- প্রচ্ছদ
- Topic
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে ছাত্রশিবির সমর্থিত সাদিক কায়েম ও এসএম ফরহাদ নেতৃত্বাধীন ডাকসুর মেয়াদ। এক বছরের দায়িত্ব পালনের পর তাদের কার্যক্রম, সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে শুরু হয়েছে মূল্যায়ন। ডাকসু নেতাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে সীমিত অর্থ বরাদ্দ পেলেও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট স্পন্সরের সহযোগিতায় তারা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ করেছেন। তাদের হিসাবে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া ৩৫ লাখ টাকার তুলনায় এই কাজের পরিমাণ প্রায় ১০০ গুণ বেশি। নির্বাচনের ফলাফল: ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয় পায় ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’। নির্বাচিতরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন ১৪ সেপ্টেম্বর। আবাসন ও অবকাঠামো: দায়িত্ব নেওয়ার পর আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, প্রযুক্তি ও ক্যারিয়ার খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয় ডাকসু। আবাসিক হলের রিডিংরুমে এসি স্থাপন, কম্পিউটার ল্যাব, কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি, ছাত্রীদের জিমনেসিয়াম এবং বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। বড় প্রকল্প: ডাকসুর দাবি, পাঁচটি হল নির্মাণে ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার প্রকল্পে সম্মতি আদায় এবং চীনের সহযোগিতায় ১ হাজার ৫০০ আসনবিশিষ্ট নতুন ছাত্রী হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন আবাসিক হলে প্রায় ৬ কোটি টাকার এসি স্থাপনের কাজও চলছে। বিভিন্ন খাতে ব্যয়: কেন্দ্রীয় মাঠের উন্নয়নে প্রায় ৩ কোটি, কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কারে ৩ কোটি এবং মুসা খাঁ মসজিদ সংস্কারে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডাকসু। ছাত্রীদের জিমনেসিয়ামের উন্নয়নে ৬৫ লাখ এবং হলগুলোর কম্পিউটার ও অন্যান্য ল্যাব স্থাপনে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের কথাও বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবহন: শিক্ষার্থীদের পরিবহনব্যবস্থা উন্নয়নে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার কাজ করা হয়েছে বলে দাবি ডাকসুর। নতুন রুট চালুর পাশাপাশি কুমিল্লা পর্যন্ত বাসসেবা চালুর কথাও জানিয়েছে তারা। মেডিকেল সেন্টারের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৩ কোটি এবং তুরস্কের সহযোগিতায় আরও প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে অ্যাম্বুলেন্স, এক্স-রে ও ইসিজি মেশিনসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। শিক্ষার্থী সেবা: ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ফার্স্ট এইড বুটক্যাম্প, একাধিক মেডিকেল ক্যাম্পে ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, হলগুলোতে ছারপোকা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২৭০-এর বেশি শিক্ষার্থীকে নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা দেওয়ার দাবি করেছে ডাকসু। ক্যারিয়ার ও দক্ষতা উন্নয়ন: বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কোর্সে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু। চীনের ৩১টির বেশি প্রতিষ্ঠানে জব ফেয়ারের মাধ্যমে প্রায় ৪৩০ শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং সাতটি আন্তর্জাতিক জার্নালে বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্যোগ: কলাভবনে ব্রেস্টফিডিং কর্নার, ছাত্রীদের কমনরুমে এসি, সেন্ট্রাল লাইব্রেরি সংস্কার, প্রায় এক হাজার নারী শিক্ষার্থীকে হিজাব এবং ছাত্রী হলগুলোতে ১০ হাজারের বেশি স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করেছে ডাকসু। শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া: ডাকসুর কর্মকাণ্ড নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কার, হলের সিটের ব্যবস্থা, মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়ন ও ছাত্রীদের জিমনেসিয়ামের মতো উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তবে হলের খাবার, আবাসন ও পরিবহনসহ কিছু সমস্যা এখনো রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তারা। সমালোচনাও আছে: ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ই-লাইব্রেরি চালু, লিফট সংস্কার, জব ফেয়ার, বিজনেস কেস কম্পিটিশন, সেমিনার এবং ক্লাসরুম সংকট সমাধানের মতো বিষয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরাও পরিবহন, কমনরুম ও