- প্রচ্ছদ
- Topic
বিশ্ব সংবাদ
মাত্র ২২ বছর বয়সেই মারা গেলেন মিস অস্ট্রিয়া ২০২৪ লুসিয়া সিসিচ। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে মিস ও মিস্টার অস্ট্রিয়া প্রতিযোগিতার আয়োজক প্রতিষ্ঠান মিশন অস্ট্রিয়া। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মিশন অস্ট্রিয়া এক বিবৃতিতে লুসিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাঁর চলে যাওয়ার খবর অত্যন্ত দুঃখ ও বিস্ময়ের সঙ্গে জানতে পেরেছে তারা। লুসিয়াকে একজন অসাধারণ তরুণী হিসেবে স্মরণ করে তাঁর পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে আয়োজক সংস্থাটি। ২০২৪ সালে মিস অস্ট্রিয়ার মুকুট জিতেছিলেন ভিয়েনার এই তরুণী। একই বছর তিনি মিস ভিয়েনাও নির্বাচিত হন। পরে ভিয়েনা ফ্যাশন উইকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মিস অস্ট্রিয়া প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ক্রিস্টোফার ডেংয়ের সঙ্গে যথাক্রমে মিস ও মিস্টার অস্ট্রিয়া নির্বাচিত হন। লুসিয়া মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মিস অস্ট্রিয়ার শিরোপা ধরে রেখেছিলেন। কারণ ২০২৪ সালের পর আর জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিভিন্ন অস্ট্রিয়ান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ায় প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ফলে ২০২৪ সালের বিজয়ী লুসিয়াই ছিলেন সর্বশেষ মিস অস্ট্রিয়া। লুসিয়ার ব্যক্তিগত জীবন অবশ্য ছোটবেলা থেকেই ছিল নানা শারীরিক চ্যালেঞ্জে ভরা। জন্মের সময়ই তাঁর হৃদ্যন্ত্রের একটি ভালভে ত্রুটি ধরা পড়ে। এরপর জীবনের বিভিন্ন সময়ে তাঁকে সাতবার হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। সর্বশেষ অস্ত্রোপচারটি হয়েছিল ২০২৫ সালের শীতকালে। তবে নিজের শারীরিক সমস্যাকে কখনোই জীবনের একমাত্র পরিচয় হিসেবে দেখেননি লুসিয়া। ২০২৪ সালের আগস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। তাঁদের চিকিৎসার কারণে কঠিন সময়গুলো পেরিয়ে পরিপূর্ণ জীবন যাপন করতে পেরেছেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মিশন অস্ট্রিয়া বা অন্য কোনো সরকারি সূত্র মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করেনি। তাই হৃদ্রোগের পুরোনো ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সরাসরি কারণের সম্পর্ক স্থাপন করা এখনই সমীচীন নয়। লুসিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ২০২৪ সালের মিস্টার অস্ট্রিয়া ক্রিস্টোফার ডেংও। অস্ট্রিয়ার সংবাদমাধ্যম ও২৪-কে তিনি বলেন, লুসিয়ার মৃত্যুর খবর তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। একই সময়ে শিরোপা ধরে রাখার কারণে লুসিয়ার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল এবং তাঁকে নিজের বোনের মতো মনে হতো বলেও জানান ডেং। মিশন অস্ট্রিয়া লুসিয়ার মৃত্যুকে শুধু একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার শিরোপাধারীর বিদায় হিসেবে দেখেনি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি তাঁদের পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবেন এবং তাঁর স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে সবার মধ্যে বেঁচে থাকবে। মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন লুসিয়া। ১২ আগস্ট দেওয়া তাঁর শেষ দিকের একটি পোস্টে সোনালি পোশাকে নিজের ছবি শেয়ার করেছিলেন তিনি। তখনও তাঁকে স্বাভাবিকভাবেই নিজের জীবন উপভোগ করতে দেখা যায়। মাত্র ২২ বছরের জীবনে লুসিয়া একদিকে অস্ট্রিয়ার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছিলেন, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার মধ্যেও নিজের স্বপ্ন এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু তাই অস্ট্রিয়ার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের পাশাপাশি তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যেও গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। সূত্র: মিশন অস্ট্রিয়া, ও২৪, দ্য ডেইলি বিস্ট
সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন মিশরের বেনি সুয়েফের বাহেয়া আলি সুলেইমান। স্বামী দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে অক্ষম হয়ে কাজ করার সামর্থ্য হারানোর পর তিন সন্তানকে নিয়ে সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্মাণশ্রমিকের কাজ থেকে শুরু করে টুকটুক চালানো পর্যন্ত করেছেন তিনি। কিন্তু পুরুষশ্রমিকদের হয়রানি এড়াতে শেষ পর্যন্ত নিজের পরিচয় আড়াল করে পুরুষের পোশাক পরে ‘বাকার’ নামে কাজ করতে শুরু করেন। তবে এই ঘটনা নতুন নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালে আবার আলোচনায় এলেও বাহেয়ার এই ঘটনা মূলত ২০১৭ সালে মিশরের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে আসে। সে সময় তাঁর বয়স ছিল ৩২ বছর। পরবর্তী বছরগুলোতে তাঁর জীবনকাহিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। বাহেয়ার স্বামী দুর্ঘটনার পর চলাফেরা ও কাজের সক্ষমতা হারালে পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে যায়। তিন সন্তানকে নিয়ে সংসার চালানোর জন্য তখন বাহেয়াকেই কাজের সন্ধানে বের হতে হয়। প্রথমে তিনি টুকটুক চালাতেন। এরপর নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। কিন্তু নির্মাণকাজে অধিকাংশ শ্রমিক ছিলেন পুরুষ। বাহেয়া প্রথমদিকে আবায়া ও মাথায় ওড়না পরেই কাজ করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এতে পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকে হয়রানির শিকার হতে হতো এবং তাঁকে কাজের জায়গায় গুরুত্ব দেওয়া হতো না। পরিস্থিতি থেকে বের হতে তিনি চুল কেটে ফেলেন, পুরুষের পোশাক পরেন এবং ‘বাকার’ নাম গ্রহণ করেন। এরপর কয়েক বছর ধরে তিনি পুরুষ পরিচয়েই নির্মাণকাজ করেন। ইট, বালু ও অন্যান্য ভারী নির্মাণসামগ্রী বহনের মতো কঠিন কাজও করতে হয়েছে তাঁকে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ ছিল না। বাড়তি আয় করতে তিনি টুকটুক চালিয়ে রাত পর্যন্ত কাজ করতেন। কিন্তু এত পরিশ্রমের পরও পরিবারের আর্থিক সংকট কাটছিল না। একপর্যায়ে ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়। ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণের চাপ সামলাতে বাহেয়া নিজের একটি কিডনি বিক্রি করেন। এর বিনিময়ে তিনি প্রায় ২৫ হাজার মিশরীয় পাউন্ড পেয়েছিলেন, যা তখন প্রায় ১ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলারের সমান ছিল। কিডনি বিক্রির পর তাঁর শারীরিক অবস্থাও খারাপ হয়ে যায় বলে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন। বাহেয়ার ভাষ্য ছিল, অস্ত্রোপচারের পর থেকে তিনি সব সময় দুর্বল বোধ করতেন এবং ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতেও কষ্ট হতো। তারপরও পরিবারের জন্য কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে। তাঁর টুকটুকটিও একপর্যায়ে পুলিশ জব্দ করে। বৈধ লাইসেন্স না থাকার কারণে সেটি আটক করা হয়েছিল এবং সেটি ফেরত পেতে প্রায় ৩ হাজার মিশরীয় পাউন্ড জরিমানা দিতে বলা হয়েছিল বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সেই অর্থও জোগাড় করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। বাহেয়ার জীবনকাহিনি ২০১৭ সালে মিশরের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘৯০ মিনিটস’-এ প্রকাশ্যে আসে। অনুষ্ঠানে তিনি নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তাঁর গল্প প্রকাশ্যে আসার পর মিশরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয় এবং তাঁর কঠিন জীবনসংগ্রাম নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সাক্ষাৎকারে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, নারীর পোশাকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে তাঁর কখনো ইচ্ছা করে কি না। জবাবে তিনি জানান, নারীদের স্বাভাবিক পোশাকে দেখলে তাঁর কষ্ট হয়। কারণ নিজের পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে তাঁকে এমন এক পরিচয় গ্রহণ করতে হয়েছিল, যা তিনি নিজে বেছে নেননি। তাঁর গল্পের আরেকটি দিক ছিল কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা