- প্রচ্ছদ
- Topic
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হর্টনে লেকের পাড়ে একটি বিলাসবহুল বাড়ি এখন ক্রেতার অপেক্ষায়। চারপাশে নির্মল পানি, প্রশস্ত খোলা জায়গা এবং আধুনিক সব সুবিধা থাকা পাঁচ শয়নকক্ষের এই বাড়িটির বর্তমান তালিকামূল্য ১২ লাখ ৯৫ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমান, যদিও বিনিময় হার অনুযায়ী টাকার অঙ্কে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। বাড়িটির ঠিকানা ২৬০ পাইন হিল লেক ড্রাইভ। রিয়েল এস্টেট তালিকায় বাড়িটি বিক্রির জন্য সক্রিয় রয়েছে। জ্যাকসন কাউন্টির হর্টনে অবস্থিত বাড়িটি পাইন হিল লেকের তীরে তৈরি। বিক্রির বিজ্ঞাপনে এটিকে এমন একটি আবাসন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মিশিগানের উত্তরাঞ্চলের অবকাশযাপনের আবহ পাওয়া যাবে, কিন্তু সেখানে পৌঁছাতে চার ঘণ্টা গাড়ি চালানোর প্রয়োজন হবে না। বাড়িটির আয়তন ৩ হাজার ৩৫৩ বর্গফুট। এতে পাঁচটি শয়নকক্ষ, চারটি বাথরুম এবং দুই গাড়ি রাখার গ্যারেজ রয়েছে। ২০১৭ সালে নির্মিত বাড়িটির নকশাকে আধুনিক প্রেইরি-ধাঁচের বিলাসবহুল স্থাপত্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বর্তমানে বাড়িটি বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান রিয়েলম্যাক্স মিড-মিশিগান। বাড়িটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই এর লেকমুখী অবস্থান। তালিকাভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির প্রায় ৭৭ ফুট দীর্ঘ জলসীমা রয়েছে এবং এটি ফারওয়েল ও পাইনহিল হ্রদশ্রেণির সঙ্গে যুক্ত এলাকায় অবস্থিত। পাইন হিল লেকের পানি বসন্তের প্রাকৃতিক উৎস থেকে আসা এবং স্বচ্ছ বলে বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়ির পেছনের দিক থেকে লেকের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। বাড়ির পেছনে রয়েছে বড় আচ্ছাদিত প্যাটিও বা বসার জায়গা। সেখানে আরামদায়ক চেয়ার, পানিতে ডুবে আরাম করার জন্য স্থায়ী গরম পানির ব্যবস্থা, ঘোরানো যায় এমন টেলিভিশন এবং বাইরের রান্নাঘর রয়েছে। ফলে পরিবারের সদস্য বা অতিথিদের নিয়ে দীর্ঘ সময় বাইরে বসে লেকের দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। প্যাটিও থেকে ইটের তৈরি একটি পথ গিয়ে পৌঁছেছে আরেকটি আলাদা বসার জায়গায়। সেখানে রয়েছে অগ্নিকুণ্ড এবং খোলা আকাশের নিচে বসার ব্যবস্থা। ফলে সন্ধ্যায় লেকের পাশে বসে সময় কাটানো থেকে শুরু করে অতিথিদের নিয়ে আয়োজন, সবকিছুর জন্যই জায়গাটি উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। বাড়ির ভেতরে ঢুকলে বড় প্রবেশপথ থেকে একটি উন্মুক্ত নকশার বসার জায়গায় যাওয়া যায়। উঁচু ছাদ এবং লেকের দিকে থাকা বড় বড় জানালা ঘরগুলোতে প্রচুর প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে জানালাগুলো থেকে লেকের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। প্রধান তলায় রয়েছে বসার ঘর, যেখানে পাথর দিয়ে তৈরি অগ্নিকুণ্ড রয়েছে। এর পাশেই আধুনিক রান্নাঘর। রান্নাঘরে রয়েছে ক্যামব্রিয়া কোয়ার্টজের প্রশস্ত দ্বীপ, স্টেইনলেস স্টিলের সরঞ্জাম এবং কাচের টাইলসের পেছনের দেয়াল। রান্নাঘর ও বসার জায়গার উন্মুক্ত বিন্যাস পুরো তলাটিকে আরও প্রশস্ত দেখায়। এই তলাতেই রয়েছে লেকমুখী দুটি শয়নকক্ষ এবং দেড়টি বাথরুম। ভেতরের সিঁড়িটি প্রচলিত সিঁড়ির মতো নয়। ভাসমান কাঠামোর এই সিঁড়ি একটি খোলা সংযোগপথের ওপর দিয়ে দ্বিতীয় তলায় পৌঁছেছে। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে আরও তিনটি শয়নকক্ষ ও দুটি পূর্ণাঙ্গ বাথরুম। বাড়িটির প্রধান শয়নকক্ষটি দ্বিতীয় তলায়। এর সঙ্গে রয়েছে আলাদা পোশাক রাখার ঘর এবং ব্যক্তিগত বাথরুম। বাথরুমে রয়েছে আলাদা রাখা বড় পানিতে ভেজার টব এবং ওপর থেকে বৃষ্টির মতো পানি পড়ার ব্যবস্থা করা ঝরনা। বাড়িটির নকশায় অতিথি আপ্যায়ন ও পারিবারিক বিনোদনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভেতর ও বাইরে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা, তারবিহীন রেলিং, রান্নাঘরের ওপরে ঝুলন্ত ছাদ, বিশেষ নকশার আলোকসজ্জা এবং রঙ পরিবর্তন করা যায় এমন কলসহ বেশ কিছু আধুনিক সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া বাড়িতে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা, প্রশস্ত কংক্রিটের প্রবেশপথ, সংরক্ষণাগার এবং পুরো বাড়ির জন্য স্বয়ংক্রিয় বিদ্যুৎ জেনারেটরও রয়েছে। এসব সুবিধার কারণে বাড়িটি শুধু ছুটির দিনে ব্যবহারের জন্য নয়, সারা বছর বসবাসের উপযোগী হিসেবেও বাজারজাত করা হচ্ছে। লেকের আশপাশেও রয়েছে দৈনন্দিন প্রয়োজন ও বিনোদনের বিভিন্ন সুযোগ। কাছেই নৌযানের জ্বালানি নেওয়ার জন্য একটি জলপথের ঘাট, আইসক্রিমের দোকান, রেস্তোরাঁ এবং গলফ কোর্স রয়েছে। ফলে বাড়িতে থাকার পাশাপাশি আশপাশে বিনোদনের সুযোগও পাওয়া যাবে। বাড়িটি একটি ব্যক্তিগত শান্ত পরিবেশের আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। একই সঙ্গে মিশিগানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও এলাকার সঙ্গে এর যোগাযোগও তুলনামূলক সহজ। তালিকাভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, মনরো, টলেডো, নোভাই, নর্থভিল, ল্যান্সিং ও অ্যান আরবার থেকে বাড়িটি প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে। বাড়িটি প্রথমবার ২০২৬ সালের ৬ জুন ১৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার মূল্যে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। পরে ১৮-১৯ জুন এর দাম কমিয়ে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ডলার করা হয়। বর্তমানে সেটিই তালিকাভুক্ত মূল্য হিসেবে রয়েছে। লেকের পানির দৃশ্য, ব্যক্তিগত জলসীমা, বড় প্যাটিও, গরম পানির ব্যবস্থা, বাইরের রান্নাঘর এবং আধুনিক অভ্যন্তরীণ নকশা মিলিয়ে বাড়িটি মিশিগানের লেকফ্রন্ট আবাসনের একটি বিলাসবহুল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তাই যারা শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা চান, তাদের জন্য বাড়িটি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।
