সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

মাইক্রোসফট

এআইয়ের দাপটে ক্ষুব্ধ ইউরোপ
এআইয়ের দাপটে ক্ষুব্ধ ইউরোপ, মাইক্রোসফটের নির্মাণস্থলে ঢুকে পড়ল শত শত বিক্ষোভকারী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে ইউরোপজুড়ে বাড়ছে প্রতিবাদ। এরই মধ্যে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামে মাইক্রোসফটের জন্য নির্মাণাধীন একটি ডেটা সেন্টারে ঢুকে বিক্ষোভ করেছেন পরিবেশবাদী ও প্রযুক্তিবিষয়ক আন্দোলনকারীরা। নির্মাণস্থলের নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে ভেতরে প্রবেশ করেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন বিশাল নির্মাণাধীন ক্রেনের ওপর উঠে প্রতিবাদ জানান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।   ডাচ পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণস্থলে অনধিকার প্রবেশের সন্দেহে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এআই প্রযুক্তির অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ, পানির উৎস এবং বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।   আন্দোলনকারীরা বলছেন, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবসা সম্প্রসারণে বিপুল বিনিয়োগ করছে। কিন্তু এসব প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব এবং স্থানীয় মানুষের ওপর সম্ভাব্য চাপ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের দাবি, নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের আগে পরিবেশগত প্রভাব যাচাই এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত নিশ্চিত করতে হবে।   আমস্টারডামের স্লটারডাইক এলাকায় নির্মাণাধীন প্রকল্পটি তৈরি করছে । মাইক্রোসফট এই প্রকল্পের প্রধান গ্রাহক হিসেবে যুক্ত রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখানে তিনটি প্রায় ৮৫ মিটার উচ্চতার ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির সম্মিলিত বিদ্যুৎ সক্ষমতা প্রায় ৭৮ মেগাওয়াট।   বিক্ষোভকারীদের একটি অংশের অভিযোগ, এ ধরনের ডেটা সেন্টার পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি সার্ভার ঠান্ডা রাখা এবং অন্যান্য কার্যক্রমেও পানি ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। ফলে স্থানীয় জনগণের প্রয়োজনীয় সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   অন্যদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য, আধুনিক ডিজিটাল অর্থনীতি পরিচালনায় ডেটা সেন্টার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা এবং সরকারি ডিজিটাল কার্যক্রমের জন্য এসব অবকাঠামো প্রয়োজন। তবে পরিবেশের ওপর প্রভাব কমাতে জ্বালানি ও পানি ব্যবহারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।   আমস্টারডামের এই প্রতিবাদকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না আন্দোলনকারীরা। ‘স্টপ ডার্টি ডেটা সেন্টারস’ নামের একটি জোট ৬ ও ৭ নভেম্বর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৫টি দেশের বিভিন্ন সংগঠন এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।   নেদারল্যান্ডসের পাশাপাশি জার্মানি, পোল্যান্ড, ইতালি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে।এআই প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর পরিবেশগত মূল্য নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার, স্থানীয় জনগণের স্বার্থ এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়গুলো সামনে আসছে।   আমস্টারডামের ঘটনাটি সেই বিতর্ককে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, এখন ইউরোপজুড়ে সেই প্রশ্নই সামনে আসছে।

বায়জিদ হাসান নভেম্বর ৬, ২০২৬ ১৩:০ 0
৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের
এআইয়ে বিপুল বিনিয়োগের চাপ, ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সংখ্যাটি মাইক্রোসফটের মোট বৈশ্বিক কর্মীসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) নতুন এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। তবে এটি সরাসরি কর্মী ছাঁটাই নয়। যোগ্য কর্মীরা চাইলে নির্দিষ্ট আর্থিক সুবিধা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।   মাইক্রোসফটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ভলান্টারি এক্সিট অফার। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ভারতে কর্মরত নির্দিষ্ট বিভাগের কর্মীরা এই সুযোগ পাবেন। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ পদমর্যাদার ৭০ বা তার নিচের স্তরের কর্মীরা এতে অংশ নিতে পারবেন। কিছু ভাইস প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাও এই কর্মসূচির আওতায় পড়ছেন। মাইক্রোসফটের চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় জানান, যাঁরা প্রতিষ্ঠানের বাইরে নতুন ক্যারিয়ার গড়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য এই সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবেন। তবে প্রতিষ্ঠানের সব বিভাগ এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট বিভাগের ব্যবসায়িক প্রয়োজন ও কর্মী ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হচ্ছে।   প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে বিশ্বজুড়ে মাইক্রোসফটের পূর্ণকালীন কর্মী ছিলেন প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার কর্মী নতুন প্রস্তাবের আওতায় পড়লেও সবাই চাকরি ছাড়বেন, এমন নয়। কতজন কর্মী শেষ পর্যন্ত প্রস্তাব গ্রহণ করবেন, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যোগ্য কর্মীদের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। যাঁরা প্রস্তাব গ্রহণ করবেন, তাঁদের চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রতিষ্ঠান ছাড়ার কথা রয়েছে। চাকরির মেয়াদ ও পদমর্যাদার ভিত্তিতে আর্থিক সুবিধার পরিমাণ নির্ধারিত হবে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ের বেতন, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং ক্যারিয়ার পরিবর্তনে সহায়তার মতো সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এদিকে মাইক্রোসফটের নতুন সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এল, যখন প্রতিষ্ঠানটি এআই প্রযুক্তি, ডেটা সেন্টার এবং ক্লাউড অবকাঠামোয় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। এই খাতে ব্যয় বাড়ার কারণে পরিচালন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার চাপও তৈরি হয়েছে। তবে নতুন স্বেচ্ছা প্রস্থান কর্মসূচির কারণ হিসেবে মাইক্রোসফট সরাসরি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কর্মীদের প্রতিস্থাপনের কথা বলেনি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পরিবর্তিত ব্যবসায়িক প্রয়োজনের সঙ্গে কর্মী ব্যবস্থাপনাকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই উদ্যোগ।   