সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#যুক্তরাষ্ট্রেররাজনীতি

ট্রাম্প পরিবারের মুনাফা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হিলারি
ট্রাম্প পরিবারের প্রেসিডেন্সিকাল মুনাফায় ১৩ লাখ মানুষের খাদ্যসহায়তা সম্ভব, দাবি হিলারি ক্লিনটনের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবার প্রেসিডেন্সির সুযোগ কাজে লাগিয়ে যে মুনাফা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, সেই অর্থ দিয়ে এক বছর ১৩ লাখ মানুষের খাদ্যসহায়তার খরচ মেটানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তাঁর দাবি, ওই অর্থ দিয়ে ৬০ কোটিরও বেশি বিনা মূল্যের স্কুলের খাবার সরবরাহ করা অথবা খাদ্যসহায়তা হারানো ৫২ লাখ মানুষের তিন মাসের মুদিখানার খরচ মেটানো সম্ভব।   গত বুধবার সাংবাদিক কারা সুইশারের উপস্থাপনায় ‘অন উইথ কারা সুইশার’ অনুষ্ঠানের ‘হাই স্টেকস’ নামের বিশেষ পর্বে এসব কথা বলেন হিলারি। সেখানে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক মুনাফা, সরকারের ব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যসহায়তা কর্মসূচিতে পরিবর্তনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।   হিলারি বলেন, ট্রাম্প পরিবারের প্রেসিডেন্সিকে কেন্দ্র করে অর্জিত মুনাফার পরিমাণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যয় বহন করা সম্ভব। তাঁর ভাষায়, এসব হিসাব সামনে আনলে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। তিনি অভিযোগ করেন, করদাতাদের অর্থের অপচয় হচ্ছে এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাব সরকারি সেবার পাশাপাশি জাতীয় প্রতিরক্ষার ওপরও পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। হিলারির মতে, এ ধরনের অনিয়মের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেই মানুষ, যাঁদের খাবার কেনা কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় বিল পরিশোধের জন্য সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, একদিকে প্রেসিডেন্সিকে ঘিরে ব্যবসায়িক মুনাফার অভিযোগ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়ার বাস্তবতা। ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থের পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের দেওয়া সরকারি চুক্তি নিয়েও সমালোচনা করেন হিলারি। তাঁর অভিযোগ, এসব চুক্তির কারণে করদাতাদের অর্থ অপচয় হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ট্রাম্পের ক্ষমা প্রদানের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতের রায়ের প্রসঙ্গ তুলে হিলারি বলেন, তাঁর সমালোচনার পেছনে নির্দিষ্ট কিছু আইনি ঘটনার ভিত্তি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্কের অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৩৪টি ফৌজদারি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায়, দেওয়ানি জালিয়াতির মামলার সিদ্ধান্ত এবং লেখক ই. জিন ক্যারলের করা মামলায় আদালতের রায়। এসব ঘটনার উল্লেখ করে ট্রাম্পকে ‘প্রতারক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন হিলারি। এগুলো তাঁর বক্তব্য ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন; সংশ্লিষ্ট আইনি ঘটনাগুলোর প্রকৃতি এক নয়। দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদ চালুর পরিবর্তে বিচারপতির সংখ্যা বাড়িয়ে ১৩ করার বিষয়টি বিবেচনার পক্ষে মত দেন হিলারি। খাদ্যসহায়তা নিয়ে তাঁর মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচি সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা স্ন্যাপের নিয়মে বড় পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। গত ১ অক্টোবর থেকে কর্মসূচিটির প্রশাসনিক ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ রাজ্যগুলোকে বহন করতে হচ্ছে। আগে এই অংশ ছিল ৫০ শতাংশ। ফলে কর্মসূচি পরিচালনার আর্থিক দায় রাজ্যগুলোর ওপর আরও বেড়েছে।   খাদ্য গবেষণা ও নীতিবিষয়ক সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যানেও স্ন্যাপে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমার চিত্র উঠে এসেছে। ফুড রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন সেন্টারের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এইচআর ১ আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ কর্মসূচিটির আওতা থেকে বাদ পড়েছেন। তবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমে যাওয়া এবং প্রত্যেক ব্যক্তির সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ এক নয়; নীতিগত পরিবর্তনের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।   আইনটির সমর্থকেরা অবশ্য পরিবর্তনগুলোর পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এর আগে বলেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যাঁদের খাদ্যসহায়তা প্রয়োজন, তাঁদের জন্য কর্মসূচিটিকে আরও শক্তিশালী করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন আইনে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত শর্ত পুনর্বহাল করা হয়েছে এবং রাজ্যগুলোর সঙ্গে ব্যয় ভাগাভাগির ব্যবস্থা চালু হয়েছে। হিলারি ক্লিনটনের বক্তব্যে তাই দুটি বিষয় সামনে এসেছে—প্রেসিডেন্সিকে ঘিরে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক মুনাফা নিয়ে তাঁর অভিযোগ এবং খাদ্যসহায়তা কর্মসূচিতে পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষের ওপর পড়া প্রভাব। তবে ট্রাম্প পরিবারের মুনাফা দিয়ে ঠিক কত মানুষের সহায়তার ব্যয় বহন করা সম্ভব, সে হিসাবটি হিলারির বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে; এটিকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা আর্থিক হিসাব হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে প্রশ্নের মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্প