নিউইয়র্কের পাউন্ড রিজে প্রকৃতির সঙ্গে এমনভাবে মিশে থাকা একটি ব্যতিক্রমী ‘মিরর হাউস’ ১৫ মিলিয়ন ডলার দামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। কাঁচ, স্টেইনলেস স্টিল ও জিংক-কোটেড কপারের প্রতিফলনশীল বহিরাবরণের কারণে বাড়িটি চারপাশের গাছপালা, আকাশ ও পাথুরে ভূদৃশ্যকে প্রতিফলিত করে। ফলে দূর থেকে দেখলে বাড়িটির সীমানা আলাদা করে বোঝা কঠিন। ৪,৪৮৫ বর্গফুটের এই বাড়িটি প্রায় ১৯ দশমিক ৫ একর জমির ওপর অবস্থিত। চার শয়নকক্ষের বাড়িটি নকশা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান কিয়েরানটিম্বারলেক। বাড়িটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর স্থাপনাটির দৃশ্যমান প্রভাব যতটা সম্ভব কম থাকে। বাড়িটির বাইরের অংশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিফলনশীল উপকরণ ব্যবহারের কারণে দিনের আলো, আবহাওয়া ও ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে এর চেহারাও বদলে যায়। বিশেষ করে পালিশ করা স্টেইনলেস স্টিলের প্যানেলগুলো বাড়ির কোণগুলোকে এমনভাবে প্রতিফলিত করে যে স্থাপনাটির প্রান্ত অনেকটা অদৃশ্য হয়ে যায়। বাড়িটির ভেতরেও রয়েছে বিলাসবহুল নানা সুবিধা। এর মধ্যে রয়েছে কাস্টম কাঠের কাজ, একটি আধুনিক রান্নাঘর, ২ হাজার ৪০০ বোতল ধারণক্ষমতার ওয়াইন সেলার, হোম থিয়েটার এবং বড় কাচের দেয়াল। রয়েছে জিওথার্মাল হিটিং ও কুলিং ব্যবস্থা এবং ট্রিপল-পেন জানালা। স্থাপনাটি নির্মাণের সময় জমির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়। বড় পাথুরে গঠন ও ভূপ্রকৃতির মধ্যে বাড়ির দুটি অংশ স্থাপন করা হয়েছে এবং একটি কাচঘেরা ব্রিজ দিয়ে সেগুলো যুক্ত করা হয়েছে। স্থাপত্যবিষয়ক প্রকাশনা আর্কিটেকচারাল রেকর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটি নির্মাণে প্রাকৃতিক পাথুরে ভূখণ্ডকে যতটা সম্ভব অক্ষত রাখা হয়েছিল। বাড়িটির মালিক মাইকেল ও ওলগা কাগান ২০০৯ সালে ৩৩ একর জমি কিনেছিলেন। পরে জমির একটি অংশ বিক্রি এবং ১০ একর সংরক্ষণ কাজে দেওয়ার পর অবশিষ্ট প্রায় ১৯ দশমিক ৫ একর জমিতে বাড়িটি গড়ে তোলা হয়। স্থাপনাটি ২০১৪ সালে সম্পন্ন হয়। এখন ১৫ মিলিয়ন ডলারের এই বাড়িটি শুধু বিলাসবহুল আবাসন হিসেবেই নয়, প্রকৃতি ও আধুনিক স্থাপত্যের ব্যতিক্রমী সমন্বয় হিসেবেও আলোচনায় এসেছে। পাউন্ড রিজের বনভূমির মধ্যে প্রতিফলিত এই বাড়িটি যেন আশপাশের প্রকৃতির অংশ হয়েই দাঁড়িয়ে আছে।
গত এক দশকে অনেকের জন্যই নিজের বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়াবাড়িতে জীবনযাপন করাটা বেশি সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট বিষয়ক ওয়েবসাইট 'রিয়েল্টর ডটকম'-এর (Realtor.com) অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, শীর্ষ ৫০টি মেট্রোপলিটন শহরে এখনও বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়া থাকাই বেশি সাশ্রয়ী। তবে, পকেটে টাকা থাকলেই যে আপনি আপনার স্বপ্নের মতো একটি বাসা সহজেই ভাড়া পেয়ে যাবেন, বিষয়টি এতটাও সহজ নয়। বাড়িওয়ালার মন জয় করা এবং নিজেকে একজন দায়িত্বশীল ও ঝামেলামুক্ত ভাড়াটিয়া হিসেবে প্রমাণ করার প্রক্রিয়ায় আপনি এমন কিছু কথা মুখ ফসকে বলে ফেলতে পারেন, যার কারণে ভালো একটি বাসা হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। একটি দারুণ বাসা পাওয়ার দৌড়ে টিকে থাকতে হলে বাসা পরিদর্শনের সময় কিছু কথা একেবারেই বলা উচিত নয়। চলুন জেনে নিই এমন ৫টি বিষয় সম্পর্কে: ১. 