এর আগে চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮ হাজার ৭৫০ কর্মীকে স্বেচ্ছায় অবসরের সুযোগ দিয়েছিল মাইক্রোসফট। ওই কর্মসূচিতে প্রায় ৩০ শতাংশ যোগ্য কর্মী অংশ নেন। পরে জুলাই মাসে আরও প্রায় ৪ হাজার ৮০০ পদ বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এসব সিদ্ধান্তের ফলে মাইক্রোসফটের কর্মীসংখ্যায় পরিবর্তন এসেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের বিপুল ব্যয় সামলাতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কর্মী ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন খরচ নতুনভাবে মূল্যায়ন করছে। মাইক্রোসফটের সর্বশেষ উদ্যোগও সেই বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ। তবে ৬০ হাজার কর্মীকে চাকরি ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে কতজন এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন এবং প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীসংখ্যা কতটা কমবে, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইক্রোসফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান
মাইক্রোসফটের ৬০ হাজার কর্মীকে চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব, মিলবে আর্থিক সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটি ‘ভলান্টারি এক্সিট অফার’ নামে নতুন এই কর্মসূচি চালু করে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ভারতে কর্মরত নির্দিষ্ট বিভাগের কর্মীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মীসংখ্যা পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ৬০ হাজার কর্মীকে সরাসরি ছাঁটাই করা হচ্ছে না। তাঁদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন কর্মসূচির আওতায় মাইক্রোসফটের মোট কর্মীর প্রায় ২৭ শতাংশ চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব পাওয়ার যোগ্য হবেন। গত জুনের শেষ নাগাদ প্রতিষ্ঠানটিতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার পূর্ণকালীন কর্মী ছিলেন। সেই হিসাবে প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের বেশি কর্মী নতুন কর্মসূচির আওতায় আসতে পারেন। তবে কতজন শেষ পর্যন্ত প্রস্তাব গ্রহণ করবেন, সে বিষয়ে মাইক্রোসফট এখনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি।   মাইক্রোসফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান সোমবার কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের বাইরে নতুন পেশাগত সুযোগ খুঁজতে আগ্রহী কর্মীদের আর্থিক সহায়তা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনার সুবিধা দিয়ে বিদায়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগের পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী কর্মীসংখ্যা সমন্বয়ের সুযোগ পাবে প্রতিষ্ঠানটি। যোগ্য কর্মীদের ইমেইলের মাধ্যমে প্রস্তাবের বিস্তারিত জানানো হবে।   রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মাইক্রোসফটের এআই এক্সপেরিয়েন্সেস, কোপাইলট, ফিন্যান্স, হিউম্যান রিসোর্সেস, এক্সবক্স এবং উইন্ডোজ অ্যান্ড ডিভাইসেস বিভাগের নির্দিষ্ট কর্মীরা এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন। তবে সব বিভাগের কর্মীরা সমানভাবে যোগ্য নন। মার্কেটিং, কমার্শিয়াল বিজনেস ও সিকিউরিটিসহ কয়েকটি বিভাগ এই প্রস্তাবের বাইরে রয়েছে। ডেটা সেন্টার ও বিক্রয় বিভাগের কিছু কর্মীও সুবিধাটি পাবেন না বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মাইক্রোসফটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী বিভাগের লেভেল ৭০ এবং তার নিচের কর্মীরা এই কর্মসূচির জন্য যোগ্য হতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ভারতে এই ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট পদে কর্মরত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা পাওয়া যাবে না। কর্মীর বিভাগ, দায়িত্ব এবং প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী যোগ্যতা নির্ধারিত হবে। এটি সীমিত সময়ের জন্য চালু করা স্বেচ্ছামূলক কর্মসূচি।   চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব গ্রহণকারী কর্মীরা সেভারেন্স প্যাকেজের মতো আর্থিক সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে চাকরি ছাড়লে কর্মীকে কিছু অর্থ ও ক্যারিয়ার পরিবর্তনে সহায়তা দেওয়া হবে। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্যাকেজের শর্ত মাইক্রোসফটের প্রচলিত সেভারেন্স ব্যবস্থার কাছাকাছি হবে। তবে নতুন কর্মসূচিতে প্রত্যেক কর্মী ঠিক কত অর্থ পাবেন, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। চাকরির মেয়াদ, পদ ও সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ম অনুযায়ী সুবিধার পরিমাণ আলাদা হতে পারে।   মাইক্রোসফট এমন এক সময়ে নতুন এই ঘোষণা দিল, যখন প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে এআই ডেটা সেন্টার, উন্নত চিপ, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং কোপাইলটের মতো প্রযুক্তির উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার বছরে মাইক্রোসফটের মূলধনি বিনিয়োগ প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। এই ব্যয়ের বড় অংশ এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত।   এর আগে চলতি বছরের মে মাসেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮ হাজার ৭৫০ কর্মীকে স্বেচ্ছায় অবসরের প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল মাইক্রোসফট। ওই কর্মসূচির যোগ্য কর্মীদের ৩০ শতাংশের বেশি প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। এরপর জুলাই মাসে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ পদ বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তে এক্সবক্সসহ কয়েকটি বিভাগ প্রভাবিত হয়েছিল। ফলে অক্টোবরের নতুন কর্মসূচি চলতি বছরে মাইক্রোসফটের কর্মীসংখ্যা পুনর্বিন্যাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।   