রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার বিকেলে স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী তিনি তা গ্রহণ করেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। সংসদ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে, অথবা তিনি অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপ্রধানের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খুব শিগগিরই পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রটির দাবি, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি এখন প্রায় চূড়ান্ত এবং একই সঙ্গে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে সরকার ও সরকারি দল বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে বিলম্ব হলে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সূত্রটির ভাষ্য, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যে খুব শিগগিরই পদত্যাগ করবেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে কোনো সংশয় নেই। মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী, তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই তার অপসারণের দাবি জোরালোভাবে তুলেছিলেন আন্দোলনকারী ছাত্রনেতারা। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। যদিও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন। এরপর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে বহাল থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। যদিও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করেছে, তবু রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। সরকার কিংবা বিএনপি প্রকাশ্যে কখনো তার পদত্যাগ দাবি করেনি। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলে গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো নিজেদের মনোনীত একজনকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে বিএনপি। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কিংবা নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকার বা রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
চীনে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে সরকার। এই অভিযানের অংশ হিসেবে দেশটির সর্বোচ্চ আইনসভা ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (এনপিসি) থেকে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ছয়জন জ্যেষ্ঠ জেনারেলসহ মোট ১৩ জন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি একজন সদস্য স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে এনপিসির স্থায়ী কমিটির জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। চীনা সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছিল। বহিষ্কৃত সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ইকুইপমেন্ট ডেভেলপমেন্ট বিভাগের জেনারেল সু সুয়েচিয়াং। গত বছরের অক্টোবরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তার অনুপস্থিতি নিয়ে জোর আলোচনা তৈরি হয়েছিল। তখন থেকেই তার বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানের ইঙ্গিত মিলছিল বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় থিয়েটার কমান্ডের লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াং কাংপিংও বহিষ্কৃতদের তালিকায় রয়েছেন। তিনি চীনের সামরিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। শুধু সামরিক বাহিনীই নয়, বেসামরিক প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিরাও এই পদক্ষেপের আওতায় পড়েছেন। বহিষ্কৃতদের মধ্যে শিনজিয়াং অঞ্চলের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক প্রধান এবং এক জ্যেষ্ঠ আর্থিক নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার নামও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর ভেতর থেকে দুর্নীতি নির্মূল এবং রাজনৈতিক আনুগত্য নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি ধারাবাহিকভাবে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সামরিক নেতাদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন, যা চীনের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। সাম্প্রতিক এই গণবহিষ্কার সেই চলমান অভিযানেরই নতুন অধ্যায় বলে মনে করা হচ্ছে। এতে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বেইজিং কোনো ছাড় দিচ্ছে না। হংকংভিত্তিক প্রভাবশালী দৈনিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (এসসিএমপি) জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে চীন তার প্রশাসনিক কাঠামোতে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে চাইছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ধরনের শুদ্ধি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার আগামী সোমবার পদত্যাগ করতে পারেন বলে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য অবজারভার এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে নিজের বিদায়ের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারেন। তবে ব্রিটিশ সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে তার সরকারের দায়িত্ব পালনের দিকেই মনোযোগী রয়েছেন। ফলে পদত্যাগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অবজারভারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্টারমার তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এমনকি পদত্যাগের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি স্ত্রী ভিক্টোরিয়া স্টারমারের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লেবার পার্টির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা সোমবারের মধ্যে স্টারমারের কাছ থেকে স্পষ্ট অবস্থান জানতে চাইছেন বলেও জানিয়েছে অবজারভার। ব্রিটিশ রাজনীতিতে গত কয়েক মাস ধরেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। তবে শুক্রবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ওইদিন তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহাম পার্লামেন্টের একটি আসনে জয় লাভ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় বার্নহামের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং লেবার পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন বিতর্কের সুযোগ তৈরি করেছে। যদিও গত শুক্রবারই স্টারমার স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনো চ্যালেঞ্জ এলে তিনি তা মোকাবিলা করবেন। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মাধ্যমে যেন লেবার পার্টিকে দুর্বল না করা হয়। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে কেয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি বিপুল ব্যবধানে জয় লাভ করে এবং দীর্ঘ সময় পর ক্ষমতায় ফিরে আসে। সে সময় তিনি যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার দুই বছরের মধ্যেই তার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে। সমালোচকদের দাবি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অনেকগুলোই বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপের মতো বিষয়গুলো নিয়ে জনঅসন্তোষও বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমার যদি সত্যিই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে লেবার পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। তবে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পদত্যাগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে সোমবারের সম্ভাব্য ঘোষণার দিকে নজর রয়েছে ব্রিটিশ রাজনৈতিক মহল ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের। সূত্র: রয়টার্স, দ্য অবজারভার
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবার (২২ জুন) পদত্যাগ করতে পারেন বলে খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সাপ্তাহিক সংবাদপত্র 'দ্য অবজারভার'। শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পত্রিকাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পদত্যাগের পাশাপাশি ডাউনিং স্ট্রিট থেকে নিজের বিদায়ের একটি চূড়ান্ত সময়সূচিও ঘোষণা করতে পারেন তিনি। মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য, রাজনৈতিক উপদেষ্টা, দলের অর্থদাতা এবং ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর স্টারমার এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার পক্ষে আর প্রধানমন্ত্রী পদে টিকে থাকা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক মহলে স্টারমারের এই সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরের পেছনে অন্যতম অনুঘটক হিসেবে দেখা হচ্ছে তার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের উত্থানকে। সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটি সংসদীয় আসনের গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন। তার এই জয় লেবার পার্টির ভেতরে স্টারমারের নেতৃত্বকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয় এবং ডাউনিং স্ট্রিটের ক্ষমতার লড়াইয়ে বার্নহ্যামের পথ অনেকটাই প্রশস্ত করে। যদিও এর আগে শুক্রবার স্টারমার লেবার পার্টির নেতৃত্বের প্রতি যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। লন্ডনে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, দলের ভেতরে যদি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়, তবে তিনি তাতে লড়বেন এবং কোনোভাবেই লড়াই থেকে সরে দাঁড়াবেন না। 'দ্য অবজারভার'-এর প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণার আগে স্টারমার বর্তমানে তার চেকার্স কান্ট্রি বাসভবনে স্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে নিবিড় আলোচনা করছেন। তবে লেবার পার্টির শীর্ষ নেতারা ধারণা করছেন যে, পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে খুব দ্রুত, সম্ভবত সোমবারের মধ্যেই স্টারমার নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সুস্পষ্ট ও চূড়ান্ত বিবৃতি প্রদান করবেন। তার এই সম্ভাব্য বিদায় ব্রিটিশ রাজনীতিতে এক নতুন অনিশ্চয়তা ও পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর। শনিবার সেখানে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে তরুণদের নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সমাবেশ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের জন্য সরকারকে আগামী সাত দিন সময় দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে দেশজুড়ে তীব্র ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। শনিবার আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শত শত শিক্ষার্থী, তরুণ চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনকারীদের এই অভিনব প্রতিবাদ ঘিরে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যন্তর মন্তর ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। সেখানে এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল বলে জানা গেছে। সমাবেশে আসা আন্দোলনকারীদের অনেকের মুখেই ছিল ককরোচ বা তেলাপোকার মাস্ক, যা অনুষ্ঠানস্থল থেকেই সবার মাঝে বিতরণ করা হয়। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা ক্ষমতাসীন বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। সিজেপি প্রধানের নির্দেশ অনুযায়ী, কর্মীরা কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে কেবল দেশ, মহাত্মা গান্ধী এবং বি আর আম্বেদকরের নামে স্লোগান দেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা, সংবিধানের কপি এবং ফুল দেখা যায়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে শনিবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বি আর আম্বেদকরের আত্মজীবনীর একটি কপি হাতে নিয়ে সরাসরি এই সমাবেশে যোগ দেন অভিজিৎ দিপক। তরুণদের এই আন্দোলনে সংহতি জানাতে যন্তর মন্তরে উপস্থিত হয়েছিলেন লাদাখের বিশিষ্ট পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সিপিআই নেত্রী অ্যানি রাজাসহ বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। যুবসমাজের এমন সৃজনশীল ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন সোনম ওয়াংচুক। সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তৃতায় অভিজিৎ দিপক বলেন, এটি একটি দীর্ঘ সংগ্রাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানানোর পর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক ও পোস্ট মুছে ফেলার মতো কাজ করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। গ্রেপ্তার-আতঙ্কে তার মা কেঁদেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারাবাসের ভয়ে অনেকেই বিক্রি হয়ে গেলেও দেশের ছাত্র ও যুবসমাজ বিক্রি হয়নি। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি অসুস্থ বোধ করলে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সমাবেশ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা আলটিমেটাম ঘোষণা করে বলেন, হয় ধর্মেন্দ্র প্রধান সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করুন, না হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে বরখাস্ত করুন। তিনি জানান, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর সময় এসেছে এবং আজ থেকেই সেই সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হলো। নিট (এনইইটি), সিবিএসই, সিইউইটি ও এসএসসিসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তরুণদের দ্বারা পরিচালিত একটি অনলাইন আন্দোলন থেকেই মূলত এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গড়ে উঠেছে। এদিকে, সমাবেশ চলাকালীন সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৬ জনকে সতর্কতামূলক হেফাজতে নেয় দিল্লি পুলিশ। সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পাশাপাশি, যন্তর মন্তরের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের যে খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে নিশ্চিত করেছে দিল্লি পুলিশ। নাগরিকদের যাচাই না করা তথ্য বিশ্বাস না করে কেবল অফিশিয়াল বার্তার ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এক গুরুতর যৌন কেলেঙ্কারি ও অসদাচরণের অভিযোগে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক রিপ্রেজেন্টেটিভ এরিক সোয়ালওয়েল। সোমবার তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান, যা মার্কিন রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সাত মেয়াদে নির্বাচিত এই প্রভাবশালী আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে চারজন নারী যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছেন। সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকল ও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সোয়ালওয়েলের বিরুদ্ধে অন্তত এক নারীকে দুবার যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে, যিনি একসময় তার অধীনে কাজ করতেন। এছাড়া অন্য নারীরা তার বিরুদ্ধে অশালীন বার্তা ও নগ্ন ছবি পাঠানোর অভিযোগ করেছেন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করলেও সোয়ালওয়েল সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে বলেন, "আমি আমার পরিবার, কর্মী এবং নির্বাচকদের কাছে অতীতের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। যদিও আমার বিরুদ্ধে আনা গুরুতর মিথ্যা অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে আমি লড়াই চালিয়ে যাব, তবুও আমি আমার ভুলের দায়ভার গ্রহণ করছি।" হাউস এথিক্স কমিটি ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে, হাউস থেকে তাকে বহিষ্কারের জন্য দ্বিপক্ষীয় চাপ বাড়তে থাকায় তিনি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, নির্বাচকরা যাতে তার ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্যই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। উল্লেখ্য, এই বিতর্কের জেরে মাত্র একদিন আগেই তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হওয়ার দৌড় থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার পদত্যাগের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম ডিস্ট্রিক্টে একটি বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে টেক্সাসের রিপাবলিকান রিপ্রেজেন্টেটিভ টনি গঞ্জালেসও (Tony Gonzales) যৌন কেলেঙ্কারির জেরে কংগ্রেস থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব ছাড়ছেন দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতা জোনায়েদ সাকি। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থেই তার এই সিদ্ধান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিতে আগামীকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর হাতিরপুলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। দলীয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব বিষয়ে অবহিত করতে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি নিজে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেলসহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ নভেম্বর সাভারে অনুষ্ঠিত দলের ৫ম জাতীয় সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক লড়াই শেষে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায় গণসংহতি আন্দোলন। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের শরিক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জোনায়েদ সাকি। বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তাকে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হলেও পরবর্তীতে পুনর্গঠনের মাধ্যমে শুধু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দলীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করা সাংঘর্ষিক হতে পারে বিবেচনা করেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।