নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে প্রকাশ্য রাস্তায় বন্দুক হামলায় ১২ বছর বয়সী এক ছেলে নিহত হয়েছে। একই ঘটনায় আরও দুই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার বিকেলে মাউন্ট ইডেন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি এবং তদন্ত চলছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার কিছু আগে ওয়ালটন অ্যাভিনিউ ও এলিয়ট প্লেসের কাছে গুলির ঘটনা ঘটে। ১২ বছর বয়সী শিশুটি কাঁধে গুলিবিদ্ধ হলে তাকে দ্রুত লিংকন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত শিশুর পরিচয় পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনায় আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মধ্যে ২৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিতম্বে এবং ৩৪ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। দুজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুলি ছোড়া হয়। তবে নিহত ১২ বছর বয়সী শিশুটি ওই সংঘর্ষে জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্তে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার হয়নি এবং সন্দেহভাজনদের সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে তাকে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মুখোমুখি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান ম্যামদানি। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের আইনগত সুযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যামদানি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান হেগে। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত একজন যুদ্ধাপরাধী।” তবে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে ব্যবহার করে কোনো বিদেশি সরকারপ্রধানকে আটক করার আইনি ক্ষমতা তার রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলেও জানান। ম্যামদানি বলেন, বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চলছে। আইন যতটুকু অনুমতি দেবে, তার প্রশাসন ততটুকুই করবে। এ জন্য নতুন কোনো আইন তৈরি করার পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই ম্যামদানির এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আদালতের এখতিয়ারও স্বীকার করে না।
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বেতন ১৮ শতাংশ বাড়ানোর একটি বিল অনুমোদন করেছে। তবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, তিনি এই বেতন বৃদ্ধি থেকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করবেন না। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মামদানি বলেন, নিউইয়র্কবাসীর সঙ্গে কথা বলে কখনো তার মনে হয়নি যে শহরের মানুষের প্রধান উদ্বেগ মেয়রের বেতন কম হওয়া। বরং তিনি মনে করেন, সরকারি অর্থ এমন খাতে ব্যয় হওয়া উচিত, যা অর্থনৈতিকভাবে সংকটে থাকা মানুষের উপকারে আসে। তিনি বলেন, “মানুষের সঙ্গে কথা বলে আমি কখনো অনুভব করিনি যে তাদের প্রধান সমস্যা হলো মেয়রের বেতন। আমি চাই এই অর্থ এমন মানুষের কাজে লাগুক, যারা এই শহরে অর্থনৈতিকভাবে সংগ্রাম করছেন।” নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের অনুমোদিত বিল অনুযায়ী, মেয়রসহ বিভিন্ন নির্বাচিত কর্মকর্তার বেতন ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। তবে মামদানি স্পষ্ট করেছেন, আইনে বেতন বৃদ্ধির সুযোগ থাকলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেই অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করবেন না। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বেতন সময়ে সময়ে একটি স্বাধীন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হয়। এরপর সিটি কাউন্সিলের অনুমোদনের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হয়। মেয়র জোহরান মামদানির এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, এটি সরকারি ব্যয় ও জনস্বার্থের প্রতি তার অবস্থানের বার্তা বহন করে।
