বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি এবং আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার দিকে ধীরে ধীরে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে জাতীয় সংসদ ভবনের এক মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম। এতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই উদ্যোগ কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নয়, এটি বাংলাদেশের টেকসই ভবিষ্যতের একটি প্রতীক। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদ ভবনের ছাদে সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, নেতৃত্ব শুধু নীতিতে নয়, বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হতে হবে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি সম্প্রসারিত হচ্ছে, শিল্পায়ন বাড়ছে এবং বিদ্যুতের চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বর্ষণ, ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক ঝুঁকি দেশের বাস্তবতা। তাই টেকসই জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়া এখন অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, বাংলাদেশে সৌরশক্তির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের ছাদ, শিল্পাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সিটি করপোরেশনগুলোতে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি ইতোমধ্যে ১২টি সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে সম্ভাব্য ১২ জন প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ক্ষেত্রে তরুণ নেতৃত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্যের অংশ হিসেবে অংশ নেয় জামায়াত। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে সিটি করপোরেশনে দলটি এককভাবেই অংশ নিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন নেতারা। দলীয় সূত্রগুলো জানায়, একসময় কেবল রুকনদের মনোনয়ন দেওয়া হলেও এখন সেই নীতিতে পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে কর্মী-সমর্থক এমনকি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই নীতি অনুসরণ করা হতে পারে। এবারের নির্বাচনে তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার পরিকল্পনা করেছে দলটি। ২০২৪ সালের ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এই পরিকল্পনায়। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ১০ মে বলেন, “পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়ে অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে জোটের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে, তবে সিটি করপোরেশনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।” দলটির আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটভুক্ত দলগুলো নিজ নিজ প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। ইতোমধ্যে চারটি সিটিতে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে দলের মহানগর আমির আবদুল জব্বারকে প্রার্থী করা হচ্ছে। গাজীপুরে প্রার্থী হচ্ছেন তুরস্কপ্রবাসী শিক্ষাবিদ ও ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা হাফিজুর রহমান। চট্টগ্রামে সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী এবং রংপুরে মহানগর আমির এ টি এম আজম খানকে প্রার্থী করা হচ্ছে। ঢাকার দুই সিটিতেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে। ঢাকা উত্তরে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমের নাম আলোচনায় রয়েছে। দক্ষিণ সিটিতে আবু সাদিক কায়েমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হলেও দলীয় নেতারা বলছেন, নির্বাচনের সময় তাঁর ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাবে এবং প্রার্থী হতে সাংগঠনিক কোনো বাধা থাকবে না। জামায়াত সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণে জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে প্রার্থী করার প্রস্তাব ছিল। তবে দলটির শীর্ষ পর্যায়ে এ প্রস্তাবে আপত্তি ওঠে। এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তাঁর কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁকে সমর্থন দিলে রাজনৈতিক দায়ভার আমাদের ওপর আসতে পারে।” জামায়াত নেতাদের মতে, অতীতে চার–দলীয় জোটে থেকেও আলাদাভাবে নির্বাচন করে তুলনামূলক ভালো ফল পাওয়া গিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এবার এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী তারা। নিজেদের জনসমর্থন বেড়েছে বলেও মনে করছেন নেতারা। এদিকে ১১–দলীয় ঐক্যের আরেক শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টিও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকার দুই সিটিসহ পাঁচ সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি। পাশাপাশি শতাধিক উপজেলা ও পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে জোটগতভাবে নির্বাচন হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে জামায়াত সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসও জোরদার করেছে। সারা দেশকে ১৪টি অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চল পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রার্থী যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন এবং গণসংযোগ শুরু হবে। ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। জামায়াত দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, বর্তমানে প্রশাসক দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করছে না। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা। স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে ভিন্ন সময়সীমার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এক সদস্য বলেছেন, ঈদের পর থেকে সারা বছর নির্বাচন চলতে পারে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে মাঠ গোছাতে শুরু করেছে। শেষ পর্যন্ত জোটগত সমঝোতা হবে কি না, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের তফসিল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর প্রণীত জবাবদিহি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া একাধিক সংস্কার বাতিল বা স্থগিত করেছে বাংলাদেশের নতুন সংসদ। এতে করে গণতান্ত্রিক অগ্রগতি থেকে দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে কি না- তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ ও বিশ্লেষকেরা। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা বিএনপি-প্রধান নতুন সংসদ সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সেই অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর দায়িত্ব নিয়েছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এসব অধ্যাদেশের মধ্যে ১১০টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে- কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনসহ। তবে অন্তত ২৩টি অধ্যাদেশ বাতিল হয়েছে বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পাওয়ায় অকার্যকর হয়ে গেছে। এর মধ্যে মানবাধিকার, বিচারব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন ও পুলিশ সংস্কারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধানও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, বাতিল হওয়া এসব অধ্যাদেশ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিরোধী দলগুলোর দাবি, এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সংস্কারের মূল কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং ক্ষমতা আবার কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তবে সরকার বলছে, এটি সংস্কার বাতিল নয়; বরং আইনগুলো আরও পরিপূর্ণ ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা। আলোচনার মাধ্যমে সংশোধিত আইন পুনরায় আনা হবে বলেও জানিয়েছে তারা। পটভূমি: আন্দোলন থেকে সংস্কার ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্রদের নেতৃত্বে গণআন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। দীর্ঘদিনের স্বেচ্ছাচারিতা, মতপ্রকাশের দমন, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে। এরপর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ নামে একটি সংস্কার কাঠামো প্রণয়ন করে, যাতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, নির্বাচনব্যবস্থা ও বিকেন্দ্রীকরণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৬ সালের নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ সমর্থন পায় এই চার্টার। তবে সংসদ না থাকায় অন্তর্বর্তী সরকার পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করতে পারেনি; পরিবর্তে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অধ্যাদেশ জারি করে। সংবিধান অনুযায়ী, এসব অধ্যাদেশ নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন বা বাতিল করতে হয়। মানবাধিকার কমিশন: কী পরিবর্তন হলো বাতিল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোর একটি ছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) সংক্রান্ত। ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে কমিশনকে আরও স্বাধীন ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত, নির্দিষ্ট সময়সীমা, ক্ষতিপূরণ ও প্রশাসনিক স্বাধীনতার বিধান ছিল। কিন্তু তা বাতিল হওয়ায় ২০০৯ সালের পুরোনো আইন পুনর্বহাল হয়েছে, যেখানে কমিশনের ক্ষমতা সীমিত। সরকার বলছে, ওই অধ্যাদেশে আইনি অস্পষ্টতা ছিল। তবে সাবেক কমিশনারদের অভিযোগ, সরকারের যুক্তি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। গুমের আইনগত স্বীকৃতি: শূন্যতা তৈরি গুমের ঘটনাকে আলাদা অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার উদ্যোগও বাতিল হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কমিশন ১ হাজার ৯০০-এর বেশি অভিযোগ পায়, যার মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুমকে স্পষ্টভাবে আইনে সংজ্ঞায়িত না করলে বিচার প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দায়মুক্তির ঝুঁকি তৈরি হয়। বিচার বিভাগীয় সংস্কার বাতিল হওয়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছিল সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন সচিবালয় গঠন এবং বিচারক নিয়োগে নতুন পদ্ধতি চালু করা। এর লক্ষ্য ছিল নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমানো। এসব প্রস্তাব বাতিল হওয়ায় আগের ব্যবস্থাই বহাল থাকছে। সরকারের অবস্থান: ‘পুনর্মূল্যায়ন, বাতিল নয়’ সরকার বলছে, স্বল্প সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা কঠিন ছিল। তাই কিছু আইন পরে আলোচনা করে পুনরায় আনা হবে। আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধান হুইপের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আইনগুলো আরও পরিশীলিত করে পুনরায় প্রণয়ন করা হবে। বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া বিরোধী দলগুলোর মতে, এটি সংস্কারের পথ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত। তাদের দাবি, গণভোটে জনগণের যে প্রত্যাশা প্রকাশ পেয়েছিল, তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি কেবল আইন বাতিল নয়; বরং ক্ষমতার কাঠামো পুনর্গঠনের প্রশ্ন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এসব পদক্ষেপ জবাবদিহি ও ক্ষমতার ভারসাম্য দুর্বল করতে পারে। এতে করে আগের মতোই নির্বাহী বিভাগের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তারা এটিও মনে করেন, সরকার চাইলে আলোচনার মাধ্যমে সংস্কারগুলো আরও শক্তিশালী করে ফিরিয়ে আনার সুযোগ এখনো রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে এম আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর দীর্ঘ সময় দেশে আত্মগোপনে থেকে নানা ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে তাকে। পরে সুযোগ পেয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান, যেখানে তার পরিবার আগে থেকেই অবস্থান করছিল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইম টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ২৩ জুলাই তিনি নিউইয়র্কে