সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

রিপাবলিকান

আইওয়ায় নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
সেপ্টেম্বরের বড় ধাক্কা কাটিয়ে গ্রামীণ ভোটারদের সমর্থন ফিরে পাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ১৫ থেকে ১৯ অক্টোবর পরিচালিত ইকেলন ইনসাইটসের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন গ্রামীণ ভোটারদের ৫০ শতাংশ ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিপরীতে, ৪৯ শতাংশ তাঁর কাজের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ, এই ভোটারগোষ্ঠীর মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার এখন এক পয়েন্ট ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।   সেপ্টেম্বরে গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার পর নতুন জরিপে এই পরিবর্তন দেখা গেল। তবে এক মাসের ব্যবধানে সমর্থন বাড়লেও গ্রামীণ ভোটারদের মনোভাব স্থায়ীভাবে বদলে গেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। ইকেলন ইনসাইটসের জরিপে দেখা গেছে, জুনে গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ছিল ৫১ শতাংশ, আর অসন্তোষ ছিল ৪৮ শতাংশ। জুলাইয়ে চিত্র বদলে যায়—সমর্থন নেমে আসে ৪৭ শতাংশে, আর অসন্তোষ বেড়ে দাঁড়ায় ৫১ শতাংশে। আগস্টে ব্যবধান কিছুটা কমে সমর্থন ও অসন্তোষের হার হয় যথাক্রমে ৪৯ ও ৫০ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ওই মাসে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানান মাত্র ৪০ শতাংশ গ্রামীণ ভোটার, আর ৫৯ শতাংশ তাঁর কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অক্টোবরের নতুন জরিপে সমর্থন ৫০ শতাংশে ওঠায় এক মাসের ব্যবধানে তাঁর নিট অনুমোদনের হার ২০ পয়েন্ট উন্নত হয়েছে। তবে গ্রামীণ ভোটারদের এই উপগোষ্ঠী নিয়ে জরিপে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় ফলাফলে স্বাভাবিক ওঠানামার প্রভাব থাকতে পারে। গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে সমর্থন বাড়লেও সামগ্রিক মার্কিন ভোটারদের কাছে ট্রাম্পের অবস্থান এখনো নেতিবাচক। একই জরিপে তাঁর কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৩৯ শতাংশ ভোটার, আর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৬০ শতাংশ। কংগ্রেসের নির্বাচনে কোন দলকে ভোট দেবেন—এমন প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। জরিপে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সমর্থন ৫০ শতাংশ, রিপাবলিকানদের পক্ষে ৪৫ শতাংশ। ১৫ থেকে ১৯ অক্টোবরের এই জরিপে সম্ভাব্য ১ হাজার ১০ জন ভোটার অংশ নেন। পুরো জরিপের নমুনাগত ত্রুটির সীমা ছিল প্লাস-মাইনাস ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট।   এই ফলাফল এমন সময়ে এসেছে, যখন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। আইওয়া, কানসাস ও আলাস্কার মতো রাজ্যে সিনেট নির্বাচন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব রাজ্যে জ্বালানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, কৃষি উৎপাদনের খরচ এবং পরিবারের আর্থিক চাপ ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর আইওয়ার সিউক্স সিটিতে রিপাবলিকান সমর্থকদের এক সমাবেশে অংশ নেন ট্রাম্প। নভেম্বরের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ভোট টানতে তাঁর এই সফর ছিল দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ। বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গারে জড়ো হওয়া সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁকে যেন ব্যালটের একজন প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর ভাষায়, “ভাবুন, আমি যেন ব্যালটে আছি। কারণ আপনারা যদি ভোট দিতে বের হন, আমরা বড় ব্যবধানে জিতব।”   আইওয়ার সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী অ্যাশলি হিনসন ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেকের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ কাছাকাছি। ইমারসন কলেজ পোলিংয়ের ৫ ও ৬ অক্টোবরের জরিপে হিনসনের সমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ, আর টুরেকের ৪৫ শতাংশ। লিবার্টারিয়ান প্রার্থী থমাস লেন পেয়েছেন ২ শতাংশ সমর্থন; ৭ শতাংশ ভোটার তখনো সিদ্ধান্ত নেননি। জরিপটির নমুনাগত ত্রুটির সীমা ছিল প্লাস-মাইনাস ৩ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট। অন্যদিকে, মারিস্টের সেপ্টেম্বরের জরিপে টুরেক ৫০ শতাংশ এবং হিনসন ৪২ শতাংশ সমর্থন পান। দুটি জরিপের ফলের পার্থক্য দেখায়, ভোটারদের মনোভাব ও জরিপের পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র বদলাতে পারে। হিনসন ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি এবং গরুর মাংসের ওপর শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, জ্বালানি কেনা কিংবা দোকানে বাজার করার বাড়তি খরচের বোঝা আইওয়ার বাসিন্দাদের বহন করা উচিত নয়, বিশেষ করে যখন কৃষক ও পশুপালকেরা উৎপাদন ব্যয়ের চাপের মুখে রয়েছেন। ট্রাম্পের সমর্থকদের ধরে রাখার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির প্রশ্নে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তিনি। কানসাসেও রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের সঙ্গে কঠিন লড়াই করছেন। কানসাসে ১৯৩২ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। কিন্তু সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দুই প্রার্থীর ব্যবধান খুবই কম। ইমারসন কলেজ পোলিং ও নেক্সস্টারের সেপ্টেম্বরের জরিপে হ্যামিলটন ৪৫ শতাংশ এবং মার্শাল ৪৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন। একই জরিপে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন ছিল ৪০ শতাংশ, আর অসন্তোষ ছিল ৫৩ শতাংশ। ভোটারদের ৪৮ শতাংশ অর্থনীতিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেন। আলাস্কায়ও রিপাবলিকানদের জন্য পরিস্থিতি সহজ নয়। সিনেটর ড্যান সুলিভানের বিপরীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ৮ থেকে ১৬ অক্টোবর পরিচালিত ডেটা ফর প্রগ্রেসের জরিপে পেলটোলা ৫১ শতাংশ এবং সুলিভান ৪৯ শতাংশ সমর্থন পান। তবে নমুনাগত ত্রুটির সীমা প্লাস-মাইনাস ৪ শতাংশ পয়েন্ট হওয়ায় এই ব্যবধানকে নিশ্চিত অগ্রগতি হিসেবে দেখা যায় না। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প আলাস্কায় ১৩ দশমিক ১ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। নেব্রাস্কাতেও রিপাবলিকানদের ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ আসন ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর পিট রিকেটসের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ড্যান অসবর্ন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পূর্বাভাসে এখনো রিকেটস এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক জরিপে লড়াই আগের ধারণার চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দেখা যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল ট্রাম্পের রাজনৈতিক জোটকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী জোট হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্যে করছাড়, ওষুধের খরচ কমানো, সীমান্ত নিরাপত্তা, বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান এবং অবসরকালীন হিসাবের উন্নতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কতটা কাজে আসবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। কোনো ভোটার প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থন জানালেও তাঁর দলের স্থানীয় প্রার্থীকে ভোট দেবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে কৃষি, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ থাকলে ভোটাররা দলীয় আনুগত্যের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ৩ নভেম্বরের নির্বাচন তাই দেখাবে, গ্রামীণ এলাকায় ট্রাম্পের সমর্থনের সাম্প্রতিক উন্নতি রিপাবলিকানদের জন্য বাস্তব ভোটে কতটা রূপ নেয়।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসে আইএসের হয়ে মার্কিন কংগ্রেসম্যানকে হ ত্যার ষড়যন্ত্র, গ্রেপ্তার ১৭ বছরের কিশোর