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও পরোয়া করেন না ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল মুনাফার দাবি

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের মধ্যেই তেল থেকে বিপুল অর্থ আয়ের দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দাম বাড়ার কারণে চালকদের বাড়তি খরচের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হতে পারে—এমন সতর্কতা তাঁর উপদেষ্টারা দিলেও তা নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নন তিনি। গত ২৪ অক্টোবর জর্জিয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ উপার্জন করছে। তাঁর ভাষায়, সমালোচনার আশঙ্কা থাকলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলা বন্ধ করবেন না।   জর্জিয়ার পেরি শহরে আয়োজিত ওই সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাত বিপুল আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, টেক্সাস, ওকলাহোমা ও লুইজিয়ানার মতো তেল উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্যে তেল উত্তোলন ও বিক্রি থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আসছে। ট্রাম্প বলেন, তাঁর উপদেষ্টারা তাঁকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা না বলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারণ, জ্বালানির দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষকে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক সমালোচনার জন্ম দিতে পারে বলেও তাঁরা সতর্ক করেছিলেন। তবে উপদেষ্টাদের পরামর্শ উপেক্ষা করে ট্রাম্প বলেন, তিনি জানেন, তাঁর বক্তব্য নিয়ে সমালোচনামূলক শিরোনাম হতে পারে। মানুষ যখন জ্বালানি কিনতে গিয়ে বাড়তি অর্থ ব্যয় করছে, তখন প্রেসিডেন্ট তেল থেকে বিপুল অর্থ আয়ের কথা বলছেন—এমন সমালোচনা আসতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এরপর তিনি বলেন, এসব নিয়ে তিনি পরোয়া করেন না এবং যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ উপার্জন করছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তাঁর আমলে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বারাক ওবামার সময়ের তুলনায় কম দামে জ্বালানি কিনছেন। একই বক্তব্যে তিনি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার প্রসঙ্গও তোলেন। তবে তাঁর এই তুলনার সঙ্গে বর্তমান জ্বালানির দাম ও আগের সময়ের সর্বোচ্চ দামের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর দেশটিতে নিয়মিত পেট্রলের জাতীয় গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ দশমিক ২৯ ডলার। এক মাস আগে এই দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৪৯ ডলার। অর্থাৎ সাম্প্রতিক এক মাসে দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু এক বছর আগে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ছিল প্রায় ৩ দশমিক ০৬ ডলার। ফলে গত বছরের তুলনায় এখন চালকদের প্রতি গ্যালনে প্রায় ১ দশমিক ২৩ ডলার বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। শতকরা হিসাবে এই বৃদ্ধি প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্যান্য জ্বালানির দামও চালকদের ওপর চাপ তৈরি করছে। ২৫ অক্টোবর মধ্যম মানের পেট্রলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ দশমিক ৮০ ডলার। উন্নত মানের পেট্রলের দাম ছিল প্রায় ৫ দশমিক ২০ ডলার। ডিজেলের গড় দাম পৌঁছেছিল প্রায় ৬ দশমিক ৩৫ ডলারে। তবে অঙ্গরাজ্যভেদে জ্বালানির দামে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। জ্বালানির দাম নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর রাজনৈতিক সমালোচনাও জোরালো হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ট্রাম্পের বক্তব্যের ভিডিও পুনরায় প্রকাশ করে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তেল কোম্পানিগুলোর রেকর্ড মুনাফার জন্য এটি যেন একটি সফল প্রেসিডেন্সি। তাঁর মন্তব্যে জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর আর্থিক লাভ এবং সাধারণ মানুষের বাড়তি ব্যয়ের মধ্যে বৈপরীত্য তুলে ধরা হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির দাম এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের ১২ থেকে ১৯ অক্টোবর পরিচালিত এক জরিপে ৭৩ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার বলেছেন, জ্বালানির দাম সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা অসন্তুষ্ট। বিপরীতে ২৪ শতাংশ ভোটার তাঁর পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। জরিপে অংশ নেন ৩ হাজার ৪৯৪ জন ভোটার। জরিপ অনুযায়ী, অসন্তোষ শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্বতন্ত্র ভোটারদের ৭৭ শতাংশ ট্রাম্পের জ্বালানির দাম সামলানোর বিষয়ে অসন্তুষ্ট। একই মত দিয়েছেন রিপাবলিকান ভোটারদের ৪২ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ নিজের রাজনৈতিক সমর্থক গোষ্ঠীর একাংশের মধ্যেও এ বিষয়ে অসন্তোষ রয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনও ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রথম দিন থেকেই জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে পেট্রল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তেলের দাম বাড়লে উৎপাদনকারী কোম্পানি ও তেলসমৃদ্ধ অঙ্গরাজ্যগুলো বেশি আয় করতে পারে। তবে সেই সুবিধা সব সময় সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে পেট্রল, ডিজেল ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। ফলে জ্বালানি খাতের আয় বাড়লেও পরিবারের দৈনন্দিন খরচের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, পাম্পে জ্বালানির দাম আবার কমবে। কিন্তু তাঁর বক্তব্যের সময় জাতীয় গড় দাম এক বছর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ব্যবধান এবং জ্বালানির ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ প্রেসিডেন্ট ও তাঁর দলের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
