বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি শিগগিরই ঘোষণা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির আদর্শিক কর্মী তৈরির ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে বিবেচিত এই সংগঠনের নেতৃত্ব পরিবর্তন ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্ব সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে। সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ, সহ-সভাপতি এ.বি.এম. ইজাজুল কবির রুয়েল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এই চার নেতাকে সভাপতি পদে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) শরীফ প্রধান শুভ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ। তবে চূড়ান্ত নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিএনপির হাইকমান্ড নতুন ও যোগ্য নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। দলীয় সূত্র আরও জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠনের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবার নেতৃত্ব নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় আসছে। বিশেষ করে জুলাই মাসের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তাদের ভূমিকা নেতৃত্ব নির্বাচনের আলোচনায় প্রভাব ফেলছে। ছাত্রদলের অধীনে থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। এই বিশাল শিক্ষার্থী গোষ্ঠীকে মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাজীবুল ইসলাম তালুকদার (বিন্দু)। যদিও ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় অঙ্গনে আলোচনা তীব্র হয়েছে। এখন নজর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। নতুন কমিটিতে অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আন্দোলন–সংগ্রামে ভূমিকার সমন্বয় কতটা গুরুত্ব পায়, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুই সম্পাদকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় থানা চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার দুই নেতা হলেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক এ বি জুবায়ের। ঘটনার সূত্রপাত হয় ফেসবুকে ‘অপমানজনক’ পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে। ঢাবি শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করতে ছাত্রদল নেতারা থানায় যান। একই সময়ে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করতে ওই শিক্ষার্থী ডাকসু নেতাদের নিয়ে থানায় হাজির হন। এক পর্যায়ে থানা চত্বরেই উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং ২০-৩০ জন ছাত্রদল কর্মী ডাকসু নেতাদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করেন। তবে ছাত্রদল নেতাদের দাবি, মোসাদ্দিক আলী ছাত্রদলের এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের ওপর আগে আক্রমণের চেষ্টা করলে পরিস্থিতির অবনতি হয়। হামলার সময় ছাত্রদল কর্মীরা প্রায় ২০ মিনিট ধরে থানার ভেতরে স্লোগান দেন এবং ডাকসু নেতাদের বাইরে বের করে আনার দাবি জানান। পরে ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারা হস্তক্ষেপ করে কর্মীদের থানার বাইরে বের করে দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি), ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহবাগ থানার ওসির কক্ষে দীর্ঘ এক ঘণ্টা আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে ডাকসু নেতাদের থানা জামে মসজিদ সংলগ্ন পকেট গেট দিয়ে নিরাপদে বের করে আনা হয়। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ‘কীসের সাংবাদিক’ বলে চিৎকার করে চালানো এই হামলায় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শাহবাগ থানার সামনে এই ঘটনা ঘটে। হামলার সময় পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মানজুর হোসেন মাহি, সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম, শামসুদ্দৌজা নবাব, মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাতসহ আরও কয়েকজন। আহত সিফাত চোখ ও মুখে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে ছাত্রদল কর্মীরা বাধা দেয় এবং বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিভিন্ন হল শাখার প্রায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মী এই হামলায় অংশ নেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিক সৌরভ ইসলাম অভিযোগ করেন, ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম মিশু ‘সাংবাদিক সাংবাদিক, এই মার মার’ বলে তেড়ে আসেন এবং একের পর এক সাংবাদিককে বেধড়ক মারতে থাকেন। হামলায় হল শাখা ছাত্রদলের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার নাম উঠে এসেছে যারা সরাসরি মারধর ও উসকানিতে জড়িত ছিলেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এদিকে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে ছাত্রদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে গ্রেপ্তার হওয়া জিহাদুল ইসলাম খানকে আদালতে তোলা হয়। তিনি বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, টহলরত পুলিশ সদস্যরা জিহাদুল ইসলাম খানকে একটি মোটরসাইকেলসহ সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মোটরসাইকেলের মালিককে ডাকা হয়। পরে অভিযোগের সত্যতা মিললে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত প্রায় ৯টার দিকে মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার বদরপুর এলাকায় একটি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখা ছিল। গভীর রাতে সেটি নিয়ে পালানোর সময় পুলিশের সন্দেহ হয় এবং অভিযুক্তকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় রোববার সকালে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের মালিক তানভির ইসলাম বলেন, ধারদেনা করে কেনা মোটরসাইকেলটি দিয়ে তার সংসার চলে। এটি হারিয়ে গেলে তিনি বড় ধরনের সমস্যায় পড়তেন। দ্রুত উদ্ধারের জন্য তিনি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেন। এদিকে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান মুক্তা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাত্রদলের পদে থাকলেও তার বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। বিষয়টি দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
Cox's Bazar শহরে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খোরশেদ আলম নামে এক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে সমুদ্র সৈকতের কবিতাচত্বর পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খোরশেদ আলম শহরের পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে ছাত্রদলের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তারিন নামের এক তরুণীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।