সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ট্রাম্প পরিবারের প্রেসিডেন্সিকাল মুনাফায় ১৩ লাখ মানুষের খাদ্যসহায়তা সম্ভব, দাবি হিলারি ক্লিনটনের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৫:৫৩
ট্রাম্প পরিবারের মুনাফা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হিলারি
ট্রাম্প পরিবারের মুনাফা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হিলারি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবার প্রেসিডেন্সির সুযোগ কাজে লাগিয়ে যে মুনাফা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, সেই অর্থ দিয়ে এক বছর ১৩ লাখ মানুষের খাদ্যসহায়তার খরচ মেটানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তাঁর দাবি, ওই অর্থ দিয়ে ৬০ কোটিরও বেশি বিনা মূল্যের স্কুলের খাবার সরবরাহ করা অথবা খাদ্যসহায়তা হারানো ৫২ লাখ মানুষের তিন মাসের মুদিখানার খরচ মেটানো সম্ভব।
 

গত বুধবার সাংবাদিক কারা সুইশারের উপস্থাপনায় ‘অন উইথ কারা সুইশার’ অনুষ্ঠানের ‘হাই স্টেকস’ নামের বিশেষ পর্বে এসব কথা বলেন হিলারি। সেখানে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক মুনাফা, সরকারের ব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যসহায়তা কর্মসূচিতে পরিবর্তনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।

 

হিলারি বলেন, ট্রাম্প পরিবারের প্রেসিডেন্সিকে কেন্দ্র করে অর্জিত মুনাফার পরিমাণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যয় বহন করা সম্ভব। তাঁর ভাষায়, এসব হিসাব সামনে আনলে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। তিনি অভিযোগ করেন, করদাতাদের অর্থের অপচয় হচ্ছে এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাব সরকারি সেবার পাশাপাশি জাতীয় প্রতিরক্ষার ওপরও পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


হিলারির মতে, এ ধরনের অনিয়মের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেই মানুষ, যাঁদের খাবার কেনা কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় বিল পরিশোধের জন্য সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, একদিকে প্রেসিডেন্সিকে ঘিরে ব্যবসায়িক মুনাফার অভিযোগ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়ার বাস্তবতা।


ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থের পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের দেওয়া সরকারি চুক্তি নিয়েও সমালোচনা করেন হিলারি। তাঁর অভিযোগ, এসব চুক্তির কারণে করদাতাদের অর্থ অপচয় হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ট্রাম্পের ক্ষমা প্রদানের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি।


ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতের রায়ের প্রসঙ্গ তুলে হিলারি বলেন, তাঁর সমালোচনার পেছনে নির্দিষ্ট কিছু আইনি ঘটনার ভিত্তি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্কের অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৩৪টি ফৌজদারি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায়, দেওয়ানি জালিয়াতির মামলার সিদ্ধান্ত এবং লেখক ই. জিন ক্যারলের করা মামলায় আদালতের রায়। এসব ঘটনার উল্লেখ করে ট্রাম্পকে ‘প্রতারক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন হিলারি। এগুলো তাঁর বক্তব্য ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন; সংশ্লিষ্ট আইনি ঘটনাগুলোর প্রকৃতি এক নয়।


দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদ চালুর পরিবর্তে বিচারপতির সংখ্যা বাড়িয়ে ১৩ করার বিষয়টি বিবেচনার পক্ষে মত দেন হিলারি।


খাদ্যসহায়তা নিয়ে তাঁর মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচি সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা স্ন্যাপের নিয়মে বড় পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। গত ১ অক্টোবর থেকে কর্মসূচিটির প্রশাসনিক ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ রাজ্যগুলোকে বহন করতে হচ্ছে। আগে এই অংশ ছিল ৫০ শতাংশ। ফলে কর্মসূচি পরিচালনার আর্থিক দায় রাজ্যগুলোর ওপর আরও বেড়েছে।

 

খাদ্য গবেষণা ও নীতিবিষয়ক সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যানেও স্ন্যাপে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমার চিত্র উঠে এসেছে। ফুড রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন সেন্টারের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এইচআর ১ আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ কর্মসূচিটির আওতা থেকে বাদ পড়েছেন। তবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমে যাওয়া এবং প্রত্যেক ব্যক্তির সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ এক নয়; নীতিগত পরিবর্তনের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

 

আইনটির সমর্থকেরা অবশ্য পরিবর্তনগুলোর পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এর আগে বলেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যাঁদের খাদ্যসহায়তা প্রয়োজন, তাঁদের জন্য কর্মসূচিটিকে আরও শক্তিশালী করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন আইনে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত শর্ত পুনর্বহাল করা হয়েছে এবং রাজ্যগুলোর সঙ্গে ব্যয় ভাগাভাগির ব্যবস্থা চালু হয়েছে।


