দিল্লি

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ থামাতে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ার মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত
দিল্লিতে আবারও ইন্টারনেট বন্ধ, পুলিশকে ককরোচ পার্টির ধাওয়া!

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মধ্য দিল্লির কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে সংসদ মার্গ এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ও পুলিশের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।   দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে তাদের দুইজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি), একজন পরিদর্শক, একজন হেড কনস্টেবল ও একজন কনস্টেবলসহ মোট পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হন। কয়েকজন বিক্ষোভকারীও আহত হওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে।   সংঘর্ষের পর যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। টেলিকম অপারেটরগুলো গ্রাহকদের পাঠানো বার্তায় জানায়, সরকারি নির্দেশে সাময়িকভাবে মোবাইল ডেটা পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে। তবে ভারত সরকার এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ প্রকাশ করেনি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু সময়ের জন্য জনপথ ও টলস্টয় মার্গের আশপাশে পরিস্থিতি অস্থির হয়ে পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানাতে সিজেপির স্বেচ্ছাসেবকদেরও সহায়তা নেওয়া হয়। লাউডস্পিকারের মাধ্যমে তারা আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার অনুরোধ জানান।   ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক একটি ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হলেও, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটি ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেকারত্ব ও সরকারি জবাবদিহি নিয়ে তরুণদের নেতৃত্বাধীন বৃহৎ আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি।   ভারতের বিরোধী দলগুলোর কয়েকজন নেতাও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সংসদ অধিবেশন চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
দিল্লি ছাড়িয়ে রাজ্যে রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে নিট-বিক্ষোভ, চরম বেকায়দায় মোদি সরকার

নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বুধবার রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু করে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পাটনা, সুরাট এবং লখনউয়ের মতো বড় শহরগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে প্রধান বিরোধী দলগুলো এবং ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছে, অন্যদিকে কেন্দ্র সরকার বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া এই ক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার রীতিমতো বেকায়দায় পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।   রাজনৈতিক এই উত্তাপ চরম আকার ধারণ করে মঙ্গলবার। এদিন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে বসার অপরাধে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে আটক করে পুলিশ। নিট কেলেঙ্কারির দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়নের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তারা। শীর্ষ নেতাদের আটকের এই ঘটনার পরই আন্দোলনের আঁচ রাজধানী ছাড়িয়ে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।   পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিরোধী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও রাজপথ শান্ত হয়নি। বরং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং অন্তত ১৬টি মেট্রো স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মহারাষ্ট্রের বিশিষ্ট মারাঠা আন্দোলনকারী মনোজ জারাঙ্গে পাতিলও সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করে এই ছাত্র আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি পাটনা, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও সুরাটেও রাজপথে নেমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন হাজারো প্রতিবাদী মানুষ।   এদিকে, উত্তরপ্রদেশের লখনউতে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সংঘাতের সাক্ষী হয়েছে দেশ। সেখানে বিজেপি এবং কংগ্রেস মুখোমুখি প্রতিবাদ মিছিল বের করে। উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অজয় রাইয়ের নেতৃত্বে দলীয় কর্মীরা দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রতি দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বাসভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ পথ আটকালে কংগ্রেস কর্মীরা রাস্তায় ধর্নায় বসেন, যার জেরে অজয় রাইসহ একাধিক নেতাকে আটক করা হয়। এর পাল্টা হিসেবে রাজ্য বিজেপি প্রধান পঙ্কজ চৌধুরীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রবিরোধী কাজ’-এর অভিযোগ তুলে পাল্টা মিছিল বের করেন বিজেপি কর্মীরা।   রাজপথের এই রাজনৈতিক সংঘাত শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে আইনি লড়াইয়েও। গত ২০ জুলাই সিজেপি-র প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে দায়ের হওয়া তিনটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে নোটিশ জারি করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ পুলিশি পদক্ষেপের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, বডি-ক্যামেরার রেকর্ডিং এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রমাণ নিরাপদে সংরক্ষণের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো জমায়েত বেআইনি হলেও বলপ্রয়োগের আগে আইনি নিয়মকানুন মেনে চলা পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর এই চাঞ্চল্যকর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
দিল্লিতে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ শীর্ষ নেতারা আটক, মোদীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে উত্তেজনা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।    কংগ্রেস নেতারা প্রধানমন্ত্রী মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান। একই সঙ্গে আগের দিন শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনাও করেন তারা।    বিক্ষোভ চলাকালে দিল্লি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ উপস্থিত কংগ্রেস নেতাদের আটক করে। পরে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।    কংগ্রেসের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা করা হয়েছে। দলটির নেতারা বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতেই তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।    এই বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক ভর্তি পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ এবং তা ঘিরে দিল্লিতে সংঘটিত সহিংসতা। ওই ঘটনার জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। বিরোধী দলগুলো বিষয়টি নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর নতুন কৌশলে আন্দোলন চালানোর ঘোষণা সংগঠনের। ছবি: সংগৃহীত
পুলিশি বাধার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ভারতের ‘তেলাপোকা’ জোটের