ও সুযোগের সংকট। বাহেয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, নারী হিসেবে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে তিনি যে আচরণের মুখোমুখি হয়েছিলেন, পুরুষের পরিচয় নেওয়ার পর সেই পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যায়। ফলে পুরুষ পরিচয় তাঁর কাছে শুধু আয়ের কৌশল নয়, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি থেকে নিজেকে দূরে রাখার একটি উপায়ও হয়ে ওঠে। তবে কিডনি বিক্রির বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনার জন্ম দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে জীবিত অবস্থায় একটি কিডনি বিক্রি করা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাহেয়ার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শারীরিক দুর্বলতা বেড়ে যায়। তাঁর ঘটনা তাই শুধু একজন মায়ের ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প নয়, দারিদ্র্য ও ঋণের চাপে মানুষ কতটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে, তারও একটি উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে উসপসুলসহ কিছু ওয়েবসাইটে তাঁর পুরোনো ঘটনা আবার প্রকাশিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনাটিকে ২০২৬ সালের নতুন ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক হবে না। বাহেয়ার এই জীবনসংগ্রামের মূল প্রতিবেদন ও টেলিভিশন সাক্ষাৎকার ২০১৭ সালের। বাহেয়া আলি সুলেইমানের গল্প শেষ পর্যন্ত একটি পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া এক নারীর কঠিন বাস্তবতার কথাই সামনে আনে। স্বামীর অক্ষমতার পর সন্তানদের দেখভালের দায়িত্ব, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, পুরুষ পরিচয়ে বছরের পর বছর শ্রম এবং শেষ পর্যন্ত নিজের শরীরের একটি অঙ্গ বিক্রি করে ঋণ সামাল দেওয়ার চেষ্টা তাঁর জীবনের গভীর সংকটকে তুলে ধরে। সংবাদসূত্র: মিশরীয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘৯০ মিনিটস’
ব্রাজিলে ১২ বছর বয়সী কিশোরীর পরিচয় দিয়ে একটি পরিবারের সঙ্গে ১৪ মাস বসবাস করার ঘটনায় আমান্ডা মারিয়া সুজা দে অলিভেইরাকে প্রতারণা ও মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। বাস্তবে তাঁর বয়স ৩৮ বছর। সান্তা কাতারিনা অঙ্গরাজ্যের জইনভিলে একটি পরিবার তাঁকে নিজেদের সন্তান হিসেবে আশ্রয় দেওয়ার পর এক বছরেরও বেশি সময় তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। সান্তা কাতারিনার আদালতের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অলিভেইরা একটি কাল্পনিক পরিচয় তৈরি করে নিজেকে ১২ বছর বয়সী শিশু হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি পালিয়ে এসেছেন। তাঁর এই বক্তব্য বিশ্বাস করে পরিবারটি তাঁকে নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দেয় এবং প্রায় ১৪ মাস তাঁকে পরিবারের সদস্য হিসেবেই দেখাশোনা করে। তদন্তে উঠে এসেছে, অলিভেইরা ‘গাব্রিয়েলে’ নাম ব্যবহার করতেন এবং শিশুসুলভ কণ্ঠে কথা বলতেন। নিজের প্রাপ্তবয়স্ক চেহারা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি দাবি করতেন, শৈশবে তাঁকে জোর করে হরমোন দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে নিজেকে অটিজমে আক্রান্ত এবং নির্যাতনের শিকার শিশু হিসেবেও উপস্থাপন করেছিলেন। এসব তথ্য ব্যবহার করে তিনি পরিবারের সহানুভূতি অর্জন করেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। পরিবারটি তাঁর গল্প বিশ্বাস করে তাঁকে নিজেদের মেয়ের মতো করে নেয়। তাঁকে আলাদা ঘর দেওয়া হয় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রয়োজন মেটানো হতো। এমনকি তাঁর কথিত ১২তম জন্মদিনও উদ্যাপন করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে একপর্যায়ে পরিবারের এক আত্মীয়ের সন্দেহ হয়। তিনি ইন্টারনেটে খোঁজ করে অলিভেইরার সঙ্গে মিল রয়েছে এমন আগের কয়েকটি ঘটনার তথ্য খুঁজে পান। এরপর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, অলিভেইরার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের পরিচয় জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগের ইতিহাস রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অলিভেইরা নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে শিশু পরিচয় ব্যবহার করেছেন। তবে তাঁর আইনজীবীদের দাবি, এই আচরণের উদ্দেশ্য ছিল কারও কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া নয়। বরং দীর্ঘদিনের অনিশ্চিত জীবন ও রাস্তায় থাকার অভিজ্ঞতা থেকে বেঁচে থাকার একটি উপায় হিসেবে তিনি এমন পরিচয় তৈরি করেছিলেন। আদালতে অলিভেইরা বলেছেন, তিনি মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং মিথ্যা বলেছেন, তবে কাউকে প্রতারণা করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শৈশবে যে ভালোবাসা ও যত্ন তিনি পাননি, সেটি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি পরিবারের সান্নিধ্য খুঁজেছিলেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল, মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করে তিনি পরিবারটির কাছ থেকে আশ্রয়, যত্ন ও বিভিন্ন সুবিধা পেয়েছেন। তদন্তে তাঁর ব্যবহৃত মিথ্যা পরিচয়, বিভিন্ন বক্তব্য এবং আগের ঘটনাগুলোর তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়। ব্রাজিলের আদালত শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রতারণা এবং মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। রায়ে অলিভেইরাকে প্রতারণার দায়ে এক বছর ছয় মাস ১০ দিনের কারাদণ্ড এবং মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের দায়ে আরও চার মাস ১৮ দিনের সাজা দেওয়া হয়েছে। উভয় সাজাই প্রাথমিকভাবে আধা-খোলা কারা ব্যবস্থায় ভোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে মামলার বিচার চলাকালে অলিভেইরার মানসিক সক্ষমতা নিয়েও পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, তাঁর দীর্ঘদিনের মানসিক ও সামাজিক সংকট রয়েছে এবং বিষয়টি মামলায় বিবেচনা করা প্রয়োজন। আদালতের প্রক্রিয়ায় বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হয়। অলিভেইরার আইনজীবী লুসিও সুজা রায়ের পর জানিয়েছেন, তাঁরা উচ্চ আদালতে আপিলসহ আইনগতভাবে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেবেন। তাঁর ভাষ্য, অলিভেইরার বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং তাঁর কর্মকাণ্ডকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত। এই ঘটনা ব্রাজিলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে শিশু হিসেবে উপস্থাপন করে একটি পরিবারের আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে মামলাটি সহানুভূতি, পরিচয় যাচাই এবং দুর্বল অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। অলিভেইরার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের ঘটনার তদন্ত বা মামলা থাকার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এসব ঘটনার সবগুলোতে আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়েছে কি না, তা আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। বর্তমান মামলায় সান্তা কাতারিনার আদালত তাঁকে প্রতারণা ও মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে। সংবাদসূত্র: ফক্স নিউজ, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস প্রদেশের পারগামিনো শহরে ২০১২ সালে এক কিশোরকে সপ্তম তলা থেকে নিচে ফেলে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় আদালতের রায় এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যম এবং আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৬ জানুয়ারি সকালে ১৬ বছর বয়সী ইভান হোর্তিগেরা তার ১৪ বছর বয়সী বান্ধবী তামারার বাসায় রাত কাটানোর পর ঘুমিয়ে ছিলেন। সকাল প্রায় ৯টার দিকে তামারার বাবা নরবের্তো নুনিয়েজ কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে তাদের একসঙ্গে দেখতে পান। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তিনি ইভানকে মারধর শুরু করেন। তদন্তে জানা যায়, মারধরের একপর্যায়ে কিশোরটির চোয়াল ও নাকের হাড় ভেঙে যায় এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, পাশের একটি ভবনের এক বাসিন্দা জানালা দিয়ে ঘটনাটির কিছু অংশ প্রত্যক্ষ করেন। তিনি আদালতে জানান, বাসা থেকে কাঁচ ভাঙার শব্দ শোনার পর তিনি দেখতে পান অভিযুক্ত ব্যক্তি কিশোরকে হুমকি দিচ্ছেন। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই কিশোরটি ভবনের ওপর থেকে নিচে পড়ে যায়। ফরেনসিক তদন্তে দেখা যায়, ইভানের হাতে আত্মরক্ষার কোনো চিহ্ন ছিল না। বিশেষজ্ঞদের মতে, তিনি নিচে পড়ে যাওয়ার আগেই অচেতন ছিলেন। এই তথ্য প্রসিকিউশনের অভিযোগকে আরও শক্তিশালী করে। অভিযুক্ত নরবের্তো নুনিয়েজ শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন, ইভান নিজেই ভবন থেকে লাফ দিয়েছিলেন। তবে তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং ঘটনার আগে দেওয়া হুমকির তথ্য বিশ্লেষণ করে এই দাবি গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে এটি স্পষ্ট যে ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড। ইভানের বোন লুসিয়া হোর্তিগেরা স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, বহু বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের প্রতিটি মুহূর্ত এখনও তার মনে স্পষ্ট। তিনি বলেন, পরিবারের জন্য এই ক্ষতি কখনও পূরণ হওয়ার নয়। ঘটনাটি আর্জেন্টিনায় সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক বিরোধ বা ব্যক্তিগত ক্ষোভ কখনও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বৈধতা দেয় না। এমন ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা উচিত।
কলম্বিয়ার একটি জঙ্গলে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এক শিশুকন্যা ও তার কয়েক মাস বয়সী ছোট ভাইকে। পুলিশ জানিয়েছে, ছোট্ট মেয়েটি সারারাত তার ভাইকে বুকে জড়িয়ে আগলে রেখেছিল, যাতে সে ঠান্ডা ও অন্য যেকোনো বিপদ থেকে নিরাপদ থাকে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে কলম্বিয়ার কিন্দিও বিভাগের মন্টেনেগ্রো এলাকার একটি বনাঞ্চলে। নিয়মিত টহলের সময় পুলিশের সদস্যরা হঠাৎ একটি শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। শব্দ অনুসরণ করে তারা ঘন ঝোপঝাড়ের মধ্যে পৌঁছে দেখতে পান, একটি ছোট মেয়ে তার কয়েক মাস বয়সী ভাইকে কোলে নিয়ে বসে আছে। আশপাশে আর কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল না। পুলিশ সদস্যরা দ্রুত দুই শিশুকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কীভাবে বা কখন ওই দুই শিশু সেখানে পৌঁছেছে, কিংবা কে বা কারা তাদের জঙ্গলে ফেলে গেছে, তা এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শিশু দুটিকে সেখানে রেখে যাওয়ার পেছনের ঘটনা এবং তাদের পরিবারের পরিচয় জানতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পুরো ঘটনায় সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে শিশুকন্যার সাহস ও দায়িত্ববোধ। নিজেও ছোট হওয়া সত্ত্বেও সে সারাক্ষণ তার ভাইকে কোলে নিয়ে আগলে রেখেছিল। উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি এক মুহূর্তের জন্যও ভাইকে ছেড়ে দেয়নি। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই শিশুকন্যার সাহস ও ভাইয়ের প্রতি তার ভালোবাসার প্রশংসা করেছেন। তবে একই সঙ্গে কী পরিস্থিতিতে শিশু দুটিকে জঙ্গলে ফেলে যাওয়া হলো, সে প্রশ্নের উত্তর জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিশু দুটিকে সরকারি তত্ত্বাবধানে রাখা হবে এবং তাদের পরিবারের সন্ধানে কাজ চলছে।
দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার মেহের নিউজ এজেন্সি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ১৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে মোজতবা খামেনিকে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বসে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে তাঁকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেলেও ভিডিওটি কখন এবং কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কেও মেহের নিউজ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে ভিডিওটি প্রকাশ পেলেও