হিলারি ক্লিনটনের বক্তব্যে তাই দুটি বিষয় সামনে এসেছে—প্রেসিডেন্সিকে ঘিরে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক মুনাফা নিয়ে তাঁর অভিযোগ এবং খাদ্যসহায়তা কর্মসূচিতে পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষের ওপর পড়া প্রভাব। তবে ট্রাম্প পরিবারের মুনাফা দিয়ে ঠিক কত মানুষের সহায়তার ব্যয় বহন করা সম্ভব, সে হিসাবটি হিলারির বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে; এটিকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা আর্থিক হিসাব হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
অভিবাসন নীতির পরিবর্তনে স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে উদ্বেগ
চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তা, আমেরিকায় স্বাস্থ্যবিমার যোগ্যতা হারানোর ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির পরিবর্তন এবং সরকারি স্বাস্থ্যবিমার যোগ্যতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত কেএফএফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নিয়ে আশঙ্কার কারণে কিছু পরিবার চিকিৎসা নিতে কিংবা স্বাস্থ্যবিমা চালু রাখতে দ্বিধায় পড়ছে। এর প্রভাব অভিবাসী পরিবারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সন্তানদের ওপরও পড়তে পারে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় পাঁচ কোটি অভিবাসী বসবাস করতেন। দেশটির শিশুদের প্রায় চারজনের একজনের অন্তত একজন অভিবাসী বাবা বা মা রয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা খাতের কর্মীদের মধ্যেও অভিবাসীদের উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে। কেএফএফের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত জরিপে দেখা গেছে, অভিবাসী প্রাপ্তবয়স্কদের ৪১ শতাংশ নিজেদের বা পরিবারের কাউকে আটক কিংবা বহিষ্কারের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ২০২৩ সালে এই হার ছিল ২৬ শতাংশ। তবে এই পরিসংখ্যান সব অভিবাসীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কিংবা নির্দিষ্ট কোনো শহরের পরিস্থিতিকে সরাসরি তুলে ধরে না। এদিকে, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে মেডিকেইড ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি চিপের ক্ষেত্রে কিছু বৈধ অভিবাসীর যোগ্যতা সীমিত করার বিধান কার্যকর হয়েছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে স্বাস্থ্যবিমা মার্কেটপ্লেসের ভর্তুকি এবং মেডিকেয়ারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শ্রেণির বৈধ অভিবাসীদের জন্য বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। কেএফএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মেডিকেইড ও চিপে অন্তর্ভুক্ত অ-নাগরিক সদস্য থাকা পরিবারগুলোর ১০ থেকে ৩০ শতাংশ সদস্য বিমা থেকে বাদ পড়লে আনুমানিক ১৪ লাখ থেকে ৪১ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যবিমা হারাতে পারেন। এই সংখ্যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক শিশুরাও থাকতে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির একটি হিসাব, ইতোমধ্যে এত মানুষের স্বাস্থ্যবিমা বাতিল হয়েছে—এমন তথ্য নয়। বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্বাস্থ্যবিমার যোগ্যতা নির্ভর করে ব্যক্তির অভিবাসন মর্যাদা, সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি, আয়, বয়স এবং অন্যান্য শর্তের ওপর। তাই পরিবারের কোনো সদস্য অভিবাসী হলেই সবার স্বাস্থ্যবিমা বন্ধ হয়ে যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। যাঁদের মেডিকেইড, চিপ কিংবা অন্য কোনো স্বাস্থ্যবিমা রয়েছে, তাঁদের সরকারি নোটিশ মনোযোগ দিয়ে পড়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সময়মতো জমা দেওয়া এবং নিজেদের যোগ্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত। অভিবাসন মর্যাদা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্ত না নিয়ে যোগ্য অভিবাসন আইনজীবী বা বিশ্বস্ত আইনি সহায়তাকারীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এবং অভিবাসন আইন মেনে চলা—দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। নীতির পরিবর্তন সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা থাকলে পরিবারগুলো অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক এড়িয়ে নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৭:৩৪
সেন্ট্রাল পার্কে ম্যারাথনের শেষ মুহূর্ত দেখার বিশেষ সুযোগ

১ নভেম্বর নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথন, সেন্ট্রাল পার্কে দর্শকদের জন্য ৩৫০ বিনামূল্যের টিকিট

ভোটার তদন্ত ঘিরে নিউইয়র্কের অভিবাসী কমিউনিটিতে উদ্বেগ

ভোটার জালিয়াতির তদন্তে বাড়ি বাড়ি ফেডারেল এজেন্ট, নিউইয়র্কে অভিবাসীদের উদ্বেগ

ট্রাম্প পরিবারের মুনাফা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হিলারি