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বহু সমর্থক আহত হওয়ার পরও সরকারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের যুব-নেতৃত্বাধীন ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন। তবে আপাতত রাজপথে নতুন কোনো মিছিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, ফের মিছিল হলে পুলিশ আবারও বলপ্রয়োগ করতে পারে।   রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংসদ অভিমুখে পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সোমবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সাময়িকভাবে মিছিল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তাদের আন্দোলন বন্ধ হচ্ছে না।   সংগঠনটির ভাষ্য, আন্দোলনের লক্ষ্য থেকে তারা সরে আসছে না। বরং বিকল্প উপায়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে অনেক তরুণ-তরুণী আহত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের কর্মসূচি দিলে আরও বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।   সোমবার দিল্লির মধ্যাঞ্চলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ১১৮ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারী রয়েছেন। তবে হতাহত ও আহতের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এ ঘটনায় অন্তত ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।   মঙ্গলবার দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় প্রায় ৫০০ আন্দোলনকারী জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়।   আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, “আমরা আপাতত আর কোনো মিছিল করব না। কারণ আমরা চাই না আবারও তরুণদের ওপর হামলা হোক।” একই সঙ্গে সংঘর্ষে আহত সমর্থকদের, বিশেষ করে নারী আন্দোলনকারীদের কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।   ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা হিসেবে শুরু হওয়া ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন সময়ের সঙ্গে বড় আকারের সরকারবিরোধী যুব আন্দোলনে রূপ নেয়। গত মে মাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর আন্দোলনটি নতুন গতি পায়।   আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি পরীক্ষার অনিয়ম নয়, বরং দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতির প্রতিফলন।   আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে আন্দোলনকারী নেতা সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ।   এদিকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনার সুযোগ থাকলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করাই উচিত। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চাকরির সংকট, নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম এবং তরুণদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ সরকারের জন্য ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সংসদ ভবনমুখী মিছিলের সময় দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কড়া নিরাপত্তা। ছবি: সংগৃহীত
দিল্লিতে রণক্ষেত্র, বিক্ষোভের মুখে সংসদ ভবন ছাড়লেন মোদি

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সংসদ ভবনমুখী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।   সোমবার (২০ জুলাই) সকাল থেকে দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় জড়ো হতে থাকেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকেরা। পরে তারা সংসদ ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা দিল্লি পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়।   বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড সরিয়ে সামনে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং অনেকে রাস্তায় বসে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লি পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। মধ্য দিল্লির কনট প্লেস, রেল ভবন, শাস্ত্রী ভবন, কনস্টিটিউশন ক্লাব এবং রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার আশপাশের এলাকাতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।   বিক্ষোভের কারণে সংসদ ভবনের আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদের কয়েকটি প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জনপথ, রাজীব চক, পটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটসহ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, সংসদ ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার জন্য বিক্ষোভকারীদের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছিল না। সংসদ এলাকার আশপাশে নিরাপত্তা বিধির অংশ হিসেবে জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ থাকায় নিয়ম ভাঙলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি, তারা কর্মসূচির বিষয়ে আগেই প্রশাসনকে জানিয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ, সরকার বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইছে এবং আন্দোলন দমন করতেই পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   বিক্ষোভকারীরা আরও অভিযোগ করেন, সংসদ এলাকার আশপাশে মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটেছে। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।   এদিকে সিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দাবি করেছে, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ দেখানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ভারতে শিক্ষার্থী ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে। এ বিষয়েই চাপ বাড়াতে সংসদ অধিবেশনের সময় এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।

তাবাস্সুম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: এনডিটিভি
দিল্লিতে ভয়াবহ শিশু পাচারকারী চক্রের পর্দা ফাঁস, হাসপাতালের মালিকসহ গ্রেফতার ৯

