- প্রচ্ছদ
- Topic
জ্বালানি তেল
আইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় দাম বাড়ছে। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ দশমিক ৭২ ডলারে দাঁড়ায়। এক দিনে দাম বাড়ে ৩ দশমিক ৫৫ ডলার। গত ২৯ এপ্রিলের পর এটিই ব্রেন্টের সর্বোচ্চ সমাপনী দর। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও বেড়েছে। এই তেলের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছায়। এ নিয়ে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল। সপ্তাহের হিসাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ২ শতাংশ। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য বাজারের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। গত ২১ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা চলছে না। একই সঙ্গে তিনি শিগগিরই ‘বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন। এদিকে মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় যৌথ হামলার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নের পর যেকোনো ধরনের অসম যুদ্ধ মোকাবিলায় ইরানের সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। ইরানকে ঘিরে এই উত্তেজনার পাশাপাশি সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরও তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব হামলার জন্য হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করা হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে সৌদি আরবে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন, এমন মার্কিন কর্মীদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর দেশটির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শায়বাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় দুজন নিহত এবং দুজন আহত হন। একই সময়ে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় আরও দুজন নিহত হন। ওই ঘটনায় আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। এসব ঘটনার পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকো দাহরানে অবস্থিত তাদের সদর দপ্তরের কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বিশ্ববাজারে দাম বাড়ছে।
রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছে একটি তেলবাহী জাহাজ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন জ্বালানি সরবরাহ চুক্তির পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে পাঠানো প্রথম ডিজেলের চালান। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই চুক্তি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কিছু বিধানও শিথিল করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাল্টার পতাকাবাহী মাঝারি আকারের ট্যাংকার ‘আগিওই ফানেন্দেস’ গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাশিয়ার বাল্টিক সাগরীয় প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। জাহাজটিতে রয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন অতি কম সালফারযুক্ত ডিজেল, যা প্রায় তিন লাখ ব্যারেলের সমপরিমাণ। এলএসইজি ও কেপলারের জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটির গন্তব্য নিউইয়র্ক। আগামী ৭ নভেম্বর এটি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে চালানটির ক্রেতা ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এই চালান যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। সেই নিষেধাজ্ঞার পর রাশিয়া থেকে সরাসরি জ্বালানি আমদানির পথ অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যায়। নতুন চুক্তির মাধ্যমে কয়েক বছর পর আবার রুশ ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে জাহাজটি এখনো যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়নি। গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহের নতুন চুক্তির ঘোষণা দেন। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করবে। এর পর নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ মেট্রিক টন এবং পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ১০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ের তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের সমপরিমাণ। তবে ঘোষিত মোট সরবরাহের সবটুকু শুধু যুক্তরাষ্ট্রে আসবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়ার ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আইনের কয়েকটি বিধান প্রয়োগ সাময়িকভাবে শিথিল করেছেন ট্রাম্প। এর ফলে নির্দিষ্ট শর্তে রুশ ডিজেল বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়াও ডিজেল রপ্তানির ওপর নিজেদের আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ তুলে নিতে সম্মত হয়েছে। এর আগে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে ডিজেল রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল মস্কো। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে দেশটি। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ডিজেল সরবরাহের চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ করছে। প্রথম চালানের পর আরও জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ রাশিয়া ডিজেল রপ্তানি বাড়িয়ে প্রতি মাসে ৩০ লাখ থেকে ৩৫ লাখ মেট্রিক টনে নিতে পারবে। এটি দেশটির স্বাভাবিক রপ্তানি সক্ষমতার কাছাকাছি। তবে ইউক্রেনের হামলায় কিছু রুশ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা এখনো চ্যালেঞ্জের বিষয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিজেলের দাম কমানোর লক্ষ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্প। জরুরি জ্বালানি মজুত থেকে ইউরোপের দেশগুলো আরও তেল বাজারে না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনা। তবে রাশিয়ার সঙ্গে নতুন চুক্তি এবং ইউরোপের ওপর চাপ প্রয়োগের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত জ্বালানি ও নিষেধাজ্ঞানীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম সাধারণ ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পরিবহন, পণ্য সরবরাহ, কৃষি ও নির্মাণ খাতে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে এসব খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে। তবে নতুন চালানটি নির্বাচনের চার দিন পর, ৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা। বিশ্লেষকেরা বলছেন, একটি জাহাজে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল জ্বালানি বাজারের তুলনায় সীমিত। ফলে শুধু এই চালান দিয়ে দেশজুড়ে ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, শোধনাগারের উৎপাদন, পরিবহন ব্যয় এবং জ্বালানির চাহিদাসহ একাধিক বিষয় ডিজেলের খুচরা মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। নতুন চুক্তির পর আরও কত চালান বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়, তার ওপরও সম্ভাব্য বাজারপ্রভাব নির্ভর করবে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা কয়েক বছর ধরে কার্যকর রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পরিশোধিত তেলজাত পণ্য আমদানিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। এরপর রাশিয়া প্রধানত ব্রাজিল, তুরস্ক এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ডিজেল রপ্তানি করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সরবরাহ চুক্তির ফলে রুশ জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইউক্রেন ও তার মিত্রদের মধ্যে সমালোচনাও দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ সাধারণ ভোক্তা, ট্রাকচালক, পরিবহন ব্যবসায়ী ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজেলের দামের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। ডিজেলের দাম বাড়লে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে। তবে রাশিয়া থেকে নতুন চালান আসার অর্থ এই নয় যে পাম্পে ডিজেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে কমে যাবে। জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো, সরবরাহ সম্পন্ন হওয়া এবং বাজারে অতিরিক্ত জ্বালানি প্রবেশের পর প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। SOURCE - রয়টার্স
রাশিয়া ও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরও কঠোর করতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার জ্বালানি তেল আমদানির জেরে ভারত, চীনসহ ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়াগত ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিলটির ওপর চূড়ান্ত ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের এই আলোচিত বিলটি মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ২১৪-২১১ ভোটে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়। এর আগে গত মাসে মার্কিন সিনেটেও ৮৬-১১ ভোটে বিলটি বিপুল সমর্থন পেয়েছিল। প্রস্তাবিত এই আইনে রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব ‘ছায়া বহর’ বা গোপন জাহাজ নেটওয়ার্ক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল পরিবহনে সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিলটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি রাশিয়ার জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করতে পারবেন। সম্ভাব্য এই শুল্কের আওতায় থাকা ১০টি দেশ হলো ভারত, চীন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, অপরিশোধিত তেল বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিচালনা করছে মস্কো। আর তাই রাশিয়ার আয়ের প্রধান এই উৎসটি বন্ধ করতে জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে বিলটির বিরোধিতা করে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা গ্রেগরি মিকস অভিযোগ করেছেন, এর ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে তা দ্রুতই প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দীর্ঘ প্রায় তিন মাসের মধ্যে এই প্রথম প্রতি গ্যালন পেট্রোলের খুচরা দাম ৪ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। মূলত ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছিল, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছিল আমেরিকার স্থানীয় বাজারগুলোতে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় দাম কমে ৩ ডলার ৯৯ সেন্টে দাঁড়িয়েছে, যা গত ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন। যদিও যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় তেলের দাম এখনো গ্যালনপ্রতি ১ ডলারের বেশি রয়েছে, তবে মার্কিন-ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তির আভাসের পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অপরিশোধিত তেলের দাম বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর এই সমঝোতা স্মারকের ফলে বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ 'স্ট্রেইট অব হরমুজ' বা হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই নৌপথটি কার্যত বন্ধ ছিল, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করে। গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে এই শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যে অন্তত ১০টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম (ব্রেন্ট ক্রুড) ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭৮ দশমিক ৪৬ ডলারে নেমেছে এবং মার্কিন বেঞ্চমার্ক (ডব্লিউটিআই) ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৫ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির তেল বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিক ডি হান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যদি আকস্মিক কোনো মোড় না নেয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক ইতিবাচক দিকে মোড়াতে থাকে, তবে তেলের দাম আরও কমবে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ৩ ডলারের নিচে নেমে আসতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পরই তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দের দাবি করার পরই বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়। এর আগে শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইরান ঘোষণা দেয়, তারা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করছে এবং ওই এলাকায় প্রবেশকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এ ঘোষণার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাজারে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে তেলের দামে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৮৮ দশমিক ৫৫ ডলারে ওঠে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এ রুটে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দামে লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই নতুন মূল্য শনিবার (১৯ এপ্রিল) রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন দামে ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১৩০ টাকা করা হয়েছে। সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে এপ্রিল মাসের শুরুতে আমদানি খরচ ও সরবরাহ সংকট থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর দামে ডিজেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা নির্ধারিত ছিল। এদিকে জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চ মাসে ডিজেলের গড় দাম প্রায় ৯৮ শতাংশ এবং অকটেনের দাম ২৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মার্চ থেকে জুন প্রান্তিকে ডিজেলে ভর্তুকির প্রয়োজন হবে ১৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা এবং অকটেনে ৬৩৬ কোটি টাকা। এছাড়া এলএনজি আমদানিতে পেট্রোবাংলার জন্য একই সময়ে প্রায় ১৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকার ভর্তুকি প্রয়োজন হবে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচসহ নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ বাড়তে পারে, যা সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি করবে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার প্রেক্ষাপটে দেশে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। শফিকুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম নিম্নমুখী থাকলেও বাংলাদেশে দর সমন্বয়ের নামে আগামীকাল থেকে মূল্য বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ে সাধারণ মানুষ এমনিতেই চাপে রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে তা মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে। তার ভাষায়, এই মূল্যবৃদ্ধি হবে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। তিনি সরকারের প্রতি জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচসহ নিত্যপণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়ে, যা সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।
মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন পরিশোধিত অকটেন নিয়ে ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে। বুধবার (৭ এপ্রিল) মার্শাল আইসল্যান্ডের পতাকাবাহী এই জাহাজটি বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই প্রথম কোনো অকটেনবাহী জাহাজ বন্দরে আসছে। এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে চারটি জাহাজ থেকে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি খালাসের কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। মালয়েশিয়া থেকে ডিজেল নিয়ে আসা ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ নামক জাহাজের খালাস কার্যক্রম মঙ্গলবারই শেষ হয়েছে। এর পাশাপাশি চীন থেকে এলপিজি নিয়ে আসা ‘গ্যাস জার্নি’ নামক জাহাজের খালাস বর্তমানে চলমান রয়েছে, যা বুধবার নাগাদ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। বন্দর সূত্র আরও জানায়, গত ৩১ মার্চ ভারত থেকে আসা ‘গ্যাস চ্যালেঞ্জার’ নামক জাহাজটি থেকে ভাটিয়ারিতে এলপিজি খালাস করা হচ্ছে। বর্তমানে অকটেনবাহী ‘সেন্ট্রাল স্টার’ এবং এলপিজিবাহী ‘মর্নিং জেইন’ জাহাজ দুটি বন্দরের জলসীমায় অবস্থান করছে। এই জাহাজগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী জেটিতে ভিড়বে এবং পণ্য খালাস শুরু করবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, মঙ্গলবার জ্বালানিবাহী মোট পাঁচটি জাহাজ বন্দর এবং বন্দরের পথে অবস্থান করছিল। এর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে আসা ‘মর্নিং জেইন’ জাহাজটি আগামী শুক্রবার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এসব জাহাজের দ্রুত খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিশেষ তদারকি করা হচ্ছে।
আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে দেশে ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ তুকু। একই সময়ে আরও ৭১ হাজার মেট্রিক টন অকটেন এবং ৩৬ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল আমদানির পরিকল্পনাও রয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যুতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এ তথ্য জানান। জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ জ্বালানি সরবরাহে চাপে রয়েছে। অনেক দেশ ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান প্রায় ৫০ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করেছে, শ্রীলঙ্কা রেশনিং চালু করেছে এবং কর্মঘণ্টা কমিয়েছে। পাশাপাশি ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপালেও জ্বালানির দাম বেড়েছে। তবে বৈশ্বিক বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও বাংলাদেশে এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। শিল্পখাত ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে একটি নির্দিষ্ট আইন রয়েছে, যার আওতায় প্রতি মাসে দামের সমন্বয় করা হয়। গত মাসে মূল্য সমন্বয় করা হলেও দাম বাড়ানো হয়নি। আগামী মাসের জন্য মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সচল করা নিয়ে নতুন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আর সামান্য কিছু সময় পেলে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালি উন্মুক্ত করতে এবং সেখানকার তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবে। ট্রাম্পের এই বার্তার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হরমুজ প্রণালি সচল করতে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। জেলেনস্কি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল সচল করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউক্রেন মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথ উন্মুক্ত করতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি সচল করতে ড্রোন ইন্টারসেপ্টর (ড্রোন ধ্বংসকারী ব্যবস্থা), সামরিক কনভয় এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম প্রয়োজন হবে, যা ইউক্রেন সরবরাহ করতে পারে। যদিও ইউরোপ ও ন্যাটোর সদস্যরা এই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে জেলেনস্কির এই অবস্থান ওয়াশিংটনের জন্য নতুন আশার আলো হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন মিত্রদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন, তখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সামরিক অভিযানের বাস্তবতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তবে এর মধ্যেই এএফপি-র তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের মালিকানাধীন ও মাল্টার পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘ক্রিবি’ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। ইরান এই নৌপথটি কার্যত বন্ধ রাখলেও ফরাসি জাহাজটির সফলভাবে পারস্য উপসাগর থেকে বেরিয়ে আসা বিশ্ব অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আরও কিছু সময় পেলে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করতে সক্ষম হবে এবং সেখান থেকে তেল আহরণ করতে পারবে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই খবরটি প্রকাশ করে জানিয়েছে, ট্রাম্পের এমন বক্তব্য বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “আরেকটু সময় পেলে আমরা সহজেই হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে, তেল তুলে নিয়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করতে পারি। এটা বিশ্বের জন্য আনন্দের হবে।” তবে ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই স্পর্শকাতর নৌপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে তা উন্মুক্ত করবে বা কোন তেলের কথা তিনি বুঝিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শক্ত অবস্থানের মুখে ট্রাম্পের এই দাবি কতটা বাস্তবসম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে পাঁচ সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় ধস নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সংঘাত নিরসন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে ট্রাম্পের ওপর প্রবল চাপ বাড়ছে। ট্রাম্পের এই নতুন ঘোষণাকে সেই চাপের মুখে এক ধরনের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে।
দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি ও চোরাচালান রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৮ মার্চ) সংসদ ভবনে সরকারি দলীয় সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, অসাধু চক্রের তৎপরতা ও সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিরুনি অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশে দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই; ইতিমধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টনের জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে এবং সমপরিমাণ তেল আসার পথে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তেলের বাজার মনিটরিং করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামীকাল সংসদ অধিবেশনে জ্বালানিমন্ত্রী এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া বৈঠকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন, সংরক্ষিত নারী আসন ও বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চিফ হুইপ জানান, সংসদ সদস্যদের এলাকাভিত্তিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এখন থেকে প্রতি মাসে এ ধরনের ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। বৈঠকের শুরুতে স্পিকারের সহধর্মিণীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয় এবং সাম্প্রতিক বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে সরকার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। এবার থেকে যেকোনো ব্যক্তি যদি তেল অবৈধভাবে মজুত রাখার স্পষ্ট তথ্য দেয়, তবে তাকে পুরস্কৃত করা হবে, জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকালে মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। সূত্র অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বাজার তদারকির জন্য ইতোমধ্যেই দেশের সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। যারা অবৈধ মজুতদারি বন্ধে তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন, তাদের জন্য শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হবে। মন্ত্রণালয় সাধারণ নাগরিকদের স্পষ্ট অভিযোগ ও পরামর্শ দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে, অবৈধ মজুতদারি প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে অভিযান শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে ৩০টি ড্রামে মজুত করা প্রায় ৬ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুত প্রতিরোধের জন্য জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে দেশের সব তেল ডিপো, পেট্রল পাম্প ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের নিবিড় নজরদারিতে আছে। জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
‘তেল নেই’ লিখে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হলেও ভেতরে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি মজুত রাখার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে একটি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকির মুন্সির নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুর এলাকার মেসার্স বার্দাস এন্ড সিস্টার্স ফিলিং স্টেশনে এ অনিয়ম ধরা পড়ে। অভিযানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে ২ হাজার ৩৬৮ লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার ৭৬০ লিটার ডিজেল এবং ৩ হাজার ৬৫৫ লিটার অকটেন মজুত রয়েছে। মোট ৯ হাজার ৭৮৩ লিটার জ্বালানি থাকা সত্ত্বেও তা বিক্রি না করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি তেল বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অনিয়ম করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পাম্পে তেল দুই ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদে ৬৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী বলেন, “ইরান যুদ্ধের আগে পাম্পগুলোতে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ হতো, এখনো সেই একই পরিমাণ সরবরাহ করা হচ্ছে। আগে এক থেকে দেড় দিন সময় লাগত বিক্রি হতে, এখন দুই ঘণ্টার মধ্যেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।” মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক আছে। তাই কোনো তেল সংকটের আশঙ্কা নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, “কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে মজুতদারি ও কালোবাজারির চেষ্টা করছে। সরকার এসব অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।” তিনি জনগণকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। গুজবে কান দেবেন না। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা মনিটরিং করছেন।” এছাড়া মন্ত্রী দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি জানান, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন হচ্ছে, ফলে লোডশেডিং নেই। প্রধানমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং তাই তিনি সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামসহ নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহে চাপের সময় ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের জাহাজটি এই চালান নিয়ে আসে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, চীনের প্রতিষ্ঠান ইউনিপেকের সঙ্গে চুক্তির আওতায় এই জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সরবরাহ অনিশ্চয়তার মধ্যে এই চালান কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে। বিপিসি জানায়, আমদানি করা ডিজেল পরিবহন ও শিল্প খাতে ব্যবহৃত হবে। অন্যদিকে জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হবে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ বিলম্বের কারণে সম্প্রতি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে। এ মাসে মোট ১৭টি জাহাজে জ্বালানি আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত এসেছে ৯টি। বাকি কয়েকটি জাহাজের সূচি এখনও অনিশ্চিত রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী জাহাজটি দেশে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে জ্বালানির বড় কোনো সংকট নেই। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। বিপিসি সাধারণত সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি করে থাকে। দেশে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর একটি অংশ অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে; বাকিটা পরিশোধিত অবস্থায় বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। দেশে জ্বালানি ব্যবহারের বড় অংশই ডিজেলনির্ভর। কৃষি সেচ, পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর ব্যবহার বেশি হওয়ায় সরবরাহে সামান্য ঘাটতিও দ্রুত প্রভাব ফেলে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩ দিনের ডিজেল ও ২৫ দিনের জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা এবং দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি চীনের ধুঁকতে থাকা ইলেকট্রিক ভেহিকেল বা ইভি শিল্পে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় অপরিশোধিত তেলের দাম গত সপ্তাহে ব্যারেল প্রতি ১১৯ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। তেলের এই রেকর্ড দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও এটি চীনের ইভি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় ধরণের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে এশীয় দেশগুলো যেখানে জ্বালানি সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি সেখানে পেট্রোল চালিত গাড়ির বিকল্প হিসেবে এখন চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। চীনা ইভি ব্র্যান্ডগুলো বর্তমানে নিজ দেশে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধির মন্থর গতির কারণে বড় ধরণের চাপের মুখে ছিল। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম তাদের জন্য বিদেশের বাজার দখলের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে যখন বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে এবং গ্যাসোলিনের দাম মানুষের বাজেটের বাইরে চলে যাচ্ছে তখন চীনা সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক গাড়িগুলো সাধারণ ভোক্তাদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। এটি কেবল চীনের ইভি শিল্পের প্রবৃদ্ধিকেই ত্বরান্বিত করবে না বরং বৈশ্বিক বাজারে তাদের আধিপত্যকেও আরও সুদৃঢ় করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে এই তেলের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী অটোমোবাইল শিল্পে এক আমূল পরিবর্তন আসবে। চীন ইতিমধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম ইভি রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি তাদের এই অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ করে দিচ্ছে। যদিও বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে তবুও চীনা কোম্পানিগুলো তাদের উন্নত প্রযুক্তি এবং অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের কারণে বিশ্ববাজারে দ্রুত নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। আগামী কয়েক মাসে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির নতুন মডেলগুলোর আধিপত্য আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সংযত ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সোমবার গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল সংগ্রহ না করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্টরা দিন-রাত কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি তেলের মূল্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও সরকার এখনো ভোক্তাপর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধি করেনি। বরং বেশি দামে আমদানি করেও ভর্তুকি দিয়ে সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ না পড়ে। সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা রক্ষায় জনগণের সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সবাই যদি প্রয়োজন অনুযায়ী তেল ব্যবহার করেন, তাহলে সংকট তৈরি হবে না। মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মজুত একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে নিয়মিত আমদানি ও সরবরাহ অব্যাহত থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু পাম্প বন্ধ থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও অনুমতির জটিলতার কারণে অনেক দেশই জ্বালানি সরবরাহে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সম্ভাব্য পাম্প বন্ধের খবর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নানা ধরনের আশঙ্কা তৈরি হলেও বাস্তবে দেশে তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। তিনি পুনরায় সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের মেহেদিবাগে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব সরকার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। বর্তমান সময়ে নতুন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে ঈদযাত্রার সময় কোথাও তেলের সংকট হয়নি এবং পরিবহন খাতের ভাড়া বৃদ্ধিও ঘটেনি। তিনি বলেন, এবারের ঈদ উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। পোশাক খাতের শ্রমিকদের আগাম বেতন পরিশোধের ফলে কোনো অসন্তোষ দেখা দেয়নি, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি ইতিবাচক সংকেত। সরকারের জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, নিম্নবিত্ত ও কৃষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ মওকুফ এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য চলমান ভাতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি সবাইকে সংযম, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।