২০২৮ সালের মনোনয়ন দৌড়ে পিছিয়ে ভ্যান্স ও রুবিও
২০২৮ সালের রিপাবলিকান মনোনয়ন দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছেন জেডি ভ্যান্স ও মার্কো রুবিও, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। অনলাইন প্রেডিকশন মার্কেটের সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, দলটির সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে দুজনেরই সম্ভাবনা কমেছে। তবে এই পরিবর্তনকে এখনই রিপাবলিকান ভোটারদের মতামতের বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।   প্রেডিকশন মার্কেট পলিমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনয়নসংক্রান্ত বাজারে মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৭১ কোটি ৪০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। সেখানে ৩ সেপ্টেম্বর ভ্যান্সের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছিল প্রায় ৫৩ শতাংশ। মঙ্গলবার সেই হার নেমে এসেছে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশে। অন্যদিকে, ৩ আগস্ট রুবিওর সম্ভাবনা ছিল ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ, যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ১ শতাংশে। যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রিত আরেকটি প্রেডিকশন মার্কেট কালশির হিসাবেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যদিও সেখানে পরিবর্তনের মাত্রা তুলনামূলক কম। ৩ সেপ্টেম্বর ভ্যান্সের সম্ভাবনা ছিল ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ, মঙ্গলবার তা কমে হয়েছে ৪৩ শতাংশ। রুবিওর ক্ষেত্রে ৩ আগস্টের ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে সম্ভাবনা নেমে এসেছে ১৮ শতাংশে। এই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০ হাজার ডলার। ভ্যান্সের সম্ভাবনা কমার পেছনে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যও আলোচনায় এসেছে। সপ্তাহান্তে এক বক্তব্যে তিনি স্বীকার করেন, ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সম্ভাবনাও রয়েছে। নিজের চারটি ছোট সন্তান এবং তাঁর স্ত্রীর রাজনীতির প্রতি অনাগ্রহের বিষয়টি এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তবে অর্থনীতির অধ্যাপক ও প্রেডিকশন মার্কেট গবেষক কোলম্যান স্ট্রাম্পফ মনে করেন, ভ্যান্সের বক্তব্যকে বাজারের পরিবর্তনের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাঁর মতে, গত এক সপ্তাহে ভ্যান্সের সম্ভাবনা প্রায় চার শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। এর কেবল একটি অংশ তাঁর বক্তব্যের পর ঘটেছে। বাজারের এই পরিবর্তনকে বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সাধারণত ভ্যান্সের সম্ভাবনা কমলে তাঁর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী রুবিওর অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার কথা। কিন্তু এবার দুজনের সম্ভাবনাই কমছে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস এবং রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসনের মতো সম্ভাব্য বিকল্পদের সম্ভাবনাও এখনো এক অঙ্কের নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ফলে বাজারে ভ্যান্স বা রুবিওর পরিবর্তে কোনো একজন নতুন প্রার্থী স্পষ্টভাবে এগিয়ে আসছেন—এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে না। স্ট্রাম্পফের মতে, দুই শীর্ষ প্রার্থীর সম্ভাবনা কমলেও অন্য কোনো প্রার্থী উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে না আসার অর্থ হতে পারে, বাজারের অংশগ্রহণকারীরা এখনো ভ্যান্সের বক্তব্যকে বড় ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। বরং একাধিক অপেক্ষাকৃত কম সম্ভাবনাময় প্রার্থীর দিকে বাজারের হিসাব কিছুটা ছড়িয়ে পড়তে পারে। নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক কস্টাস প্যানাগোপোলস মনে করেন, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ২০২৮ সালের মনোনয়ন দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, রিপাবলিকানরা যদি মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে, তাহলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত নেতাদের জন্য সেই সম্পর্ক রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও—দুজনই ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়ায় এর প্রভাব তাঁদের ওপরও পড়তে পারে। প্যানাগোপোলসের মতে, কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থান আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন ভবিষ্যতের সমস্যার জন্য বিরোধীদের দায়ী করার সুযোগও পেতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল এবং তার পরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাই ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সান দিয়েগো ক্যাম্পাসের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক থ্যাড কাউসারও মনে করেন, ভ্যান্স ও রুবিওর শক্তির একটি বড় উৎস হলো ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক। গত এক দশকে রিপাবলিকান প্রাথমিক নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সেই সমীকরণ বদলে যায় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সাস, কানসাস, আইওয়া বা নেব্রাস্কার মতো ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান-সমর্থিত রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য দলটির জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে। এমনকি যেসব এলাকায় রিপাবলিকানদের সহজে জেতার কথা, সেখানে অল্প ব্যবধানে জয়ও দলের সমর্থনে দুর্বলতার ইঙ্গিত দিতে পারে। নির্বাচনের ফলাফলের পর রিপাবলিকানদের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, তারা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধারা অব্যাহত রাখবে, নাকি ভিন্ন পরিচয়ের দিকে এগোবে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে কাজ করা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল শাটজের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের খারাপ ফলাফল হলে ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা সুবিধার বদলে অসুবিধা হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২০২৮ সালের মনোনয়ন দৌড় আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রেডিকশন মার্কেটের হিসাবকে সরাসরি জনমত জরিপ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। টেক্সাস ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কিথ গ্যাডি সতর্ক করেছেন, বাজারের মূল্যকে ভোটারদের মতামতের বিকল্প হিসেবে দেখা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এসব বাজারে অংশগ্রহণকারীরা কোনো প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও লেনদেন করেন; প্রার্থী হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা বা জয়ের সম্ভাবনা নিয়েই কেবল তাঁদের হিসাব তৈরি হয় না। অন্যদিকে, স্ট্রাম্পফের মতে, বেশি লেনদেন হওয়া প্রেডিকশন মার্কেট দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রতিফলন দিতে পারে। তবে কোনো পূর্বাভাসই শতভাগ নির্ভুল নয়। সব মিলিয়ে, ভ্যান্স ও রুবিওর সম্ভাবনা কমে যাওয়া রিপাবলিকান ভোটাররা তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছেন—এমন প্রমাণ নয়। বরং এটি ২০২৮ সালের মনোনয়ন নিয়ে বাজারের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত দলীয় সমর্থন, অর্থায়ন, গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সমর্থন এবং ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলই রিপাবলিকানদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৪:০
হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প
হোয়াইট হাউসে বাড়ছে বিশৃঙ্খলা, ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাত্র পাঁচ দিন দায়িত্ব পালনের পর প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়ার বিদায় শুধু একজন কর্মকর্তার চাকরি হারানোর ঘটনা নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে একটি সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন, ইরানকে ঘিরে সামরিক নীতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত।   ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও হোয়াইট হাউসে দ্রুত কর্মকর্তা পরিবর্তনের ঘটনা দেখা গিয়েছিল। ২০১৭ সালে অ্যান্থনি স্কারামুচি মাত্র ১১ দিন যোগাযোগ পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে সময় তাঁর স্বল্পস্থায়ী দায়িত্ব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। জাকারিয়ার পাঁচ দিনের মেয়াদ সেই ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি আগের চেয়ে আলাদা বলে মনে করছে সম্পাদকীয়টি। ট্রাম্প এখন তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে রয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী আরেকবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তাঁর নেই। ফলে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ও উত্তরাধিকার নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরে হিসাব-নিকাশ বাড়তে পারে। আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে—এমন আশঙ্কাও রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়ন ও নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলনের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন দলের অনেক পর্যবেক্ষক ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাজনীতিক। কেটি জাকারিয়ার নিয়োগ ও দ্রুত বিদায়কে ঘিরে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সম্পাদকীয় বিশ্লেষণটির মতে, দীর্ঘদিনের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত না করেই জাকারিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত দেয়। ওয়াইলস ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের তুলনায় দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের কার্যক্রমে বেশি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভূমিকা রেখেছেন বলে ওই বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জাকারিয়ার নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন বিবরণ এসেছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাঁর প্রতি সংবাদমাধ্যমের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন এবং তাঁকে দায়িত্বটি পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে জাকারিয়া পদটি ছাড়েন। এই ঘটনাকে ঘিরে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগব্যবস্থা, নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের নীতিও রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে বলে সম্পাদকীয়টির মূল্যায়ন। ইরানের সঙ্গে যু দ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে এতে দাবি করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার বিষয়ে সমঝোতার উদ্যোগও সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে এমন সমঝোতা বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম কমাতে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জোরদারের জন্য লিন্ডসে গ্রাহামের নামে প্রণীত আইনে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু ১৬ অক্টোবর জারি করা এক নির্বাহী আদেশে ওই আইনের কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকরের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়। ট্রাম্প তাঁর সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, সমালোচকেরা মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে। সম্পাদকীয়টির বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে জ্বালানির দাম কমানোর চেষ্টা মার্কিন ট্রাকচালক ও সাধারণ গাড়িচালকদের প্রত্যাশিত স্বস্তি নাও দিতে পারে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন এবং রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মনোভাব নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের আগে অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে ভোটারদের মূল্যায়নের ওপর। ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলের একটি বৈশিষ্ট্য হলো প্রচলিত নিয়ম ও রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ করা। তাঁর সমর্থকেরা অনেক সময় এটিকে দৃঢ় নেতৃত্বের পরিচয় হিসেবে দেখেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে সেই কৌশল কার্যকর থাকছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক এবং লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। এসব ঘটনা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিয়ে বিতর্ককে আরও বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, জাকারিয়ার মাত্র পাঁচ দিনের দায়িত্বকালকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক, গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের মধ্যে টানাপোড়েন এবং পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একাধিক চ্যালেঞ্জ সামনে এনেছে। তবে এসব ঘটনাই ট্রাম্পের রাজনৈতিক যুগের অবসান শুরু হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট নয়। বরং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন, রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের হিসাব এবং প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোই নির্ধারণ করবে হোয়াইট হাউসের বর্তমান অস্থিরতা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে নিজের সম্পদ বাড়ানোতেই ট্রাম্পের মনোযোগ, বলছে নতুন জনমত জরিপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের মানুষের কল্যাণের চেয়ে নিজের সম্পদ ও ব্যক্তিগত ব্যবসার স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে করেন অধিকাংশ মার্কিনি। শুধু তাই নয়, প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকার সময় তিনি নিজের আর্থিক সুবিধা অর্জনে অনৈতিক কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন বলেও ধারণা অনেকের। নতুন এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে এমন চিত্র। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ১০ জনের মধ্যে ছয়জন মনে করেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন এমন উপায়ে, যা বেআইনি অথবা নৈতিকতার পরিপন্থী।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও নরক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের যৌথ জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ১৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মতামত নেওয়া হয়। নরকের আমেরিস্পিক প্যানেল থেকে অংশগ্রহণকারীদের নমুনা নির্বাচন করা হয়েছিল। জরিপে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং দেশের স্বার্থে তাঁর মনোযোগ নিয়ে মানুষের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। জরিপের ফল অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, প্রেসিডেন্টের পদে থেকে ট্রাম্প বেআইনি কিছু করছেন। আরও ২০ শতাংশের ধারণা, তাঁর কর্মকাণ্ড অনৈতিক হলেও তা বেআইনি নয়। অন্যদিকে, ২০ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্প কোনো অন্যায় করছেন না। বাকি অংশের উত্তরদাতারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য তাঁদের জানা নেই। দেশের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত ব্যবসায় বেশি গুরুত্ব জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প কোন বিষয়গুলোকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন। উত্তরে ৫০ শতাংশের কিছু বেশি বলেছেন, ট্রাম্প নিজের ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থকে ‘অনেক বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশের স্বার্থকে একই মাত্রায় গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে করেন মাত্র ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা। নিজেদের মতো সাধারণ মানুষের স্বার্থে ট্রাম্পের যথেষ্ট মনোযোগ রয়েছে বলে মনে করেন মাত্র ১০ শতাংশ উত্তরদাতা। অর্থাৎ, জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের বড় একটি অংশের ধারণা, প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকারের তালিকায় সাধারণ মানুষের কল্যাণের চেয়ে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ব্যবসায়িক স্বার্থের বিষয়েও একই ধরনের মনোভাব দেখা গেছে। জরিপে ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরার পর নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসাকে ‘অনেক বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছেন। একইভাবে, ৫৪ শতাংশ মনে করেন, তিনি নিজের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের ব্যবসায়িক স্বার্থকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে প্রায় ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্প নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থকে খুব সামান্য গুরুত্ব দিয়েছেন অথবা একেবারেই দেননি। এই মতের সমর্থকদের মধ্যে রিপাবলিকানদের সংখ্যাও অর্ধেকের কম। ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন, ট্রাম্প আইন ভেঙেছেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এই ধারণা পোষণ করেন প্রায় ৩০ শতাংশ। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ হার প্রায় ১০ শতাংশ।   ট্রাম্পের আচরণকে অনৈতিক কিন্তু বেআইনি নয় বলে মনে করেন প্রায় ২০ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার ও রিপাবলিকান। ফলে তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট। ডেমোক্র্যাটদের বড় অংশ যেখানে আইন ভাঙার অভিযোগ করছেন, সেখানে রিপাবলিকানদের মধ্যে এমন অভিযোগে বিশ্বাস করার প্রবণতা অনেক কম। তবে জরিপে উঠে আসা এসব মতামতকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। এগুলো মূলত প্রেসিডেন্টের আচরণ, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়ে মার্কিনিদের ধারণা তুলে ধরে। ক্রিপ্টো ব্যবসা ও বিদেশি চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে বিতর্কের পেছনে তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। গত জুনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক আর্থিক বিবরণীতে তাঁর বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা থেকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের তথ্য উঠে আসে। এর মধ্যে তাঁর ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে প্রায় ১২০ কোটি ডলার আয়ের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ব্যবসাগুলোর প্রসার ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে প্রেসিডেন্টের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আর্থিক বিবরণীতে দেখানো আয়কে সরাসরি নিট মুনাফা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এ ছাড়া, ট্রাম্পের অন্যতম বড় ক্রিপ্টো উদ্যোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আসে। ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর এই বিনিয়োগ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্রিপ্টো ব্যবসা চীনের এক ধনকুবের প্রতিষ্ঠিত একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি সংগঠনের সহায়তাও পেয়েছে। ওই ধনকুবের যুক্তরাষ্ট্রে আইনি জটিলতায় রয়েছেন। রিয়েল এস্টেট ব্যবসাতেও ট্রাম্প পরিবারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রথম বছরে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন বিদেশে আটটি ব্যবসায়িক চুক্তি করেছে। এসব ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং আর্থিক লেনদেন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাত তৈরি করছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সব মিলিয়ে, জরিপের ফল ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। দেশের স্বার্থের তুলনায় নিজের ব্যবসাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ এবং তাঁর আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন—দুই বিষয়ই ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে জনমতের আলোচনায় রয়েছে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প ও আবদুল এল-সাইয়েদের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব
ব্যঙ্গ করে ‘মোহাম্মদ’ নামে আবদুল এল-সাইয়েদকে সম্বোধন ট্রাম্পের, সঙ্গে দিলেন ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ তকমাও

মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদকে নিয়ে নতুন করে তীব্র আক্রমণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আক্রমণের ভাষার পাশাপাশি এবার ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে প্রার্থীর নাম নিয়েও তৈরি হয়েছে আলোচনা। আবদুল এল-সাইয়েদের বদলে তাকে ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ নামে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। এরপর তাকে ‘চরমপন্থী’ ও ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি।   বুধবার রাতে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ ডেমোক্র্যাটদের জন্য একজন ‘ভয়ংকর প্রার্থী’। একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, এল-সাইয়েদ ‘জিহাদের সময়ের’ সঙ্গে যুক্ত এবং তাকে ‘চরমপন্থী’ ও ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ হিসেবে আখ্যা দেন।   তবে ট্রাম্পের পোস্টে ব্যবহৃত ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ নামে মিশিগানের এবারের সিনেট নির্বাচনে কোনো প্রার্থী নেই। নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আবদুল এল-সাইয়েদ। ফলে ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে নামটি বদলে লিখেছেন, নাকি ভুল করে লিখেছেন—তা স্পষ্ট নয়।   ট্রাম্প তার পোস্টে এল-সাইয়েদের সঙ্গে অনলাইন স্ট্রিমার হাসান পিকারকে নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি এল-সাইয়েদকে পিকারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে দুজনকেই যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করেন। তবে এসব মন্তব্যের পক্ষে ওই পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি ট্রাম্প।   একই পোস্টে ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থনও ঘোষণা করেন। তিনি রজার্সকে অত্যন্ত ভালো প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে মিশিগানের ভোটারদের তার পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।   মিশিগানের সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমানে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ আলোচিত। আবদুল এল-সাইয়েদ আগস্টে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি জিতে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স।   সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে এল-সাইয়েদ ও রজার্সের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়। সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন পোস্ট-শার স্কুল জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইয়েদ ৪৮ শতাংশ এবং রজার্স ৪৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন। জরিপটির মার্জিন অব এরর ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট, অর্থাৎ ব্যবধানটি পরিসংখ্যানগতভাবে খুব বড় নয়।   এল-সাইয়েদকে নিয়ে রিপাবলিকানদের আক্রমণ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে থেকেই তার রাজনৈতিক অবস্থান, বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান প্রচারে তাকে আক্রমণ করা হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলোর কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।   অন্যদিকে এল-সাইয়েদ তার প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ও বাণিজ্যের মতো স্থানীয় ইস্যুকে সামনে রাখছেন। তার প্রচারণার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন।   রজার্সও সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু নীতির সঙ্গে প্রকাশ্যে ভিন্নমত দেখিয়েছেন। বিশেষ করে কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান শুল্ক বিরোধ শেষ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। মিশিগানের কানাডার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় এই ইস্যুটি তার প্রচারে গুরুত্ব পেয়েছে।   তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্টে রজার্সের প্রতি তার সমর্থন স্পষ্ট। আর আবদুল এল-সাইয়েদের নাম ‘মোহাম্মদ’ লিখে তাকে ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ বলার বিষয়টি মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট লড়াইয়ে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক প্রচারের নতুন উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।   মিশিগানের সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। ভোটের আগে দুই দলের প্রচারণা আরও তীব্র হওয়ার পাশাপাশি প্রার্থীদের ঘিরে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণও বাড়তে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
ইরান যুদ্ধ নিয়ে সিনেটে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবে ভোট চলছে
ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিতের পক্ষে ৪ রিপাবলিকান, এক ভোটে ব্যর্থ প্রস্তাব

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে ব্যর্থ হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটে ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির চার সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। শেষ পর্যন্ত ৫০-৪৯ ভোটে প্রস্তাবটি আটকে যায়।   প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেওয়া চার রিপাবলিকান হলেন মেইনের সুসান কলিন্স, আলাস্কার লিসা মারকাউস্কি, কেন্টাকির র‍্যান্ড পল এবং নর্থ ক্যারোলাইনার থম টিলিস। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে পেনসিলভানিয়ার সিনেটর জন ফেটারম্যান একমাত্র সদস্য হিসেবে প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন। মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাঞ্জেলা আলসোব্রুকস ভোট দেননি।   প্রস্তাবটির লক্ষ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে কংগ্রেসের কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা। এতে বলা হয়েছিল, কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা বা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের জন্য সুনির্দিষ্ট অনুমোদন না দিলে প্রেসিডেন্টকে ইরানের সরকার বা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত থেকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী সরিয়ে নিতে হবে। সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধ বা দখলদারির জন্য ব্যবহৃত বাহিনীও এর আওতায় থাকত।   