ছিলেন এবং ২৯ জুলাই ঢাকায় ফেরেন। এর কিছুদিন পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। সে সময় তিনি প্রথমে নিজ বাসায় থাকলেও পরে নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। মোমেনের ভাষ্য অনুযায়ী, তার সরকারি বাসভবন ও পারিবারিক বাড়িতে দখল, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকায় তিনি আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে না গিয়ে গোপনে বিভিন্ন ভাড়াবাসায় অবস্থান নেন। এসব বাসা মূলত গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের, যেগুলো বিদেশি ক্রেতাদের জন্য প্রস্তুত রাখা থাকত; তবে তখন বিদেশি ক্রেতারা না আসায় সেগুলো খালি ছিল। তিনি জানান, আত্মগোপনে থাকার সময় চার থেকে পাঁচটি বাসা পরিবর্তন করেন এবং ট্র্যাকিং এড়াতে ছয়টি মোবাইল ফোন ও নম্বর পরিবর্তন করেন। বেশিরভাগ সময় রাতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতেন, কালো কাচযুক্ত গাড়ি ব্যবহার করতেন এবং পরিচয় গোপন রাখতে চেহারায়ও পরিবর্তন আনেন চুল কেটে ফেলা, দাড়ি রাখা ইত্যাদি। সাবেক এই মন্ত্রী আরও দাবি করেন, ওই সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়, যেগুলোকে তিনি ‘বানোয়াট’ উল্লেখ করে বলেন, এসবের পেছনে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তিনি জানান, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কারও সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না রেখে সহকর্মীদের মাধ্যমে চলাফেরা করতেন। তিনি বলেন, “আমি কোনো আত্মীয়ের বাসায় যাইনি। পরিচিতদের কাছে গেলে ঝুঁকি বাড়ত। তাই ভাড়া বাসায় গোপনে থেকেছি।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশের ভেতরে অনেকেই তখন একইভাবে আত্মগোপনে ছিলেন এবং কেউ কেউ এখনও আছেন। মোমেন জানান, প্রায় আট মাস এভাবে আত্মগোপনে থাকার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যেতে সক্ষম হন। তবে কীভাবে দেশ ত্যাগ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করতে চান না বলে উল্লেখ করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, “এটা একটা সিনেমার গল্পের মতো। অনেক কষ্ট করে বের হতে হয়েছে।” পাশাপাশি তিনি দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সবাইকে দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে। উল্লেখ্য, সাবেক এই মন্ত্রী সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং প্রয়াত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত-এর ছোট ভাই। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। বিভিন্ন ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলায় তার নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে একাধিক রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী যোগ দিতে যাচ্ছেন। আজ রোববার বেলা দেড়টায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক নেতা-কর্মী আজ এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছেন। এনসিপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আপ বাংলাদেশের প্রধান উদ্যোক্তা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আলী আহসান জুনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত আজ এনসিপিতে যোগ দেবেন। পাশাপাশি এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানী আবদুল হকও যোগ দিচ্ছেন। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, লিগ্যাল সেলের সম্পাদক মাহফুজ, কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইটসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও এনসিপি ও এর সহযোগী সংগঠনে যুক্ত হচ্ছেন। দলীয় সূত্র জানায়, রিফাত রশিদ জাতীয় যুবশক্তি, হাসিব আল ইসলাম জাতীয় ছাত্রশক্তি এবং শাহাদাত হোসেন ও এস এম সুইট এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে যোগ দিচ্ছেন। এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, “এনসিপি একটি বড় রাজনৈতিক দল হতে চায়। যারা বাংলাদেশপন্থা ও সংস্কারের পক্ষে, তাদের জন্য আমাদের দরজা খোলা রয়েছে।” জানা গেছে, ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) থেকে আলী আহসান জুনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন। তারা পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। আপ বাংলাদেশ গঠনের পর রাজনৈতিকভাবে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না থাকায় এবং সাম্প্রতিক ভাঙনের পর তাদের এই সিদ্ধান্ত আসে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এদিকে বিএনপির সাবেক নেতা ইসহাক সরকারও ভবিষ্যতে এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আলোচনা চললেও আজ তিনি যোগ দিচ্ছেন না। আজকের এই যোগদানকে কেন্দ্র করে এনসিপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।
দীর্ঘ ১০ বছর পর চলতি বছরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল। দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও কাউন্সিলের আগে তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন সম্পন্ন করবে দলটি। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কাউন্সিলের পর রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘোষণা দেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর তিনি বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত বোধ করছেন। তিনি বলেন, “আমি খুবই ক্লান্ত। আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে। কাউন্সিলের পর রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চাই। আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে এবং আমি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।” তার এই ঘোষণার পর আসন্ন কাউন্সিলে মহাসচিব পদে নতুন মুখ আসার বিষয়টি নিশ্চিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১১ সাল থেকে টানা পাঁচ বছর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দলের কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মির্জা ফখরুল ১৯৬০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবেও তিনি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে কাউন্সিলের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। কাউন্সিলের মাধ্যমেই বিএনপির নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন করে জটিল সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশকে ঘিরে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সক্রিয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক তৎপরতা, নিরাপত্তা বিবেচনা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা- পরিস্থিতি ক্রমেই বহুমাত্রিক রূপ নিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঘিরে বিশেষায়িত বাসভবন নির্মাণের পরিকল্পনার খবর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে সম্ভাব্য বাসভবনে বাংকার ও সুড়ঙ্গ রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে এটিকে নিরাপত্তাজনিত প্রস্তুতি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, বিশ্লেষকদের মতে এর পেছনে রাজনৈতিক বার্তাও থাকতে পারে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর স্থায়ী বাসভবন এখনো নির্ধারিত না হওয়ায় প্রশাসনিক মহলেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সম্ভাব্য স্থান খুঁজছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনায় সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে। এদিকে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে ঘিরে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ই বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় কৌশল গ্রহণ করেছে। নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত দায়িত্ব নেওয়ার পরই চীনের প্রভাব মোকাবিলার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এর জবাবে ঢাকায় চীনা দূতাবাস কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর তৃতীয় কোনো দেশের প্রভাব গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কও নতুন মাত্রা পাচ্ছে। সাম্প্রতিক সফর ও আলোচনাকে সরকার ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরলেও, পর্দার আড়ালে ভিন্ন ধরনের হিসাব-নিকাশ চলছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে পাকিস্তানও আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুনভাবে সক্রিয় হয়ে উঠছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাদের ভূমিকা আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ এখন এক ধরনের ‘কৌশলগত ভারসাম্য’ নীতিতে এগোচ্ছে যেখানে একাধিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এই বহুমুখী কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা সহজ নয় এবং ভবিষ্যতে এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে অপমান করার অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইডিবি) মিলনায়তনে ১১ দলীয় জোটের এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, "বর্তমান সরকারের কাঁধে শেখ হাসিনার ভূত চেপেছে।" ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মামুনুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকাল ছিল জনগণকে নিয়ে উপহাস ও অপমানের ইতিহাস। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান সরকারও কেন জনগণের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে তাদের ‘মূর্খ’ সাব্যস্ত করার মাস্টার সেজে বসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, "সংসদে দাঁড়িয়ে গোটা দেশের জনগণকে মাস্টার সেজে সংবিধান শেখানোর চেষ্টা করবেন না। দাম্ভিকতার একটা সীমা থাকা উচিত।" তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণকে অপমান করার এই প্রবণতা শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদেরই পুনরাবৃত্তি, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, ‘হাদীর খুনি ডিপ স্টেট নয়, এর সঙ্গে জড়িত নাহিদ গং।’ তিনি দাবি করেন, নাহিদরা ডিপ স্টেট–সংক্রান্ত তথ্য গোপন রেখেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন এবং এখন সেই ডিপ স্টেটের কথাই বলছেন। মোমিন মেহেদী বলেন, নাহিদ, আসিফ মাহমুদ, আখতার, হাসনাত, হান্নান, জুমা-জাবের, মেজর জাহাঙ্গীরসহ ইনকিলাব মঞ্চ-এনসিপির শীর্ষ নেতাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। প্রয়োজনে ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু ছাত্রনেতা পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনের আড়ালে দেশবিরোধী শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। মোমিন মেহেদী বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে রাজনৈতিক দলগুলো সংসদে প্রবেশের সুযোগ করে নিয়েছে এবং এর মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে গিয়ে কিছু ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন, যা দেশের জন্য উদ্বেগজনক।
‘জুলাই সনদ’কে ধর্ম, মানবতা ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী। স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার গঠন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর তোপখানা রোডের বিজয় মিলনায়তনে আয়োজিত ‘একাত্তরকে মুছে দিতে কি জুলাই?’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মোমিন মেহেদী অভিযোগ করেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও তাদের সমর্থকেরা ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী একটি রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘জনসুরক্ষা আইন’-এর পরিবর্তে ‘জুলাই সুরক্ষা আইন’ নামে একটি বিল পাস করে জনগণের স্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সভায় তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। মোমিন মেহেদী আরও অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন দিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরি করছে। তিনি বলেন, জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উপেক্ষা করে সংসদে অপ্রাসঙ্গিক ইস্যুতে সময় ব্যয় করা হচ্ছে। সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকট সমাধান এবং জনজীবনের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর নীতি গ্রহণের পরিবর্তে রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ানো হলে তা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হবে।