- প্রচ্ছদ
- Topic
বিবিসি
ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে নিজেই ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা দায়ের করে এখন নির্ধারিত জবানবন্দি এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। নিজের করা মামলাতেই অংশ না নেওয়ায় তাঁর ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) জারির কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এক মার্কিন ফেডারেল ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক। শুক্রবার ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক এনজোলিক এ. লেট এক আদেশে ট্রাম্পকে তাঁর জবানবন্দির বিষয়ে আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে বিবিসির কাছে জবাব দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের শিডিউল যথাযথভাবে মানতে ব্যর্থ হলে ট্রাম্পকে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিচারক। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনার একটি ভিডিও ২০২৪ সালের একটি তথ্যচিত্রে "বিভ্রান্তিকরভাবে" সম্পাদনা করে ট্রাম্পকে সহিংসতায় উসকানিদাতা হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগ এনে বিবিসির বিরুদ্ধে এই বিশাল অঙ্কের মামলাটি করেন তিনি। কিন্তু মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের অংশ হিসেবে নির্ধারিত জবানবন্দিতে ট্রাম্প হাজির হননি। তাঁর আইনজীবীরা বিবিসিকে জানান, "জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য কাজের" কারণে ট্রাম্প এখন সাক্ষ্য দিতে পারবেন না এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারির আগে তাঁর পক্ষে সময় দেওয়া সম্ভব নয়—যদিও চলতি বছরের ডিসেম্বরেই এই পর্ব শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। বিবিসি আদালতকে জানিয়েছে, যিনি নিজেই মামলা করেছেন, তাঁকে অংশ নেওয়ানোর জন্য বারবার আদালতের হস্তক্ষেপ লাগা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। মামলাটি দায়ের করার মাধ্যমে তিনি যে আইনি বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করেছিলেন, তা ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দিয়েছেন বিবিসির আইনজীবীরা। আগামী ২২ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানির পর জানা যাবে ট্রাম্প বা তাঁর আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আদালত কোনো শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে কি না। উল্লেখ্য, এই মামলার অংশ হিসেবে ট্রাম্পের সন্তান ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, ইভানকা ট্রাম্প এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের জবানবন্দিও চেয়েছে বিবিসি। সিক্রেট সার্ভিস সুরক্ষার কারণে এতদিন ব্যক্তিগতভাবে সমন জারি করা না গেলেও আদালত বিকল্প উপায়ে সমন পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। তবে সাবেক হোয়াইট হাউস সহকারী ক্যাসিডি হাচিনসনের সাক্ষ্য নেওয়ার আবেদনটি আদালত খারিজ করে দিয়েছে। এদিকে বিবিসির বিতর্কিত সম্পাদনার জন্য তারা ট্রাম্পের কাছে আগেই দুঃখ প্রকাশ করেছিল, তবে মানহানির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি।
'বারবার নিয়ম লঙ্ঘনের' অভিযোগ তুলে আফগানিস্তানের বিভিন্ন এফএম রেডিও কেন্দ্র থেকে বিবিসির সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান সরকার। দেশটির তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খুবাইব ঘুফরান স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেশজুড়ে বিবিসি রেডিওর কার্যক্রম স্থগিতের এই সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করেছেন। এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞার পর এক বিবৃতিতে বিবিসি জানিয়েছে, আফগানিস্তানের লাখো মানুষ নির্ভরযোগ্য সংবাদ ও তথ্যের জন্য তাদের ওপর নির্ভর করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানে তারা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। তবে এফএম সম্প্রচার বন্ধ থাকলেও পশতু, দারি ও ইংরেজি ভাষায় নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সংবাদ পরিবেশন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ এই সংবাদমাধ্যমটি। বর্তমানে শর্টওয়েভ, মিডিয়াম ওয়েভ, অনলাইন এবং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আফগান শ্রোতাদের জন্য তাদের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে। বিবিসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আফগানিস্তানের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশেরও বেশি মানুষ প্রতি সপ্তাহে তাদের সংবাদ ও অন্যান্য অনুষ্ঠান শুনে থাকেন। এসব আয়োজনের মধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত আফগান মেয়েদের জন্য বিশেষ শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানও রয়েছে। ১৯৮১ সালে দেশটিতে কার্যক্রম শুরু করা বিবিসিই ছিল আফগানিস্তানে সম্প্রচার চালানো একমাত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার পর এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান পুনরায় ক্ষমতা দখলের পর থেকেই আফগানিস্তানের গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। সম্প্রচারে যেকোনো ধরনের সংগীত নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি পর্দায় নারীদের উপস্থিতিও চরমভাবে সীমিত করা হয়েছে; বর্তমানে নারী ও পুরুষ সংবাদকর্মীদের একসঙ্গে কোনো সংবাদ বা অনুষ্ঠানে দেখা যায় না। বিদ্যুৎ সংকট, ইন্টারনেটের চড়া মূল্য এবং স্বল্প সাক্ষরতার হারের কারণে দেশটিতে সাধারণ মানুষের কাছে তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে রেডিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম।
ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে করা এক হাজার কোটি ডলারের মানহানি মামলায় নতুন আইনি লড়াই শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মামলার অংশ হিসেবে নিজের ব্যবসা ও সম্পদের আর্থিক নথি বিবিসির হাতে তুলে দেওয়ার আদালতের নির্দেশ স্থগিত করতে তিনি জরুরি আবেদন করেছেন। মার্কিন আদালতের নথি অনুযায়ী, ট্রাম্পের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, বিবিসি মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে এবং প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি আর্থিক তথ্য চাচ্ছে। তাদের ভাষ্য, এসব নথি প্রকাশ পেলে ট্রাম্প ও তার পারিবারিক ব্যবসার অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। বিতর্কের সূত্রপাত ২০২৪ সালে প্রচারিত বিবিসির একটি তথ্যচিত্রকে ঘিরে। ট্রাম্পের অভিযোগ, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির বক্তব্য সম্পাদনার মাধ্যমে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যাতে মনে হয় তিনি ক্যাপিটল ভবনে হামলাকে উসকে দিয়েছেন। এ কারণে তার ব্যক্তিগত সুনাম ও ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে দাবি করে তিনি এক হাজার কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেন। বিবিসি সম্পাদনায় ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও মানহানির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত জুলাইয়ে ফ্লোরিডার এক বিচারক রায় দেন, ট্রাম্প যেহেতু ব্যবসায়িক ক্ষতির দাবি তুলেছেন, তাই সেই দাবির সত্যতা যাচাই করতে তার আর্থিক নথি বিবিসির দেখার অধিকার রয়েছে। ওই আদেশ অনুযায়ী ট্রাম্পের পারিবারিক ট্রাস্টের অধীন শত শত প্রতিষ্ঠানের আয়, সম্পদ ও আর্থিক তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে নতুন আবেদনে ট্রাম্পের আইনজীবীরা মামলার কৌশল পরিবর্তনেরও অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা আদালতকে বলেছেন, মামলাটি মূলত আর্থিক ক্ষতির নয়, বরং ব্যক্তিগত সুনামের ক্ষতির ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে নেওয়া হবে। তাদের যুক্তি, এতে এত বিস্তৃত আর্থিক নথি চাওয়ার প্রয়োজন থাকবে না। অন্যদিকে বিবিসির আইনজীবীরা আদালতে বলেছেন, ট্রাম্প নিজেই যখন বিপুল আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন, তখন সেই দাবির ভিত্তি যাচাই করতে আর্থিক নথি অপরিহার্য। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন রেখে এত বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এখন আদালত ট্রাম্পের জরুরি আবেদন গ্রহণ করবেন কি না, সেটিই এই মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আদালত আবেদন খারিজ করলে ট্রাম্পকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তার আর্থিক নথি জমা দিতে হতে পারে, যা মামলার গতিপথে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা চলমান থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমি বিবিসিকে এবিসির চেয়ে বেশি পছন্দ করি।” এ মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা করেন। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের একটি তথ্যচিত্রে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ভাষণের সম্পাদিত অংশ এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যাতে মনে হয় তিনি ক্যাপিটল হামলায় সমর্থকদের উসকে দিয়েছিলেন। পরে বিবিসি স্বীকার করে যে তথ্যচিত্রে ব্যবহৃত সম্পাদনায় ভুল ছিল এবং এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করে। তবে সম্প্রচারমাধ্যমটি দাবি করে, সেটি ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং ট্রাম্পের মামলার আইনগত ভিত্তি নেই। বর্তমানে মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচারাধীন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় সংবাদমাধ্যম—বিশেষ করে এবিসি, সিবিএস, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল—এর সমালোচনা করে আসছেন এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বিবিসির সঙ্গে আইনি বিরোধ চললেও ট্রাম্পের এই মন্তব্য মূলত মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসির সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এসেছে, যেখানে তিনি তুলনামূলকভাবে বিবিসিকে ইতিবাচকভাবে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং প্রাচীন গণমাধ্যম ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (বিবিসি) তাদের কর্মী বাহিনীতে বড় ধরনের কাটছাঁটের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। খরচ কমানোর অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২,০০০ কর্মী ছাঁটাই করতে যাচ্ছে। গত ১৫ বছরের মধ্যে এটিই বিবিসির সবচেয়ে বড় আকারের কর্মী কমানোর ঘটনা। বুধবার বিকেলে এক অভ্যন্তরীণ সভায় কর্মীদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২১,৫০০ জন নিয়মিত কর্মী কাজ করছেন, যার মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ বা ২,০০০ কর্মী চাকরি হারাবেন। আগামী তিন বছরের মধ্যে বিবিসির বার্ষিক খরচ অন্তত ১০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী মাসে বিবিসির নতুন মহাপরিচালক (ডিরেক্টর জেনারেল) হিসেবে গুগল-এর সাবেক নির্বাহী ম্যাট ব্রিটিন দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তাঁর কার্যভার গ্রহণের ঠিক আগ মুহূর্তে এই ব্যাপক পরিবর্তনের ঘোষণা এলো। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিবিসি ৬০০ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয়ের একটি বিশাল পরিকল্পনা উন্মোচন করেছিল। বিবিসি এক বিবৃতিতে জানায়, "দ্রুত পরিবর্তনশীল মিডিয়া বাজারে আমরা ক্রমাগত আর্থিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছি। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো বিবিসিকে আরও উৎপাদনশীল করে তোলা এবং দর্শকদের উন্নতমানের সেবা নিশ্চিত করা।" এদিকে, এই বড় আকারের ছাঁটাইয়ের খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কর্মীদের সংগঠন ‘বেকটু’ (Bectu)। তারা আশঙ্কা করছে, একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক অভিজ্ঞ কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে বিবিসির বিশ্বখ্যাত সংবাদ পরিবেশন এবং পাবলিক মিশনের গুণগত মান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।