- প্রচ্ছদ
- Topic
ন্যাশভিল
কোভিড-১৯ মহামারির সময় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ির দাম বাড়া শহরগুলোর একটি ছিল টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিল। সে সময় ক্রেতাদের তীব্র প্রতিযোগিতা, একের পর এক উচ্চমূল্যের প্রস্তাব এবং দ্রুত বিক্রি হওয়া বাড়ি ছিল নিয়মিত দৃশ্য। তবে কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান রেডফিনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রির জন্য সবচেয়ে কঠিন বাজারগুলোর মধ্যে ন্যাশভিল দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ তালিকায় প্রথমে রয়েছে ফ্লোরিডার মিয়ামি। ন্যাশভিলের পর রয়েছে টেক্সাসের কয়েকটি বড় মহানগর এলাকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ন্যাশভিলে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা ১২৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির সরবরাহ এত বেশি যে ক্রেতাদের হাতে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি বিকল্প রয়েছে। ফলে তারা ধীরে-সুস্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, দরদাম করছেন এবং কম দামে বাড়ি কেনার চেষ্টা করছেন। রেডফিনের ন্যাশভিলভিত্তিক প্রধান এজেন্ট অ্যারন গ্লিকেন বলেন, এখনকার ক্রেতারা কোনো তাড়াহুড়া করছেন না। বাজারে পর্যাপ্ত বাড়ি থাকায় তারা অপেক্ষা করে নিজেদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বাড়ি বেছে নিচ্ছেন। এমনকি বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম নির্ধারণ করা বাড়িতেও অনেক ক্রেতা প্রত্যাশার চেয়ে কম দামের প্রস্তাব দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, অনেক বিক্রেতা শুরুতে কম দামের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেও পরে বুঝতে পারছেন, একই ধরনের কম প্রস্তাবই বারবার আসছে। শেষ পর্যন্ত অনেককেই দাম কমাতে বাধ্য হতে হচ্ছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশভিল মহানগর এলাকায় নতুন বাড়ির তালিকা গত বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। অথচ একই সময়ে সারা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন তালিকা বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ১ শতাংশ। একই সঙ্গে বাড়ি বিক্রির সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে ন্যাশভিলে একটি বাড়ি বিক্রি হতে গড়ে ৭৮ দিন সময় লাগছে। যেখানে জাতীয় গড় মাত্র ৪৯ দিন। গত জুন মাসে সারা যুক্তরাষ্ট্রেই বিক্রেতার সংখ্যা ক্রেতার তুলনায় প্রায় ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি ছিল। তবে ন্যাশভিলে এই ব্যবধান জাতীয় গড়ের প্রায় তিন গুণ। রেডফিনের আরেক এজেন্ট ক্রিস্টিন সানচেজ বলেন, কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত কম সুদের হার থাকায় অনেক বাড়ির মালিক নতুন বাড়ি কেনা বা স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়েছিলেন। এখন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা কারণে তারা আর অপেক্ষা করছেন না। উচ্চ মর্টগেজ সুদের হার থাকা সত্ত্বেও অনেকেই বাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তার ভাষ্য, অনেক বিক্রেতাই বুঝতে পারছেন ২০২১ ও ২০২২ সালের মতো অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সময় শেষ হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে বাজার আরও অনিশ্চিত হওয়ার আগেই বর্তমান তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে বাড়ি বিক্রি করতে চাইছেন। মহামারির সময় ন্যাশভিলে বাড়ির দাম বছরে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। তখন শহরের একটি সাধারণ বাড়ির দাম ছিল চার লাখ ডলারেরও কম। কিন্তু বর্তমানে সেই দাম বেড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছালেও গত জুন পর্যন্ত এক বছরে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক বছর ধরে বিপুল পরিমাণ নতুন আবাসন নির্মাণ হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। অন্যদিকে বাড়ির উচ্চ মূল্য ও মর্টগেজ ঋণের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাজার থেকে সরে গেছেন। এতে দরকষাকষির ক্ষমতা এখন পুরোপুরি ক্রেতাদের দিকে চলে গেছে। সানচেজ জানান, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া ও শিকাগো থেকে এখনো কিছু মানুষ ন্যাশভিলে বসবাসের জন্য আসছেন। তবে মহামারির সময় নিউইয়র্ক থেকে যে বড় ঢল নেমেছিল, তা এখন অনেকটাই কমে গেছে। শুধু দাম কমানো নয়, এখন ক্রেতারা বিক্রেতাদের কাছ থেকে ক্লোজিং খরচ বহন, বাড়ি মেরামতের ব্যয় এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও আদায় করে নিচ্ছেন। নতুন নির্মিত বাড়ির ক্ষেত্রে অনেক নির্মাতা ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ স্থির সুদের বিশেষ মর্টগেজ সুবিধা ও ক্লোজিং খরচে সহায়তা দিচ্ছেন। সম্প্রতি সানচেজ প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া এক দম্পতিকে মূল্যায়িত দামের চেয়ে ১৫ হাজার ডলার কম দামে একটি বাড়ি কিনতে সহায়তা করেছেন। শুধু তাই নয়, ওই লেনদেনে বিক্রেতা পুরো ক্লোজিং খরচ বহন করেছেন এবং বিক্রির আগে প্রয়োজনীয় মেরামতও সম্পন্ন করতে