ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

মোদির সফরে ইউরেনিয়াম রপ্তানি চুক্তি করল ভারত–অস্ট্রেলিয়া
মোদির সফরে ইউরেনিয়াম রপ্তানি চুক্তি করল ভারত–অস্ট্রেলিয়া, জোরদার হচ্ছে কৌশলগত অংশীদারিত্ব

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই দেশ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচির জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম রপ্তানির প্রশাসনিক চুক্তি সই করেছে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচিতে অস্ট্রেলিয়ার ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হলো।     অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese ও মোদির বৈঠকে ইউরেনিয়ামের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) শক্তিশালী করার বিষয়েও একাধিক সমঝোতা হয়েছে।     মোদি বলেন, ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনে অস্ট্রেলিয়ার ইউরেনিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতীয় অবকাঠামো খাতে আরও বেশি অস্ট্রেলীয় বিনিয়োগের আহ্বান জানান।     এদিকে অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, চুক্তিটি শুধু জ্বালানি সহযোগিতা নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার অংশ। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও গুরুত্ব পেয়েছে।     ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ২০১৪ সালে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি হলেও, ভারত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (NPT) সদস্য না হওয়ায় ইউরেনিয়াম রপ্তানি কার্যকর হতে দীর্ঘদিন বিলম্ব হয়। সর্বশেষ প্রশাসনিক চুক্তির মাধ্যমে সেই বাধা দূর হলো।   বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইউরেনিয়াম মজুদের দেশ অস্ট্রেলিয়া, আর ভারত দ্রুত পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এই চুক্তিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।  

নীলুফা নিশাত জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফনে মোদিকে আমন্ত্রণ
খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফনে মোদিকে আমন্ত্রণ, ভারতের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে এই অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে ঠিক কে অংশ নেবেন, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম উইয়ন নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আমন্ত্রণ পাওয়ার পরও নয়াদিল্লি এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি।   গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তার মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এরপর বিভিন্ন দেশ থেকে শোকবার্তা জানানো হয়। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে সমবেদনা জানানো হয়েছিল। সে সময় ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিসরি নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে গিয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন।   ভারত ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। নয়াদিল্লি তেহরানকে তার বিস্তৃত প্রতিবেশী অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। জ্বালানি, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক কৌশলগত বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা রয়েছে।   সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ায় টানা ৪০ দিনের সংঘাতের সময়ও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ সক্রিয় ছিল। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একাধিকবার ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।   এদিকে, চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে নয়াদিল্লি সফর করেন। সফরকালে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি শুধু কূটনৈতিক সৌজন্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনাও বহন করতে পারে। এখন নজর রয়েছে—ভারত এই আমন্ত্রণে কীভাবে সাড়া দেয় এবং কাকে প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব দেয়।

নীলুফা নিশাত জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
মোদি–মেলোনির রসিকতায় সরগরম নেটদুনিয়া, ‘মেলোডি’ আবার আলোচনায়
মোদি–মেলোনির রসিকতায় সরগরম নেটদুনিয়া, ‘মেলোডি’ আবার আলোচনায়

জি-৭ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক ব্যস্ততার মাঝেও এক অনানুষ্ঠানিক মুহূর্ত ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। সম্মেলনস্থলে রাষ্ট্রনেতাদের পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ও কথোপকথনের ফাঁকে এই দুই নেতার সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে।   সম্মেলনের এক পর্যায়ে অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে আলাপরত অবস্থায় মেলোনি কাছে আসতেই মোদি এগিয়ে যান। তখন দুজনের মধ্যে হালকা হাস্যরসাত্মক কথোপকথন হয়। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মেলোনি মোদিকে উদ্দেশ করে বলেন, “আবার আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগছে।” এরপর মজার ছলে তিনি যোগ করেন, “আমরাই ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি।”   মেলোনির এই মন্তব্যে সায় দিয়ে মোদিও তাদের ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘মেলোডি’ ট্রেন্ডের প্রসঙ্গ তোলেন। মুহূর্তটি দ্রুতই নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।   ‘মেলোডি’ শব্দটি মূলত মোদি ও মেলোনির নামের সংমিশ্রণ। ২০২৩ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত কপ-২৮ জলবায়ু সম্মেলনে মেলোনি মোদির সঙ্গে তোলা একটি সেলফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে ‘মেলোডি’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করলে বিষয়টি প্রথম ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এরপর থেকেই দুই নেতার প্রতিটি সাক্ষাৎ ঘিরে তৈরি হয়েছে অসংখ্য মিম, ভিডিও ও রসাত্মক কনটেন্ট।   এই জনপ্রিয়তাকে আরও উসকে দেয় সম্প্রতি রোম সফরের একটি ঘটনা। ওই সফরে মোদি মেলোনিকে ‘মেলোডি’ নামের একটি টফি উপহার দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নীল রঙের বন্দগালা স্যুট পরিহিত মোদি মেলোনির হাতে টফির একটি প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন। সাদা স্যুট পরা মেলোনি হাসিমুখে উপহার গ্রহণ করে তাকে ধন্যবাদ জানান।   ভিডিওতে মেলোনিকে বলতে শোনা যায়, “প্রধানমন্ত্রী মোদি আমাদের জন্য একটি উপহার এনেছেন... খুব, খুব ভালো টফি।” এ সময় দুই নেতাকেই বেশ স্বতঃস্ফূর্ত ও হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়।   বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতির কঠোর আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এমন স্বতঃস্ফূর্ত ও বন্ধুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বিশ্বনেতাদের মানবিক দিকটি সামনে আনে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের মুহূর্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে জনমনে আলাদা আগ্রহও তৈরি করে। মোদি ও মেলোনির এই ‘মেলোডি’ রসায়নও তার ব্যতিক্রম নয়।

নীলুফা নিশাত জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
ইরান প্রশ্নে ট্রাম্প-মোদি ফোনালাপ, যুক্ত ছিলেন মাস্কও

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই আলোচনায় প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের উপস্থিতির বিষয়টিও সামনে এসেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ মার্চ দুই নেতার মধ্যে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা শুরুর পর এটিই ছিল ট্রাম্প ও মোদির প্রথম সরাসরি কথা বলা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে—এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ইলন মাস্কও যুক্ত ছিলেন। তবে যুদ্ধকালীন এমন সংবেদনশীল আলোচনায় কোনো বেসরকারি ব্যক্তির অংশগ্রহণকে অস্বাভাবিক বলেই উল্লেখ করা হয়েছে।   হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দুই নেতার এই কথোপকথন ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ ছিল। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের আলোচনা গঠনমূলক হয়েছে।   অন্যদিকে, গত বছর সরকার সংশ্লিষ্ট ভূমিকা থেকে সরে যাওয়ার পর ট্রাম্প ও মাস্কের সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনায় তাদের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এদিকে আলোচনার সময় মোদি হরমুজ প্রণালিকে উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় এই নৌপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০