তবে নতুন কর্মসূচির সঙ্গে আগের ছাঁটাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। জুলাই মাসে নির্দিষ্টসংখ্যক পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে এবার কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। ফলে ৬০ হাজার কর্মী এই প্রস্তাব পাওয়ার যোগ্য হলেও তাঁদের সবাই চাকরি ছাড়বেন, এমন নয়। কতজন প্রস্তাব গ্রহণ করবেন এবং এর ফলে প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীসংখ্যা কতটা কমবে, তা এখনো অনিশ্চিত।   মাইক্রোসফটের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের কর্মীদের মধ্যেও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তির সম্প্রসারণের সঙ্গে প্রচলিত চাকরির ধরন কীভাবে বদলাচ্ছে, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো একদিকে নতুন এআই বিশেষজ্ঞ নিয়োগ ও অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করছে, অন্যদিকে কিছু বিভাগে ব্যয় কমাতে চাইছে। তবে মাইক্রোসফটের নতুন কর্মসূচির আওতায় থাকা প্রতিটি পদ সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে, এমন প্রমাণ নেই।   যুক্তরাষ্ট্রে মাইক্রোসফটে কর্মরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসী প্রযুক্তিকর্মীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসা বা অন্য নিয়োগকর্তানির্ভর ওয়ার্ক স্ট্যাটাসে কর্মরত কেউ স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব গ্রহণের আগে অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম বিবেচনা করা প্রয়োজন। চাকরি শেষ হওয়ার পর বৈধ স্ট্যাটাস বজায় রাখা, নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ শুরু করা কিংবা প্রযোজ্য গ্রেস পিরিয়ডের বিষয়গুলো ব্যক্তির ভিসা ও ইমিগ্রেশন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। আর্থিক প্যাকেজ পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহাল থাকবে, এমন নয়।   মাইক্রোসফট জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তিত ব্যবসায়িক প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতেও কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন দায়িত্বে স্থানান্তরের সুযোগ তৈরিতে কাজ করা হবে। আগামী বুধবার প্রতিষ্ঠানটির ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে। এর আগে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীর জন্য স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব প্রযুক্তি খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই কর্মসূচির প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে কতজন কর্মী প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের কর্মীসংখ্যা ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করে, তার ভিত্তিতে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
মায়ের ত্যাগ থেকে মাইক্রোসফট, নাসিমের অনুপ্রেরণার যাত্রা (ছবি: সংগৃহীত ও সম্পাদিত)
মায়ের ছাগল বিক্রির টাকায় কেনা মোবাইল থেকে জাপানে মাইক্রোসফটের ডেটা সেন্টারে নাসিমের অবিশ্বাস্য যাত্রা

কুষ্টিয়ার আমলা-সদরপুরের ছেলে মো. নাসিম আল আওয়াল কবি। ছোটবেলায় প্রযুক্তির প্রতি তাঁর ছিল প্রবল আগ্রহ। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে সেই আগ্রহ পূরণ করা সহজ ছিল না। ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য একটি মোবাইল ফোন কেনার সামর্থ্যও ছিল না পরিবারের। ছেলের স্বপ্ন পূরণ করতে একসময় সংসারের একটি ছাগল বিক্রি করে দেন তাঁর মা মোছা. নাজমা। সেই টাকায় কেনা মোবাইল ফোন দিয়েই শুরু হয় নাসিমের প্রযুক্তি শেখার নতুন অধ্যায়। নানা বাধা, বিদেশের কঠিন জীবন আর একের পর এক প্রত্যাখ্যান পেরিয়ে আজ তিনি জাপানে মাইক্রোসফটের ডেটা সেন্টার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত। নাসিমের গল্পের শুরু অবশ্য আরও আগে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক বন্ধুকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন তিনি। যাওয়ার আগে ড্রয়ারে রেখে গিয়েছিলেন একটি চিরকুট। তাতে লেখা ছিল, ‘মানুষের মতো মানুষ হয়েই তবে আমি বাড়ি ফিরব।’ সেদিনের সেই কিশোর হয়তো জানতেন না, তাঁর জীবনের পথ তাঁকে একদিন বাংলাদেশের গ্রাম থেকে জাপানের বড় একটি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাবে। নাসিমের ডাকনাম কবি। গ্রামের আর দশটা শিশুর মতো মাঠে খেলাধুলা, পুকুরে ঝাঁপ দেওয়া, গরু-ছাগলের জন্য ঘাস কাটা আর বন্ধুদের সঙ্গে দুষ্টুমি করেই কাটত তাঁর শৈশব। তবে ছোটবেলা থেকেই অন্যের চেয়ে আলাদা ছিল তাঁর একটি আগ্রহ। এলাকার কারও মোবাইল ফোন, টেলিভিশন কিংবা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র নষ্ট হলে সেটি খুলে দেখার চেষ্টা করতেন। যন্ত্র কীভাবে কাজ করে, কোথায় সমস্যা হয়—এসব জানার আগ্রহই তাঁকে প্রযুক্তির দিকে টেনে নেয়। নাসিমের বাবা মো. রবি সততার প্রশ্নে আপস করতে চাইতেন না। ১৯৯৬ সালে পাবনার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভালো পদে চাকরি করার সময় দুর্নীতির সঙ্গে আপস না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসেন বলে পরিবারের বর্ণনায় উঠে এসেছে। পরে মুদির দোকানসহ বিভিন্ন কাজ করেও সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে পারেননি। ২০০৩ সালে শুরু করেন দলিল লেখার কাজ। পরিবারের অভাব নাসিমের জীবনে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি করলেও বাবার সততার শিক্ষা তাঁর মনে গেঁথে যায়। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সৎ থাকার বিষয়টিও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অষ্টম শ্রেণিতে বন্ধুকে নিয়ে বাড়ি ছাড়ার সেই ঘটনাও ছিল কৈশোরের এক দুঃসাহসিক অভিজ্ঞতা। রেললাইন ধরে দীর্ঘ পথ হাঁটা, পায়ে ফোসকা পড়া, রাজশাহী স্টেশনে রাত কাটানো—সবই ঘটেছিল সেই যাত্রায়। দুই কিশোরের পরিকল্পনা ছিল ট্রেনে বই বিক্রি করার। শেষ পর্যন্ত বাড়ির টানেই ফিরে আসেন নাসিম। তবে নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই গড়ে তোলার যে জেদ তাঁর মধ্যে ছিল, তা হারিয়ে যায়নি। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় কুষ্টিয়ার আমলা স্কুলে ডিনেটের কম্পিউটার লিটারেসি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। কম্পিউটার শেখার জন্য ভোরে বাড়ি থেকে বের হতেন। কুয়াশা, ঝড়বৃষ্টি আর মাঠের আইল পেরিয়ে স্কুলে যাওয়ার সেই দিনগুলো তাঁর প্রযুক্তি শেখার যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার প্রযুক্তি বিভাগে ভর্তি হন নাসিম। কিন্তু কম্পিউটার প্রযুক্তি শেখার পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য একটি ডিভাইস প্রয়োজন ছিল। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় সেটি কেনা সম্ভব হচ্ছিল না। তখন ছেলের পাশে দাঁড়ান তাঁর মা। সংসারের একটি ছাগল বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে ছেলেকে একটি মোবাইল ফোন কিনে দেন। সেই ফোনটিই হয়ে ওঠে নাসিমের শেখার প্রধান মাধ্যম। ফোনটিকে মডেম হিসেবে ব্যবহার করে ইন্টারনেটে যুক্ত হতেন। অনলাইনে ভিডিও দেখে বিভিন্ন বিষয় শিখতেন, প্রযুক্তিবিষয়ক ফোরামে প্রশ্ন করতেন এবং নিজের সমস্যার সমাধান খুঁজতেন। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার বাইরে এভাবেই নিজের উদ্যোগে দক্ষতা অর্জন করতে থাকেন তিনি। যে ডিনেটের কর্মসূচিতে একসময় শিক্ষার্থী হিসেবে কম্পিউটার শিখেছিলেন, ২০১২ সালে সেই প্রতিষ্ঠানেই প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে চাকরি পান নাসিম। পরে প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট এবং সহকারী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। কাজের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার প্রায় ৩৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রায় তিন হাজার শিক্ষককে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। একসময় যে প্রতিষ্ঠানে নিজে শিখেছিলেন, পরে সেখানেই অন্যদের শেখানোর দায়িত্ব পান নাসিম। তাঁর কর্মজীবনের এই অভিজ্ঞতা প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে যাওয়ার পথ আরও শক্ত করে। ২০১৮ সালের শেষ দিকে জাপানে পাড়ি জমান তিনি। বিদেশে যাওয়ার খরচ জোগাতে ব্যাংকঋণ, ধার করা টাকা এবং পরিচিতজনদের সহযোগিতা নিতে হয়েছিল। জাপানে পৌঁছে প্রথমে নাগোয়ার একটি গাড়ি কারখানার উৎপাদন লাইনে কাজ শুরু করেন। নতুন ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি করতে হয়েছে শারীরিক পরিশ্রমের কাজও। কিন্তু প্রযুক্তি খাতে কাজ করার স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি। ২০২০ সালের মে মাসে জাপানের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এনটিটি কমিউনিকেশনে নেটওয়ার্ক অপারেশনস সেন্টার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন নাসিম। সেখানে সাবমেরিন কেবলের সিগন্যাল পর্যবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। পাঁচ বছর আট মাসের অভিজ্ঞতায় নেটওয়ার্ক পরিচালনা ও প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে তাঁর দক্ষতা আরও বাড়ে। চাকরির পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টাও চালিয়ে যান তিনি। অনলাইনে ৪০টির বেশি কোর্স ও সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করেন। সিনেমা, গান ও বিভিন্ন অনলাইন উপকরণ ব্যবহার করে ইংরেজি শেখেন। টোয়েক পরীক্ষায় ৮৭৫ নম্বর পাওয়ার পাশাপাশি জাপানি ভাষার এন৪ পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন। তবে বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে কাজ করার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন নাসিম। অ্যামাজন, গুগল, অ্যাপল, ওরাকল ও আইবিএমের মতো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও সফল হননি। ২০২২ সালে মাইক্রোসফটে আবেদন করেও প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবার ব্যর্থ হওয়ার পর থেমে না গিয়ে নিজের ঘাটতি খুঁজেছেন। কোন দক্ষতা আরও বাড়ানো দরকার, কী শিখলে পরবর্তী সুযোগের জন্য প্রস্তুত হওয়া যাবে—সেদিকেই মনোযোগ দিয়েছেন। অবশেষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মাইক্রোসফট জাপানে যোগ দেন নাসিম। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ক্লাউড অপারেশনস অ্যান্ড ইনোভেশনস (CO+I) দলের সঙ্গে কাজ করছেন। এই দল মাইক্রোসফটের ডেটা সেন্টারের অবকাঠামো নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে। অ্যাজুর ও মাইক্রোসফট ৩৬৫-এর মতো ক্লাউড সেবা সচল রাখতে এসব ডেটা সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিজের যাত্রা সম্পর্কে নাসিমের বক্তব্য, তিনি কখনো অসাধারণ ছাত্র ছিলেন না, কিন্তু হাল ছাড়েননি। প্রতিটি প্রত্যাখ্যানকে শেষ হিসেবে না দেখে নতুন একটি প্রশ্ন হিসেবে নিয়েছেন, যার উত্তর তাঁকে খুঁজে বের করতে হয়েছে। বাংলাদেশের তরুণদের জন্যও রয়েছে তাঁর পরামর্শ। নাসিম মনে করেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট অর্জন করলেই হবে না; হাতে-কলমে কাজের দক্ষতা বাড়াতে হবে। ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন, সাইবার নিরাপত্তার মৌলিক বিষয়গুলো শেখা এবং অনলাইনে থাকা শিক্ষার সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের তরুণদের প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করতে চান নাসিম। নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে তাঁদের শেখার পথ সহজ করা এবং নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়াই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। একসময় বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার আগে চিরকুটে নিজের জীবনের লক্ষ্য লিখে রাখা সেই কিশোরের পথচলা আজ অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। কারণ, নাসিমের গল্প শুধু মাইক্রোসফটে চাকরি পাওয়ার গল্প নয়; এটি সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শেখার চেষ্টা, মায়ের আত্মত্যাগ এবং বারবার ব্যর্থ হয়েও নতুন করে শুরু করার গল্প। মায়ের বিক্রি করা একটি ছাগলের টাকায় কেনা মোবাইল ফোন থেকে শুরু হওয়া সেই যাত্রা তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে জাপানের প্রযুক্তি খাতে নতুন এক অধ্যায়ে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট কেশবন শানমুগাম
মা বাবাকে সময় দিতে যুক্তরাষ্ট্রে সবকিছু ছেড়ে নিজ দেশে মাইক্রোসফটের ভাইস প্রেসিডেন্ট

