সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ভার্জিনিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়ারবল লটারিতে ভাগ্য খুলল দুই ভাইয়ের, জিতলেন ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা
যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়ারবল লটারিতে ভাগ্য খুলল দুই ভাইয়ের, জিতলেন ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে পাওয়ারবল লটারির টিকিট কিনে রাতারাতি ২ লাখ মার্কিন ডলার জিতে নিয়েছেন দুই ভাই। সৌভাগ্যের পরশ পাওয়া এই দুই ভাই লটারিতে জেতা বিপুল পরিমাণ অর্থ নিজেদের মধ্যে সমানভাগে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভার্জিনিয়া লটারি কর্মকর্তাদের বরাতে সম্প্রতি এই মজাদার ও চমকপ্রদ তথ্যটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।   জানা গেছে, ভার্জিনিয়ার রোয়ানোকে শহরের রাটগার্স স্ট্রিটে অবস্থিত একটি ক্রোগার সুপারশপে একসঙ্গে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন ওই দুই ভাই। কেনাকাটার একপর্যায়ে তাদের একজন একটি লটারির ভেন্ডিং মেশিনের কাছে থেমে পাওয়ারবল টিকিট কাটেন।   সে সময় অপর ভাই মজার ছলে তাকে বলেছিলেন, "বিজয়ী নম্বরগুলো কিনতে কিন্তু ভুলিস না!" আশ্চর্যের বিষয় হলো, তার সেই কথাটিই যেন অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বরের ড্রতে তাদের কেনা টিকিটের নম্বরগুলো সত্যিই বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হয়।   লটারির ওই ড্রতে তাদের টিকিটের প্রথম পাঁচটি নম্বরের মধ্যে চারটি নম্বর এবং পাওয়ারবল নম্বরটি হুবহু মিলে যায়। এর ফলে তারা প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার ডলারের পুরস্কার জেতেন। তবে টিকিট কেনার সময় 'পাওয়ার প্লে' অপশনটি চালু থাকায় তাদের পুরস্কারের অঙ্ক চার গুণ বেড়ে যায় এবং মোট পুরস্কারের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা)। অপ্রত্যাশিত এই বিজয়ের পর উচ্ছ্বসিত দুই ভাই জানিয়েছেন, তারা নগদ এই অর্থ সমান দু'ভাগে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেবেন। 

ইসতিয়াক আহমেদ নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১৩:০
কর্মজীবীদের জন্য ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পরিচালনা করছে ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটির রবার্ট ই. সাইমন স্কুল অব বিজনেস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির পাশাপাশি এমবিএ করার সুযোগ, ভার্জিনিয়ায় ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটির উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ভার্জিনিয়ার প্রযুক্তি ও ব্যবসাকেন্দ্রিক এলাকায় কর্মজীবীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে এমবিএ কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটি। ওয়াশিংটন ডিসি মহানগর এলাকার রেস্টন শহরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির রবার্ট ই. সাইমন স্কুল অব বিজনেসে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর (এমবিএ) ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। কর্মজীবনের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আগ্রহীদের কথা বিবেচনায় রেখে কর্মসূচিটি সাজানো হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের পাঠের সঙ্গে বাস্তব ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনার ধারণা যুক্ত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।   ২০১৪ সালের বসন্তে ভার্জিনিয়ার রেস্টনে যাত্রা শুরু করে ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার পেছনে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের পাশাপাশি রেস্টন শহরের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রবার্ট ই. সাইমনের সমর্থন ছিল। তাঁর নামেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগটির নামকরণ করা হয়েছে রবার্ট ই. সাইমন স্কুল অব বিজনেস। টেকসই উন্নয়ন, বৈচিত্র্য এবং সামাজিক সংহতির মতো মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।   বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান উত্তর ভার্জিনিয়ার ডালেস প্রযুক্তি করিডরে, যেখানে মাইক্রোসফট ও ওরাকলের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে। রেস্টনের উইহলে-রেস্টন ইস্ট মেট্রো স্টেশনের সিলভার লাইন থেকে ক্যাম্পাসে হেঁটে প্রায় পাঁচ মিনিটে পৌঁছানো যায়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে গাড়ি রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ওয়াশিংটন ডিসি ও আশপাশের এলাকায় কর্মরত পেশাজীবীদের জন্য ক্যাম্পাসে যাতায়াত তুলনামূলক সহজ।   কর্মজীবীদের উপযোগী করে এমবিএ কর্মসূচিতে সন্ধ্যা ও সপ্তাহান্তের ক্লাসের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলা বুলেটিন। এর ফলে পূর্ণকালীন চাকরি চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির পাঠ্যক্রমে আর্থিক হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনাগত অর্থনীতি, পরিসংখ্যান, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায় আইন এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   এমবিএ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা চারটি বিশেষায়িত ক্ষেত্রের মধ্যে পছন্দ করতে পারেন। এগুলো হলো আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও অর্থায়ন, তথ্যব্যবস্থা ও ই-বাণিজ্য, ব্যবস্থাপনা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন। আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও অর্থায়ন বিষয়ে পড়লে বৈশ্বিক বাজার, বিনিয়োগ ও করপোরেট অর্থায়ন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অন্যদিকে তথ্যব্যবস্থা ও ই-বাণিজ্য বিষয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং তথ্যের নিরাপত্তার মতো বিষয় শেখার সুযোগ রয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত পাঠ্যক্রম অনুযায়ী, এমবিএ ডিগ্রি অর্জনের জন্য মোট ১২টি কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। এতে বাধ্যতামূলক বিষয়, পছন্দের বিশেষায়িত ক্ষেত্র এবং একটি ব্যবহারিক প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শেষ পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাপস্টোন প্রকল্প, তত্ত্বাবধানে ব্যবহারিক কাজ অথবা কোনো প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগের সুযোগ পান। এর মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব ব্যবসায়িক পরিবেশের সংযোগ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে।   পাঠ্যক্রমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আন্তর্জাতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিবেশে ব্যবস্থাপনার দক্ষতা তৈরি করা। বর্তমান ব্যবসায়িক জগতে বিভিন্ন দেশের কর্মী, গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন বাড়ছে। সে কারণে আন্তর্জাতিক বাজার সম্পর্কে ধারণা, বহুসাংস্কৃতিক দলের নেতৃত্ব এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলা বুলেটিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি বাস্তব শিল্প ও ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতাকে বিবেচনা করা হয়।   বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এমবিএ কর্মসূচির মোট টিউশন ফি ১৯ হাজার ৬৫৬ ডলার। প্রতি কোয়ার্টার ক্রেডিটের খরচ ৩৬৪ ডলার এবং প্রতিটি কোর্সের জন্য নির্ধারিত ফি ১ হাজার ৬৩৮ ডলার। টিউশন ফির বাইরে নিবন্ধন, বইপত্র, কম্পিউটার ব্যবহার এবং আবাসন ও যাতায়াতের মতো খরচও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত আনুমানিক হিসাবে এসব খরচসহ একজন শিক্ষার্থীর বার্ষিক ব্যয় প্রায় ২৭ হাজার ১১৪ ডলার হতে পারে। তবে আবাসন, খাবার ও ব্যক্তিগত ব্যয়ের পরিমাণ শিক্ষার্থীর পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হবে।   এমবিএর পাশাপাশি ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটিতে জনপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর (এমপিএ) কর্মসূচিও রয়েছে। এ ছাড়া ডিজিটাল বিপণন ও ই-বাণিজ্যসংক্রান্ত বিশেষায়িত পাঠ্যক্রম পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, ভার্জিনিয়ার উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্টেট কাউন্সিল অব হায়ার এডুকেশন ফর ভার্জিনিয়া (এসসিএইচইভি) থেকে ২০১৬ সালের মে মাসে পরিচালনার অনুমোদন পেয়েছে।   তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্বীকৃতির বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। ক্লেয়ারউডের নিজস্ব ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে অ্যাক্রেডিটিং কমিশন অব ক্যারিয়ার স্কুলস অ্যান্ড কলেজেস (এসিসিএসসি) থেকে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকৃতি পেয়েছে। অন্যদিকে এসিসিএসসির প্রকাশিত ২০২৬ সালের নভেম্বরের বিবেচনাধীন প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটিকে প্রাথমিক আবেদনকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ দুই তথ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় ভর্তির আগে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান স্বীকৃতির অবস্থা সরাসরি সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   উত্তর ভার্জিনিয়ার প্রযুক্তি ও ব্যবসায় খাতের বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মজীবীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটি। বিশেষ করে যারা চাকরি ছেড়ে না দিয়ে ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন কিংবা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায় উচ্চতর দক্ষতা অর্জন করতে চান, তাদের জন্য প্রতিষ্ঠানটির এমবিএ কর্মসূচি একটি বিকল্প হতে পারে। তবে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম, মোট ব্যয়, ক্লাসের সময়সূচি এবং ডিগ্রির স্বীকৃতির বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।   সূত্র: বাংলা বুলেটিন, ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট এবং অ্যাক্রেডিটিং কমিশন অব ক্যারিয়ার স্কুলস অ্যান্ড কলেজেস (এসিসিএসসি)।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৩:০
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোতে নতুন মসজিদ এবং ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোতে নতুন মসজিদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে অগ্রগতি