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএসবি নিউজ ইউএসএ দাবি করেছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে সরকারের পতনের আগে ও পরে বিভিন্ন খাতে প্রায় ৩২ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন অনুদানভিত্তিক তথ্যভান্ডার, কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্য এবং উন্মুক্ত নথিপত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বমাধ্যমে ঘটনাকে ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলন’ হিসেবে তুলে ধরা হলেও পর্দার আড়ালে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে অর্থায়নের প্রবাহ চলছিল। বিশেষ করে পতনের কয়েক মাস আগে থেকেই কিছু খাতে অর্থের প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে আরও বলা হয়, এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় করা হয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, নাগরিক সমাজ এবং অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রমে। সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রচারণার নামে এসব অর্থ স্থানীয় বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত অর্থায়নের অংশ, যা তৎকালীন নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ঘটনাকে তরুণদের আন্দোলন হিসেবে দেখার প্রচলিত ধারণার সঙ্গে এই দাবি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী ২ মে তিনি এ সফরে যাবেন। আগে ঘোষণা ছিল, ৩০ এপ্রিল সিলেটে যাওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। তবে সফরের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শনিবার (১১ এপ্রিল) সিলেট সফরকালে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সফরের দিন তারেক রহমান সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিয়া নদী খননকাজের উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করবেন তিনি। এর আগে ১ এপ্রিল সিলেট সফরে গিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী ৩০ এপ্রিল সেখানে যাবেন। তবে পরবর্তীতে সেই সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি সিলেট থেকেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেছিলেন তারেক রহমান। পরে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
'জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬' সংশোধিত আকারে পাশের প্রতিবাদে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে প্রধান বিরোধী দল। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটের দিকে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সংসদ সদস্যরা কক্ষ ত্যাগ করেন। ওয়াকআউটের আগে বিরোধী দলীয় নেতা সরকারি দলের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের এবং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা হারানোর অভিযোগ তোলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশেষ কমিটির বৈঠকের সমঝোতা লঙ্ঘন করে বিলটি পাশ করা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত দুঃখের সাথে এই ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, 'জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিল' পাশের প্রেক্ষাপটে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে দীর্ঘ বিতর্ক চলে। প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও বিলটি পাশ হওয়ায় প্রতিবাদ হিসেবে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা। এই নিয়ে চলতি অধিবেশনে এটি চতুর্থবারের মতো ওয়াকআউটের ঘটনা। এর আগে গতকালও 'গণবিরোধী' বিল পাশের অভিযোগে তারা সংসদ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।
জাতীয় সংসদের ইতিহাসে এক অনন্য ও জরুরি কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে সংসদ অধিবেশন দিনে দুই বেলা বা দুই সেশনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশকে দ্রুততম সময়ে আইনে রূপান্তরের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষায় এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম জানান, বিপুল সংখ্যক বিল পাসের এই বিশাল দায়িত্ব সম্পন্ন করতে আগামীকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) থেকে প্রতিদিন দুই সেশনে অধিবেশন চলবে। এর মধ্যে প্রথম সেশন শুরু হবে সকাল সাড়ে ১০টায় এবং দ্বিতীয় সেশন শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৩টায়। সাধারণত সংসদ অধিবেশন দিনে একবার বসলেও, বিল পাসের এই জরুরি পরিস্থিতির কারণে কার্যপ্রণালীতে এই বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিল পাসের এই কর্মব্যস্ততার কারণে আগামী বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত 'বেসরকারি সদস্য দিবস' বাতিল করা হয়েছে। ওই দিনও সরকারি বিল পাসের কাজ চলবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে আগামী শুক্রবারও সংসদ অধিবেশন চালু রাখার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। মূলত বর্তমান সরকারের আমলে জারিকৃত অধ্যাদেশগুলোকে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে আইন হিসেবে পাস করার আইনি বাধ্যবাধকতা থেকেই এই কঠোর পরিশ্রমী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সংসদীয় ইতিহাসে এত কম সময়ে এত বেশি সংখ্যক বিল পাসের নজির বিরল। সংসদ সচিবালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এখন এই বিলগুলো পাসের চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য কাজ করছে।
আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে , বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল সেটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাশের জন্য সুপারিশ করেছে বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটি। বিশ্লেষকদের মতে, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী অধ্যাদেশটি সংসদে আইন আকারে পাশ হলে এরপর আওয়ামী লীগের যেকোনো কার্যক্রম শুধু নিষিদ্ধই নয়, বরং দলটির সব নেতাকর্মীদেরও বিচারের আওতায় আনা যাবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, অধ্যাদেশটি কিছু সংশোধনীসহ পাশের সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি। প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ কিংবা রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম আইন করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে চিহ্নিত করার পদক্ষেপ দেশের রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে বা আদৌ কোনো প্রভাব ফেলবে কি-না। বিশ্লেষকরা বলছেন, আইন করে একটি দলকে নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে অপরাধ থাকলে আদালতে বিচার কিংবা ভোটের মাধ্যমে জনগণকে দলটিকে প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ দিলে এ নিয়ে প্রতিহিংসার অভিযোগ ওঠার সুযোগ থাকতো না। তাদের মতে, সরকার ও সমমনা দলগুলা এখনো আওয়ামী লীগকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন কিন্তু দল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্যতা পাবার ইতিহাস রাজনৈতিক অঙ্গনে নেই। আওয়ামী লীগে ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় দলটির মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত এক বিবৃতিতে বলেছেন, "বিএনপিকে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পূর্ণ দায় নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এর ফলে যে পরিণতি হবে, তা বিএনপিকেই ভোগ করতে হবে"। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দায় বিএনপির ওপর বর্তাবে কি-না এমন এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি ও সরকারের একটি সূত্র অবশ্য বলছে, 'আইনটি পরে সংশোধনের সুযোগ থাকবে'।প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপি বলেছিল নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় তারা। এ বিষয়ে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। যদিও দলটির নেতারা আবার কেউ কেউ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কথাও বলেছিলেন বিভিন্ন সভা সমাবেশে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সরকারি সিদ্ধান্তে আনন্দ প্রকাশ করে ২০২৫ সালের ১১ই মে বিবৃতি দিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।সংশোধনে কী পরিবর্তন আসছেঅন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ১২ই মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। এ বিষয়ে তখন জারি করা প্রজ্ঞাপনের শেষাংশে তখন বলা হয়েছিল, ".... সরকার যুক্তিসংগতভাবে মনে করে সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর ধারা-১৮(১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটি এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা সমীচীন;সেহেতু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন কর্তৃক যে কোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোনো ধরনের প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো"। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রজ্ঞাপনে কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হলেও নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য কোনো শাস্তির ব্যবস্থা ছিল না। এবার নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদের প্রথম দিনেই নিয়মানুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের জন্য সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ বসার পর ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আগামী ১০ই এপ্রিলের মধ্যে যেসব অধ্যাদেশ আইন আকারে সংসদে পাস না হবে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে তামাদি বা বাতিল হয়ে যাবে। এ বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে উত্থাপনের পর অধ্যাদেশগুলোকে যাচাই বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে সংসদ। সেই কমিটিই তাদের রিপোর্টে পনেরটি অধ্যাদেশকে সংশোধিত আকারে সংসদে বিল উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করেছে। এর একটিই হলো সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫, যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সংসদের বিশেষ কমিটির একটি সূত্র বলছে যে, কমিটিতে সরকারের পক্ষ থেকে এমন একটি মতামত এসেছিল: "কার্যক্রম-নিষিদ্ধ সত্তা নিষেধ অমান্য করলে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বা কী শাস্তি হবে তার উল্লেখ নেই। কার্যক্রম-নিষিদ্ধ সত্তার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সাজা অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। সংশোধিত আকারে সংসদে পাশ করা যেতে পারে"। এখন সংসদ কমিটির রিপোর্টে অধ্যাদেশটি সংশোধিত আকারে বিল হিসেবে উত্থাপনের সুপারিশ করা হলেও কী সংশোধন করা হবে রিপোর্টে তার উল্লেখ করা হয়নি। তবে সরকারের সূত্রগুলো বলছে, সন্ত্রাস বিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের জন্য যেসব সাজার ব্যবস্থা রয়েছে সেটিই আওয়ামী লীগের জন্য প্রযোজ্য হতে যাচ্ছে। এটি সত্যি হলে, দলটির ব্যানারে যে কোনো ধরনের কার্যক্রমের জন্যই দলটির যে কোনো নেতাকর্মীকে শাস্তির আওতায় আনা যাবে। রাজনীতিতে কেমন প্রভাব হবে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পক্ষ নেয় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া তখনকার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তাদের বেশিরভাগই এখন এনসিপির সঙ্গে যুক্ত। তাদের দাবির মুখে অন্তর্বর্তী সরকার ওই বছরেরই নভেম্বরে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছিল। এরপর সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ বিদেশে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের মে মাসে তারা আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ করার দাবি তুললে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে ক্ষমতা