- প্রচ্ছদ
- Topic
পাইলটিং
২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল ইরাকের বাগদাদের আকাশে স্থলবাহিনীকে আকাশপথে সহায়তা দেওয়ার মিশনে ছিলেন মার্কিন বিমানবাহিনীর পাইলট ক্যাপ্টেন কিম ক্যাম্পবেল। হঠাৎ তাঁর এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ যুদ্ধবিমানের পেছনের অংশে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত লাগে। এতে বিমানের সব হাইড্রলিক লাইন ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটির দিকে কাত হয়ে পড়লেও ক্যাম্পবেল বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেননি। বরং বিকল্প যান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটি নিরাপদে কুয়েতে ফিরিয়ে আনেন তিনি। সেদিন ক্যাম্পবেল ৭৫তম ফাইটার স্কোয়াড্রনের হয়ে বাগদাদের ওপর স্থলবাহিনীকে সহায়তা দেওয়ার মিশনে ছিলেন। মিশন শেষ করে তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক পাইলট এলাকা ছাড়ার সময় হঠাৎ বিমানের পেছনের অংশে তীব্র আঘাত অনুভব করেন। মুহূর্তের মধ্যেই ককপিটে একের পর এক সতর্কসংকেত জ্বলে ওঠে এবং বিমানের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা অচল হয়ে যায়। আঘাতের পর এ-১০ বিমানটি বাম দিকে তীব্রভাবে কাত হয়ে মাটির দিকে নেমে যেতে শুরু করে। ক্যাম্পবেল নিয়ন্ত্রণব্যবহার করে বিমানটিকে সামলানোর চেষ্টা করলেও সেটি কোনো সাড়া দিচ্ছিল না। শত্রু নিয়ন্ত্রিত এলাকার ওপর এমন অবস্থায় বিমান থেকে বেরিয়ে আসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তখন ক্যাম্পবেল বিমানের জরুরি বিকল্প ব্যবস্থা চালু করেন, যাকে বলা হয় ম্যানুয়াল রিভারশন। স্বাভাবিক হাইড্রলিক ব্যবস্থা কাজ না করলে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যান্ত্রিক কেবল ও সংযোগের সাহায্যে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যায়। ব্যবস্থা চালু করার পর বিমানটি ধীরে ধীরে তাঁর নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে এবং মাটির দিকে নেমে যাওয়ার পরিবর্তে আবার ওপরে উঠতে শুরু করে। তবে বিপদ তখনও কাটেনি। বিমানের পেছনের অংশ, লেজ এবং অনুভূমিক ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। ককপিট থেকে ক্যাম্পবেলের পক্ষে বিমানের পেছনের ক্ষয়ক্ষতি দেখা সম্ভব ছিল না। তাঁর সঙ্গে থাকা পাইলট পাশ থেকে বিমানটির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাঁকে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানাচ্ছিলেন। পরে বিমানের ছবি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর কাঠামোর বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ছিদ্র তৈরি হয়েছিল। এমনকি ডান পাশের অনুভূমিক ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশেও বড় একটি গর্ত হয়েছিল। এত ব্যাপক ক্ষতি সত্ত্বেও বিমানটি আকাশে টিকে ছিল এবং ক্যাম্পবেল সেটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হন। বাগদাদ থেকে বেরিয়ে আসার সময়ও বিমানটি শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঝুঁকির মধ্যে ছিল। ক্যাম্পবেল ও তাঁর সঙ্গে থাকা পাইলট শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটিকে কুয়েতের দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। পুরো পথেই তাঁকে স্বাভাবিক হাইড্রলিক নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে বিকল্প যান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। ঘাঁটির কাছে পৌঁছানোর পর শুরু হয় আরও কঠিন পরীক্ষা। হাইড্রলিক ব্যবস্থা নষ্ট থাকায় বিমানের গতি কমানোর বিশেষ ব্যবস্থা, স্বাভাবিক ব্রেক এবং দিকনির্দেশনা নিয়ন্ত্রণও কাজ করছিল না। জরুরি পদ্ধতি অনুসরণ করে ক্যাম্পবেল অবতরণের জন্য চাকার ব্যবস্থা নামান। তিনটি চাকাই ঠিকভাবে স্থির হয়েছে নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি রানওয়ের দিকে এগিয়ে যান। অবতরণের শেষ মুহূর্তেও বিমানটি একদিকে কাত হয়ে যায়। কিন্তু ক্যাম্পবেল দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান এবং ক্ষতিগ্রস্ত এ-১০-কে নিরাপদে রানওয়েতে নামাতে সক্ষম হন। মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই মিশনে অসাধারণ সাহসিকতা ও দক্ষতার জন্য ক্যাম্পবেল ডিস্টিংগুইশড ফ্লাইং ক্রস পদকে ভূষিত হন। যুদ্ধক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একটি যুদ্ধবিমানকে নিয়ন্ত্রণে রেখে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ঘটনা তাঁর সামরিক জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পবেল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। ২০০৪ সালে ওয়াশিংটনের স্মিথসোনিয়ানের ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামেও তিনি ওই মিশনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি কীভাবে জরুরি পরিস্থিতিতে বিমানের বিকল্প নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যবহার করে সেটিকে আকাশে ধরে রেখেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানান। ক্যাম্পবেলের ব্যবহৃত এ-১০ যুদ্ধবিমানটি পরবর্তী সময়ে সংরক্ষণ করা হয়। ক্ষতবিক্ষত অবস্থায়ও বিমানটির নিরাপদে ফিরে আসার ঘটনা এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২-এর শক্তিশালী কাঠামো ও যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি সহ্য করার সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে স্মরণ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে ৫০০টির বেশি পেশা নিয়ে করা নতুন এক গবেষণায় পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মধ্যে বিকিরণ-সম্পর্কিত ক্যানসারে মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, উড়োজাহাজের উচ্চতায় মহাজাগতিক রশ্মির সংস্পর্শে আসার কারণে বিমানকর্মীরা অন্যান্য অনেক পেশার তুলনায় বেশি আয়নাইজিং বিকিরণের মুখোমুখি হন। গবেষণাটি ১৭ আগস্ট ‘JAMA Internal Medicine’-এ প্রকাশিত হয়েছে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ও ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেনস হাসপাতালের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে ৫০৩টি পেশা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার পাইলট এবং ৭ হাজার ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ছিলেন। গবেষণায় দেখা গেছে, পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মধ্যে বিকিরণ-সম্পর্কিত ক্যানসারে মৃত্যুর অনুপাত অন্য পেশার তুলনায় সবচেয়ে বেশি। বিশ্লেষণে স্তন, প্রোস্টেট, কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ক্যানসার এবং মেলানোমাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার বিবেচনা করা হয়েছে। পাইলটদের ক্ষেত্রে লিউকেমিয়ায় মৃত্যুর হারও তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। গবেষকদের ব্যাখ্যা, বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ যে উচ্চতায় চলাচল করে সেখানে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সুরক্ষা তুলনামূলকভাবে কম থাকায় মহাজাগতিক রশ্মির সংস্পর্শ বাড়ে। এ কারণে বিমানকর্মীরা কর্মক্ষেত্রে আয়নাইজিং বিকিরণের তুলনামূলক বেশি মাত্রার সংস্পর্শে আসেন। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, এই বিকিরণের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিশেষ করে ক্যানসারের সঙ্গে এর সম্পর্ক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। গবেষণার ফলাফলে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের ক্ষেত্রে বিকিরণ-সম্পর্কিত ক্যানসারে মৃত্যুর সমন্বিত সম্ভাবনা অন্যান্য পেশার তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি ছিল। পাইলটদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। তবে গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই পরিসংখ্যান থেকে সরাসরি বলা যাবে না যে মহাজাগতিক বিকিরণই এসব মৃত্যুর কারণ। কারণ গবেষণাটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক। এতে একজন বিমানকর্মী তাঁর কর্মজীবনে মোট কত ঘণ্টা উড়েছেন, কোন উচ্চতায় বেশি সময় কাটিয়েছেন, কোন রুটে উড়েছেন কিংবা কতটা বিকিরণের সংস্পর্শে এসেছেন, সেই ব্যক্তিগত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে সূর্যের অতিরিক্ত কণার বিকিরণ, ঘুমের ব্যাঘাত, অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শ, শারীরিক ওজন এবং জীবনযাপনের মতো আরও কিছু বিষয়ও বিশ্লেষণে পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে গবেষণার ফলাফলকে কারণ ও ফলাফলের সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বিমানকর্মীদের বেশি বিকিরণের সংস্পর্শে আসার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে ঠিকই, কিন্তু শুধু এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বলা যাবে না যে বিকিরণের কারণেই তাঁদের ক্যানসারে মৃত্যুর হার বেশি। গবেষণাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বিমান চলাচল খাতের সব কর্মীর মধ্যে একই প্রবণতা দেখা যায়নি। মাটিতে কাজ করা বিমান চলাচল খাতের কর্মীদের মধ্যে পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মতো একই ধরনের সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। গবেষকদের মতে, এটি উচ্চ আকাশে দীর্ঘ সময় অবস্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কারণের