সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ডাকাতি

মেক্সিকোতে পিকআপ ট্রাকের যন্ত্রাংশ চুরি করতে গিয়ে তিন সার্ফারকে হ ত্যা, আসামির ১৫৮ বছরের জেল
মেক্সিকোতে পিকআপ ট্রাকের যন্ত্রাংশ চুরি করতে গিয়ে তিন সার্ফারকে হ ত্যা, আসামির ১৫৮ বছরের জেল

মেক্সিকোতে ছুটি কাটাতে গিয়ে ডাকাতদের হামলায় প্রাণ হারানো যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার তিন সার্ফারের হত্যা মামলায় তিন মেক্সিকানকে ১৫৮ বছরের বেশি কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার মেক্সিকান বিচারক রাউল হার্নান্দেজ এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন—জেসুস জেরার্দো, ইরিনিও ফ্রান্সিসকো এবং অ্যাঞ্জেল জেসুস।   ২০২৪ সালের এপ্রিলে মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়ায় সার্ফিং ট্রিপে গিয়ে মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন অস্ট্রেলিয়ার দুই ভাই জেক রবিনসন (৩০) ও ক্যালাম রবিনসন (৩৩) এবং তাঁদের মার্কিন বন্ধু কার্টার রোড (৩০)।   প্রসিকিউটর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিল এনসেনাডা শহরের কাছে একটি নির্জন সৈকতে ক্যাম্পিং করার সময় এই তিন বন্ধু হামলার শিকার হন। মূলত তাঁদের পিকআপ ট্রাকের টায়ার ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ চুরির উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল।   হত্যার পর প্রমাণ নষ্ট করতে আসামিরা নিহতদের তাঁবু ও ট্রাক পুড়িয়ে দেয় এবং প্রায় চার মাইল দূরের একটি দুর্গম পাহাড়ি কূপে তাঁদের মৃতদেহ লুকিয়ে রাখে। ঘটনার কয়েকদিন পর কাঠ দিয়ে ঢাকা ওই লুকানো কূপ থেকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় জেসুস জেরার্দোর সাবেক প্রেমিকা আরি জিসেল সিলভাকেও গত নভেম্বরে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যিনি মূলত চুরি করতে আসামিদের প্ররোচিত করেছিলেন।   আদালতে বিচারক জানান, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। রায়ে তিন আসামির প্রত্যেককে ১৫৮ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও, প্রসিকিউটরদের দাবি করা এক লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। ক্ষতিপূরণের বিষয়টি দেওয়ানি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুরাহা করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।   রায়ের পর নিহত কার্টারের মা পেজ বলেন, সন্তানের মৃত্যুর কোনো প্রকৃত ন্যায়বিচার হতে পারে না, তবে এই অপরাধীরা আর কারও ক্ষতি করতে পারবে না ভেবে তাঁরা কিছুটা স্বস্তিবোধ করছেন।   নিহত রবিনসন ভাইদের মা-বাবা এই দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়া থেকে মেক্সিকোতে এসেছিলেন। আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়ে তাঁরা জানান, জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতে তাঁদের সন্তানদের ওপর চরম নিষ্ঠুরতা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে কার্টারের বাগদত্তা নাটালি ওয়েইর্টজও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন, যাঁদের আর কয়েকমাস পরই বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল।   মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলটি মাদক চোরাকারবার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের জন্য পরিচিত হলেও, সার্ফিংয়ের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত এনসেনাডায় পর্যটকদের ওপর এমন নির্মম হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ফ্রান্স থেকে দেশে এসে ভাড়ায় ডাকাতি, কাজ শেষে ইউরোপে ফিরে যান চক্রের লোকেরা
ফ্রান্স থেকে দেশে এসে ভাড়ায় ডাকাতি, কাজ শেষে ইউরোপে ফিরে যান চক্রের লোকেরা

