- প্রচ্ছদ
- Topic
#প্রেসিডেন্টনির্বাচন
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। অনলাইন প্রেডিকশন মার্কেটের সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, দলটির সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে দুজনেরই সম্ভাবনা কমেছে। তবে এই পরিবর্তনকে এখনই রিপাবলিকান ভোটারদের মতামতের বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। প্রেডিকশন মার্কেট পলিমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনয়নসংক্রান্ত বাজারে মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৭১ কোটি ৪০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। সেখানে ৩ সেপ্টেম্বর ভ্যান্সের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছিল প্রায় ৫৩ শতাংশ। মঙ্গলবার সেই হার নেমে এসেছে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশে। অন্যদিকে, ৩ আগস্ট রুবিওর সম্ভাবনা ছিল ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ, যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ১ শতাংশে। যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রিত আরেকটি প্রেডিকশন মার্কেট কালশির হিসাবেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যদিও সেখানে পরিবর্তনের মাত্রা তুলনামূলক কম। ৩ সেপ্টেম্বর ভ্যান্সের সম্ভাবনা ছিল ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ, মঙ্গলবার তা কমে হয়েছে ৪৩ শতাংশ। রুবিওর ক্ষেত্রে ৩ আগস্টের ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে সম্ভাবনা নেমে এসেছে ১৮ শতাংশে। এই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০ হাজার ডলার। ভ্যান্সের সম্ভাবনা কমার পেছনে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যও আলোচনায় এসেছে। সপ্তাহান্তে এক বক্তব্যে তিনি স্বীকার করেন, ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সম্ভাবনাও রয়েছে। নিজের চারটি ছোট সন্তান এবং তাঁর স্ত্রীর রাজনীতির প্রতি অনাগ্রহের বিষয়টি এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তবে অর্থনীতির অধ্যাপক ও প্রেডিকশন মার্কেট গবেষক কোলম্যান স্ট্রাম্পফ মনে করেন, ভ্যান্সের বক্তব্যকে বাজারের পরিবর্তনের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাঁর মতে, গত এক সপ্তাহে ভ্যান্সের সম্ভাবনা প্রায় চার শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। এর কেবল একটি অংশ তাঁর বক্তব্যের পর ঘটেছে। বাজারের এই পরিবর্তনকে বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সাধারণত ভ্যান্সের সম্ভাবনা কমলে তাঁর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী রুবিওর অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার কথা। কিন্তু এবার দুজনের সম্ভাবনাই কমছে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস এবং রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসনের মতো সম্ভাব্য বিকল্পদের সম্ভাবনাও এখনো এক অঙ্কের নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ফলে বাজারে ভ্যান্স বা রুবিওর পরিবর্তে কোনো একজন নতুন প্রার্থী স্পষ্টভাবে এগিয়ে আসছেন—এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে না। স্ট্রাম্পফের মতে, দুই শীর্ষ প্রার্থীর সম্ভাবনা কমলেও অন্য কোনো প্রার্থী উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে না আসার অর্থ হতে পারে, বাজারের অংশগ্রহণকারীরা এখনো ভ্যান্সের বক্তব্যকে বড় ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। বরং একাধিক অপেক্ষাকৃত কম সম্ভাবনাময় প্রার্থীর দিকে বাজারের হিসাব কিছুটা ছড়িয়ে পড়তে পারে। নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক কস্টাস প্যানাগোপোলস মনে করেন, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ২০২৮ সালের মনোনয়ন দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, রিপাবলিকানরা যদি মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে, তাহলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত নেতাদের জন্য সেই সম্পর্ক রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও—দুজনই ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়ায় এর প্রভাব তাঁদের ওপরও পড়তে পারে। প্যানাগোপোলসের মতে, কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থান আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন ভবিষ্যতের সমস্যার জন্য বিরোধীদের দায়ী করার সুযোগও পেতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল এবং তার পরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাই ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সান দিয়েগো ক্যাম্পাসের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক থ্যাড কাউসারও মনে করেন, ভ্যান্স ও রুবিওর শক্তির একটি বড় উৎস হলো ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক। গত এক দশকে রিপাবলিকান প্রাথমিক নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সেই সমীকরণ বদলে যায় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সাস, কানসাস, আইওয়া বা নেব্রাস্কার মতো ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান-সমর্থিত রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য দলটির জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে। এমনকি যেসব এলাকায় রিপাবলিকানদের সহজে