জ্বালানি তেল

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দামে বড় উল্লম্ফন

হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।   সোমবার (২০ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পরই তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দের দাবি করার পরই বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়।   এর আগে শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইরান ঘোষণা দেয়, তারা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করছে এবং ওই এলাকায় প্রবেশকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এ ঘোষণার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।   বাজারে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে তেলের দামে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৮৮ দশমিক ৫৫ ডলারে ওঠে।   বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এ রুটে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
লিটারে ১৫–২০ টাকা বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, কার্যকর রাত ১২টা থেকে

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দামে লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই নতুন মূল্য শনিবার (১৯ এপ্রিল) রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হবে।   বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন দামে ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১৩০ টাকা করা হয়েছে।   সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে এপ্রিল মাসের শুরুতে আমদানি খরচ ও সরবরাহ সংকট থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।   জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর দামে ডিজেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা নির্ধারিত ছিল।   এদিকে জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চ মাসে ডিজেলের গড় দাম প্রায় ৯৮ শতাংশ এবং অকটেনের দাম ২৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে।   সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মার্চ থেকে জুন প্রান্তিকে ডিজেলে ভর্তুকির প্রয়োজন হবে ১৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা এবং অকটেনে ৬৩৬ কোটি টাকা। এছাড়া এলএনজি আমদানিতে পেট্রোবাংলার জন্য একই সময়ে প্রায় ১৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকার ভর্তুকি প্রয়োজন হবে।    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচসহ নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ বাড়তে পারে, যা সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি করবে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ‘দুঃখজনক’: শফিকুর রহমান

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার প্রেক্ষাপটে দেশে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।   শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। শফিকুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম নিম্নমুখী থাকলেও বাংলাদেশে দর সমন্বয়ের নামে আগামীকাল থেকে মূল্য বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী।   তিনি আরও বলেন, বর্তমানে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ে সাধারণ মানুষ এমনিতেই চাপে রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে তা মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে। তার ভাষায়, এই মূল্যবৃদ্ধি হবে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। তিনি সরকারের প্রতি জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান।   অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচসহ নিত্যপণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়ে, যা সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়া থেকে বন্দরে আসছে ২৬ হাজার টন অকটেন; জ্বালানি খালাসে ব্যস্ত চট্টগ্রাম

মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন পরিশোধিত অকটেন নিয়ে ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে। বুধবার (৭ এপ্রিল) মার্শাল আইসল্যান্ডের পতাকাবাহী এই জাহাজটি বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই প্রথম কোনো অকটেনবাহী জাহাজ বন্দরে আসছে।   এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে চারটি জাহাজ থেকে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি খালাসের কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। মালয়েশিয়া থেকে ডিজেল নিয়ে আসা ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ নামক জাহাজের খালাস কার্যক্রম মঙ্গলবারই শেষ হয়েছে। এর পাশাপাশি চীন থেকে এলপিজি নিয়ে আসা ‘গ্যাস জার্নি’ নামক জাহাজের খালাস বর্তমানে চলমান রয়েছে, যা বুধবার নাগাদ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)।   বন্দর সূত্র আরও জানায়, গত ৩১ মার্চ ভারত থেকে আসা ‘গ্যাস চ্যালেঞ্জার’ নামক জাহাজটি থেকে ভাটিয়ারিতে এলপিজি খালাস করা হচ্ছে। বর্তমানে অকটেনবাহী ‘সেন্ট্রাল স্টার’ এবং এলপিজিবাহী ‘মর্নিং জেইন’ জাহাজ দুটি বন্দরের জলসীমায় অবস্থান করছে। এই জাহাজগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী জেটিতে ভিড়বে এবং পণ্য খালাস শুরু করবে।   চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, মঙ্গলবার জ্বালানিবাহী মোট পাঁচটি জাহাজ বন্দর এবং বন্দরের পথে অবস্থান করছিল। এর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে আসা ‘মর্নিং জেইন’ জাহাজটি আগামী শুক্রবার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এসব জাহাজের দ্রুত খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিশেষ তদারকি করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু । ছবি: সংগৃহীত
এপ্রিলের মধ্যে আসছে ১.৩৮ লাখ টন ডিজেল, দাম বাড়েনি এখনো: জ্বালানিমন্ত্রী

আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে দেশে ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ তুকু। একই সময়ে আরও ৭১ হাজার মেট্রিক টন অকটেন এবং ৩৬ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল আমদানির পরিকল্পনাও রয়েছে।   মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যুতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এ তথ্য জানান।   জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ জ্বালানি সরবরাহে চাপে রয়েছে। অনেক দেশ ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান প্রায় ৫০ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করেছে, শ্রীলঙ্কা রেশনিং চালু করেছে এবং কর্মঘণ্টা কমিয়েছে। পাশাপাশি ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপালেও জ্বালানির দাম বেড়েছে।   তবে বৈশ্বিক বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও বাংলাদেশে এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। শিল্পখাত ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে একটি নির্দিষ্ট আইন রয়েছে, যার আওতায় প্রতি মাসে দামের সমন্বয় করা হয়। গত মাসে মূল্য সমন্বয় করা হলেও দাম বাড়ানো হয়নি। আগামী মাসের জন্য মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: এএফপি
হরমুজ উন্মুক্ত করতে সময় চাইলেন ট্রাম্প, সহায়তার ঘোষণা জেলেনস্কির!

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সচল করা নিয়ে নতুন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আর সামান্য কিছু সময় পেলে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালি উন্মুক্ত করতে এবং সেখানকার তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবে। ট্রাম্পের এই বার্তার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হরমুজ প্রণালি সচল করতে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।   জেলেনস্কি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল সচল করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউক্রেন মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথ উন্মুক্ত করতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি সচল করতে ড্রোন ইন্টারসেপ্টর (ড্রোন ধ্বংসকারী ব্যবস্থা), সামরিক কনভয় এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম প্রয়োজন হবে, যা ইউক্রেন সরবরাহ করতে পারে। যদিও ইউরোপ ও ন্যাটোর সদস্যরা এই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে জেলেনস্কির এই অবস্থান ওয়াশিংটনের জন্য নতুন আশার আলো হিসেবে দেখা দিচ্ছে।   এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন মিত্রদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন, তখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সামরিক অভিযানের বাস্তবতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তবে এর মধ্যেই এএফপি-র তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের মালিকানাধীন ও মাল্টার পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘ক্রিবি’ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। ইরান এই নৌপথটি কার্যত বন্ধ রাখলেও ফরাসি জাহাজটির সফলভাবে পারস্য উপসাগর থেকে বেরিয়ে আসা বিশ্ব অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘আরেকটু সময় পেলেই হরমুজ খুলে তেল নিতে পারব’, ট্রুথ সোশালে ট্রাম্পের দাবি!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আরও কিছু সময় পেলে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করতে সক্ষম হবে এবং সেখান থেকে তেল আহরণ করতে পারবে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই খবরটি প্রকাশ করে জানিয়েছে, ট্রাম্পের এমন বক্তব্য বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “আরেকটু সময় পেলে আমরা সহজেই হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে, তেল তুলে নিয়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করতে পারি। এটা বিশ্বের জন্য আনন্দের হবে।” তবে ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই স্পর্শকাতর নৌপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে তা উন্মুক্ত করবে বা কোন তেলের কথা তিনি বুঝিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শক্ত অবস্থানের মুখে ট্রাম্পের এই দাবি কতটা বাস্তবসম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে পাঁচ সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় ধস নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সংঘাত নিরসন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে ট্রাম্পের ওপর প্রবল চাপ বাড়ছে। ট্রাম্পের এই নতুন ঘোষণাকে সেই চাপের মুখে এক ধরনের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
তেল পাচার ও কৃত্রিম সংকট রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি ও চোরাচালান রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৮ মার্চ) সংসদ ভবনে সরকারি দলীয় সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, অসাধু চক্রের তৎপরতা ও সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিরুনি অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   বৈঠকে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশে দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই; ইতিমধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টনের জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে এবং সমপরিমাণ তেল আসার পথে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তেলের বাজার মনিটরিং করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামীকাল সংসদ অধিবেশনে জ্বালানিমন্ত্রী এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখবেন।   এছাড়া বৈঠকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন, সংরক্ষিত নারী আসন ও বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চিফ হুইপ জানান, সংসদ সদস্যদের এলাকাভিত্তিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এখন থেকে প্রতি মাসে এ ধরনের ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। বৈঠকের শুরুতে স্পিকারের সহধর্মিণীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয় এবং সাম্প্রতিক বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফাইল ছবি।
অবৈধ জ্বালানি তেলের তথ্য দিলে পাওয়া যাবে পুরস্কার

দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে সরকার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। এবার থেকে যেকোনো ব্যক্তি যদি তেল অবৈধভাবে মজুত রাখার স্পষ্ট তথ্য দেয়, তবে তাকে পুরস্কৃত করা হবে, জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।   শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকালে মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। সূত্র অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বাজার তদারকির জন্য ইতোমধ্যেই দেশের সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। যারা অবৈধ মজুতদারি বন্ধে তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন, তাদের জন্য শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হবে। মন্ত্রণালয় সাধারণ নাগরিকদের স্পষ্ট অভিযোগ ও পরামর্শ দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।   এদিকে, অবৈধ মজুতদারি প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে অভিযান শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে ৩০টি ড্রামে মজুত করা প্রায় ৬ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করা হয়েছে।   মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুত প্রতিরোধের জন্য জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে দেশের সব তেল ডিপো, পেট্রল পাম্প ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের নিবিড় নজরদারিতে আছে। জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘তেল নেই’ বোর্ড টানানো, ভেতরে মিললো ৯৭৮৩ লিটার মজুত জ্বালানি

‘তেল নেই’ লিখে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হলেও ভেতরে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি মজুত রাখার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে একটি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।   শুক্রবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকির মুন্সির নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুর এলাকার মেসার্স বার্দাস এন্ড সিস্টার্স ফিলিং স্টেশনে এ অনিয়ম ধরা পড়ে।   অভিযানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে ২ হাজার ৩৬৮ লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার ৭৬০ লিটার ডিজেল এবং ৩ হাজার ৬৫৫ লিটার অকটেন মজুত রয়েছে। মোট ৯ হাজার ৭৮৩ লিটার জ্বালানি থাকা সত্ত্বেও তা বিক্রি না করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠে।   এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে।   উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি তেল বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অনিয়ম করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
সিরাজগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
একদিনের তেল দুই ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে: জ্বালানিমন্ত্রী

দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পাম্পে তেল দুই ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।   শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদে ৬৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী বলেন, “ইরান যুদ্ধের আগে পাম্পগুলোতে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ হতো, এখনো সেই একই পরিমাণ সরবরাহ করা হচ্ছে। আগে এক থেকে দেড় দিন সময় লাগত বিক্রি হতে, এখন দুই ঘণ্টার মধ্যেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।”   মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক আছে। তাই কোনো তেল সংকটের আশঙ্কা নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, “কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে মজুতদারি ও কালোবাজারির চেষ্টা করছে। সরকার এসব অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।”   তিনি জনগণকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। গুজবে কান দেবেন না। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা মনিটরিং করছেন।”   এছাড়া মন্ত্রী দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি জানান, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন হচ্ছে, ফলে লোডশেডিং নেই। প্রধানমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং তাই তিনি সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেছেন।   পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামসহ নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তি: ডিজেল ও জেট ফুয়েল নিয়ে দেশে এলো নতুন জাহাজ

বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহে চাপের সময় ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের জাহাজটি এই চালান নিয়ে আসে।   বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, চীনের প্রতিষ্ঠান ইউনিপেকের সঙ্গে চুক্তির আওতায় এই জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সরবরাহ অনিশ্চয়তার মধ্যে এই চালান কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে।   বিপিসি জানায়, আমদানি করা ডিজেল পরিবহন ও শিল্প খাতে ব্যবহৃত হবে। অন্যদিকে জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হবে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ বিলম্বের কারণে সম্প্রতি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে।   এ মাসে মোট ১৭টি জাহাজে জ্বালানি আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত এসেছে ৯টি। বাকি কয়েকটি জাহাজের সূচি এখনও অনিশ্চিত রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী জাহাজটি দেশে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে জ্বালানির বড় কোনো সংকট নেই। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।   বিপিসি সাধারণত সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি করে থাকে। দেশে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর একটি অংশ অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে; বাকিটা পরিশোধিত অবস্থায় বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।   দেশে জ্বালানি ব্যবহারের বড় অংশই ডিজেলনির্ভর। কৃষি সেচ, পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর ব্যবহার বেশি হওয়ায় সরবরাহে সামান্য ঘাটতিও দ্রুত প্রভাব ফেলে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩ দিনের ডিজেল ও ২৫ দিনের জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইলেকট্রিক গাড়ি
বৈশ্বিক তেলের বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা: চিনা ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতাদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা এবং দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি চীনের ধুঁকতে থাকা ইলেকট্রিক ভেহিকেল বা ইভি শিল্পে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় অপরিশোধিত তেলের দাম গত সপ্তাহে ব্যারেল প্রতি ১১৯ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। তেলের এই রেকর্ড দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও এটি চীনের ইভি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় ধরণের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে এশীয় দেশগুলো যেখানে জ্বালানি সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি সেখানে পেট্রোল চালিত গাড়ির বিকল্প হিসেবে এখন চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।   চীনা ইভি ব্র্যান্ডগুলো বর্তমানে নিজ দেশে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধির মন্থর গতির কারণে বড় ধরণের চাপের মুখে ছিল। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম তাদের জন্য বিদেশের বাজার দখলের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে যখন বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে এবং গ্যাসোলিনের দাম মানুষের বাজেটের বাইরে চলে যাচ্ছে তখন চীনা সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক গাড়িগুলো সাধারণ ভোক্তাদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। এটি কেবল চীনের ইভি শিল্পের প্রবৃদ্ধিকেই ত্বরান্বিত করবে না বরং বৈশ্বিক বাজারে তাদের আধিপত্যকেও আরও সুদৃঢ় করবে।   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে এই তেলের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী অটোমোবাইল শিল্পে এক আমূল পরিবর্তন আসবে। চীন ইতিমধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম ইভি রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি তাদের এই অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ করে দিচ্ছে। যদিও বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে তবুও চীনা কোম্পানিগুলো তাদের উন্নত প্রযুক্তি এবং অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের কারণে বিশ্ববাজারে দ্রুত নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। আগামী কয়েক মাসে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির নতুন মডেলগুলোর আধিপত্য আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

Unknown মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি তেল সরবরাহ ২৫% বেশি, আতঙ্কিত না হয়ে সাশ্রয়ের আহ্বান মন্ত্রীর

দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সংযত ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সোমবার গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল সংগ্রহ না করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।   মন্ত্রী বলেন, সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্টরা দিন-রাত কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি তেলের মূল্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও সরকার এখনো ভোক্তাপর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধি করেনি। বরং বেশি দামে আমদানি করেও ভর্তুকি দিয়ে সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ না পড়ে।   সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা রক্ষায় জনগণের সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সবাই যদি প্রয়োজন অনুযায়ী তেল ব্যবহার করেন, তাহলে সংকট তৈরি হবে না। মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মজুত একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে নিয়মিত আমদানি ও সরবরাহ অব্যাহত থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু পাম্প বন্ধ থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।   আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও অনুমতির জটিলতার কারণে অনেক দেশই জ্বালানি সরবরাহে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সম্ভাব্য পাম্প বন্ধের খবর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নানা ধরনের আশঙ্কা তৈরি হলেও বাস্তবে দেশে তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। তিনি পুনরায় সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কথা বলেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।  ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধাবস্থাতেও দেশে তেলের দাম অপরিবর্তিত: অর্থমন্ত্রী

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।   রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের মেহেদিবাগে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব সরকার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। বর্তমান সময়ে নতুন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।   অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে ঈদযাত্রার সময় কোথাও তেলের সংকট হয়নি এবং পরিবহন খাতের ভাড়া বৃদ্ধিও ঘটেনি। তিনি বলেন, এবারের ঈদ উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। পোশাক খাতের শ্রমিকদের আগাম বেতন পরিশোধের ফলে কোনো অসন্তোষ দেখা দেয়নি, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি ইতিবাচক সংকেত।   সরকারের জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, নিম্নবিত্ত ও কৃষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ মওকুফ এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য চলমান ভাতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি সবাইকে সংযম, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

ইসতিয়াক আহমেদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0