- প্রচ্ছদ
- Topic
বোস্টন ইউনিভার্সিটি
যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার ব্যয় কমাতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বোস্টন ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন ‘বিইউ প্রমিজ’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৭৫ হাজার ডলার বা তার কম, তাদের সন্তানরা টিউশন ফি, আবাসন ও খাবারের খরচ ছাড়াই পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, ২ লাখ ডলারের কম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্যও রয়েছে বিশেষ আর্থিক সহায়তা। পরিবারের আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে এসব সুবিধা নির্ধারণ করা হবে। বোস্টন ইউনিভার্সিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২ লাখ ডলারের কম আয়ের পরিবারের যোগ্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় টিউশন ফি সম্পূর্ণ বহন করবে। পাশাপাশি আবাসন ও খাবারের খরচের একটি অংশও আর্থিক সহায়তার আওতায় আসবে। ফলে পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ ডলারের মধ্যে হলে শিক্ষাবাবদ বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার দিতে হবে। ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয়ের পরিবারের জন্য এই ব্যয় ১৫ হাজার ডলারের মধ্যে এবং ৭৫ হাজার ১ ডলার থেকে ১ লাখ ডলার আয়ের পরিবারের জন্য ১০ হাজার ডলারের মধ্যে সীমিত থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে শুধু টিউশন ফি ৭৩ হাজার ২৪ ডলার। আবাসন, খাবার ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হলে একজন আবাসিক শিক্ষার্থীর মোট বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৯৮ হাজার ৪১৯ ডলারে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে ৭৫ হাজার ডলার বা তার কম আয়ের পরিবারের জন্য সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যয় বহনের এই উদ্যোগ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বড় সুযোগ তৈরি করছে। এই কর্মসূচির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রয়োজন পূরণের জন্য যে সহায়তা দেবে, তাতে কোনো শিক্ষার্থী ঋণ অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। অর্থাৎ আর্থিক সহায়তার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে পরিশোধ করতে হবে এমন ঋণ নিতে বাধ্য করা হবে না। তবে যোগ্য শিক্ষার্থীরা চাইলে আলাদাভাবে ফেডারেল শিক্ষাঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। সেটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। তবে এই সুবিধা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। বিইউ প্রমিজ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন, যারা প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তি হবেন। স্থানান্তরিত শিক্ষার্থী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এই নির্দিষ্ট কর্মসূচির আওতায় পড়বেন না। পাশাপাশি পরিবারের আয়ের সঙ্গে সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক সম্পদ এবং নিজস্ব বাড়ি ছাড়া অন্যান্য স্থাবর সম্পদের পরিমাণও বিবেচনা করা হবে। তাই শুধু আয়ের সীমা পূরণ করলেই সুবিধা নিশ্চিত হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা পেতে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের জন্য আবেদনপত্র (এফএএফএসএ) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত আর্থিক তথ্যসংক্রান্ত আবেদনপত্র (সিএসএস প্রোফাইল) জমা দিতে হবে। প্রথম বর্ষে আর্থিক যোগ্যতা নির্ধারিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি সহায়তা চার বছর পর্যন্ত বজায় রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে। টিউশন ফি বাড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তির পরিমাণও একই হারে বাড়বে। উচ্চশিক্ষার ব্যয় কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। হার্ভার্ড ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিসহ (এমআইটি) বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আয়ভিত্তিক আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও অন্যান্য ব্যয় কমানোর সুযোগ দিচ্ছে। বোস্টন ইউনিভার্সিটির নতুন উদ্যোগও সেই ধারাকে আরও বিস্তৃত করল। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের জন্যও এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল নিয়ে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের পরিবারের আর্থিক পরিকল্পনায় এই ধরনের সহায়তা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আবেদন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত যোগ্যতা ও সম্পদের শর্ত ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বোস্টন ইউনিভার্সিটি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তার পরিধি বাড়িয়েছে। যেসব পরিবারের মোট বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের কম এবং সম্পদের পরিমাণও পরিবারের আয়ের তুলনায় স্বাভাবিক পর্যায়ে, তাদের শিক্ষার্থীরা অন্তত পুরো টিউশন ফি এবং আবাসন ও খাবারের খরচের একটি অংশের সমপরিমাণ আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিইউ প্রমিজ’ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা স্থায়ীভাবে বসবাসকারী নতুন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রদর্শিত আর্থিক প্রয়োজনের ১০০ শতাংশ পূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব আর্থিক সহায়তা প্যাকেজে শিক্ষাঋণ রাখা হবে না। তবে পরিবারের আয় ২ লাখ ডলারের নিচে হলেই সবার জন্য পুরো পড়াশোনা বিনামূল্যে হবে, বিষয়টি এমন নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আয়, সম্পদ ও পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। বোস্টন ইউনিভার্সিটির হিসাবে, যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৭৫ হাজার ডলার বা তার কম এবং সম্পদ স্বাভাবিক পর্যায়ে, তাদের জন্য আর্থিক সহায়তায় পুরো টিউশন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত আবাসন ও খাবারের খরচও কভার হতে পারে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর সম্ভাব্য নেট খরচ শূন্য হতে পারে। ৭৫ হাজার ১ ডলার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত আয় করা পরিবারের ক্ষেত্রে পুরো টিউশনসহ অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার পর নেট খরচ বছরে ১০ হাজার ডলার বা তার কম হতে পারে। ১ লাখ ১ ডলার থেকে দেড় লাখ ডলার আয় করা পরিবারের ক্ষেত্রে নেট খরচ ১৫ হাজার ডলার বা তার কম হতে পারে। আর পরিবারের আয় দেড় লাখ ১ ডলার থেকে ২ লাখ ডলারের মধ্যে হলে পুরো টিউশন কভার করার পাশাপাশি আবাসন ও খাবারের খরচের একটি অংশ সহায়তার আওতায় আসতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে এ স্তরে নেট খরচ ২০ হাজার ডলার বা তার কম হতে পারে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বোস্টন ইউনিভার্সিটির পূর্ণ টিউশন ফি ৭৩ হাজার ২৪ ডলার। আবাসন, খাবার, ফি, বই এবং অন্যান্য খরচ যোগ করলে আবাসিক শিক্ষার্থীর মোট আনুমানিক বার্ষিক খরচ প্রায় ৯৮ হাজার ৪১৯ ডলার। এই বিশাল খরচের তুলনায় নতুন আর্থিক সহায়তা অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে পরিবারের আয় ছাড়াও সম্পদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। আয়ের তুলনায় পরিবারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ থাকলে ২ লাখ ডলারের নিচে আয় হলেও নির্দিষ্ট সীমার আর্থিক সহায়তা নাও মিলতে পারে। ২ লাখ ডলারের বেশি আয় করা পরিবারের শিক্ষার্থীরাও আর্থিক সহায়তার বাইরে থাকবেন না। তাদের জন্য পরিবারের নির্দিষ্ট আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আলাদা সহায়তা প্যাকেজ তৈরি করবে বিশ্ববিদ্যালয়। বোস্টন ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় আবেদন ও কাগজপত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। সহায়তার যোগ্যতা নির্ধারণে পরিবারের আয় ও সম্পদের তথ্যের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত আর্থিক সহায়তা আবেদনও বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্যও এই নীতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবার সন্তানের জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ টিউশন ও আবাসন খরচ নিয়ে চিন্তিত, তাদের ক্ষেত্রে পরিবারের প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী বোস্টন ইউনিভার্সিটির সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ‘২ লাখ ডলারের কম আয় মানেই বিনামূল্যে পড়াশোনা’ এমন ধারণা ঠিক নয়। আয়, সম্পদ ও প্রদর্শিত আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার পরিমাণ নির্ধারিত হবে। তাই আবেদন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তার শর্ত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।