জলাবদ্ধতা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন। রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন: ডাকসুর কার্যক্রমের পাশাপাশি তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকার কথা বলা হলেও কয়েকজন নেতাকে পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনের দলীয় প্রচারে দেখা গেছে। ১৯৭১-সংক্রান্ত বিভিন্ন বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ভিপির দাবি: ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া অর্থের তুলনায় তারা প্রায় ১০০ গুণ বেশি কাজ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে ২৫ লাখ এবং পরে আরও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ৩৫ লাখ টাকার বিপরীতে ডাকসু প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ করেছে বলে তাদের হিসাব। দায়িত্ব শেষের হিসাব: ডাকসু নেতারা জানিয়েছেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনে পুরো বছরের কার্যক্রম তুলে ধরা হবে। সেখানে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, ইশতেহারের বাইরে কী কী কাজ করা হয়েছে এবং পুরো বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা হবে। জিএসের বক্তব্য: ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদ বলেন, আগের ডাকসুগুলোর মতো রাজনৈতিক আধিপত্যের কেন্দ্র না বানিয়ে বর্তমান ডাকসুকে শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর ছাত্র সংসদ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। বিভিন্ন মত ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি ডাকসুকে কোনো দলের কার্যালয়ে পরিণত না করার কথাও জানান তিনি।
৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) কর্মকর্তা শেখ মিশা খাতুন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গেড়াখোলা ব্রিজের কাছে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খুলনা থেকে ঢাকাগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হলে বাসটির যাত্রী শেখ মিশা খাতুন নিহত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। শেখ মিশা খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি বিএসটিআইয়ের খুলনা কার্যালয়ে পরীক্ষক (রসায়ন) পদে কর্মরত ছিলেন। বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তাদের তালিকাতেও তাকে পরীক্ষক (রসায়ন) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মজীবনে প্রবেশের পরও উচ্চতর ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন মিশা। সেই লক্ষ্যেই ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ঢাকার পথে রওনা হন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রাই তার জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পক্ষ থেকে প্রকাশিত শোকবার্তায় তার বিসিএস ভাইভায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসার বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিএসটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে পরীক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন শেখ মিশা খাতুন। অল্প সময়ের কর্মজীবনেই তিনি সহকর্মীদের কাছে একজন তরুণ ও সম্ভাবনাময় কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে বিএসটিআই পরিবার শোক জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হকও তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। এক শোকবার্তায় ডাকসু জানিয়েছে, একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ও সম্ভাবনাময় তরুণের এভাবে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। মিশার সহকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতজনদের কাছে তার মৃত্যু আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কারণে। বিএসটিআইয়ে কর্মরত থাকার পাশাপাশি তিনি সরকারি প্রশাসনে আরও বড় পরিসরে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। ভাইভায় অংশ নেওয়ার জন্যই খুলনা থেকে ঢাকায় রওনা দিয়েছিলেন তিনি। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের গেড়াখোলা এলাকায় দুর্ঘটনার পর তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহপাঠী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার অকালমৃত্যুতে একটি সম্ভাবনাময় কর্মজীবনের পাশাপাশি নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নও থেমে গেল। শেখ মিশা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় বিএসটিআই এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা শোক প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ১৭১ নম্বর কক্ষ একসময় ছিল চার তরুণের ঠিকানা। তাঁদেরই দুজন ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তখন তাঁরা পরিচিত ছিলেন না রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে। ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের তরুণ ছাত্র, একই হলের আবাসিক, একই রাজনৈতিক আবহে বেড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেই সময়ের বন্ধুত্বই কয়েক দশক পরও টিকে আছে। বর্তমানে মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি, আর ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ দেশের অন্যতম পরিচিত অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা। ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন মির্জা ফখরুল ও ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে তাঁরা সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের একই কক্ষে থাকতেন। একই ঘরে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ইতিহাসবিদ আহমেদ কামাল ও রাজনীতিবিদ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। চারজনই সে সময়ের বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সময়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ষাটের দশকের উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশে তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশ, সমাজ, বৈষম্য ও রাজনীতি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হতো। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে, একই রাজনৈতিক আবহ এবং হলজীবনের ঘনিষ্ঠতার মধ্য দিয়েই তাঁদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সেই সময়ের জীবন অবশ্য খুব শান্ত ছিল না। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এক স্মৃতিচারণে জানিয়েছেন, তৎকালীন আইয়ুবপন্থী ছাত্রসংগঠন এনএসএফের কর্মীরা তাঁদের কক্ষে অন্তত দুবার হামলা চালিয়ে ঘর তছনছ করেছিল। ওই সময় তিনি হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদকও নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষ হওয়ার পর চার বন্ধুর পথ ধীরে ধীরে আলাদা হয়ে যায়। মির্জা ফখরুল শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে পৌঁছান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। পরদিন বঙ্গভবনে শপথ নিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অন্যদিকে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বেছে নেন অর্থনীতি, গবেষণা ও শিক্ষকতার পথ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে পড়াশোনা শেষে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। উন্নয়ন, দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর দীর্ঘ গবেষণা রয়েছে। ২০২৪ সালে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। তবে পেশা ও রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য তাঁদের বন্ধুত্বে ছেদ ঘটায়নি। ২০২০ সালে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের জন্মদিনে তাঁর বাসায় মির্জা ফখরুল, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও আহমেদ কামাল একসঙ্গে আড্ডা দেন। ওই সময় ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ সময় পর চার পুরোনো বন্ধু একসঙ্গে বসেছিলেন এবং যেন কিছুক্ষণের জন্য ফিরে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই দিনগুলোতে। সাম্প্রতিক সময়েও সেই বন্ধুত্বের কথা সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছিলেন, মির্জা ফখরুল তাঁর শিক্ষাজীবনের বন্ধু ও সাবেক রুমমেট। একই সময়ে শিক্ষা ও প্রশাসনে যোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজতে তিনি বন্ধুর সঙ্গে পরামর্শও করেছিলেন বলে জানান। এখন তাঁদের পরিচয়ের পরিধি অনেক বড়। একজন দেশের রাষ্ট্রপতি, অন্যজন অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণের জগতে সুপরিচিত মুখ। কিন্তু তাঁদের দীর্ঘ জীবনের গল্পের শুরু হয়েছিল একই জায়গা থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ১৭১ নম্বর কক্ষ। সেই কক্ষের চার তরুণের জীবন পরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৌঁছেছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে। আর ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ হয়ে উঠেছেন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক। সময় তাঁদের পরিচয় বদলে দিয়েছে, দায়িত্ব বদলে দিয়েছে, পথও আলাদা করেছে। কিন্তু কয়েক দশক পরও তাঁদের গল্পের শুরুর জায়গাটি একই রয়ে গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ড. নাহিয়ান বিন খালেদ যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টোরাল