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে নতুন মসজিদ ও ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার দুটি পৃথক উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ভার্জিনিয়ার নর্টন শহরে একটি সাবেক ব্যাংক ভবন কিনে ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্কিতে নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদনের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে দুটি প্রকল্প নিয়েই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।   ভার্জিনিয়ার নর্টন শহরের ৭০২ পার্ক অ্যাভিনিউতে সাবেক ব্যাংক অব আমেরিকার ভবনটিকে কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের পরিকল্পনা করেছে ইসলামিক লিডারশিপ ইনস্টিটিউট অব আমেরিকা। মেরিল্যান্ডভিত্তিক এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সেখানে মুসলমানদের নামাজ আদায়ের জায়গার পাশাপাশি তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কার্ডিনাল নিউজের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ভবনটি কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।   প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট আয়মান নাসার জানিয়েছেন, শুধু ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা নয়, দক্ষিণ-পশ্চিম ভার্জিনিয়ার মানুষের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশেও কাজ করতে চান তাঁরা। পরিকল্পিত কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টারে তরুণদের জন্য কর্মশালা, ছোট লাইব্রেরি, বিনোদনের জায়গা এবং বিভিন্ন কমিউনিটি প্রোগ্রামের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে তারা।   তবে নর্টনে ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ আপত্তি জানিয়েছেন। অক্টোবরের শুরুতে সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে এক ডজনের বেশি বাসিন্দা প্রকল্পটির বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে কয়েকজন বাসিন্দা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার দিয়েছে। ২৭ অক্টোবর আয়োজিত একটি উন্মুক্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা করেন উদ্যোক্তারা। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রটির কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।   এদিকে নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্কির নর্থ ভ্যালি এলাকায় নতুন মসজিদ নির্মাণের পথে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বাধা দূর হয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর বার্নালিলো কাউন্টি কমিশনাররা চার ভোটের বিপরীতে এক ভোটে প্রকল্পটির অনুমোদনের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করেন। এর ফলে আলবুকার্কি ইসলামিক সেন্টারের নতুন মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর আগে ১ জুলাই কাউন্টির পরিকল্পনা কমিশন পাঁচ ভোটের বিপরীতে এক ভোটে প্রকল্পটি অনুমোদন করেছিল।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলবুকার্কির সেকেন্ড স্ট্রিট নর্থওয়েস্ট এলাকায় নতুন মসজিদটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান মসজিদে জায়গার সংকট থাকায় বড় পরিসরে নামাজের ব্যবস্থা করতে চাইছে মুসলিম কমিউনিটি। প্রকল্পের প্রকৌশলী জোসেফ তাহাত জানিয়েছেন, জুমার নামাজের সময় বর্তমান মসজিদে প্রায় ১২০টি গাড়ি এলেও পার্কিংয়ের জায়গা রয়েছে মাত্র ৬৪টি। নতুন প্রকল্পে ২৩৫টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।   তবে প্রস্তাবিত মসজিদকে ঘিরে যানজট, সড়কের সক্ষমতা এবং এলাকার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। একটি স্থানীয় নেইবারহুড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির করা আপিলে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। আপিলকারীর প্রতিনিধির দাবি, তাঁদের আপত্তি ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নয়, বরং যানবাহন চলাচল ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিয়ে। অন্যদিকে প্রকল্পটির পক্ষে অবস্থান নেওয়া বাসিন্দারা ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মুসলিম কমিউনিটির উপাসনালয়ের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন।   কাউন্টি কর্তৃপক্ষ মসজিদ নির্মাণের অনুমোদনের সঙ্গে ১৫টি শর্ত যুক্ত করেছে। এর মধ্যে ভবনের উচ্চতা সর্বোচ্চ ২৬ ফুট রাখা, সেখানে স্কুল পরিচালনা না করা এবং ভবনের বাইরে শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহার না করার শর্ত রয়েছে। নির্মাণের পারমিট দেওয়ার আগে যানবাহন চলাচলের প্রভাবসংক্রান্ত সমীক্ষাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেতে হবে। প্রয়োজনে সড়ক উন্নয়নের ব্যয়ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হতে পারে।   নিউ মেক্সিকোতে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগের পক্ষে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে সমর্থন জানিয়েছেন সান্তা ফের ক্যাথলিক আর্চবিশপ জন চার্লস ওয়েস্টার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধর্মীয় স্বাধীনতার সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তবে প্রশাসনিক অনুমোদনের অগ্রগতি হলেও নির্মাণকাজ শুরুর আগে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে হবে।   ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোর এই দুটি উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম কমিউনিটির ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের পৃথক উদাহরণ। একটি প্রকল্পে বিদ্যমান ভবনকে কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে, অন্যটিতে নতুন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ এগোচ্ছে। উভয় ক্ষেত্রেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নির্মাণসংক্রান্ত নিয়মকানুন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে কোনো প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের দুই অঙ্গরাজ্যে মুসলিমদের উপাসনালয় ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগে অগ্রগতি হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোতে এগোচ্ছে মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে মুসলিমদের উপাসনালয় ও কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার দুটি উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ভার্জিনিয়ার নর্টন শহরে একটি ইসলামিক সংগঠন সাবেক ব্যাংক ভবন কিনে সেখানে কমিউনিটি সেন্টার ও নামাজের স্থান প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্ক শহরে নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদনের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন বার্নালিলো কাউন্টির কমিশনাররা।   ভার্জিনিয়ার নর্টনে অবস্থিত সাবেক ব্যাংক অব আমেরিকার ভবনটি ৩ লাখ ডলারে কিনেছে মেরিল্যান্ডভিত্তিক একটি ইসলামিক অলাভজনক সংগঠন। গত ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার ভবনটির ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কার্ডিনাল নিউজ জানিয়েছে, ভবনটির নির্ধারিত মূল্য ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ ডলার। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আইমান নাসার জানিয়েছেন, এ উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ১৯০ জনের বেশি দাতা সহায়তা দিয়েছেন। তবে কেন্দ্রটি চালুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেন্দ্রটিতে শুধু মুসলিমদের নামাজের ব্যবস্থাই থাকবে না, বরং সব ধর্মের মানুষের জন্য বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তরুণদের উন্নয়ন, কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো কর্মসূচিও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ভবনটির প্রথম তলায় এসব কার্যক্রম শুরু হতে পারে। নাসারের হিসাব অনুযায়ী, নর্টন ও ওয়াইজ কাউন্টিতে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ জন মুসলিম বসবাস করেন। বর্তমানে তাঁদের নিকটতম মসজিদে যেতে টেনেসির জনসন সিটিতে প্রায় দেড় ঘণ্টা গাড়ি চালাতে হয়।   নর্টনে এই উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গত ২০ অক্টোবর শহরের কাউন্সিল সভায় এক ডজনের বেশি বাসিন্দা পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেন। তাঁদের কয়েকজন ইসলাম ধর্ম নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন। সভার আগে মেয়র জো ফাউবুশ জানান, ভবনটি শহরের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকার আওতাভুক্ত, যেখানে গির্জা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কার্যালয় পরিচালনার অনুমতি রয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত কার্যক্রমের জন্য এখন পর্যন্ত নগর কর্তৃপক্ষের কোনো বিশেষ অনুমোদনের প্রয়োজন হয়নি।   শহরের ব্যবস্থাপক জেফ শুপে কার্ডিনাল নিউজকে বলেন, ভবনটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়ায় এর বিক্রয়প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার নগর কর্তৃপক্ষের নেই। তবে ভবনের অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরিবর্তন করে নতুন ব্যবহার শুরু করতে হলে সংশ্লিষ্ট অনুমতিপত্র নিতে হবে। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা মাইকেল স্টাবলফিল্ড ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারের কথা উল্লেখ করে উদ্যোগটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। গত ২৭ অক্টোবর আয়োজিত এক উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে ১৬ জন অংশ নেন। তাঁদের অনেকেই তরুণদের উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান।   আলবুকার্কের মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। শহরের নর্থ ভ্যালি এলাকায় সেকেন্ড স্ট্রিট এনডব্লিউ ও আলামেডা বুলেভার্ডের কাছে নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন বহাল রেখেছেন বার্নালিলো কাউন্টির কমিশনাররা। গত ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত শুনানিতে ৪-১ ভোটে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ হয়। নিউ মেক্সিকো সেন্টিনেল ও দ্য পেপার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় একটি প্রতিবেশী সংগঠনের সভাপতি প্যাট হাউজার এই আপিল করেছিলেন। তাঁর পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রকল্পটির কারণে আশপাশের সড়কে যানজট বাড়তে পারে এবং এলাকাটির বিদ্যমান অবকাঠামো অতিরিক্ত চাপ সামলাতে পারবে কি না, তা যথেষ্টভাবে যাচাই করা হয়নি।   বর্তমানে আলবুকার্ক ইসলামিক সেন্টারের মসজিদে জায়গার সংকট রয়েছে। প্রকল্পের প্রকৌশলী জোসেফ তাহাত কমিশনারদের জানান, শুক্রবারের জুমার নামাজে প্রায় ১২০টি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য আসে, অথচ বর্তমান ভবনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র ৬৪টি গাড়ির। নতুন স্থাপনায় ২৩৫টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে আপিলকারী পক্ষের প্রতিনিধি আন্দ্রেয়া আর্চুলেটা স্পষ্ট করে বলেন, তাঁদের আপত্তি কোনো ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নয়, বরং যানবাহন চলাচল ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিয়ে।   আপিল খারিজ হলেও মসজিদ নির্মাণের জন্য বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। অনুমোদনের সঙ্গে মোট ১৫টি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ভবনের উচ্চতা সর্বোচ্চ ২৬ ফুট রাখার পাশাপাশি সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং ভবনের বাইরে মাইকে শব্দ প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্মাণকাজের অনুমতিপত্র পাওয়ার আগে বার্নালিলো কাউন্টি, আলবুকার্ক নগর কর্তৃপক্ষ এবং নিউ মেক্সিকো পরিবহন বিভাগের অনুমোদনসহ যানবাহন চলাচলের ওপর প্রভাবসংক্রান্ত সমীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। প্রকল্পের কারণে সড়কের উন্নয়ন প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যয়ও মসজিদ কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হতে পারে।   