দারিদ্র্য, গৃহহীন জীবন আর দিনের পর দিন না খেয়ে থাকার কঠিন বাস্তবতা পেরিয়ে নিউইয়র্কের ১৯ বছর বয়সী প্রিন্স উইকস হাইস্কুল সমমানের ডিপ্লোমা অর্জন করেছেন। শুধু তাই নয়, মাত্র দুই মাসে পড়াশোনা শেষ করে তিনি নিজের ব্যাচের ভ্যালেডিক্টোরিয়ান বা সেরা গ্র্যাজুয়েট নির্বাচিত হয়েছেন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁর অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য এখন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনায় এসেছে। প্রিন্সের বেড়ে ওঠা আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই। কৈশোরে তিনি স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় লেখাপড়া ছেড়ে দেন, পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কাজ করার আশায়। পরে বাবার সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটিতে চলে এলেও পর্যাপ্ত আয় না থাকায় তাঁদের জীবন নেমে আসে চরম সংকটে। কখনও আশ্রয়কেন্দ্রে, কখনও পরিচিতজনের বাসায় রাত কাটাতে হয়েছে। এমনও দিন গেছে, যখন দু’বেলা খাবার জোটেনি। ক্ষুধার্ত অবস্থায় কখনও কখনও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে অসুস্থতার ভান করে একটি স্যান্ডউইচ বা হালকা খাবার সংগ্রহ করতেন তিনি। জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। একটি কর্মসংস্থান কেন্দ্রে কর্মরত এক পরামর্শকের পরামর্শে তিনি নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের ‘পাথওয়েজ টু গ্র্যাজুয়েশন’ কর্মসূচিতে ভর্তি হন। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ঝরে পড়া ১৭ থেকে ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত এই বিনামূল্যের কর্মসূচিতে দিন ও সন্ধ্যার ক্লাসের পাশাপাশি নাশতা, মধ্যাহ্নভোজ এবং যাতায়াতের জন্য মেট্রোকার্ডের সুবিধাও দেওয়া হয়। স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ক্যাম্পাসে সপ্তাহে পাঁচ দিন নিয়মিত ক্লাস করে মাত্র দুই মাসেই হাইস্কুল সমমানের ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন প্রিন্স। জিইডি পরীক্ষায় উচ্চ নম্বর অর্জনের পাশাপাশি কলেজ ও কর্মজীবন প্রস্তুতি কার্যক্রমেও সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তাঁকে ব্যাচের ভ্যালেডিক্টোরিয়ান নির্বাচিত করা হয়। গত ২২ জুন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ১১৭ জন সহপাঠী, শিক্ষক ও পরিবারের সদস্যদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রিন্স বলেন, দারিদ্র্য, বৈষম্য, আত্মসন্দেহ, গৃহহীনতা এবং অনাহারের মতো কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই তাঁকে বেড়ে উঠতে হয়েছে। অনেক সময় মনে হয়েছে সামনে আর কোনো পথ নেই। তবুও তিনি ভুল পথে না গিয়ে নিজের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি। সহপাঠীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দৃঢ় থাকো, কখনও হাল ছেড়ো না। প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই অসাধারণ কিছু করার সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় একদিন সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেয়। স্ট্যাটেন আইল্যান্ড শাখার প্রধান ডনি সোয়ানসন প্রিন্সকে একজন অনুকরণীয় শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাঁর মনোযোগ, পরিশ্রম এবং শেখার আগ্রহ অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণা। বর্তমানে প্রিন্স উইকস নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে স্যানিটেশন কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। কলেজে পড়ার জন্য অর্থ সঞ্চয় করছেন তিনি। ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন এই তরুণ।
নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ২৪ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত (রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড) অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের জন্য ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত বা ‘রেন্ট ফ্রিজ’ করার দাবিতে মঙ্গলবার ম্যানহাটনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেট টেন্যান্ট ব্লক, CAAAV এবং ম্যানহাটনের বিভিন্ন ভাড়াটিয়া সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন। সমাবেশের আগে জোয়ান অব আর্ক পার্কে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ড্রামলাইন ও নৃত্যের আয়োজন করা হয়। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা সিম্ফনি স্পেসে পৌঁছে সমাবেশ করেন। বক্তারা বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ভাড়া না বাড়ানোই সবচেয়ে যৌক্তিক পদক্ষেপ। আয়োজকদের দাবি, গত মাসে নিউইয়র্ক সিটির রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের প্রাথমিক ভোটে এক ও দুই বছরের নবায়নযোগ্য লিজের ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির বিকল্প বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সংগঠনগুলোর মতে, দুই বছরের লিজেও প্রথমবারের মতো ভাড়া না বাড়ানোর প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে। নিউইয়র্ক স্টেট টেন্যান্ট ব্লকের নির্বাহী পরিচালক সুমাথি কুমার বলেন, ভাড়াটিয়ারা বর্তমানে মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল সামাজিক সুবিধা কমে যাওয়া এবং অভিবাসন অভিযানের মতো নানা চাপে রয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক বাড়িওয়ালার পরিচালন মুনাফা বেড়েছে। এ কারণে এক ও দুই বছরের লিজে ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আয়োজক সংগঠনগুলোর ভাষ্য, ম্যানহাটনের মতো ব্যয়বহুল এলাকায় ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত বাসস্থান নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য উচ্ছেদ এবং অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভাড়া স্থগিত রাখলে অধিকাংশ বাড়িওয়ালার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। পাশাপাশি ভবন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাড়িওয়ালাদের সহায়তায় বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিও বিদ্যমান রয়েছে। সমাবেশে বক্তব্য দেন চায়নাটাউনের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা এবং CAAAV-এর ভাড়াটিয়া নেতা শুঝেন লিউ। তিনি বলেন, গত ৩১ বছরে তাঁর ভবনের মালিক একাধিকবার পরিবর্তিত হলেও ভবনের রক্ষণাবেক্ষণে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। তাঁর অভিযোগ, ভাড়া বৃদ্ধি বাড়িওয়ালাদের জবাবদিহিতা বাড়ানোর পরিবর্তে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকে উৎসাহিত করে। তাই তিনি সব ধরনের লিজে ‘রেন্ট ফ্রিজ’ কার্যকর করার আহ্বান জানান। সংগঠনগুলোর দাবি, নিউইয়র্কে ভাড়াটিয়ারা শহরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ। তাদের মতে, গত কয়েক বছরে ভাড়া বাড়লেও অনেক ভবনে বসবাসের পরিবেশের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং গরম পানি ও তাপ সরবরাহের মতো মৌলিক সেবা নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে। তারা আরও অভিযোগ করে, কিছু বাড়িওয়ালা ভবন সংস্কারের পরিবর্তে ভাড়ার অর্থ ঋণ পরিশোধ বা নতুন সম্পত্তি কেনার কাজে ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে, বাড়িওয়ালাদের বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। তাদের দাবি, ভবন রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, সম্পত্তি কর, বীমা এবং অন্যান্য পরিচালন খরচ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ফলে ভাড়া সমন্বয় ছাড়া ভবন পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং অর্থনৈতিক তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে থাকে। এখন বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নিউইয়র্কের লাখো ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা।
নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংকট মোকাবিলায় মেয়র জোহরান মামদানির ঘোষিত ২২ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। আগামী এক দশকে ২ লাখ সাশ্রয়ী ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত আবাসন নির্মাণ এবং আরও ২ লাখ বিদ্যমান ইউনিট সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘ব্লক বাই ব্লক: দ্য হাউজিং প্ল্যান ফর আ নিউ এরা’ কর্মসূচিকে সমালোচকেরা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে করদাতাদের অর্থ থেকে ২২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। মেয়র মামদানির প্রশাসনের দাবি, নিউইয়র্কে ক্রমবর্ধমান আবাসন ব্যয় এবং সাশ্রয়ী বাসস্থানের সংকট মোকাবিলায় এই বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে ফক্স নিউজের কলাম গবেষক নিকোল হুয়ার ও অ্যানি হেইম পরিকল্পনাটিকে ‘ব্যর্থ সমাজতান্ত্রিক নীতি’ এবং ‘অবাস্তব প্রস্তাব’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সমালোচকদের মতে, নিউইয়র্কের আবাসন সংকটের মূল কারণ আবাসনের সরবরাহ ঘাটতি এবং দীর্ঘদিনের নীতিগত সীমাবদ্ধতা। তাদের দাবি, উচ্চ কর, কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ভাড়া-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নতুন আবাসন নির্মাণকে নিরুৎসাহিত করেছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে আবাসন নির্মাণ সহজ করা গেলে