টেক্সাসে আইএসের হয়ে মার্কিন কংগ্রেসম্যানকে হ ত্যার ষড়যন্ত্র, গ্রেপ্তার ১৭ বছরের কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান দলের আইনপ্রণেতা (কংগ্রেসম্যান) কিথ সেলফকে গুপ্তহত্যার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই। জানা গেছে, অনলাইনে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-এর (ISIS) উগ্রবাদী প্রচারণায় প্রভাবিত হয়ে ওই কিশোর কংগ্রেসম্যানকে হত্যার ছক কষেছিল।   এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও সে হামলার জন্য একটি আগ্নেয়াস্ত্রও জোগাড় করতে সক্ষম হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি পাবলিক 'কুক-অফ' অনুষ্ঠানে হামলার পরিকল্পনা থাকলেও গত ৫ অক্টোবর এফবিআই তাকে গ্রেপ্তার করে। ম্যাককিনি এলাকার বাসিন্দা ওই কিশোর বর্তমানে ফেডারেল হেফাজতে রয়েছে।   ওই কিশোরের মূল লক্ষ্য ছিলেন কংগ্রেসম্যান কিথ সেলফ, যিনি 'শরিয়া-ফ্রি আমেরিকা ককাস'-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানকে রক্ষার যুক্তিতে দেশটিতে শরিয়া আইনের বিরুদ্ধে একটি বিলও উত্থাপন করেছিলেন তিনি। নিজের ওপর এমন হত্যাচেষ্টার খবরে মোটেও বিচলিত নন মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তা।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ২৫ বছর সামরিক বাহিনীতে কাজ করে তিনি শিখেছেন যে স্বাধীনতারক্ষার জন্য যেকোনো মূল্য চোকাতে প্রস্তুত থাকতে হয়। এই ঘটনা তার আদর্শিক সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে এবং তিনি কোনো হুমকিতেই পিছপা হবেন না।   হামলার আগেই সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে পারায় এফবিআইয়ের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কিথ সেলফ। তিনি জানান, এফবিআই আগে থেকেই ওই কিশোরের ওপর নজর রাখছিল এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই তারা সফলভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। কংগ্রেসে ইসলামি শরিয়া আইনের অন্যতম কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত কিথ সেলফ আগামী নভেম্বরের কংগ্রেসনাল নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ইভান হান্টের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি ৬২.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলেন।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে তিন প্রার্থীকে ঘিরে আলোচনা
সিনেট নির্বাচন ঘিরে নতুন সমীকরণ, তিন ধর্মের তিন প্রার্থীর প্রচারে সংবিধান ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে সিনেটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জর্জিয়ায় জন অসফ, টেক্সাসে জেমস তালারিকো এবং মিশিগানে আবদুল এল-সাইয়েদের মতো প্রার্থীদের ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়, রাজনৈতিক অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সামনে রেখে দেওয়া বার্তা নির্বাচনী আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে।   তবে নির্বাচনী জরিপে এগিয়ে থাকা মানেই জয় নিশ্চিত নয়। ভোটের দিন উপস্থিতি, নির্বাচনী প্রচারের গতি এবং শেষ মুহূর্তের জনমত—সবকিছুই ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্ব বুঝতে প্রার্থীদের বক্তব্যের পাশাপাশি নির্বাচনী পরিস্থিতি ও জরিপের সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট হবে। রিপাবলিকানদের বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ের বিপরীতে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলানোর চেষ্টা করছে। এই প্রেক্ষাপটে জর্জিয়া, টেক্সাস ও মিশিগানের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। জর্জিয়ার বর্তমান সিনেটর জন অসফ ইহুদি। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো খ্রিষ্টান এবং ধর্মতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করেছেন; তিনি যাজক হওয়ার প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন। অন্যদিকে মিশিগানের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ মুসলিম। ভিন্ন ধর্মীয় পরিচয়ের এই তিন প্রার্থীকে ঘিরে প্রচারমূলক আলোচনায় সংবিধান, নাগরিক অধিকার এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থের বিষয়গুলো সামনে আনা হচ্ছে। সমর্থকদের প্রচারবার্তার মূল বক্তব্য হলো, ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংবিধানের প্রতি অঙ্গীকার এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রশ্নে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করা সম্ভব। তাঁদের বক্তব্যে বড় ব্যবসায়ী ও ধনকুবেরদের স্বার্থের বিপরীতে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এটি মূলত রাজনৈতিক প্রচারের একটি বার্তা। নির্বাচনে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে ভোটারদের অগ্রাধিকার, প্রার্থীদের নীতি এবং নির্বাচনী প্রচারের ওপর। জর্জিয়ায় নিজের সিনেট আসন ধরে রাখতে লড়ছেন ডেমোক্র্যাট জন অসফ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রিপাবলিকানদের লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গরাজ্যে আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়া। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে অসফ এগিয়ে থাকলেও জরিপের ফলকে চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জরিপের সময়, নমুনা এবং ভোটার উপস্থিতির মতো বিষয় ফলাফলে পার্থক্য তৈরি করতে পারে। টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো ও রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত অবস্থানের কারণে অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটদের জন্য সিনেট আসন জয় করা কঠিন বলে বিবেচিত হয়ে এসেছে। তবে অক্টোবরের কয়েকটি জরিপে তালারিকোকে প্যাক্সটনের কাছাকাছি বা সামান্য এগিয়ে দেখা গেছে। কিছু জরিপে দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান খুবই কম। ফলে টেক্সাসের লড়াইকে এখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মিশিগানে ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সাইয়েদ ও রিপাবলিকান মাইক রজার্সের লড়াইও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অক্টোবরের বিভিন্ন জরিপে এল-সাইয়েদকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে দেখা গেছে। তবে ব্যবধান অনেক ক্ষেত্রেই জরিপের ত্রুটিসীমার মধ্যে থাকায় ফলাফল নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইলে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে জয় পেতে হবে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলালে আইন প্রণয়ন, সরকারি নীতির ওপর নজরদারি, তদন্ত এবং প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে যেতে পারে। তবে কেবল সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলেই সব নীতি পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না; আইন পাসের নিয়ম, প্রেসিডেন্টের ভেটো এবং অন্যান্য সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতাও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। নির্বাচনী প্রচারে আশাবাদী বার্তা থাকলেও ডেমোক্র্যাটদের জন্য আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। সামান্য ব্যবধানের জরিপ নির্বাচনের দিন বদলে যেতে পারে। ভোটার নিবন্ধন, আগাম ভোট, নির্বাচনী প্রচারের কার্যকারিতা এবং ভোটকেন্দ্রে সমর্থকদের উপস্থিতি—সবই গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত তিন প্রার্থীর ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে তাঁদের নীতি, রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতাই নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। ৩ নভেম্বরের ভোট যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দেশটির রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নজরদারির ভবিষ্যৎও নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে গভর্নর পদে দুই দলের নির্বাচনী লড়াই
জর্জিয়া থেকে উইসকনসিন, গভর্নর নির্বাচনে কোন ইস্যুতে মুখোমুখি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে গভর্নর পদ ঘিরে জমে উঠেছে রাজনৈতিক লড়াই। