত আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি একটি কালো ব্যাগ হাতে ভবন থেকে বের হয়ে যান। মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রের ধারণা, ওই ব্যক্তির ব্যাগের ভেতরেই চুরি হওয়া ল্যাপটপটি থাকতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতা নিয়ে কর্মকর্তাদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১৬ তলার মতো সংবেদনশীল স্থানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। দর্শনার্থীরা সেখানে অবাধে চলাফেরা করতে পারেন এবং লিফট থেকে নামার পর কোনো ধরনের নিরাপত্তা বলয় ছাড়াই সরাসরি দপ্তর এলাকায় প্রবেশ করা যায়, যা যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের জন্যই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সার্বিক বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের নিরাপত্তা ইনচার্জ পিসি আশরাফুল আলম জানান, চুরির ঘটনার পরপরই সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের ব্যাগ তল্লাশি করা হয়েছিল। তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় লোকবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিশাল এই ভবনে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র ২২ জন আনসার সদস্য, যা পুরো ভবনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। জনবল বাড়ানো হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। অন্যদিকে, চুরি যাওয়া ল্যাপটপের মালিক মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।
প্রকাশ্য দিবালোকে জনাকীর্ণ এলাকায় মোটরসাইকেলের ট্যাংকির লক ভেঙে পেট্রল চুরির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় দুর্বৃত্তদের এই দুঃসাহসিক চুরির শিকার হয়েছেন স্থানীয় যুবদল নেতা বিল্লাল হোসেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার সোনাপুর চৌরাস্তা এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, উপজেলা যুবদলের সদস্য বিল্লাল হোসেন তার মোটরসাইকেলটি সোনাপুর চৌরাস্তা-চিতোষী সড়কের পাশে ডাক্তার কামালের চেম্বার ও আনিসের দোকানের সামনে পার্ক করে রেখেছিলেন। মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে ফিরে এসে তিনি দেখেন, তার প্রিয় যানের জ্বালানি ট্যাংকির তালাটি ভাঙা। ভেতরে থাকা প্রায় ১৩ লিটার পেট্রল সম্পূর্ণ উধাও। ব্যস্ততম এই মোড়ে দিনের আলোতে এমন চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ও বিস্ময় ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় কাজে তিনি গাড়িটি সেখানে রেখেছিলেন, কিন্তু ফিরে এসে দেখেন চোরচক্র সব তেল বের করে নিয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।