তৃণমূল কংগ্রেস

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
তহবিল বিতর্কে তৃণমূল কংগ্রেসের ৪৪০ কোটি রুপির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ

দলের বিদ্রোহী বিধায়কদের পুলিশি অভিযোগের পর তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) প্রায় ৪৪০ কোটি রুপি জমা থাকা তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত বা ‘ফ্রিজ’ করা হয়েছে। তহবিলের বিশাল অঙ্কের এই অর্থের উৎস নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।   সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, একটি বেসরকারি ব্যাংকে থাকা দলটির তিনটি অ্যাকাউন্ট ‘ডেবিট ফ্রিজ’-এর আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে এসব অ্যাকাউন্ট থেকে আপাতত কোনো অর্থ তোলা বা বাইরের কোনো লেনদেন করা সম্ভব হবে না। তবে অ্যাকাউন্টগুলোতে নতুন করে টাকা জমা হওয়ার বা ক্রেডিট হওয়ার প্রক্রিয়াটি অব্যাহত থাকবে।   সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনে দলটির পরাজয়ের পর থেকেই প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং বিরোধীদলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই শিবিরের মধ্যে দলের সাংগঠনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়। এই দ্বন্দ্বের রেশ ধরেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুসারী ১০ জন বিধায়ক বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেন এবং অ্যাকাউন্টগুলো নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানান।   অভিযোগকারী বিধায়কেরা অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া বিপুল অর্থের উৎস নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। দায়ের করা অভিযোগের একটি কপিতে দেখা যায়, এই তহবিলগুলো বৈধ কোনো উৎস থেকে এসেছে, নাকি কাট-মানি সংগ্রহ, সরকারি তহবিলের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন স্ক্যাম বা কেলেঙ্কারির মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডের লভ্যাংশ থেকে এসেছে—তা তদন্তকারীদের খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করা হয়েছে।   অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ক্ষমতার অপব্যবহার, অসদুপায় এবং সন্দেহজনক অবৈধ অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে অর্জিত তহবিল এই ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে স্থানান্তর করা হয়ে থাকতে পারে বলে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।   এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত এক সিনিয়র বিধায়ক জানিয়েছেন, পুলিশের এই পদক্ষেপের কথা তাঁরা লোকমুখে শুনলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি হাতে পাননি। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, মাত্র কয়েক দিন আগেই সিনিয়র তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাস ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অ্যাকাউন্টগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে লেনদেন স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।   তাঁর যুক্তি ছিল, দলের অভ্যন্তরীণ সংকট ও নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ আমানত যেন কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। কিন্তু অরূপ বিশ্বাস যেখানে কেবল অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার জন্য এই স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন, সেখানে বিদ্রোহী বিধায়কেরা বিষয়টিকে সরাসরি অপরাধমূলক তদন্তের আওতায় নিয়ে এসেছেন।   অন্যদিকে, এই আর্থিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের মন্তব্যে। তিনি দাবি করেছেন, অরূপ বিশ্বাস বর্তমানে আর দলের কোষাধ্যক্ষ পদে নেই, তাই আর্থিক বিষয়ে দলের হয়ে কথা বলার কোনো অধিকার তাঁর নেই। কুণাল ঘোষের দাবি অনুযায়ী, গত ৫ জুনের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শুভাশীষ চক্রবর্তীকে নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তখন থেকেই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।   সব মিলিয়ে, তিনটি অ্যাকাউন্টের ডেবিট ফ্রিজ হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে তৃণমূলের ভেতরের এই আর্থিক বিরোধ এখন আর কেবল ক্ষমতার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা পুলিশি অভিযোগ এবং তহবিলের বৈধতা নিয়ে এক বিশাল প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
টানা ১১ ঘণ্টা জেরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে
টানা ১১ ঘণ্টা জেরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে, দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ। দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাঁকে টানা ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।   সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কলকাতার সল্ট লেক এলাকার সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দপ্তরে এই জিজ্ঞাসাবাদ চলে। নির্ধারিত সময়ের আগেই ইডি কার্যালয়ে উপস্থিত হন অভিষেক। দিনভর জেরা শেষে রাত ১০টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।   ইডি সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিষ্ঠিত সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর আর্থিক লেনদেন, কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বহুল আলোচিত নিয়োগ দুর্নীতি মামলাসহ একাধিক অভিযোগ নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়।   তবে জিজ্ঞাসাবাদে অভিষেক সব ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর দাবি, এসব অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।   এর আগে রোববার (১৪ জুন) তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তাঁকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। কলকাতার ভবানী ভবনে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা ধরে তাঁকে জেরা করা হয়। পরদিনই আবার ইডির তলবে হাজিরা দিতে হয় তাঁকে।   