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে দেশটির ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এসব নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলই নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি, করনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ও ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   গভর্নর নির্বাচনের ফল শুধু অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রশাসনিক নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে না, বরং দেশজুড়ে দুই প্রধান দলের রাজনৈতিক শক্তিরও একটি চিত্র তুলে ধরবে। বিশেষ করে জর্জিয়া, নেভাডা, ওহাইও ও উইসকনসিনের মতো অঙ্গরাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ। জাতীয় রাজনীতির প্রভাব থাকবে নির্বাচনে   মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা ও তাঁর দলের রাজনৈতিক অবস্থান যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তবে গভর্নর নির্বাচনে স্থানীয় বিষয়গুলোও বড় প্রভাব ফেলে। অঙ্গরাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, করের হার, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বাসস্থানের খরচ নিয়ে প্রার্থীদের অবস্থান ভোটারদের কাছে গুরুত্ব পেতে পারে। রিপাবলিকানরা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা বা আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের লক্ষ্য, যেখানে দলটির অবস্থান দুর্বল সেখানে নতুন সুযোগ তৈরি করা এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে ক্ষমতায় ফেরার পথ তৈরি করা। জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের লড়াই জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচন দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক আটলান্টা মেয়র কেইশা ল্যান্স বটমসের নাম আলোচনায় রয়েছে। রিপাবলিকান শিবিরে আলোচনায় আছেন ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসন। জর্জিয়ার রাজনীতিতে শহরাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকার ভোটারদের পছন্দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, কর এবং জীবনযাত্রার ব্যয়—এসব বিষয়ে প্রার্থীদের অবস্থান নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্ব পেতে পারে। বটমসের জন্য ডেমোক্র্যাটদের ভোট একত্র করা এবং শহরাঞ্চলের বাইরে সমর্থন বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে জ্যাকসনের সামনে থাকবে রিপাবলিকান ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখা এবং বৃহত্তর ভোটারগোষ্ঠীর কাছে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরার চ্যালেঞ্জ। নেভাডায় অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ   নেভাডার গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান গভর্নর জো লম্বার্ডো এবং ডেমোক্র্যাট অ্যারন ফোর্ডের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ড্যানিয়েল ফোর্ডের নামও নির্বাচনী আলোচনায় রয়েছে। নেভাডার অর্থনীতি পর্যটন, আতিথেয়তা শিল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থানের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ফলে চাকরির সুযোগ, মজুরি, বাসাভাড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। লম্বার্ডোর জন্য গভর্নর হিসেবে নিজের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে সমর্থন ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ফোর্ডের লক্ষ্য হবে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে ভোটারদের একত্র করা। অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় কে কতটা কার্যকর পরিকল্পনা দিতে পারেন, তা এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। ওহাইওতে মুখোমুখি অ্যামি অ্যাকটন ও বিবেক রামাস্বামী   ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট অ্যামি অ্যাকটন ও রিপাবলিকান বিবেক রামাস্বামীর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। রাজ্যটিতে দুই দলের ভোটারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিপাবলিকানদের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। অ্যাকটনের সামনে থাকবে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন বাড়ানোর পাশাপাশি মধ্যপন্থী ও দোদুল্যমান ভোটারদের আকৃষ্ট করার চ্যালেঞ্জ। রামাস্বামীকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনার পক্ষে ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে হবে। কর কমানো, সরকারি ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থান—এসব ইস্যু প্রচারের কেন্দ্রে থাকতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ, নতুন প্রযুক্তি ও ডেটা সেন্টার স্থাপনের মতো বিষয়ও রাজ্যের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেতে পারে। উইসকনসিনে ক্ষমতা ও নীতির প্রশ্ন উইসকনসিনেও গভর্নর নির্বাচন ঘিরে দুই দলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ডেমোক্র্যাট ডেভিড ক্রাউলি এবং রিপাবলিকান টম টিফানির নাম প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলোচনায় রয়েছে। রাজ্যটিতে ভোটের ব্যবধান অনেক সময় খুব কম থাকে। ফলে শহরাঞ্চল, ছোট শহর এবং গ্রামীণ এলাকার ভোটারদের সমর্থন নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ক্রাউলির জন্য ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন ভোটারদের কাছে পৌঁছানো জরুরি হবে। টিফানির লক্ষ্য হবে রিপাবলিকানদের ভোট একত্র করা এবং অর্থনীতি ও সরকারি নীতির বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরা। করনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং সরকারি পরিষেবার ব্যয়—এসব বিষয় ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। দুই প্রার্থীর মধ্যে কে স্থানীয় সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে পারবেন, তা প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও করনীতি থাকবে আলোচনায় চার অঙ্গরাজ্যের বাইরে অন্যান্য গভর্নর নির্বাচনেও ভোটারদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। বাড়িভাড়া ও বাড়ি কেনার খরচ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়, করের চাপ এবং বিদ্যুতের দাম অনেক পরিবারের জন্য বড় উদ্বেগ। স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ও মেডিকেইডের মতো সরকারি সহায়তা নিয়ে প্রার্থীদের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি নতুন শিল্প ও ডেটা সেন্টারের সম্প্রসারণের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে তার খরচ কে বহন করবে, সেই প্রশ্নও কিছু অঙ্গরাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হতে পারে। প্রার্থীরা এসব সমস্যার সমাধানে কী পরিকল্পনা দিচ্ছেন এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কীভাবে অর্থের সংস্থান করবেন, তা ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা   ২০২৬ সালের গভর্নর নির্বাচন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের জন্য কেবল অঙ্গরাজ্যভিত্তিক নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রতিযোগিতা নয়। এসব নির্বাচনের ফল থেকে দুই দলের জনসমর্থন, স্থানীয় ইস্যুতে ভোটারদের মনোভাব এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে। তবে সব অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের ইস্যু নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে না। কোথাও অর্থনীতি ও করনীতি প্রধান হয়ে উঠতে পারে, আবার কোথাও স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন কিংবা সরকারি পরিষেবা নিয়ে বিতর্ক বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। শেষ পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রচার, ভোটার উপস্থিতি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিই নির্ধারণ করবে কোন দল কতটা সাফল্য পাবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে সিনেট দখলের লড়াইয়ে নতুন উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্রে সিনেট দখলের লড়াইয়ে নতুন উত্তেজনা, দুই রিপাবলিকান ঘাঁটিতে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

আগামী ৩ নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে ডেমোক্র্যাটিক দল। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা কলেজের প্রকাশিত এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, টেক্সাস ও আলাস্কার মতো ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা ৫০ শতাংশ বা তার বেশি সমর্থন পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে এই ফলাফল সিনেটের বর্তমান ৫৩-৪৭ ব্যবধানের রিপাবলিকান আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।   নতুন জরিপের তথ্যানুযায়ী, টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটিক দলের জেমস টালারিকো ৫১ শতাংশ সমর্থন পেয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে (৪৫%) ৬ পয়েন্টের ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন। অন্যদিকে, আলাস্কায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেল্টোলা ৫০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের (৪৩%) চেয়ে ৭ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। এছাড়া, ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সিনেট দৌড়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শ্যারড ব্রাউন (৪৯%) রিপাবলিকান প্রার্থী জন হাস্টেডকে (৪৬%) সামান্য ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন।   অন্যদিকে, আইওয়াতে রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসন ৪৮-৪৭ ব্যবধানে জশ টার্কের চেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছেন এবং কানসাসে ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম হ্যামিল্টনের সঙ্গে রিপাবলিকান রজার মার্শালের ৪৫-৪৫ পয়েন্টে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা টিকিয়ে রাখতে সিনেট লিডারশিপ ফান্ড নর্থ ক্যারোলিনার বদলে কানসাসের মতো রাজ্যে তাদের বিপুল অর্থায়ন স্থানান্তর করেছে। এই ৫টি আসনের সবগুলোতেই যদি ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে পারে, তবে আগামী দিনে তারা সিনেটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০
নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান নেতাদের শরিয়াবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদে মুসলিম আমেরিকানরা
নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান নেতাদের শরিয়াবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদে মুসলিম আমেরিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে কয়েকজন রিপাবলিকান নেতার শরিয়াবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুসলিম আমেরিকান নেতা ও গবেষকেরা। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় অনুশীলনকে মার্কিন আইনব্যবস্থা বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরায় মুসলিমদের সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এ প্রতিক্রিয়ার কথা উঠে এসেছে।    টেক্সাসে রিপাবলিকানদের এক সম্মেলনে সিনেটর টেড ক্রুজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়া আইনের স্থান নেই। একই অনুষ্ঠানে গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট টেক্সাসে শরিয়া আইন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার অঙ্গীকার করেন। অন্যদিকে কংগ্রেস সদস্য চিপ রয় শরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও আইনব্যবস্থার জন্য হুমকি বলে দাবি করেছেন।    এসব বক্তব্যের জবাবে মুসলিম নেতারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের কাছে শরিয়া মূলত নামাজ, রোজা, দান ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে ধর্মীয় দিকনির্দেশনার বিষয়। ইসলামি চিন্তাবিদ আবদুল্লাহ আহমেদ আন-নাইমের মতে, মুসলিমরা স্বেচ্ছায় ধর্ম পালন করতে পারেন এবং একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিক মূল্যবোধও ধারণ করতে পারেন।    টেক্সাসে ডালাসভিত্তিক ইসলামিক ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নিয়েও তদন্ত শুরু করেছেন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন। তাঁর দপ্তর জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি আদালতের মতো কাজ করছে কি না এবং কোনো আইন লঙ্ঘন করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল বলেছে, তাদের ধর্মীয় পরামর্শ ও মধ্যস্থতা মার্কিন আদালতের বিকল্প নয় এবং তারা আইনত বাধ্যতামূলক রায় দেয় না। তদন্ত শুরুর অর্থ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়।    মুসলিম অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস এই রাজনৈতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির মতে, ধর্মীয় পরিচয়কে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা মুসলিম আমেরিকানদের প্রতি বিরূপ মনোভাব বাড়ায়। নির্বাচনের আগে বিতর্কটি এখন ধর্মপালনের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় আইনের সীমা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস
‘ট্রাম্পের আনুগত্যের পরীক্ষা থেকে বের হতে হবে’, হোয়াইট হাউসকে রিপাবলিকান সিনেটরের বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেই কোনো রিপাবলিকানকে ‘অবিশ্বস্ত’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। উত্তর ক্যারোলাইনার এই সিনেটর বলেন, হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তা ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্যের বিষয়টিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং দলের সদস্যদের নীতিগত মতপার্থক্য মেনে নেওয়া উচিত।   বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় টিলিস বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি বিষয়ে মতপার্থক্য হলেই কাউকে অবিশ্বস্ত হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ ভোটের ক্ষেত্রে তিনি ৯০ শতাংশের বেশি সময় ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন। তবে অন্য রিপাবলিকানদের কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকলে সেটি প্রকাশ করার সুযোগ থাকা উচিত বলেও তিনি জানান।   টিলিস আরও বলেন, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ‘আনুগত্যের পরীক্ষা’ বা সব বিষয়ে নিখুঁতভাবে একমত হওয়ার প্রত্যাশা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য সিনেটে নেই; বরং উত্তর ক্যারোলাইনার যেসব মানুষ তাকে ভোট দিয়েছেন, তাদের প্রতিনিধিত্ব করতেই তিনি সেখানে রয়েছেন।   ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের বিষয়টিকেও উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন টিলিস। তার মতে, কোনো রিপাবলিকান যদি এই যুদ্ধের বিষয়ে প্রশাসনের নীতির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন, তাহলে সেটিকে দলীয় অবিশ্বস্ততা হিসেবে দেখা উচিত নয়।   টিলিসের এই বক্তব্য তার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েক মাসের প্রকাশ্য মতপার্থক্যের ধারাবাহিকতায় এসেছে। এর আগে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সমালোচনা করেছেন এবং ইরান যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে তার ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছিলেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও টিলিসসহ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর অবস্থান নিয়েছেন।   চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়েও টিলিস ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি ট্রাম্পের শিকে দেওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনাকে প্রশ্ন করে বলেন, চীনের মতো দেশের নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।   টিলিস ২০২৬ সালের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছেন। এরপর থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকর্তাদের নিয়ে তার প্রকাশ্য সমালোচনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।   টিলিসের সর্বশেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনের সঙ্গে সত্য কথা বলাই এক ধরনের আনুগত্য। তার মতে, কোনো বিষয়ে নীতিগতভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করা এবং প্রেসিডেন্টের প্রতি অবিশ্বস্ত হওয়া—দুটি বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
২০২৮-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে আগাম রাজনৈতিক তৎপরতা
২০২৬ চলছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়ে গেছে ২০২৮-এর প্রেসিডেন্ট দৌড়

যুক্তরাষ্ট্রে এখনো ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় আসেনি, কিন্তু এরই মধ্যে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীরা এমন সব রাজ্যে সফর করছেন, যেগুলো পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ নীতিগত অবস্থান তুলে ধরছেন, কেউ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন, আবার কেউ সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।   সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা নিজেদের জাতীয় পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ পান। তারা দলীয় সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক নির্বাচনী রাজ্যগুলোতে রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচন এখনো অনেক দূরে হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে।   ডেমোক্র্যাট শিবিরে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস, নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ, পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো, কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার ও ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকারসহ বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এদের কেউই এখন পর্যন্ত ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি।   ওকাসিও-কর্টেজ সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের উপস্থিতি আরও জোরালো করেছেন। তিনি ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাননি। একইভাবে হ্যারিসও এখনো দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। শাপিরো ও বেসিয়ারও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর মতো বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।   রিপাবলিকান শিবিরেও ২০২৮ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তার পাশাপাশি সিনেটর টেড ক্রুজ, সিনেটর র‌্যান্ড পল, ফ্লোরিডার সিনেটর রিক স্কট, টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এবং ফ্লোরিডার সাবেক গভর্নর রন ডেসান্টিসের নামও আলোচনায় রয়েছে।   