দুই শহরের ঘটনায় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও স্থানীয় পরিকল্পনা বিধিমালার বিষয়টিও সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন ‘রিলিজিয়াস ল্যান্ড ইউজ অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনালাইজড পারসনস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ভূমি ব্যবহারের বিধিনিষেধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট আইনি শর্ত মানতে হয়। ধর্মীয় উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ কিংবা অযৌক্তিকভাবে ধর্মীয় কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করাও এই আইনের আওতায় বিবেচিত হতে পারে। ফলে ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোর ঘটনাগুলো শুধু দুটি স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নয়, যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনার অধিকার এবং স্থানীয় প্রশাসনিক বিধিমালার প্রয়োগ নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   সংবাদসূত্র: কার্ডিনাল নিউজ, নিউ মেক্সিকো সেন্টিনেল ও দ্য পেপার।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় শিশুদের ওপর নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগে এরিকা লিন সেয়ার ও ক্লিফোর্ড গেইল সেয়ার দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ভার্জিনিয়ায় ৩ শিশুকে হন্টেড বাড়িতে আটকে বছরের পর বছর নির্যাতন, দম্পতির বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে তিন শিশুর ওপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং অবহেলার অভিযোগে এক দম্পতির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা হয়েছে। জ্যাকসন কাউন্টির শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্তের পর এরিকা লিন সেয়ার, ৪৫, এবং তাঁর স্বামী ক্লিফোর্ড গেইল সেয়ার, ৪৬, ছয়টি করে অভিযোগের মুখে পড়েছেন। শিশুদের ওই বাড়ি থেকে সরিয়ে নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।   স্থানীয় শেরিফের ভাষায়, শিশুদের বসবাসের পরিবেশ ছিল ‘ভয়াবহ নির্যাতনের বাড়ি’। তদন্তকারীদের বরাতে জানা গেছে, শিশুদের অভিযোগ অনুযায়ী, বছরের পর বছর তাঁদের মারধর করা, শ্বাসরোধ করার চেষ্টা, খাবার ও পানি থেকে বঞ্চিত করা এবং টয়লেট ব্যবহারে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।   তদন্তে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে, শাস্তি হিসেবে শিশুদের বিছানায় ব্যবহৃত বিড়ালের নোংরা লিটার ফেলে দেওয়া হতো এবং তাদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রে কুকুরের মল লাগানো হতো। কখনো কখনো পাথরকুচি ছড়ানো রাস্তার ওপর খালি পায়ে দৌড়াতে বাধ্য করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।   শিশুদের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘরের বিভিন্ন জিনিস দিয়ে তাঁদের মারধর করা হতো, এতে কারও কারও শরীরে রক্তপাতের মতো আঘাতের সৃষ্টি হয়। তাঁদের নোংরা মোজা মুখে দিতে বাধ্য করা এবং জোর করে চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।   তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি শিশু জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক একটি যন্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়েছিল। এতে রক্তপাত হলেও তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। আরেক শিশুকে নির্যাতনের কথা শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষকে জানালে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   শিশুদের মৃত জৈবিক বাবা-মাকে নিয়েও কটূক্তি ও মানসিকভাবে হয়রানি করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় এক শিশু আবেগাপ্লুত হয়ে জানায়, সে ওই বাড়িতে আর ফিরতে চায় না। অন্য এক শিশু বছরের পর বছর নির্যাতনের কথা তুলে ধরে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে।   শেরিফের কার্যালয়ের অভিযোগ, ক্লিফোর্ড সেয়ার বারবার নির্যাতনের ঘটনা দেখেও তা বন্ধ করার উদ্যোগ নেননি। বরং একটি ঘটনায় তিনি এক শিশুর হাত ধরে রেখেছিলেন, আর এরিকা ক্ষুর দিয়ে তার চুল কাটছিলেন। এতে শিশুটি আহত হয় বলে অভিযোগ।   জ্যাকসন কাউন্টির শেরিফ রস মেলিঙ্গারের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, তদন্তকারীরা শিশুদের শরীরে এমন কিছু দাগ পেয়েছেন, যা তাদের বর্ণিত নির্যাতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শিশুদের বক্তব্যের মধ্যেও মিল পাওয়া গেছে। তদন্তে একাধিক সাক্ষাৎকার, চিকিৎসা পরীক্ষা এবং ছবি সংগ্রহের তথ্য উঠে এসেছে।   মামলায় এরিকার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাতের কারণ হওয়া শিশু নির্যাতনের তিনটি এবং আঘাতের ঝুঁকি তৈরি করে এমন শিশু অবহেলার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ক্লিফোর্ডের বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাতের কারণ হওয়া শিশু অবহেলার তিনটি এবং আঘাতের ঝুঁকি তৈরি করে এমন শিশু অবহেলার তিনটি অভিযোগ রয়েছে। দুজনের বিরুদ্ধেই মোট ছয়টি করে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুজনই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এরিকার প্রাথমিক শুনানির তারিখ ২০ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্লিফোর্ডের শুনানিও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী হওয়ার কথা রয়েছে।   তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁদের বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ফুটবল খেলা দেখতে স্ত্রীকে চেয়ারে বেঁধে রাখার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় গ্রেপ্তার ৬৪ বছর বয়সী টেরি ওয়ার্ড। ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল খেলা দেখার মাঝে ‘বাধা’, স্ত্রীকে ৪৫ মিনিট চেয়ারে বেঁধে রাখার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে ফুটবল খেলা দেখার সময় স্ত্রীকে টেপ দিয়ে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখার অভিযোগে ৬৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম টেরি ওয়ার্ড। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বিঘ্নে ফুটবল খেলা দেখতে বাড়ির বেজমেন্টে স্ত্রীকে চেয়ারের সঙ্গে আটকে রেখেছিলেন তিনি। ওই নারী প্রায় ৪৫ মিনিট পর্যন্ত বাঁধা অবস্থায় ছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ওয়ার্ডের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে আটকে রাখা এবং পরিবারের সদস্যকে আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।   গালফ নিউজের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউটিভিআর সিবিএস সিক্স নিউজের হাতে আসা ফৌজদারি অভিযোগপত্রে ঘটনাটির বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। গত রোববার রাতে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্ত্রীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। পরে টেরি ওয়ার্ডকে গ্রেপ্তার করা হয়।   অভিযোগপত্র অনুযায়ী, টেরি ওয়ার্ডের স্ত্রী পুলিশকে জানান, তাঁর স্বামী বাড়ির নিচতলার বেজমেন্টে একটি চেয়ারের সঙ্গে তাঁকে টেপ দিয়ে বেঁধে রাখেন। এতে তিনি নিজের ইচ্ছামতো সেখান থেকে উঠে যেতে পারছিলেন না। পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে ওয়ার্ড স্ত্রীকে বেঁধে রেখে সেখানে চলে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।   ওই নারী তদন্তকারীদের জানান, তাঁকে সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চেয়ারের সঙ্গে আটকে রাখা হয়েছিল। ঘটনার পর তাঁর দুই হাতে টেপের অবশিষ্টাংশ এবং দাগ দেখতে পান কর্মকর্তারা। এসব তথ্য পুলিশের অভিযোগপত্রেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে ওই নারীর অন্য কোনো শারীরিক আঘাত কিংবা চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   ভার্জিনিয়ার আইন অনুযায়ী, টেরি ওয়ার্ডের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে কাউকে আটকে রাখার গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। এটি অঙ্গরাজ্যের আইনে পঞ্চম শ্রেণির গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যকে আঘাত করার অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১০ নভেম্বর আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে ওয়ার্ডের।   এদিকে ঘটনার সময় টেরি ওয়ার্ড ঠিক কোন ফুটবল ম্যাচ দেখছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার ফুটবল লিগের ম্যাচ দেখছিলেন, নাকি কলেজ পর্যায়ের কোনো খেলা দেখছিলেন, সে বিষয়েও তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য কিংবা আদালতে তিনি কী অবস্থান নিয়েছেন, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   স্ত্রীকে চেয়ারে বেঁধে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া টেরি ওয়ার্ডের মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে। আগামী ১০ নভেম্বর আদালতে তাঁর হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আইন অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।   সূত্র: গালফ নিউজ

তাবাস্সুম অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় ব্লেজার-সাদা শার্ট পরে মেডিকেল অফিসে চুরি, তিন ঘটনার পর গ্রেপ্তার ৬৭ বছরের বৃদ্ধ
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় ব্লেজার-সাদা শার্ট পরে মেডিকেল অফিসে চুরি, তিন ঘটনার পর গ্রেপ্তার ৬৭ বছরের বৃদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার মতো পরিপাটি পোশাক পরে একাধিক চিকিৎসা কেন্দ্রে (মেডিকেল অফিস) চুরির অভিযোগে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কার্লোস অ্যান্থনি মিচেল (৬৭) নামের ওই ব্যক্তি উডব্রিজ এলাকার বাসিন্দা। ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, চুরির সময় ওই ব্যক্তি ব্লেজার, সাদা শার্ট, গ্লাভস এবং টুপি পরে একদম পেশাদার ভদ্রলোকের বেশে ছিলেন। গত মে মাস থেকে শুরু করে সম্প্রতি পর্যন্ত মোট তিনটি বাণিজ্যিক চুরির ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।   পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, প্রথম চুরির ঘটনাটি ঘটে গত ১৯ মে উইলো ওকস করপোরেট ড্রাইভ এলাকার একটি বন্ধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। সেখানে ঢুকে ওই ব্যক্তি ক্যামেরা, ক্যামেরার সরঞ্জাম ও নগদ অর্থ চুরি করে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে চুরি যাওয়া সেসব সরঞ্জাম বন্ধক রাখার সূত্র ধরে তদন্তকারীরা মিচেলকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেন।   এরপর গত ৩ ও ১১ সেপ্টেম্বর ম্যাকলিন এবং ফেয়ার ওকস এলাকার আরও দুটি মেডিকেল অফিসে চুরির ঘটনা ঘটে। উভয় জায়গার সিসিটিভি ফুটেজে ব্লেজার, সাদা শার্ট, নীল বাকেট হ্যাট, গ্লাভস এবং মেডিকেল মাস্ক পরা একই ব্যক্তির উপস্থিতি দেখতে পান গোয়েন্দারা। পোশাক ও চুরির ধরনের এই মিল থেকেই তিনটি ঘটনার যোগসূত্র পরিষ্কার হয়ে যায়।   দীর্ঘ তদন্তের পর গত ২৯ সেপ্টেম্বর ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পুলিশের স্পেশাল ইউনিট মিচেলকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে চুরি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সম্পত্তি ধ্বংস এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে চোরাই মাল রাখার একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে এবং আগামী ২৮ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।   ভার্জিনিয়ার আইন অনুযায়ী, এই ধরনের চুরির অপরাধে এক থেকে বিশ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। অভিনব এই চোর আরও কোনো অপরাধের সাথে জড়িত কি না, তা নিয়ে পুলিশের তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