ভারতে বসবাসরত বয়স্ক মা বাবার সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে মাইক্রোসফট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট কেশবন শানমুগাম। ২৩ বছরের কর্মজীবন শেষে পরিবার ও বন্ধুদের জন্য সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। লিংকডইনে দেওয়া তাঁর ঘোষণার বিষয়ে ১১ অক্টোবর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মানিকন্ট্রোল।    শানমুগাম মাইক্রোসফটের এক্সেল কোপাইলট ও এজেন্টিক এআই উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পছন্দের কাজ এবং সহকর্মীদের ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। তবে জীবনের এই পর্যায়ে নিজের সময় ও মনোযোগ পরিবার এবং বন্ধুদের দেওয়াকেই উপযুক্ত মনে করেছেন তিনি।  অবসরের কারণ ব্যাখ্যা করে শানমুগাম জানিয়েছেন, ভারতে থাকা তাঁর মা বাবার বয়স বাড়ছে। তাঁদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর ইচ্ছা থেকেই দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ছাড়ছেন। এক্সেল কোপাইলটের কাজে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও পারিবারিক জীবনের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।    এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ায় মাইক্রোসফটের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শানমুগাম। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও সাবেক সহকর্মীদেরও ধন্যবাদ দিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকে আনন্দদায়ক ও তৃপ্তিদায়ক হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।    লিংকডইনে তাঁর ঘোষণায় বহু মানুষ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এনডিটিভি জানিয়েছে, মন্তব্যকারীদের অনেকে মা বাবাকে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। পছন্দের পেশা থেকে সরে এসে পরিবারের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত সহজ নয় বলেও উল্লেখ করেছেন কেউ কেউ।  

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করে বিদেশি নিয়োগের অভিযোগ, মাইক্রোসফট-অ্যাডোবির গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত
মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করে বিদেশি নিয়োগের অভিযোগ, মাইক্রোসফট-অ্যাডোবির গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত এইচ-১বি (H-1B) ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট এবং অ্যাডোবির গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে দেশটির সরকার। বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্থগিতাদেশের ঘোষণা দেন।   প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করে অপেক্ষাকৃত কম বেতনের বিদেশি কর্মীদের দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করছে। এই স্থগিতাদেশের ফলে প্রতিষ্ঠান দুটি এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত তাদের বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের (গ্রিন কার্ড) জন্য আর কোনো আবেদন করতে পারবে না।   সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স মাইক্রোসফটের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, তারা একটি দুর্দান্ত আমেরিকান কোম্পানি, কিন্তু তাদের উচিত চমৎকার আমেরিকান কর্মীদেরই নিয়োগ দেওয়া। তিনি অভিযোগ করেন, আমেরিকান কর্মীদের চাকরিচ্যুত করে তার বদলে বিদেশ থেকে চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকদের এনে কাজ করানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।   এ বিষয়ে মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমমন্ত্রী কিথ সোন্ডারলিং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মাইক্রোসফটের পাশাপাশি অ্যাডোবিকেও একইভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই কোম্পানিগুলোর কোনো নতুন বা চলমান 'স্থায়ী শ্রম শংসাপত্র' বা পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন আবেদন আর গ্রহণ বা প্রক্রিয়া করা হবে না।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মাইক্রোসফট প্রায় ৩,৭০০ কর্মীর জন্য এইচ-১বি ভিসার আবেদন করেছে, যা তাদের এই ভিসা ব্যবহারকারী পঞ্চম বৃহত্তম নিয়োগকর্তায় পরিণত করেছে। তবে ৯,৩০০টির বেশি আবেদন নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে অ্যামাজন।   শ্রমমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সাল থেকে মাইক্রোসফট এবং অ্যাডোবি প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার এইচ-১বি ভিসা অনুমোদন এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ১ লাখ 'স্থায়ী শ্রম শংসাপত্র' পেয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স দাবি করেন, হিসাব করলে দেখা যায় যে, মাইক্রোসফট প্রতি একজন আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করার বিপরীতে দেড় গুণ বিদেশি কর্মীকে নিয়োগ দিয়েছে। এছাড়া এইচ-১বি প্রোগ্রামের আওতায় নিয়োগ পাওয়া কর্মীরা একই পদে থাকা মার্কিন কর্মীদের তুলনায় গড়ে ২০ হাজার ডলার কম বেতন পান।   দীর্ঘদিন ধরেই এইচ-১বি ভিসা সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল অভিবাসন বিষয়ক বিভিন্ন অ্যাডভোকেসি গ্রুপ, তবে তাদের কারণগুলো ভিন্ন। এই ভিসার শর্ত অনুযায়ী কর্মীদের তাদের নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়, যার ফলে কর্মপরিবেশ বা বেতন নিয়ে অসন্তুষ্টি থাকলেও তাদের পক্ষে সহজে চাকরি পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না।   ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ফোরামের মতো সংস্থাগুলো অবশ্য জেডি ভ্যান্সের এই পদক্ষেপের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছে। সংস্থাটির মতে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (STEM), উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সারা বিশ্ব থেকে মেধাবী কর্মীদের আকৃষ্ট করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি লাভবান হয়। তারা সতর্ক করে বলেছে যে, এমন কঠোর নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে মেধাবীদের কাছে কম আকর্ষণীয় করে তুলবে, যা শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক প্রতিযোগীদেরই শক্তিশালী করবে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি প্রযুক্তি কর্মীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ
মাইক্রোসফটের কর্মীদের গ্রিন কার্ড আবেদন বন্ধ করল ট্রাম্প প্রশাসন, অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি প্রযুক্তি কর্মীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন মাইক্রোসফটকে বিদেশি কর্মীদের জন্য স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে বাদ দিয়েছে। প্রশাসনের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে।   এই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শ্রম বিভাগের স্থায়ী শ্রম অনুমোদন কর্মসূচি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রাখার জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারে। কর্মসূচিটি স্থগিত হওয়ায় মাইক্রোসফটের জন্য বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে রাখার প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে।   তবে এর অর্থ এই নয় যে মাইক্রোসফটের সব বিদেশি কর্মীর এইচ-১বি ভিসা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হয়ে গেছে। নতুন সিদ্ধান্তটি মূলত স্থায়ী বসবাসের পথ বা গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করেছে। ফলে বর্তমানে বৈধ এইচ-১বি অবস্থানে থাকা কর্মীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরি বা ভিসা হারাচ্ছেন—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মাইক্রোসফট বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মাইক্রোসফটের কর্মী ছাঁটাই ও বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরে এই অভিযোগ করেছেন। তবে মাইক্রোসফট মার্কিন কর্মীদের বদলে বিদেশি কর্মী বসিয়েছে—এমন অভিযোগের সব দাবির স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।   এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ রক্ষা করতে ভিসা ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।   মাইক্রোসফট বহু বছর ধরে বিদেশি প্রযুক্তি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান। ২০২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩ হাজার ৭০০ এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের অনুমোদন হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত এক দশকে সংখ্যাটি ৫৩ হাজারের বেশি বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।   এর ফলে ভারত, বাংলাদেশ, চীনসহ বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি পেশাজীবীদের মধ্যে বিষয়টি বিশেষ আগ্রহের কারণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সফটওয়্যার প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য দক্ষ কর্মীদের একটি বড় অংশ এইচ-১বি ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ করেন। তাদের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন।   একই দিনে প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়েও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের ফি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রশাসন কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবহারের বিষয়েও তদন্তের কথা জানিয়েছে।   ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং পরে চাকরির মাধ্যমে দেশটিতে থাকার পরিকল্পনা করা তরুণদের জন্য অভিবাসন নীতির পরিবর্তন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।   তবে মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে নেওয়া বর্তমান পদক্ষেপের মেয়াদ কতদিন থাকবে এবং কোম্পানিটি কীভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ নিয়ে মাইক্রোসফট ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।   বিশেষজ্ঞদের জন্য বড় প্রশ্ন হলো, এই সিদ্ধান্ত শুধু মাইক্রোসফটের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে আরও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার ওপর একই ধরনের চাপ তৈরি হবে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
এআইয়ের সম্ভাব্য ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন বিল গেটস
এআইয়ের কারণে মা রা যাবে শতকোটি মানুষ! সতর্ক করলেন বিল গেটস

ত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের অপব্যবহার ভয়াবহ বি প র্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি টেলিভিশনের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের অংশে তিনি বলেছেন, এআই এতটাই শক্তিশালী যে এটি এমন ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে, যাতে শতকোটি মানুষের মৃ ত্যু হয়।   গেটসের বক্তব্য কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার পূর্বাভাস বা প্রা ণ হা নির হিসাব নয়। তিনি সম্ভাব্য ঝুঁকির মাত্রা বোঝাতে সংখ্যাটি ব্যবহার করেছেন। তাঁর উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে ক্ষ তি কর উদ্দেশ্যের মানুষের হাতে উন্নত এআই প্রযুক্তি পৌঁছানোর আশঙ্কা।   আগস্টে নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক লেখায় গেটস এআই দিয়ে সাইবার হা ম লা, প্র তা র ণা ও জী বা ণু অ স্ত্র তৈরির ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, প্রযুক্তিটি দ্রুত উন্নত হতে থাকায় এর ক্ষ তি কর ব্যবহার মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।   তবে এআইয়ের সুফলের সম্ভাবনাও দেখছেন গেটস। তাঁর মতে, যথাযথ সুরক্ষা ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও গবেষণায় এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এআইয়ের উন্নয়ন ও ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনই সরকার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগ প্রয়োজন।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
বিচারককে কাঁদাতে এআই দিয়ে ভুক্তভোগীর বিবৃতি লেখালেন পুলিশ অফিসার
বিচারককে কাঁদাতে এআই দিয়ে ভুক্তভোগীর বিবৃতি লেখালেন পুলিশ অফিসার

যুক্তরাজ্যের আদালতে বিচারককে আবেগপ্রবণ করে আসামির সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে এক ভুক্তভোগীর বিবৃতি তৈরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। মাইক্রোসফট কপাইলট ব্যবহার করে এক পুলিশ কর্মকর্তার তৈরি করা ওই বিবৃতির বিষয়টি সম্প্রতি ২৩ বছর বয়সী জেরোম গিবসন নামের এক আসামির সাজা কমানোর আপিল শুনানিতে সামনে আসে।   ২০২৪ সালের মে মাসে গিবসন তার সঙ্গীর বাড়ির দরজা ভেঙে প্রবেশ করে ছুরি নিয়ে হুমকি দেওয়া এবং পালানোর সময় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ধাক্কা দিয়ে গুরুতর জখম করার দায় স্বীকার করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে নটিংহ্যাম ক্রাউন কোর্ট তাকে ৪৪ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল, যার বিরুদ্ধে তিনি লন্ডনের কোর্ট অব আপিলে আবেদন করেন।   মঙ্গলবারের আপিল শুনানিতে গিবসনের আইনজীবী লাকি থান্ডি আদালতকে জানান, মামলার নথিতে ভুক্তভোগীর যে ব্যক্তিগত বিবৃতিটি উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা মূলত মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা মাইক্রোসফট কপাইলট ব্যবহার করে তৈরি করেছেন।   থান্ডির দাবি অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা কপাইলটে এমনভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে বিবৃতিটি পড়ে বিচারক বা পাঠক আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং অপরাধের সর্বোচ্চ মাত্রার ক্যাটাগরির সঙ্গে যেন সাজাটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।   এর জবাবে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের পক্ষে ডেনিস ব্যারি জানান, ফৌজদারি মামলায় অতিরঞ্জিত ভাষার চেয়ে বাস্তব তথ্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং বিচারকের এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে।   তবে প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে ওই কর্মকর্তার এমন বিতর্কিত ভূমিকার কারণে ইতোমধ্যে তাকে সম্মুখভাগের দায়িত্ব বা ফ্রন্টলাইন ডিউটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   কোর্ট অব আপিলের তিন সদস্যের বিচারকের বেঞ্চ আইনি প্রক্রিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার এমন এআই ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করলেও আসামির সাজা কমানোর আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন।   আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, এআই ব্যবহার করে আইনি বিবৃতি তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়; তবে আগের বিচারক সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেসব তথ্য আমলে নিয়েছিলেন সেগুলো কোনো কাল্পনিক বিষয় ছিল না, বরং ভুক্তভোগীর বাস্তব সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতেই সাজানো হয়েছিল।   বিচারকদের মতে, এআই ব্যবহারের কারণে আসামির সাজা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই ৪৪ মাসের কারাদণ্ডকেই যৌক্তিক হিসেবে বিবেচনা করে তা বহাল রাখা হয়েছে। তবে অভিনব এই ঘটনাটি ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ায় এআই-এর অপব্যবহার এবং আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
পরিচালন ব্যয় কমাতে ৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা মাইক্রোসফটের, সবচেয়ে বড় ধাক্কা এক্সবক্স গেমিং বিভাগে | ছবি: সংগৃহীত
মাইক্রোসফটে বড় ধাক্কা, ৪৮০০ কর্মী ছাঁটাইসহ বন্ধ হচ্ছে চার গেমিং স্টুডিও

বিশ্বখ্যাত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট তাদের পরিচালন ব্যয় কমানো এবং ব্যবসা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জন কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এই বিশাল ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়াটি প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ। মূলত কোম্পানির এক্সবক্স গেমিং খাতের লোকসান ও মন্দা কাটিয়ে উঠতেই এই বড় ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।   মাইক্রোসফটের অভ্যন্তরীণ বার্তা অনুযায়ী, এবারের ছাঁটাইয়ে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে এক্সবক্স গেমিং বিভাগের ওপর। আগামী ২০২৭ অর্থবছর নাগাদ এই বিভাগ থেকে মোট ৩ হাজার ২০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা হবে, যার মধ্যে ১ হাজার ৬০০ জন কর্মীকে সোমবারই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এই ছাঁটাইয়ের পরিমাণ এক্সবক্সের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ।   ব্যয় সংকোচনের এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মাইক্রোসফট তাদের অধীনস্থ চারটি জনপ্রিয় গেমিং স্টুডিওর মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২০১০-এর দশকে কিনে নেওয়া ‘কমপালশন গেমস’ এবং ‘ডাবল ফাইন প্রোডাকশনস’ আবার স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করবে। এছাড়া ‘নিনজা থিওরি’ ও ‘আনডেড ল্যাবস’ নতুন মালিকানায় যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং ২০২১ সালে ৮১০ কোটি ডলারে কেনা ‘আর্কেন স্টুডিও’র ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা চলছে।   মাইক্রোসফটের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা অ্যামি কোলম্যান কর্মীদের জানিয়েছেন যে, বর্তমান প্রযুক্তি খাতে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পরিবর্তন আসছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সরাসরি এই কর্মীদের বিকল্প হিসেবে কাজ করছে না, বরং কোম্পানির বাণিজ্যিক খাতের ব্যয় কমাতেই এই সিদ্ধান্ত। এর আগে গত এপ্রিল মাসে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার একটি কর্মসূচি চালু করেছিল, যেখানে বহু সিনিয়র কর্মকর্তা অংশ নেন।   চলতি বছরে পুঁজিবাজারে মাইক্রোসফটের শেয়ারের দাম প্রায় ১৯ শতাংশ কমে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং উইন্ডোজ লাইসেন্স, সারফেস ডিভাইস ও এক্সবক্সের দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এক্সবক্সের প্রধান নির্বাহী আশা শর্মা কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, দীর্ঘ এক বছরের এই কঠিন পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষে ২০২৭ সালের মধ্যে কোম্পানি আবার আগের মতো প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসবে।

তাবাস্সুম জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: গেটি ইমেজেস
চিপের দাম বাড়ায় ল্যাপটপ, আইপ্যাড ও এক্সবক্সের দাম বাড়াচ্ছে অ্যাপল ও মাইক্রোসফট

বিশ্ববাজারে মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের তীব্র সংকট এবং উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নিজেদের মূল পণ্যগুলোর দাম শত শত ডলার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল এবং মাইক্রোসফট। গত বৃহস্পতিবার অ্যাপল তাদের নির্দিষ্ট কিছু ম্যাকবুক এবং আইপ্যাডের দাম সর্বোচ্চ ৩০০ ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর কথা জানায়। এর কিছু সময় পরেই মাইক্রোসফট ঘোষণা করে, আগামী ১ আগস্ট থেকে তাদের জনপ্রিয় এক্সবক্স (Xbox) গেমিং কনসোলের দামও বৃদ্ধি পাবে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ডেটা সেন্টারের ব্যাপক বিস্তারের কারণে চিপের এই তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।   অ্যাপল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চিপ ও যন্ত্রাংশের দাম এত কম সময়ে এতটা বাড়তে তারা আগে কখনো দেখেনি। এতদিন গ্রাহকদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ না দিলেও পরিস্থিতি এখন আর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট 'দ্য ভার্জ'-এর তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপলের বাজেট-বান্ধব ল্যাপটপ 'ম্যাকবুক নিও'র দাম ৫৯৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬৯৯ ডলার করা হয়েছে। এছাড়া ৫১২ জিবি ম্যাকবুক এয়ারের দাম ১,০৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ১,২৯৯ ডলার এবং ১ টেরাবাইট ম্যাকবুক প্রোর দাম ১,৬৯৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১,৯৯৯ ডলার করা হয়েছে। তবে এই দফায় আইফোনের দাম বাড়ানো না হলেও বাজার বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, খুব শীঘ্রই আইফোনের দাম বাড়ার ঘোষণাও আসবে। দাম বাড়ার এই খবরের পর অ্যাপলের শেয়ারের দর প্রায় ৫.