সংকট নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে মামদানির পরিকল্পনা সেই পথের বিপরীত দিকে এগোচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দীর্ঘদিন অবহেলিত বা জীর্ণ আবাসিক ভবনের মালিকানা ব্যক্তিগত বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্ট, অলাভজনক সংস্থা অথবা ভাড়াটেদের সংগঠনের হাতে হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি করা। মেয়র মামদানির ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে ভবনগুলো সংরক্ষণ করা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, ‘কমিউনিটি অপরচুনিটি টু পারচেজ অ্যাক্ট (২০২৫)’-এর আওতায় অলাভজনক সংস্থা ও ভাড়াটে গোষ্ঠীগুলোকে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ভবন কেনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ফলে এসব ভবন উন্মুক্ত বাজারে প্রতিযোগিতামূলকভাবে বিক্রির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। তাদের মতে, এতে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের অংশগ্রহণের সুযোগ কমে যাচ্ছে। এদিকে নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সরকারি আবাসন ব্যবস্থাগুলোর একটি পরিচালনা করছে। সংস্থাটির অধীনে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার অ্যাপার্টমেন্টে ৫ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করেন। সমালোচকদের বক্তব্য, সরকারি খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান না করেই আরও বেশি সম্পত্তি সরকারি অনুমোদিত কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ কার্যকর হবে কি না, সে প্রশ্ন রয়েছে। হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের কয়েকজন গবেষক পরিকল্পনার কিছু অংশের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর সরকারি প্রভাব বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা এই নীতিকে কার্ল মার্ক্সের সম্পদ পুনর্বণ্টন ধারণার সঙ্গে তুলনা করেছেন। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে নিউইয়র্কের রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডও। এই বোর্ড শহরের প্রায় ১০ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত ইউনিটের ভাড়া বৃদ্ধির সীমা নির্ধারণ করে। সমালোচকদের দাবি, ভাড়া নিয়ন্ত্রণের ফলে বাড়িওয়ালাদের মুনাফা সীমিত হয়ে যায়, যা ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে বিনিয়োগ কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে নতুন আবাসন নির্মাণেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হ্রাস পায়। মামদানি প্রশাসন ‘রেন্টাল রিপঅফ হিয়ারিংস’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যেখানে ভাড়াটেরা তাদের আবাসন-সংক্রান্ত সমস্যার অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারেন। সমালোচকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অবহেলনাকারী বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হতে পারে। ন্যাশনাল মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং কাউন্সিলের তথ্য উদ্ধৃত করে সমালোচকেরা দাবি করেছেন, ভাড়া-নিয়ন্ত্রণ নীতির কারণে নিউইয়র্ক সিটির নিয়ন্ত্রণমুক্ত অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ভাড়া ২২ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তাদের মতে, নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার মতো সরবরাহমুখী নীতিই আবাসনের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বেশি কার্যকর হতে পারে। সমালোচকদের আরও দাবি, ‘ব্লক বাই ব্লক’ পরিকল্পনা আবাসন খাতে ব্যক্তিগত পুঁজি ও বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পারে। তাদের মতে, শত শত কোটি ডলার সরকারি ব্যয়ের পরিবর্তে আবাসন নির্মাণে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক বাধা কমানো হলে ডেভেলপাররাই নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারতেন। অন্যদিকে মেয়র মামদানি ও তার প্রশাসন বলছে, সাশ্রয়ী আবাসনের ঘাটতি দূর করতে এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগ অপরিহার্য। ফলে প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি নিয়ে নিউইয়র্কের আবাসন নীতি, সরকারি হস্তক্ষেপ এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচগুলোকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্ক সিটিতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। ম্যাচের দিনগুলোতে ‘গ্রিডলক অ্যালার্ট’ জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য যানজট কমাতে বাসিন্দাদের গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ সময় ম্যানহাটনের মিডটাউন এলাকায় ফিফথ অ্যাভিনিউ ও সিক্সথ অ্যাভিনিউর নির্দিষ্ট অংশকে বিশেষ বাস ও শাটল করিডোরে রূপান্তর করা হবে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের দিন টিকিটধারী দর্শকদের জন্য ম্যানহাটন থেকে সরাসরি এক্সপ্রেস শাটল বাস চালু থাকবে। বাসগুলো লিংকন টানেল ব্যবহার করে স্টেডিয়ামে যাতায়াত করবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ করিডোরে কেবল অফিসিয়াল স্টেডিয়াম শাটল বাস, এমটিএ বাস, বিশ্বকাপ অনুমোদিত যানবাহন এবং জরুরি সেবার যানবাহন চলাচল করতে পারবে। ম্যাচ শুরুর ছয় ঘণ্টা আগে থেকে এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার তিন ঘণ্টা পর পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে ডেলিভারি ট্রাক চলাচলেও সাময়িক সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। ৩০তম স্ট্রিট থেকে ৬০তম স্ট্রিট এবং ইস্ট রিভার থেকে হাডসন রিভার পর্যন্ত এলাকায় ম্যাচ শুরুর ছয় ঘণ্টা আগে এবং শেষের তিন ঘণ্টা পর পর্যন্ত ডেলিভারি ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। স্টেডিয়ামগামী দর্শকদের জন্য বিশেষ শাটল বাসের পিকআপ পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনাল, কলম্বাস সার্কেল (মিডটাউন নর্থ) এবং গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল এলাকার মিডটাউন ইস্টে। বিশেষ বাস করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হবে ৪২তম স্ট্রিটের ফার্স্ট অ্যাভিনিউ থেকে টুয়েলফথ অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ, সিক্সথ অ্যাভিনিউর ৪২তম স্ট্রিট থেকে ৫৯তম স্ট্রিট পর্যন্ত অংশ, ফিফথ অ্যাভিনিউর ৪২তম স্ট্রিট থেকে ৫৯তম স্ট্রিট পর্যন্ত অংশ, ওয়েস্ট ৪০তম স্ট্রিট এবং ওয়েস্ট ৪১তম স্ট্রিট। মেটলাইফ স্টেডিয়ামমুখী যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে পেন স্টেশনের আশপাশের কয়েকটি সড়কও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৩তম স্ট্রিটের সিক্সথ অ্যাভিনিউ থেকে এইথ অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ এবং ৩২তম স্ট্রিটের সিক্সথ অ্যাভিনিউ থেকে সেভেনথ অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ। গণপরিবহন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এমটিএর সাবওয়ে ও বাস চলাচল অব্যাহত থাকবে। তবে মিডটাউন এলাকায় কিছু বাস রুটে ডাইভারশন, নির্দিষ্ট স্টপ বাতিল অথবা সময়সূচিতে বিলম্ব হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। লং আইল্যান্ড রেল রোড (এলআইআরআর) পেন স্টেশনে চলাচল চালিয়ে যাবে। তবে যাত্রীদের গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল ম্যাডিসন অথবা আটলান্টিক টার্মিনাল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিউইয়র্ক সিটি ফেরি অতিরিক্ত ট্রিপ পরিচালনা করবে। প্যাথ, মেট্রো-নর্থ এবং সিটি বাইক সেবাও স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটস এলাকায় “বাংলাদেশ স্ট্রিট” নামের একটি সড়কচিহ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। নিউইয়র্কের ব্যস্ত ও বহুজাতিক এই নগরীতে বাংলাদেশের নাম বহনকারী সাইনবোর্ডটিকে অনেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিচয়, উপস্থিতি ও দীর্ঘদিনের অবদানের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। সম্প্রতি নিউইয়র্কের বাফেলোভিত্তিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পার্সোনাল ইনজুরি অ্যাটর্নি জনাব নাজমুস সাকিব তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে “Bangladesh Street” সাইনবোর্ডের একটি ছবি শেয়ার করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “জোহরান মামদানির নিউইয়র্ক সিটি!”