সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বিমান নিরাপত্তা

জীবন বাজি রেখে বিমান রক্ষা, ভারতীয় পাইলটকে বিশেষ সম্মান দিতে চান নেতানিয়াহু
জীবন বাজি রেখে বিমান রক্ষা, ভারতীয় পাইলটকে বিশেষ সম্মান দিতে চান নেতানিয়াহু

আকাশে উড়ন্ত বিমানে সহ-পাইলটের হামলার শিকার হয়েও ককপিটের দরজা খুলে যাত্রীদের সহায়তায় সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা ঠেকানো ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে ইসরায়েলে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁকে ‘সত্যিকারের নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করে আগামী বছরের ইসরায়েলি স্বাধীনতা দিবসের জাতীয় অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক মশাল জ্বালানোর আমন্ত্রণও জানিয়েছেন তিনি।   ৩ অক্টোবর নেতানিয়াহু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন মচ্ছরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ভারত ও ইসরায়েলের সাহসী জনগণের পাশাপাশি পুরো বিশ্বের কাছেই মচ্ছর একজন নায়ক। নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে ওই ফোনালাপের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। নেতানিয়াহু জানান, মচ্ছর ও নরেন্দ্র মোদিকে আগামী মে মাসে ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের জাতীয় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে দেখতে চান তিনি। অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বালনের দায়িত্ব সাধারণত ইসরায়েলি নাগরিকদের দেওয়া হলেও মচ্ছরের সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই বিশেষ সম্মান দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।   ঘটনাটি ঘটে ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে। উড়োজাহাজটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। মাঝ আকাশে ওমানের নাগরিক সহ-পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেন মচ্ছরের ওপর হামলা চালান। মচ্ছর গুরুতর আহত হলেও শেষ পর্যন্ত ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও ক্রুরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে।   হামলার বিষয়ে মচ্ছর নেতানিয়াহুকে জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে সহ-পাইলট নামাজ পড়ার জন্য সময় চেয়েছিলেন। বিষয়টি তাঁর কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়নি। সহ-পাইলট প্রার্থনায় ব্যস্ত থাকায় তিনি সম্মান দেখিয়ে সামনে তাকিয়ে ছিলেন এবং পেছনে কী ঘটছে তা খেয়াল করেননি। মচ্ছরের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মিনিট পর হঠাৎ তাঁর মাথার পেছনে প্রচণ্ড আঘাত লাগে। প্রথমে তিনি মনে করেছিলেন, সম্ভবত বিমানের কোনো গুরুতর সমস্যা হয়েছে। কিন্তু পরপর আরও আঘাত আসতে থাকায় তিনি বুঝতে পারেন, বিমানের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং ককপিটে থাকা সহ-পাইলটই তাঁকে আক্রমণ করছেন।   সংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্তকারীরা পরে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সহ-পাইলট ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে মচ্ছরের ওপর হামলা করেছিলেন। তবে হামলার উদ্দেশ্য ও এর পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আহত অবস্থায় মচ্ছর ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। তাঁর স্মৃতি পুরোপুরি পরিষ্কার না থাকলেও তিনি জানান, একপর্যায়ে দরজা খুলতে সক্ষম হলেও সহ-পাইলট সেটি আবার বন্ধ করে দেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, দরজা না খুলতে পারলে নিজের পাশাপাশি বিমানের অন্য সবার জীবনও চরম ঝুঁকিতে পড়বে।   মচ্ছর নেতানিয়াহুকে বলেন, তাঁর মনে হয়েছিল এটিই হয়তো বাঁচার শেষ সুযোগ। নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে তিনি আবার দরজার দিকে এগিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত সেটি খুলতে সক্ষম হন। দরজার বাইরে থাকা যাত্রী ও ক্রুরা তখন দ্রুত ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। এই ঘটনার সময় বিমানটি হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে নিচের দিকে নেমে যায়। পরে যাত্রী ও ক্রুদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অন্য পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুকে অবতরণ করান। ঘটনাটিতে মচ্ছর গুরুতর আহত হন এবং তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।   মচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। একই ঘটনায় ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারাও ভারতীয় পাইলটের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম হাসপাতালে মচ্ছরের সঙ্গে দেখা করে তাঁর সাহসিকতার জন্য প্রশংসা করেন বলে খালিজ টাইমস জানিয়েছে। এদিকে ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সহ-পাইলট কীভাবে এই ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেন এবং তাঁর অতীত সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো সতর্কতামূলক তথ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে তাঁর অতীত, হামলার উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে তদন্ত করছে।   ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার পূর্ণ উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। তবে গুরুতর আহত অবস্থায় ক্যাপ্টেন মচ্ছরের ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তই যাত্রী ও ক্রুদের দ্রুত হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করে এবং সম্ভাব্য বড় বিপর্যয় এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   সূত্র: এএফপি

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। ছবি: সংগৃহীত
মাঝ আকাশে বিমানে হামলা, পাইলটের সাহসিকতায় রক্ষা পেলেন ১৮০ যাত্রী

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহ-পাইলটের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ভারতীয় নাগরিক ও ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। মঙ্গলবারের ওই ঘটনায় তিনি হামলাকারীকে ঠেকানোর পাশাপাশি ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার সুযোগ করে দেন, যাতে বিমানের যাত্রী ও অন্য সদস্যরা ভেতরে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারেন। পরে দায়িত্বের বাইরে থাকা দুই পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করান।   ভারতীয় ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্মিত মাচ্ছারের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার ঘণ্টা উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা থাকা এই পাইলট ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থা স্পাইসজেটে প্রায় ১১ বছর কাজ করেছেন। মঙ্গলবারের ঘটনার পর তার ভূমিকার কারণে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   ঘটনার সময় বিমানটি ইসরায়েলের উদ্দেশে যাচ্ছিল। উড্ডয়নের একপর্যায়ে সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের ওপর হামলা করেন বলে কর্মকর্তাদের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এতে তিনি একাধিকবার আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সক্রিয় করতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও অন্যরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।   ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান রয়টার্সকে জানান, আহত অবস্থায় মাচ্ছার তার অবশিষ্ট শক্তি ব্যবহার করে ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারী তখন বিমানের নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের সামনে অবস্থান করছিলেন এবং সেটিতে আঘাত করছিলেন। কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই সময় বিমানটির নিয়ন্ত্রণে গুরুতর সমস্যা তৈরির আশঙ্কা ছিল।   ঘটনার পর বিমানে থাকা দুই দায়িত্বের বাইরে থাকা পাইলট ককপিটে গিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। তাদের সহায়তায় বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে। অবতরণের পর আহত ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হামলাকারীও আহত হয়েছেন এবং তাকেও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে।   ঘটনার পর বিমানের ভেতরের কিছু দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মাচ্ছারকে অক্সিজেন মাস্ক পরা অবস্থায় আহত অবস্থায় দেখা যায়। যাত্রীদের কয়েকজনও রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব দৃশ্যের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   ফ্লাইটের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় বিমানটি মাত্র ১২ মিনিটে প্রায় ১৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারায়। তীব্রভাবে উচ্চতা কমে যাওয়ার সময় বিমানের রাডারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোন পর্যায়ে এই ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।   হামলার ঘটনায় সহ-পাইলটকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে ওমানের নাগরিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এক বছরেরও কম সময় আগে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দিয়েছিলেন বলে জেরুজালেম পোস্টকে সূত্র জানিয়েছে। তবে তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হবে এবং হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   ঘটনাটিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার দিক থেকেও তদন্ত করছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য বা এর সঙ্গে কোনো সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।   ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের বর্তমান শারীরিক অবস্থাও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। হামলার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তার আঘাত কতটা গুরুতর এবং বর্তমানে তিনি কেমন আছেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।   