জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় নিহত নিউইয়র্কের কুইন্সের সেনা সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল সারাহ র্যাম্পারসাদের (২৮) প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁর নামে একটি সড়কের নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার কুইন্সের বরো প্রেসিডেন্ট ডনোভান রিচার্ডস ওজোন পার্কে নিহত ওই সেনার পারিবারিক বাসভবনের সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "অ্যাঞ্জেল একজন সত্যিকারের বীর। তিনি নিজের আগে সমাজ ও দেশকে স্থান দিয়েছেন এবং দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন।" রিচার্ডস জানান, এই বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ অন্তত তাঁর বাড়ির সামনের সড়কটির নাম পরিবর্তন করে তাঁর নামে রাখা এবং স্কুল নির্মাণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি স্কুলের নামও তাঁর সম্মানে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। গত শুক্রবার জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় নিহত হন অ্যাঞ্জেল। মেয়ের এমন অকাল মৃত্যুতে ভেঙে পড়া মা ক্যারল অ্যাসেভেদো কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার মেয়ে একজন চমৎকার সেনা ছিল। সে এই দেশের হয়ে লড়েছে এবং দেশের জন্যই প্রাণ দিয়েছে। একজন মা হিসেবে আমি তাকে নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। " অ্যাঞ্জেলের খালা জুডি রাকাল এই ঘটনাকে এক 'অসহনীয় ট্র্যাজেডি' আখ্যা দিয়ে জানান, মাত্র দুই বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে ত্রিনিদাদ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন অ্যাঞ্জেল এবং ছোটবেলা থেকেই সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। জন জে কলেজ অব ক্রিমিনাল জাস্টিস থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা এবং ড্রামস বাজানোতে পারদর্শী অ্যাঞ্জেলকে পরিবারের যেকোনো সংকটে শান্ত থাকার মূল শক্তি হিসেবে স্মরণ করেন তার খালা। গত মঙ্গলবার পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাঞ্জেলের পরিচয় প্রকাশ করে। জর্ডানের ওই মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অ্যাঞ্জেলের সঙ্গে হাওয়াইয়ের ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহ্যান (২৫) এবং টেক্সাসের প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেসও (১৯) নিহত হন। এ ছাড়া গত রোববার ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে উত্তর ক্যারোলাইনার সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইন্টন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে, টানা ১১তম রাতের মতো ইরানে বোমা হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। যুদ্ধ ও সংঘাতের এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই দেশের সেবা করার পাশাপাশি পুরো বিশ্ব ঘুরে দেখার স্বপ্ন দেখা অ্যাঞ্জেলকে একজন দৃঢ়চেতা ও প্রাণবন্ত মানুষ হিসেবেই মনে রাখছেন তাঁর শোকাহত বন্ধু ও স্বজনেরা।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) নিউইয়র্কের ওজোন পার্ক এলাকার বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র্যাম্পারসাডের পরিচয় প্রকাশ করেছে। তিনি জর্ডানে ইরানের হামলার পর নিখোঁজ ছিলেন। পরে তাঁর মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর তাঁকে নিহত হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, সার্জেন্ট র্যাম্পারসাড ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় নিখোঁজ হন। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড প্রথমে দুই সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও একজনকে নিখোঁজ বলে জানায়। পরবর্তী অনুসন্ধান ও পরিচয় শনাক্তকরণের পর পেন্টাগন জানায়, নিখোঁজ সেই সেনাই ছিলেন সার্জেন্ট র্যাম্পারসাড। ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন। সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র্যাম্পারসাড জার্মানির আন্সবাখে অবস্থানরত ১ম ব্যাটালিয়ন, ৫৭তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্ট, ৫২তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেড এবং ১০ম আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডের সদস্য ছিলেন। তিনি সিগন্যাল অপারেশনস সাপোর্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর ইউনিটের প্রধান দায়িত্ব ছিল ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশপথের হুমকি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রবাহিনীর ঘাঁটি রক্ষা করা। এর আগে একই হামলায় নিহত আরও দুই মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করা হয়। তারা হলেন হাওয়াইয়ের ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং টেক্সাসের ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। তিনজনই জর্ডানে ইরানের হামলায় প্রাণ হারান। এদিকে, ইরাকে একটি ভূপাতিত ইরানি ড্রোন নিরাপদে ধ্বংস করার অভিযানের সময় পৃথক এক ঘটনায় নর্থ ক্যারোলাইনার সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইনটন নিহত হন। তাঁর মৃত্যুসহ চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে পৌঁছেছে। জর্ডানে হামলার ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন বাহিনীর অবস্থানরত ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং হামলার ঘটনায় পেন্টাগনের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় নিহত তৃতীয় মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। নিহত সেনা হলেন ২৮ বছর বয়সী সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র্যাম্পারসাড, নিউইয়র্কের ওজোন পার্কের বাসিন্দা। জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে সেনাবাহিনী জানায়, তাকে মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে চলমান সংঘাতে ইরানের হামলায় নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে পৌঁছেছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, র্যাম্পারসাড জার্মানিভিত্তিক ১০ম আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডের অধীনে কর্মরত ছিলেন। একই ইউনিটে দায়িত্ব পালন করতেন নিহত আরেক সেনা প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেসও। এর আগে পেন্টাগন জর্ডানের ওই হামলায় নিহত আরও দুই সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছিল। তারা হলেন ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। দুজনই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত হন। এদিকে একই সপ্তাহান্তে ইরাকের এরবিল বিমানঘাঁটিতে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিয়ন্ত্রিতভাবে ধ্বংস করার সময় আরও এক মার্কিন সেনা, সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইন্টন নিহত হন। ওই ঘটনায় আরেক সেনা সামান্য আহত হন। সুইন্টনের মৃত্যুর ঘটনাটি আলাদা একটি সামরিক অভিযানে ঘটলেও সেটিও একই সপ্তাহান্তের সংঘাতের অংশ হিসেবে নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, জর্ডানে মোতায়েন সেনারা ইসলামিক স্টেটবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য সেখানে অবস্থান করছিলেন। হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিত্তিতেই র্যাম্পারসাডকে নিহত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর একাধিক হামলা হয়েছে। পেন্টাগনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যদিও তাদের অধিকাংশ চিকিৎসা শেষে আবার দায়িত্বে ফিরে গেছেন।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি রাডার ব্যবস্থা এবং একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সূত্র থেকেও এটি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তাদের পরিচালিত হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ও একটি রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়। তবে বিবৃতিতে ঘটনাস্থল, হামলার ধরন বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো যুদ্ধবিমান বা রাডার ধ্বংস হওয়ার কথা স্বীকার করেননি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত তথ্যেও আইআরজিসির দাবির স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার সময় সংঘাতের পক্ষগুলো প্রায়ই নিজেদের সামরিক সাফল্যের দাবি প্রকাশ করে। তবে এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে সাধারণত উপগ্রহচিত্র, সরকারি বিবৃতি বা স্বাধীন তদন্তের মতো অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন হয়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যার ফলে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সামরিক দাবিও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আইআরজিসির সর্বশেষ দাবিটি আন্তর্জাতিক মহলে নজর কেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত এ দাবিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
মাত্র এক বছর আগে টেক্সাসের হেব্রন হাই স্কুলের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে সহপাঠীদের সঙ্গে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনছিলেন ইসাবেলা গনজালেস। সেই স্মৃতি এখনও সতেজ। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে সেই বন্ধুদেরই এখন বিদায় জানাতে হচ্ছে ১৯ বছর বয়সী এই মার্কিন সেনাসদস্যকে, যিনি জর্ডানে ইরানের হামলায় নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, টেক্সাসের ক্যারলটনের বাসিন্দা আর্মি প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস গত ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এয়ার বেসে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিহত হন। একই হামলায় নিহত হন হাওয়াইয়ের ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান। ইসাবেলা জার্মানির আন্সবাখে অবস্থানরত মার্কিন সেনাবাহিনীর ১০তম আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডের অধীন ১ম ব্যাটালিয়ন, ৫৭তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। ২০২৫ সালে তিনি টেক্সাসের হেব্রন হাই স্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন এবং এরপরই সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিবিএস টেক্সাসের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইসাবেলার বন্ধুরা বলেন, মাত্র এক বছর আগেও তারা একসঙ্গে গ্র্যাজুয়েশন উদযাপন করেছিলেন। এখন সেই বন্ধুর মৃত্যুর খবর তারা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না। তাদের ভাষায়, ইসাবেলা ছিলেন প্রাণবন্ত, হাসিখুশি এবং সবার পাশে দাঁড়ানো একজন মানুষ। তার মৃত্যু পুরো বন্ধু মহলকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। লুইসভিল ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের সেবায় জীবন উৎসর্গ করে ইসাবেলা অসাধারণ সাহস ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন। তার মৃত্যুতে পুরো শিক্ষা পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে নিহত সেনাসদস্যদের মরদেহ প্রথমে ডেলাওয়ারের ডোভার এয়ার ফোর্স বেসে আনা হয়, যেখানে সামরিক মর্যাদায় ‘ডিগনিফায়েড ট্রান্সফার’ সম্পন্ন করা হয়। হোয়াইট হাউস প্রথমে জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তবে পরে জানানো হয়, অনুষ্ঠানটির সময়সূচি স্থগিত করা হয়েছে এবং নতুন তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে। ফলে ইসাবেলা গনজালেসের মরদেহ এখনও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ইসাবেলার মৃত্যুর ঘটনায় টেক্সাসের ক্যারলটন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠী, শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে একজন সাহসী তরুণী হিসেবে স্মরণ করছেন, যার জীবন শুরু হয়েছিল অসংখ্য স্বপ্ন নিয়ে, কিন্তু দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তা অকালেই থেমে গেল।