বাংলাদেশে ডাকাতি করতে বিদেশ থেকে বিমানে আসছেন সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্যরা। ডাকাতি শেষে আবার ফিরে যাচ্ছেন ইউরোপে। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় এমন একাধিক চক্র সক্রিয় থাকার তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের গাড়ি থামিয়ে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেওয়া এবং টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করার অভিযোগ রয়েছে এসব চক্রের বিরুদ্ধে।   আরটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক এসব ডাকাত চক্রের সঙ্গে দেশি ও বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীরা জড়িত। কেউ বিদেশ থেকে দেশে এসে ডাকাতিতে অংশ নিচ্ছেন, আবার কেউ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভাড়ায় এসে অপরাধ সংঘটিত করছেন। কাজ শেষ হলে দ্রুত এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যাচ্ছেন তাঁরা।   তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত অভিযুক্তদের একজন বাগেরহাটের সৈয়দ নাসির উদ্দিন। তিনি ফ্রান্সে বসবাস করেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকে বিমানে ভারতে এসে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতেন তিনি। এরপর শ্যালক শামীমসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ডাকাতিতে অংশ নিতেন। ডাকাতি শেষে একই পথে আবার ফ্রান্সে ফিরে যেতেন।   তবে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে পারেননি নাসির। রাজধানীর উত্তরায় একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি।   শুধু বিদেশ থেকে আসা অপরাধীরাই নন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী পেশাদার ডাকাতদেরও অর্থের বিনিময়ে কাজে লাগানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাঁদের কেউ ব্যবসায়ী পরিচয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন, আবার ডাকাতির সুযোগ পেলে সংগঠিত চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন।   এমনই একজন পাবনার চাটমোহরের নবীন পূর্বপাড়ার মো. শহিদুল ইসলাম (৪৩)। সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ‘মেসার্স কৃষি ভান্ডার’ নামে তাঁর একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্থানীয়ভাবে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত হলেও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় ভাড়ায় ডাকাতিতে জড়িত।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাকাতির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক, হাতকড়া ও ওয়াকিটকিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করেন শহিদুল ও তাঁর সহযোগীরা। তাঁর বিরুদ্ধে সাভার, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় ডাকাতির তিনটিসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শহিদুলের সঙ্গে আরও ছয় থেকে সাতজনের একটি দল রয়েছে। গত ২৩ জুলাই রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় মোহাম্মদ রিয়াজ নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় এই চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। রতন চৌধুরী ওরফে ডালিম নামে এক ব্যক্তি তাঁদের ভাড়া করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।   একই ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত আরেক ব্যক্তি বরিশালের খানপুরের মো. জলিল মোল্লা। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতির পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, ধানমন্ডি ও মিরপুর মডেল থানায় একটি করে এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় দুটি মামলা রয়েছে।   আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর এলাকায় আল আমীন গ্রুপ, শাওন গ্রুপ এবং গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক সোর্স শহীদের নেতৃত্বাধীন চক্রসহ কয়েকটি সংঘবদ্ধ দল সক্রিয় রয়েছে। এসব অপরাধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে।   অভিযোগ রয়েছে, এসব চক্র পাঁচ থেকে দশ লাখ টাকার বিনিময়ে ডাকাতিতে অংশ নেয়। বিশেষ করে বিমানবন্দর দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে আসা স্বর্ণের বড় চালান লুটের ক্ষেত্রে ভাড়ার অঙ্ক কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।   বিমানবন্দর এলাকায় সাধারণ যাত্রীরাও এসব অপরাধের শিকার হচ্ছেন। ২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল সিঙ্গাপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান কুষ্টিয়ার মো. রাশেদুল ইসলাম। ফ্লাইটের আগে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে ওভারসিজ ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার জন্য একটি বাসে ওঠেন তিনি।   