- প্রচ্ছদ
- Topic
ফিলিপাইন
ফিলিপাইনের এক যুগল প্রমাণ করেছেন, দৃঢ় ইচ্ছা ও ভালোবাসার কাছে প্রাকৃতিক দুর্যোগও হার মানে। প্রবল বর্ষণ ও বন্যার কারণে চারপাশ যখন তলিয়ে গেছে, ঠিক তখনই ম্যানিলার উত্তরাঞ্চলীয় হাগোনয় শহরের সেন্ট জন দ্য ব্যাপটিস্ট গির্জায় কোমরসমান ঘোলা পানিতে দাঁড়িয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন লেইন লিজা গালাং এবং গিলবার্ট চিকো। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গত এক মাস ধরে টানা মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে ফিলিপাইনের এই অঞ্চলটি ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। আগস্ট মাসে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় ওই গির্জাটিও প্রায় এক মাস ধরে আংশিকভাবে পানির নিচে তলিয়ে আছে। এ কারণে গির্জা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই যুগলকে বিয়ের অনুষ্ঠান আপাতত স্থগিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে নিজেদের সিদ্ধান্তে অটুট থেকে এই দুর্যোগের মাঝেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। কনে লেইন লিজা বন্যার পানিতে হাঁটার সুবিধার্থে তার বিয়ের গাউনটির নিচের অংশ কেটে কিছুটা ছোট করে নিয়েছিলেন। উঁচু কাঠামোর একটি রিকশায় চড়ে তারা গির্জার প্রাঙ্গণে পৌঁছান, যাতে পানিতে নামার আগে পোশাক ভিজে বা নষ্ট না হয়। বিয়ের চিত্রগ্রাহক মিক্কো রে আলফোনসো জানান, এই যুগলের ভালোবাসার কাছে কোনো বাধাই টিকতে পারেনি। গির্জার ভেতরে ১৫ জনেরও কম অতিথির উপস্থিতিতে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। গির্জার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্লাস্টিকের ফুলে সাজানো ফাঁকা বেঞ্চের সামনে কনেকে জড়িয়ে ধরে আছেন তার বাবা-মা। আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, কোমরসমান পানিতে হেঁটে বিয়ের আংটি হাতে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এক কিশোর। মধ্যপ্রাচ্যপ্রবাসী বর গিলবার্ট চিকো জানান, তাদের বিয়েটি মূলত ডিসেম্বরে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গোড়ালিতে আঘাত পাওয়ার কারণে তিনি বাধ্য হয়ে আগেভাগেই ছুটি নিয়ে দেশে ফেরায় বিয়ের তারিখ এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
ফিলিপাইনের সাবেক অর্থোডক্স বিশপ ক্লিওপাস ডাকলান ২১ বছর চার্চে দায়িত্ব পালনের পর ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ২০১৮ সালে ৬৪ বছর বয়সে তিনি চার্চের দায়িত্ব থেকে সরে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন বলে প্রচারিত তথ্যগুলোতে উল্লেখ রয়েছে। তবে তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক সূত্রে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সীমিত। ডাকলান দীর্ঘ সময় অর্থোডক্স চার্চে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালের একটি অর্থোডক্স চার্চ-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে তাকে ফিলিপাইনের জন্য বিশপ হিসেবে অভিষিক্ত করার তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে তাকে হায়ারোমঙ্ক থেকে বিশপ পদে উন্নীত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি তিনি বাইবেলের বিভিন্ন ভাষার পাঠ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেন। গ্রিক, হিব্রু ও আরামাইক ভাষায় ধর্মীয় গ্রন্থ অধ্যয়ন করেন বলেও এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পরে কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ পড়তে গিয়ে তার ধর্মীয় বিশ্বাসে পরিবর্তন আসে বলে প্রচারিত তথ্যগুলোতে দাবি করা হয়েছে। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি ‘মুসা ইব্রাহিম’ নাম গ্রহণ করেন বলেও একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিজের বক্তব্য হিসেবে প্রচারিত ভিডিও ও লেখাগুলোতে তিনি কোরআনের তাওহিদ বা একত্ববাদের ধারণার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কথা বলেছেন এবং ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্তকে নিজের ধর্মীয় অনুসন্ধানের ফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার এই সিদ্ধান্তের আগে তিনি চার্চের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর সেই পদ ও ধর্মীয় পরিচয় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তই তার জীবনের বড় পরিবর্তন হিসেবে আলোচিত হয়েছে। তবে ডাকলানের বর্তমান অবস্থান ও পরবর্তী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন তথ্য খুব বেশি পাওয়া যায় না। ঘটনাটি ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে একজন ধর্মীয় নেতার জীবন পরিবর্তনের একটি আলোচিত উদাহরণ হিসেবে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ ধরনের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য প্রাথমিক সূত্র যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুকে শাসন করতে শারীরিক শাস্তি কার্যকর, বহু পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এমন ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন ফিলিপাইনের ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজিস্ট ড. লিয়ানে আলামপে। দেশটির সিনেটে শিশু ও কিশোরদের আচরণ নিয়ে এক শুনানিতে তিনি বলেছেন, শিশুদের মারধর বা কঠোর শারীরিক শাস্তি তাদের আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করে তোলে, এমন দাবির পক্ষে গবেষণাভিত্তিক প্রমাণ নেই। বরং কঠোর শাসনের সঙ্গে পরবর্তী জীবনে আক্রমণাত্মক ও সহিংস আচরণের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ফিলিপাইনের সিনেটের নারী, শিশু, পারিবারিক সম্পর্ক ও জেন্ডার সমতা বিষয়ক কমিটির শুনানিতে এসব কথা বলেন আলামপে। তিনি মেট্রো ম্যানিলার আতেনেও ডি ম্যানিলা ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং দীর্ঘদিন ধরে শিশু লালনপালন ও শারীরিক শাস্তির প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছেন। আলামপে আইনপ্রণেতাদের জানান, কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক গবেষণায় শারীরিক শাস্তিকে কার্যকর শৃঙ্খলা তৈরির নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে সমর্থন করা হয়নি। বরং শিশুদের ওপর ঘন ঘন বা কঠোর শারীরিক শাস্তির সঙ্গে আগ্রাসন, উদ্বেগ এবং পরবর্তী সময়ে সহিংস আচরণের মতো সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আতেনেও ডি ম্যানিলা ইউনিভার্সিটিতে প্রকাশিত আলামপে ও অন্য গবেষকদের আগের গবেষণাতেও ফিলিপিনো পরিবারে শারীরিক শাস্তির ব্যবহার এবং শিশুদের আচরণগত সমস্যার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের শিশু ও অভিভাবকদের ওপর পরিচালিত গবেষণায়ও শারীরিক শাস্তির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ উঠে এসেছে। তবে কিশোর বা তরুণদের সহিংস আচরণের জন্য একটি মাত্র কারণকে দায়ী করা ঠিক নয় বলেও সতর্ক করেছেন আলামপে। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একটি শিশুর পারিবারিক পরিবেশ, বেড়ে ওঠার ধরন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মানসিক অবস্থা এবং আশপাশের সামাজিক পরিস্থিতি মিলেই তার আচরণ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, শিশু ও কিশোরদের মস্তিষ্ক এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা তখনও বিকাশের পর্যায়ে থাকে। ফলে তীব্র রাগ, হতাশা বা চাপের মুহূর্তে নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা কোনো সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি বোঝা তাদের জন্য তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। এ কারণে শিশুদের আচরণ সংশোধনে শুধু ভয় বা শাস্তির ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে শেখানো, সীমা নির্ধারণ এবং ইতিবাচক আচরণ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দেন শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞরা। এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের শিশু বিচার ব্যবস্থার নীতিরও মিল রয়েছে। সংস্থাটি শিশুদের অপরাধের ক্ষেত্রে কেবল শাস্তির পরিবর্তে পুনর্বাসন ও restorative justice-এর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। আইনগত সমস্যায় জড়িয়ে পড়া শিশুদের মানসিক, আবেগিক ও সামাজিক বিকাশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে ফিরিয়ে দেওয়াই এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য। ফিলিপাইনের সমাজকল্যাণ বিভাগ এর আগেও বলেছে, আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া শিশুদের ক্ষেত্রে restorative justice নিশ্চিত করা জরুরি। এ প্রক্রিয়ায় শিশুকে শুধু অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া নয়, বরং তার আচরণের কারণ বোঝা, দায়িত্ববোধ তৈরি করা এবং পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিশু শাসনে মারধর নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। অনেক সমাজেই দীর্ঘদিন ধরে মনে করা হয়েছে, শারীরিক শাস্তি না দিলে শিশু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। কিন্তু শিশু বিকাশ নিয়ে সাম্প্রতিক দশকের গবেষণা এই ধারণাকে ক্রমেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। গবেষকদের মতে, শৃঙ্খলার উদ্দেশ্য যদি শুধু তাৎক্ষণিকভাবে শিশুকে ভয় দেখিয়ে কোনো কাজ থেকে বিরত রাখা হয়, তাহলে শারীরিক শাস্তি কখনও কখনও সাময়িকভাবে আচরণ বন্ধ করতে পারে। কিন্তু একটি শিশু কেন কোনো আচরণ ভুল, কীভাবে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সেই শিক্ষা শুধু ভয়ের মাধ্যমে তৈরি হয় না। এই কারণেই শিশুদের শাসনের ক্ষেত্রে শাস্তির কঠোরতার চেয়ে তারা সেই অভিজ্ঞতা থেকে কী শিখছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞরা।
অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহের কথা বলে পরিচালিত ৩৪ মিলিয়ন ডলারের প্রতারণা মামলায় ২১ বছরের বেশি কারাদণ্ড পাওয়া পলাতক মাইকেল লিজাসো মারাসিগানকে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় দেখা গেছে। এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টারস তালিকায় থাকা মারাসিগানকে ধরিয়ে দেওয়ার তথ্যের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। প্যাসিফিক ডেইলি নিউজের কর্মীদের তোলা একটি ছবির বরাত দিয়ে হাওয়াই নিউজ নাউ জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ ম্যানিলায় একটি ক্যাফে থেকে বের হওয়ার সময় মারাসিগানের ছবি তোলা হয়। ছবিটি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসার পর তার অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এফবিআইয়ের হনুলুলু ফিল্ড অফিস জানিয়েছে, মারাসিগান এখনও পলাতক এবং তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। ৫৪ বছর বয়সী মারাসিগান যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের দ্বৈত নাগরিক। গুয়ামের হাফা আদাই বিঙ্গো নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত বিশাল প্রতারণা ও মানি লন্ডারিং স্কিমের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মামলাটি তদন্ত করে এফবিআই ও আইআরএস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মারাসিগান ও তার সহযোগীরা গুয়াম শ্রাইন ক্লাবের হাফা আদাই বিঙ্গো পরিচালনা করেন। খেলোয়াড় ও সাধারণ মানুষকে বলা হতো, বিঙ্গো থেকে পাওয়া অর্থ অসুস্থ শিশু এবং তাদের একজন অভিভাবককে চিকিৎসার জন্য হাওয়াইয়ের শ্রাইনার্স হাসপাতালে পাঠানোর কাজে ব্যয় হবে। কিন্তু ফেডারেল আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। ওই সময় বিঙ্গো কার্যক্রম থেকে প্রায় ৩৪ মিলিয়ন ডলার আয় হলেও এর মধ্যে ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যক্তিগত লাভের জন্য সরিয়ে নেওয়া ও পাচার করা হয়। বিচার বিভাগের হিসাবে, অ্যালোহা শ্রাইনার্সের পাওয়ার কথা ছিল এমন ১০ লাখ নয়, পুরো ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ৮০৪ ডলার সরিয়ে নিয়েছিলেন মারাসিগান ও তার সহযোগীরা। ব্যাংক রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিঙ্গো থেকে সংগৃহীত অর্থের মাত্র প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার অ্যালোহা শ্রাইনার্স এবং শিশুদের বিমানযাত্রার খরচে ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২১ সালে বিঙ্গোর অর্থ থেকে সংগঠনটির ঘোষিত দাতব্য উদ্দেশ্যে কোনো অর্থই ব্যয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। ২০২৫ সালের ১৩ মে ফেডারেল জুরি মারাসিগান ও তার সহযোগীদের অবৈধ জুয়া ব্যবসা পরিচালনার ষড়যন্ত্র, মানি লন্ডারিং ষড়যন্ত্র এবং ওয়্যার ফ্রডের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। মারাসিগানকে পৃথক কয়েকটি মানি লন্ডারিং অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য ফিলিপাইনে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন মারাসিগান। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ফিরে না এসে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এরপর ২০২৫ সালের জুনে প্রিট্রায়াল রিলিজের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ফেডারেল অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। পলাতক থাকা অবস্থাতেই ২০২৬ সালের ১৮ মে তাকে সাজা দেন গুয়ামের ফেডারেল আদালত। মারাসিগানকে ২৬২ মাস বা প্রায় ২১ বছর ১০ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অ্যালোহা শ্রাইনার্সকে ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ৮০৪ ডলার ক্ষতিপূরণ, ৫৮ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৩ ডলার ফরফেইচার এবং ৬ হাজার ৫০০ ডলার বাধ্যতামূলক আদালত ফি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তাকে এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টারস তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তার অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য বর্তমানে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এফবিআই তাকে পালিয়ে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং জানিয়েছে, গুয়াম ও ফিলিপাইন উভয় জায়গাতেই তার যোগাযোগ রয়েছে। ম্যানিলায় মারাসিগানের সাম্প্রতিক ছবিকে তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত এফবিআই স্পেশাল এজেন্ট টম সাইমন হাওয়াই নিউজ নাউকে বলেছেন, ছবিটি সত্যি এবং সাম্প্রতিক হলে তদন্তকারীদের জন্য তার অবস্থান সংকুচিত করার বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মারাসিগানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ তাদের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে তখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য ছিল না। অন্যদিকে এফবিআইয়ের হনুলুলু অফিস স্পষ্ট করেছে, মারাসিগান এখনও তাদের ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে সংস্থাটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যে অর্থ অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেই অর্থের কোটি কোটি ডলার ব্যক্তিগত স্বার্থে সরিয়ে নেওয়ার এই মামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা বিশেষভাবে গুরুতর বলে বর্ণনা