মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | ছবি: সংগৃহীত
এবার মমতার দলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন, ৮৭৬ কোটি রুপি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা

নিজের হাতে গড়া রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর আগেই রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার দলটির বিপুল অঙ্কের আর্থিক তহবিল ও আইনি নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেও চরম সংকটের মুখে পড়েছেন তিনি। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দল দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার পর এবার দলটির ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ বা স্থগিত করার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি আবেদন জানিয়েছেন খোদ তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস।   ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধনী রাজনৈতিক দল তৃণমূলের অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, দলটির ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে বর্তমানে মোট ৬২৫ কোটি ৭৯ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৪ রুপি জমা রয়েছে। এ ছাড়া ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে রয়েছে আরও ২৫০ কোটি ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৩২২ রুপি। সবমিলিয়ে তৃণমূলের ব্যাংকে থাকা অর্থের পরিমাণ ৮৭৬ কোটি ৫৭ লাখ ১৫ হাজার ৫৮৬ রুপি। এর বাইরে চেক হিসেবে রয়েছে আরও ৫০ কোটি রুপি এবং কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো মিলিয়ে নগদ বা ক্যাশ রয়েছে ৩১ লাখ ২৮ হাজার ২৮ রুপি।   তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে দুই টুকরো হওয়ার পর দলটির একটি বড় অংশ 'ঋতব্রত গোষ্ঠী' নামে আলাদা হয়ে নিজেদের 'আসল তৃণমূল' বলে দাবি করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত অংশটির আশঙ্কা, এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি ব্যাংকে থাকা দলীয় ফান্ডের এই বিশাল অর্থ হাতিয়ে নিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে তহবিলের নিয়ন্ত্রণ যাতে বেহাত না হয়, তা নিশ্চিত করতেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   নিজেকে পার্টির মূল কোষাধ্যক্ষ দাবি করে ব্যাংকে দেওয়া ওই চিঠিতে অরূপ বিশ্বাস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বর্তমানে তৃণমূলের ভেতরে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, যারা নিজেদের দলের আসল প্রতিনিধি বলে দাবি করছে। এই পরিস্থিতিতে দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ বেহাত হওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   চিঠিতে তিনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সমস্ত ডেবিট ট্রানজ্যাকশন (অর্থ উত্তোলন) এবং অপারেশনাল স্ট্যাটাস অবিলম্বে স্থগিত রাখা হোক। এর ফলে দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের পর এবার কোটি কোটি রুপির ব্যাংক ব্যালেন্স নিয়েও টানাপোড়েন পুরোপুরি রাজপথে চলে এলো।

তাবাস্সুম জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | ছবি: সংগৃহীত
সংবিধান না মানলে মমতার বাংলাদেশে চলে যাওয়া উচিত: দিলীপ ঘোষ

পশ্চিমবঙ্গে নামাজ পড়তে চাওয়া ব্যক্তিদের বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার দু’দিন পর, এবার রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একই পরামর্শ দিয়েছেন বিজেপি সরকারের প্রভাবশালী পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বুধবার (১৭ জুন) মমতার দীর্ঘদিনের নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের আইন এবং সংবিধান না মানলে মমতার বাংলাদেশে চলে যাওয়া উচিত।   প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ২০ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী (পিএসও) হিসেবে কর্মরত স্বরূপ গোস্বামী ও কুসুম কুমার দ্বিবেদীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মমাফিক তাদের জায়গায় নতুন তিনজন পিএসও নিয়োগ করা হলে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নতুন নিরাপত্তারক্ষীদের দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দেন এবং সরকারি প্রটোকল প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করেন।   এই ঘটনার পর কলকাতার নিউটাউনে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হন বিজেপি মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মমতার পিএসও বদল নিয়ে ক্ষোভের প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার যখন তাকে নিরাপত্তারক্ষী দিয়েছিল, তখন তিনি নিজে কাউকে বেছে নেননি। তাহলে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কেন নিজের পছন্দ অনুযায়ী নিরাপত্তারক্ষী দাবি করছেন?   মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্ববর্তী শাসনকালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, মমতা যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনিও প্রতি ছয় মাস পর পর সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি করতেন। অথচ তার নিজস্ব এলাকা কালীঘাট বা এয়ারপোর্ট থানায় কোনোদিন কোনো ওসি বদল করা হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমানে যিনি সরকারের নেতৃত্বে আছেন, আইন অনুযায়ী তারও একই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।   তিনি আরও যোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান সরকারের এই আইনসম্মত সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না। তিনি ভারতের সংবিধান ও সরকারকে তোয়াক্কা করছেন না। দেশের নিয়মনীতি অমান্য করে এই দেশে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই উল্লেখ করে তাকে সরাসরি বাংলাদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন এই প্রভাবশালী বিজেপি নেতা।

তাবাস্সুম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: ফাইল ফটো
ভবানীপুরের নির্বাচনি ফল চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সদ্য সমাপ্ত রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফলের বৈধতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি নির্বাচন সংক্রান্ত আবেদন (ইলেকশন পিটিশন) দায়ের করেছেন তিনি। তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, ভোট গণনার সময় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি করা হয়েছে। আর এই কারণেই আদালতের মাধ্যমে পুরো বিষয়টির একটি নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।   মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টে সশরীরে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় তার সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা, আইনজীবী ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আদালত চত্বরে পৌঁছে তিনি নিয়ম অনুযায়ী শপথ কমিশনের কার্যালয়ে যান এবং পিটিশন দায়েরের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পরও তিনি গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।   এবারের হাইভোল্টেজ নির্বাচনেও ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনি ফলাফলে তৃণমূল নেত্রীর পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই দলের পক্ষ থেকে ভোট গণনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আপত্তি তোলা হতে থাকে। অবশেষে আইনি পথ বেছে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফলকে আদালতের এজলাসে চ্যালেঞ্জ করলেন তিনি।   এদিকে একই দিনে কলকাতা হাইকোর্টে পশ্চিমবঙ্গের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মামলার শুনানি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার দ্বিতীয় দফার শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই মামলাটি দায়ের করেন। তার মূল দাবি, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিধানসভার প্রচলিত নিয়মাবলী ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ফলে বিধানসভার অধ্যক্ষের (স্পিকার) এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে এবং আদালত যেন এই সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করে।   আদালতে মামলার শুনানিতে তৃণমূলের প্রবীণ আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জোরালো সওয়াল করে প্রশ্ন তোলেন, ঠিক কোন নিয়মের ওপর ভিত্তি করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য, এই পুরো প্রক্রিয়াটি যথাযথ আইনি নিয়ম মেনে করা হয়নি এবং আদালতের উচিত বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করে জানান, স্পিকারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং এতে আদালতের হস্তক্ষেপ করার কোনো প্রয়োজন নেই।   উল্লেখ্য, গত শুনানিতে আদালত এই বিষয়ে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয়নি। যার ফলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত বিরোধী দলনেতা হিসেবেই তার স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তবে মঙ্গলবারের এই দ্বৈত শুনানিকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, ভবানীপুরের নির্বাচনি ফল চ্যালেঞ্জ এবং বিরোধী দলনেতার পদের বৈধতা সংক্রান্ত মামলার শুনানি একই দিনে হওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মাত্রা পেয়েছে। আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণের ওপরই নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন ও বিরোধী শিবিরের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল।