অভিযোগ অনুযায়ী, বাসটিতে আগে থেকেই যাত্রীবেশে পাঁচ থেকে ছয়জন ডাকাত অবস্থান করছিলেন। বাসের দরজা বন্ধ করে তাঁরা রাশেদুলের চোখ ও মুখ বেঁধে মারধর করেন। এরপর তাঁর সঙ্গে থাকা মালামাল লুট করে এমইএস ফ্লাইওভারসংলগ্ন জসিমউদ্দীন গোলচত্বর এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়।   ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. ইলিয়াস কবির জানিয়েছেন, বিমানবন্দর ও উত্তরা এলাকায় অপরাধ সংঘটনের পর অভিযুক্তরা দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যান। অনেক চেষ্টা করে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হলেও অনেকে অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে মুক্ত হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।   তবে পুলিশের নিয়মিত তৎপরতার কারণে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক ডাকাতির ঘটনা অনেকাংশে কমেছে বলে দাবি করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।   অন্যদিকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, টহল এবং অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।   তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অপরাধীরা অনেক সময় স্থান, সময় ও কৌশল পরিবর্তন করে অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করেন। এসব অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন।   বিমানবন্দরকেন্দ্রিক এসব ঘটনায় বিদেশফেরত যাত্রী, বিদেশগামী ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডাকাতির অভিযোগ সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীনকার্ড পেতে ভুয়া ডাকাতির নাটক, ভারতীয় কর্মী ফেরত, জেলে যাওয়ার অপেক্ষায় দোকানমালিক
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীনকার্ড পেতে ভুয়া ডাকাতির নাটক, ভারতীয় কর্মী ফেরত, জেলে যাওয়ার অপেক্ষায় দোকানমালিক

সাউথ ক্যারোলাইনায় দোকানকর্মীকে ইউ ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ভুয়া ডাকাতির ঘটনা সাজানোর অভিযোগে দোকানমালিক বীরেনকুমার রমেশভাই প্যাটেল দোষ স্বীকার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৪৭ বছর বয়সী প্যাটেল ও তার দোকানের ভারতীয় কর্মী ২০২৫ সালের ৯ মার্চ ফেয়ারফিল্ড কাউন্টির একটি কনভেনিয়েন্স স্টোরে ডাকাতির নাটক সাজান। পরে তদন্তে ঘটনাটি ভুয়া প্রমাণিত হলে ওই কর্মীকে ভারতে ডিপোর্ট করা হয়। প্যাটেল এখন ফেডারেল সাজা ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।   ইউ ভিসা নির্দিষ্ট অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস। যোগ্যতা পূরণ করে ইউ ভিসা পাওয়ার পর নির্দিষ্ট শর্তে অন্তত তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে একজন আবেদনকারী গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য ইমিগ্রেশন সুবিধা পাওয়ার পথ তৈরি করতেই দোকানকর্মীকে অপরাধের শিকার হিসেবে দেখানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল।   ২০২৫ সালের ৯ মার্চ দোকানে ডাকাতির খবর জানিয়ে ৯১১ নম্বরে কল করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কর্মী ঘটনাটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন এবং পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্যাটেলও ঘটনাস্থলে এসে ডাকাতির বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। কিন্তু নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার পর তদন্তকারীরা দেখতে পান, ঘটনাটি আসলে সাজানো ছিল।   তদন্তে জানা যায়, প্যাটেল নিজেই ডাকাতের ভূমিকায় ছিলেন। পরিচয় গোপন করতে তিনি মুখ ঢেকেছিলেন এবং লম্বা হাতার জ্যাকেট পরেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে দোকানকর্মীকে সত্যিকারের অপরাধের শিকার হিসেবে দেখানো যায় এবং তার ইউ ভিসার আবেদনকে সমর্থন করার মতো নথি তৈরি করা সম্ভব হয়।   ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর, ২৫ মার্চ ২০২৫, প্যাটেল ও কর্মী ওই ডাকাতির ঘটনার পুলিশ রিপোর্টের কপি চান। এরপর ৩ এপ্রিল এমন একটি ফেডারেল সার্টিফিকেশন ফেয়ারফিল্ড কাউন্টি শেরিফের দপ্তরে পাঠানো হয়, যাতে দোকানকর্মীকে ‘ফেলোনিয়াস অ্যাসল্ট’-এর শিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর চাওয়া হয়। তদন্তকারীরা পরে নিশ্চিত হন, কর্মী ভারতের নাগরিক এবং ইউ ভিসা পেলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার সুযোগ পেতে পারতেন।   