জেতার কথা, সেখানে অল্প ব্যবধানে জয়ও দলের সমর্থনে দুর্বলতার ইঙ্গিত দিতে পারে। নির্বাচনের ফলাফলের পর রিপাবলিকানদের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, তারা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধারা অব্যাহত রাখবে, নাকি ভিন্ন পরিচয়ের দিকে এগোবে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে কাজ করা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল শাটজের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের খারাপ ফলাফল হলে ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা সুবিধার বদলে অসুবিধা হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২০২৮ সালের মনোনয়ন দৌড় আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রেডিকশন মার্কেটের হিসাবকে সরাসরি জনমত জরিপ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। টেক্সাস ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কিথ গ্যাডি সতর্ক করেছেন, বাজারের মূল্যকে ভোটারদের মতামতের বিকল্প হিসেবে দেখা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এসব বাজারে অংশগ্রহণকারীরা কোনো প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও লেনদেন করেন; প্রার্থী হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা বা জয়ের সম্ভাবনা নিয়েই কেবল তাঁদের হিসাব তৈরি হয় না। অন্যদিকে, স্ট্রাম্পফের মতে, বেশি লেনদেন হওয়া প্রেডিকশন মার্কেট দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রতিফলন দিতে পারে। তবে কোনো পূর্বাভাসই শতভাগ নির্ভুল নয়। সব মিলিয়ে, ভ্যান্স ও রুবিওর সম্ভাবনা কমে যাওয়া রিপাবলিকান ভোটাররা তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছেন—এমন প্রমাণ নয়। বরং এটি ২০২৮ সালের মনোনয়ন নিয়ে বাজারের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত দলীয় সমর্থন, অর্থায়ন, গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সমর্থন এবং ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলই রিপাবলিকানদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। তবে এবার হোয়াইট হাউসে ফেরার পথে নিজের রাজনৈতিক শিবিরের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিসর থেকেও অনীহা ও সংশয়ের মুখে পড়ছেন তিনি। এমনকি তাঁর স্বামী ডগ এমহফও চান না, হ্যারিস আবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। তবে শেষ পর্যন্ত হ্যারিস নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তাঁকে সমর্থন করবেন বলে ধারণা করছেন এমহফের ঘনিষ্ঠজনেরা। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমহফ ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজনকে জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর স্ত্রী অংশ না নিলেই তিনি বেশি খুশি হবেন। তবে তাঁর এই অবস্থানকে হ্যারিসের সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিরোধিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ঘনিষ্ঠজনদের ধারণা, হ্যারিস চূড়ান্তভাবে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিলে এমহফ তাঁর পাশে থাকবেন। হ্যারিসের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে সংশয় শুধু তাঁর পরিবারেই সীমাবদ্ধ নয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির কয়েকজন অর্থদাতা সরাসরি তাঁকে জানিয়েছেন, ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে আবারও লড়াই করা তাঁর জন্য কঠিন হতে পারে। তাঁদের কেউ কেউ সম্ভাব্য এই প্রচারাভিযানকে জয়ের ক্ষেত্রে অনিশ্চিত ও কঠিন বলে মনে করছেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হন হ্যারিস। ওই নির্বাচনে তিনি জনপ্রিয় ভোট, ইলেকটোরাল কলেজ এবং গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটগুলোর কোনোটিতেই জয় পাননি। অথচ তাঁর নির্বাচনী প্রচারে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছিল। বিপুল অর্থ সংগ্রহের পরও পরাজয় ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে তাঁর নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে ২০২৮ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে হ্যারিস এখনো আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সম্ভাব্য প্রার্থীভিত্তিক জরিপে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে দুই অঙ্কের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকি, তাই এসব জরিপকে চূড়ান্ত জনসমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হ্যারিস নিজেও এখন পর্যন্ত পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি। গত মাসে মিশিগানে এনএএসিপির এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আবার নির্বাচনে লড়বেন কি না, তা এখনো ঠিক করেননি। একই সঙ্গে তিনি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভালো করতে না পারলে ২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে পরিকল্পনার গুরুত্বও কমে যাবে। তবে তাঁর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ডেমোক্রেটিক প্রার্থীর জন্য তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন হ্যারিস। উইসকনসিনের গভর্নর পদপ্রার্থী ডেভিড ক্রাউলি এবং নেভাডার গভর্নর পদপ্রার্থী অ্যারন ফোর্ডের জন্য আয়োজিত ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানেও তাঁর উপস্থিতির কথা জানা গেছে। গত