। ছবিতে দেখা যায়, নিউইয়র্ক সিটির ৭৩ স্ট্রিটের পাশে আনুষ্ঠানিকভাবে “Bangladesh Street” লেখা একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। জ্যাকসন হাইটস এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, মুদি দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও কমিউনিটি কার্যক্রম। এ কারণেই এলাকাটি অনেকের কাছে “লিটল বাংলাদেশ” নামেও পরিচিত। কমিউনিটি নেতাদের মতে, “বাংলাদেশ স্ট্রিট” নামকরণ শুধু একটি সড়কের পরিচয় নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীদের কয়েক দশকের পরিশ্রম, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং কমিউনিটির বিকাশের একটি প্রতীকী স্বীকৃতি। নিউইয়র্কের মতো আন্তর্জাতিক শহরে বাংলাদেশের নাম দৃশ্যমান হওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গর্বের বিষয় বলেও মনে করছেন অনেকে। প্রবাসীদের একাংশের মতে, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের নাম এভাবে প্রকাশ্যে দেখতে পাওয়া নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যেও নিজেদের শিকড়, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে সহায়তা করে। তাদের ভাষায়, নিউইয়র্কের “বাংলাদেশ স্ট্রিট” শুধু একটি সাইনবোর্ড নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি কমিউনিটির দৃশ্যমান উপস্থিতি ও বহুমাত্রিক অবদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
নিউইয়র্ক সিটিতে দুই মিলিয়নেরও বেশি ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত বাসিন্দার জন্য ভাড়া না বাড়ানোর দাবিতে শত শত মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। আসন্ন ভাড়া নির্ধারণ বোর্ডের (Rent Guidelines Board) প্রাথমিক ভোটের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ‘টেন্যান্ট ব্লক’ নামক একটি আবাসন জোটের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে মূলত শহরের শ্রমজীবী এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গত চার বছরে বাড়িওয়ালাদের মুনাফা প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়লেও সাধারণ মানুষের ওপর ভাড়া বৃদ্ধি ও উচ্ছেদের চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ফেডারেল সামাজিক সুবিধা হ্রাস এবং অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর তৎপরতার কারণে অনেক পরিবার এখন উচ্ছেদের ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা দাবি করেন, ভাড়া থেকে প্রাপ্ত অর্থ অনেক ক্ষেত্রে ভবনের সংস্কারে ব্যয় না করে অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, ফলে অনেক ভবনে তাপ ও গরম পানির মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধার অভাব রয়ে গেছে। অন্যদিকে, আবাসন খাতের মালিকপক্ষ ভাড়া স্থগিতের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, ভাড়া না বাড়লে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অনেক সম্পত্তি দেউলিয়া বা বিক্রি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এ পরিস্থিতিতে তারা রাজ্য সরকারের কাছে কর-ছাড়সহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধার দাবি জানিয়েছে। যদিও নগর প্রশাসন আবাসন সংকট মোকাবিলায় কিছু পদক্ষেপ এবং মেরামতের অর্থ বরাদ্দের কথা জানিয়েছে, তবে ভাড়াটিয়ারা একে পর্যাপ্ত মনে করছেন না। আসন্ন বোর্ডের চূড়ান্ত ভোটেই নির্ধারিত হবে নিউইয়র্ক সিটির কয়েক লাখ বাসিন্দার ভবিষ্যৎ এবং শহরের সামাজিক কাঠামো।
বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন পপ সুপারস্টার টেইলর সুইফট এবং এনএফএল তারকা ট্রাভিস কেলসে। এরই মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছে পৌঁছে গেছে তাদের বিয়ের বর্ণিল ‘সেভ দ্য ডেট’ কার্ড। সংবাদমাধ্যম ‘পেজ সিক্স’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৩ জুলাই নিউইয়র্ক সিটিতে এই তারকা যুগলের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস বা ‘ফোর্থ অব জুলাই’ উদযাপনের প্রতি টেইলরের দীর্ঘদিনের যে অনুরাগ, তার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই তারিখটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভক্তদের ধারণা ছিল সুইফটের রোড আইল্যান্ডের প্রাসাদে বিয়ের আয়োজন হতে পারে, তবে অতিথিদের বড় তালিকা এবং রাজকীয় আভিজাত্যের কথা মাথায় রেখে ম্যানহাটনকেই অনুষ্ঠানস্থল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে নিউইয়র্কে বসবাস শুরু করা এই গায়িকার এই শহরের প্রতি রয়েছে বিশেষ টান, যা তার ‘ওয়েলকাম টু নিউইয়র্ক’ গানেও ফুটে উঠেছে। টেইলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসে দম্পতি এখন বিয়ন্সে-জে জি এবং সারাহ জেসিকা পার্কারের মতো বিশ্বখ্যাত দম্পতিদের তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছেন, যারা তাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী হিসেবে নিউইয়র্ক শহরকে বেছে নিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।