ট্রাম্পের পর রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, সেটিও ২০২৮ সালের দৌড়ের একটি বড় প্রশ্ন। দলটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধারা কতটা ধরে রাখবে এবং সম্ভাব্য প্রার্থীরা তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কীভাবে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করবেন—এ নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভ্যান্স ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন, অন্যদিকে ক্রুজ ও পলসহ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী নিজেদের আলাদা অবস্থানও তুলে ধরছেন।   ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রেও বড় প্রশ্ন হলো, দলটি ২০২৮ সালে কোন রাজনৈতিক বার্তা সামনে আনবে। প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী অংশের মধ্যে নীতিগত পার্থক্য রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন ও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে শুরু করেছেন।   তবে ২০২৮ সালের নির্বাচন এখনো অনেক দূরে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল, পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনের সময় সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান বদলে যেতে পারে। তাই বর্তমানে আলোচনায় থাকা নামগুলোকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে গর্ভবতী মায়েদের নগদ সহায়তা নিয়ে রিপাবলিকানদের আপত্তি
মিশিগানে গর্ভবতী মায়েদের নগদ সহায়তা নিয়ে রিপাবলিকানদের আপত্তি

মিশিগানে গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের পরিবারকে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া ‘আরএক্স কিডস’ কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা কর্মসূচিটির অর্থব্যবহার, যোগ্যতার শর্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে কঠোর তদারকির দাবি তুলেছেন।   মিশিগান হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা জে ডিবোয়ার দাবি করেছেন, গ্যারান্টিড ইনকাম ধরনের কর্মসূচি কার্যকর নয় এবং এগুলো মূলত সম্পদ পুনর্বণ্টনের ব্যবস্থা। তার নেতৃত্বে একদল রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা আরএক্স কিডসের অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছেন।   আরএক্স কিডসের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী এলাকায় গর্ভবতী নারীরা গর্ভাবস্থায় এককালীন ১ হাজার ৫০০ ডলার পান। এরপর শিশুর জন্মের পর অধিকাংশ এলাকায় প্রতি মাসে ৫০০ ডলার করে সর্বোচ্চ ছয় মাস দেওয়া হয়। কিছু এলাকায় এই মাসিক সহায়তা শিশুর প্রথম বছর পর্যন্ত চলতে পারে। আয় বা চাকরির শর্ত নেই; তবে নির্দিষ্ট অংশগ্রহণকারী এলাকায় বসবাস, গর্ভাবস্থা বা শিশুর অভিভাবকত্বের মতো যোগ্যতা পূরণ করতে হয়।   কর্মসূচিটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মিশিগানের ফ্লিন্টে শুরু হয়। পরে এটি মিশিগান ও ওহাইওর ৬০টির বেশি কমিউনিটিতে সম্প্রসারিত হয়েছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি কর্মসূচিটির নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং গিভডাইরেক্টলি এর নগদ অর্থ বিতরণ পরিচালনা করছে।   রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের প্রধান আপত্তির একটি হলো, পরিবারগুলো এই অর্থ কীভাবে ব্যয় করবে, তার ওপর নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ নেই। তারা আরও প্রশ্ন তুলেছেন, রাজ্যের সরকারি ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে কর্মসূচি পরিচালনার প্রয়োজন কেন হচ্ছে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল স্বাধীনভাবে কীভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।    অন্যদিকে কর্মসূচির সমর্থকেরা বলছেন, গর্ভাবস্থা ও শিশুর জীবনের প্রথম কয়েক মাসে পরিবারের আর্থিক চাপ কমানোই এর উদ্দেশ্য। মিশিগান সরকারের একটি স্বাস্থ্যসেবা নথিতেও আরএক্স কিডসকে গর্ভবতী নারী, শিশু ও পরিবারকে শর্তহীন নগদ সহায়তা দেওয়ার একটি কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।    আরএক্স কিডসের পরিচালক ড. মোনা হানা অবশ্য এটিকে প্রচলিত গ্যারান্টিড ইনকাম বা ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম কর্মসূচি হিসেবে দেখেন না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এটি মূলত গর্ভাবস্থা ও শিশুর জীবনের শুরুর সময়কে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য ও পারিবারিক প্রয়োজন মোকাবিলার কর্মসূচি। তবে মিশিগান স্বাস্থ্য বিভাগের নথিতে আরএক্স কিডসকে গ্যারান্টিড ইনকাম কর্মসূচির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।    মিশিগানের এই বিতর্ক এখন মূলত দুটি প্রশ্নকে ঘিরে—করদাতাদের অর্থে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া কতটা কার্যকর এবং এমন কর্মসূচির অর্থব্যবহার ও ফলাফল কীভাবে পরিমাপ করা হবে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা আরও তদারকি চান, আর কর্মসূচির সমর্থকেরা বলছেন, শিশু ও পরিবারকে আর্থিক স্থিতিশীলতা দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। ফলে আরএক্স কিডস নিয়ে বিতর্কটি এখন শুধু একটি সহায়তা কর্মসূচি নয়, বরং সরকারি নগদ সহায়তার ভূমিকা নিয়েও বৃহত্তর নীতিগত আলোচনায় পরিণত হয়েছে।    Source: ফক্স নিউজ, মিশিগান হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস,

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
সাংবাদিকের দিকে তেড়ে গেলেন ট্রাম্প
৫ হাজার ডলারের চেক নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিকের দিকে তেড়ে গেলেন ট্রাম্প, বললেন, 'নট ইউ'

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে প্রশ্ন করায় এবিসি নিউজের সিনিয়র পলিটিক্যাল করেসপন্ডেন্ট র‍্যাচেল স্কটের দিকে তেড়ে যাওয়ার মতো করে এগিয়ে যান তিনি। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ডালাস ফোর্ট ওর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে ঘটে।   রিপাবলিকানদের মিডটার্ম কনভেনশন শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার আগে ট্রাম্পকে ওই ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন করেন স্কট। ট্রাম্প তাকে বারবার থামিয়ে দিয়ে বলেন, “নট ইউ, নট ইউ। হেই, নট ইউ।” এ সময় তিনি আঙুল নাড়ানোর পাশাপাশি স্কটের দিকে এক পা এগিয়ে ঝুঁকে পড়েন। তবে প্রতিবেদনে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে স্কটকে শারীরিকভাবে আঘাত করার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।    স্কটের প্রশ্ন ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পরও অর্থনীতি ভালো চলছে বলে দাবি করলে ভোটারদের ভোট দেওয়ার জন্য ৫ হাজার ডলারের মতো আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার প্রয়োজন কেন হচ্ছে। ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেন, এই অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা ভোটারদের ভোটে উৎসাহিত করার জন্য নয়। তিনি এটিকে বাইডেন প্রশাসনের সময়কার পরিস্থিতি সহ্য করার পর মার্কিন নাগরিকদের জন্য “পুরস্কার” হিসেবে বর্ণনা করেন।    ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানরা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেট দুটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে। পরিকল্পনাটির সম্ভাব্য ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। তবে অর্থের উৎস, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে এখনো বড় প্রশ্ন রয়েছে।    এদিকে স্কটের দিকে ট্রাম্পের এই আচরণকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন করার কারণে তিনি স্কটকে প্রকাশ্যে অপমান করেছেন। মে মাসে তাকে “স্টুপিড”, “ওয়ান অব দ্য ওয়ার্স্ট রিপোর্টার্স” এবং “আ হরর শো” বলে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে স্কটকে “দ্য মোস্ট অবনক্সিয়াস রিপোর্টার” এবং “টেরিবল রিপোর্টার” বলেও আক্রমণ করেছিলেন তিনি।    ঘটনার পর এবিসি নিউজ এক বিবৃতিতে র‍্যাচেল স্কট এবং তাদের পুরো ওয়াশিংটন টিমের প্রতি সমর্থন জানায়। স্কট নিজে অবশ্য এ ঘটনা নিয়ে আলাদা কোনো মন্তব্য না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করেছেন।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
নভেম্বরে ভোট না দিলে ‘জাহান্নামে’ যেতে হবে