ভূমিকা থাকার সম্ভাবনাকে আরও গুরুত্ব দেয়। তবে বিমানকর্মীদের ক্যানসারের ঝুঁকিতে বিকিরণ ছাড়াও অন্য কিছু বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘ সময় ভ্রমণ, রাতের ফ্লাইট, অনিয়মিত কর্মঘণ্টা ও ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত বিমানকর্মীদের জীবনে নিয়মিত ঘটনা। পাইলটরা ককপিটের জানালার কারণে অতিবেগুনি রশ্মিরও সংস্পর্শে আসতে পারেন। ফলে ক্যানসারে মৃত্যুর পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট, দুটিই যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় পেশা। চলতি বছরের ‘১০০ সেরা চাকরি’র তালিকায় পাইলটদের ১০ নম্বরে এবং ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের ৩৯ নম্বরে রেখেছে ‘U.S. News & World Report’। ফলে আকর্ষণীয় ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে বিবেচিত এই দুই কাজের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাবনাও এখন আলোচনায় এসেছে। গবেষকদের মতে, এই ফলাফল দেখে বিমানকর্মীদের জন্য হঠাৎ করে অতিরিক্ত ক্যানসার পরীক্ষা শুরু করার সিদ্ধান্তে যাওয়া উচিত নয়। বরং তাঁদের কর্মজীবনে মোট কতটা বিকিরণের সংস্পর্শে আসছেন, তা নিয়মিতভাবে পরিমাপ ও সংরক্ষণ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বিশেষ করে দীর্ঘপথের এবং মেরু অঞ্চলের ওপর দিয়ে চলাচলকারী ফ্লাইটের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময়ের ফ্লাইট এবং মেরু অঞ্চলের ওপর দিয়ে যাওয়া রুটে মহাজাগতিক বিকিরণের মাত্রা তুলনামূলক বেশি হতে পারে। এদিকে গবেষণাটির লেখকেরা বলছেন, ভবিষ্যৎ গবেষণায় বিমানকর্মীদের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ভ্রমণের ইতিহাস, মোট কর্মঘণ্টা, রুট, উচ্চতা এবং প্রকৃত বিকিরণমাত্রার তথ্য যুক্ত করা প্রয়োজন। এতে বিমানকর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি বিকিরণ-সংস্পর্শ এবং ক্যানসারে মৃত্যুর মধ্যে সম্পর্ক আরও নির্ভুলভাবে বোঝা সম্ভব হতে পারে। গবেষণাটি অবশ্য বিমানকর্মীদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো নতুন স্বাস্থ্যবিধি বা ক্যানসার পরীক্ষার নির্দেশনা দেয়নি। বরং এর মূল গুরুত্ব হলো, বিমানকর্মীদের পেশাগত বিকিরণ-সংস্পর্শ নিয়ে আরও ভালো তথ্য সংগ্রহ এবং দীর্ঘমেয়াদি নজরদারির প্রয়োজনীয়তা সামনে আনা। সব মিলিয়ে গবেষণাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকির সংকেত দিলেও এটিকে ক্যানসারের সরাসরি কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের ক্ষেত্রে মহাজাগতিক বিকিরণ, অনিয়মিত কর্মঘণ্টা, ঘুমের ব্যাঘাতসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণ আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করে আরও গবেষণা প্রয়োজন। গবেষণার ফলাফল তাই বিমানকর্মীদের পেশা ছেড়ে দেওয়ার কারণ নয়, বরং তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার একটি ইঙ্গিত।
ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার পর সংস্থাটির পাইলটদের নিয়ে শুরু হওয়া মাদক পরীক্ষায় আরও দুই পাইলটের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ এসেছে। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুই পাইলটের নমুনা এখন নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ‘নন-নেগেটিভ’ ফল পাওয়ার অর্থ চূড়ান্তভাবে মাদক গ্রহণ প্রমাণিত হওয়া নয়। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এয়ার ইন্ডিয়া সম্প্রতি নিজেদের পাইলটদের জন্য এককালীন বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষা শুরু করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের প্রায় পাঁচ হাজার পাইলটকে এই পরীক্ষার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কর্মসূচির অধীনে ইতোমধ্যে তিন শতাধিক পাইলটের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই ব্যাপক পরীক্ষার সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই২৩৭৯-এর গুরুতর ঘটনা। এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটি মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ২৪ জন আহত হন। পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে। ঘটনার পর ফ্লাইটটির পাইলটদের মাদক পরীক্ষা করা হয়। ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনের প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্দেহজনক ফল আসার পর নমুনা নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় তার শরীরে গাঁজার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে একাধিক ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির শরীরে গাঁজার উপাদান শনাক্ত হওয়া এবং ফ্লাইট পরিচালনার সময় তিনি মাদকের প্রভাবে ছিলেন, এই দুটি বিষয় এক নয়। তদন্তকারীরা এখন মাদক পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি পাইলটদের আচরণ, ফ্লাইট ডেটা, উড়োজাহাজের কারিগরি অবস্থা এবং ঘটনার সময় ককপিটে কী ঘটেছিল, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছেন। ঘটনাটিতে কারিগরি ত্রুটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে এসেছে। এয়ারবাসের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির তিনটি স্বতন্ত্র হাইড্রোলিক ব্যবস্থাতেই সাময়িকভাবে চাপ কমে যায়। এর ফলে প্রায় চার সেকেন্ডের জন্য এলিভেটর ও আইলারনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট কন্ট্রোল স্বাভাবিকভাবে সাড়া দেয়নি। হাইড্রোলিক চাপ ফিরে আসার পর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আবার কার্যকর হয়। এই তথ্যের কারণে ঘটনাটিকে শুধু পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে না। উড়োজাহাজের হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কেন একই সময়ে সমস্যায় পড়েছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ঘটনা’ হিসেবে তদন্ত করছে। এয়ারবাস এবং ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থার বিশেষজ্ঞরাও কারিগরি তদন্তে সহায়তা করছেন। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পাইলটদের মাদক পরীক্ষা নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়া ও বেসামরিক বিমান চলাচলের বিধি অনুসরণ করে করা হচ্ছে। নতুন পরীক্ষায় যাদের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ আসছে, নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট ডিউটি থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনার পর এখন তদন্তের দুটি দিক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। একদিকে পাইলটের নিশ্চিত মাদক পরীক্ষার ফল ও ক্রুদের ফিটনেস, অন্যদিকে একই সময়ে উড়োজাহাজের তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় দেখা দেওয়া বিরল কারিগরি ত্রুটি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলেই ৩০০ ফুট আকস্মিক পতনের পেছনে ঠিক কোন কোন কারণ ভূমিকা রেখেছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
পাইলট সেজে অভিনব কায়দায় আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে কোকেন পাচারের চেষ্টা করে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন এক স্প্যানিশ নাগরিক। কার্লোস বারবেরিয়া হার্নান্দো নামের ওই ব্যক্তি গত ৯ জুলাই কলম্বিয়ার বোগোটার এল ডোরাডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্পেনের বার্সেলোনাগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তার পরনের পাইলট ইউনিফর্মটি কোনো পরিচিত আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের পোশাকের সাথে না মেলায় সন্দেহ হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। এরপরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আলাদা করে তল্লাশি করা হয় এবং বেরিয়ে আসে পাচারের আসল সত্য, যা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। কলম্বিয়ার ন্যাশনাল পুলিশের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তল্লাশির সময় কার্লোস তার গাঢ় রঙের ব্লেজার এবং সাদা শার্ট খুলে ফেলছেন। এরপর এক পুলিশ কর্মকর্তা তার পেটের চারপাশে মোড়ানো টেপ খুলতে শুরু করেন এবং সেখানে লুকিয়ে রাখা মাদকের প্যাকেটগুলো আবিষ্কার করেন। তার পেটের পাশাপাশি পায়েও অভিনব কায়দায় বেশ কয়েকটি প্যাকেট লুকানো ছিল। ন্যাশনাল পুলিশের মাদক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক জেনারেল উইলিয়াম কাস্তানো রামোস জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির পোশাকের নিচ থেকে মোট ১০টি প্যাকেটে ১০ কেজি বা ২২ পাউন্ড কোকেন উদ্ধার করা হয়েছে। নিউইয়র্কের মাদকবাজারে এই পরিমাণ কোকেনের মূল্য প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ মার্কিন ডলার। কলম্বিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'এল তিয়েম্পো'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত কার্লোস এর আগে স্পেনে বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তবে স্পেন সরকারের তথ্যভাণ্ডার নিশ্চিত করেছে যে, বিমান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় কোনো লাইসেন্স তিনি কখনো অর্জন করতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে, ফ্লাইং স্কুল থেকেই পাইলট সাজার এই অভিনব কৌশলটি তার মাথায় এসেছিল। জেনারেল কাস্তানো