রিসার্চ ফেলো হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ইয়েল রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ অন ইনোভেশন অ্যান্ড স্কেল বা ওয়াই-রাইজে উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করবেন তিনি। তার গবেষণার বড় একটি অংশজুড়ে থাকবে বাংলাদেশ। সম্প্রতি মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারাল, ফুড অ্যান্ড রিসোর্স ইকোনমিকস থেকে প্রায়োগিক অর্থনীতিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন ড. নাহিয়ান। তার শিক্ষা ও গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করার আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ইয়েলের ওয়াই-রাইজে তার গবেষণার মূল ক্ষেত্র হবে উন্নয়ন অর্থনীতি। বিশেষ করে কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ, অভিবাসন, সামাজিক সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের অভিযোজন নিয়ে কাজ করবেন তিনি। বাংলাদেশ ছাড়াও তানজানিয়া, নাইজেরিয়া ও কেনিয়ার বিভিন্ন উন্নয়ন সমস্যার ওপর তার পূর্ববর্তী গবেষণা রয়েছে। নিজের নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে ড. নাহিয়ান জানিয়েছেন, ওয়াই-রাইজ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সমস্যাগুলো নিয়ে গবেষণা করে এবং সেখানে তার কাজের প্রধান ফোকাস হবে বাংলাদেশ। গবেষণার প্রয়োজনে তিনি কয়েক মাস বাংলাদেশে অবস্থান করে উন্নয়ন সহযোগী, নীতিনির্ধারক এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন। ড. নাহিয়ানের গবেষণা আগ্রহের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষিতে প্রযুক্তি গ্রহণ, অভিবাসন, সামাজিক সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে থাকার সময়ও তিনি বাংলাদেশ ও তানজানিয়ায় প্রযুক্তি গ্রহণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা করেছেন। পিএইচডির আগে উন্নয়ন গবেষণায়ও তার উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা আইএফপিআরআই এবং ইনোভেশনস ফর পোভার্টি অ্যাকশনে কাজ করেছেন। বাংলাদেশে উন্নয়ন কর্মসূচির নকশা, বাস্তবায়ন এবং মূল্যায়নসংক্রান্ত গবেষণায়ও তিনি যুক্ত ছিলেন। তার প্রকাশিত গবেষণার মধ্যে বাংলাদেশের মৎস্য ও চিংড়ি ভ্যালু চেইনে কোভিড-১৯ পরবর্তী ধাক্কা ও স্থিতিস্থাপকতা, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সক্ষমতা এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নিয়ে কাজ রয়েছে। কৃষি প্রযুক্তি ও নীতির প্রভাব নিয়েও একাধিক গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন তিনি। পাঁচ বছরের পিএইচডি যাত্রা শেষ করার পর ড. নাহিয়ান বলেছেন, ডক্টরাল ডিগ্রির মূল্য শুধু একটি সনদে নয়। দীর্ঘ সময় ধরে একটি গবেষণা প্রশ্ন নিয়ে কাজ করা, ভুল থেকে নতুনভাবে শুরু করা, ধৈর্য ধরে বিশ্লেষণ করা এবং জটিল সমস্যার উত্তর খোঁজার দক্ষতাকেই তিনি এই যাত্রার বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন। পিএইচডির সময় আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত গবেষকদের সঙ্গে কাজ ও মতবিনিময়ের সুযোগ পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের বাইরে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা ও গবেষণা করতে গিয়ে নতুন একাডেমিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং পরিবার থেকে দূরে থাকার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন। অর্থনীতিবিদদের আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারকে এবার বিশেষভাবে কঠিন বলেও উল্লেখ করেছেন ড. নাহিয়ান। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন গবেষণায় সুযোগ সংকুচিত হওয়ার মধ্যে ইয়েলের মতো প্রতিষ্ঠানে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাওয়াকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। ইয়েলে তার নতুন গবেষণা যাত্রার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে বাস্তব নীতিগত সমস্যার সমাধান। বাংলাদেশে অভিবাসন, কৃষি, সামাজিক সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজনের মতো বিষয়ে মাঠপর্যায়ের তথ্য ব্যবহার করে এমন গবেষণা করতে চান তিনি, যা নীতিনির্ধারণে কার্যকর প্রমাণ দিতে পারে। ড. নাহিয়ানের ভাষায়, তার লক্ষ্য খুবই সরল: ভালো অর্থনীতি শেখা, ভালো গবেষণা করা এবং সেই গবেষণার মাধ্যমে মানুষের জীবন কিছুটা হলেও উন্নত করতে অবদান রাখা। ইয়েলে তার নতুন অধ্যায় সেই লক্ষ্যকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নন্দিতা দেব যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডে ডিফিল ইন মেডিকেল সায়েন্সেস প্রোগ্রামে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া তার ডক্টরাল গবেষণার জন্য তিনি অক্সফোর্ডের এমআরসি আইকেস স্টুডেন্টশিপের আওতায় পূর্ণ অর্থায়ন পেয়েছেন। নন্দিতা দেব বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে সহকারী অধ্যাপক। