পহেলা বৈশাখ

বর্ণাঢ্য পরিবেশে উদযাপিত হয় পহেলা বৈশাখ । ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে এএএনএসইউ ইউএসএ চ্যাপ্টারের বর্ণাঢ্য পহেলা বৈশাখ উদযাপন

নিউইয়র্কে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে বাংলা নববর্ষের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেছে এএএনএসইউ ইউএসএ চ্যাপ্টার। বিদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন পরিণত হয় বাঙালিয়ানায় ভরা এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, সাংস্কৃতিক আয়োজন, আড্ডা এবং আনন্দঘন মুহূর্ত। ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাকে সজ্জিত অংশগ্রহণকারীরা মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন। পাশাপাশি দেশীয় খাবারের আয়োজন এবং দীর্ঘদিন পর বন্ধু ও সহপাঠীদের সঙ্গে পুনর্মিলন অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।   অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নিউইয়র্কের বুকে এ ধরনের আয়োজন আবারও প্রমাণ করেছে যে দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে অবস্থান করলেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উৎসবকে গভীরভাবে ধারণ করে চলেছেন।   তারা বলেন, এএএনএসইউ ইউএসএ চ্যাপ্টারের এ উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।   অনুষ্ঠান সফল করতে আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে আলী, ফিরোজ, বান্না, রিশাদ, অপু, জুনায়েদসহ সিনিয়র ও জুনিয়র সদস্যরা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।   আয়োজকরা জানান, পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উদযাপন ছিল ঐক্য, বন্ধুত্ব, নস্টালজিয়া এবং প্রবাসে বাঙালি পরিচয়ের এক উজ্জ্বল প্রকাশ। তাদের মতে, এমন আয়োজন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা ও সংযোগ আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করবে।

তাবাস্সুম জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক: শুভেচ্ছা বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পহেলা বৈশাখ বাঙালির জাতিসত্তা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।   বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নববর্ষ নতুনের আহ্বান নিয়ে আসে এবং পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। তিনি উল্লেখ করেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।   তিনি আরও বলেন, বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা ও হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন বাঙালির সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্য তুলে ধরে এবং জাতীয় ঐক্যকে দৃঢ় করে। নববর্ষের এই শুভক্ষণে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতা পরিহার করে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।   কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন আজ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন আজ ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির প্রি-পাইলট কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। টাঙ্গাইল সদরের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকাল সাড়ে ১০টায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে।   প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলের সন্তোষে পৌঁছে তিনি প্রথমে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরে কৃষক কার্ড উদ্বোধন শেষে পৌর উদ্যানে কৃষিমেলার উদ্বোধন করবেন এবং বিকেলে ঢাকায় ফিরবেন।   জানা গেছে, দেশের ১১টি উপজেলায় একযোগে এ কর্মসূচির যাত্রা শুরু হবে। এর মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইল সদর, পঞ্চগড় সদর, বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং মৌলভীবাজারের জুড়ী।   ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক এর আগে দেশের বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন খাতের ১৫ জন শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধির সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিন ধাপে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   বৈঠকগুলোতে খাদ্য, কৃষি, শিল্প ও করপোরেট খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা অংশ নেন। এতে বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং শিল্পোন্নয়নের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

Unknown এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
গ্লানি মুছে নতুনের আবাহন—উৎসবে মুখর আজ পহেলা বৈশাখ

‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’—এই চিরন্তন আহ্বানে নতুন সূর্যের আলোয় সূচিত হলো বঙ্গাব্দ ১৪৩৩। পুরোনো বছরের সব জীর্ণতা ও ক্লান্তি পেছনে ফেলে নতুন আশা, স্বপ্ন ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় আজ উৎসবে মেতেছে গোটা বাঙালি জাতি।   ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পহেলা বৈশাখ বাঙালির সর্বজনীন উৎসব হিসেবে এবারও প্রাণের স্পন্দনে রূপ নিয়েছে। দেশে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তুলনামূলক স্বস্তিকর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে নববর্ষ, যদিও বৈশ্বিক অস্থিরতার ছায়া রয়েই গেছে। তবুও নববর্ষের এই দিনটি বয়ে আনছে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা।   দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাঙালিরাও আজ আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করছেন বাংলা নববর্ষ। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোও তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী বর্ষবরণে অংশ নিয়েছে।   পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পৃথক বাণীতে তারা উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।   রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে পহেলা বৈশাখকে অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় নববর্ষকে জাতিসত্তার পরিচয় ও গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।   ঐতিহাসিকভাবে মুঘল সম্রাট আকবর-এর সময় খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে প্রবর্তিত ‘ফসলি সন’ থেকেই বঙ্গাব্দের সূচনা। কালের পরিক্রমায় এটি আজ বাঙালির অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।   রাজধানী ঢাকায় বর্ষবরণের মূল আয়োজন ঘিরে সাজ সাজ রব। ছায়ানট-এর পরিবেশনায় ভোরে রমনার বটমূল-এ শুরু হয়েছে দিনের কর্মসূচি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হয়েছে বর্ণাঢ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’।   এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৈশাখী মেলা ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা আয়োজন চলছে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিসিকের বৈশাখী মেলা এবং শেরেবাংলা নগরে এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।   শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও বইছে উৎসবের আমেজ। গ্রামগঞ্জের মেলা থেকে শহরের বর্ণিল আয়োজন—সব মিলিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে উদ্দীপ্ত গোটা জাতি। জরাজীর্ণ অতীতকে বিদায় জানিয়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সম্ভাবনাময় এক নতুন দিনের প্রত্যাশায় আজ নতুন করে স্বপ্ন দেখছে বাংলার মানুষ।