হারানোর আগে আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করলেও অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে দেয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদন না করালে এটি আপনা আপনি বাতিল হয়ে যেত এবং আওয়ামী লীগের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতো। কিন্তু অধ্যাদেশটি সংশোধিত আকারে পাশ করানোর পর আওয়ামী লীগ সেই সুযোগ পাবে না। তাদের মতে, কেউ কোনো অপরাধ করলে তার বিচার হতে পারে কিন্তু সেটি করা এবং অপরাধের শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের। একই সাথে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে সরকারও ব্যবস্থা নিতে পারে। "এখানে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তো কোনো মামলা হয়নি। কিংবা আদালত তো আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেনি। এখন এটি দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার যে একটি দলকে রাষ্ট্র নিষিদ্ধ করবে নাকি জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ পাবে। ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত হলে প্রতিহিংসার সুযোগ উঠতো না," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ। মি. আহমদ বলেন, "আওয়ামী লীগ একাত্তরেও নিষিদ্ধ হয়েছিল। এখন মামলা হলে আদালত রায় দিত। কিন্তু সরকার সে পথেও যাচ্ছে না। জনগণ ভোট না দিলে দলটি ব্রাত্য হয়ে পড়তো। কিন্তু সরকার ও সমমনা দলগুলো এখনো আওয়ামী লীগকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে নিষিদ্ধ করে রাখতে চাইছে বলেই এটিকে প্রতিহিংসা মনে হতে পারে"। আরেকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলছেন যে, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা ঐতিহাসিকভাবেই কখনো কারও জন্য সুফল বয়ে আনেনি, বরং যারা করেছে তাদের ঐতিহাসিক দায় নিতে হয়েছে। "এদেশে আওয়ামী লীগের অনেক ভোটার ও সমর্থক আছে। মানুষ দলটিকে গ্রহণ করবে কি-না সেটি যাচাই করার সুযোগ অন্তর্বর্তী সরকার নষ্ট করেছে। কোনো অর্থেই রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম বন্ধ করা বা দল নিষিদ্ধ করা কাউকে সাময়িক তৃপ্তি কিংবা প্রতিহিংসা মেটানোর স্বাদ দিতে পারে কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে দেশ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এটি মোটেও ভালো পদক্ষেপ নয়," বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে দলটির কর্মকান্ড নিষিদ্ধের কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছিল ছবির ক্যাপশান,অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছিল রোববার আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় দলটির মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, "এর মাধ্যমে বিএনপিকে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পূর্ণ দায় নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এর ফলে যে পরিণতি হবে, তা বিএনপিকেই ভোগ করতে হবে"। তার বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "ভুলে গেলে চলবে না যে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে যে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে, তা অত্যন্ত শক্তিশালী। মনে রাখবেন, জনমত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং এই পরিবর্তন ইতোমধ্যেই আরও তীব্র হতে শুরু করেছে। এই বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য সংগ্রাম করার উচ্চতর নৈতিক অবস্থান অর্জন করবে। দেশকে স্বৈরাচারের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য আওয়ামী লীগ দেশের জনগণকে সাথে নিয়েই লড়াই করবে"। তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি’ (জেডিপি)। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ৯০ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে দলটি। নাঈম আহমাদকে আহ্বায়ক, অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিমকে সদস্য সচিব এবং মো. আহছান উল্লাহকে প্রধান সংগঠক করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। আত্মপ্রকাশের শুরুতেই দলটি ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিল করে ‘সামাজিক গণতন্ত্র’ ভিত্তিক নতুন রাষ্ট্রকাঠামো ও সংবিধান প্রণয়নের জোরালো দাবি জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে দলের আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নতুন সংবিধান অপরিহার্য। তিনি বর্তমান সংবিধানের ‘মৌলিক কাঠামো’ (Basic Structure) তত্ত্বের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বলেন, কেবল সংশোধনের মাধ্যমে মৌলিক পরিবর্তন আনা ঝুঁকিপূর্ণ ও সাময়িক। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ নতুন সংবিধান প্রণয়নই একমাত্র পথ। জেডিপি তাদের রাজনৈতিক দর্শনে ‘সমাজতন্ত্র’-এর পরিবর্তে ‘সামাজিক গণতন্ত্র’ এবং ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’-এর বদলে ‘বাংলাদেশপন্থা’ বা ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছে। একইসঙ্গে দলটি পতিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সবার জন্য ইনসাফভিত্তিক ও ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে বিচার কোনোভাবেই প্রহসনে পরিণত না হয়। সংবাদ সম্মেলনে আগামী এক মাসের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে এপ্রিল মাসজুড়ে সদস্য সংগ্রহ অভিযান, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে গণসংযোগ এবং মে মাসে ঢাকায় জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলন করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। নবঘোষিত কমিটিতে নজরুল ইসলাম ও ইমরান হোসেন রাহাতকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নূরা জেরিন ও রাকিব হাসানকে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা নিয়ে বিরোধীদলীয় প্রস্তাব ঘিরে তুমুল বিতর্ক, হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার আগামী মঙ্গলবার এ বিষয়ে দুই ঘণ্টা আলোচনার সময় নির্ধারণ করেন। রোববার সংসদের অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবিতে একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, গণভোটে জনগণের সমর্থন পাওয়ার পরও এই পরিষদ গঠন না হওয়া জাতির প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, সংসদের নির্ধারিত কার্যপ্রণালি অনুসরণ করেই এ ধরনের প্রস্তাব আলোচনায় আনা উচিত। প্রশ্নোত্তর ও বিধি-৭১–এর আলোচনার পরেই এ বিষয়ে কথা বলা যেতে পারে। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রস্তাবটির প্রক্রিয়াগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান, যা দ্রুত হট্টগোলে রূপ নেয়। সংসদকক্ষে উভয় পক্ষের সদস্যদের মধ্যে কয়েক দফা উত্তেজনা দেখা যায়। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান প্রস্তাবটিকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচনার দাবি রাখে। তবে তিনি বলেন, এ ধরনের আলোচনার আগে প্রয়োজনীয় নথি ও প্রস্তুতি থাকা জরুরি। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সংসদের কার্যক্রমে গণভোটের বিষয়টি উপেক্ষা করা হচ্ছে, যা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ঘোষণা দেন, আগামী ৩১ মার্চ মঙ্গলবার দিনের শেষ কার্যসূচি হিসেবে এই মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে দুই ঘণ্টা আলোচনা হবে। এর পরও কিছু সময় হট্টগোল চলতে থাকে। পরে স্পিকার রুলিং দিয়ে পরবর্তী কার্যসূচিতে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা শুরু হয়।
‘ডিপ স্টেট’ নামে পরিচিত শক্তিশালী একটি মহল অন্তর্বর্তী সরকারকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তবে ওই প্রস্তাবে সরকার সায় দেয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। ‘রক্তে ভেজা স্বাধীনতা থেকে সংস্কার ও গণভোট: বাস্তবায়নের রাজনৈতিক কর্তব্য’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটি। আসিফ মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর দিকেই কিছু প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান তাদের কাছে একটি প্রস্তাব দেয়। সেখানে বলা হয়, শেখ হাসিনার নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে এবং সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ওই প্রস্তাবের সঙ্গে কিছু শর্তও ছিল। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করতে আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের তারিখ পেছানোসহ বিভিন্ন উপায়ে বিরোধী নেতাদের নির্বাচনের বাইরে রাখার কৌশল সাজানো হয়েছিল। তবে এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অঙ্গীকার বজায় রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি। আসিফ মাহমুদ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার নিজেরাই পদত্যাগ করে নির্বাচনের পথ সুগম করেছে, যাতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তি বর্তমানে বিএনপি সরকারের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা নির্বাচনের সময় সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করে। বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার পর তারা জুলাইয়ের গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও চুক্তিকে উপেক্ষা করছে। গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, অতীতেও এমন অবস্থানের ফল ভালো হয়নি। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার এবং জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলামসহ অন্যরা।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপিকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে পরিণতি ‘ফ্যাসিবাদীদের মতো’ হতে পারে। সোমবার মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা এলাকায় নিজ বাসভবনে গ্রামবাসী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে দেশের সাধারণ মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁদের সেই ত্যাগ ও প্রত্যাশা উপেক্ষা করা হলে তা কেউ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, অতীতে যারা অন্যায়-অত্যাচার করেছে, তাদের পরিণতি দেশের মানুষ দেখেছে—সেই বাস্তবতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জনগণের ট্যাক্সের অর্থে গড়ে ওঠা সম্পদের অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বা প্রশাসন জনগণের মালিক নয়, বরং তাদের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। জামায়াত আমীর অভিযোগ করেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কিছু গোষ্ঠী চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছে, যা জনগণ আর দেখতে চায় না। এ ধরনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যক্তিগত বিলাসিতা বা সুবিধা অর্জনের জন্য নয়; বরং জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা উচিত। নিজ দলের অবস্থান তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, তারা কোনো প্লট বা ট্যাক্সমুক্ত গাড়ির সুবিধা গ্রহণ করেননি এবং ভবিষ্যতেও তা করবেন না। নির্বাচন নিয়ে জনমনে থাকা প্রশ্নের কথাও তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভোট ও ফলাফলের মধ্যে অসামঞ্জস্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে এবং কিছু বেসরকারি সংস্থাও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরিবর্তন আসবে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমান। শনিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর সরকারি বাসভবন যমুনা-য় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই ঈদে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি—আমরা যেন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।” তিনি আরও বলেন, জনগণ যে ধরনের দেশ দেখতে চায়, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সময়ের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একইসঙ্গে প্রত্যাশিত দেশ গড়তে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর মতে, জাতীয় অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তিনি দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।