সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নতুন আবেদনকারীদের গ্রিন কার্ড পেতে মানতে হবে শর্ত, জানাল ডিএইচএস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৭:৪৬
বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের স্থায়ী বসবাস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিয়ম
বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের স্থায়ী বসবাস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন এনেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএ ইচএস। নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এমন কিছু শিশু, যারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পায় না এবং যাদের বাবা-মায়ের কেউ একজন বিদেশি সরকারের কর্মী, তারা লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পাবে। নিয়মটি ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। 


তবে এই পরিবর্তন সব গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর জন্য নয়। মূলত এমন শিশুদের জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাদের বাবা-মায়ের কেউই মার্কিন নাগরিক নন এবং অন্তত একজন বিদেশি সরকারের কর্মী। ডিএইচএস জানিয়েছে, নতুন নিয়মের মাধ্যমে আগে যে শ্রেণির কিছু শিশু লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেত না, তাদের জন্য সেই সুযোগ সম্প্রসারিত করা হয়েছে। 


নতুন নিয়মে বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা ছাড়াও বিদেশি সরকারের বিভিন্ন কর্মী এবং নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীরা সংশ্লিষ্ট শ্রেণির মধ্যে পড়তে পারেন। ডিএইচএসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, বিদেশি সরকারি কর্মীর ধারণাটি আগের ‘বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা’ শ্রেণির চেয়ে বিস্তৃত। এর ফলে নির্দিষ্ট সরকারি দায়িত্বে থাকা আরও কিছু কর্মীর সন্তান এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে। 


এর অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট শিশু জন্মের সময় মার্কিন নাগরিকত্ব না পেলেও যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ পেতে পারে। যোগ্য হলে শিশুটির পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি নিবন্ধনের জন্য ফরম আই-৪৮৫ ব্যবহার করা যাবে। তবে এই নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয় নয়; যোগ্য ব্যক্তিকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে। ডিএইচএস একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন ও এলিয়েন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন এনেছে। 


সেপ্টেম্বর ৯ তারিখে ডিএইচএস আরও একটি সংশোধনী প্রকাশ করে। এতে আগের নিয়ম প্রকাশের সময় অসাবধানতাবশত বাদ পড়ে যাওয়া কিছু প্রমাণের শর্ত আবার যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে বাবা বা মায়ের বিদেশি সরকারি চাকরির প্রমাণের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ বাবা বা মা কূটনৈতিক কর্মকর্তা না হলেও বিদেশি সরকারের কর্মী হিসেবে তাদের চাকরির প্রমাণ দিতে হতে পারে। 


সংশোধিত নিয়মে ফরম আই-৫০৮ নিয়েও পরিষ্কার করা হয়েছে। বিদেশি সরকারের কর্মী হিসেবে যোগ্য কিছু শিশুর ক্ষেত্রে তাদের বাবা-মা কূটনৈতিক কর্মকর্তা না হলে এই ফরম জমা দেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে। ফরম আই-৫০৮ মূলত নির্দিষ্ট অধিকার, বিশেষ সুবিধা, অব্যাহতি ও ইমিউনিটি ত্যাগের সঙ্গে সম্পর্কিত। ডিএইচএস জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর শ্রেণি অনুযায়ী এর প্রয়োজনীয়তা নির্ধারিত হবে। 


নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাদের জন্য, যাদের বাবা-মা বিদেশি সরকারের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালন করছেন। আগে প্রচলিত নিয়মে ‘বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা’ শ্রেণির বাইরে থাকা কিছু সরকারি কর্মীর সন্তান জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক না হলে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেত না। নতুন ব্যবস্থায় সেই পরিধি বাড়ানো হয়েছে। 


ডিএইচএসের প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বা তার পর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সংশ্লিষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন প্রযোজ্য। এর আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের জন্মের সময় কার্যকর থাকা নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সেপ্টেম্বর ৯-এর সংশোধনীও ৪ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর বলে ধরা হয়েছে। 