করোনাকালে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পার্সেল পৌঁছে দেওয়ায় ভার্জিনিয়ার বাসিন্দাদের কাছ থেকে সংবর্ধনা পান ইউপিএস চালক অ্যান্থনি গ্যাসকিন্স। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
করোনার লকডাউনে ঘরে ঘরে পার্সেল পৌঁছে দিতেন, সেই ইউপিএস চালককে ধন্যবাদ জানাতে রাস্তায় শত শত মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে করোনাভাইরাস মহামারির সময় নিয়মিত পার্সেল পৌঁছে দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন ইউপিএসের এক চালক। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রতিদিনের মতো নিজের নির্ধারিত পথে পণ্য পৌঁছে দিতে গিয়ে তিনি দেখেন, তাঁকে স্বাগত জানাতে রাস্তার পাশে অপেক্ষা করছেন শত শত মানুষ। কারও হাতে ধন্যবাদ লেখা প্ল্যাকার্ড, কেউ বাজাচ্ছেন ঘণ্টা, আবার কেউ গাড়ির হর্ন বাজিয়ে জানাচ্ছেন কৃতজ্ঞতা। অপ্রত্যাশিত এই আয়োজনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন চালক অ্যান্থনি গ্যাসকিন্স।   ঘটনাটি ঘটে ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড শহরের কাছের হলসলি আবাসিক এলাকায়। সেদিন নিজের নিয়মিত সরবরাহের পথে একটি মোড় ঘুরতেই গ্যাসকিন্স দেখতে পান, তাঁকে ঘিরে রেখেছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁর কাজের স্বীকৃতি জানাতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইউপিএসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও যোগ দেন। প্রতিদিনের সাধারণ কর্মদিবসটি মুহূর্তেই পরিণত হয় ব্যতিক্রমী এক সংবর্ধনায়।   করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সময় ঘরে থাকার বিধিনিষেধ ও সামাজিক দূরত্বের কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাপকভাবে বদলে গিয়েছিল। অনেক পরিবার তখন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহের জন্য সরবরাহকর্মীদের ওপর নির্ভর করত। খাবার, ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী থেকে শুরু করে দূরে থাকা আত্মীয়স্বজনের পাঠানো উপহারও পৌঁছে দিতেন ডেলিভারি চালকেরা। ওই সময় গ্যাসকিন্সও নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এলাকার অনেক পরিবারের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।   বাসিন্দাদের কাছে তাঁর অবদান শুধু পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকা মানুষের কাছে তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি ছিল বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগের একটি পরিচিত মাধ্যম। প্রতিদিনের কাজে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং যত্ন নিয়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের মনে বিশেষ জায়গা করে নেয়। মহামারির অনিশ্চয়তা ও বিচ্ছিন্নতার মধ্যে এই পরিচিত মুখটি অনেকের কাছে স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছিল।   এলাকার বাসিন্দা প্যাটি ফ্রিডম্যান গ্যাসকিন্সকে ধন্যবাদ জানানোর উদ্যোগটি সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি উপলব্ধি করেন, চালকটির আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতি এলাকার মানুষের মধ্যে গভীর কৃতজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। সেই অনুভূতিকে সম্মিলিতভাবে প্রকাশ করার জন্য তিনি অন্য বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং চমকপ্রদ আয়োজনটির পরিকল্পনা করেন। পরে শত শত মানুষ এতে অংশ নেন।   আয়োজনের সময় বাসিন্দারা বিভিন্ন বার্তা লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়ান। ঘণ্টা বাজিয়ে ও গাড়ির হর্ন দিয়ে তাঁরা গ্যাসকিন্সকে স্বাগত জানান। সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য পৌঁছে দিয়ে পরবর্তী গন্তব্যে চলে যাওয়াই ছিল তাঁর কাজ। কিন্তু সেদিন সেই পরিচিত পথেই তাঁকে থামতে হয় মানুষের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা গ্রহণের জন্য। তাঁর কর্মস্থলের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি আয়োজনটিকে আরও বিশেষ করে তোলে।   ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, সংকটের সময় মানুষের পাশে থাকা অনেক কর্মীর অবদান হয়তো প্রতিদিন চোখে পড়ে না, কিন্তু তা মানুষের মনে গভীর ছাপ রেখে যায়। মহামারির সময়ে স্বাস্থ্যকর্মী, সরবরাহকর্মী, পরিবহনকর্মী ও দোকানের কর্মচারীদের মতো পেশাজীবীরা নানা ঝুঁকি ও প্রতিকূলতার মধ্যেও জরুরি সেবা চালু রেখেছিলেন। গ্যাসকিন্সের জন্য এলাকাবাসীর এই আয়োজন ছিল সেই নীরব অবদানের প্রতি সম্মিলিত স্বীকৃতি।   একটি সাধারণ ডেলিভারি রুটে শত শত মানুষের উপস্থিতি তাই কেবল একজন কর্মীকে চমকে দেওয়ার ঘটনা ছিল না। দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার সময়ে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, পারস্পরিক নির্ভরতা এবং ছোট ছোট দায়িত্বের বড় প্রভাবের কথাও মনে করিয়ে দেয় এটি। নিজের নিয়মিত কাজের মধ্য দিয়েই গ্যাসকিন্স যে মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন, এলাকাবাসীর এই উদ্যোগ ছিল তারই এক আন্তরিক প্রতিফলন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পেনশন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ড্যানভিল শহরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে চাপে অবসর প্রাপ্তরা, পেনশন বাড়ানোর দাবি ভার্জিনিয়ার ড্যানভিলের কর্মীদের

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ড্যানভিল শহরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পেনশন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন নিয়মিত সমন্বয় না হওয়ায় মাসিক পেনশনের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। ড্যানভিল সিটি রিটায়ারমেন্ট এমপ্লয়ি কোয়ালিশনের মাধ্যমে তাঁরা সিটি কাউন্সিলের কাছে এই দাবি তুলেছেন।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউডিবিজে সেভেনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা পেনশনে কস্ট অব লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট বা কোলা পুনর্বহাল চান। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে অবসরভাতা সমন্বয়ের এই ব্যবস্থা ২০০৮ সালের পর আর পাননি বলে জানিয়েছেন তাঁরা।   সাবেক ফায়ারফাইটার স্ট্যান লটন ড্যানভিলে ২৪ বছর কাজ করেছেন। ঘাড়ে আঘাত ও অস্ত্রোপচারের পর ২০০৩ সালে অবসর নেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নিয়মিত সমন্বয় না হওয়ায় পেনশন দিয়ে আগের তুলনায় অনেক কম খরচ মেটানো যাচ্ছে। উদ্বেগ জানিয়ে সিটি কাউন্সিলকে চিঠি দিয়েও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পাননি বলে জানান লটন।    ড্যানভিল পুলিশ বিভাগের সাবেক জনতথ্য কর্মকর্তা মাইকেল ওয়ালেসও এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। তিনি ৩৩ বছর চাকরির পর ২০২১ সালে অবসর নেন। কয়েক দশক আগে অবসর নেওয়া কর্মীদের অনেকেই প্রায় একই অঙ্কের পেনশন পাচ্ছেন জানতে পেরে তিনি বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হন। কোয়ালিশনের আশা, শহরে নতুন রাজস্বের উৎস তৈরি হওয়ায় পেনশন বাড়ানোর সুযোগ বিবেচনা করবে কাউন্সিল।    শহর কর্তৃপক্ষের ২০২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১২ সালে অনুমোদিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে অবসরপ্রাপ্তদের কোলা বন্ধ করা হয়। একই সময়ে নির্দিষ্ট শর্তে এককালীন বোনাস দেওয়ার নীতি নেওয়া হয়েছিল। ফলে নিয়মিত পেনশন বৃদ্ধি বন্ধ থাকলেও অবসরপ্রাপ্তদের কোনো ধরনের বাড়তি অর্থই দেওয়া হয়নি, এমনটি নয়।    ওই নীতিতে বোনাসের পরিমাণ একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর মাসিক ভাতার সর্বোচ্চ অর্ধেক পর্যন্ত হতে পারে। তবে অর্থ বরাদ্দ ও অনুমোদন সিটি কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিলে সর্বশেষ বোনাস বাবদ মোট ৬ লাখ ৮১ হাজার ৯৭১ ডলার দেওয়া হয়েছিল। এককালীন এই অর্থ মাসিক পেনশনের স্থায়ী বৃদ্ধি নয়। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বর্তমান দাবি নিয়মিত ব্যয় সমন্বয়ের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ড. ফয়জুল ইসলামের উদ্যোগে পরিচালিত এসব কার্যক্রম
গ্রামের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি, কম্পিউটার শিক্ষা ও বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কেএআইএফ ফাউন্ডেশন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা কেএআইএফ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বাংলাদেশের একটি গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ড. ফয়জুল ইসলামের উদ্যোগে পরিচালিত এসব কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো গ্রামের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত দক্ষতা বাড়ানো এবং স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।   ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত জহিরউদ্দিন–হরমুজা ইংরেজি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা দুটি বিভাগ রয়েছে। নিয়মিত বিদ্যালয়ের সময়ের বাইরে সপ্তাহে চার দিন এসব ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হতে পারে।   ইংরেজি শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে রয়েছে জহিরউদ্দিন–হরমুজা কম্পিউটার সেন্টার। এখানেও নিয়মিত বিদ্যালয়ের সময়ের বাইরে সপ্তাহে চার দিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কম্পিউটার ব্যবহারের প্রাথমিক দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার যেসব শিক্ষার্থীর নিয়মিত কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ সীমিত, তাদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মজীবনে কাজে আসতে পারে।   