এর পটভূমি নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আর দেখা দেননি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকাশ্যে না এসে আড়াল থেকেই দেশের নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনির কোনো ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশিত হয়নি। তাঁর বিভিন্ন নির্দেশনা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ অথবা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করা হতো। মেহের নিউজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ভিডিওটি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চীনা সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনও মেহের নিউজের বরাতে তাদের ফেসবুক পেজে ভিডিওটি শেয়ার করেছে। তবে মেহের নিউজের ইংরেজি ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন বা ভিডিও প্রকাশিত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর এই ভিডিও প্রকাশ ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যক্রম নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে ভিডিওটির ধারণের সময়, স্থান ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য না থাকায় এ নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ বিষয়ে ইরানের সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। সূত্র: সিনহুয়া, মেহের নিউজ এজেন্সি
স্কটল্যান্ডের ওয়েস্টার রসে হাঁটতে বেরিয়ে হাজারো মৌমাছির ঝাঁকের হামলার শিকার হন এক মা ও তার দুই বছরের ছেলে। শরীরে ১৫০টিরও বেশি হুল ফোটার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দুজনকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার এক বছর পরও তারা মানসিক আঘাত থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে মৌচাক স্থাপনের নিয়ম কঠোর করার দাবিও উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস ও পিপল ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ২৯ জুন স্কটল্যান্ডের ওয়েস্টার রসের পুলিউয়ে এলাকায় হাঁটছিলেন রোজি কার্কনেস ও তার দুই বছরের ছেলে জেমি। পথ দিয়ে একটি গাড়ি যাওয়ার সময় রোজি রাস্তার পাশে সরে দাঁড়ান। সেখানেই ছিল কয়েকটি মৌচাক, যেখানে মৌপালকেরা কাজ করছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মাথায় একটি মৌমাছি অনুভব করেন। এরপর মুহূর্তের মধ্যে তার হাত ও শরীর মৌমাছিতে ঢেকে যায় এবং ঝাঁকের আক্রমণে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিস্থিতির মধ্যে ছেলেকে নিয়ে কাছের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে সক্ষম হন রোজি। বাড়ির মালিক তাদের ভেতরে নিয়ে যান। পরে তিনি রোজির মা সুসান কার্কনেসকে জানান, রাস্তার পাশে ছোট্ট জেমিকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত মৌমাছিতে ঢেকে থাকতে দেখার দৃশ্য তিনি কোনো দিন ভুলবেন না। সাহায্য করতে গিয়ে ওই ব্যক্তিও মৌমাছির হুলের শিকার হন। বাড়ির ভেতরে গোসলের পানিতে শরীর থেকে মৌমাছি সরানোর চেষ্টা চলাকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছান জরুরি সেবাকর্মীরা। এক পর্যায়ে শিশুটি গলায় আটকে থাকা মৌমাছির কারণে বমি করতে শুরু করে। পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে মা ও শিশুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তাদের কিডনির জটিলতা, বিষক্রিয়াজনিত পেশির খিঁচুনি, তীব্র ফোলাভাব এবং ত্বকের সংক্রমণের চিকিৎসা দিতে হয়েছে। ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও পড়েছে তাদের জীবনে। চিকিৎসকদের মূল্যায়নে মা ও ছেলে দুজনই পরবর্তীতে আঘাত-পরবর্তী মানসিক চাপজনিত সমস্যায় (পিটিএসডি) আক্রান্ত হন। রোজি আগে থেকেই কিছু অ্যালার্জির কারণে জরুরি ইনজেকশন সঙ্গে রাখতেন। এই ঘটনার পর ভবিষ্যতে মৌমাছির হুল আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন। রোজির মা সুসান কার্কনেস এই ঘটনাকে "ভয়ের চলচ্চিত্রের দৃশ্যের মতো" বলে বর্ণনা করেছেন। ঘটনার প্রায় এক বছর পর তিনি স্কটিশ পার্লামেন্টে একটি আবেদন জমা