ট্রাম্প পরিবারের প্রেসিডেন্সিকাল মুনাফায় ১৩ লাখ মানুষের খাদ্যসহায়তা সম্ভব, দাবি হিলারি ক্লিনটনের

অভিবাসীদের নির্বাসন মামলা সাময়িক স্থগিতের ক্ষমতা পুনর্বহালের আবেদন নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট, নির্বাসন মামলা স্থগিতের সুযোগ বন্ধই থাকছে

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের নির্বাসনসংক্রান্ত মামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিচারিক ক্ষমতা পুনর্বহালের আবেদন নাকচ করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার দেওয়া এক আদেশে আদালত এ সিদ্ধান্ত জানায়। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ও রিপাবলিকানশাসিত টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির কার্যকারিতা আপাতত বহাল থাকছে। ওই চুক্তির মাধ্যমে অভিবাসন আদালতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ‘প্রশাসনিক স্থগিতাদেশ’ বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্লোজার পদ্ধতি বন্ধ করা হয়েছিল।   বাল্টিমোরসহ যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি শহর এবং অভিবাসীদের আইনি সহায়তা দেওয়া একটি সংস্থা সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদন করেছিল। তাঁদের দাবি ছিল, এ বিষয়ে চলমান আইনি লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিটির কার্যকারিতা স্থগিত রাখা হোক। কিন্তু বিচারপতিরা আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেন। সংক্ষিপ্ত এক বাক্যের আদেশে আদালত সিদ্ধান্ত জানালেও এর পক্ষে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। কোনো বিচারপতিও প্রকাশ্যে ভিন্নমত জানাননি।   অভিবাসন আদালতে প্রশাসনিক স্থগিতাদেশ পদ্ধতি কয়েক দশক ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এর আওতায় বিচারকেরা নির্দিষ্ট কিছু নির্বাসন মামলা সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় রাখতে পারতেন। বিশেষ করে একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভিসার আবেদন, আপিল কিংবা অন্য কোনো আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকলে, যার ফলাফলের ওপর নির্বাসনের সিদ্ধান্ত নির্ভর করতে পারে, তখন এই ব্যবস্থা কাজে লাগানো হতো। এতে আদালতের মামলার চাপ সামলানো এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সুযোগ তৈরি হতো।   তবে ট্রাম্প প্রশাসন ও টেক্সাসের কর্মকর্তাদের যুক্তি, এই পদ্ধতির কারণে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা নেই এমন ব্যক্তিরা অনির্দিষ্টকাল যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পেতে পারেন। তাঁদের মতে, প্রশাসনিকভাবে মামলা স্থগিত রাখার ব্যবস্থা কার্যত নির্বাসন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে এ পদ্ধতি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যদিও এর বিরোধীরা বলছেন, মামলা স্থগিত রাখার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হলে জটিল আইনি পরিস্থিতিতে থাকা অভিবাসীদের ন্যায্য বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।   এই বিরোধের সূত্রপাত ২০২৫ সালে নয়, বরং ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের নেওয়া একটি বিধিমালাকে ঘিরে। ওই বিধিমালায় প্রশাসনিক স্থগিতাদেশের পদ্ধতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। সরকারের যুক্তি ছিল, এতে বিচারকেরা মামলার চাপ দক্ষতার সঙ্গে সামলাতে পারবেন এবং অভিবাসীদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করা সহজ হবে। এর আগে ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এ বিষয়ে নেওয়া একটি বিধি আদালতের বাধার মুখে পড়েছিল।   ট্রাম্প ২০২৫ সালে আবার ক্ষমতায় ফেরার পর অভিবাসন আদালত তদারককারী বিচার বিভাগের নির্বাহী পর্যালোচনা দপ্তর জানায়, তারা বাইডেন প্রশাসনের বিধিমালার পক্ষে আইনি লড়াই চালাবে না। এরপর টেক্সাস ওই বিধিমালাকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করে। অঙ্গরাজ্যটির দাবি ছিল, এই নিয়মের মাধ্যমে অভিবাসন বিচারকেরা কার্যত যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্বাসন থেকে রেহাই দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।   গত ২২ জুন ট্রাম্প প্রশাসন ও টেক্সাসের পক্ষ থেকে একটি যৌথ চুক্তি ফেডারেল আদালতে জমা দেওয়া হয়। একই দিনে টেক্সাস এ বিষয়ে মামলা করে এবং বিচারক রিড ও’কনর চুক্তিটি অনুমোদন করেন। এর ফলে বাইডেন প্রশাসনের বিধিমালাটি অবৈধ ঘোষণা করে দেশজুড়ে কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাল্টিমোর, কানেকটিকাটের নিউ হ্যাভেন, ওহাইওর কলম্বাস এবং আইনি সহায়তাদানকারী সংস্থা সেন্ট্রো লিগাল দে লা রাজা ওই বিধি রক্ষার জন্য মামলায় যুক্ত হতে চেয়েছিল। তবে জেলা আদালত তাদের সেই আবেদন নাকচ করে দেয়।   পরে শহরগুলো ও আইনি সহায়তাদানকারী সংস্থাটি আপিল করে। কিন্তু নিউ অরলিন্সভিত্তিক পঞ্চম সার্কিট আপিল আদালতও চুক্তিটির কার্যকারিতা স্থগিত করতে রাজি হয়নি। এরপর তারা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। আবেদনকারীদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি বিধি বাতিল করতে টেক্সাসের সঙ্গে সমন্বিতভাবে মামলা করেছে, যে বিধিটি প্রশাসনের অপছন্দের ছিল। তাঁদের দাবি, এভাবে যৌথ চুক্তির মাধ্যমে সরকারি বিধিমালা বাতিল করা হলে সংস্থাগুলোর নিয়ম প্রণয়নের স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।   সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ আদেশে আপাতত ওই চুক্তির কার্যকারিতা বহাল থাকছে। তবে জরুরি আবেদন প্রত্যাখ্যানের অর্থ এই নয় যে আদালত মামলার প্রতিটি আইনি প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করেছে। মূল বিরোধের পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় কী সিদ্ধান্ত আসে, তার ওপরও বিষয়টির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। আপাতত প্রশাসনিক স্থগিতাদেশের সুযোগ বন্ধ থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতে নির্বাসনসংক্রান্ত মামলাগুলোর ব্যবস্থাপনায় এর প্রভাব পড়তে পারে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের আদেশ, সংশ্লিষ্ট ফেডারেল আদালতের মামলার নথি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ২২:২৫
ফিলাডেলফিয়ায় গাড়ি চালু করতে সাহায্য করতে গিয়ে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এক নারী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় গাড়ি বিকল ভেবে সাহায্য করতে গিয়ে বন্দুকের মুখে ছিনতাইয়ের শিকার নারী

