বাজেট

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
কর ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও যুগোপযোগী করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও করদাতাবান্ধব করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটের কয়েকটি বিষয়ে ভ্যাট কমানোর পাশাপাশি আয়কর অব্যাহতির সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।   সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ভ্যাট কমানোর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নরমালি দাবিটা বিরোধী দল থেকে হয়ে থাকে। আমি আপাতত ফিজিক্যালি না হলেও মানসিকভাবে ওনাদের পাশে গিয়ে কথা বলতে চাই।’   তিনি জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিগত আয়কর অব্যাহতির সীমা ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।     তবে ব্যক্তিগত করদাতাদের আরও স্বস্তি দিতে তিনি অর্থমন্ত্রীর কাছে এই সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ কর বছরের জন্য আয়কর অব্যাহতির সীমা ৪ লাখ টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ কর বছরের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য ৫ লাখ টাকা করা যেতে পারে।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগত করদাতাদের করের চাপ কিছুটা কমিয়ে স্বস্তি দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। প্রস্তাবিত বাজেটে স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শন-সংক্রান্ত বিধান নিয়েও জনমনে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, দেশে অনেকেই জমি নিবন্ধনের সময় প্রকৃত মূল্যের পরিবর্তে মৌজা মূল্য দেখান।   ফলে পরবর্তী সময়ে প্রকৃত ক্রয়মূল্য প্রমাণ করতে গিয়ে করদাতাদের নানা জটিলতায় পড়তে হয়। তিনি বলেন, করদাতাদের এই হয়রানি কমানোর উদ্দেশ্যেই বিধানটি প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউ কেউ এটিকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।   জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত ওই বিধান প্রত্যাহারের জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে টেবিল চাপড়ে স্বাগত জানাল পুরো সংসদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান।   বক্তব্যে তিনি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সংসদকেন্দ্রিক গণতন্ত্র এবং দেশ গঠনে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে গঠনমূলক রাজনীতির চর্চা আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।     বক্তব্য শেষে সরকারি ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে স্বাগত জানান। সংসদের এমন দৃশ্য সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।     এছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা উচিত। একই সঙ্গে দেশের কল্যাণে গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা অব্যাহত রাখার কথাও উল্লেখ করেন।     সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য এবং তাৎক্ষণিক এই প্রতিক্রিয়াকে ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবেশের একটি বার্তা হিসেবে দেখছেন অনেক পর্যবেক্ষক। তবে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

বায়জিদ হাসান জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: এএফপি
ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন ব্যয় মেটাতে পেন্টাগনের প্রয়োজন ৮ হাজার কোটি ডলার

ইরান যুদ্ধ এবং অন্যান্য অ-যুদ্ধকালীন ব্যয় সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের অতিরিক্ত ৮ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন বলে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়েছে। উপ-প্রতিরক্ষা সচিব স্টিফেন ফেইনবার্গ সম্প্রতি কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে এক ফোনালাপে এই তথ্য উপস্থাপন করেন বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।   প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আইনপ্রণেতাদের কাছে একটি সম্পূরক বাজেট প্রস্তাব পাঠানো হতে পারে। এই প্রস্তাবে শুধু পেন্টাগনের তহবিলই নয়, কৃষি খাত ও দুর্যোগ সহায়তার মতো অপ্রতিরক্ষামূলক খাতের অর্থায়নের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।   তবে এ বিষয়ে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য দেয়নি। এর আগে এপ্রিল মাসে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানান, ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এটিই ছিল যুদ্ধের প্রথম আনুষ্ঠানিক হিসাব হিসেবে প্রকাশিত তথ্য।   তবে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই যুদ্ধের মোট ব্যয় কত—এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর আগে যুদ্ধ ব্যয় মেটাতে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রাথমিক প্রস্তাব আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার মুখে পড়ে।   বাজেট বিতর্কের মধ্যে গত এপ্রিল মাসে প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শুনানিতে হোয়াইট হাউসের বাজেট পরিচালক রাসেল ভট বলেন, যুদ্ধ ব্যয়ের কোনো নির্দিষ্ট হিসাব তার কাছে নেই। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারের সামরিক বাজেট প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান জানান।   এই বিশাল সামরিক বাজেটকে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রিপাবলিকান পার্টির রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই তাদের লক্ষ্য।   তবে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধের আর্থিক চাপ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

