সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#মার্কিননাগরিকত্ব

অন্যের পরিচয়ে পাসপোর্ট, পরে নিজের নামে নাগরিকত্ব
২৪ বছর মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহারের পর নারীর নাগরিকত্ব বাতিল, সামনে এলো জালিয়াতি

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার এবং ১৩ বছর ধরে নাগরিকত্ব ভোগ করার পর এক নারীর নাগরিকত্ব বাতিল করেছেন ফেডারেল আদালত। নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ভিভিয়ান চিকে ওবিচেরে নামের ওই নারীর বিরুদ্ধে অন্য একজন মার্কিন নাগরিকের পরিচয় ব্যবহার করে পাসপোর্ট নেওয়া এবং নাগরিকত্বের আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের ঘটনা প্রমাণিত হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ দেন। ২১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।   মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সালে ওবিচেরে অন্য একজন মার্কিন নাগরিকের নাম, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, জন্মস্থান ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে অবৈধভাবে একটি মার্কিন পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। আদালতের নথিতে ওই ব্যক্তির পরিচয় ‘সিসিও’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ২০০২ সালে একই পরিচয়ে পাসপোর্ট নবায়ন করেন তিনি। অর্থাৎ মার্কিন নাগরিক হওয়ার বহু আগেই অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছিলেন ওবিচেরে। এরপর ২০০৩ সালে নিজের প্রকৃত পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী হন তিনি। কিন্তু পাসপোর্টসংক্রান্ত জালিয়াতির বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়নি। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে নিজের প্রকৃত নামে মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন করার পাশাপাশি অন্যের পরিচয়ে নেওয়া পাসপোর্টটি আবারও নবায়নের চেষ্টা করেন ওবিচেরে। এই দুটি প্রক্রিয়া চলার সময় তাঁর আগের পরিচয় ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে। নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারে শপথ নিয়ে ওবিচেরে জানিয়েছিলেন, তিনি কখনো ‘সিসিও’ নাম ব্যবহার করেননি। তবে বিচার বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি জানতেন তথ্যটি সত্য নয়। এরপরও ২০১৩ সালের জুনে তাঁকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। এর দুই বছর পর ২০১৫ সালে পাসপোর্টের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং পাসপোর্ট ব্যবহারের অপরাধে ফেডারেল আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। ওই ফৌজদারি মামলায় নিজের আগের একাধিক মিথ্যা তথ্য দেওয়ার বিষয় স্বীকার করেছিলেন ওবিচেরে। চলতি বছরের ৩০ জুলাই তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য দেওয়ানি মামলা করে মার্কিন বিচার বিভাগ। মামলায় চারটি ভিত্তিতে নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছিল। পরে ৭ অক্টোবর উভয় পক্ষ আদালতে সম্মতিসূচক রায়ের আবেদন জমা দেয়। ওবিচেরে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশে সম্মত হন। বাকি তিনটি অভিযোগ নিষ্পত্তি না করেই খারিজ করেন আদালত। গত ১৩ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক আরাসেলি মার্টিনেজ-ওলগুইন তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের চূড়ান্ত আদেশ দেন। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১৯ জুন থেকে তাঁর ন্যাচারালাইজেশনের অনুমোদন বাতিল বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ যেদিন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিক হয়েছিলেন, সেই তারিখ থেকেই নাগরিকত্বের আইনি ভিত্তি বাতিল করা হয়েছে। তাঁকে নাগরিকত্বের সনদ ও মার্কিন পাসপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, ওবিচেরে ২৪ বছর ধরে বৈধভাবে মার্কিন নাগরিক ছিলেন না। তিনি ১৯৯২ সালে অন্য ব্যক্তির পরিচয়ে প্রথম পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছিলেন, কিন্তু নিজের নামে নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন ২০১৩ সালে। ফলে পাসপোর্ট ব্যবহারের ইতিহাস এবং বৈধ নাগরিকত্বের মেয়াদ এক নয়। একইভাবে নাগরিকত্ব বাতিল হওয়ার অর্থ তাঁকে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট করা হয়েছে, এমনও নয়। তাঁর গ্রিন কার্ডের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যতে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে এই রায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। এদিকে একই সময়ে আরেক নারীর মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের কথাও জানিয়েছে বিচার বিভাগ। কিউবায় জন্ম নেওয়া মিলাগ্রোস মারিলেইসিস অ্যাকোস্তা টরেসের নাগরিকত্ব গত ১৪ অক্টোবর ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালত বাতিল করেন। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনি একটি ক্যাসিনোর অর্থসংক্রান্ত জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিংয়ের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার তথ্য নাগরিকত্বের আবেদনে গোপন করেছিলেন। তিনি ২০১৫ সালে নাগরিকত্ব পান এবং ২০২০ সালে সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির ট্রানজ্যাকশনাল রেকর্ডস অ্যাক্সেস ক্লিয়ারিংহাউসের (ট্র্যাক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে অন্তত ১৮৫টি ডিন্যাচারালাইজেশন মামলা করা হয়েছে। তুলনায় ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ১২৫টি এ ধরনের মামলা হয়েছিল বলে সংস্থাটির পরিসংখ্যানে উল্লেখ রয়েছে। তবে মামলা দায়ের হওয়া এবং আদালতের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বাতিল হওয়া আলাদা বিষয়। মার্কিন বিচার বিভাগের সিভিল ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট শুমেট জানিয়েছেন, অপরাধ বা প্রতারণার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে নাগরিকত্ব নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের দাবি, নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নাগরিকত্ব বাতিলসংক্রান্ত মামলায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং প্রতিটি অভিযোগের পৃথক বিচারিক মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জন্মসূত্রে পাওয়া নাগরিকত্ব এবং ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে অর্জিত নাগরিকত্বের আইনি পরিস্থিতি এক নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের গ্রিন কার্ডধারী ও ন্যাচারালাইজড নাগরিকদের জন্য ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এন-৪০০ ফরমে নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় আগে ব্যবহার করা নাম, পরিচয়, অপরাধসংক্রান্ত ইতিহাস এবং ইমিগ্রেশন রেকর্ড সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়া জরুরি। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা কিংবা মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জনের বিষয়টি পরবর্তী সময়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে শুধু বহু বছর আগে নাগরিকত্ব পাওয়া কিংবা দীর্ঘদিন মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করার কারণে কারও নাগরিকত্ব বাতিল হয় না।   ওবিচেরের ঘটনায় আদালতের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে, নাগরিকত্ব পাওয়ার বহু বছর পরও তা অর্জনের সময় সংঘটিত জালিয়াতির কারণে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ফৌজদারি দণ্ড এবং নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারে দেওয়া মিথ্যা তথ্য মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে নাগরিকত্ব বাতিলের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবেন কি না, সে প্রশ্নের নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। সোর্স: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, নিউজউইক

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি পদক্ষেপ জোরদার করছে ট্রাম্প প্রশাসন
নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনেও তথ্য গোপনের অভিযোগ, ১৫ বছর পর আইনি চ্যালেঞ্জে মার্কিন নাগরিকত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার ১৫ বছর পর তা হারানোর আইনি ঝুঁকিতে পড়েছেন শিকাগোর এক অভিবাসী। নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ইমানুয়েল তাইয়ো আকিনকুনমির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গ্রিন কার্ড ও মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় নিজের আগের পরিচয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছিলেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের পাশাপাশি তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। গত ৭ অক্টোবর ইলিনয়ের একটি আদালতে দায়ের করা মামলায় মার্কিন সরকার দাবি করেছে, আকিনকুনমি আইনসম্মতভাবে নাগরিকত্ব অর্জন করেননি। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং কিছু তথ্য গোপন করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই তাঁর নাগরিকত্বের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। মামলার নথি অনুযায়ী, আকিনকুনমি ২০১১ সালের ৮ জুন মার্কিন নাগরিক হিসেবে শপথ নেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব লাভ করেন। কিন্তু তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ইতিহাস নিয়ে সরকারের অভিযোগ আরও পুরোনো। মামলায় বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে তিনি ভিন্ন একটি পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন। সেই পরিচয় ছিল ইজেকিয়েল আরেমু আদেতায়ো। সরকারের অভিযোগ, ১৯৯৩ সালে ওই পরিচয়ে তিনি নিজের গ্রিন কার্ডের মর্যাদা ত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৭ সালে মার্কিন অভিবাসন আপিল বোর্ডও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এর পর আকিনকুনমি নতুন পরিচয়ে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। ওই আবেদনে তিনি দাবি করেছিলেন, অন্য কোনো নাম ব্যবহার করেননি এবং এর আগে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়নি। সরকারের দাবি, এসব তথ্যের ভিত্তিতে ২০০০ সালে তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন অনুমোদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াতেও একই ধরনের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। ২০১০ সালে নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় আকিনকুনমি নাকি আগের পরিচয় ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে তাঁকে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ থেকে বিরত রাখা হয়েছিল কিংবা বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—এমন তথ্যও তিনি অস্বীকার করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের বক্তব্য, আকিনকুনমি কখনোই আইনসম্মতভাবে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জন করেননি। বরং প্রতারণা অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি অভিবাসন সুবিধা ও নাগরিকত্ব