ফ্লোরিডার সেবাস্টিয়ান ইনলেট স্টেট পার্কে মাছ ধরার পিয়ারের গ্রিল ভেঙে সাগরে পড়ে যায় ১৬ বছরের এক কিশোর। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফ্লোরিডায় মাছ ধরার মাচার মেঝে ভেঙে সাগরে পড়ে গেল কিশোর, বন্ধুদের সহায়তায় প্রাণে রক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে ব্যাংকের সম্পত্তি জব্দের ঘটনা বাড়ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে কি ফের আবাসন সংকটের শঙ্কা, এক বছরে বাড়ি বাজেয়াপ্তের হার বেড়েছে ৪২ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল এইচ-১বি ভিসা ও গ্রিন কার্ডসংক্রান্ত নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নির্ধারিত হতে পারে এইচ-১বি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের ভবিষ্যৎ

যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির অভিবাসন নীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসা, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড এবং অভিবাসনসংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে কংগ্রেসে চলমান উদ্যোগগুলোর অগ্রগতি নির্ভর করতে পারে নির্বাচনের ফলের ওপর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইতোমধ্যে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগসংক্রান্ত নিয়ম কঠোর করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আগ্রহী ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাজীবীসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের মধ্যে নির্বাচন ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছেন। নির্বাচনে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে গেলে অভিবাসনসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো নিয়ে শুনানি, ভোটাভুটি এবং আইন প্রণয়নের গতি পরিবর্তিত হতে পারে। তবে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী আদেশ বা সরকারি সংস্থাগুলোর বিধিমালা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে না। সেগুলো পরিবর্তনের জন্য পৃথক প্রশাসনিক, আইনি বা আইন প্রণয়নসংক্রান্ত পদক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে।   এইচ-১বি ভিসা নিয়ে কড়াকড়ির পাশাপাশি কংগ্রেসে একাধিক প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্লেন গ্রথম্যান এবং সিনেটর জন হুস্টেডের উদ্যোগে আনা ‘প্রটেক্টিং আমেরিকান ওয়ার্কার্স থ্রু এইচ-১বি মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট’-এর লক্ষ্য বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মজুরির শর্ত আরও কঠোর করা। প্রস্তাবটির পক্ষে থাকা আইনপ্রণেতাদের যুক্তি, দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত থাকা বেতনসীমার কারণে কিছু নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নির্ধারিত শর্ত এড়িয়ে যেতে পারছে।   বর্তমান নিয়মে এইচ-১বি নির্ভরশীল কিছু নিয়োগদাতাকে বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে যোগ্য মার্কিন কর্মী খোঁজার বিষয়ে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে বছরে অন্তত ৬০ হাজার ডলার বেতন পাওয়া অথবা স্নাতকোত্তর বা তার বেশি ডিগ্রিধারী কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় রয়েছে। ১৯৯৮ সালে নির্ধারিত এই বেতনসীমা মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার করা উচিত বলে গ্রথম্যানের কার্যালয় জানিয়েছে। প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি কর্মী নিয়োগের ব্যয় ও প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে।   