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তার গবেষণার আগ্রহের মধ্যে রয়েছে ম্যাগনেটিক ন্যানোপার্টিকেল, বায়োমেডিকেল অ্যাপ্লিকেশন এবং ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং বা এমআরআই। অক্সফোর্ডের ২০২৬ সালের এমআরসি আইকেস কর্মসূচি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সায়েন্সেস ডিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বিভিন্ন বিভাগের ৩১টি গবেষণা প্রকল্পের বিপরীতে মাত্র আটটি এমআরসি এন্টারপ্রাইজ আইকেস ডিফিল স্টুডেন্টশিপ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচিত গবেষকদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পূর্ণ ফি, চার বছরের স্টাইপেন্ড, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সহায়তা এবং নির্দিষ্ট ট্রাভেল অ্যালাউন্সের ব্যবস্থা রয়েছে। পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করলেও নন্দিতার গবেষণায় বায়োমেডিকেল সায়েন্সের সঙ্গে যোগসূত্র আগে থেকেই ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তার গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ম্যাগনেটিক হাইপারথার্মিয়া। ক্যানসার কোষকে লক্ষ্য করে চিকিৎসায় ব্যবহারযোগ্য ম্যাগনেটিক ন্যানোপার্টিকেল তৈরি এবং সেগুলোর বৈশিষ্ট্য নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন। তার একাধিক গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৩ সালে রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্সে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তিনি হেমাটাইট ও কাইটোসানভিত্তিক ন্যানোহাইব্রিডের বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করেন। একই বছর এআইপি অ্যাডভান্সেসে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় বায়োমেডিকেল ব্যবহারের সম্ভাবনাসম্পন্ন ম্যাগনেটাইট ন্যানোপার্টিকেল নিয়ে কাজ করেন। ২০২৪ সালে ফ্রন্টিয়ার্স ইন কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায়ও তিনি সহলেখক ছিলেন। অক্সফোর্ডে তার গবেষণার ক্ষেত্র কার্ডিয়াক এমআরআইয়ের সঙ্গে যুক্ত। অক্সফোর্ডে বর্তমানে কার্ডিওভাসকুলার এমআর নিয়ে একাধিক উন্নত গবেষণা চলছে। এর মধ্যে হৃদযন্ত্রের গঠন, কার্যকারিতা ও টিস্যুর বৈশিষ্ট্য আরও নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ এবং রোগ নির্ণয়ে কার্ডিওভাসকুলার এমআর প্রযুক্তির ব্যবহার উন্নত করার গবেষণাও রয়েছে। নন্দিতা দেবের উচ্চশিক্ষার এই যাত্রায় বিশেষভাবে নজর কাড়ে পদার্থবিজ্ঞান থেকে মেডিকেল ইমেজিংয়ে তার গবেষণার বিস্তার। এমআরআই প্রযুক্তির ভিত্তিতেই রয়েছে শক্তিশালী পদার্থবিজ্ঞান। ফলে পদার্থবিজ্ঞানের জ্ঞানকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে এই আন্তঃবিষয়ক ক্ষেত্রে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল তথ্যেও মেডিকেল ইমেজিংকে নন্দিতার গবেষণার আগ্রহের একটি ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে এমআরআইয়ের পাশাপাশি এক্স-রে ইমেজিং ও বায়োমেডিকেল আল্ট্রাসাউন্ডের প্রতিও তার গবেষণার আগ্রহের কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহারযোগ্য ন্যানোপার্টিকেল নিয়ে গবেষণাকে তিনি তার দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নন্দিতা দেবের অক্সফোর্ড যাত্রা বাংলাদেশের একজন পদার্থবিজ্ঞান গবেষকের মেডিকেল সায়েন্সের অত্যাধুনিক গবেষণায় প্রবেশেরও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। পদার্থবিজ্ঞান, মেডিকেল ইমেজিং ও বায়োমেডিকেল গবেষণার সমন্বয়ে তার নতুন গবেষণার অধ্যায় শুরু হবে আগামী অক্টোবরে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্বাধীন নীতি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গ্লোবাল পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স সংস্থাটি বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা অবশ্যই আইনি, স্বচ্ছ ও স্বাধীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে একাডেমিক স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছে তারা। লন্ডন থেকে গত শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমসহ তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে পলিসিগভ ইউকে। বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল পাঠদান নয়, বরং জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, বিশ্লেষণী চিন্তা ও গণতান্ত্রিক