তাবাস্সুম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | ছবি: সংগৃহীত
তৃণমূলের ১৯ সাংসদের দল ছাড়ার আভাসে বড় সংকটে মমতা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড়সড় ভরাডুবির পর দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এবার দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন দলের অন্তত ১৯ জন লোকসভা সাংসদ। ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই বিদ্রোহী সাংসদরা দিল্লির শাসক দল বিজেপি জোটের (এনডিএ) সঙ্গে থাকার তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।   শুক্রবার (১২ জুন) প্রকাশিত এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্রোহী সাংসদদের স্বাক্ষর করা একটি বিশেষ চিঠি তাদের হাতে এসেছে। এই চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ এবং সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানের মতো তৃণমূলের অত্যন্ত পরিচিত ও হেভিওয়েট মুখদের স্বাক্ষর রয়েছে। তৃণমূলের একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, খুব শিগগিরই আরও একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী শীর্ষ নেতা এই বড় বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দিতে পারেন।   প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ১৮ মে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি গোপন চিঠি পাঠিয়েছিলেন এই বিদ্রোহী সাংসদরা। সেই চিঠিতে তারা নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং লোকসভায় শাসক জোট এনডিএর সঙ্গে থাকার আনুষ্ঠানিক আগ্রহের কথা জানান। এর ঠিক দুই দিন পর, ২০ মে, তৃণমূলের মূল শিবিরের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে আরেকটি পাল্টা চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবর্তে প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভায় দলের নতুন প্রধান হুইপ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়।   এর আগে কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিজে স্বীকার করেছিলেন যে তৃণমূলের একদল সাংসদ দল ছাড়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সে সময় তিনি সরাসরি কোনো নাম প্রকাশ না করলেও সংসদে তাদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা চাওয়া এবং বিজেপিকে সমর্থনের ইঙ্গিত দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন। এদিকে এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই ইতোমধ্যে তৃণমূলের তিনজন রাজ্যসভা সাংসদ পদত্যাগ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়েন প্রকাশ চিক বরাইক, যার আগে ১০ জুন সুস্মিতা দেব এবং ৮ জুন পদ ছাড়েন সুখেন্দুশেখর রায়। তবে তারা এই ১৯ জনের চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   বর্তমানে ভারতের লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। ভারতের কঠোর দলত্যাগবিরোধী আইন এড়াতে এবং সংসদে আলাদা রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে মোট সাংসদের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১৯ জন সাংসদের সমর্থনের প্রয়োজন হয়। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, দল ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় সেই সুনির্দিষ্ট সংখ্যাটি এখন তাদের হাতের মুঠোয় রয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত সাংসদ কীর্তি আজাদ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিজেপির চাপ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন।   তৃণমূলের ভেতরের এই চরম অসন্তোষের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দল ও প্রশাসনে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ এবং মমতার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিষয়টি। চারবারের সাংসদ শতাব্দী রায় সরাসরি অভিযোগ করেছেন, দলে সাধারণ নেতাদের মতামতের কোনো মূল্য ছিল না এবং কেবল কিছু নির্বাচিত ব্যক্তিরই মমতার কাছে যাওয়ার সুযোগ ছিল। অন্যদিকে প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রকাশ্যে অভিষেকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, অভিষেককে ছাড়া দল চলবে কিনা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিতে হবে।

তাবাস্সুম জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
রায়গঞ্জে কংগ্রেসের জনসভায় রাহুল গান্ধী। পশ্চিমবঙ্গ, ভারত; ১৪ এপ্রিল, ২০২৬। ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গ ভোটের মাঠে ত্রিমুখী লড়াই, তৃণমূল-বিজেপিকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বললেন রাহুল

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকতে জমে উঠেছে প্রচারণার মাঠ। রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন, যা নির্বাচনী উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।   মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে এক নির্বাচনী জনসভায় রাহুল গান্ধী বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস—উভয় দলকেই ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ‘সিন্ডিকেট রাজ’ কায়েম হয়েছে এবং তৃণমূল সরকারের অধীনে কংগ্রেসকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার যেমন দেশে শিল্পকারখানা বন্ধ করছে, তেমনি রাজ্যেও শিল্পায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মকাণ্ডই রাজ্যে বিজেপির উত্থানের পথ সুগম করছে।   রাহুল গান্ধী তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় রাজনীতি নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ভারতের নীতিনির্ধারণে বাইরের প্রভাব বাড়ছে এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্ব মেদিনীপুরের পিংলায় এক জনসভায় বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বাংলা দখলের চক্রান্ত’ করার অভিযোগ তোলেন।   তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা তৃণমূল প্রতিহত করবে। মমতা আরও বলেন, বাংলার আঞ্চলিক স্বার্থ ও ভাষাগত পরিচয়ের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে সতর্ক থেকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।   এদিকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে এক জনসভায় তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘সিন্ডিকেট রাজ’ ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সিন্ডিকেট ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া হবে এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।   অমিত শাহ উত্তরবঙ্গে উন্নয়ন, নতুন শহর গঠন, ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণ এবং সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দেন। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ত্রিমুখী লড়াই—কংগ্রেস, তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে—রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