Unknown এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
মেট্রোরেল থামা ইস্যুতে নতুন সিদ্ধান্ত
মেট্রোরেল থামা ইস্যুতে নতুন সিদ্ধান্ত

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক রাখার ঘোষণা দিয়েছে পরিচালনাকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। তবে এদিন নির্দিষ্ট কিছু স্টেশনে ট্রেন থামা নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, ১৪ এপ্রিল শাহবাগ মেট্রো স্টেশন দুপুর ১২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রো স্টেশন পুরো দিনই যাত্রীদের জন্য বন্ধ রাখা হবে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখও প্রকাশ করা হয়েছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: আমেরিকা বাংলা
তিন বছর পর ফিরছে রাবির বৈশাখ, চারুকলায় চলছে রঙ, মোটিফ আর স্বপ্নে ভরা প্রস্তুতি

তিন বছর পর পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে জোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বৈশাখী শোভাযাত্রা ঘিরে ক্যাম্পাসে ফিরে এসেছে উৎসবের আমেজ।   বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তৈরি করছেন নানা বর্ণিল মোটিফ, যেখানে বাঙালির ঐতিহ্যের পাশাপাশি স্থান পাচ্ছে সমসাময়িক বিশ্ব বাস্তবতার প্রতিফলন। এবারের শোভাযাত্রায় বিশেষভাবে তুলে ধরা হচ্ছে যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়।   শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ির মোটিফ, যা শক্তি, গতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। পাশাপাশি জাতীয় মাছ ইলিশ, শৈশবের স্মৃতিবাহী টমটম গাড়ি এবং প্রাচীন রাজা-বাদশা ও ঐতিহাসিক চরিত্রের মুখোশও স্থান পাচ্ছে এবারের আয়োজনে। বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরতে একটি বিশেষ প্রদর্শনীরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন একাডেমিক ভবন প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা বাঁশ, কাঠ, লোহা ও রঙিন কাগজ দিয়ে এসব মোটিফ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রংতুলির ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে সেগুলো প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে।   এবার কেন্দ্রীয় কোনো প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়নি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামেই আয়োজনটি করা হচ্ছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সময় ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযম আনা হয়েছে এবং সন্ধ্যার মধ্যেই অনুষ্ঠান শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   জানা গেছে, রাজশাহীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই শোভাযাত্রা উপভোগ করতে ক্যাম্পাসে আসবেন। শোভাযাত্রার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন থাকবে। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের সর্বজনীন উৎসব সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   চারুকলা অনুষদের মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থী নাসির হোসেন বলেন, গত বছর রমজান মাসসহ দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে বড় পরিসরে আয়োজন হয়নি। তবে এবার নতুন উদ্যমে কাজ করছেন তারা।   তিনি জানান, শিক্ষকদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নতুন অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছেন। নিজেদের হাতে সবকিছু তৈরি করে শোভাযাত্রাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন শিক্ষার্থীরা।   চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রতিফলন তুলে ধরতে এমন মোটিফ তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে মানুষ পুরোনো বাহনের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ি সেই বাস্তবতার প্রতীক।   অন্যদিকে অর্থায়নের বিষয়ে অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবীর জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিজস্ব শ্রম ও অর্থায়নে এই প্রস্তুতি চলছে। সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা বজায় রাখতে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা নেওয়া হয়নি।

Unknown এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
পহেলা বৈশাখে ১০ জেলায় কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) থেকে দেশের ১০টি জেলায় ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে টাঙ্গাইলসহ কয়েকটি জেলা প্রাথমিকভাবে এই কর্মসূচির আওতায় আসছে।   বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রকাশিত এক সরকারি তথ্যবিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, কৃষকদের সহায়তা এবং কৃষিখাতে স্বচ্ছতা বাড়াতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ হিসেবেই এই কার্ড চালু করা হচ্ছে।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজেই উপস্থিত থেকে নির্বাচিত কৃষকদের হাতে এই কার্ড তুলে দেবেন বলে জানানো হয়েছে।   সংশ্লিষ্টদের মতে, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজেই সরকারি সার, উন্নত বীজ এবং অন্যান্য কৃষি সহায়তা সরাসরি গ্রহণ করতে পারবেন। এতে বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।   প্রথম ধাপে ১০টি জেলায় কার্যক্রম শুরু হলেও, পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
ফাইল ফটো।
পহেলা বৈশাখ ঘিরে সরকারের একগুচ্ছ নতুন সিদ্ধান্ত

আসন্ন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে সামনে রেখে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। রোববার (২৯ মার্চ) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় পহেলা বৈশাখ উদযাপনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারের নববর্ষের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার’। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নেতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নববর্ষের উৎসবকে আরও সার্বজনীন, সুশৃঙ্খল ও তাৎপর্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে নানামুখী পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ বরাবরের মতোই ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে, যার নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রমনা বটমূলে ছায়ানটের প্রভাতী অনুষ্ঠান সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন এবং বেতারে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। এছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন দেশব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালন করবে। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠানগুলোতে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থাকে (জাসাস) সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রী জানান, বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, জাতীয় ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবারের নববর্ষ উদযাপিত হবে। সভায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ৬০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০