সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#ডিজেলেরদাম

কৃষকদের জন্য ৮ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা ঘোষণা ট্রাম্পের
ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণা ট্রাম্পের, বরাদ্দ ৮ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের বাড়তি ডিজেল খরচের চাপ কমাতে ৮ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকদের আর্থিক চাপ সামাল দিতে ‘হারভেস্ট ফুয়েল রিলিফ প্রোগ্রাম’ নামে এ কর্মসূচি চালু করছে দেশটির কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। সোমবার রাতে কানসাসে এক নির্বাচনী সমাবেশে এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। কর্মসূচির আওতায় কৃষকেরা এককালীন অর্থসহায়তা পাবেন। তবে প্রত্যেকে কত টাকা পাবেন, তা নির্ভর করবে নির্ধারিত হিসাবপদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট ফসলের ওপর।   ট্রাম্পের ঘোষণার সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকেরা ডিজেলসহ উৎপাদন উপকরণের বাড়তি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছেন। কৃষিকাজে ট্রাক্টর, হারভেস্টার, সেচব্যবস্থা ও অন্যান্য যন্ত্র চালাতে জ্বালানির প্রয়োজন হয়। ফলে ডিজেলের দাম বেড়ে গেলে ফসল উৎপাদন ও সংগ্রহের খরচও বাড়ে। নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে ২০২৬ সালের ফসল উৎপাদন মৌসুমে কৃষকদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির একটি অংশ পুষিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। কানসাসের পার্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষি বিভাগ নতুন এই কর্মসূচি চালু করবে। এ সময় তিনি রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের ভূমিকাও তুলে ধরেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্শাল এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। মার্শাল একজন চিকিৎসক এবং বর্তমানে কানসাসের সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজ্যটিতে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের মুখোমুখি হচ্ছেন। নির্বাচনী পূর্বাভাসে সম্প্রতি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে এ আসন। সাবাতোর ক্রিস্টাল বল এবং দ্য কুক পলিটিক্যাল রিপোর্ট—দুটি প্রতিষ্ঠানই আসনটিকে এমন অবস্থানে রেখেছে, যেখানে দুই দলের যেকোনো প্রার্থী জয়ী হতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থান যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। ঐতিহাসিকভাবে এসব নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল কংগ্রেসে আসন হারানোর প্রবণতা দেখিয়েছে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুব বেশি নয়। ফলে কৃষকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভোটারগোষ্ঠীর সমর্থন ধরে রাখা দলটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদন এবং অর্থনীতি, অভিবাসন ও কর্মসংস্থানের মতো বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর প্রতি জনসমর্থন কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় সামলানো নিয়ে পরিবারগুলোর উদ্বেগও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের জন্য নতুন আর্থিক সহায়তার ঘোষণা এসেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, ঘোষণার সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত পেট্রলের জাতীয় গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৪.২৯৫৩ ডলার এবং ডিজেলের দাম ৬.৩১৮৭ ডলার। কানসাসে নিয়মিত পেট্রলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৩.৯৭৮৩ ডলার এবং ডিজেলের দাম ৬.০৭২২ ডলার। বিশেষ করে ডিজেলের উচ্চমূল্য কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, অস্থায়ী বাজারবিঘ্ন এবং উৎপাদন উপকরণের বাড়তি খরচের কারণে কৃষকদের যে ক্ষতি হচ্ছে, তার একটি অংশ পুষিয়ে দিতে ৮ বিলিয়ন ডলার এককালীন অর্থসহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণে একটি অভিন্ন হিসাবপদ্ধতি ব্যবহার করা হবে, যাতে যোগ্য কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সহায়তা পান। এই হিসাবের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ফসল উৎপাদন মৌসুমের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করা হবে। কৃষি বিভাগের বিশ্ব কৃষিপণ্য সরবরাহ ও চাহিদা-সংক্রান্ত পূর্বাভাস থেকে ফসলের দাম ও ফলনের তথ্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক গবেষণা বিভাগ থেকে উৎপাদন ব্যয়ের হিসাব এবং কৃষি বিভাগের ফার্ম সার্ভিস এজেন্সিতে (এফএসএ) জমা দেওয়া আবাদি জমির তথ্য ব্যবহার করা হবে। কর্মসূচির অর্থ কমোডিটি ক্রেডিট করপোরেশন চার্টার আইনের আওতায় বরাদ্দ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের অধীন ফার্ম সার্ভিস এজেন্সি অর্থ বিতরণের দায়িত্ব পালন করবে। কোন ফসলের জন্য কত হারে অর্থ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আগামী মাসে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এ কর্মসূচির জন্য ফসলবিমা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভবিষ্যতে পণ্যের দাম ওঠানামা ও বাজারের ঝুঁকি সামলাতে কৃষকদের নতুন কর আইনে অন্তর্ভুক্ত উন্নত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সুবিধা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। যেসব কৃষিপণ্য সাধারণত টাইটেল-ওয়ান পণ্যের তালিকায় পড়ে না, সেগুলোর জন্য সহায়তার হিসাবপদ্ধতি পরে ঘোষণা করা হবে। এ ধরনের পণ্যের মধ্যে বিশেষায়িত ফসল উৎপাদনকারীদের পাশাপাশি মৎস্যজীবীরাও রয়েছেন। জ্বালানির বাড়তি খরচের প্রভাব বিবেচনার জন্য তাঁদের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে HarvestFuel@usda.gov ঠিকানায়। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে সহায়তার হার নির্ধারণ করা হতে পারে। আবেদনের সময়সীমা ঘোষণার আগেই কৃষকদের Login.gov-এ অ্যাকাউন্ট খোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলে আগে থেকে পূরণ করা আবেদনপত্র ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। কৃষিমন্ত্রী ব্রুক এল. রোলিন্স বলেছেন, ফসল কাটার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কৃষকদের আরও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দিতে এ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ৮ বিলিয়ন ডলারের এ বিনিয়োগ কৃষকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কমাতে এবং দেশের খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে। তবে জ্বালানির দাম নিয়ে কৃষকদের অসন্তোষ নতুন নয়। ন্যাশনাল ব্ল্যাক ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জন বয়েড এর আগে বলেছিলেন, ডিজেলের উচ্চমূল্য এবং অন্যান্য আর্থিক চাপের কারণে কৃষকদের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। নির্বাচনের আগে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ঘটনাও এবার নতুন নয়। গত মাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন-সংক্রান্ত সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, তাঁর দল নির্বাচনে জয়ী হলে লাখ লাখ আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলারের ডিভিডেন্ড চেক দেওয়া হবে। পাশাপাশি ২ কোটির বেশি প্রবীণ নাগরিককে মেডিকেয়ার পার্ট বি প্রিমিয়াম পরিশোধে সহায়তার জন্য প্রায় ১০০ ডলারের চেক দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। নতুন কৃষি সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে ডিজেলের বাড়তি খরচের কতটা চাপ কমানো সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে ফসলভিত্তিক অর্থসহায়তার হার এবং কৃষকেরা বাস্তবে কতটা অর্থ পাবেন তার ওপর। আপাতত কৃষকদের সম্ভাব্য ক্ষতির একটি অংশ পুষিয়ে দেওয়াই সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ডিজেল সরবরাহ নিয়ে ট্রাম্প ও পুতিনের সমঝোতা
ডিজেলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার দাবি ট্রাম্পের, আসছে লাখ লাখ টন জ্বালানি