সপ্তাহে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির একটি ভার্চুয়াল আলোচনায়ও অংশ নেন হ্যারিস। সেখানে দুই হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবককে এক ডজন অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং ভোটদানে উৎসাহিত করার কাজে সহায়তা করতে বলেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এ ধরনের তৎপরতা ভবিষ্যতে বড় নির্বাচনী প্রচারের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এসব কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে তিনি ২০২৮ সালে প্রার্থী হবেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। হ্যারিসের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন কয়েকজন ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীও তাঁর আবার প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির একাংশ নতুন নেতৃত্ব ও নতুন মুখ সামনে আনার পক্ষে। অন্যদিকে, হ্যারিসের পরিচিতি, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সম্ভাব্য ভোটারসমর্থন তাঁকে আলোচনায় রেখেছে। এদিকে এমহফ আবার আইন পেশায় সক্রিয় হয়েছেন। তিনি লস এঞ্জেলেসের আইন প্রতিষ্ঠান উইলকি ফার অ্যান্ড গ্যালাগারে অংশীদার হিসেবে কাজ করছেন। চলতি বছরের শুরুতে হ্যারিস ও এমহফ মালিবুতে প্রায় ৮০ লাখ ডলারের একটি বাড়িও কিনেছেন। হ্যারিসের কার্যালয় এবং এমহফের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে হ্যারিসের সামনে এখনো একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। তিনি শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবেন কি না, তা যেমন অনিশ্চিত, তেমনি ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে সমর্থন ও সংশয়—দুই-ই রয়েছে। আপাতত তাঁর প্রকাশ্য অবস্থান, নির্বাচনী তৎপরতা এবং দলের নেতাদের প্রতিক্রিয়াই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এখনো ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় আসেনি, কিন্তু এরই মধ্যে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীরা এমন সব রাজ্যে সফর করছেন, যেগুলো পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ নীতিগত অবস্থান তুলে ধরছেন, কেউ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন, আবার কেউ সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা নিজেদের জাতীয় পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ পান। তারা দলীয় সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক নির্বাচনী রাজ্যগুলোতে রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচন এখনো অনেক দূরে হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে। ডেমোক্র্যাট শিবিরে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস, নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ, পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো, কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার ও ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকারসহ বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এদের কেউই এখন পর্যন্ত ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি। ওকাসিও-কর্টেজ সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের উপস্থিতি আরও জোরালো করেছেন। তিনি ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাননি। একইভাবে হ্যারিসও এখনো দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। শাপিরো ও বেসিয়ারও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর মতো বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। রিপাবলিকান শিবিরেও ২০২৮ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তার পাশাপাশি সিনেটর টেড ক্রুজ, সিনেটর র্যান্ড পল, ফ্লোরিডার সিনেটর রিক স্কট, টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এবং ফ্লোরিডার সাবেক গভর্নর রন ডেসান্টিসের নামও আলোচনায় রয়েছে। ট্রাম্পের পর রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, সেটিও ২০২৮ সালের দৌড়ের একটি বড় প্রশ্ন। দলটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধারা কতটা ধরে রাখবে এবং সম্ভাব্য প্রার্থীরা তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কীভাবে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করবেন—এ নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভ্যান্স ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন, অন্যদিকে ক্রুজ ও পলসহ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী নিজেদের আলাদা অবস্থানও তুলে ধরছেন। ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রেও বড় প্রশ্ন হলো, দলটি ২০২৮ সালে কোন রাজনৈতিক বার্তা সামনে আনবে। প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী অংশের মধ্যে নীতিগত পার্থক্য রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন ও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে শুরু করেছেন। তবে ২০২৮ সালের নির্বাচন এখনো অনেক দূরে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল, পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনের সময় সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান বদলে যেতে পারে। তাই বর্তমানে আলোচনায় থাকা নামগুলোকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।