- প্রচ্ছদ
- Topic
পারিবারিক সহিংসতা
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যের বিলিংসে একটি বাড়িতে গুলির ঘটনায় একই পরিবারের আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার শিশুও রয়েছে। গুলির ঘটনার পর বাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। সন্তান, স্ত্রী ও পরিবারের আরও সদস্যদের হারিয়ে শোকাহত বাবা অ্যাডাম ঘেকিয়েরে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন এবং জরুরি যোগাযোগব্যবস্থায় ঘটনাটির খবর শুনে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন। ঘটনাটি ঘটে গত রোববার সন্ধ্যায় বিলিংসের ওয়েস্ট এন্ড এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিটে বাড়িটিতে গুলির ঘটনা সম্পর্কে জরুরি নম্বরে ফোন আসে। ফোনে কথা বলার সময় পেছনে গুলির শব্দও শোনা যাচ্ছিল। প্রায় ১১ মিনিট পর প্রথম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর বাড়ির পেছন দিক থেকে আরও গুলির শব্দ শোনা যায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাড়িটি আগুনে পুড়ে যেতে শুরু করে। ঘেকিয়েরে তখন একটি এয়ার শোতে উদ্ধারকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। জরুরি যোগাযোগব্যবস্থায় কাছাকাছি এলাকায় একটি গুরুতর ঘটনা ঘটার খবর শুনেই তার সন্দেহ হয়, ঘটনাটি তার শ্বশুরবাড়ির আশপাশে কি না। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে ফোন করেন। কিন্তু কেউ ফোন ধরেনি। পরে তিনি তার দুই সন্তান ল্যান্ডন ও শার্লটের অবস্থান জানার চেষ্টা করেন এবং তাদের ফোন করেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাস্থলের কাছে পৌঁছানোর পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা তাদের আর এগোতে দেননি, কারণ তখনও সেখানে সক্রিয় হামলার আশঙ্কা ছিল। সেই মুহূর্তেই তিনি সবচেয়ে খারাপ আশঙ্কা করেছিলেন। নিহতদের মধ্যে ঘেকিয়েরের ১৫ বছর বয়সী ছেলে ল্যান্ডন এবং ১২ বছর বয়সী মেয়ে শার্লট রয়েছে। তার স্ত্রী মেগান ঘেকিয়েরেও নিহত হয়েছেন। মেগানের দুই সন্তান, ১৩ বছর বয়সী ওউেন এবং ৭ বছর বয়সী ক্লোয়িও প্রাণ হারিয়েছে। পরিবারের আরও তিন সদস্যও নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে মেগানের বাবা-মা এবং ৯২ বছর বয়সী দাদি এভলিন স্মিথও ছিলেন। ঘটনাটি একটি যৌথ পরিবারের চার প্রজন্মকে ছিন্নভিন্ন করেছে। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন ৭ বছরের ক্লোয়ে এবং সবচেয়ে প্রবীণ ছিলেন ৯০-এর বেশি বয়সী এক নারী। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চার শিশুসহ আটজনই একই পরিবারের সদস্য ছিলেন। ঘটনার পর পরিবারের এক সদস্য সংবাদমাধ্যমকে জানান, সন্দেহভাজন হামলাকারী পরিবারেরই একজন। তবে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার উদ্দেশ্য প্রকাশ করেনি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে পারিবারিক বিরোধ থেকে শুরু হওয়া ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এটি অপরিচিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে চালানো এলোমেলো হামলা ছিল না। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিও পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যান। তার আঘাতকে আত্মঘাতী গুলির ক্ষত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ফলে ঘটনাটিতে সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ মোট আটজন নিহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনার সময় বাড়িটি দ্রুত আগুনে পুড়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও তদন্তকাজও কঠিন হয়ে পড়ে। পুলিশ ও দমকলকর্মীদের পাশাপাশি ইয়েলোস্টোন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়, মন্টানা হাইওয়ে পেট্রোল এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা ও জরুরি সেবাদাতা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করেন। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছিল। পরে জানানো হয়, সাধারণ মানুষের জন্য আর কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই। নিহত দুই শিশু ল্যান্ডন ও শার্লটকে ঘিরে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে ল্যান্ডনকে ধৈর্যশীল, সুরক্ষাদানকারী ও ভালো বড় ভাই হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে। শার্লটকে বলা হয়েছে হাসিখুশি, বুদ্ধিদীপ্ত ও প্রাণবন্ত একটি শিশু, যার নিজের মতো করে চলার দৃঢ়তাও ছিল। অ্যাডাম ঘেকিয়েরের কাছে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঘটনার সময় তিনি সন্তানদের কাছে ছিলেন না। জরুরি যোগাযোগব্যবস্থায় খবর শোনার পর তাদের ফোন করা, অবস্থান খোঁজা এবং ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া, সবকিছুই ঘটেছিল কয়েক মিনিটের মধ্যে। কিন্তু সক্রিয় হামলার পরিস্থিতির কারণে তিনি বাড়ির কাছে যেতে পারেননি। তদন্তকারীরা এখনো ঘটনার পূর্ণ কারণ ও ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখছেন। কেন পারিবারিক বিরোধ এমন ভয়াবহ ঘটনায় রূপ নিল, হামলার আগে ঠিক কী ঘটেছিল এবং আগুন কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে কর্তৃপক্ষ। ইয়েলোস্টোন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ঘটনাটিকে অত্যন্ত জটিল তদন্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিলিংসের এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যেও গভীর শোক নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীরা নিহতদের স্মরণ করছেন এবং শেষকৃত্যসহ অন্যান্য ব্যয় মেটাতে সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছেন। তদন্ত চলায় কর্তৃপক্ষ এখনো ঘটনার সব তথ্য প্রকাশ করেনি। সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও সিবিএস নিউজ।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনার সময় তাদের দুই শিশু সন্তান বাড়িতেই উপস্থিত ছিল। পুলিশের তল্লাশির সময় অভিযুক্ত স্বামীর শার্টে লেগে থাকা বিশাল রক্তের দাগ দেখে প্রথম সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে গ্যারেজে রাখা একটি গাড়ির ডিকি থেকে স্ত্রীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট টেক্সাসের প্ল্যানো শহরে জেক বিগনি (৩৭) নামের ওই ব্যক্তির অ্যাপার্টমেন্টে যায় পুলিশ। ওইদিন সকালে তার স্ত্রী এলিয়ানা বিগনি এক বান্ধবীর সঙ্গে সকালের নাশতা করার কথা থাকলেও তিনি সেখানে যাননি। জেকের অতীতের সহিংস আচরণের কথা বিবেচনা করে ওই বান্ধবী এলিয়ানার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। এরপরই পুলিশ জেকের বাসায় গিয়ে খোঁজ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের হাতে আসা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হলফনামা থেকে জানা যায়, জেক যখন অ্যাপার্টমেন্টের দরজা খোলেন, তখন তার শার্টে বিশাল একটি রক্তের দাগ ছিল। পুলিশ এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ঘর পরিষ্কার করার সময় এই দাগ লেগেছে। তিনি পুলিশকে আরও জানান, এলিয়ানা ওইদিন সকালে এসেছিলেন, তবে কিছুক্ষণ পর চলেও গেছেন। তবে পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় তারা ভেতরে তল্লাশি চালান। সে সময় অ্যাপার্টমেন্টের মেঝেতে বিপুল পরিমাণ রক্ত ও রক্তের ছিটে দেখতে পান তারা। এরপর ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের গ্যারেজে রাখা একটি সাদা হুন্দাই গাড়ির ডিকি থেকে এলিয়ানার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, এলিয়ানা মূলত তার সন্তানদের নিতেই ওইদিন জেকের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছিলেন। কলিন কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনার এখনো তার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ প্রকাশ করেননি। লোমহর্ষক এই ঘটনার আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ পৌঁছানোর ঠিক ৩০ মিনিট আগে জেক তার মাকে ফোন করেছিলেন। ফোনে তিনি বলেন, "তোমাকে আমার কিছু বলার আছে। সে মারা গেছে।" জেক তার মায়ের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, "আমাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল এবং সে মারা গেছে।" এই কথা শোনার পরই আতঙ্কিত হয়ে তার মা পুলিশে খবর দেন। বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার কারণে এই দম্পতি আলাদা থাকছিলেন। মাত্র এক বছর আগে জেকের চাকরির সুবাদে তারা সপরিবারে টেক্সাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের সময় তাদের ২ ও ৫ বছর বয়সী দুই শিশু সন্তান ওই অ্যাপার্টমেন্টেই ছিল। তবে তারা শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্ল্যানো পুলিশের কর্মকর্তা জেরি মিনটন ফক্স৪-কে বলেন, "এমন একটি জঘন্য অপরাধের সময় ওই দুই শিশু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। তারা ঠিক কী দেখেছে বা দেখেনি, তা