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে অবিলম্বে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে মস্কো। আগামী নভেম্বরেও আরও কয়েক দফায় বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই উদ্যোগে জ্বালানির দাম কতটা কমবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।   শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে তাঁর আলোচনা অত্যন্ত সফল হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন এবং এরপরপরই আরও ১০ লাখ টন ডিজেল পাঠানোর কথা রয়েছে। রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোর অবস্থা অনুকূলে থাকলে স্বল্প সময়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ টন জ্বালানি সরবরাহ করা হতে পারে বলেও জানান তিনি। রুশ প্রেসিডেন্টের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভও দুই দেশের মধ্যে ডিজেল ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রকাশিত বক্তব্যে ট্রাম্প ঘোষিত সব চালানের নির্দিষ্ট পরিমাণ ও সময়সূচি নিশ্চিত করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম প্রায় রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর মধ্যে এই ঘোষণা এলো। কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন এবং বাড়ি গরম রাখার কাজে ডিজেল গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। ফলে এর দাম বাড়লে শুধু পরিবহন খরচ নয়, কৃষিপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। যুক্তরাষ্ট্রের মোটরচালক সংগঠন এএএর হিসাবে, গত বৃহস্পতিবার দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ২৮ সেন্টে পৌঁছায়। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যু দ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ডিজেলের দাম প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান ও ইউক্রেনকে ঘিরে চলমান যু দ্ধ এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এ পরিস্থিতিতে আগামী ৩ নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তা, কৃষক, খামারমালিক ও ট্রাকচালকদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের—বিশেষ করে কৃষক, খামারমালিক ও ট্রাকচালকদের—জন্য দাম কমানো তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার। রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের পর মস্কোর জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রুশ ডিজেল বিক্রি, সরবরাহ ও আমদানির অনুমতি দিয়ে একটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করে। এর ফলে ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত নির্দিষ্ট শর্তে রাশিয়ার ডিজেল আমদানি করা যাবে। অর্থাৎ, জ্বালানির দাম কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট ডিজেল উৎপাদন ও ব্যবহারের তুলনায় ঘোষিত প্রাথমিক চালানের পরিমাণ সীমিত। ফলে বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের পরিবর্তন নাও আসতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি অব্যাহত থাকলে রাশিয়ার কাছ থেকে অতিরিক্ত ডিজেল এলেও দাম দীর্ঘ সময় কম থাকবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। এদিকে ডিজেলের উৎপাদন বাড়াতে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন। শিল্প খাতের তিনটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন সরকারি বিভাগের প্রধানদের ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজে বের করার নির্দেশ দিতে পারেন। এ নির্দেশনা প্রেসিডেন্টের স্মারকলিপির আকারে আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে শীতল যু দ্ধের সময়কার প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কাজে লাগানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে ঋণ বা ঋণের নিশ্চয়তা দেওয়া এবং জরুরি পণ্য সরবরাহে সরকারি চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। পাশাপাশি জ্বালানি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করছে—এমন কিছু স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের বিধিনিষেধ পাশ কাটানোর উপায়ও খোঁজা হতে পারে। ইরানকে ঘিরে যু দ্ধের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন এবং মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি সামনে আসায় যুক্তরাষ্ট্রে তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে নতুন শোধনাগার নির্মাণের চেয়ে বিদ্যমান স্থাপনাগুলোর দক্ষতা বাড়ানো বা সেগুলোর সম্প্রসারণে সরকারি অর্থ ব্যয় করা বেশি কার্যকর হতে পারে বলে গত মাসে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন জ্বালানি খাতের নির্বাহীরা। নতুন শোধনাগার নির্মাণে ব্যয় বেশি এবং কাজ শেষ করতেও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ডিজেলের পাশাপাশি পেট্রলের দামও কমার পূর্বাভাস দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর আশা, শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম প্রতি গ্যালন ১ ডলার ৮৫ সেন্ট থেকে ১ ডলার ৯৫ সেন্টে নেমে আসবে। তবে শুক্রবার এএএর হিসাবে গড় দাম ছিল প্রায় ৪ ডলার ৩৭ সেন্ট। ফলে ট্রাম্পের এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করছে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং বাজারের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৮ ডলার ৪২ সেন্টে পৌঁছেছে
ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেল ৮ ডলার ছাড়িয়েছে, কিছু পাম্পে ছুঁয়েছিল প্রায় ১০ ডলার

ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের দাম রেকর্ডের কাছাকাছি অবস্থান করছে। আজ রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর AAA-এর হিসাবে রাজ্যটিতে এক গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৮ দশমিক ৪২ ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে দাম ছিল মাত্র ৫ দশমিক ১৬ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে গ্যালনপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ২৫ ডলার।   মাত্র এক মাস আগেও ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের গড় দাম ছিল ৭ দশমিক ২১ ডলারের কাছাকাছি। ২২ সেপ্টেম্বর তা ৮ দশমিক ৪৩৮৭ ডলারে উঠে সর্বকালের সর্বোচ্চ গড়ের রেকর্ড করে। এরপর সামান্য কমলেও আজকের ৮ দশমিক ৪১৬ ডলারের গড় এখনো সেই রেকর্ডের খুব কাছাকাছি।   বে এরিয়াতেও পরিস্থিতি আরও ব্যয়বহুল। আজ সান হোসেতে ডিজেলের গড় দাম ৮ দশমিক ৬৬ ডলার। এক মাস আগে সেখানে ছিল প্রায় ৭ দশমিক ৩০ ডলার এবং এক বছর আগে ৫ দশমিক ১৯ ডলারের কাছাকাছি। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি নির্দিষ্ট পাম্পে ডিজেলের দাম ৯ দশমিক ৯৯৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। তবে প্রায় ১০ ডলারের ওই দামটি ছিল কিছু নির্দিষ্ট স্টেশনের, রাজ্যজুড়ে গড় দাম নয়।   শুধু ডিজেল নয়, সাধারণ গ্যাসোলিনের দামও আবার বাড়ছে। আজ ক্যালিফোর্নিয়ায় এক গ্যালন রেগুলার গ্যাসের গড় ৬ দশমিক ৩৫ ডলার। গতকাল ছিল ৬ দশমিক ৩৪ ডলার, এক সপ্তাহ আগে ৬ দশমিক ১৫ ডলার এবং এক মাস আগে ৫ দশমিক ৬৪ ডলার। জাতীয় পর্যায়ে আজ রেগুলার গ্যাসের গড় ৪ দশমিক ৪৮ ডলার। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার চালকেরা জাতীয় গড়ের তুলনায় গ্যালনপ্রতি প্রায় ১ দশমিক ৮৭ ডলার বেশি দিচ্ছেন।   জাতীয় পর্যায়েও ডিজেলের দাম অস্বাভাবিক উঁচু। আজ যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন ডিজেলের গড় ৬ দশমিক ৪৭ ডলার, যেখানে এক বছর আগে ছিল ৩ দশমিক ৬৯ ডলার। ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় গড় ৬ দশমিক ৫৩ ডলারের কাছাকাছি উঠে রেকর্ড করেছিল।   মূল সমস্যার একটি হলো ডিজেলের সরবরাহ। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সর্বশেষ সাপ্তাহিক হিসাবে ২১ সেপ্টেম্বর জাতীয় পর্যায়ে অন-হাইওয়ে ডিজেলের গড় ছিল ৬ দশমিক ৫২৯ ডলার। একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি সাপ্তাহিক গড় ছিল ৮ দশমিক ২৫ ডলারের কাছাকাছি।   রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বছরের এই সময়ের হিসাবে ডিজেলের মজুত রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। EIA-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত দেশের ডিস্টিলেট মজুত ১০ কোটি ব্যারেলের নিচে থাকতে পারে। ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্নের পাশাপাশি ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও আন্তর্জাতিক ডিজেল সরবরাহে চাপ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বৈশ্বিক ডিজেল সংকট ২০২৭ সালেও গড়াতে পারে।   উচ্চ ডিজেলের প্রভাব শুধু ট্রাক বা ডিজেলচালিত গাড়ির মালিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। NBC Bay Area-কে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ট্রাকিং ও পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়লে সেই বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর পড়তে পারে। মুদি পণ্য থেকে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যে এর প্রভাবকে তারা ‘সাপ্লাই চেইন ইনফ্লেশন’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।   পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনেও আলোচনা চলছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট সম্প্রতি বড় কয়েকটি রিফাইনারির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিজেল রপ্তানি স্বেচ্ছায় সীমিত করার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা উল্টো আন্তর্জাতিক সরবরাহ আরও সংকুচিত করে পরিস্থিতি খারাপ করতে পারে।   এদিকে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার কম দামের বিকল্প হিসেবে ইথানল মিশ্রিত ই১৫ গ্যাসোলিন বাজারে দ্রুত আনার উদ্যোগ নিয়েছে। গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ১৯ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন। রাজ্য সরকারের উদ্ধৃত এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, পর্যাপ্ত অবকাঠামো তৈরি হলে ই১৫ গ্যালনপ্রতি দাম সর্বোচ্চ ২০ সেন্ট পর্যন্ত কমাতে পারে। তবে এটি ডিজেলের বর্তমান সংকটের সরাসরি সমাধান নয়।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
এক লাফে পেট্রলের দাম ২০ টাকা বাড়ায় মাথায় হাত ভোক্তার (প্রতীকী ছবি)
বাংলাদেশে এক লাফে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল ২০ টাকা, ২০২২ সালের পর একবারে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি

বাংলাদেশে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম একসঙ্গে লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকায় বিক্রি হবে। ২০২২ সালের পর একবারে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। রোববার রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন দাম ঘোষণা করে। সোমবার থেকে নতুন দর কার্যকর হবে। এর আগে গত এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম বড় পরিমাণে বাড়ানো হয়েছিল। তখন ডিজেলের দাম ১০০ থেকে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ থেকে ১৩০ টাকা করা হয়। এরপর জুনে কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ানো হলেও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ওই দামই বহাল ছিল। নতুন দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধের প্রভাবের কথা জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও দেশে একই হারে সমন্বয় করা হয়নি। মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী শুধু ডিজেলেই প্রতি লিটারে বিপিসির প্রায় ৮৯ টাকা লোকসান হচ্ছে। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা এবং একই পরিস্থিতি চললে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। সরকারের হিসাবে, চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর ফলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে। জ্বালানির দাম বাড়ানোর পেছনে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দামের ব্যবধানকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়। তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী ও অন্যান্য কয়েকটি দেশে বাংলাদেশের তুলনায় ডিজেলের দাম বেশি। দেশে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি বিক্রি হওয়ায় পাচারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সরকার। এ ছাড়া এলএনজি খাতে ভর্তুকি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয়ের বিষয়টিও দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্তে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপনে জ্বালানি তেলের মূল্য কাঠামোর বিস্তারিতও দেওয়া হয়েছে। কর-পরবর্তী এক্স-রিফাইনারি মূল্য ডিজেলের ক্ষেত্রে লিটারপ্রতি ১২৩ টাকা ৫৮ পয়সা, কেরোসিনে ১৪৩ টাকা ৭৮ পয়সা, অকটেনে ১৪৯ টাকা ৭৮ পয়সা এবং পেট্রোলে ১৪৪ টাকা ৯৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ভ্যাট, শুল্ক, বিপণন কোম্পানির মার্জিন, পরিবহন ব্যয়, বিপিসির উন্নয়ন তহবিল, ডিলার ও এজেন্ট কমিশনসহ বিভিন্ন খরচ যোগ করে ভোক্তা পর্যায়ের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। মার্চের দামের সঙ্গে তুলনা করলে সোমবার থেকে ডিজেলের দাম লিটারে ৩৫ টাকা, অকটেনে ৪৫ টাকা, পেট্রোলে ৪৪ টাকা এবং কেরোসিনে ৪৩ টাকা বেশি হবে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারদর, আমদানি ব্যয়, শুল্ক-কর, ডলারের বিনিময় হার, বিপিসির মার্জিন, ভ্যাট ও বিতরণ ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০