Unknown জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিরক্ষায় বিপুল বরাদ্দ, জনকল্যাণে ছাঁটাই: ট্রাম্পের নতুন বাজেট প্রস্তাব ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে তোলপাড়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ২০২৬ অর্থবছরের জন্য একটি উচ্চাভিলাষী ও বিতর্কিত বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছেন। এই প্রস্তাবিত বাজেটে একদিকে যেমন জাতীয় প্রতিরক্ষা ও সামরিক খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক খাতের ব্যয় বা ‘ডিসক্রিশনারি স্পেন্ডিং’ এক ধাক্কায় ১০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই বাজেট প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি খরচ কমিয়ে আনা এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং পরিবেশ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের বরাদ্দ কমিয়ে সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করায় মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে। বাজেট প্রস্তাবের মূল দিকগুলো: ১. প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড ব্যয়: ট্রাম্পের প্রস্তাবনায় পেন্টাগন বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। আধুনিক সমরাস্ত্র সংগ্রহ এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতে এই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হবে। ২. অভ্যন্তরীণ খাতে ব্যাপক কর্তন: ডিসক্রিশনারি স্পেন্ডিং বা বিবেচনামূলক ব্যয়ের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কাটছাঁটের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে আবাসন সহায়তা, সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প এবং বৈদেশিক সাহায্যের মতো বিষয়গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ৩. অর্থনৈতিক যুক্তি: ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, দেশের ক্রমবর্ধমান জাতীয় ঋণ কমাতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন জরুরি। তারা মনে করছেন, সরকারি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে আনলে অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হবে। বাজেট প্রস্তাবটি ঘোষণার পরপরই ওয়াশিংটনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান শিবিরের অনেকেই এই সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, ডেমোক্র্যাটরা এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিরোধী দলগুলোর মতে, এই বাজেট সাধারণ আমেরিকানদের জীবনযাত্রার মান কমিয়ে দেবে এবং কেবল সামরিক শিল্পকেই সমৃদ্ধ করবে। উল্লেখ্য যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের এই বাজেট প্রস্তাবটি কার্যকর করতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে এই বাজেট পাশ করা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন বাজেট রূপরেখা বিশ্ব অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

Unknown এপ্রিল ৩, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি
ইরান সংঘাতের খরচ সামলাতে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন বাজেট প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্য প্রায় দুইশ’ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা, এবং অর্থ জোগাড়ের জন্য স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমানোর বিষয়টি রিপাবলিকানরা বিবেচনা করছে।   প্রতিবেদনগুলো জানাচ্ছে, রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটি ইতিমধ্যেই প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু করেছে। তবে বিষয়টি সহজ নয়। নির্বাচনের বছর স্বাস্থ্যসেবার মতো সংবেদনশীল খাতে ব্যয় কমানো রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিরোধী দল অভিযোগ তুলেছে যে, বিদেশে সামরিক ব্যয় মেটাতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুবিধা কমানোর চেষ্টা হচ্ছে।   রিপাবলিকান নেতারা বলছেন, সরাসরি সুবিধা কমানো নয়। তারা মূলত জালিয়াতি ও অপচয় বন্ধ করে খরচ কমানোর উপায় খুঁজছেন। বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অপব্যবহার শনাক্ত করে বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব, এমনটাই তাদের যুক্তি।   বাজেট কমিটির নেতৃত্বে থাকা এক নেতা স্বাস্থ্য খাতে পূর্বের কিছু প্রস্তাব আবার সামনে এনেছেন। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত কিছু অতিরিক্ত অর্থপ্রদান কমানোর পরিকল্পনা। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এতে সরকারের কিছু অর্থ সাশ্রয় হলেও অনেক মানুষের স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা কমে যেতে পারে।   সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ ধরনের পদক্ষেপে কয়েক দশ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে। তবে এর ফলে কয়েক লাখ মানুষ স্বাস্থ্যবিমা হারাতে পারেন এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।   এই বাজেট পাস করানোর জন্য রিপাবলিকানরা বিশেষ একটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করতে চাচ্ছেন, যাতে বিরোধীদের প্রতিরোধ কমানো যায়। তবে তাদের নিজের মধ্যেও এ বিষয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপন্থী নেতারা নির্বাচনের আগে এমন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাগ্রস্ত।   অন্যদিকে দেশীয় ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট চাপ দিচ্ছেন। তবে বর্তমান নেতৃত্ব বিমা এবং হাসপাতাল ব্যবস্থার ব্যয় কমানোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।   আরও কিছু প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, হাসপাতাল এবং চিকিৎসকের সেবার জন্য সমান মূল্য নির্ধারণ করা এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় অনিয়ম কমানো। কিছু অঞ্চলে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের স্বাস্থ্য সুবিধা সীমিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।   বিরোধী দল ইতোমধ্যেই তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। তারা বলছে, বিদেশে সামরিক ব্যয়ের জন্য দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা কমানো হচ্ছে, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী।   সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত বাজেট এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি এবং আসন্ন নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।   সূত্র: অ্যাক্সিওস

নীলুফা নিশাত মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
অর্থমন্ত্রী ড. আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেই ফিরবে অর্থনৈতিক স্বস্তি: বাজেটে বড় পরিবর্তনের আভাস অর্থমন্ত্রীর

দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করতে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী ড. আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিগত সরকারগুলোর রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে বড় ধরনের সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা যাবে আগামী বাজেটে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। এর আগে আইএমএফ-এর এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংকিং খাত, শেয়ার বাজার এবং ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাতের বর্তমান শোচনীয় অবস্থা থেকে উত্তরণে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা এবং উৎপাদন খরচ কমানোর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। এছাড়া থমকে যাওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে পুনরায় সচল করতে বাজেটে বিশেষ দিকনির্দেশনা থাকবে। ঋণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে ড. আমির খসরু বলেন, আইএমএফ-এর শর্তগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যা সম্ভব নয়, তা ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। হুট করে সব পরিবর্তন চাপিয়ে না দিয়ে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় নিজস্ব চিন্তাভাবনা অনুযায়ী সংস্কার করা হবে। জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত অর্থ সংস্থানের বিষয়ে ওয়াশিংটনে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

US Releases Official 10-Step Guide to Becoming an American Citizen Through Naturalisation

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে ১০ ধাপের সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ, গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য যা জানা জরুরি

বায়জিদ হাসান জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০