নিয়ে আমি এখন কোনো অনুমান করতে চাই না, তবে তারা সেখানে ছিল।" কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জেক বিগনিকে প্রাথমিকভাবে মৃতদেহ অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলেও পরে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে জামিন অযোগ্য অবস্থায় তাকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে পারিবারিক সহিংসতার এক মর্মান্তিক ঘটনায় গুগলের একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ২৩ বছর বয়সী ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর নিহতের স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ৮টার কিছু আগে জর্জিয়ার স্মার্না শহরের একটি বাড়িতে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সেখানে বাড়ির ভেতর থেকে ৫৭ বছর বয়সী শীতল রজেসিয়েনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই সময় বাড়ির বাইরে থেকে দম্পতির ২৩ বছর বয়সী ছেলে জেসন রজেসিয়েনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এ ঘটনায় শীতলের স্বামী ৫৬ বছর বয়সী কার্ক বি. রজেসিয়েনকে পারিবারিক বাসভবন থেকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাকে বর্তমানে কব কাউন্টি আটক কেন্দ্রে জামিন ছাড়াই রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কার্কের বিরুদ্ধে হত্যা, মারাত্মক হামলা এবং অপরাধ সংঘটনের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এই পারিবারিক সহিংসতার পেছনের কারণ বা কী পরিস্থিতিতে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিহত শীতল রজেসিয়েন প্রযুক্তি খাতে সুপরিচিত একজন পেশাজীবী ছিলেন। তিনি গুগলে ইঞ্জিনিয়ারিং নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রযুক্তি শিল্পে কাজ করেছেন। গুগলে যোগ দেওয়ার আগে তিনি হোম ডিপট ডটকমে মোবাইল ও ডিজিটাল রূপান্তর বিভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া আবহাওয়া প্রযুক্তি ও আর্থিক প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ই-কমার্স, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং ওয়েব প্রযুক্তিতে তার বিশেষ দক্ষতা ছিল। তিনি দুটি সফটওয়্যার পেটেন্টেরও উদ্ভাবক ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি জর্জিয়ার আটলান্টা এলাকায় বসবাস করতেন। তার পরিবারে স্বামী, ছেলে জেসন এবং মেয়ে জেসিকা রয়েছেন। এই ঘটনার পর প্রযুক্তি অঙ্গন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শীতলের পেশাগত অবদান এবং ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে শোক প্রকাশ করেছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে রাজি নয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় মোবাইল ডাটা কেনার টাকা না পেয়ে নিজের মাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মো. জাবেদ (১৮) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা যায়, বুধবার বিকেলে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চুন্নাপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পরে বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে ঘটনার একটি ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হতে থাকে। ভাইরাল হওয়া প্রায় এক মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, ঘরের ভেতরে ধারালো বটি হাতে নিয়ে জাবেদ তার মায়ের কাছে টাকা দাবি করছেন। একপর্যায়ে ভয়ভীতি দেখাতে দেখাতে তিনি মায়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। এ সময় মাকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলেকে শান্ত করার চেষ্টা করতে শোনা যায়, কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত জাবেদ ওই এলাকার কালা গাজীর বাড়ির বাসিন্দা। তার বাবা কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। পরিবারের একমাত্র ছেলে হিসেবে তিনি মা ও দুই বোনের সঙ্গে বসবাস করেন। গ্রাম পুলিশের এক সদস্য জানান, জাবেদ দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল গেমে আসক্ত এবং প্রায়ই পরিবারের কাছ থেকে টাকা চাইতেন। টাকা না পেলে এর আগেও তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও অভিযুক্তকে পাওয়া যায়নি। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, প্রাথমিকভাবে গেমে আসক্তির বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।