জর্ডানের উত্তরপূর্বাঞ্চলের আল-রুকবান এলাকায় মার্কিন সেনাদের একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তবে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পর্যন্ত এই দাবির সত্যতা যুক্তরাষ্ট্র বা জর্ডানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অপারেশন নাসর-২’-এর ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে আল-রুকবান এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর আবাসিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে মার্কিন সেনাবাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার জবাবে পরিচালিত হয়েছে। তবে তাদের দেওয়া হতাহতের সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন), মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) কিংবা জর্ডানের সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ফলে আইআরজিসির দাবি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে আসছে তেহরান। এর আগে জর্ডানে পৃথক হামলায় মার্কিন সেনা হতাহতের ঘটনাও যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছিল, যা দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র করে তোলে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন এই হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে ঘটনাস্থল থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বা আনুষ্ঠানিক মার্কিন প্রতিক্রিয়া না পাওয়া পর্যন্ত হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, আইআরজিসির বিবৃতি।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। সর্বশেষ জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত, চারজন হাসপাতালে ভর্তি এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন। এর ফলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন বাহিনীর মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জন এবং আহতের সংখ্যা প্রায় ৪২৭ জনে পৌঁছেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, ১৭ জুলাই জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার সময় মার্কিন ও মিত্রবাহিনী প্রতিরক্ষামূলক অভিযান পরিচালনা করছিল। হামলায় দুই সেনাসদস্য নিহত হন। আহত চারজনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং একজন সেনাসদস্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের পরিচয় তাদের পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ করা হবে না। এই হামলার পরপরই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের সামরিক অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ হামলার সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া। চলমান সংঘাতটি শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলা শুরু করে। প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, তাদের সামরিক স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি সীমিত ছিল। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা তীব্র আকার ধারণ করে এবং বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের একটি বড় অংশ ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের অভিঘাত, ড্রোন হামলা এবং অন্যান্য যুদ্ধজনিত আঘাতে আহত হয়েছেন। এর মধ্যে অনেকেই চিকিৎসা শেষে দায়িত্বে ফিরলেও গুরুতর আহতদের চিকিৎসা এখনো চলছে। অন্যদিকে ইরানও দাবি করেছে, মার্কিন বিমান হামলায় তাদের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক এলাকায়ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নৌপরিবহন নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে জর্ডানের উপকূলীয় শহর আকাবা অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এর কিছু অংশ ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় আকাশসীমা বা ভূখণ্ডে প্রবেশের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর আগে একাধিকবার জর্ডান জানিয়েছে, নিজেদের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তারা প্রতিহত করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী বলেছে, জর্ডানের আকাশসীমা বা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। আকাবা জর্ডানের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর এবং এটি ইসরায়েলের ইলাত শহরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক তৎপরতা দ্রুত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং জর্ডানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