পেয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিলের কার্যক্রম জোরদার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এই উদ্যোগকে আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিলের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অক্টোবরের শুরুতে মার্কিন বিচার বিভাগ ৪০ জন স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায়। সরকারের অভিযোগ, এসব ব্যক্তি অবৈধভাবে অথবা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে ভুয়া বিয়ে, অভিবাসনসংক্রান্ত জালিয়াতি এবং পরিচয় গোপনের মতো অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তদের বয়স ২৬ থেকে ৭৬ বছরের মধ্যে এবং তাঁরা ২০টি দেশের নাগরিক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে আদালতের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে সরকারকে প্রমাণ করতে হয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব পেয়েছেন অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। অতীতে এ ধরনের মামলা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার বছরে গড়ে প্রায় ১১টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা শুরু করেছিল। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে, এই সংখ্যা বেড়ে বছরে প্রায় ২৫টিতে পৌঁছায়। নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টও সরকারের ক্ষমতার ওপর সীমা আরোপ করেছেন। ২০১৭ সালের মাসলেনিয়াক বনাম যুক্তরাষ্ট্র মামলায় আদালত বলেন, নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়ায় কোনো বেআইনি কাজের সঙ্গে নাগরিকত্ব পাওয়ার সম্পর্ক থাকতে হবে। অর্থাৎ, আবেদনে কোনো ভুল বা বেআইনি আচরণ পাওয়া গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় না; নাগরিকত্ব অর্জনে সেই আচরণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আকিনকুনমির মামলাতেও অভিযোগের সত্যতা, তথ্য গোপনের গুরুত্ব এবং নাগরিকত্ব অর্জনের সঙ্গে সেসব তথ্যের সম্পর্ক আদালতের বিবেচনায় আসতে পারে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবীর নাম তালিকাভুক্ত ছিল না। মামলায় মার্কিন সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীর কাছেও মন্তব্য চাওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন ও ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ার প্রতীকী ছবি
আমেরিকান নাগরিকত্বের আবেদনেই বড় সুবিধা, ফি দিতে হবে না যাদের

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মানুষের জন্য ফি ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বা ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, কিছু সামরিক সদস্য ও যোগ্য সাবেক সামরিক সদস্য ন্যাচারালাইজেশনের আবেদন করার সময় নির্ধারিত ফি থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি পেতে পারেন। বর্তমানে এন-৪০০ ন্যাচারালাইজেশন আবেদনের সাধারণ ফি ৭৬০ ডলার।   প্রথমত, যারা সক্রিয়ভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত এবং অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ৩২৮ বা ৩২৯ ধারার অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন, তাদের এন-৪০০ আবেদনের জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। এই ক্ষেত্রে আইনের অধীনেই ফি মওকুফ হয়ে যায় এবং আলাদাভাবে ফি মওকুফের আবেদন করার প্রয়োজন নেই।   দ্বিতীয়ত, যোগ্য সাবেক সামরিক সদস্যরাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে নাগরিকত্বের আবেদন ফি থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি পেতে পারেন। শান্তিকালীন সময়ে বা নির্ধারিত শত্রুতাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সম্মানের সঙ্গে সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হতে পারে। এ জন্য সামরিক বা নৌবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের প্রমাণ হিসেবে এন-৪২৬ ফরম জমা দিতে হয়।   ইউএসসিআইএস আরও জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সামরিক শ্রেণির আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার কিছু সাধারণ শর্তেও ছাড় থাকতে পারে। যেমন, নির্ধারিত শত্রুতার সময় সম্মানের সঙ্গে সামরিক দায়িত্ব পালনকারীদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের আবেদনের আগে সাধারণ আবাসন বা যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিক উপস্থিতির কিছু শর্ত প্রযোজ্য নাও হতে পারে।   তবে সামরিক সদস্যদের জন্য নির্ধারিত এই ফি ছাড়ের ক্ষেত্রে সাধারণ ফি মওকুফের জন্য ব্যবহৃত আই-৯১২ ফরম জমা দেওয়া উচিত নয়। কারণ সামরিক আইনের অধীনে যোগ্য হলে ফি ছাড় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই প্রযোজ্য হয়।   সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত নন এমন ব্যক্তিদের জন্যও আর্থিক সংকটের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের আবেদন ফি কমানোর বা পুরোপুরি মওকুফের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আই-৯১২ ফরম জমা দিতে হয়। যাদের পরিবারের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১৫০ শতাংশের মধ্যে, যারা নির্দিষ্ট আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধা পান অথবা যারা গুরুতর আর্থিক সংকটে রয়েছেন, তারা পুরো ফি মওকুফের জন্য আবেদন করতে পারেন।   এ ছাড়া পরিবারের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১৫০ শতাংশের বেশি কিন্তু ৪০০ শতাংশের মধ্যে হলে কাগজে আবেদন করার ক্ষেত্রে ৩৮০ ডলারের কমানো ফি প্রযোজ্য হতে পারে। অর্থাৎ যোগ্যতা ও আয়ের ভিত্তিতে কিছু আবেদনকারীকে পুরো ফি না দিয়ে কম ফিতে নাগরিকত্বের আবেদন করার সুযোগও রয়েছে।   তবে এসব সুবিধা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনি ও যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে সামরিক সদস্যদের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ৩২৮ বা ৩২৯ ধারার অধীনে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকতে হবে। নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের যোগ্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।  