শিক্ষা ও প্রযুক্তির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে এই উদ্যোগে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গ্রামের উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে রয়েছে জহিরউদ্দিন–হরমুজা মেডিকেল সেন্টার। কেন্দ্রটিতে বিনামূল্যে বহির্বিভাগের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। প্রতি শুক্রবার, অর্থাৎ স্থানীয় হাটের দিনে, চিকিৎসাকেন্দ্রটি খোলা থাকে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পান। তবে চিকিৎসাকেন্দ্রে কী ধরনের সেবা দেওয়া হয়, কোন কোন স্বাস্থ্যকর্মী দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে কতজন রোগী সেবা নেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   কেএআইএফ ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের লর্টন ও স্প্রিংফিল্ড এলাকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অলাভজনক সংস্থা। সংস্থাটি শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানবিক সহায়তা ও ধর্মীয় দাতব্য কর্মকাণ্ডে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হয় বলে জানানো হয়েছে। ফাউন্ডেশনটির অর্থায়নে পরিচালিত ইংরেজি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কম্পিউটার সেন্টার ও মেডিকেল সেন্টার একই এলাকার মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছে।   ড. ফয়জুল ইসলাম প্রায় ৩০ বছর ধরে দাতব্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়। তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফাউন্ডেশনের অর্থায়নের পরিমাণ, প্রকল্পগুলোর বার্ষিক ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা এবং কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে উদ্যোগগুলোর প্রকৃত ব্যাপ্তি ও প্রভাব মূল্যায়নের জন্য এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।   গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের ভাষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো এবং স্থানীয় মানুষের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহায়তার একটি উদাহরণ। কেএআইএফ ফাউন্ডেশনের এসব উদ্যোগ কতসংখ্যক শিক্ষার্থী ও রোগীর কাছে পৌঁছাচ্ছে, তা নির্দিষ্ট তথ্যের মাধ্যমে জানা গেলে এর সামাজিক প্রভাব আরও স্পষ্টভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।   স্যাম রিয়া ওয়াশিংটন ডিসি প্রতিনিধি 

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
পেন্টাগন এলাকায় আর্মি টেন-মাইলার দৌড় প্রতিযোগিতা
পেন্টাগন থেকে শুরু হচ্ছে ১০ মাইলের দৌড়, যান চলাচলে যেসব বিধিনিষেধ থাকছে

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি ও ভার্জিনিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রোববার আর্মি টেন-মাইলার দৌড় প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সকাল থেকেই পর্যায়ক্রমে এসব নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হওয়ায় প্রতিযোগিতার রুটের আশপাশে যাতায়াতকারী চালক ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে পেন্টাগন এলাকা এবং ওয়াশিংটন ডিসি ও ভার্জিনিয়ার মধ্যে চলাচলের ক্ষেত্রে বিকল্প পথ বেছে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এবারের ৪২তম আর্মি টেন-মাইলার প্রতিযোগিতা পেন্টাগন এলাকা থেকে শুরু হচ্ছে। দৌড়বিদেরা প্রায় ১০ মাইল পথ অতিক্রম করবেন। এই আয়োজনে অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে দৌড়বিদ ও দর্শকেরা আসেন। ফলে প্রতিযোগিতার শুরু ও শেষস্থলের কাছাকাছি সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে। পাশাপাশি পার্কিংয়ের সীমাবদ্ধতা এবং সাময়িক সড়ক বন্ধ থাকার কারণে আশপাশের বাসিন্দা ও যাত্রীদের চলাচলে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর্লিংটন কাউন্টির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা থেকে কয়েকটি সড়কে পর্যায়ক্রমে বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। আর্মি নেভি ড্রাইভের নির্দিষ্ট অংশ ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ রাখার কথা রয়েছে। লং ব্রিজ ড্রাইভের কিছু অংশেও সকালজুড়ে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এ ছাড়া দক্ষিণমুখী ইন্টারস্টেট ৩৯৫-এর এক্সিট ৮সি সকাল ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সূচি রয়েছে। একই সময়ে রুট ১১০-এর দক্ষিণমুখী অংশ সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকার কথা। এসব বিধিনিষেধের কারণে ওই সড়কগুলো ব্যবহারকারী চালকদের যাত্রার আগে বিকল্প পথ নির্ধারণ করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পেন্টাগন এলাকার পার্কিং ব্যবস্থাতেও বিধিনিষেধ থাকবে। কাউন্টির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পেন্টাগনের উত্তর দিকের পার্কিং লট এবং বাউন্ডারি চ্যানেল ড্রাইভে রোববার ভোর ৪টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। পেন্টাগনের কর্মী এবং পেন্টাগন মেমোরিয়ালে যাওয়া নির্দিষ্ট দর্শনার্থীদের জন্য দক্ষিণের পার্কিং এলাকায় বিকল্প ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে সাধারণ যাত্রীদের জন্য আশপাশে পার্কিংয়ের জায়গা পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ওই এলাকায় যাওয়ার আগে নির্ধারিত প্রবেশপথ, পার্কিংয়ের নিয়ম এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। নিষিদ্ধ এলাকায় গাড়ি রাখলে জরিমানা কিংবা গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। প্রতিযোগিতার প্রভাব পড়বে ওয়াশিংটন ডিসির সড়কেও। ডিসি পুলিশের ট্রাফিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কী ব্রিজ, হোয়াইটহার্স্ট ফ্রিওয়ে, পটোম্যাক রিভার ফ্রিওয়ে এবং ১৪তম স্ট্রিটের কিছু অংশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ থাকবে। ফলে ভার্জিনিয়া থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে যাতায়াতকারী কিংবা উল্টো পথে চলাচলকারী যাত্রীদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হতে পারে। এসব এলাকায় কিছু সড়কে পার্কিংও নিষিদ্ধ থাকবে। তাই রাস্তার পাশে গাড়ি রাখার আগে অস্থায়ী সাইনবোর্ড ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা দেখে নেওয়া জরুরি। প্রতিযোগিতা চলাকালে পুলিশের নির্দেশনা অনুসরণ করলে অপ্রত্যাশিত বিলম্ব ও জরিমানার ঝুঁকি এড়ানো সহজ হবে। গণপরিবহন ব্যবহারকারীদের জন্য পেন্টাগন ও পেন্টাগন সিটি মেট্রো স্টেশন সকাল ৬টা থেকে চালু থাকার কথা রয়েছে। প্রতিযোগিতার শুরু ও শেষস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় স্টেশন দুটি দর্শক এবং সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। তবে যাত্রার আগে মেট্রোর সর্বশেষ সময়সূচি ও স্টেশনে প্রবেশের পরিস্থিতি যাচাই করে নেওয়া ভালো। রাইডশেয়ার ব্যবহারকারীদেরও নির্ধারিত ওঠানামার স্থান ব্যবহার করা উচিত। প্রতিযোগিতার রুটের কাছে ইচ্ছেমতো যাত্রী ওঠানো বা নামানোর চেষ্টা করলে যানজটের মধ্যে পড়তে হতে পারে। এ কারণে যাত্রা শুরুর আগে ট্রাফিকের সর্বশেষ অবস্থা দেখে বের হওয়া এবং প্রয়োজনে কিছুটা অতিরিক্ত সময় হাতে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যাঁদের কর্মস্থল, চিকিৎসাকেন্দ্র, হোটেল কিংবা অন্য কোনো জরুরি গন্তব্য এই এলাকার আশপাশে, তাঁদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছানোর প্রয়োজন থাকলে বন্ধ সড়কের ওপর নির্ভর করে যাত্রাপথ ঠিক করা ঠিক হবে না। নেভিগেশন অ্যাপ বিকল্প পথ খুঁজতে সাহায্য করতে পারে। তবে পুলিশের নির্দেশনা এবং সড়কে থাকা অস্থায়ী নির্দেশক চিহ্নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আর্মি টেন-মাইলার যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বার্ষিক দৌড় প্রতিযোগিতা। এর উদ্দেশ্য সেনাবাহিনীর শারীরিক সক্ষমতা ও ফিটনেস কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা এবং সামরিক সদস্যদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ বাড়ানো। প্রতিযোগিতা থেকে পাওয়া অর্থ সেনাসদস্য ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহায়তা করে। দৌড়বিদদের কাছে আয়োজনটি উৎসবমুখর হলেও সড়ক বন্ধ, পার্কিংয়ের সীমাবদ্ধতা ও যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণের কারণে আশপাশের বাসিন্দা এবং চালকদের সাময়িক অসুবিধায় পড়তে হতে পারে। তাই রোববার পেন্টাগন ও ওয়াশিংটন ডিসির আশপাশে যাতায়াতের পরিকল্পনা থাকলে আগেই রুট যাচাই করা, বিকল্প পথ ঠিক রাখা এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় হাতে নিয়ে বের হওয়াই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
নিজের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি সরকারি ডলার গায়েব, দোষ স্বীকার সিআইএ কর্মকর্তার
নিজের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি সরকারি ডলার গায়েব, দোষ স্বীকার সিআইএ কর্মকর্তার

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডেভিড জে. রাশ ফেডারেল সরকারের প্রায় ১৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার দায় স্বীকার করেছেন। ভার্জিনিয়ার অ্যাশবার্নের বাসিন্দা ৪৯ বছর বয়সী রাশ মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ফেডারেল আদালতে ওয়্যার ফ্রডের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এফবিআই ২৯৮টি স্বর্ণের বার, বিপুল নগদ অর্থ এবং বিলাসবহুল ঘড়ি উদ্ধার করেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, রাশ একটি ফেডারেল সংস্থায় জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পর্যায়ে কর্মরত ছিলেন এবং তার টপ সিক্রেট ও সেনসিটিভ কম্পার্টমেন্টেড ইনফরমেশন নিরাপত্তা অনুমোদন ছিল। সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ নিশ্চিত করেছেন, সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে সম্ভাব্য অপরাধ শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি এফবিআইয়ের কাছে পাঠানো হয়।   আদালতের নথি অনুযায়ী, রাশ নিজের সরকারি পদ ও নিরাপত্তা অনুমোদনকে কাজে লাগিয়ে কাল্পনিক সরকারি কর্তৃত্ব তৈরি করেন। এমনকি তিনি একটি ভুয়া স্পেশাল অ্যাকসেস প্রোগ্রামও দাঁড় করান, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।   বিচার বিভাগের হিসাবে, এই জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি মোট প্রায় ১৯ কোটি ৩৫ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ ডলার সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন। এর একটি অংশ দিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার কেনেন এবং প্রায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিভিন্ন ওয়্যার ট্রান্সফারের মাধ্যমে সরিয়ে নেন।   তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থ পরে ফ্লোরিডায় বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট, দামি ঘড়ি এবং অন্তত একটি গাড়ি কিনতে ব্যবহার করা হয়। সরকারি অর্থে কেনা স্বর্ণের বারগুলোর আনুমানিক মূল্য ছিল ৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার।   গত ১৯ মে এফবিআই রাশের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেখানে ২৯৮টি স্বর্ণের বার, প্রায় ২১ লাখ ৬ হাজার ৫৫০ ডলার নগদ অর্থ, ১ লাখ ৪ হাজার ৭৯৫ ইউরো এবং বিপুলসংখ্যক বিলাসবহুল ঘড়ি উদ্ধার করা হয়।   দোষ স্বীকারের চুক্তির অংশ হিসেবে রাশ উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের বার ও নগদ অর্থ, প্রতারণার অর্থে কেনা সম্পত্তি, ৩০টি ঘড়ি এবং দুটি ২০২৬ মডেলের বিএমডব্লিউ আলপিনা গাড়ি সরকারের কাছে সমর্পণ করতে সম্মত হয়েছেন। এসব ঘড়ির অনেকগুলোই রোলেক্স। দুটি গাড়ির মধ্যে অন্তত একটির মূল্য প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার ডলার।   