ভোটটি মূলত দলীয় বিভাজনের মধ্যেই হয়েছে। অধিকাংশ রিপাবলিকান প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন এবং প্রায় সব ডেমোক্র্যাট সমর্থন দেন। তবে চার রিপাবলিকানের দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়া ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও মতপার্থক্য থাকার বিষয়টি সামনে এনেছে।   বিশেষ করে থম টিলিস এবার প্রথমবারের মতো এই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে একই ধরনের ভোটে তিনি এই অবস্থান নেননি। সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধের মেয়াদ ও এটি শেষ করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।   ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা অবশ্য নতুন নয়। গত কয়েক মাসে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে একাধিকবার ওয়ার পাওয়ার্স প্রস্তাব আনা হয়েছে। জুনে সিনেট একটি হাউস-পাসড সমান্তরাল প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল, যেখানে চার রিপাবলিকান—সুসান কলিন্স, বিল ক্যাসিডি, লিসা মারকাউস্কি ও র‍্যান্ড পল—ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়েছিলেন।   সাম্প্রতিক ভোটে অবশ্য ক্যাসিডি প্রস্তাবটির পক্ষে ছিলেন না, আর নতুন করে সমর্থন দেন টিলিস। ফলে রিপাবলিকানদের মধ্যে কারা ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের ভূমিকা বাড়াতে চান, সেই সমীকরণেও কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।   রয়টার্স জানিয়েছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। দীর্ঘায়িত সংঘাত এবং জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের উচ্চ মূল্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কিছু রিপাবলিকানও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে বৃহস্পতিবারের ভোটে রিপাবলিকানদের বড় অংশ ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের পক্ষেই ছিলেন।   সিনেটের ভোটটি এমন দিনেই হয়েছে, যেদিন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন। অন্যদিকে মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরে যুদ্ধ পরিচালনায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও কংগ্রেসের সাংবিধানিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিবিএস নিউজ, এবিসি নিউজ

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
কেনেডি সেন্টারে ট্রাম্পের নাম বসানো নিয়ে কেনেডি পরিবারের ক্ষোভ
‘কী ছোট মনের, কী আত্মমগ্ন!’ ট্রাম্পের নাম বসানোর উদ্যোগে কেনেডি পরিবারের ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় মুখ খুলেছে সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির (জেএফকে) পরিবার। ওয়াশিংটনের জন এফ. কেনেডি সেন্টারের নামের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার চেষ্টা এবং সংস্কারের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘিরেই এই বিরোধ তৈরি হয়েছে।   সম্প্রতি ট্রাম্প-সমর্থিত কেনেডি সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদ ভবনটি সংস্কারের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে একটি ফেডারেল আদালত ভবনের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ আটকে দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি সেন্টারে ট্রাম্পের নামে কোনো স্মারক বা নাম সংযোজন করা যাবে না।   এরপর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, আদালতের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে কেনেডি সেন্টারের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের কাজ এগোবে না। সংস্কারের জন্য কংগ্রেস প্রায় ২৫৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে।   ট্রাম্পের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছেন জেএফকের ভাতিজি মারিয়া শ্রাইভার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে তাকে ‘ছোট মনের’ ও ‘আত্মমগ্ন’ বলে মন্তব্য করেন। শ্রাইভারের ভাষ্য, একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট একটি সরকারি ভবনের সংস্কার আটকে রাখবেন শুধু সেখানে নিজের নাম যুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।   জেএফকের নাতি জ্যাক শ্লসবার্গও ট্রাম্পের উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, তার দাদার উত্তরাধিকার চাঁদে অভিযান, নাগরিক অধিকার আইন, কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট এবং শিল্পকলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।   এদিকে জেএফকের পরিবারের আরেক সদস্য কেরি কেনেডি ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই করা কংগ্রেস সদস্য জয়েস বিট্টির প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, কেনেডি সেন্টার, শিল্পকলা, তার চাচা জন এফ. কেনেডির স্মৃতি এবং আইনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য বিট্টি সাহসের সঙ্গে লড়ছেন।   বিতর্কের মধ্যে ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার কেনেডি সেন্টারে বড় ধরনের পরিবর্তন বা ধ্বংসের আগে ৩০ দিনের নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে নাম পরিবর্তন, সংস্কার ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও জেএফকের পরিবারের বিরোধ এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০