ইডির দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “বিজেপিকে নিয়ে যত কম বলা যায় ততই ভালো। একদিকে তারা দল ভাঙানোর রাজনীতি করছে, অন্যদিকে যারা মাথা নত করছে না, তাদের দমন–পীড়নের চেষ্টা চালাচ্ছে।”   তিনি আরও অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গকে বিরোধীশূন্য করার লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এসব চাপে তৃণমূল কংগ্রেস নতি স্বীকার করবে না বলেও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন তিনি।   অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এসব করে কোনো লাভ হবে না। আমাদের গলা কেটে নিলেও আমরা আত্মসমর্পণ করব না। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”   পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার তৎপরতা নতুন নয়। এর আগে বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের একাধিক নেতা–কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে।   অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের টানা জিজ্ঞাসাবাদকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও সেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | ছবি: সংগৃহীত
তৃণমূলের ১৯ সাংসদের দল ছাড়ার আভাসে বড় সংকটে মমতা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড়সড় ভরাডুবির পর দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এবার দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন দলের অন্তত ১৯ জন লোকসভা সাংসদ। ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই বিদ্রোহী সাংসদরা দিল্লির শাসক দল বিজেপি জোটের (এনডিএ) সঙ্গে থাকার তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।   শুক্রবার (১২ জুন) প্রকাশিত এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্রোহী সাংসদদের স্বাক্ষর করা একটি বিশেষ চিঠি তাদের হাতে এসেছে। এই চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ এবং সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানের মতো তৃণমূলের অত্যন্ত পরিচিত ও হেভিওয়েট মুখদের স্বাক্ষর রয়েছে। তৃণমূলের একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, খুব শিগগিরই আরও একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী শীর্ষ নেতা এই বড় বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দিতে পারেন।   প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ১৮ মে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি গোপন চিঠি পাঠিয়েছিলেন এই বিদ্রোহী সাংসদরা। সেই চিঠিতে তারা নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং লোকসভায় শাসক জোট এনডিএর সঙ্গে থাকার আনুষ্ঠানিক আগ্রহের কথা জানান। এর ঠিক দুই দিন পর, ২০ মে, তৃণমূলের মূল শিবিরের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে আরেকটি পাল্টা চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবর্তে প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভায় দলের নতুন প্রধান হুইপ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়।   এর আগে কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিজে স্বীকার করেছিলেন যে তৃণমূলের একদল সাংসদ দল ছাড়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সে সময় তিনি সরাসরি কোনো নাম প্রকাশ না করলেও সংসদে তাদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা চাওয়া এবং বিজেপিকে সমর্থনের ইঙ্গিত দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন। এদিকে এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই ইতোমধ্যে তৃণমূলের তিনজন রাজ্যসভা সাংসদ পদত্যাগ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়েন প্রকাশ চিক বরাইক, যার আগে ১০ জুন সুস্মিতা দেব এবং ৮ জুন পদ ছাড়েন সুখেন্দুশেখর রায়। তবে তারা এই ১৯ জনের চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   বর্তমানে ভারতের লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। ভারতের কঠোর দলত্যাগবিরোধী আইন এড়াতে এবং সংসদে আলাদা রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে মোট সাংসদের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১৯ জন সাংসদের সমর্থনের প্রয়োজন হয়। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, দল ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় সেই সুনির্দিষ্ট সংখ্যাটি এখন তাদের হাতের মুঠোয় রয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত সাংসদ কীর্তি আজাদ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিজেপির চাপ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন।   তৃণমূলের ভেতরের এই চরম অসন্তোষের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দল ও প্রশাসনে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ এবং মমতার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিষয়টি। চারবারের সাংসদ শতাব্দী রায় সরাসরি অভিযোগ করেছেন, দলে সাধারণ নেতাদের মতামতের কোনো মূল্য ছিল না এবং কেবল কিছু নির্বাচিত ব্যক্তিরই মমতার কাছে যাওয়ার সুযোগ ছিল। অন্যদিকে প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রকাশ্যে অভিষেকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, অভিষেককে ছাড়া দল চলবে কিনা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিতে হবে।

তাবাস্সুম জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

US Releases Official 10-Step Guide to Becoming an American Citizen Through Naturalisation

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে ১০ ধাপের সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ, গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য যা জানা জরুরি

বায়জিদ হাসান জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০