বিমানটিতে মোট ১৮০ জন ছিলেন বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ককপিটে হামলার পর যাত্রীদের কয়েকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। তাদের ভূমিকার পাশাপাশি দায়িত্বের বাইরে থাকা দুই পাইলটের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয় বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   বিমানে এমন ঘটনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক হলেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে ককপিটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ক্রুদের প্রশিক্ষণ এবং যাত্রীদের জরুরি ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফ্লাইদুবাইয়ের এই ঘটনার তদন্তে হামলার সঠিক কারণ, ককপিটে কীভাবে পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   সূত্র: রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
উড়োজাহাজের ভেতরে উচ্চস্বরে ধর্মপ্রচার ও যাত্রীদের বিরক্ত করার ঘটনায় দুই ধর্মযাজককে জরিমানা করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত। ছবি: সংগৃহীত
‘যিশুকে বিশ্বাস না করলে নরকে যাবেন’, ফ্লাইটে যাত্রীদের ভয় দেখিয়ে ধর্মপ্রচার, দুই যাজকের শাস্তি

দক্ষিণ কোরিয়ায় উড়োজাহাজের ভেতরে উচ্চস্বরে ধর্মপ্রচার এবং যাত্রী ও কেবিনকর্মীদের বারবার সতর্কতা উপেক্ষা করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে দুই ধর্মযাজককে জরিমানা করেছেন আদালত। দুজনকেই ১০ লাখ কোরিয়ান ওন করে জরিমানা করা হয়েছে।   ১৮ আগস্ট দেওয়া রায়ে সিউল সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক সিও জি-ওন ৬৪ ও ৬৮ বছর বয়সী দুই ধর্মযাজককে বিমান নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ জেজু থেকে গিমপোগামী একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। আদালতের নথি অনুযায়ী, বিমানটি জেজু বিমানবন্দর থেকে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে গিমপোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার পর ৬৪ বছর বয়সী এক ধর্মযাজক আসন ছেড়ে বিমানের মাঝের পথ বা আইলে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের উদ্দেশে উচ্চস্বরে ধর্মীয় বক্তব্য দিতে শুরু করেন।   কেবিনকর্মীরা তাকে বারবার আসনে ফিরে যেতে এবং বক্তব্য বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু তিনি তাদের নির্দেশ উপেক্ষা করে যাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, যিশুকে বিশ্বাস না করলে তারা নরকে যাবেন। এরপর তার সঙ্গে থাকা ৬৮ বছর বয়সী আরেক ধর্মযাজকও একইভাবে বিমানের আইল ধরে হাঁটতে হাঁটতে উচ্চস্বরে ধর্মীয় কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ‘হ্যালেলুজাহ’ বলে যাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, তারাও নরকে যাবেন।   বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন যাত্রী আপত্তি জানান। কেবিনকর্মীরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু দুই ধর্মযাজক তাদের কথায় কর্ণপাত করেননি। একজন কেবিনকর্মী সতর্ক করতে এগিয়ে গেলে তিনি পাল্টা তাকে উপদেশ না দিতে বলেন। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, যাত্রী ও কেবিনকর্মীদের আপত্তি ও বারবার সতর্কতার পরও প্রায় ১৩ মিনিট ধরে তাদের এই আচরণ চলতে থাকে। পরে আদালতে দুই ধর্মযাজক অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি ছিল, বিমানে তাদের আচরণ আইন অনুযায়ী ‘বিশৃঙ্খল আচরণ’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মতো ছিল না। একই সঙ্গে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাননি বলেও দাবি করেন।   তবে আদালত তাদের সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। রায়ে বলা হয়, আইনসম্মতভাবে সংগ্রহ ও যাচাই করা প্রমাণের ভিত্তিতে দুই আসামির বিশৃঙ্খল আচরণ এবং তা করার অভিপ্রায় দুটিই প্রমাণিত হয়েছে। ফলে তাদের বিমান নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার বিমান নিরাপত্তা আইনে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এমন আচরণ নিষিদ্ধ। এর মধ্যে কেবিনে উচ্চস্বরে চিৎকার, নির্দেশ অমান্য করা, অন্য যাত্রীদের বিরক্ত বা বিপদে ফেলা এবং অন্যান্য বিশৃঙ্খল আচরণ অন্তর্ভুক্ত।   