এই পরিবর্তন জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের অভিবাসন অবস্থান নিয়ে চলমান নীতিগত পরিবর্তনের একটি অংশ। তবে নতুন নিয়মটি নিজে থেকে সব বিদেশি সরকারি কর্মীর সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেয় না। বরং যেসব শিশু জন্মের সময় মার্কিন নাগরিক নয়, তাদের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিকে লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির জন্য নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার, পরে সরকারি নথিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আইসিইর বিরুদ্ধে
ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার, পরে সরকারি নথিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আইসিইর বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন অঙ্গরাজ্যের এক ফেডারেল বিচারক আরও বেশি আইসিই (ICE- ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টকে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দেখতে চেয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, এক কর্মকর্তা সরকারি গ্রেপ্তারের রেকর্ডে মিথ্যাচার করেছেন এবং সরাসরি সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমেই এই জালিয়াতি ধরা পড়েছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মনোনীত ডিস্ট্রিক্ট জজ মুস্তাফা টি. কাসুভাই জানান, সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের বিবরণে কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে আদালতের উচিত কেবল লিখিত বিবৃতির ওপর নির্ভর না করে তাদের সরাসরি জেরা করা। বিচারক তার আদেশে স্পষ্ট করে লেখেন, "সত্য অনুসন্ধানের জন্য সরাসরি সাক্ষ্যগ্রহণ একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি। যখন সাক্ষীরা অবলীলায় মিথ্যা বলতে প্রস্তুত থাকেন, তখন লিখিত বিবৃতি কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।"   বিচারকের এই কঠোর সমালোচনার সূত্রপাত মূলত ওয়ারেন্ট ছাড়া অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। জে.জি. (J.G.) নামের এক আইসিই কর্মকর্তার তৈরি করা গ্রেপ্তারের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, কর্মকর্তাদের কাছে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল এবং তারা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করেই তার গাড়ির কাছে গিয়েছিলেন।   কিন্তু আদালতে শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ওই কর্মকর্তা স্বীকার করেন, গাড়ি থামানোর সময় তিনি ওই ব্যক্তির অস্তিত্ব সম্পর্কে কিছুই জানতেন না এবং তার কাছে কোনো ওয়ারেন্টও ছিল না। বিচারক কাসুভাই এই ঘটনাটিকে ভুল হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে একে ‘ইচ্ছাকৃত ও সমন্বিত জালিয়াতি’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ওই কর্মকর্তাকে যদি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে জেরা না করা হতো, তবে তার এই মিথ্যাচার কখনোই সামনে আসতো না।   এই ঘটনার পর বিচারক কাসুভাই আইসিই কর্মকর্তাদের ওপর থেকে 'প্রিজাম্পশন অব রেগুলারিটি' বা সরকারি কর্মকর্তাদের আইনি কাজের প্রতি সাধারণ যে আইনি আস্থা রাখা হয়, তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তিনি জানান, আইসিই এজেন্টরা নিজেদের কাজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন।   এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ম্যাসাচুসেটসের এক ফেডারেল বিচারকও আইসিই কর্মকর্তাদের 'ধারাবাহিক মিথ্যাচারের' কারণে তাদের ওপর থেকে এই আইনি আস্থা প্রত্যাহার করেছিলেন। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপকহারে অভিবাসী বিতাড়নের নীতির সাথে ফেডারেল আদালতগুলোর এই সংঘাত বেশ কয়েকবারই সামনে এসেছে, যেখানে বিচারকরা আইসিই-এর বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্য, আগ্রাসী গ্রেপ্তার ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন।   পাশাপাশি আইসিই-এর আই-২১৩ (I-213) গ্রেপ্তারি রেকর্ড এবং প্রতিবেদনের পদ্ধতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিচারক কাসুভাই। আইসিই দাবি করেছিল যে, ছয় মাসে তারা ওয়ারেন্ট ছাড়া মাত্র ১৩টি গ্রেপ্তার করেছে, কিন্তু বিচারকের মতে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি।   কারণ, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মধ্যে সংস্থাটি অরেগনে ৫৭৪টি গ্রেপ্তার করেছে। তিনি এই রেকর্ডগুলোতে একাধিক ভুল, একই ভাষার পুনরাবৃত্তি এবং ভুয়া তথ্যের উপস্থিতি পেয়েছেন। বিচারকের মতে, এ ধরনের অসদাচরণ অরেগনে আইসিই কর্মকর্তাদের পূরণ করা সমস্ত আই-২১৩ ফর্মের সত্যতা নিয়েই বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১৭:৩৩
মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর ১৭ বছর পরও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, ৬০০ মিলিয়ন ডলার দাবি মেয়ের

মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর ১৭ বছর পরও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, ৬০০ মিলিয়ন ডলার দাবি মেয়ের

যুক্তরাষ্ট্রে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নি হত, আত্মহ ত্যা করলেন স্বামী, এতিম ৬ বছরের শিশু

যুক্তরাষ্ট্রে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নি হত, আত্মহ ত্যা করলেন স্বামী, এতিম ৬ বছরের শিশু

যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষুধার্ত শিক্ষার্থীদের খাবার দেওয়ায় চাকরি হারালেন ১৯ বছরের অভিজ্ঞ স্কুলকর্মী

যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষুধার্ত শিক্ষার্থীদের খাবার দেওয়ায় চাকরি হারালেন ১৯ বছরের অভিজ্ঞ স্কুলকর্মী

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৬২ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকানের সমর্থন ডেমোক্র্যাটদের দিকে
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৬২ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকানের সমর্থন ডেমোক্র্যাটদের দিকে

২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ভারতীয়-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে নতুন করে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন বাড়তে দেখা যাচ্ছে। কার্নেগি এনডাউমেন্ট-ইউগভ-এর পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, ৬২ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিক আসন্ন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের কংগ্রেসনাল প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। এর বিপরীতে রিপাবলিকান দলের প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ১৯ শতাংশ ভোটার।   এই পরিসংখ্যানটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য একটি বড় ধরনের ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে রিপাবলিকান পার্টি যে বাড়তি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল, তা বর্তমানে অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। তবে জরিপের প্রতিবেদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও তুলে ধরা হয়েছে।   সেখানে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের প্রতি এই বিপুল সমর্থনের পেছনে কেবল দলটির প্রতি আকর্ষণই কাজ করছে না; বরং রিপাবলিকান পার্টির প্রতি বিরোধিতাও একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করা প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা মূলত রিপাবলিকানদের আটকাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১৫:৪৫
বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিয়েও আইসিইর হাতে আটক ইউসি বার্কলের শিক্ষার্থী

বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিয়েও আইসিইর হাতে আটক ইউসি বার্কলের শিক্ষার্থী, মুক্তির আবেদন আইনজীবীর

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ভোট দেওয়ার অভিযোগে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তালিকায় বাংলাদেশিও

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ভোট দেওয়ার অভিযোগে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তালিকায় বাংলাদেশিও

যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয়তা কমলে ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয়তা কমলে ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবেন ট্রাম্প! দাবি ৯৯ শতাংশ সমর্থনের