নভেম্বরে ভোট না দিলে ‘জাহান্নামে’ যেতে হবে, সমর্থকদের লক্ষ্য করে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মিডটার্ম কনভেনশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের নভেম্বরে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোট না দিলে তাদের ‘জাহান্নামে’ যেতে হবে। ১০ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের ডালাসে আমেরিকান এয়ারলাইন্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত কনভেনশনের শেষ দিনে ট্রাম্পের বক্তব্যে ২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচনকে ঘিরে রিপাবলিকানদের ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।    ট্রাম্প সমর্থকদের হাত তুলে নভেম্বরে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করতে বলেন। এরপর রসিকতার সুরে তিনি বলেন, ভোট না দিলে কী হবে, তা তারা জানেন এবং ভোট না দিলে ‘জাহান্নামে’ যেতে হবে।    রিপাবলিকান পার্টির এই নজিরবিহীন মিডটার্ম কনভেনশন ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর ডালাসে অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বড় জাতীয় রাজনৈতিক কনভেনশন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বছরেই অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের এমন জাতীয় কনভেনশন আয়োজন তাই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পের জনপ্রিয় সমর্থকগোষ্ঠীকে সক্রিয় করা এবং কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য ভোটারদের উৎসাহিত করা।   সমাপনী বক্তব্যে ট্রাম্প শুধু ভোটের আহ্বানেই থামেননি। অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি আবারও প্রতিশ্রুতি দেন, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলারের একটি চেক দেওয়া হবে। তবে এই অর্থ কোথা থেকে আসবে বা কীভাবে বিতরণ করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা দেননি।    স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও নতুন প্রতিশ্রুতি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বড় হেলথ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোকে অর্থ দেওয়ার পরিবর্তে সেই অর্থ সরাসরি আমেরিকানদের দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা নিজেদের হেলথ কেয়ার খরচ মেটাতে পারেন। পাশাপাশি ট্যাক্স কাট স্থায়ী করা এবং প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানোর প্রচেষ্টার কথাও বলেন তিনি।    ডালাসের এই কনভেনশনকে ঘিরে রিপাবলিকানদের মূল লক্ষ্য ছিল নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনের আগে দলীয় সমর্থকদের আরও সক্রিয় করা। তবে ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে পুরো নির্বাচনী কৌশল সাজানো নিয়ে দলের ভেতরেও কিছু উদ্বেগ রয়েছে। কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা মনে করছেন, ট্রাম্পের শক্তিশালী সমর্থকগোষ্ঠীকে ভোটকেন্দ্রে আনতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্বতন্ত্র ভোটারদের কাছে তার জনপ্রিয়তা নির্বাচনী ফলাফলে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।    যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই রিপাবলিকানদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাই ডালাসের কনভেনশনে ট্রাম্পের বক্তব্যকে দলীয় ভোটারদের সংগঠিত করার পাশাপাশি নিজের প্রেসিডেন্সিকে কেন্দ্র করে নির্বাচনকে একটি গণভোটের রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাস সিনেট জরিপে রিপাবলিকানদের পেছনে ফেলে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সিনেট নির্বাচনের নতুন এক জরিপে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে ৪ শতাংশ পয়েন্টে পেছনে ফেলেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এএআরপি’র জরিপটি পরিচালনা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ নির্বাচনী জরিপকারী হিসেবে পরিচিত টনি ফ্যাব্রিজিওর প্রতিষ্ঠান ফ্যাব্রিজিও ওয়ার্ড। জরিপে টালারিকোর পক্ষে ৪৮ শতাংশ এবং প্যাক্সটনের পক্ষে ৪৪ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পাওয়া গেছে। জরিপটি ফ্যাব্রিজিও ওয়ার্ড ও ডেমোক্র্যাটিক জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ইমপ্যাক্ট রিসার্চ যৌথভাবে পরিচালনা করে। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণাগুলোতেও ফ্যাব্রিজিও জরিপকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এদিকে, টেক্সাসের ডালাসে এ সপ্তাহে রিপাবলিকান পার্টির নজিরবিহীন মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলীয় সমর্থকদের সক্রিয় করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী আসনে সম্ভাব্য ক্ষতি ঠেকাতেই এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি, অর্থনীতি ও ইরানের যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি অনেক মার্কিন নাগরিকের সমর্থন কমেছে- এমন পরিস্থিতির মধ্যেই জরিপটি প্রকাশ হলো। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্যাক্সটনের প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি প্যাক্সটনের পোশাক ও কথাবার্তা নিয়ে সমালোচনা করলেও তাঁকে ‘দেশের সেরা অ্যাটর্নি জেনারেল’ বলে উল্লেখ করেন। জরিপে টালারিকোর এগিয়ে থাকার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন স্বতন্ত্র ভোটাররা। তাঁদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ টালারিকোকে এবং ৩৩ শতাংশ প্যাক্সটনকে সমর্থন করেছেন। অর্থাৎ এ শ্রেণির ভোটারদের মধ্যে টালারিকো ২২ পয়েন্টে এগিয়ে। তবে নিজ দলের ভোটারদের মধ্যে প্যাক্সটন এখনো টালারিকোর তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে। রিপাবলিকান ভোটারদের ৮৩ শতাংশ প্যাক্সটনকে সমর্থন করেছেন, যেখানে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের ৯৪ শতাংশ টালারিকোর পক্ষে রয়েছেন। এছাড়া ৯ শতাংশ রিপাবলিকান টালারিকোকে সমর্থন করেছেন। বিপরীতে প্যাক্সটনের পক্ষে ডেমোক্র্যাট সমর্থন মাত্র ২ শতাংশ। টালারিকোর ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতার হার ৭ পয়েন্ট। ৪২ শতাংশ ভোটার তাঁকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন, বিপরীতে ৩৫ শতাংশ নেতিবাচকভাবে দেখেছেন। প্যাক্সটনের ক্ষেত্রে নেট গ্রহণযোগ্যতা ঋণাত্মক ১১ পয়েন্ট ৪৬ শতাংশ তাঁকে নেতিবাচক এবং ৩৫ শতাংশ ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। আগস্ট ৩০ থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮৯৫ জন সম্ভাব্য ভোটারের ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়। এতে ভুলের সম্ভাব্য সীমা ধরা হয়েছে প্লাস বা মাইনাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
রিপাবলিকানরা কংগ্রেস জিতলে ট্রাম্পের নতুন ৫ হাজার ডলারের ডিভিডেন্ড চেক ঘোষণা
রিপাবলিকানরা কংগ্রেস জিতলে ট্রাম্পের নতুন ৫ হাজার ডলারের ডিভিডেন্ড চেক ঘোষণা, কারা পাবেন জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানরা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেট উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে দেশটির প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়া হবে। ৯ সেপ্টেম্বর ডালাসে রিপাবলিকানদের মিডটার্ম কনভেনশনে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।    ট্রাম্প এই অর্থকে ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তি ও সাফল্যের কারণে এই অর্থ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য অর্থের উৎস, অর্থ বিতরণের পদ্ধতি কিংবা কবে নাগাদ এই অর্থ দেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।    ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়েছে, যোগ্যতা হবে প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক হওয়া এবং রিপাবলিকানদের উভয় কক্ষে জয় পাওয়া। তিনি আরও বলেছেন, এই ডিভিডেন্ডের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই খরচ করতে হবে। তবে প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক যোগ্যতার তালিকা বা আয়ের কোনো সীমা ঘোষণা করা হয়নি।    এই ঘোষণার সঙ্গে ট্রাম্পের আগের ২ হাজার ডলারের ‘ট্যারিফ ডিভিডেন্ড’ প্রস্তাবের পার্থক্যও রয়েছে। আগের প্রস্তাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মার্কিনদের ট্যারিফ থেকে পাওয়া রাজস্বের একটি অংশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ২০২৬ সালে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়নের কোনো আইন এখনো হয়নি।    নতুন ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে এর সম্ভাব্য ব্যয়ও হবে বিশাল। এপি জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের এই অর্থ দিতে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন হতে পারে। ফলে অর্থের উৎস ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।    এদিকে, ট্রাম্পের ঘোষণা এখনো কোনো অনুমোদিত সরকারি পেমেন্ট প্রোগ্রাম নয়। কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইন ও অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি কীভাবে হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বর্তমানে ৫ হাজার ডলারের এই অর্থ পাওয়ার জন্য কোনো অ্যাপ্লিকেশন, রেজিস্ট্রেশন বা নির্দিষ্ট পেমেন্ট তারিখও নেই।    নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের এই ঘোষণা রিপাবলিকান প্রচারণায় সরাসরি আর্থিক প্রণোদনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে নির্বাচনে রিপাবলিকানরা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও প্রস্তাবটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিলের সংকট কাটাতে ট্যাক্স বাড়ানোর কথা ভাবছেন রিপাবলিকানরা। ছবি: সংগৃহীত
সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিল সংকটে ট্যাক্স বাড়ানোর পক্ষে রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিল ২০৩২ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ট্যাক্স বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলছেন। দীর্ঘদিন ধরে ট্যাক্স বাড়ানোর বিরোধিতা করে আসা রিপাবলিকানদের মধ্যে এই অবস্থান পরিবর্তন এসেছে এমন এক সময়ে, যখন সোশ্যাল সিকিউরিটির ঘাটতি এত বড় ও জরুরি হয়ে উঠেছে যে শুধু ভবিষ্যৎ সুবিধা কমিয়ে সংকট মোকাবিলা করা কঠিন বলে মনে করছেন কয়েকজন আইনপ্রণেতা। কংগ্রেস ব্যবস্থা না নিলে ছয় বছরের মধ্যে লাখো সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীর অর্থপ্রদান ২২ শতাংশ কমে যেতে পারে।   ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের সঙ্গে যৌথভাবে বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। এর ফলে উচ্চ আয়ের মানুষদের কর্মসূচিতে আরও বেশি অর্থ দিতে হবে। একই সময়ে প্রতিনিধি পরিষদের অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির চেয়ারম্যান টম কোলও ট্যাক্সের হার এবং ট্যাক্সের আওতায় থাকা আয়ের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।   কোল বলেছেন, সোশ্যাল সিকিউরিটির সংকট সমাধানে বর্তমান আয়ের সীমা বা ট্যাক্সের হারের মধ্যেই আটকে থাকার প্রয়োজন নেই। তিনি ট্যাক্সের হার পরিবর্তন এবং ট্যাক্সের আওতায় থাকা আয়ের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনার পক্ষে। তার মতে, সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধা কমানোর রাজনৈতিক ক্ষতি ট্যাক্স বাড়ানোর তুলনায় আরও বড় হতে পারে। তহবিল ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে মানুষ নিজেদের প্রতারিত মনে করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।   সোশ্যাল সিকিউরিটি যুক্তরাষ্ট্রের ৭ কোটির বেশি মানুষকে মাসিক নগদ সুবিধা দেয়। এটি দেশটির ৭ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের ফেডারেল বাজেটের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি। চলতি বছর এই কর্মসূচিতে ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হওয়ার কথা। কর্মীরা ৬২ বছর বয়স থেকে সুবিধা নেওয়া শুরু করতে পারেন, আর পূর্ণ অবসর গ্রহণের বয়স ৬৭ বছর। কর্মসূচিটি বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়। কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়েই ৬ দশমিক ২ শতাংশ করে ট্যাক্স দেন।   বছরের পর বছর বার্ষিক ট্যাক্স সংগ্রহ সুবিধা প্রদানের ব্যয়ের চেয়ে বেশি থাকায় সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিলে উদ্বৃত্ত জমেছিল। কিন্তু বেবি বুম প্রজন্ম অবসরে যাওয়ার পর হিসাব বদলে গেছে। এখন সোশ্যাল সিকিউরিটি যে পরিমাণ ট্যাক্স সংগ্রহ করছে, তার চেয়ে বেশি অর্থ সুবিধা হিসেবে দিচ্ছে। ফলে ঘাটতি পূরণে তহবিলের সঞ্চিত অর্থ ব্যবহার করতে হচ্ছে।   বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিল ২০৩২ সালে শেষ হয়ে যেতে পারে। এরপর কর্মসূচিটিকে শুধু তখনকার সময়ে সংগৃহীত ট্যাক্সের ওপর নির্ভর করতে হবে। কংগ্রেস কোনো ব্যবস্থা না নিলে গড়ে মাসিক সুবিধা প্রায় ৪৪০ ডলার কমে যেতে পারে বলে বাইপার্টিজান পলিসি সেন্টারের হিসাব। সংস্থাটির হিসাবে, ২০৩৩ সালেই ঘাটতি পূরণ করতে ৪৫৯ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ ব্যয় কমানো অথবা নতুন রাজস্বের প্রয়োজন হবে। পরবর্তী বছরগুলোতে এই প্রয়োজন আরও বাড়বে।   মোরেনো ও ওয়ারেনের প্রস্তাবে উচ্চ আয়ের কর্মীদের পুরো আয়ের ওপর বেতনভিত্তিক সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স আরোপের কথা বলা হয়েছে। তাদের যুক্তি, মধ্যবিত্ত একজন নার্সের তুলনায় একজন ধনী করপোরেট আইনজীবী কেন নিজের আয়ের ছোট অংশে ট্যাক্স দেবেন, সেই প্রশ্নের সমাধান প্রয়োজন। তাদের উদ্ধৃত একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ রিপাবলিকান বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার পক্ষে।   দায়িত্বশীল ফেডারেল বাজেট কমিটির হিসাবে, উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য ট্যাক্সের সীমা তুলে দিয়ে তাদের সুবিধা না বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির ঘাটতির অর্ধেকেরও বেশি পূরণ করা সম্ভব হতে পারে। তবে জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের মারকাটাস সেন্টারের গবেষক চার্লস ব্লাহাসসহ কয়েকজন এই পদ্ধতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, এতে কর্মীদের দেওয়া ট্যাক্স এবং ভবিষ্যতে পাওয়া সুবিধার মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যেতে পারে।   ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে কেউ কেউ আরও বেশি ট্যাক্স আরোপের পক্ষে। রোড আইল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেলডন হোয়াইটহাউস বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের সীমা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি ধনী পরিবারের বিনিয়োগ আয়ের ওপর ট্যাক্স আরোপ এবং ব্যবসার মালিকদের ব্যক্তিগত ট্যাক্স কমানোর সুযোগ থাকা একটি ফাঁক বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। ২০২৩ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, তার প্রস্তাব অন্তত ৭৫ বছর সোশ্যাল সিকিউরিটির পুরো অর্থায়ন নিশ্চিত করার মতো রাজস্ব আনতে পারে।   পেনসিলভানিয়ার রিপাবলিকান প্রতিনিধি লয়েড কে. স্মাকারও সোশ্যাল সিকিউরিটির সমাধানে অতিরিক্ত ট্যাক্স রাজস্বের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন। তিনি বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের মাধ্যমে কর্মসূচিতে আসা অর্থের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি ধনীদের জন্য সুবিধা কমিয়ে এবং নিম্ন আয়ের অবসরপ্রাপ্তদের সুরক্ষিত রাখার জন্য আয়ভিত্তিক সুবিধা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছেন।   তবে রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্যাক্স বাড়ানোর বিরোধিতা এখনো রয়েছে। আমেরিকানস ফর ট্যাক্স রিফর্মের প্রতিষ্ঠাতা গ্রোভার নরকুইস্ট মনে করেন, রিপাবলিকানদের ব্যয় কমানোর দাবিতেই থাকা উচিত। তার মতে, ট্যাক্স বাড়ানোর পক্ষে গেলে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষুব্ধ ভোটারদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে পারেন রিপাবলিকানরা।   সোশ্যাল সিকিউরিটি সংকট মোকাবিলায় ট্যাক্স বাড়ানোর ধারণা নতুন নয়। ১৯৮৩ সালে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান এবং ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার টিপ ও'নিল কর্মসূচিটিকে তৎকালীন দেউলিয়াত্বের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে বেতনভিত্তিক ট্যাক্স বাড়ানো এবং ধীরে ধীরে অবসর গ্রহণের বয়স বাড়ানোর মতো পদক্ষেপে একমত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়েও ট্যাক্সের সীমা বাড়ানো ও সুবিধা কমানোর বিভিন্ন প্রস্তাব সামনে এসেছে।   সোশ্যাল সিকিউরিটি সংস্কারের আলোচনায় হোয়াইট হাউসের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। কোল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কর্মসূচিটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্প কীভাবে প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানাননি। তিনি বলেছেন, তার নেতৃত্বে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থপ্রদানে কোনো কমতি হবে না।   সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহারের আহ্বান নিউসমের
ক্যালিফোর্নিয়ার শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহারের আহ্বান নিউসমের