'আমি আমার বর্তমান বাড়িওয়ালাকে একদম পছন্দ করি না' নতুন বাসা দেখতে গেলে বাড়িওয়ালা স্বভাবতই জানতে চাইবেন কেন আপনি আগের বাসা ছাড়ছেন। এক্ষেত্রে খুব সাবধানে উত্তর দিন। ভুলেও বর্তমান বা সাবেক বাড়িওয়ালা, ম্যানেজমেন্ট বা রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের নামে বদনাম করবেন না। হয়তো আপনার আগের বাসা ছাড়ার পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে, কিন্তু নতুন বাড়িওয়ালার সেটি যাচাই করার কোনো উপায় নেই। রিয়েল এস্টেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার 'রেনটেক ডাইরেক্ট'-এর মার্কেটিং ডিরেক্টর কেসি ওয়েগনার জানান, "কোনো আবেদনকারী যদি তার বর্তমান বাসা নিয়ে খুব বেশি নেতিবাচক কথা বলেন, তবে নতুন বাড়িওয়ালা তাকে 'ঝামেলাপূর্ণ' বলে ধরে নিতে পারেন। একজন অভিযোগকারী ভাড়াটিয়াকে সামলাতে বাড়িওয়ালাকে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়।" এর বদলে আপনি বলতে পারেন, 'আমার আরও বড় জায়গা দরকার' বা 'আমি আমার অফিসের কাছাকাছি থাকতে চাই'। ২. 'আপনাকে আরও একটি প্রশ্ন করতে চাই' আপনি যে বাসায় অন্তত এক বছর বা তার বেশি থাকবেন, সেই বাসা এবং আশেপাশের পরিবেশ নিয়ে আপনার মনে প্রশ্ন থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করা যাবে না। নিউইয়র্কভিত্তিক রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান 'ট্রিপলমিন্ট'-এর এজেন্ট ক্রিসৌলা পাপাউটসাকিসের মতে, আপনি যদি সবকিছু নিয়েই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্ন করেন, তবে বাড়িওয়ালা আপনাকে 'খুঁতখুঁতে স্বভাবের' বা 'অভিযোগকারী' মনে করতে পারেন। তাই কেবল প্রাসঙ্গিক ও জরুরি প্রশ্নগুলোই করুন। যেমন, রান্নাঘরের কাউন্টারটপ তাপ-সহনশীল কি না, তা জানতে চাওয়া যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু ফ্লোরের কাঠ অরিজিনাল নাকি লেমিনেট করা এমন সূক্ষ্ম প্রশ্ন করাটা একটু বাড়াবাড়ি। বাসা পরিদর্শনের সময় অযথাই এক ঘণ্টা ধরে প্রশ্ন করতে থাকলে আপনি বাড়িওয়ালার পছন্দের তালিকা থেকে ছিটকে পড়তে পারেন। ৩. 'আমি একটি কুকুরছানা আনার জন্য আর তর সইতে পারছি না' আপনি হয়তো পোষা প্রাণী পছন্দ করেন এবং এমন বাসাই খুঁজছেন যেখানে এগুলো রাখার অনুমতি আছে। কিন্তু তাই বলে এখনই কুকুরছানা (পাপি) বা নতুন কোনো প্রাণী আনার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করবেন না। ওয়েগনার সতর্ক করে বলেন, "পোষা প্রাণী রাখার অনুমতি থাকলেও কোনো বাড়িওয়ালাই কুকুরছানার কথা শুনে খুব একটা খুশি হবেন না। বয়স্ক প্রাণীর চেয়ে ছানারা বাসার অনেক বেশি ক্ষতি করে।" শুরুতে শুধু পোষা প্রাণী রাখার নিয়মকানুন জেনে নেওয়াটাই যথেষ্ট। কিছুদিন সেই বাসায় থাকার পর নিজেকে দায়িত্বশীল প্রমাণ করে, তারপর নতুন পোষা প্রাণী আনার কথা জানানোই বুদ্ধিমানের কাজ। ৪. 