সংলাপের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। তাই একাডেমিক স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি, যা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্বেচ্ছাচারী হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষা দেয় এবং শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ নিশ্চিত করে। সংস্থাটি বলেছে, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অবশ্যই স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। অভিযুক্তদের অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্টভাবে অবহিত করার পাশাপাশি তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের অর্থবহ সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনো শিক্ষকের পেশাগত জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে, এমন সিদ্ধান্ত যথাযথ শুনানি ছাড়া নেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছে তারা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিষয়ক ব্যবস্থা এমনভাবে প্রয়োগ করা উচিত নয়, যাতে একাডেমিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, বুদ্ধিবৃত্তিক বৈচিত্র্য কিংবা বৈধ গবেষণা ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি, হুমকি বা সামাজিক চাপ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে পলিসিগভ ইউকে। সংস্থাটির মতে, প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন ও জবাবদিহির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখতে হবে। গত শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমসহ তিন শিক্ষককে পৃথক অভিযোগে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আরও চার শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অশিক্ষকসুলভ আচরণ, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ও তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এদিকে, পলিসিগভ ইউকের বিবৃতি নতুন করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলাবিষয়ক ব্যবস্থা, একাডেমিক স্বাধীনতা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে অবস্থান করা দুই বহিরাগত অতিথির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অন্তরঙ্গ আচরণের অভিযোগ ওঠার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হল প্রশাসন ইব্রাহীম খলিলের আবাসিক সিট সাময়িকভাবে বাতিল করেছে এবং ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওতে দুই ব্যক্তিকে তাদের আচরণ নিয়ে বক্তব্য দিতে এবং ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটির সত্যতা বা এর সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইব্রাহীম খলিলের রুমমেট ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অনয় চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, গত ২৭ জুলাই ওই দুই ব্যক্তি ইব্রাহীম খলিলের অতিথি হিসেবে কক্ষে অবস্থান করছিলেন। পরে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পাওয়ার দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য ধারণ করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গোপনীয়তা ও ঘটনার সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুরো ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে সমালোচনার মুখে ফেসবুকে দেওয়া এক বক্তব্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ইব্রাহীম খলিল। তিনি বলেন, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসা পরিচিত দুজনকে মানবিক কারণে তার কক্ষে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে অভিযোগের সময় তিনি কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না এবং ঘটনার বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানতেন না বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইব্রাহীম খলিল একটি অডিও কল রেকর্ড সরবরাহ করেন। সেখানে একজনকে বলতে শোনা যায়, তারা একটি অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছিলেন, তবে রুমমেট এসে পড়ায় তা সম্পন্ন হয়নি। অডিওটির সত্যতাও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূইয়া জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইব্রাহীম খলিলের বরাদ্দকৃত সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) তৌকির হাসান বলেন, এজিএস ইব্রাহীম খলিলের কাছে ইতোমধ্যে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য এবং রুমমেটের বক্তব্য পর্যালোচনা করে হল সংসদ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহীদুল্লাহ হলের পুকুরপাড় এলাকায় একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে শহীদুল্লাহ হলের এজিএস নির্বাচিত হন ইব্রাহীম খলিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহা. মহিউদ্দিন খান নিশ্চিত করেছেন যে, ইব্রাহীম খলিল সংগঠনটির সক্রিয় কর্মী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে দুর্ঘটনায় এক মালির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে হল প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত মালির নাম ছিয়াকুল (৩৯)। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে মালি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানা এলাকায়। কর্মসূত্রে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল এলাকায় অবস্থান করতেন। সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের কাজের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে রোকেয়া হলের একটি কাঁঠালগাছ থেকে ফল সংগ্রহের কাজ চলছিল। এ সময় ছিয়াকুল একটি টেবিলের ওপর দাঁড়িয়ে বাঁশের সাহায্যে কাঁঠাল পাড়ছিলেন। একপর্যায়ে গাছ থেকে একটি কাঁঠাল ছিঁড়ে সরাসরি তার মাথার ওপর এসে পড়ে। আঘাতের তীব্রতায় তিনি ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করেন। তার সহকর্মী সুনীল চৌহান জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ছিয়াকুলকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিয়াকুল সহকর্মীদের কাছে পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একটি সাধারণ কর্মদিবসে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনায় একজন কর্মীর মৃত্যুতে সহকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।
রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুই সম্পাদকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় থানা চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার দুই নেতা হলেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক এ বি জুবায়ের। ঘটনার সূত্রপাত হয় ফেসবুকে ‘অপমানজনক’ পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে। ঢাবি শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করতে ছাত্রদল নেতারা থানায় যান। একই সময়ে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করতে ওই শিক্ষার্থী ডাকসু নেতাদের নিয়ে থানায় হাজির হন। এক পর্যায়ে থানা চত্বরেই উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং ২০-৩০ জন ছাত্রদল কর্মী ডাকসু নেতাদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করেন। তবে ছাত্রদল নেতাদের দাবি, মোসাদ্দিক আলী ছাত্রদলের এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের ওপর আগে আক্রমণের চেষ্টা করলে পরিস্থিতির অবনতি হয়। হামলার সময় ছাত্রদল কর্মীরা প্রায় ২০ মিনিট ধরে থানার ভেতরে স্লোগান দেন এবং ডাকসু নেতাদের বাইরে বের করে আনার দাবি জানান। পরে ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারা হস্তক্ষেপ করে কর্মীদের থানার বাইরে বের করে দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি), ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহবাগ থানার ওসির কক্ষে দীর্ঘ এক ঘণ্টা আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে ডাকসু নেতাদের থানা জামে মসজিদ সংলগ্ন পকেট গেট দিয়ে নিরাপদে বের করে আনা হয়। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ‘কীসের সাংবাদিক’ বলে চিৎকার করে চালানো এই হামলায় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শাহবাগ থানার সামনে এই ঘটনা ঘটে। হামলার সময় পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মানজুর হোসেন মাহি, সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম, শামসুদ্দৌজা নবাব, মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাতসহ আরও কয়েকজন। আহত সিফাত চোখ ও মুখে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে ছাত্রদল কর্মীরা বাধা দেয় এবং বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিভিন্ন হল শাখার প্রায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মী এই হামলায় অংশ নেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিক সৌরভ ইসলাম অভিযোগ করেন, ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম মিশু ‘সাংবাদিক সাংবাদিক, এই মার মার’ বলে তেড়ে আসেন এবং একের পর এক সাংবাদিককে বেধড়ক মারতে থাকেন। হামলায় হল শাখা ছাত্রদলের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার নাম উঠে এসেছে যারা সরাসরি মারধর ও উসকানিতে জড়িত ছিলেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এদিকে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।