এইচ-১বি ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদনের ৭৯ শতাংশই ভারতীয়দের, ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাবে বাড়ছে শঙ্কা
এইচ-১বি ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদনের ৭৯ শতাংশই ভারতীয়দের, ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাবে বাড়ছে শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার (USCIS) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এইচ-১বি এবং এল-১ ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের পূর্বের অনুমোদনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বাধ্যবাধকতা বাতিলের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ভারতীয় পেশাজীবীদের ওপর। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত এই নতুন নিয়মটি কার্যকর হলে মার্কিন মুলুকে কর্মরত অভিবাসী প্রকৌশলী ও আইটি বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বেন।   স্বরাষ্ট্র বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ থেকে আনা এই নতুন প্রস্তাবটির মাধ্যমে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ওপর থাকা পুরনো কড়াকড়ি বা পূর্বানুমোদন বহাল রাখার শর্ত শিথিল করা হচ্ছে। বিগত গত ১৪ অক্টোবর ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এই প্রস্তাবের ওপর জনসাধারণের মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া আগামী ১৩ নভেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত নিয়মটি চূড়ান্ত হলে সংশ্লিষ্ট আইনের ৮ সিএফআর ২১৪.১(সি)(৫) ধারাটি বাতিল হয়ে যাবে।   এই ধারা অনুযায়ী, পূর্বে একই পক্ষ ও তথ্যের ভিত্তিতে কোনো আবেদন অনুমোদিত হয়ে থাকলে, বড় ধরনের ভুল, পরিবর্তন বা নতুন কোনো ক্ষতিকর তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত কর্মকর্তাদের সাধারণত সেই পূর্বের অনুমোদনের প্রতি আস্থাশীল থাকতে হতো। বর্তমান এই সুরক্ষা বহাল রয়েছে এবং চূড়ান্ত নিয়ম কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে।   ইউএসসিআইএস-এর কংগ্রেসে পেশ করা বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ অর্থবছরে সংস্থাটি প্রায় ৩ লাখ ৯৯ হাজার এইচ-১বি আবেদন অনুমোদন করেছিল, যার মধ্যে ৭১ শতাংশই ছিল ভারতে জন্ম নেওয়া আবেদনকারীদের জন্য। অন্যদিকে, ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর মতো ক্যাটাগরি অর্থাৎ 'কন্টিনিউয়িং এমপ্লয়মেন্ট'-এর আওতায় অনুমোদিত প্রায় ২ লাখ ৫৮ হাজার আবেদনের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার বা ৭৯ শতাংশই ছিল ভারতীয় বংশোদ্ভূত কর্মীদের জন্য। এই বিশাল পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে, পূর্বের অনুমোদনের ওপর ছাড় তুলে দেওয়ার এই পরিবর্তনটি ভারতীয় পেশাজীবীদের জীবন ও পেশাগত স্থিতিশীলতাকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ফেলবে।   ডিএইচএস-এর তথ্য অনুযায়ী, এইচ-১বি আবেদনগুলো সমস্ত ফরম আই-১২৯ (Form I-129) filings-এর ৭৫ শতাংশেরও বেশি অংশ দখল করে আছে। এই নিয়মটি বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার আবেদন সরাসরি প্রভাবিত হবে। এছাড়া 'রিকোয়েস্ট ফর এভিডেন্স' বা অতিরিক্ত প্রমাণ চাওয়া (RFE)-র হার প্রায় ৩ শতাংশ বা বছরে প্রায় ৬ হাজার অতিরিক্ত আবেদন বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, যে সমস্ত আবেদনগুলোতে এই ধরনের অতিরিক্ত প্রমাণের নোটিশ আসে, সেগুলোর নিষ্পত্তি হতে বিগত চার অর্থবছরে গড়ে ৬৪ দিন বেশি সময় লেগেছে। পাশাপাশি ডিএইচএস জানিয়েছে, এর ফলে আবেদনকারীদের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ডলার খরচ হতে পারে।   সংশ্লিষ্ট বিভাগের যুক্তি হলো, বর্তমানের এই ডিফারেন্স বা পূর্বানুমোদন রক্ষার নীতি এবং পলিসি মূলত 'প্রমাণ বা যুক্তির মূল দায়িত্ব আবেদনকারীর কাছ থেকে সরিয়ে ইউএসসিআইএস কর্মকর্তার ওপর চাপিয়ে দেয়', যেখানে পূর্বের অনুমোদন থেকে সরে আসার কারণ দর্শাতে হয়। তবে সমালোচকদের মতে, এই নীতি পরিবর্তনের ফলে বৈধ পেশাজীবীদের দীর্ঘসূত্রিতা, অতিরিক্ত খরচ ও মানসিক অনিশ্চয়তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:১৪
যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ রাজ্যে টানা তিন দিন আইসের অভিযান, ট্রাকচালকসহ আটক ২৩০ অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ রাজ্যে টানা তিন দিন আইসের অভিযান, ট্রাকচালকসহ আটক ২৩০ অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের নির্বাচন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল মধ্যবর্তী নির্বাচন, খরচ প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে সন্দ্বীপের দুই তরুণের মৃত্যুর খবরে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে সন্দ্বীপের দুই তরুণের মৃত্যু, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া

0 Comments