'আমার সঙ্গী বা পার্টনার এই বাসার কাছেই কাজ করে' আপনি যদি একাই চুক্তিনামায় (লিজ) স্বাক্ষর করেন, তবে অযথা আপনার প্রেমিক, প্রেমিকা বা সঙ্গীর কথা উল্লেখ করতে যাবেন না। ওয়েগনারের মতে, চুক্তিতে নাম নেই এমন কোনো সঙ্গীর কথা বারবার উল্লেখ করলে বাড়িওয়ালার মনে সন্দেহ জাগতে পারে যে, ওই ব্যক্তিও হয়তো এই বাসাতেই বেশি সময় কাটাবেন। বাড়িওয়ালাদের জন্য এটি একটি বড় চিন্তার বিষয় ও রেড ফ্ল্যাগ। কারণ, চুক্তিতে নাম না থাকা ব্যক্তির ব্যাকগ্রাউন্ড বা অপরাধের রেকর্ড চেক করা সম্ভব হয় না। আপনার অতিথি যদি বাসার কোনো ক্ষতি করে বা গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গান বাজায়, তবে বাড়িওয়ালার পক্ষে তাকে বের করে দেওয়া বা ক্ষতিপূরণ আদায় করা আইনিভাবে কঠিন হয়ে পড়ে। ৫. 'আমি ঘন ঘন বাসা বদলাই' ভাড়াটিয়া হিসেবে আপনার অন্যতম বড় সুবিধা হলো স্বাধীনতা। চুক্তি শেষ হলেই আপনি চাইলে বাসা বদলাতে পারেন। কিন্তু বাড়িওয়ালাদের জন্য এটি মোটেও স্বস্তির খবর নয়। প্রতিবার নতুন ভাড়াটিয়া খোঁজা তাদের জন্য সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। তারা এমন ভাড়াটিয়া খোঁজেন যারা অন্তত কয়েক বছর থিতু হবেন। পাপাউটসাকিস পরামর্শ দেন, "প্রথম দেখাতেই এমন ধারণা দেওয়া উচিত যে আপনি দীর্ঘস্থায়ীভাবে থাকতে চান এবং বাসাটিকে নিজের বাড়ির মতোই যত্ন করবেন।" পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে আপনি পরে সিদ্ধান্ত বদলাতেই পারেন, কিন্তু শুরুতেই 'আমি ঘন ঘন বাসা বদলাই'—এমন কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনলে শুধু ব্যাংকের মর্টগেজের কিস্তি পরিশোধ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। অনেক আবাসিক কমিউনিটিতে বসবাসকারীদের জন্য হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এইচওএ) এর নির্ধারিত মাসিক বা বার্ষিক ফি, বিশেষ মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন জরিমানাও সময়মতো পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। এসব অর্থ দীর্ঘদিন বকেয়া থাকলে শুধু অতিরিক্ত আর্থিক চাপই নয়, চরম পরিস্থিতিতে নিজের বাড়িও হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সম্প্রতি জর্জিয়া, ওহাইও, মেরিল্যান্ড ও নর্থ ক্যারোলাইনাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এইচওএর বকেয়া ফি, জরিমানা ও আইনি ব্যয়কে কেন্দ্র করে বাড়ির মালিকদের সঙ্গে বিরোধের একাধিক ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এসব ঘটনার পর এইচওএর ক্ষমতা এবং বাড়ির মালিকদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আইনপ্রণেতারা এইচওএর ফোরক্লোজারের ক্ষমতা সীমিত করার বিষয়েও আলোচনা করছেন। হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বা এইচওএ হলো এমন একটি আবাসিক পরিচালনা সংস্থা, যা কমিউনিটির রাস্তা, পার্ক, সুইমিং পুল, ক্লাবহাউস, নিরাপত্তা, ল্যান্ডস্কেপিংসহ বিভিন্ন সাধারণ সুবিধার রক্ষণাবেক্ষণ করে। এসব সেবার ব্যয় মেটাতে বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত ফি আদায় করা হয়। পাশাপাশি কমিউনিটির নিয়ম ভঙ্গ করলে জরিমানাও আরোপ করা হতে পারে। হোম ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো বাড়ির মালিক এইচওএর নির্ধারিত ফি বা বৈধ জরিমানা দীর্ঘদিন পরিশোধ না করলে সংস্থাটি প্রথমে ওই সম্পত্তির বিরুদ্ধে ‘লিয়েন’ বা আইনি দাবি নিবন্ধন করতে পারে। এরপরও বকেয়া পরিশোধ না হলে অনেক অঙ্গরাজ্যের আইনে এইচওএ আদালতের মাধ্যমে ফোরক্লোজার প্রক্রিয়া শুরু করার সুযোগ পায়। তবে অনেক মর্টগেজ কর্মকর্তারা বলছেন, এইচওএর ফি বকেয়া থাকলেই যে সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি ফোরক্লোজার হয়ে যাবে, বিষয়টি সব সময় এমন নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রথমে একাধিক নোটিশ পাঠানো হয়। এরপর বিলম্ব ফি, সুদ, আদায় ব্যয়, আইনজীবীর ফি এবং আদালতের খরচ যোগ হতে থাকে। দীর্ঘদিন বিষয়টি উপেক্ষা করলে আর্থিক দেনা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত আইনি জটিলতায় রূপ নিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে কয়েকশ বা কয়েক হাজার ডলারের বকেয়া থাকলেও পরে সুদ, জরিমানা ও আইনি ব্যয় যোগ হয়ে মোট দেনা ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার বা তারও বেশি হয়ে যেতে পারে। এতে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ ও আদালতের ঝামেলাও তৈরি হতে পারে। রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অ্যাটমের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী ফোরক্লোজার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ফোরক্লোজার সংক্রান্ত নোটিশ ও আইনি কার্যক্রম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেড়েছে। দুই বছর আগের তুলনায় এ হার ২৮ শতাংশ বেশি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপের কারণে অনেক বাড়ির মালিক আগের তুলনায় বেশি আর্থিক সংকটে পড়ছেন। এ ক্ষেত্রে রিয়েল্টররা পরামর্শ দিচ্ছেন, এইচওএ থেকে কোনো বকেয়া বা লিয়েনের নোটিশ পেলে তা কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়। নোটিস ঠিক মতো যাচাই করে দ্রুত এইচওএর সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং প্রয়োজনে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেক ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে বা কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করে বড় ধরনের আইনি জটিলতা এড়ানো সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রে যারা এইচওএ নিয়ন্ত্রিত কমিউনিটিতে বাড়ি কিনতে চান, তাদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো শুধু বাড়ির দাম বা ব্যাংকের মর্টগেজের কিস্তি নয়, এইচওএর মাসিক বা বার্ষিক ফি, কমিউনিটির নিয়ম, জরিমানার নীতিমালা এবং বকেয়া থাকলে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, সেসব বিষয়ও আগে থেকেই ভালোভাবে জেনে নেওয়া। কারণ, অনেক সময় বাড়ির মালিকেরা মর্টগেজের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করলেও এইচওএর নিয়ম বা ফি সম্পর্কে অসচেতন থাকার কারণে অপ্রত্যাশিত আর্থিক ও আইনি সমস্যার মুখে পড়েন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।