করেছেন। এখন ম্যানিলায় মারাসিগানের সম্ভাব্য উপস্থিতির নতুন তথ্য সামনে আসায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এই দণ্ডিত প্রতারককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা আবারও নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার নিনয় অ্যাকুইনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসরায়েলি ও মার্কিন এক নাগরিকের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার পর শারীরিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি নাগরিককে উদ্দেশ করে মার্কিন নাগরিকের কথিত আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাটি ম্যানিলার নিনয় অ্যাকুইনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিক ওই ইসরায়েলি ব্যক্তিকে ‘শিশুহত্যাকারী’ বলে আখ্যা দেন। এরপর তিনি ইসরায়েলি ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘দুঃখের বিষয়, হিটলার কাজটা শেষ করতে পারেনি।’ হলোকাস্টের প্রসঙ্গ টেনে এমন মন্তব্যের পর দুই ব্যক্তির মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের কর্মী ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে দুজনকে আলাদা করেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দুই ব্যক্তির মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এবং পরে তাদের আলাদা করার দৃশ্য দেখা গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট সময়, দুই ব্যক্তির পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশে এ নিয়ে বিক্ষোভ, বিতর্ক ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটলেও বিমানবন্দরের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এমন বিরোধ দ্রুত শারীরিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহনশীলতার বিষয়টি সামনে এনেছে।
ফিলিপাইনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাছাকাছি সমুদ্রে অবস্থানরত একটি চীনা যুদ্ধজাহাজের ভিডিও প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সামুদ্রিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিস্যাটস (Seasats)। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের স্বয়ংক্রিয় সমুদ্র ড্রোনের ধারণ করা এই ভিডিও বেসরকারি কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত এ ধরনের প্রথম ফুটেজ। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত ৪২ সেকেন্ডের ভিডিওতে একটি চীনা নৌবাহিনীর টাইপ-০৫২ডি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ারকে ফিলিপাইনের লুজন দ্বীপ থেকে প্রায় ৬৫ মাইল দূরে বাশি চ্যানেলে ভাসতে দেখা যায়। রয়টার্স জাহাজটির ডেকের নকশা, সুপারস্ট্রাকচার, ক্রেন ও মাস্টের গঠন বিশ্লেষণ করে এটিকে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) নৌবাহিনীর টাইপ-০৫২ডি যুদ্ধজাহাজ হিসেবে শনাক্ত করেছে। সিস্যাটস জানিয়েছে, তাদের 'লাইটফিশ' নামের মানববিহীন সমুদ্রযান (ইউএসভি) তাইওয়ান প্রণালিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দীর্ঘ সময় পরিচালনার সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি বাণিজ্যিক অভিযানে ছিল। ওই অভিযানের সময়ই এটি চীনা যুদ্ধজাহাজটির ভিডিও ধারণ করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইক ফ্লানিগান বলেন, তাদের ড্রোন চীনা যুদ্ধজাহাজের খুব কাছাকাছি গিয়ে ছবি ও বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। তার ভাষায়, এমন তথ্য সংগ্রহ স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক প্রযুক্তির কার্যকারিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। মাত্র ১২ ফুট লম্বা 'লাইটফিশ' ড্রোনটি দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করতে পারে। এটি পানির নিচে ধ্বনিভিত্তিক সংকেত গ্রহণ করে সেগুলোকে রেডিও সংকেতে রূপান্তর করে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে স্থলভাগের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে পাঠায়। এছাড়া এটি যুদ্ধজাহাজের অবস্থান শনাক্ত, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, সাবমেরিনের সঙ্গে যোগাযোগ, চোরাচালান ও অবৈধ মাছ ধরার কার্যক্রম নজরদারির মতো কাজও করতে পারে। রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে চীন ওই নির্দিষ্ট যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ফিলিপাইন সরকার জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে, বিশেষ করে কেউ যদি ফিলিপাইনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে অনধিকার প্রবেশ করে। সিস্যাটসের দাবি, এর আগেও তাদের ড্রোন একাধিকবার চীনা যুদ্ধজাহাজের মুখোমুখি হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, 'লাইটফিশ' তাইওয়ান প্রণালি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিক্রম করার সময় একাধিক চীনা যুদ্ধজাহাজ শনাক্ত করে। তখন জাহাজগুলো স্বয়ংক্রিয় পরিচয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (AIS) বন্ধ রেখেছিল। এরপরও ড্রোনটি সেগুলো অনুসরণ করে ছবি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে উপগ্রহ নজরদারি অত্যন্ত উন্নত হলেও সমুদ্রে অনেক সময় জাহাজ নিজেদের অবস্থান গোপন রাখতে সক্ষম হয়। এ কারণে দীর্ঘপাল্লার স্বয়ংক্রিয় সমুদ্রযান উপকূলীয় রাডারের সীমার বাইরে থেকেও গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি চালাতে পারে। সান ডিয়েগোভিত্তিক সিস্যাটস ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৪ কোটি ডলার এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে ১০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার জন্য স্বয়ংক্রিয় সমুদ্রযান তৈরি করছে।