বিচার বিভাগের নথিতে আরও বলা হয়েছে, রাশ নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সামরিক অভিজ্ঞতা সম্পর্কেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে জ্যেষ্ঠ সরকারি পদে পৌঁছেছিলেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি ব্যবস্থার নিরাপত্তা প্রটোকলকে ব্যক্তিগত লাভের জন্য অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশের বিরুদ্ধে শ্রেণিবদ্ধ তথ্য বিদেশি এক কর্মকর্তাকে দেওয়ার ঘটনাও উঠে এসেছে। এ বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়েছে এবং তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।   সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ বলেছেন, সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে সম্ভাব্য অপরাধ ধরা পড়ার পর তা দ্রুত এফবিআইকে জানানো হয়। তিনি বলেন, রাশ তার দায়িত্ব ও জনআস্থার অপব্যবহার করেছেন এবং তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।   এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেছেন, নিজের স্বীকারোক্তিতেই রাশ সরকারি অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে নিয়েছিলেন এবং সেই অর্থ বিলাসবহুল কেনাকাটায় ব্যবহার করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো সরকারি পদ, নিরাপত্তা অনুমোদন বা সরকারি সম্পদের প্রবেশাধিকার কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখে না।   যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চও ঘটনাটিকে জনআস্থার গুরুতর অপব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিচার বিভাগের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডিভিশন বলেছে, এই প্রতারণা শুধু আর্থিক ক্ষতিই করেনি, গোয়েন্দা সংস্থার ওপর জনগণের আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে।   ডেভিড রাশের সাজা ঘোষণা করা হবে ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায়। ওয়্যার ফ্রডের অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এর পাশাপাশি তিন বছরের সুপারভাইজড রিলিজ, ক্ষতিপূরণ, সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং জরিমানার মুখোমুখিও হতে পারেন তিনি।   মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান। যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ইতোমধ্যে ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটির ইন্সপেক্টর জেনারেলকে আলাদা তদন্ত শুরু করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে মামুনুর রশীদের নাটক ‘অমানুষ’। ছবি: সংগৃহীত
ভার্জিনিয়ায় আজ মঞ্চস্থ হচ্ছে ‘অমানুষ’, জান্নাতুল টুম্পার নির্দেশনায় প্রথমবার তমালিকা ও সাঈদ বাবু

ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় আজ, রোববার ৪ অক্টোবর, মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে নাট্যকার মামুনুর রশীদের রচনা ‘অমানুষ’। সূচনা থিয়েটারের প্রযোজনায় নাটকটির নির্দেশনায় রয়েছেন জান্নাতুল টুম্পা। এই প্রদর্শনীতে প্রথমবারের মতো তাঁর নির্দেশনায় অভিনয় করছেন তমালিকা কর্মকার ও সাঈদ বাবু। আলেকজান্দ্রিয়ার লি সেন্টারে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় নাটকটির প্রদর্শনী শুরু হবে।   ‘অমানুষ’ নাটকটির এটি চতুর্থ প্রদর্শনী। এর আগে নিউ জার্সিতে দুটি এবং নিউইয়র্কে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগের প্রদর্শনীগুলোতে সংশ্লিষ্ট চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মিতালী দাস ও হীরা চৌধুরী। এবার সেই চরিত্রে অভিনয় করছেন তমালিকা কর্মকার ও সাঈদ বাবু।   নাটকের গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন একজন আদর্শবাদী শিক্ষক। শিক্ষিত ও মানবিক একটি সমাজ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা এই মানুষটি দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সামাজিক চাপের মুখে ধীরে ধীরে নিজের আদর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। হতাশা ও বাস্তবতার সংঘাত তাঁকে গভীর সংকটের দিকে নিয়ে যায়। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী স্বপ্ন ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে তা ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।   সমাজের অবক্ষয়, মানুষের মূল্যবোধ এবং প্রতিকূল বাস্তবতার সঙ্গে ব্যক্তির সংঘাতই নাটকটির মূল বিষয়। গল্পের মধ্য দিয়ে দর্শকের সামনে উঠে আসে মানুষের মানবিকতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সামাজিক চাপ, অনিয়ম ও বাস্তবতার কাছে মানুষ কি একসময় নিজের মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলে, সেটিই নাটকের অন্যতম কেন্দ্রীয় ভাবনা।   ‘অমানুষ’ দিয়েই প্রথমবার মঞ্চনাটক নির্দেশনায় আসেন জান্নাতুল টুম্পা। প্রায় দুই দশক ধরে নাট্যপ্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আগে মঞ্চ নির্দেশনার পরিকল্পনা ছিল না তাঁর। নাট্যকার মামুনুর রশীদের আগ্রহেই তিনি এই নাটকের নির্দেশনার দায়িত্ব নেন।   গত ১৪ জুন নিউ জার্সির নিউ ব্রান্সউইকে অনুষ্ঠিত ২১তম সাউথ এশিয়ান থিয়েটার ফেস্টিভ্যালে দুটি প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে ‘অমানুষ’-এর যাত্রা শুরু হয়। পরে নিউইয়র্কে তৃতীয় প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এবার ভার্জিনিয়ার মঞ্চে নতুন অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে নাটকটির চতুর্থ প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে।   দীর্ঘ বিরতির পর ‘অমানুষ’ নাটকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মঞ্চে ফিরছেন তমালিকা কর্মকার। বাংলাদেশের মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। যুক্তরাষ্ট্রে মঞ্চে ফেরার আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বহু বছর পর আবার মঞ্চে ওঠার কারণে তাঁর মধ্যে যেমন আনন্দ রয়েছে, তেমনি দর্শকের সামনে নতুন করে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার অনুভূতিও রয়েছে।   আজকের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে আলেকজান্দ্রিয়ার ১১০৮ জেফারসন স্ট্রিটের লি সেন্টারে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দর্শকদের জন্য দরজা খোলা হবে বিকেল ৫টায় এবং নাটক শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায়। টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ ও ৫০ ডলার।   ভার্জিনিয়া ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাট্যপ্রেমীদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে বিশেষ একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন। মামুনুর রশীদের লেখা, জান্নাতুল টুম্পার নির্দেশনা এবং তমালিকা কর্মকার ও সাঈদ বাবুর অভিনয়ে ‘অমানুষ’ আজ আলেকজান্দ্রিয়ার মঞ্চে দর্শকদের সামনে তুলে ধরবে মানুষের পরিচয়, সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিকতার নানা প্রশ্ন।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হওয়া দুই ভাই, আজ নিজ শহরের হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের প্রধান
যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হওয়া দুই ভাই, আজ নিজ শহরের হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের প্রধান

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা যমজ ভাই ডা. ট্রাভান এবং ডা. ট্র্যাভিস জ্যাসপার এখন নিজ শহরেরই একটি স্বনামধন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুই ভাই বর্তমানে রিচমন্ডের চিপেনহ্যাম হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের কো-ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।   নিজ শহরে এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছানোর অনুভূতি প্রকাশ করে ট্র্যাভিস গণমাধ্যমটিকে জানান, ৪০ বছর আগে এমন কোনো স্বপ্নের কথা তিনি কল্পনাও করতে পারতেন না।   নিজেদের শৈশবের কঠিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে ট্রাভান জানান, একসময় তাদের বাড়িতে কোনো সুপেয় পানির ব্যবস্থা ছিল না। দৈনন্দিন ব্যবহারের পানি সংগ্রহ করার জন্য তাদের স্থানীয় পার্কের ওপর নির্ভর করতে হতো। তীব্র খাবার সংকটের মধ্যে দিন পার করলেও তাদের ভেতরে সফল হওয়ার প্রবল ক্ষুধা ছিল।   কারণ তারা গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন, এই চরম দারিদ্র্যের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির একটাই উপায়, আর তা হলো কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা।   চিকিৎসাপেশায় আসার পেছনে ১২ বছর বয়সের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা এই দুই ভাইকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। সে সময় মদ্যপানজনিত লিভার ফেইলিওরে আক্রান্ত এক চাচাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তারা। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকের অবজ্ঞাপূর্ণ আচরণ ও খারাপ মন্তব্য তাদের ভীষণভাবে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল।   সেদিনই হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দুই ভাই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, ভবিষ্যতে তারা এমন চিকিৎসক হবেন, যারা রোগী ও তাদের পরিবারের প্রতি আরও বেশি সংবেদনশীল এবং মানবিক আচরণ করবেন।   নিজেদের সেই শৈশবের প্রতিজ্ঞা পূরণে তারা পড়াশোনায় অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখেন। হাইস্কুল থেকে কো-ভ্যালেডিক্টোরিয়ান হিসেবে পড়াশোনা শেষ করার পর তারা স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করেন। এরপর ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিজেদের ডিগ্রি অর্জন করেন।   শৈশবের সেই প্রতিজ্ঞার কয়েক দশক পর, গত এপ্রিলে তারা নিজ শহর রিচমন্ডে ফিরে আসেন এবং চিপেনহ্যাম হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের কো-ডিরেক্টর হিসেবে একযোগে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অবিকল একই রকম দেখতে হওয়ায় রোগী ও সহকর্মীদের সুবিধার্থে তারা কর্মক্ষেত্রে সবসময় ভিন্ন রঙের (সবুজ ও বেগুনি) স্ক্রাব পরিধান করেন।   শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও তারা একে অপরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং একই ভবনে বসবাস করেন। ফেলে আসা দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকিয়ে ট্র্যাভিস বলেন, অতীতের সেই চরম প্রতিকূল দিনগুলোই আজকের এই সফল ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে তাদের গড়ে তুলেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০
ডিএমভিতে ৩৪ বছরের গৌরব উদযাপন, ‘স্বর্ণালী অতীত’ নিয়ে বসছে ‘উপহার বাংলাদেশ মেলা’
ডিএমভিতে ৩৪ বছরের গৌরব উদযাপন, ‘স্বর্ণালী অতীত’ নিয়ে বসছে ‘উপহার বাংলাদেশ মেলা’

বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও বাঙালির পরিচয় উদযাপনে আগামী শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ভার্জিনিয়ার উডব্রিজে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিসিসিডিআই বাংলা স্কুলের ‘উপহার বাংলাদেশ মেলা’। ‘গৌরবের ৩৪তম বছর’ উপলক্ষে এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘স্বর্ণালী অতীত’। বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টির এ. জে. ফেরলাজ্জো বিল্ডিংয়ে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।   বিসিসিডিআই বাংলা স্কুল দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার সঙ্গে যুক্ত। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বাংলা স্কুলের কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মকে তাদের সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখা। ‘উপহার বাংলাদেশ মেলা’ও সেই ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক আয়োজনের অংশ। বিসিসিডিআইয়ের ওয়েবসাইটে আগের বছরগুলোর ‘উপহার বাংলাদেশ মেলা’র বিভিন্ন আয়োজনের তথ্য ও ভিডিওও রয়েছে।   এবারের মেলার বিশেষ প্রতিপাদ্য ‘স্বর্ণালী অতীত’। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের উদযাপনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের কাছে নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াও এই ধরনের আয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।   মেলায় পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ডিএমভি এলাকার বাংলাদেশিদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত এবং ফ্রি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে অনুষ্ঠান।   এদিকে ২০২৬ থেকে ২০২৭ মেয়াদের জন্য বিসিসিডিআই বাংলা স্কুলের নতুন নির্বাহী কমিটিও নির্বাচিত হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আতিয়া মাহজাবীন, সহসভাপতি হিসেবে নূর মোহাম্মদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিভা বড়ুয়া দায়িত্ব পেয়েছেন।   সহকারী সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন রুনা আফরোজ এবং কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন মৌসুমী মিত্র। শিক্ষা পরিচালক হিসেবে রাজিয়া সুলতানা, প্রেস ও প্রকাশনা পরিচালক হিসেবে রুমানা শুমি, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া পরিচালক হিসেবে আইরিন ফৌজিয়া এবং প্রোগ্রাম পরিচালক হিসেবে মোহাম্মদ জেড আবদিন দায়িত্ব পালন করবেন।   নতুন নির্বাহী কমিটিকে বিসিসিডিআই বাংলা স্কুলের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাংলা ভাষা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।   ৩৪ বছরের পথচলা এবং নতুন নেতৃত্বকে সামনে রেখে এবারের ‘উপহার বাংলাদেশ মেলা’ ডিএমভি এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি সাংস্কৃতিক মিলনমেলার উপলক্ষ হিসেবে সামনে এসেছে। ‘স্বর্ণালী অতীত’কে স্মরণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার বার্তাই থাকবে এবারের আয়োজনের কেন্দ্রে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
রিচমন্ডের হাসপাতালে জরুরি বিভাগের নেতৃত্বে যমজ চিকিৎসক ট্রাভান ও ট্রাভিস জ্যাসপার
একসময় পানি আনতে হতো পার্ক থেকে, আজ সেই শহরেই চিকিৎসক দুই ভাই

দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছেন তারা। শৈশবে বাড়িতে ছিল না পানির সংযোগ, কখনো কখনো খাবারেরও অভাব ছিল। সেই দুই যমজ ভাই এখন নিজেদের বেড়ে ওঠা শহরেই একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।   ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড শহরের ট্রাভান ও ট্রাভিস জ্যাসপার গত এপ্রিল থেকে চিপেনহ্যাম হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সহ-পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রায় ৪০ বছর আগে ১২ বছর বয়সে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা তাদের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল।   দুই ভাইয়ের শৈশব কেটেছে শহরের অন্যতম দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে। তাদের বাড়িতে পানির সংযোগ ছিল না। পানি সংগ্রহ করতে তাদের স্থানীয় একটি পার্কে যেতে হতো। অনেক সময় খাবারেরও সংকট ছিল।   ট্রাভান জ্যাসপার বলেন, তারা শুধু ক্ষুধার্তই ছিলেন না, জীবনে সফল হওয়ার জন্যও প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছিল। দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার পথ হিসেবে তারা শিক্ষাকে বেছে নিয়েছিলেন।   তাদের জীবনের মোড় ঘুরে যায় একসময়। তাদের এক চাচা অসুস্থ হয়ে রিচমন্ডের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেই হাসপাতালে চাচার চিকিৎসার সময় দুই ভাই এমন একটি অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন, যা তাদের চিকিৎসক হওয়ার সংকল্প আরও দৃঢ় করে।   তারা জানান, চাচাকে নিয়ে তারা ভয় ও উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন এবং চিকিৎসকের কাছ থেকে সহানুভূতি আশা করেছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকের আচরণ তাদের হতাশ করে। পরে হাসপাতালের করিডরে দাঁড়িয়ে দুই ভাই নিজেদের মধ্যে প্রতিজ্ঞা করেন, তারা একদিন আরও ভালো চিকিৎসক হবেন।   ট্রাভান বলেন, সেই প্রতিজ্ঞা তারা পূরণ করেছেন বলে মনে করেন ট্রাভিসও।   দুই ভাই তাদের উচ্চবিদ্যালয়ে যৌথভাবে ভ্যালেডিক্টোরিয়ান হন। এরপর স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোতে মেডিকেল স্কুলে পড়াশোনা করেন।   প্রায় চার দশক পর এখন তারা নিজেদের শহর রিচমন্ডে ফিরে এসেছেন। শৈশবের কষ্টের জায়গাতেই চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবা করছেন তারা।   এই দুই ভাই বর্তমানে এইচসিএ হেলথকেয়ারের ক্যাপিটাল ডিভিশনের একমাত্র যমজ চিকিৎসক জুটি, যারা একটি হাসপাতাল বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই ডিভিশনের আওতায় ভার্জিনিয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের ১৮টি হাসপাতাল রয়েছে।   চিপেনহ্যাম হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ল্যান্স জোন্স বলেন, চিকিৎসার মান, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহানুভূতিশীল সেবার প্রতি দুই ভাইয়ের অঙ্গীকার হাসপাতালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।   হাসপাতালের বাইরেও দুই ভাই নিজেদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দুজনের মিলিয়ে আট সন্তান রয়েছে। পাশাপাশি তারা একটি যুব বাস্কেটবল সংগঠনের সঙ্গেও কাজ করেন।   ট্রাভিস জ্যাসপার বলেন, চার দশক আগে যে জায়গায় নিজেদের ভবিষ্যৎ কল্পনাও করা কঠিন ছিল, সেখানে ফিরে এসে কাজ করতে পারা তাদের জন্য অসাধারণ অনুভূতি।   তার মতে, জীবনের কঠিন ও নেতিবাচক সময়গুলোই শেষ পর্যন্ত তাদের আজকের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিড়াল নি র্যাতন করে ৪ লাখ ডলারের প্রতারণা, যুবকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিড়াল নি র্যাতন করে ৪ লাখ ডলারের প্রতারণা, যুবকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে অন্তত ২০টি বিড়ালকে নির্মমভাবে নির্যাতন এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও ব্যবহার করে ক্যানসারের চিকিৎসার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   গত বুধবার ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে অবস্থিত হেনরিকো কাউন্টি সার্কিট কোর্টে ২৭ বছর বয়সী রডনি ট্র্যাভিস জুনিয়র নামের ওই ব্যক্তি প্রাণী নিষ্ঠুরতা এবং কম্পিউটার জালিয়াতির অভিযোগে নিজের দোষ স্বীকার করেন। বিচারক লিন্ডা ল্যাম্বার্ট প্রসিকিউটরদের প্রস্তাবিত একটি ‘প্লি এগ্রিমেন্ট’ বা চুক্তি গ্রহণ করেন, যার অধীনে রডনিকে ১৫ বছর কারাগারে কাটাতে হবে।   শুধু তাই নয়, জীবনে আর কখনোই কোনো প্রাণী পালন করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের সংস্পর্শে আসার ওপরও তার ক্ষেত্রে আজীবন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।   আদালতের তথ্য অনুযায়ী, রডনি ট্র্যাভিস বিড়ালগুলোকে পিটিয়ে এবং মারাত্মক জখম করে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ভিডিও আপলোড করত। ভিডিওতে বিড়ালগুলোর মিথ্যা ক্যানসারের গল্প সাজিয়ে চিকিৎসার নামে সে সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে খেলে চার লাখ (৪ লাখ) ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছিল।   হেনরিকো কমনওয়েলথের অ্যাটর্নি শ্যানন টেলর জানিয়েছেন, ভার্জিনিয়ার ইতিহাসে প্রাণী নির্যাতনের দায়ে এটিই সর্বোচ্চ মেয়াদের কারাদণ্ড। তিনি বলেন, এই শাস্তি অভিযুক্ত ব্যক্তির নিরীহ বিড়ালগুলোর ওপর চালানো ভয়াবহ অপরাধের মাত্রাটিই পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে।   দোষ স্বীকার চুক্তির অংশ হিসেবে রডনিকে ২৫ হাজার ডলার জরিমানার পাশাপাশি মুক্তির পর আরও পাঁচ বছর আইনি নজরদারিতে বা প্রবেশনে থাকতে হবে।   গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভার্জিনিয়া অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস এবং চেস্টারফিল্ড কাউন্টি অ্যানিমেল কন্ট্রোল কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যথায় কাতর বিড়ালের ভিডিওগুলো দেখে হেনরিকো পুলিশকে সতর্ক করলে এই তদন্তের শুরু হয়। পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত সেই জায়গাটি শনাক্ত করে, যেখান থেকে ভিডিওগুলো তৈরি করা হচ্ছিল।   পরদিনই চেস্টারফিল্ড কাউন্টিতে রডনির নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সেখান থেকে উদ্ধার করা বিড়ালগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে পশুচিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। মামলার একটি নথিতে ‘হেডেন’ নামের একটি বিড়ালের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল। রডনি ভিডিওতে হেডেনের ক্যানসারের কথা বলে সাহায্য চাইলেও, পরে ডাক্তারি পরীক্ষায় দেখা যায় যে বিড়ালটির মাথার খুলি, পাঁজরের হাড় এবং মেরুদণ্ড নির্মমভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ওয়ালমার্টে হামলার সময় নজরদারি ক্যামেরায় কিশোরীর বাবা-মা