জর্ডানে মার্কিন সেনা নিহতের জেরে এবার সরাসরি ইরানে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত রাতে জর্ডানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের হত্যার জন্য ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-কে দায়ী করা হয়েছে এবং তাদের এই কর্মকাণ্ডের 'দ্রুত শাস্তি' নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে হুমকি সৃষ্টির যে সক্ষমতা ইরানের রয়েছে, তা আরও দুর্বল করে দেওয়াই এই বিমান হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নতুন করে আরও দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, জর্ডানের মাটিতে ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় শুক্রবার (স্থানীয় সময়) এই প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে। সেন্টকমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় দুই সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত জর্ডানের একটি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত অন্য কয়েকজন সেনা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ইতোমধ্যে নিজ নিজ দায়িত্বেও ফিরেছেন। বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নিহত সেনাসদস্যদের পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের নিকটাত্মীয়দের আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুঃখজনক খবর অবহিত করার নিয়ম রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিহতদের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হবে না। অঞ্চলজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতায় এটি মার্কিন বাহিনীর জন্য অত্যন্ত বড় একটি ধাক্কা এবং অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগেও ইরানের সঙ্গে চলমান এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে আরও ৫ জন মার্কিন সেনা নিহতের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছিল ওয়াশিংটন। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে বরাবরই দাবি করা হচ্ছে যে, তাদের হামলায় শত শত মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন। চলমান এই চরম উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে দুই মার্কিন সেনার মৃত্যুর ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ককে আরও বেশি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে এটি সাম্প্রতিক পর্যায়ের অন্যতম বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, ১৭ জুলাই জর্ডানে মার্কিন ও মিত্রবাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুই সেনাসদস্য নিহত হন। একই ঘটনায় আরও একজন সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি; তাদের পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না পর্যন্ত নাম গোপন রাখা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ। হামলায় আহত আরও চার মার্কিন সেনাকে চিকিৎসার জন্য জর্ডানের হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন সামান্য আহত হয়ে চিকিৎসা শেষে আবার দায়িত্বে ফিরেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এয়ার বেস, যেখানে মার্কিন সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। এই হতাহতের ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। গত কয়েক দিনে উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলা চালানোর পর ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদেশগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। ইরানের কর্মকর্তাদের দাবি, সর্বশেষ মার্কিন হামলায় দেশটির অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং হরমোজগান প্রদেশের একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্ট ধ্বংস হয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, জর্ডানে মার্কিন সেনা নিহতের এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর ভাষ্য, চলমান ‘সায়েকেহ’ অভিযানের নতুন ধাপে জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর এফ-১৮ যুদ্ধবিমান, আবাসন এলাকা এবং সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী দাবি করেছে, আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে এটি তাদের দ্বিতীয় হামলা। তেহরানের দাবি, এই অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের অংশ। ইরানের পক্ষ থেকে হামলার দাবি করা হলেও এতে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, অথবা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে এ হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম), জর্ডানের সরকার কিংবা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ইরানের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সামরিক ও নজরদারি অভিযান পরিচালিত হয়। ফলে সেখানে হামলার দাবি সত্য হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ ধরনের সামরিক দাবির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না পাওয়া পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি বা হামলার ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে জর্ডান ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি করলেও দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া চারটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ভূপাতিত করা হয়েছে। জর্ডানের সরকারি বার্তাসংস্থা পেট্রা জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশের পরই সেগুলো ধ্বংস করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, জর্ডানের ওই বিমানঘাঁটিতে ‘আমেরিকান শত্রুর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এই ঘাঁটি ব্যবহার করেই ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হামলা পরিচালনা করা হয়েছিল। সে কারণেই পাল্টা জবাব হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এদিকে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, ওই হামলায় যোগাযোগ কেন্দ্র, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যদিও এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, সোমবার রাতজুড়ে ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা অব্যাহত ছিল। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন শহর ও দ্বীপাঞ্চল। মঙ্গলবার ভোরে আবু মুসা, কেশম এবং কিশ দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র বন্দর আব্বাসসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনারাক ও চাবাহারেও ধারাবাহিকভাবে বিস্ফোরণের খবর এসেছে। এছাড়া জ্বালানি অবকাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বুশেহর ও খুজেস্তান প্রদেশেও বিস্ফোরণ ঘটে। ওমিদিয়েহ, জাম ও কানগান এলাকায়ও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরান আরও জানায়, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সামরিক ঘাঁটিতেও প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক মহলের কূটনৈতিক উদ্যোগ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই এবার জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা জর্ডানের আজরাক সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়। তবে ইরানের এই দাবির পর জর্ডান সরকার জানিয়েছে, বড় ধরনের কোনো বিপদ ঘটার আগেই তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের দাবি, ইরান থেকে ছোড়া ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্তত আটটি তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। জর্ডানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আকস্মিক এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা সামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে, জর্ডানের ঘাঁটিতে হামলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকেও কড়া ভাষায় সতর্ক করেছে ইরান। আইআরজিসির বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। 'মার্কিন আগ্রাসনের' পুনরাবৃত্তি ঘটলে ওই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটির বিরুদ্ধে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। সাম্প্রতিক এই সামরিক তৎপরতা এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির জেরে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জর্ডানে অবস্থানরত নথিপত্রবিহীন বাংলাদেশি প্রবাসীরা বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন অথবা জরিমানা ছাড়াই দেশে ফিরতে পারবেন। সম্প্রতি দেশটির সরকার প্রবাসী কর্মীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। বুধবার এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জর্ডানের বাংলাদেশ দূতাবাস। বিজ্ঞপ্তিটি দূতাবাসের ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জর্ডান সরকার দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণার আওতায় অবৈধভাবে অবস্থানরত শ্রমিকরা চাইলে জরিমানা ছাড়াই নিজ দেশে ফেরত যেতে পারবেন। পাশাপাশি শর্তসাপেক্ষে তারা জর্ডানেই থেকে কাজ করার সুযোগও পাবেন। এতে আরও বলা হয়, সাধারণ ক্ষমার আওতায় শ্রমিকরা কর্মস্থল পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন। গৃহকর্মীরা চাইলে নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করতে পারবেন। একই সঙ্গে যারা ভ্রমণ ভিসায় জর্ডানে গেছেন, তারা ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন। বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের এ সুবিধা গ্রহণে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে জর্ডানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জর্ডান সরকারের এই সিদ্ধান্তে দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধকরণ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আবহে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সমর্থন ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আদায়ে এবার জর্ডানে পৌঁছেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের পর এটিই তার এই ঝটিকা সফরের সর্বশেষ গন্তব্য। জর্ডান বিমানবন্দরে অবতরণের পর জর্ডানি কর্মকর্তাদের সাথে কুশল বিনিময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন জেলেনস্কি। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, এবারের সফরে তার মূল লক্ষ্য হলো ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করা’। ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আধুনিক প্রযুক্তি বিনিময়ের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ইতিমধ্যে সৌদি আরব ও কাতারের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করেছেন তিনি। জর্ডানের সাথেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তার, যেখানে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা এবং কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।
ইরান-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে। ইরাকভিত্তিক এই গোষ্ঠী আশাব আল-কাহফ টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তাদের সামরিক কার্যক্রম জোরদার করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত স্থানের আশপাশে না যেতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে। গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের সামরিক ঘাঁটি এবং ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে একাধিক রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে এই গোষ্ঠী। সাম্প্রতিক ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে, চলমান সংঘাতের মধ্যে জর্ডান সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ২২টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ২০টি তারা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেট্রা নিউজ এজেন্সি এক সামরিক বিবৃতির বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। সামরিক বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংঘাত শুরুর পর থেকে জর্ডানের বিমান বাহিনী মোট ২৪২টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অন্তত ২০টি হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, জর্ডানে নতুন করে হামলার হুমকি বাস্তবায়িত হলে তা শুধু দেশটির নিরাপত্তাই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।