Unknown এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
মোদির মুখোশ খুলে দেব, এক মঞ্চে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ মমতার!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক লড়াই এখন তুঙ্গে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) কলকাতায় এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি এক মঞ্চে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রীকে বলুন আমার সঙ্গে এক মঞ্চে বিতর্ক করতে। মুখোশ টেনে খুলে দেব। টেলিপ্রম্পটার ছাড়া তিনি কথা বলতে পারেন না, শুধু সাজানো সাক্ষাৎকার দেন।"   জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী ভোটারদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিজেপিকে সিপিএমের থেকেও 'ভয়ঙ্কর' বলে আখ্যা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে অনেক ভোটারের নাম তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হচ্ছে। নাম কাটা যাওয়া ভোটারদের দ্রুত ট্রাইব্যুনালে আবেদনের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, "যারা নাম কেটেছে, তাদের একটিও ভোট দেবেন না। ভোটের মাধ্যমেই এই নাম কাটার বদলা নিতে হবে।"   মালদার সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বহিরাগতরা এসে বাংলার সম্মান নষ্ট করার চেষ্টা করছে। হায়দরাবাদ থেকে আসা আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "বিহারের মতো এখানেও বিভাজনের রাজনীতি করার চেষ্টা চলছে। সংখ্যালঘু ভোটারদের সতর্ক থাকতে হবে যেন ভোট ভাগ না হয়।" আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি রাজ্যের সিআইডির প্রশংসা করলেও অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় তার হাত পা বাধা।   কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বলেন, "এত বাহিনী থাকা সত্ত্বেও কেন অশান্তি আটকানো যাচ্ছে না? বাংলার মানুষ আতিথেয়তা দেবে আর ভোট লুট হয়ে যাবে, তা হতে পারে না।" মণিপুর পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে বলেন, "আগে নিজের রাজ্য সামলান, তারপর বাংলার দিকে তাকান।" রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ায় বাংলার নির্বাচনী লড়াই এখন চূড়ান্ত উত্তেজনায় পৌঁছেছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নির্বাচনের আগেই বড় পদক্ষেপ: একযোগে ২৩টি পদ ছাড়লেন মমতা

আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আইনি বাধ্যবাধকতা ও নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, তিনি ১১টি সরকারি দপ্তরের অধীনে থাকা মোট ২৩টি বিভিন্ন সংস্থা, বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর এই পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের সিনিয়র স্পেশাল সেক্রেটারি একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরকারের প্রতিটি দপ্তরকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। নির্বাচনের আগে 'অফিস অফ প্রফিট' বা লাভজনক পদের জটিলতা এড়াতে প্রতিবারই এই নিয়ম পালন করতে হয়। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পদত্যাগপত্রের সঙ্গে একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা সংযুক্ত করেছেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, তালিকার বাইরেও যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে তাঁর পদ থেকে থাকে, তবে সেখান থেকেও যেন তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যেসব গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর থেকে তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, তথ্য ও সংস্কৃতি, সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা, শিল্প ও বাণিজ্য, বিপর্যয় মোকাবিলা ও সিভিল ডিফেন্স এবং অরণ্য দপ্তর। উল্লেখিত এই দপ্তরগুলোর বিভিন্ন সংস্থায় তিনি চেয়ারপার্সন, মিশন হেড বা প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রতিটি দপ্তরের সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আগামী ২৫শে মার্চ বিকেল ৪টের মধ্যে এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ সংক্রান্ত 'কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট' জমা দিতে হবে।

তাবাস্সুম মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
অধিকার কেড়ে নিতে দেব না: ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মঞ্চে মোদিকে কড়া হুঁশিয়ারি মমতার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee কলকাতার ঐতিহাসিক Red Road-এর ঈদের জামাতে অংশ নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-কে কটাক্ষ করে ‘সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী’ বলে মন্তব্য করেছেন।   শনিবার পবিত্র Eid al-Fitr উপলক্ষে রেড রোডে রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে হালকা বৃষ্টি থাকলেও নামাজ আদায়ে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। দলে দলে মুসল্লির উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলিতে মেতে ওঠেন মুসল্লিরা।   জামাতে যোগ দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি বলেন, রাজ্য ও দেশের উন্নয়ন এবং সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করা জরুরি।   এ সময় নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং এ নিয়ে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, সবার অধিকার রক্ষায় এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।   প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মমতা প্রশ্ন তোলেন, বিদেশ সফরে গিয়ে ভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্য দেখানো হলেও দেশে ফিরে বিভাজনের রাজনীতি করা হচ্ছে কি না। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদিজিই ভারতের সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী।”   এ ছাড়া তিনি সতর্ক করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে লক্ষ্য করে কোনো ধরনের উসকানি দেওয়া হলে তা প্রতিহত করা হবে। একই সঙ্গে রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

Unknown মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

US Releases Official 10-Step Guide to Becoming an American Citizen Through Naturalisation

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে ১০ ধাপের সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ, গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য যা জানা জরুরি

বায়জিদ হাসান জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০