সম্মত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তার আরেকজন ক্রেতা তালিকাভুক্ত মূল্যের চেয়ে ৬০ হাজার ডলার কম দামে একটি বাড়ি কেনার চুক্তি করেছেন। কয়েক বছর আগে একই ধরনের ক্রেতাদের একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রস্তাবের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হতো, যেখানে দরকষাকষির সুযোগ প্রায় থাকত না। অ্যারন গ্লিকেনের মতে, বর্তমানে যেসব বিক্রেতা বাড়ি রং করা, ছোটখাটো সংস্কার ও প্রয়োজনীয় মেরামত সম্পন্ন করে বাজারে আনছেন, তাদের বাড়ি তুলনামূলক দ্রুত বিক্রি হচ্ছে। কারণ এখনকার ক্রেতারা এমন বাড়িই বেশি পছন্দ করছেন, যেখানে কেনার পর অতিরিক্ত কোনো কাজ করতে হবে না। রেডফিনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কোভিড-পরবর্তী সময়ে ন্যাশভিলের আবাসন বাজারে যে বড় ধরনের মূল্যসংশোধন শুরু হয়েছে, তা এখনো চলমান। ফলে আগের মতো চাহিদার জোয়ারে বাড়ি বিক্রির দিন আপাতত শেষ, আর বর্তমান বাজারে সঠিক মূল্য নির্ধারণই বিক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিলে এক বিবাহিত নারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সহকর্মীর সঙ্গে একটি স্কুল ভবনের ভেতরে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন। অভ্যন্তরীণ তদন্তে ঘটনাটির বিভিন্ন তথ্য উঠে আসায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম WKRN-এর হাতে আসা মেট্রো ন্যাশভিল পুলিশ বিভাগের অফিস অব প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি (OPA)-এর তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তা লিসা ভিদ্রিওস ২০২৫ সালের মে মাসে ম্যাডিসন মিডল স্কুলে স্কুল রিসোর্স অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তদন্তে তিনি স্বীকার করেন, ওই সময় অন্তত চারবার এক সহকর্মী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে স্কুল ভবনের ভেতরে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। ওই ব্যক্তি তার স্বামী ছিলেন না। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার করা ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাগুলো তার অফিসকক্ষে ঘটেছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাগুলোর সময় স্কুল ভবনের ভেতরে শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল এবং অফিসের বাইরে কর্মীদের কথাবার্তার শব্দও শোনা যাচ্ছিল। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো শিক্ষার্থী সরাসরি এ ঘটনার সাক্ষী হয়েছে এমন দাবি করা হয়নি। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ওই দুই কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় অন্তত দুটি পৃথক ঘটনায় একটি পুলিশ গাড়িতেও অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি ঘটনা একটি পরিত্যক্ত হাসপাতালের পার্কিং এলাকায় ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লিসা ভিদ্রিওস ন্যাশভিল পুলিশ বিভাগে যোগ দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে প্রায় নয় বছর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে তিনি ও তার পুলিশ কর্মকর্তা স্বামী ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো থেকে ন্যাশভিলে চলে আসেন এবং মেট্রো ন্যাশভিল পুলিশ ট্রেনিং একাডেমি থেকে একসঙ্গে স্নাতক হওয়া প্রথম দম্পতি হিসেবে পরিচিতি পান। সে সময় বিভাগটির প্রচারমূলক একটি ভিডিওতেও তাকে তুলে ধরা হয়েছিল, যেখানে তিনি পরিবার ও কর্মজীবনের কথা বলেছিলেন। পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসেই অভিযোগের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর ২৬ মে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে সক্রিয় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পুলিশ বিভাগের সব ধরনের প্রবেশাধিকার স্থগিত করা হয়। অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলাকালে লিসা ভিদ্রিওস পুলিশের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একটি সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত হন। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল একজন পুলিশ কর্মকর্তার জন্য অনুপযুক্ত আচরণ এবং দায়িত্ব পালনকালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা। তদন্ত শেষে তাকে ৩০ দিনের জন্য বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত হয় এবং পরে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে সহকর্মী পুলিশ কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি মেট্রো ন্যাশভিল পুলিশ বিভাগে ১৮ বছর কর্মরত ছিলেন এবং সর্বশেষ ট্যাকটিক্যাল অপারেশনস শাখায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। তদন্ত চলাকালে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দায়িত্ব পালনকালে আহত হওয়ার ভিত্তিতে পেনশন সুবিধা পান। ফলে তদন্তকারীরা তার আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার নিতে পারেননি। প্রতিবেদনটিতে লিসা ভিদ্রিওসের স্বামীর নামও প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অফিস অব প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটিও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।