ভারতের রাজধানী শহর দিল্লিতে অভাবী ও অসচ্ছল দম্পতিদের সদ্যজাত শিশুদের চড়া দামে বিক্রি করার একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত ও অমানবিক ‘শিশু বাজার’ চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। মাত্র চার থেকে পাঁচ দিন বয়সী নবজাতকদের দরিদ্র পরিবার থেকে নামমাত্র মূল্যে সংগ্রহ করে সন্তানহীন দম্পতিদের কাছে লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করত এই চক্রটি। মধ্য দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকায় এক নারীর সন্দেহজনক চলাফেরা এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর ছদ্মবেশে এক মহিলা পুলিশ কর্মকর্তার সাঁড়াশি অভিযানে এই বহুল আলোচিত শিশু পাচারকারী সিন্ডিকেটের পর্দা ফাঁস হয়।   পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি দিল্লিতে রীতিমতো একটি নির্দিষ্ট মূল্যের শিশু বাজার গড়ে তুলেছিল। বাজারে একটি কন্যাসন্তান বা মেয়ে শিশু বিক্রি হতো তিন থেকে চার লাখ টাকায় এবং একটি পুত্রসন্তান বা ছেলে শিশু বিক্রি হতো ছয় থেকে আট লাখ টাকায়। তবে চক্রটি এই শিশুদের রাজস্থান ও গুজরাটের চরম দরিদ্র দম্পতিদের কাছ থেকে মাত্র এক থেকে দুই লাখ টাকায় কিনে আনত বা চুরি করত। পরবর্তীতে মধ্যপ্রদেশ ও হরিয়ানার বিত্তশালী কিন্তু সন্তানহীন দম্পতিদের কাছে এগুলো চড়া দামে হস্তান্তর করা হতো।   অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পশ্চিম দিল্লির রোহিনীর বেগমপুরে অবস্থিত ‘হিরার মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল’ ছিল এই পুরো পাচার চক্রের মূল নার্ভ সেন্টার বা প্রধান আস্তানা। ওই হাসপাতালের মালিক ডা. বিবেকী ছিলেন এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি। পাচারকারীরা শিশুদের সংগ্রহ করে ডা. বিবেকীর হাসপাতালেই লুকিয়ে রাখত। ডা. বিবেকী নিজেই ক্রেতা ও পাচারকারীদের মধ্যে মধ্যস্থতা করতেন এবং তার হাসপাতালে জন্ম সনদ, ডেলিভারি ডকুমেন্টসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় সরকারি নথিপত্র জালিয়াতি করে তৈরি করা হতো, যাতে মনে হয় শিশুরা ওই হাসপাতালেই জন্মেছে।   চক্রটির প্রতারণার কৌশল এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, তারা একবার পুত্রসন্তান প্রত্যাশী এক দম্পতির কাছে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে শিশুকে সম্পূর্ণ ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে ‘যমজ শিশু’ সাজিয়ে মোট নয় লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয়। অথচ উদ্ধার হওয়া ওই শিশু দুটি ভিন্ন ভিন্ন রাজ্য থেকে পাচার করে আনা হয়েছিল। গত এক বছরে এই সিন্ডিকেটটি অন্তত ৩০টি নবজাতক পাচার করেছে বলে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই হরিয়ানা ও মধ্যপ্রদেশ থেকে অবৈধভাবে শিশু কেনা বেশ কয়েকজন দম্পতিকেও গ্রেফতার করেছে।   দিল্লি পুলিশের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ডিসিপি রোহিত রাজবীর সিং জানিয়েছেন, এই বহুমাত্রিক অভিযানে এখন পর্যন্ত মূল পরিকল্পনাকারী কমলেশ, প্রতিভা, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও ডাক্তারসহ মোট নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে উদ্ধার হওয়া শিশুদের প্রকৃত বাবা-মায়ের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করছে। যদি কোনো পরিবার স্বেচ্ছায় বা টাকার লোভে নিজের সন্তানকে পাচারকারীদের হাতে তুলে দিয়ে থাকে, তবে সেই বাবা-মাকেও এই মানবপাচার আইনের মামলায় কঠোরভাবে অভিযুক্ত করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।   টানা দুই সপ্তাহের এই বিশেষ নিরবচ্ছিন্ন অভিযানে পুলিশ এখন পর্যন্ত পাঁচটি নবজাতক শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে, যাদের সবার বয়সই এক মাসেরও কম। উদ্ধার হওয়া এই ভাগ্যাহত শিশুদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি’ (সিডব্লিউসি)-র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে শিশুরা সিডব্লিউসি-র বিশেষ পালনা কেন্দ্রে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। এই চক্রটি ভাঙার পেছনে সাব-ইন্সপেক্টর প্রগতি, যামিনী এবং হেড কনস্টেবল সুষমা নামের তিনজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা ছদ্মবেশে অত্যন্ত সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।   সূত্র: এনডিটিভি

তাবাস্সুম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান I ছবি: বাসস
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, আড়াই ঘণ্টা পর দেশে প্রত্যাবর্তন

কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে আগাম অবহিত করার পরও ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের অপ্রত্যাশিত আচরণের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। রোববার সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর 'রহস্যজনক কারণে' তাকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।   পরবর্তীতে উচ্চমহলের নির্দেশে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও, এই অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের জেরে তিনি দিল্লিতে প্রবেশ না করে কলম্বো হয়ে ঢাকার পথে রওনা দেন। ঢাকা ও দিল্লির একাধিক নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্র সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার থেকে দিল্লিতে শুরু হতে যাওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে দেশটিতে গিয়েছিলেন তিনি।   ওই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক এই উপদেষ্টার। এই উদ্দেশ্যে গত শুক্রবারই দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল।   তা সত্ত্বেও রোববার সন্ধ্যায় দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে বিনা কারণে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে রাখে। তাকে আদৌ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও কোনো সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়নি।   বিমানবন্দরের এমন রহস্যজনক ও অসহযোগিতামূলক পরিস্থিতির মুখে জাহেদ উর রহমান তৎক্ষণাৎ ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।   রাতেই তিনি দিল্লি থেকে একটি ফ্লাইটে কলম্বোর উদ্দেশে রওনা হন। সোমবার দুপুরের আগেই তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আগাম কূটনৈতিক বার্তা দেওয়ার পরও একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের এমন আচরণ কূটনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০