মেয়ের সঙ্গে বাগ বি তণ্ডার জেরে বৃদ্ধকে পি টিয়ে হ ত্যার অভিযোগ বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার নরফোকে ওয়ালমার্টের ভেতরে শপিং কার্ট নিয়ে বাগ বি তণ্ডার জেরে ৭৭ বছরের এক ক্রেতাকে পি টিয়ে হ ত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক কিশোরী কর্মীর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। নি হত ওই ব্যক্তির নাম বার্ট আতিয়েঞ্জা। ঘটনার একদিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃ ত্যু হয়।   ঘটনাটি ঘটে গত ৭ জুন। স্ত্রী জোসেফিন আতিয়েঞ্জাকে নিয়ে চার্চ থেকে ফেরার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে ওয়ালমার্টে গিয়েছিলেন বার্ট। সেখানে ১৭ বছর বয়সী এক কর্মী দ্রুতগতিতে শপিং কার্ট নিয়ে যাওয়ার সময় জোসেফিনকে প্রায় ধা ক্কা দিতে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন বার্ট। জোসেফিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে ওই কর্মীর সঙ্গে বার্টের কিছুক্ষণ কথা কা টা কাটি হয়। তিনি কর্মীকে বলেন, কার্ট দিয়ে তার স্ত্রীকে প্রায় ধা ক্কা দেওয়া হলেও সে ক্ষমা চায়নি। এরপর ওই কিশোরী একটি ক্যান ছুড়ে মারে বলে অভিযোগ করেন জোসেফিন। পরে তিনি তার বাবা-মাকে ফোন করে ঘটনাটি জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর কিশোরীর বাবা ট্রাভিস ল্যাথান হোয়াইট ও মা এরিকা ল্যাট্রিস মিচেল ওয়ালমার্টের ভেতরে ওই দম্পতিকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে দোকানের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর অংশের একটি আইলে বার্টের ওপর হা ম লা করা হচ্ছে। জোসেফিনের দাবি, দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বার্টকে পেছন থেকে ধা ক্কা দেন, ধরে ফেলেন এবং ঘু ষি মা রেন। একপর্যায়ে তাকে তাকের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়া হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এরপরও তাকে লা থি মা রা হয় বলে অভিযোগ। স্বামীকে রক্ষা করতে জোসেফিন তাদের থামতে অনুরোধ করেন। হা ম লার পর বার্ট কিছুক্ষণ কথা বলতে পারছিলেন। স্ত্রীকে তিনি সাহায্যের জন্য উঠতে বলেন। কিন্তু জোসেফিন দেখতে পান, তার মুখ দিয়ে র ক্ত পড়ছে। অ্যাম্বুলেন্স আসার অপেক্ষায় থাকার সময় একপর্যায়ে বার্ট জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। গুরুতর আ হ ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, মাথায় ভোঁ তা আ ঘা তের কারণে তার মৃ ত্যু হয়েছে। পরে তার মৃ ত্যুকে হ ত্যা কাণ্ড হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। পুলিশ ট্রাভিস হোয়াইট ও এরিকা মিচেলকে গ্রে প্তার করে। শুরুতে তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর আ ক্র মণ, দলবদ্ধভাবে হা ম লা এবং অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। পরে আদালতের নথি অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হ ত্যার অভিযোগও যুক্ত করা হয়। তারা জা মি ন ছাড়াই নরফোক কারাগারে আ ট ক রয়েছেন। তবে অভিযুক্তদের আইনজীবী অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তার দাবি, মেয়ের ফোন পেয়ে বাবা-মা তাকে নিরাপদ রাখতে ওয়ালমার্টে গিয়েছিলেন এবং ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। পরিস্থিতি আবেগের বশে হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলেও দাবি করেন তিনি। আইনজীবীর মতে, হা ম লার ঘটনা ঘটলেও সেটি হ ত্যার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল—এমন প্রমাণ নেই। এদিকে ওই কিশোরীও গ্রে প্তার হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হা ম লা ও মা র ধ র, গুরুতর হা ম লা এবং অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। বয়স কম হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তার নাম প্রকাশ করেনি। বর্তমানে সে নরফোকের একটি কিশোর আ ট ক কেন্দ্রে রয়েছে।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ছাত্রীদের লকার রুমে গোপন ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রিন্সিপাল
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ছাত্রীদের লকার রুমে গোপন ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রিন্সিপাল

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ছাত্রীদের লকার রুমে গোপন ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে একটি হাই স্কুলের প্রিন্সিপালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরিক জেমস নামের ওই ব্যক্তি ব্রুক হাই স্কুলের প্রিন্সিপালের দায়িত্বে ছিলেন। খোদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের এমন ন্যক্কারজনক কাণ্ডে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।     ব্রুক কাউন্টির শেরিফ রিচার্ড বিটি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনার বিস্তারিত জানান। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, স্কুলের মেয়েদের শারীরিক শিক্ষা (পিই) লকার রুম এবং ড্যান্স টিমের সদস্যদের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে এই গোপন ক্যামেরাগুলো পাওয়া যায়।   এরপরই প্রিন্সিপাল এরিক জেমসকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে ইলেকট্রনিক যোগাযোগে আড়িপাতা এবং অননুমোদিত স্থানে বেআইনিভাবে প্রবেশের দুটিসহ মোট তিনটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   কর্তৃপক্ষের মতে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর পরই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে জরুরি বৈঠক করেছে পুলিশ। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল এরিক জেমসকে নর্দান রিজিওনাল জেলে পাঠানো হয়েছে এবং আদালত তার জামিন বন্ড এক লাখ ডলার নির্ধারণ করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
শিকড়ের টানে ভার্জিনিয়ায় এক হচ্ছেন ফেনীবাসীরা, আয়োজিত হচ্ছে প্রথম পুনর্মিলনী
শিকড়ের টানে ভার্জিনিয়ায় এক হচ্ছেন ফেনীবাসীরা, আয়োজিত হচ্ছে প্রথম পুনর্মিলনী

আমেরিকার ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল পেরিয়ে শিকড়ের টানে একত্রিত হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ফেনী জেলার প্রবাসীরা। প্রবাসে ফেনীবাসীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘আমরা ফেনীবাসী ইউএসএ’র প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ২০২৬।   “একসাথে মিলি বন্ধন গড়ি, আমরা সবাই ফেনীবাসী”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সামাজিক সংগঠন ‘আমরা ফেনীবাসী ইউএসএ’ আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় অবস্থিত মনোরম ফোর্ট হান্ট পার্কে দিনব্যাপী এই মহা মিলনমেলার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠান শুরু হবে দুপুর ১২টায়।   আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রবাসে ফেনীর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখা, শৈশব ও কৈশোরের বন্ধুদের সঙ্গে পুরোনো স্মৃতি ভাগ করে নেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ফেনীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।   দিনব্যাপী এই পুনর্মিলনীতে প্রবাসী ফেনীবাসীদের জন্য থাকছে নানা ধরনের আয়োজন। থাকবে স্মৃতিময় আড্ডা, পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রতিভা বিকাশের সুযোগ এবং ছোট-বড় সবার জন্য আনন্দঘন পরিবেশ। শিশুদের জন্য বিশেষভাবে থাকছে বিভিন্ন খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা। পাশাপাশি অতিথিদের জন্য থাকবে ঐতিহ্যবাহী ও বৈচিত্র্যময় খাবারের আয়োজন।   পুনর্মিলনীর অন্যতম আকর্ষণ হবে জমকালো সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এতে গান পরিবেশন করবেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ড. সীমা খান ও জহির। ফেনীর মাটি ও মানুষের গানসহ ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত পরিবেশন করবেন কণ্ঠশিল্পী ইসরাত শর্মী। অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় সাজাবেন জনপ্রিয় সঞ্চালিকা রূপা।   আয়োজকরা জানান, কর্মব্যস্ত প্রবাসজীবনের মাঝেও ফেনীর মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন আরও দৃঢ় করা এবং নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক তৈরি করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।   ‘আমরা ফেনীবাসী ইউএসএ’র পরিচালনা ও অ্যাডমিন প্যানেল পরিবারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সকল ফেনী প্রবাসী, তাঁদের স্বজন ও পরিবারবর্গকে সপরিবারে এই পুনর্মিলনীতে অংশ নেওয়ার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।   আয়োজকদের প্রত্যাশা, মাটির টান ও নাড়ির বন্ধনে সাড়া দিয়ে বিপুলসংখ্যক ফেনীবাসী এই মিলনমেলায় অংশ নেবেন এবং দিনটি প্রবাসে ফেনীবাসীদের জন্য একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
ভার্জিনিয়ার এলিমেন্টারি স্কুলে গোলাগুলি, আহত ১; নিরাপদ শিক্ষার্থীরা, ঘটনাস্থলে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি
ভার্জিনিয়ার এলিমেন্টারি স্কুলে গোলাগুলি, আহত ১; নিরাপদ শিক্ষার্থীরা, ঘটনাস্থলে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি

ভার্জিনিয়ার ওয়েনসবরোর ওয়েস্টউড হিলস এলিমেন্টারি স্কুলে বুধবার সকালে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক প্রাপ্তবয়স্ক আহত হলেও স্কুলের কোনো শিশু আহত হয়নি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।   স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে স্কুলে গুলির খবর পাওয়ার পর ওয়েনসবরো পুলিশ, অগাস্টা কাউন্টি শেরিফের অফিস, ভার্জিনিয়া স্টেট পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফেডারেল ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস বা ATF-এর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে সাড়া দেন।    অগাস্টা কাউন্টি শেরিফের অফিস জানায়, সকাল ১০টা ২৩ মিনিটের দিকে পরিস্থিতি ‘contained and secured’ অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণে এনে ঘটনাস্থল নিরাপদ করা হয়েছে। এর আগে স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হয় এবং অভিভাবকদের স্কুলে না এসে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়।    ওয়েনসবরো সিটি কাউন্সিলের সদস্য জিম উড অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, ঘটনাটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং হামলাকারীর কাছ থেকে আর কোনো হুমকি নেই। আহত প্রাপ্তবয়স্ককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তার আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে তিনি জানান। ভার্জিনিয়া স্টেট পুলিশের একজন মুখপাত্রও একজন প্রাপ্তবয়স্ক আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং জানান, কোনো শিশু আহত হয়নি।    তবে হামলাকারীর পরিচয়, আহত ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্ক কিংবা গুলির ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়েনসবরো পুলিশ পরে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার কথা জানিয়েছে।    ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের তাদের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের ব্যবস্থা করা হয় কাছাকাছি ওয়েস্টমিনস্টার প্রেসবাইটেরিয়ান চার্চে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, ওয়েস্টউড হিলস এলিমেন্টারির সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্টাফের হিসাব পাওয়া গেছে এবং তারা নিরাপদ। পরে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও গার্ডিয়ানদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হয়।    নিরাপত্তার স্বার্থে ওয়েনসবরোর অন্যান্য কয়েকটি স্কুলেও সাময়িক লকডাউন জারি করা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেই লকডাউন তুলে নেওয়া হয়।    ঘটনার পর ভার্জিনিয়ার গভর্নর অ্যাবিগেইল স্প্যানবার্গার জানান, তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি শিক্ষার্থী, তাদের পরিবার, শিক্ষক ও স্কুলের কর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ঘটনাস্থলে কাজ করা প্রথম সাড়াদানকারীদের ধন্যবাদ জানান।    ওয়েস্টউড হিলস এলিমেন্টারি স্কুলটি ভার্জিনিয়ার ওয়েনসবরো শহরে অবস্থিত, যা রাজ্যের রাজধানী রিচমন্ড থেকে প্রায় ৯৬ মাইল উত্তর-পশ্চিমে। গুলির ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে এবং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য আসার অপেক্ষা রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০