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্যাটেল ইউ ভিসা অবৈধভাবে পাওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করেন। আদালত এখনো তার চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড হতে পারে। এর পাশাপাশি সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা, ক্ষতিপূরণ এবং কারাদণ্ড শেষে সর্বোচ্চ তিন বছর তত্ত্বাবধানে থাকার শাস্তিও হতে পারে।   মামলাটি তদন্ত করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস ও ফেয়ারফিল্ড কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। প্যাটেলের দোষ স্বীকারের পর এখন আদালতের সাজা ঘোষণার প্রক্রিয়াই পরবর্তী ধাপ। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ইউএস প্রোবেশন অফিসের প্রস্তুত করা সাজা সংক্রান্ত রিপোর্ট পর্যালোচনার পর বিচারক তার চূড়ান্ত সাজা নির্ধারণ করবেন।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
পুলিশ সেজে ৩০ কোটি ইয়েন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সেই রহস্যময় ঘটনার প্রতীকী দৃশ্য
পুলিশ সেজে গু লি না চালিয়েই ৩০ কোটি ইয়েন নিয়ে উধাও, রহস্য আজও অমীমাংসিত

১৯৬৮ সালের ১০ ডিসেম্বর। জাপানের টোকিওতে পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি চার ব্যাংককর্মীকে থামিয়ে এমন এক নাটক সাজিয়েছিলেন, যার পরিণতিতে প্রায় ৩০ কোটি ইয়েন নিয়ে উধাও হয়ে যান তিনি। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরও সেই অর্থ উদ্ধার হয়নি, ধরা পড়েনি ঘটনার মূল হোতাও।   সেদিন চার ব্যাংককর্মী একটি গাড়িতে করে টশিবার ফুচু কারখানার কর্মীদের বোনাসের টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন। গাড়িতে ছিল ২৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭ হাজার ৫০০ ইয়েন। ১৯৬৮ সালের বিনিময় হারে যার মূল্য ছিল প্রায় ৮ লাখ ১৮ হাজার মার্কিন ডলার।   গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশের মোটরসাইকেল নিয়ে এক ব্যক্তি তাদের গাড়ি থামান। পুলিশের পোশাক পরা ওই ব্যক্তি দাবি করেন, ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপকের বাড়িতে বি স্ফো রণ ঘটেছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, তাদের গাড়িতেও বো ম থাকতে পারে।   ভয় পেয়ে চার ব্যাংককর্মী গাড়ি থেকে নেমে আসেন। এরপর ওই ব্যক্তি গাড়ির নিচে ঢুকে পরীক্ষা করার ভান করেন। কিছুক্ষণ পর তিনি চিৎকার করে জানান, গাড়ির নিচে ডা য় না মাই ট পাওয়া গেছে এবং যেকোনো মুহূর্তে গাড়িটি বি স্ফো রিত হতে পারে।   পরিস্থিতিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে গাড়ির নিচে ধোঁয়া ও আগুনের মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। পরে জানা যায়, ওই ধোঁয়া ও আগুন আসলে একটি ফ্লেয়ার থেকে তৈরি করা হয়েছিল। আতঙ্কিত ব্যাংককর্মীরা গাড়ি থেকে দূরে সরে গেলে ভুয়া পুলিশ সদস্যটি গাড়িতে উঠে সেটি চালিয়ে পালিয়ে যান।   ঘটনাটি জাপানে ‘৩০ কোটি ইয়েন ডাকাতি’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। পুলিশ ব্যাপক তদন্ত শুরু করে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য তদন্তে যুক্ত হন এবং অসংখ্য সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের তথ্য যাচাই করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১২০টি আলামতও উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, এর কিছু ছিল তদন্তকে বিভ্রান্ত করার জন্য সাজানো।   তদন্তে একজন সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের নাম সামনে এসেছিল। তবে তাকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।   চুরি যাওয়া অর্থও আর কখনো উদ্ধার হয়নি। দীর্ঘ তদন্তের পরও প্রকৃত অপরাধীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।   ১৯৬৮ সালের সেই ঘটনার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু জাপানের আলোচিত এই ডাকাতির রহস্য এখনো অমীমাংসিত। পুলিশের পোশাক, সাজানো বি স্ফো রণের ভয় এবং কয়েক মিনিটের অভিনয় ব্যবহার করে বিপুল অর্থ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি আজও জাপানের অন্যতম আলোচিত অমীমাংসিত অপরাধ হিসেবে পরিচিত।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: আওয়াজ বিডি