ফিলিপাইনে এক চীনা নাগরিককে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান সন্দেহভাজনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। চীনা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, লিউ পদবিধারী ওই সন্দেহভাজন অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে চীনের পুলিশ যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে একটি রেড নোটিশ জারি করা হয়। চীনের সরবরাহ করা প্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২০২৪ সালের অক্টোবরে লিউকে গ্রেপ্তার করে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে চলতি সপ্তাহে তাকে চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের তদন্তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই প্রত্যর্পণ সম্ভব হয়েছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করা যাচ্ছে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয়, অপহরণ ও হত্যার ঘটনার বিস্তারিত এবং মামলার বিচারিক অগ্রগতি সম্পর্কে চীনা কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করেনি। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র বা ফিলিপাইনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে পৃথক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ এবং প্রত্যর্পণ সহযোগিতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই ঘটনাকেও সেই ধরনের আন্তঃদেশীয় সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) মামলার বিচার সোমবার (৬ জুলাই) দেশটির সিনেটে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত এই বিচারকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিচারকে ঘিরে রাজধানী ম্যানিলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সিনেট প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিনেটের ইমপিচমেন্ট আদালত সারা দুতের্তেকে বিচার শুরুর দিন ব্যক্তিগতভাবে অথবা তার আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। উদ্বোধনী অধিবেশনে অভিযোগপত্র উপস্থাপন, প্রাথমিক শুনানি এবং পরবর্তী বিচার কার্যক্রমের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। আদালত উভয় পক্ষের প্রস্তুতি শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণের পর্যায়েও অগ্রসর হবে। সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে সরকারি গোপন তহবিলের অপব্যবহার, অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন এবং প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র, ফার্স্ট লেডি ও সাবেক এক স্পিকারের বিরুদ্ধে হুমকিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তিনি শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফিলিপাইনের সংবিধান অনুযায়ী, সিনেটে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে দোষী সাব্যস্ত হলে সারা দুতের্তে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ হারাবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো সরকারি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অযোগ্য ঘোষিত হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিচার কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ফিলিপাইনের নিরাপত্তা বাহিনী বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় হাজার হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে আদালতের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয় এবং সম্ভাব্য বিক্ষোভ বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এই বিচার ফিলিপাইনের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশটির জনগণ, রাজনৈতিক মহল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন সিনেটে চলতে যাওয়া এই ইমপিচমেন্ট বিচার প্রক্রিয়ার দিকে, যার ফলাফল দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ফিলিপাইনের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ মিনদানাওয়ে ৬ দশমিক ৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এতে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য মেলেনি। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। জার্মানির গবেষণা প্রতিষ্ঠান জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) জানায়, ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২৯ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়। অন্যদিকে, ফিলিপাইনের ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি (ফিভোলকস) ভিন্ন তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে দক্ষিণ ফিলিপাইনের উপকূলীয় এলাকায় কম্পনটি অনুভূত হয় এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। ফিভোলকসের হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশের সারানগানি পৌরসভার বালুত দ্বীপ থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে। উপকূলঘেঁষা এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে শক্তিশালী এ ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য পরাঘাত বা আফটারশকের আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে ফিভোলকস। স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে এবং জনগণকে প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পপ্রবণ ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইনে প্রায়ই মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গভীর সমুদ্রে উৎপন্ন কম্পনের কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়, তবে পরাঘাতের ঝুঁকি থেকেই যায়। এ ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কোনো জরুরি পরিস্থিতি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি মামলার এক পলাতক আসামিকে ফিলিপাইন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) জানিয়েছে, ৬০ বছর বয়সী হারবার্ট লিওন কিম্বলকে ফিলিপাইনে আটক করা হয়েছে। তিনি গত বছর নির্ধারিত সাজা ঘোষণার শুনানিতে হাজির না হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এফবিআই ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কিম্বল একটি জটিল মেডিকেয়ার জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যার মাধ্যমে ১.২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ভুয়া বা অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা বিল সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, এই প্রতারণামূলক কার্যক্রমে মূলত বয়স্ক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পরিচালিত এই চক্র বিভিন্ন কল সেন্টার, টেলিমেডিসিন সেবা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রোগীদের কাছে অর্থোপেডিক ব্রেস ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য বিপুল পরিমাণ দাবি জমা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব সরঞ্জামের বড় একটি অংশ ছিল চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় বা যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই বিল করা। কিম্বল ২০১৯ সালে জালিয়াতি-সংক্রান্ত অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে তার সাজা ঘোষণার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। এরপর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং তাকে পলাতক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। সম্প্রতি এফবিআই “মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার্স” নামে একটি বিশেষ তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে দেশের সবচেয়ে আলোচিত আর্থিক ও স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি মামলার পলাতক আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিম্বল ওই তালিকার অন্যতম সদস্য ছিলেন। তার গ্রেপ্তার এ তালিকা প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই দ্বিতীয় বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ফিলিপাইনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় কিম্বলকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে আদালতের মুখোমুখি হয়ে তাকে সাজা শুনতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতি বছর মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড কর্মসূচিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের প্রতারণার অভিযোগ উঠে আসে। এসব অপরাধ দমনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ নজরদারি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, কিম্বলের গ্রেপ্তার শুধু একটি বড় মামলার অগ্রগতি নয়, বরং সীমান্ত পেরিয়ে আত্মগোপনে গেলেও আর্থিক অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