রামোস দৃঢ়তার সাথে জানান, 'অপারেশন এসমেরালদা প্লাস' (Esmeralda Plus)-এর অংশ হিসেবে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে মাদক পাচার রোধে ন্যাশনাল পুলিশের এই ধরনের কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইন্দোনেশিয়ার অশান্ত পাপুয়া অঞ্চলে এক মার্কিন বেসামরিক পাইলটকে গুলি করে হত্যার পর তার পরিচালিত বিমানটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলার দায় স্বীকার করেছে অঞ্চলটির স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন ওয়েস্ট পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিপিএনপিবি)। ঘটনাটি নতুন করে পাপুয়া অঞ্চলের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সংকট ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাতকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) হাইল্যান্ড পাপুয়া প্রদেশের ইয়াহুকিমো এলাকায় অবতরণের পর মার্কিন নাগরিক পাইলট নিকোলাস এফ. গোসেলিনকে হত্যা করা হয়। এরপর তার বিমানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় হামলাকারীরা। টিপিএনপিবির মুখপাত্র সেবি সামবোম এক বিবৃতিতে দাবি করেন, তাদের সদস্যরাই এ হামলা চালিয়েছে। তার অভিযোগ, ওই অঞ্চলে বেসামরিক বিমান ব্যবহার করে ইন্দোনেশিয়ার সেনাদের পরিবহন করা হচ্ছিল। সেই কারণেই তারা বিমানটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তিনি বলেন, পাপুয়া অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করা যেকোনো বেসামরিক বিমান তাদের কাছে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। ভবিষ্যতেও যদি কোনো বিমান সেনাসদস্য বা সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হয়, তাহলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করেছে যে ইয়াহুকিমো অঞ্চলের একটি বিমানবন্দরে বিমানটি সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমানটি অবতরণের আগে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অবতরণের পরপরই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বিমানটি সাতজন যাত্রী বহনের সক্ষমতাসম্পন্ন ছিল। তবে হামলার সময় সেখানে আর কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিমানটি যে বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, সেখানকার পরিচালকের প্রাথমিক প্রতিবেদনে পাইলটের মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর। পাইলটের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়েও শর্ত দিয়েছে টিপিএনপিবি। সংগঠনটির দাবি, মরদেহ নিতে হলে ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনী বা পুলিশের সদস্যদের ছাড়া বেসামরিক প্রতিনিধিদের এলাকায় প্রবেশ করতে হবে। একই সঙ্গে সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানে ইন্দোনেশিয়া সরকারের প্রতি আলোচনায় বসার আহ্বানও জানিয়েছে তারা। পাপুয়া ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের একটি সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চল। ১৯৬৯ সালে বিতর্কিত এক গণভোটের মাধ্যমে অঞ্চলটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই সেখানে স্বাধীনতাকামী আন্দোলন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘাত চলছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, এ সংঘাতে বহু বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া সরকার বলছে, তারা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করছে। এর আগেও বিদেশি পাইলটদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালে একই সংগঠন নিউজিল্যান্ডের এক পাইলটকে অপহরণ করে প্রায় ১৯ মাস আটক রাখে। দীর্ঘ আলোচনার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। সর্বশেষ মার্কিন পাইলট নিহতের ঘটনায় পাপুয়া অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ পাইলট সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁসের ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের ওপর নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তথ্যের উৎস বা ‘সোর্স’ প্রকাশ না করলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের কারাবরণ করতে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিযোগ, গত শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন F-15 ফাইটার জেট ভূপাতিত হওয়ার পর সেখানে থাকা দ্বিতীয় পাইলটের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি ইরান জানত না। কিন্তু মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো এই স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশ করে দেওয়ায় উদ্ধার অভিযান চরম ঝুঁকিতে পড়ে। ট্রাম্পের দাবি, সংবাদমাধ্যমে খবর আসার পরই ইরান সতর্ক হয়ে যায় এবং মার্কিন উদ্ধার অভিযান বাধাগ্রস্ত করতে বিশাল পুরস্কার ঘোষণা করে। সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই তথ্য ফাঁসকারীকে খুঁজছি। আমরা সরাসরি সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে যাব এবং বলব—হয় তথ্যের উৎস জানান, না হয় জেলের জন্য প্রস্তুতি নিন। এটি কোনো সাধারণ বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন।” যদিও প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম নেননি, তবে সিএনএন, সিবিএস নিউজ এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রথম এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ট্রাম্প এই তথ্য সরবরাহকারীকে একজন ‘অসুস্থ ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এদিকে, মার্কিন মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই হুমকিকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে নিখোঁজ দুই পাইলটকেই সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তা সত্ত্বেও, হোয়াইট হাউস ও সংবাদমাধ্যমের এই সংঘাত নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে বিশ্ব রাজনীতিতে।
ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত মার্কিন বিমান বাহিনীর এফ-১৫ই (F-15E) যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ থাকা দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে এক শ্বাসরুদ্ধকর ও দুঃসাহসিক অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। দীর্ঘ দুই দিন বৈরী এলাকায় আত্মগোপন করে থাকার পর অবশেষে তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার ভোরে এক বার্তায় এই সাফল্যের খবর নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে অত্যন্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিখেছেন, “WE GOT HIM! (আমরা তাকে পেয়েছি!)”। তিনি এই উদ্ধার অভিযানকে মার্কিন সামরিক ইতিহাসের অন্যতম ‘দুঃসাহসিক’ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেন। ট্রাম্প জানান, উদ্ধারকৃত ওই অফিসার বর্তমানে নিরাপদ রয়েছেন এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। গত শুক্রবার ইরানের পাহাড়ি এলাকায় মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর বিমানে থাকা দুই ক্রু সদস্যই প্যারাসুটের মাধ্যমে সফলভাবে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। বিমানের পাইলটকে ঘটনার কিছুক্ষণ পরই উদ্ধার করা গেলেও ‘উইপনস সিস্টেম অফিসার’ নিখোঁজ ছিলেন। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে তিনি ইরানের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে সক্ষম হন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অফিসারকে খুঁজে পেতে ইরান সরকার বড় অংকের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল এবং স্থানীয়দের তাকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছিল। ইরানি টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে স্থানীয়দের সশস্ত্র অবস্থায় ওই অফিসারকে খুঁজতে পাহাড়ী এলাকায় তল্লাশি চালানোর দৃশ্যও দেখা যায়। তবে মার্কিন ড্রোন ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে কমান্ডো বাহিনী সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে কয়েক ডজন মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টার অংশ নেয়। উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো যখন পাহাড়ি এলাকায় নিচ দিয়ে উড়ছিল, তখন ইরানি বাহিনী এবং স্থানীয় মিলিশিয়ারা নিচ থেকে গুলিবর্ষণ করে। এতে দুটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন, তবে শেষ পর্যন্ত সবাই নিরাপদে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ওই অফিসার কিছুটা আহত হয়েছেন তবে তার আঘাত গুরুতর নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে এই প্রথম কোনো আমেরিকান যুদ্ধবিমান শত্রু এলাকায় ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটল। একই দিন একটি এ-১০ (A-10) অ্যাটাক প্লেনও ইরানি গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সেটির পাইলট কোনোমতে কুয়েত সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্ধার অভিযান সফল না হলে এবং মার্কিন বৈমানিক ইরানি বাহিনীর হাতে বন্দি হলে যুদ্ধের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। আপাতত নিখোঁজ সেনাকে উদ্ধারের মাধ্যমে একটি বড় ধরনের স্নায়ুচাপের অবসান ঘটল পেন্টাগনের জন্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।