টেনেসিতে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, সন্দেহভাজন আটক

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের বেলস শহরে সশস্ত্র ডাকাতির সময় গুলিতে ৩৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি মহসিন রানা নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে ৫০৫৪ হাইওয়ে ৪১২ সাউথে অবস্থিত এক্সন সাফারি কর্নার মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন।    স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভোরে এক বন্দুকধারী দোকানে ঢুকে ডাকাতি করে। এ সময় দোকানের এক কর্মীকে গুলি করা হয়। পরে সন্দেহভাজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ভোর আনুমানিক সাড়ে ২টার দিকে এক ক্রেতা দোকানে ঢুকে গুলিবিদ্ধ কর্মীকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে ৯১১ নম্বরে ফোন করেন।    খবর পেয়ে ক্রকেট কাউন্টি জরুরি সেবা, শেরিফের ডেপুটি ও তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। গুরুতর আহত মহসিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।    মহসিন রানা প্রায় সাত বছর আগে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন বলে পরিবার ও পরিচিতজনদের সূত্রে জানা গেছে। তার বাড়ি ঢাকার সাভারে। তিনি টেনেসির ওই গ্যাস স্টেশনের কনভেনিয়েন্স স্টোরে কাজ করতেন। বাংলাদেশে তার স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। তাদের বয়স ১২ ও ৫ বছর বলে জানা গেছে।   ঘটনার পর বেলস পুলিশ, ক্রকেট কাউন্টি শেরিফের অফিস, টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, জ্যাকসন পুলিশ, ম্যাডিসন কাউন্টি শেরিফের অফিস, এটিএফ ও এফবিআইসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা ও তদন্তকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে কাজ করেছে।    তদন্তকারীরা এখন হামলার পুরো ঘটনা, ডাকাতির ধরন এবং গুলির পেছনের কারণ খতিয়ে দেখছেন। ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখা হয় এবং তদন্তের স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।    মহসিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর টেনেসিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও পরিচিতজনেরা তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সূত্র: আওয়াজ বিডি

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাড়িতে ঢুকে নারীকে বেঁধে ভয়াবহ ডাকাতি, লুট ৩ লাখ ৪৩ হাজার ডলারের সম্পদ
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাড়িতে ঢুকে নারীকে বেঁধে ভয়াবহ ডাকাতি, লুট ৩ লাখ ৪৩ হাজার ডলারের সম্পদ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকায় এক ভয়াবহ সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত সোয়া ১০টার দিকে ব্রঙ্কসের হাইব্রিজ এলাকার ওয়েস্ট ১৬৮ স্ট্রিট ও ওগডেন অ্যাভিনিউ সংলগ্ন একটি বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, তিনজন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত জোরপূর্বক ওই বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ৩৯ বছর বয়সী এক নারীর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়।   ডাকাত দল ওই নারীকে মারধরের পর তার হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে। এরপর তারা বাড়িটি থেকে নগদ অর্থ, দামি গয়না, সুগন্ধি এবং একটি মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৩ লাখ ৪৩ হাজার ডলার মূল্যের সম্পদ লুট করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।   ভয়াবহ এই ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।   পুলিশ এই সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনার জোর তদন্ত শুরু করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইসহ জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তবে এখন পর্যন্ত ডাকাতির সঙ্গে জড়িত কোনো সন্দেহভাজনকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এই বিশাল অঙ্কের লুটের ঘটনায় ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০