ফিলিপাইনে গত সপ্তাহে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প শুধু প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞই ডেকে আনেনি, দেশটির ভূপ্রকৃতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। সাম্প্রতিক এক আকাশ জরিপে দেখা গেছে, এই কম্পনের ফলে উপকূলরেখা কয়েকশো মিটার পর্যন্ত সমুদ্রের দিকে এগিয়ে গেছে এবং সমুদ্রতলও উল্লেখযোগ্যভাবে ওপরে উঠে এসেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬১ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকশো মানুষ। বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল মিন্দানাও দ্বীপের কাছে সারাঙ্গানি প্রদেশ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। এর তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, কয়েকশো কিলোমিটার দূরের ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপেও কম্পন অনুভূত হয়। ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি (ফিভোলকস) জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর সোমবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ৬ হাজারের বেশি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে। এই ভয়াবহ কম্পনের পর উপকূলীয় এলাকায় যে পরিবর্তন দেখা গেছে, তাকে বিজ্ঞানীরা ‘কোস্টাল আপলিফট’ বা উপকূলীয় ভূমি উত্থান হিসেবে বর্ণনা করছেন। ফিভোলকসের প্রাথমিক মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু এলাকায় ভূমি প্রায় ২ মিটার পর্যন্ত ওপরে উঠে এসেছে এবং উপকূলরেখা প্রায় ২০০ মিটার পর্যন্ত সমুদ্রের দিকে সরে গেছে। সংস্থাটির মতে, ভূমিকম্পের সময় দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত কোটাবাটো খাতের তীব্র নড়াচড়া সারাঙ্গানি ও দাভাও অঞ্চলের বিস্তীর্ণ উপকূলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এর ফলে সমুদ্রের নিচে থাকা অংশ হঠাৎ করেই ওপরে উঠে আসে। স্থানীয়দের বর্ণনায় জানা গেছে, অনেক জায়গায় আগে পানির নিচে থাকা প্রবাল এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। ফিভোলকস প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, উন্মুক্ত সমুদ্রতলে ছড়িয়ে রয়েছে প্রবাল, সি-গ্রাস, মৃত মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী। এছাড়া সারাঙ্গানির বারাঙ্গে বুরিয়াস ও গ্ল্যান পৌরসভার মাঝামাঝি এলাকায় উপকূলীয় ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ভূমিকম্পের পর সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এক পর্যায়ে প্রায় দুই মিটার উচ্চতার ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ে একটি বাড়ি ধ্বংস করে এবং সমুদ্রে থাকা ছোট নৌকাগুলোকে ভাসিয়ে তীরে নিয়ে আসে। স্বাধীন বিশ্লেষণেও এই ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের সত্যতা মিলেছে। জিওস্পেশিয়াল বিশ্লেষক সের্জিও অগাস্টো জারডিম ভলকমার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক মানচিত্রে ১৬ মে থেকে ১০ জুনের মধ্যে দক্ষিণ ফিলিপাইনের উপকূলীয় এলাকার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, “এটি এমন একটি ব্যাপক উত্থান, যা আগে খুব কমই দেখা গেছে।” ভূতাত্ত্বিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইনে নিয়মিত ভূমিকম্প হয়ে থাকে। এই অঞ্চলে অসংখ্য ফল্ট লাইন ও সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এর আগে ১৯৭৬ সালে কোটাবাটো খাতের নড়াচড়ার ফলেই মোরো উপসাগরে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামি সৃষ্টি হয়েছিল, যাতে প্রায় ৮ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপাইন সাগরীয় প্লেটের সীমান্ত বরাবর সিসমিক কার্যকলাপের কারণে অতীতে ৮ মাত্রার বেশি শক্তিশালী সাতটি ভূমিকম্প এবং ৭ মাত্রার বেশি অন্তত ২৫০টি বড় কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। এর সঙ্গে একাধিকবার সুনামির ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্প আবারও প্রমাণ করল—ফিলিপাইনের উপকূলীয় অঞ্চল শুধু তাৎক্ষণিক দুর্যোগের ঝুঁকিতেই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ভূপ্রাকৃতিক পরিবর্তনের মুখেও রয়েছে।
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩২ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৩৪ জন। দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সারঙ্গানি প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। শক্তিশালী এই কম্পন মিন্দানাওজুড়ে ব্যাপকভাবে অনুভূত হয় এবং প্রায় ৪২০ কিলোমিটার দূরে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মানাদো শহরেও কাঁপুনি অনুভূত হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মিন্দানাওয়ে ধ্বংসাবশেষ ও ভূমিধসে ৩২ জন নিহত এবং ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় সাত লাখ মানুষের বসবাসের শহর জেনারেল সান্তোস সিটি। সেখানে একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু স্থাপনা ধসে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী জোজো কালমা বলেন, এই প্রথম এত শক্তিশালী ভূমিকম্প দেখেছেন তিনি। তিনি জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি একটি ভবনের সামনে মোটরচালিত থ্রি-হুইলার ট্যাক্সি চালাচ্ছিলেন এবং পরে ভবনটি ধসে পড়ে। তবে তিনি অক্ষত থাকেন। তাঁর সন্তানরা তখন স্কুলে ছিল, তারা নিরাপদ রয়েছে। তবে তাঁর ভাইয়ের বাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় সরকারের প্রকাশ করা ভিডিওতে একটি ফাস্টফুড দোকানসংবলিত ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ভবনটি ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধুলার মেঘ ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশে আতঙ্ক তৈরি হয়। দীর্ঘ ছুটির পর স্কুল খোলার পরদিনই এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোকে মোতায়েন করেছে সরকার। ভূমিকম্পের পর দক্ষিণ ফিলিপাইন, উত্তর ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। পরে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয় এবং উপকূলীয় বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশও তুলে নেওয়া হয়। এর আগে গত বছর ফিলিপাইনে একাধিক ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে মধ্যাঞ্চলীয় সেবু দ্বীপের উপকূলে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭৯ জন নিহত হন। পরবর্তী সময়ে মিন্দানাওয়েও আরও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে বিশ্বজুড়ে টালমাটাল জ্বালানি বাজার। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ফিলিপাইনে, যেখানে তেলের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ডিজেল ও পেট্রোলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুক্রবার রাজধানী ম্যানিলাসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে রাজপথে নেমে এসেছেন শত শত মানুষ। পরিবহন ইউনিয়নগুলোর ডাকা দুই দিনের দেশব্যাপী ধর্মঘটের প্রথম দিনেই উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথ। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের অভিমুখে যাত্রা করলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, যা জীবনযাত্রার ব্যয়কে অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। পাঁচ সন্তানের জনক ও স্থানীয় জিপনি চালক মাইকেল ল্যাবোর আর্তনাদ যেন সাধারণ ফিলিপিনোদেরই প্রতিধ্বনি। তিনি বলেন, "সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর ৫০০ পেসো আয় করি। সন্তানদের স্কুলের খরচ মেটাতেই সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। দিনশেষে খাবার কেনার টাকা থাকছে না। কোম্পানিগুলো কেন প্রতিদিন দাম বাড়াচ্ছে, প্রেসিডেন্টকে এর জবাব দিতে হবে।" ৪৬ বছর বয়সী আরেক চালক অ্যালান জানান, এখন সন্তানদের স্কুলের টিফিন বা হাতখরচ দেওয়ার মতো সামর্থ্যও তার নেই। জ্বালানি সংকটের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে চলতি সপ্তাহের শুরুতে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে 'জরুরি অবস্থা' ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন। প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা এখন চরম হুমকির মুখে। দেশটির পররাষ্ট্র সচিব মারিয়া তেরেসা লাজারো সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, দেশে বর্তমানে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ দিনের পেট্রোলিয়াম মজুত রয়েছে। উল্লেখ্য, ফিলিপাইনের মোট জ্বালানি আমদানির প্রায় ৯৮ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ফিলিপাইন এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। সরকার তেলের মজুতদারি ও কারসাজি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও সাধারণ মানুষের হাহাকার থামছে না।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান–ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন সরকার। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দেশটির প্রেসিডেন্ট Ferdinand Marcos Jr. এক নির্বাহী আদেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। সরকার বলছে, বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন এবং দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। ফিলিপাইনের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই আমদানিনির্ভর, যার বড় অংশ আসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে এই সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে দেশটিতে জ্বালানির দাম একাধিকবার বেড়েছে এবং বর্তমানে ডিজেল ও পেট্রোলের মূল্য আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দেশে বিদ্যমান জ্বালানি মজুত দিয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ দিন চাহিদা মেটানো সম্ভব। এই সীমিত মজুতকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি হিসেবেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে সরকার জ্বালানি খাতে বিশেষ ক্ষমতা পেয়েছে। এখন থেকে সরাসরি জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য ক্রয় ও মজুত করা যাবে। পাশাপাশি খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার লক্ষ্য বাজারে কৃত্রিম সংকট ঠেকানো এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়া। প্রাথমিকভাবে এই জরুরি অবস্থা এক বছরের জন্য বলবৎ থাকবে। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন অনুযায়ী এর সময়সীমা বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। ফিলিপাইন সরকার আশা করছে, এই বিশেষ ব্যবস্থা দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চাপ কমাতে সহায়তা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।