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের স্থায়ী বসবাস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিয়ম
নতুন আবেদনকারীদের গ্রিন কার্ড পেতে মানতে হবে শর্ত, জানাল ডিএইচএস

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন এনেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএ ইচএস। নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এমন কিছু শিশু, যারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পায় না এবং যাদের বাবা-মায়ের কেউ একজন বিদেশি সরকারের কর্মী, তারা লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পাবে। নিয়মটি ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।  তবে এই পরিবর্তন সব গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর জন্য নয়। মূলত এমন শিশুদের জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাদের বাবা-মায়ের কেউই মার্কিন নাগরিক নন এবং অন্তত একজন বিদেশি সরকারের কর্মী। ডিএইচএস জানিয়েছে, নতুন নিয়মের মাধ্যমে আগে যে শ্রেণির কিছু শিশু লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেত না, তাদের জন্য সেই সুযোগ সম্প্রসারিত করা হয়েছে।  নতুন নিয়মে বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা ছাড়াও বিদেশি সরকারের বিভিন্ন কর্মী এবং নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীরা সংশ্লিষ্ট শ্রেণির মধ্যে পড়তে পারেন। ডিএইচএসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, বিদেশি সরকারি কর্মীর ধারণাটি আগের ‘বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা’ শ্রেণির চেয়ে বিস্তৃত। এর ফলে নির্দিষ্ট সরকারি দায়িত্বে থাকা আরও কিছু কর্মীর সন্তান এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে।  এর অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট শিশু জন্মের সময় মার্কিন নাগরিকত্ব না পেলেও যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ পেতে পারে। যোগ্য হলে শিশুটির পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি নিবন্ধনের জন্য ফরম আই-৪৮৫ ব্যবহার করা যাবে। তবে এই নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয় নয়; যোগ্য ব্যক্তিকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে। ডিএইচএস একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন ও এলিয়েন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন এনেছে।  সেপ্টেম্বর ৯ তারিখে ডিএইচএস আরও একটি সংশোধনী প্রকাশ করে। এতে আগের নিয়ম প্রকাশের সময় অসাবধানতাবশত বাদ পড়ে যাওয়া কিছু প্রমাণের শর্ত আবার যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে বাবা বা মায়ের বিদেশি সরকারি চাকরির প্রমাণের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ বাবা বা মা কূটনৈতিক কর্মকর্তা না হলেও বিদেশি সরকারের কর্মী হিসেবে তাদের চাকরির প্রমাণ দিতে হতে পারে।  সংশোধিত নিয়মে ফরম আই-৫০৮ নিয়েও পরিষ্কার করা হয়েছে। বিদেশি সরকারের কর্মী হিসেবে যোগ্য কিছু শিশুর ক্ষেত্রে তাদের বাবা-মা কূটনৈতিক কর্মকর্তা না হলে এই ফরম জমা দেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে। ফরম আই-৫০৮ মূলত নির্দিষ্ট অধিকার, বিশেষ সুবিধা, অব্যাহতি ও ইমিউনিটি ত্যাগের সঙ্গে সম্পর্কিত। ডিএইচএস জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর শ্রেণি অনুযায়ী এর প্রয়োজনীয়তা নির্ধারিত হবে।  নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাদের জন্য, যাদের বাবা-মা বিদেশি সরকারের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালন করছেন। আগে প্রচলিত নিয়মে ‘বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা’ শ্রেণির বাইরে থাকা কিছু সরকারি কর্মীর সন্তান জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক না হলে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেত না। নতুন ব্যবস্থায় সেই পরিধি বাড়ানো হয়েছে।  ডিএইচএসের প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বা তার পর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সংশ্লিষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন প্রযোজ্য। এর আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের জন্মের সময় কার্যকর থাকা নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সেপ্টেম্বর ৯-এর সংশোধনীও ৪ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর বলে ধরা হয়েছে।  এই পরিবর্তন জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের অভিবাসন অবস্থান নিয়ে চলমান নীতিগত পরিবর্তনের একটি অংশ। তবে নতুন নিয়মটি নিজে থেকে সব বিদেশি সরকারি কর্মীর সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেয় না। বরং যেসব শিশু জন্মের সময় মার্কিন নাগরিক নয়, তাদের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিকে লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির জন্য নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০