দেন। সেখানে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে নতুন নিরাপত্তা আইন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত মৌচাক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা, বাধ্যতামূলক সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং জনপথ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে মৌচাক রাখার বিধান চালুর দাবি জানানো হয়েছে। আবেদনে সুসান অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় মৌপালকেরা মৌচাকে কাজ করলেও সেখানে কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা নিরাপত্তা বেষ্টনী ছিল না। মৌমাছিগুলো উত্তেজিত হয়ে আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করলে তার মেয়ে ও নাতি হামলার মুখে পড়েন। তিনি আরও দাবি করেন, মৌপালক তার মেয়ের চিৎকার শুনলেও সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মৌপালকের কোনো বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি। এদিকে স্কটিশ মৌপালক সমিতি জানিয়েছে, জনপথ বা শিশুদের চলাচলের কাছাকাছি মৌচাক না রাখাই নিরাপদ। পাশাপাশি স্কটিশ সরকার বলেছে, মৌমাছির কারণে জনসাধারণের ক্ষতি বা ঝুঁকি সৃষ্টি হলে বিদ্যমান আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ক্যালিতে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীকে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২১ বছর বয়সী মারিয়া কামিলা পোতোসি কয়েক দিন নিখোঁজ থাকার পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তার অনাগত শিশুকে ঘিরেও রহস্য তৈরি হয়েছে। শিশুটির অবস্থান জানতে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ব্যাপক তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ ও প্রসিকিউটরদের কার্যালয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই ক্যালির পলভোরিনেস এলাকা থেকে মারিয়া কামিলাকে সর্বশেষ দেখা যায়। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তিনি একটি মোটরসাইকেলের পেছনে করে এক নারীর সঙ্গে এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন। পরে পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই নারীকে তিনি সম্প্রতি অন্তঃসত্ত্বা নারীদের একটি সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে চিনেছিলেন এবং শিশুর জন্য কিছু উপহার নেওয়ার কথা বলে তার সঙ্গে বের হয়েছিলেন। চার দিন পর ক্যালির লা বুইত্রেরা এলাকার কাছে মেলেন্দেজ নদীর তীর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত নয়। মামলাটি নতুন মোড় নেয়, যখন নিহতের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, ময়নাতদন্তে চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে যে মারিয়া কামিলার গর্ভে শিশুটি ছিল না। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। ফলে শিশুটির অবস্থান নিয়ে তদন্ত চলছে এবং কর্তৃপক্ষ সব সম্ভাবনাই বিবেচনায় রাখছে। ক্যালি মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান জেনারেল হারবার্ট বেনাভিদেস জানিয়েছেন, এ ঘটনায় চারজনের বেশি ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন বলে তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশ ও প্রসিকিউটররা নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করছেন। ক্যালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। পরবর্তীতে পুরস্কারের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০০ মিলিয়ন কলম্বিয়ান পেসো করা হয়েছে, যাতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটন করা যায়। এদিকে নিহতের মা আলবা রুবি গোমেজ সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে আবেগঘন আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যদি শিশুটি জীবিত থাকে, তাহলে তাকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। তিনি দেশবাসীকেও তদন্তে সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান। হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং শিশুটির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।