সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বিশ্বঅর্থনীতি

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ঋণ ও সুদ পরিশোধের চাপ
ঋণের পাহাড়ে বিশ্ব অর্থনীতি, ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বোঝায় বাড়ছে সুদের খরচ

বিশ্বের মোট ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ঋণের এই বিশাল বোঝার সঙ্গে বাড়ছে সুদ পরিশোধের খরচও। সরকার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবার—সব পর্যায়েই ঋণের পরিমাণ বাড়ায় বিশ্ব অর্থনীতির ওপর তৈরি হচ্ছে নতুন চাপ। বিশেষ করে যেসব দেশের সরকারি ঋণ বেশি, সেসব দেশের জন্য বাড়তি সুদ পরিশোধ এখন বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।   ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে মোট ঋণ ১০ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়েছে। জুনের শেষ নাগাদ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬৫ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করা ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ব অর্থনীতির মোট উৎপাদনের তুলনায় এই ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩১১ শতাংশ। ঋণ বাড়ার পাশাপাশি সুদের হারও অনেক দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। আগে কম সুদে নেওয়া ঋণের মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে ঋণ নিতে বা পুরোনো ঋণ নবায়ন করতে সরকারগুলোকে বেশি সুদ দিতে হচ্ছে। এতে বাজেটের বড় অংশ ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পেনশন ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতে অর্থ ব্যয়ের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়তে পারে। ইউরোপের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এই চাপের সামাজিক দিকটিও সামনে এনেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়া আবাসন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অর্থের অভাব নিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন দেশে মানুষ রাস্তায় নেমেছে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে বিক্ষোভ হয়েছে। কিছু জায়গায় পরিস্থিতি সংঘর্ষ, দোকানপাটে লু ট পা ট ও অগ্নিসংযোগ পর্যন্ত গড়ালেও অনেক বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল। ফ্রান্সে পরিস্থিতি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে পাঁচ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন। শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি সরকারের আর্থিক সংকটও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ফ্রান্সের ঋণসংক্রান্ত পরিস্থিতি বোঝা জরুরি, কারণ দেশটির ঋণ নেওয়ার খরচ দ্রুত বেড়েছে। ২১ অক্টোবর দেশটির ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার ৫ শতাংশে পৌঁছায়, যা ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ। বিনিয়োগকারীরা যখন কোনো দেশের বন্ড কিনে সরকারকে ঋণ দেন, তখন তাঁরা নির্দিষ্ট সুদ পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। সরকারের আর্থিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত বেশি সুদ দাবি করেন। ফলে নতুন ঋণ নেওয়া সরকারের জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। ফ্রান্সের ক্ষেত্রে সরকারি বাজেট নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বড় ঘাটতি এবং আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সরকারি আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান কমাতে দেশটির সরকারকে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে জনসেবায় ব্যয় বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভকারীরা সরব। এই দুই বিপরীত চাপ সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। সরকার কীভাবে ঋণ নেয় সরকার সাধারণত সরকারি বন্ড বিক্রি করে অর্থ ধার নেয়। বিনিয়োগকারীরা এসব বন্ড কিনে সরকারকে অর্থ দেন। বিনিময়ে সরকার নির্ধারিত হারে সুদ দেয় এবং চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে মূল অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। উদাহরণ হিসেবে, কোনো বিনিয়োগকারী ১০ বছর মেয়াদি একটি সরকারি বন্ডের জন্য ১০০ ইউরো দিলে সরকার তাঁকে প্রতি বছর নির্দিষ্ট হারে সুদ দেবে। সুদের হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ হলে বছরে ২ ইউরো ৫০ সেন্ট করে, ১০ বছরে মোট ২৫ ইউরো সুদ পাওয়া যাবে। কিন্তু সুদের হার ৫ শতাংশ হলে বছরে সুদ দাঁড়াবে ৫ ইউরো, আর ১০ বছরে মোট ৫০ ইউরো। মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারী মূল ১০০ ইউরোও ফেরত পাবেন। অর্থাৎ, সুদের হার দ্বিগুণ হলে একই পরিমাণ ঋণের বিপরীতে সুদের ব্যয়ও দ্বিগুণ হতে পারে। সরকারের বিপুল ঋণ থাকলে এই পার্থক্য বাজেটে বড় প্রভাব ফেলে। পুরোনো ঋণ কম সুদে নেওয়া হলেও নতুন করে ঋণ নিতে গেলে বেশি সুদ দিতে হতে পারে। ফলে ধীরে ধীরে সরকারের মোট সুদ পরিশোধের অঙ্ক বাড়তে থাকে। ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হারকে বিনিয়োগকারীরা বিশেষ গুরুত্ব দেন। এটি একটি দেশের ঋণ নেওয়ার খরচ এবং তার আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রতি বাজারের আস্থার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে বন্ডের সুদের হার শুধু ঋণের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না; মূল্যস্ফীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের নীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এতে প্রভাব ফেলে। বিশ্বের মোট ঋণ বাড়লেও সব দেশের ঝুঁকি এক রকম নয়। কোনো দেশ উৎপাদন ও আয় বাড়িয়ে ঋণ সামলাতে পারে, আবার কোনো দেশের ক্ষেত্রে ঋণের সুদ পরিশোধই বাজেটের ওপর বড় চাপ তৈরি করতে পারে। ঋণের মেয়াদ, সুদের ধরন, সরকারের রাজস্ব আয় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় উদ্বেগ হলো, সরকারগুলোকে একই সঙ্গে ঋণের সুদ পরিশোধ, বাজেটের ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিকদের জনসেবার চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে। সুদের ব্যয় বেড়ে গেলে নতুন স্কুল নির্মাণ, হাসপাতালের সেবা উন্নয়ন, পেনশন দেওয়া কিংবা শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের জন্য হাতে থাকা অর্থ কমে যেতে পারে। এতে অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি সামাজিক অসন্তোষও বাড়তে পারে। বিশ্বের ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ তাই শুধু একটি বড় সংখ্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারগুলোর ভবিষ্যৎ ব্যয়ের সক্ষমতা, পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার খরচ এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা। ঋণ কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে এবং বাড়তি সুদের চাপ সামলে জনসেবায় অর্থের জোগান কীভাবে বজায় রাখা হবে, আগামী দিনে সেটিই বহু দেশের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফ্রান্সের অস্থিরতায় চাপের মুখে ইউরোর দর
ফ্রান্সে দাঙ্গা, জ্বালানির ঊর্ধ্বমূল্য ও বৈশ্বিক উদ্বেগে ইউরোর দর কমল, শক্তিশালী ডলার

জ্বালানির উচ্চমূল্য ও ফ্রান্সের রাজনৈতিক অস্থিরতা ইউরোপের মুদ্রাবাজারে নতুন চাপ তৈরি করেছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবার ডলারের বিপরীতে ইউরোর দর কমেছে। দেশটিতে সপ্তাহান্তে ব্যাপক বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুতর অস্থিরতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উচ্চমূল্য ইউরোপের অর্থনীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সোমবার ইউরোর দর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ কমে প্রতি ডলারে ১ দশমিক ১২১৮ ডলারে দাঁড়ায়। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েকটি স্থানীয় এলাকায় আংশিক ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কারফিউ জারির অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা ইউরোর ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে সতর্ক হয়ে উঠেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোর ওপর বর্তমান চাপের মাত্রা অক্টোবরের শুরুর দিকের তুলনায় কম। তাঁদের ধারণা, ফ্রান্সের রাজনৈতিক সংকট যদি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ইউরোজোনের অন্যান্য দেশের বাজার ও অর্থনৈতিক আস্থায় প্রভাব ফেলে, তাহলেই ইউরোর ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি হতে পারে। এর আগে অক্টোবরের শুরুতে ফ্রান্সের সরকারি বন্ড ও জার্মানির তুলনামূলক নিরাপদ সরকারি বন্ডের সুদের হারের ব্যবধান দ্রুত বেড়ে যায়। কয়েক দিনের মধ্যে এই ব্যবধান প্রায় ৪০ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ১৫০ বেসিস পয়েন্ট ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এতে ফ্রান্সের পাশাপাশি ইউরোজোনের অন্যান্য দেশের ঋণঝুঁকি নিয়েও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ে। সোমবার ফ্রান্স ও জার্মানির বন্ডের ব্যবধান আরও দুই বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ১৪৪ বেসিস পয়েন্টে পৌঁছায়। মুদ্রাবাজারে ডলারের অবস্থানও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারে উত্থান ডলারকে সমর্থন জুগিয়েছে। কিন্তু এখন বিনিয়োগকারীদের একাংশ ভাবছেন, এআই খাতে বিনিয়োগের গতি কমে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিও দুর্বল হতে পারে। এআই খাতে ব্যয় কমলে একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমার ঝুঁকি তৈরি হবে, অন্যদিকে ঋণের চাহিদাও কমতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ডলারের পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও নিম্নমুখী হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ফলে ডলারের ভবিষ্যৎ শক্তি নিয়ে বাজারে নতুন হিসাবনিকাশ শুরু হয়েছে। জ্বালানির দাম ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার নির্ধারণের সিদ্ধান্তও মুদ্রাবাজারের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কমার্জব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও পণ্যবাজার গবেষণা বিভাগের প্রধান থু লান নগুয়েনের মতে, ইউরো-ডলারের বিনিময় হারের ক্ষেত্রে শুধু তেলের দাম নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কীভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হলেও ফেডারেল রিজার্ভ যদি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত না দেয়, তাহলে ডলার সেই পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি সুবিধা নিতে পারবে না। মার্চে ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দাম বৃদ্ধি ডলারকে সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল ইউরো ও জাপানি ইয়েনের মতো মুদ্রা চাপে পড়েছে। সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা কমলেও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ছিল। ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও নতুন চার বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ৮৯ দশমিক ৭৪ ইউরোতে পৌঁছায়। সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চলতি মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে—এমন সম্ভাবনা দেখছেন বাজারের প্রায় ৮৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ মোট ৭৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার কমানোর প্রত্যাশাও রয়েছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষেত্রেও সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা কাছাকাছি ধারায় এগিয়েছে। সোমবার মার্কিন ডলার সূচক শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ১০১ দশমিক ৮৭-তে দাঁড়ায়। এই সূচক বিশ্বের প্রধান কয়েকটি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের সামগ্রিক শক্তি পরিমাপ করে। এদিকে জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ডলার শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে ১৫৮ দশমিক ২০ ইয়েনে পৌঁছায়। জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কাজুও উয়েদা সোমবার জানিয়েছেন, সুদের হার আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে যথাযথ গতিতে সুদের হার বাড়ানো হলে বন্ডের সুদের হারে আকস্মিক উল্লম্ফন এড়ানো সম্ভব হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা দেশটির বিপুল সরকারি ঋণের বোঝা আরও বাড়াতে পারে—এমন উদ্বেগ রয়েছে। আমোভা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান বৈশ্বিক কৌশলবিদ নাওমি ফিঙ্কের মতে, বন্ড ও মুদ্রাবাজারের চাপ জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দ্রুত স্বাভাবিক সুদের হারে ফেরার দিকে ঠেলে দিতে পারে। একই সঙ্গে সরকারের ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনার জন্য স্পষ্ট অর্থায়নের উৎস দেখানোর প্রয়োজনীয়তাও বাড়বে। চীনা মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দর শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ কমে অফশোর বাজারে ৬ দশমিক ৬৮১৫ ইউয়ানে নেমেছে। সোমবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা বেশি বেড়েছে। এর ফলে ইউয়ান ২০২২ সালের জুনের পর ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলীয় ডলারের দর শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি মার্কিন ডলারে শূন্য দশমিক ৬৯৮৮ ডলারে দাঁড়ায়। সব মিলিয়ে, ফ্রান্সের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য ইউরোর ওপর চাপ তৈরি করলেও মুদ্রাবাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ভর করছে আরও কয়েকটি বিষয়ের ওপর। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, এআই খাতে বিনিয়োগের গতি এবং জ্বালানির দাম—এই তিনটি বিষয় আগামী দিনগুলোতে ডলার ও ইউরোর অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
জাতিসংঘে আজ ট্রাম্পের ভাষণে ইরান-ইউক্রেন যুদ্ধসহ জ্বালানি সংকট, থাকছে যেসব বিষয়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। সেখানে ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট, বিশ্ব বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয় উঠে আসতে পারে। একই দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের।   গত বছর জাতিসংঘের ভাষণে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে। এবার ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের প্রায় সাত মাসের মাথায় তিনি একই ধরনের বার্তা দিতে পারেন। সোমবার ট্রাম্পও বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না এবং দেশটি ভালো অবস্থায় নেই।   ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস এখনো পরিবহন হচ্ছে। তবে যুদ্ধের আগের তুলনায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ কম থাকায় জ্বালানি বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ছে। জাতিসংঘে সমুদ্রপথের স্বাধীনতা ও নিরাপদ বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হতে পারে।   ট্রাম্পের ভাষণে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেতে পারে। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই এখনো তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুদ্ধটি সমাধান করা কঠিন হলেও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে অগ্রগতির চেষ্টা চালিয়ে যাবে।   জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ বিভিন্ন দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের সূচি রয়েছে।   এ ছাড়া ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন তিনি।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং সমাজ ও মানবজীবনে এর প্রভাব নিয়েও ট্রাম্পের বক্তব্যে আলোচনা আসতে পারে। সব মিলিয়ে যুদ্ধ, জ্বালানি, বিশ্ব অর্থনীতি, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান জাতিসংঘের মঞ্চে উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।    

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০