৬ শতাংশ কমে গেছে।   অন্যদিকে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে ব্যবহৃত মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের দাম ইতিমধ্যে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে আরও দ্বিগুণ হতে পারে। এই সংকটের কারণে আগামী ১ আগস্ট থেকে ৫১২ জিবি স্টোরেজের এক্সবক্স কনসোলের দাম ১০০ ডলার বাড়িয়ে প্রায় ৫০০ ডলার করা হচ্ছে। এছাড়া ১ টেরাবাইট স্টোরেজের এক্সবক্সের দাম বাড়ছে ১৫০ ডলার। গত বছরও মাইক্রোসফট তাদের এক্সবক্সের দাম ২০ থেকে ৭০ ডলার পর্যন্ত বাড়িয়েছিল।   বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশন (IDC) জানিয়েছে, চিপের এই বিশ্বব্যাপী সংকট ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। করোনা মহামারীর সময় কারখানা বন্ধ থাকায় চিপের যে সংকট শুরু হয়েছিল, তা এখন এআই প্রযুক্তির বৈপ্লবিক চাহিদার কারণে চরম আকার ধারণ করেছে। গত ১৭ জুন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী (CEO) টিম কুক বলেন, "আমি গত ৪০ বছরে প্রযুক্তির বাজারে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি আর কখনো দেখিনি।"

তাবাস্সুম জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
এপস্টেইনের ছবিতে মুখ ঢাকা নারীর পাশে বিল গেটস।
তিন নারীর সঙ্গে পরকীয়ার কথা স্বীকার করলেন বিল গেটস

মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস তিন নারীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বা পরকীয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন। সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসে কুখ্যাত দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত এক তদন্তে দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য দেন। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বিল গেটসের দেওয়া এই জবানবন্দির গোপনীয় নথিটি সম্প্রতি জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়েছে।   প্রকাশিত সাক্ষ্যের প্রতিলিপি অনুযায়ী, গত ১০ জুন অনুষ্ঠিত এক দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে বিল গেটস প্রথমে দুই রুশ নারীর সঙ্গে তাঁর গোপন সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। তাঁদের মধ্যে একজন হলেন ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভা এবং অন্যজন পারমাণবিক পদার্থবিদ কারিমা নিগমাতুলিনা। পরবর্তীতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একের পর এক কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়ে তিনি আরও এক নারী বিজ্ঞানীর সঙ্গেও সম্পর্কের কথা মেনে নেন। ড. অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরট নামের ওই নারী একজন নামকরা চিকিৎসা-উদ্যোক্তা।   বিশ্বের একসময়কার শীর্ষ ধনী এই ব্যবসায়ী বরাবরই দাবি করে আসছেন যে, তিনি দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের কোনো যৌন নির্যাতন বা অপরাধ নিজে প্রত্যক্ষ করেননি। এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সময় কাটানোকে তিনি অতীতেও ‘একটি বড় ভুল’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। কংগ্রেস সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে গেটস আবারও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব ধরনের যৌন অসদাচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, এপস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় অজান্তেই তিনি নির্যাতনের শিকার কোনো ব্যক্তির উপস্থিতিতে থেকে থাকতে পারেন, কারণ এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত কিছু নারী ও কিশোরী তাঁর প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।   সাক্ষ্য চলাকালীন বিল গেটস একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করে বলেন, অতীতে তাঁর মনে এক ধরনের গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে কোনো এক নারীর মাধ্যমে তিনি হয়তো যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। এই উদ্বেগের বিষয়টি নিয়ে তিনি সে সময় এপস্টেইন এবং তাঁর পরিচিত এক বন্ধুর সঙ্গে আলোচনাও করেছিলেন। গেটস জানান, ওই দুই রুশ নারীর সাথে তাঁর অবিশ্বস্ততা বা পরকীয়ার কথা জানার পর এপস্টেইন মূলত সেই তথ্য ব্যবহার করে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল বা ব্ল্যাকমেইলিং করার পরিকল্পনা করেছিলেন।   কংগ্রেসের নথিতে দেখা যায়, ২০১৩ সালের একটি গোপন ই-মেইলে এপস্টেইন সরাসরি ড. অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরটের নাম উল্লেখ করেছিলেন। আইনপ্রণেতারা সেই ই-মেইলটি বিল গেটসের সামনে প্রদর্শন করার পর তিনি বাধ্য হয়ে ওই নারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এপস্টেইন তাঁকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করলেও কখনো সফলভাবে ব্ল্যাকমেইল করতে পারেননি। ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে মোট ১২ থেকে ১৪ বার সশরীরে সাক্ষাৎ করেছেন এবং দুবার স্কাইপ ভিডিও কলে কথা বলেছেন।   গেটস দাবি করেন, এসব বৈঠকের বেশিরভাগই মূলত দাতব্য কার্যক্রম ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করার জন্য হয়েছিল। ২০১১ সালে এপস্টেইনের পূর্ববর্তী যৌন অপরাধের দণ্ড সম্পর্কে জানার পরও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে বড় অনুদান সংগ্রহের আশায় তিনি সীমিত পরিসরে যোগাযোগ রেখেছিলেন। তবে পরবর্তীতে কোনো প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় ২০১৪ সালে এপস্টেইনের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করেন। ২০১৯ সালে কারাগারে মারা যাওয়া এপস্টেইনকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত বছর থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশ শুরু করার পর থেকেই বিল গেটসের এই পুরোনো অধ্যায় নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।   সূত্র: টেলিগ্রাফ

তাবাস্সুম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০