আইন অনুযায়ী, কোনো যাত্রী বিমানের ভেতরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গেলে পাইলট ও কেবিনকর্মীরা তাকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। প্রয়োজন হলে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র বা বাঁধার সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাকে নিয়ন্ত্রণ ও আলাদা করা যায়। বিমান অবতরণের পর সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে তদন্তও করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবেও বিমানে যাত্রীদের এমন আচরণকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা, আইসিএওর সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো যাত্রী বিমানবন্দর বা উড়োজাহাজে নির্ধারিত আচরণবিধি মেনে না চললে কিংবা বিমানবন্দরকর্মী বা কেবিনকর্মীদের নির্দেশ উপেক্ষা করে সুশৃঙ্খল পরিবেশ ব্যাহত করলে তাকে বিশৃঙ্খল যাত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   বিমানে যাত্রীদের এমন আচরণ যে এখনো বৈশ্বিকভাবে বড় সমস্যা, তারও ইঙ্গিত মিলেছে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা, আইএটিএর পরিসংখ্যানে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ১৪০টির বেশি বিমান পরিচালনাকারী সংস্থার কাছ থেকে ৯৩ হাজার ১০৭টি বিশৃঙ্খল যাত্রী আচরণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। ওই হিসাবে প্রতি ৩৫৫টি ফ্লাইটে প্রায় একটি এমন ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানের কেবিনে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে কেবিনকর্মীদের নির্দেশ মানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় বিশ্বাস বা ব্যক্তিগত মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও চলন্ত বিমানে অন্য যাত্রীদের অসুবিধায় ফেলে বা কেবিনের শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে এমন আচরণ আইনগত পরিণতি ডেকে আনতে পারে।   দক্ষিণ কোরিয়ার এই ঘটনায় আদালতের জরিমানা তাই শুধু দুই ধর্মযাজকের আচরণের বিচার নয়, উড়োজাহাজের ভেতরে যাত্রীদের আচরণ ও কেবিনকর্মীদের নির্দেশ মানার বিষয়টিকেও আবার সামনে এনেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
নিরাপত্তাজনিত কারণে শেষ মুহূর্তে বাতিল হয় ফ্লাইট। ছবি: সংগৃহীত
সিটবেল্ট না বাঁধায় এক শিশুর কারণে বাতিল পুরো ফ্লাইট, ভোগান্তিতে শতাধিক যাত্রী

কানাডায় উড্ডয়নের ঠিক আগে এক শিশুর সিটবেল্ট না বাঁধাকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিধি মেনে শিশুটিকে সিটবেল্ট পরানো সম্ভব না হওয়ায় বিমানটি টার্মিনালে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পরে রানওয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেদিন আর ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। ফলে যাত্রীদের পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।   সিটিভি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভিক্টোরিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেদিন পোর্টার এয়ারলাইন্সের পিডি৪৪৪ ফ্লাইটটি টরন্টোর উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিমানটি টার্মিনাল ছেড়ে রানওয়ের দিকে যাওয়ার পর কেবিন ক্রুরা দেখতে পান, এক শিশু নিজের আসনে দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং সিটবেল্ট বাঁধতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী উড্ডয়নের সময় প্রত্যেক যাত্রীর সিটবেল্ট বাঁধা বাধ্যতামূলক।   এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জানান, শিশুটির বাবা-মা এবং কেবিন ক্রুরা তাকে সিটবেল্ট পরানোর একাধিক চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি সম্ভব না হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানটি টার্মিনালে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পোর্টার এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে জানায়, নিরাপদ অবস্থায় না থাকায় বিমানটি উড্ডয়ন করতে পারেনি। তাই সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারকে বিমান থেকে নামানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।   তবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে রাত সাড়ে ১২টার বেশি বেজে যায়। ওই সময়ের পর ভিক্টোরিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেদিন আর ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ ছিল না। ফলে যাত্রীদের রাতটি ভিক্টোরিয়াতেই কাটাতে হয়। পরদিন শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৯ মিনিটে একই ফ্লাইট আবার যাত্রা শুরু করে এবং নির্ধারিত গন্তব্য টরন্টোতে পৌঁছে।   ঘটনার পর যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে পোর্টার এয়ারলাইন্স। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উড্ডয়নের ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি এমন প্রথম ঘটনা নয়। গত মাসেও সুইডেনগামী একটি ফ্লাইটে এক শিশুকে সিটে বসিয়ে সিটবেল্ট পরানো না যাওয়ায় উড্ডয়ন বিলম্বিত হয়েছিল। সেই ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট শিশুদের আচরণ অনেক সময় অনিশ্চিত হতে পারে। তবে বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী সিটবেল্ট সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কোনো যাত্রী, বিশেষ করে শিশু, নিরাপদ অবস্থানে না থাকলে বিমান উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয় না।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০