এইচ-১বি ভিসা নিয়ে আরও কঠোর অবস্থানের পক্ষে রয়েছে রিপাবলিকানদের আরেকটি প্রস্তাব। মন্টানার সিনেটর টিম শিহি উত্থাপিত ‘এন্ড এইচ-১বি অ্যাবিউজ অ্যাক্ট অব ২০২৬’-এ নতুন এইচ-১বি ভিসা দেওয়া তিন বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এতে নির্দিষ্ট এইচ-১বি আবেদন বা নিয়োগের ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের ফি আইনে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগও রয়েছে। মার্কিন কর্মীদের চাকরি ও মজুরি সুরক্ষার যুক্তিতে প্রস্তাবটির সমর্থকেরা বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও কঠোর বিধিনিষেধ চান। তবে প্রস্তাবটি এখনো আইন নয়, তাই এটিকে কার্যকর সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   এদিকে ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ফি নিয়ে আইনি জটিলতাও রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু নতুন এইচ-১বি আবেদনের সঙ্গে এই ফি যুক্ত করেছিল। ২০২৬ সালের জুনে ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রায় দেয়। তবে আপিল চলমান থাকায় বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। কংগ্রেস চাইলে নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এ ধরনের ফি বা বিধিনিষেধের আইনি ভিত্তি নির্ধারণ করতে পারে। অন্যদিকে নির্বাচনের পর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলালেও বিদ্যমান নির্বাহী সিদ্ধান্তের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আদালতের রায় এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর।   কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস ও টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে পিইআরএম বা স্থায়ী শ্রম সনদ প্রক্রিয়ায় বিধিনিষেধের খবর প্রকাশিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় নিয়োগদাতাকে সাধারণত প্রমাণ করতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদে যোগ্য মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগে স্থানীয় কর্মীদের মজুরি ও কাজের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাজীবীদের অনেকে এই কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ ধরনের পদক্ষেপ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিরোধ বাড়তে পারে। এতে কিছু প্রস্তাব আটকে যেতে পারে, সংশোধিত হতে পারে কিংবা সেগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে আইন পাসের জন্য প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। সিনেটে অধিকাংশ বিলের ক্ষেত্রে বিতর্ক শেষ করে ভোটে যাওয়ার জন্য সাধারণত ৬০ ভোটের সমর্থন লাগে। দুই কক্ষে একই ভাষায় বিল পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়, যদিও ভেটো অতিক্রমের সাংবিধানিক পথও রয়েছে।   সব মিলিয়ে, ৩ নভেম্বরের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের ভিসা ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নিয়ে নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্বাচনের ফলের ভিত্তিতে এইচ-১বি ভিসা বা গ্রিন কার্ডের নিয়ম তাৎক্ষণিকভাবে বদলে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ভারতীয় পেশাজীবীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আগ্রহী অন্য দেশের কর্মীদেরও প্রস্তাবিত বিল, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং সরকারি বিধিমালার পরবর্তী অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।   সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস, ইউএস গভর্নমেন্ট পাবলিশিং অফিস।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ২০:৩৮
কর্মস্থলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আঙুল হারিয়ে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পেলেন যুবক

কর্মস্থলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আঙুল হারিয়ে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পেলেন যুবক

নিউইয়র্কে ৭৩২ ডলার থেকে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার সুযোগ, ব্রঙ্কসে শুরু আবাসন লটারি

নিউইয়র্কে ৭৩২ ডলার থেকে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার সুযোগ, ব্রঙ্কসে শুরু আবাসন লটারি

ব্রুকলিনের ২৭ বছর বয়সী নারী আইএসের হয়ে একে-৪৭ চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, দোষী সাব্যস্ত

ব্রুকলিনের ২৭ বছর বয়সী নারী আইএসের হয়ে একে-৪৭ চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, দোষী সাব্যস্ত

0 Comments