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সাধারণত ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা গেলেও, শিশুদের ভবিষ্যতের প্রশ্নে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসম।   সম্প্রতি অঙ্গরাজ্যটির শিশুদের শিক্ষা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য তিনি 'ক্যালিফোর্নিয়া গোল্ডেন স্টার্ট চ্যালেঞ্জ' নামের একটি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো 'ক্যালকিডস' (CalKIDS) প্রোগ্রামের প্রচার ও প্রসারে কাজ করা, যার মাধ্যমে যোগ্য শিশুরা তাদের উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সর্বোচ্চ দেড় হাজার ডলার পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে। ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব অর্থায়নে এই যুগান্তকারী কর্মসূচিটি চালু করা হয়েছিল।   সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ক্যালিফোর্নিয়ার এই কর্মসূচির পাশাপাশি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চালু করা ফেডারেল 'ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট' ব্যবহারেরও জোরালো প্রচার চালাচ্ছেন নিউসম।   সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে ট্রাম্পের এই উদ্যোগের প্রশংসাও করেন তিনি। নিউসম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই বিষয়গুলো কোনো দলীয় রাজনীতির অংশ নয়। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তিনি বলেন, ট্রাম্প অ্যাকাউন্টের অর্থ ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কোনো অর্থ নয়, বরং এটি নাগরিকদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা।   বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার ৬০ লাখেরও বেশি ক্যালকিডস অ্যাকাউন্টের জন্য ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থায়ন করেছে, তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ১০ লাখ পরিবার এই তহবিলের সুবিধা গ্রহণ করেছে।   গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের এই উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হলেও কিছু সমালোচনাও রয়েছে। প্যাসিফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ল্যান্স ইজুমির মতো বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (K-12) পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সঞ্চয় অ্যাকাউন্টের (ESA) ক্ষেত্রে নিউসম কেন বরাবরই বিরোধিতা করেন।   ক্যালিফোর্নিয়ার অনেক পাবলিক স্কুল শিশুদের মৌলিক শিক্ষা প্রদানে পিছিয়ে পড়ায় কম বয়সেই এই ধরনের সঞ্চয় অ্যাকাউন্টের সুবিধা দেওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।   তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন এখন সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের নেতাদেরও ক্যালকিডস এবং ফেডারেল অ্যাকাউন্টগুলোতে অনুদান প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন কর্মীদের চাকরি রক্ষায় এইচ-১বি ভিসা বাতিলের জোরালো দাবি তুললেন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান
মার্কিন কর্মীদের চাকরি রক্ষায় এইচ-১বি ভিসা বাতিলের জোরালো দাবি তুললেন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য বহুল প্রচলিত এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসা প্রোগ্রাম পুরোপুরি বাতিল করার দাবি ফের জোরদার হয়েছে। ফক্স নিউজের উপস্থাপিকা লরা ইনগ্রাহাম এবং ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্রেগ স্টিউবি সম্প্রতি এই ভিসা বাতিলের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন।   তাদের অভিযোগ, এই ভিসা ব্যবস্থার কারণে আমেরিকান কর্মীরা চাকরি হারাচ্ছেন এবং দেশীয় শ্রমিকদের স্বার্থ চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এরই মাঝে মার্কিন প্রশাসন এইচ-ওয়ানবি ভিসাকে আরও ব্যয়বহুল করতে নতুন এক বিশাল ফি আরোপের পথে হাঁটছে।   ফক্স নিউজের ‘দ্য ইনগ্রাহাম অ্যাঙ্গেল’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে গ্রেগ স্টিউবি জানান, তার প্রস্তাবিত বিলটি পাস হলে এইচ-ওয়ানবি প্রোগ্রামটি একেবারে বাতিল হয়ে যাবে।   প্রমাণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি ও বিনোদন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। স্টিউবি উল্লেখ করেন, মাইক্রোসফট ১৬ হাজার আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করার পর এইচ-ওয়ানবি ভিসায় ৯ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দিয়েছে।   একইভাবে, ডিজনি ২৫০ জন আমেরিকানকে চাকরিচ্যুত করে উল্টো তাদের দিয়েই এইচ-ওয়ানবি ভিসায় আসা নতুন বিদেশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে বাধ্য করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।   দেশীয় শ্রমিকদের এই শোষণের অবসান ঘটাতে স্টিউবি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ‘এক্সাইল অ্যাক্ট’ (EXILE Act) নামের একটি বিল উত্থাপন করেছেন। এদিকে লরা ইনগ্রাহাম স্মরণ করিয়ে দেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ২০১৬ সালে দায়িত্ব গ্রহণের আগে এই ভিসা বাতিল করার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রেখেছিলেন।   আইনপ্রণেতাদের এই ভিসা বাতিলের দাবির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এইচ-ওয়ানবি ভিসার জন্য নতুন একটি বিশাল ফি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে।   প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ক্যাপ-সাবজেক্ট অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোটার আওতাভুক্ত প্রতিটি এইচ-ওয়ানবি পিটিশনের জন্য আবেদনকারীকে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ মার্কিন ডলার ফি প্রদান করতে হবে। এই ফি বিদ্যমান অন্যান্য স্বাভাবিক চার্জের অতিরিক্ত হিসেবে ধার্য করা হবে।   ডিএইচএস-এর অনুমান, বার্ষিক ৮৫ হাজার ক্যাপ-সাবজেক্ট পিটিশনের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন ফি থেকে সরকারের প্রতি বছর প্রায় ৮.৮ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় হবে। এই প্রস্তাবের বিষয়ে আগামী ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জনসাধারণের মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।   এই প্রস্তাবনা এইচ-ওয়ানবি ভিসা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। ভিসা ব্যবস্থার সমর্থকরা মনে করেন, এই প্রোগ্রামটি মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশেষায়িত দক্ষ কর্মী নিয়োগে সাহায্য করে।   অন্যদিকে, সমালোচকদের দাবি, কোম্পানিগুলো সস্তায় কর্মী নিয়োগের জন্য এই ভিসার অপব্যবহার করছে এবং দেশীয় শ্রমিকদের প্রতিস্থাপন করছে। প্রশাসনের এই বিপুল ফি আরোপের প্রস্তাব এবং কংগ্রেসের ভিসা বাতিলের প্রচেষ্টা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর দুটি ভিন্ন রূপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ছবি: সংগৃহীত
ভোটাররা রিপাবলিকানদের ওপর ক্ষুব্ধ, আমার ওপর নয়,নিজের জনপ্রিয়তায় ধাক্কার ব্যাপার এড়িয়ে গেলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রিপাবলিকানদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দলের প্রতি ভোটারদের ক্ষোভ থাকলেও সেই ক্ষোভ তার বিরুদ্ধে নয় বলে দাবি করেছেন তিনি।   মিডটার্ম নির্বাচনের আর প্রায় তিন মাস বাকি। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ট্রাম্প ও তার মিত্ররা দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের নীতির সমালোচনাও করছেন।   তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে তার অনুমোদন ৩৫ শতাংশ, এপি/নরকের জুলাইয়ের জরিপে ৩৩ শতাংশ এবং কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে।   এরপরও Punchbowl News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ভোটাররা রিপাবলিকানদের ওপর খুবই ক্ষুব্ধ। কিন্তু তারা আমার ওপর ক্ষুব্ধ নয়।”   ট্রাম্পের দাবি, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে ভোটারদের অসন্তোষ থাকলেও তিনি নিজে সেই ক্ষোভের বাইরে রয়েছেন।   তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, ক্ষমতাসীন দলের জন্য মিডটার্ম নির্বাচন ঐতিহাসিকভাবেই কঠিন। গত ৮০ বছরে মাত্র দুইবার প্রেসিডেন্টের দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে আসন বাড়াতে পেরেছে।   ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতও রিপাবলিকানদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও দলের ভেতরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   এর মধ্যেই রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে নেমেছেন ট্রাম্প। তার লক্ষ্য, কংগ্রেসে দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা।   কঠিন পরিস্থিতি স্বীকার করলেও নির্বাচনের ফল নিয়ে আশাবাদী ট্রাম্প। তার ভাষায়, “আমি মনে করি, আমরা জিতব।”

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসে মার্কিন আইনপ্রণেতার তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন
টেক্সাসে মার্কিন আইনপ্রণেতার তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ম্যাকিনিতে একটি নতুন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা বা কংগ্রেসম্যান কিথ সেলফ। তিনি ম্যাকিনি সিটি কাউন্সিলের কাছে ৫ দশমিক ৫ একর জায়গার ওপর ‘ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন অব ম্যাকিনি’-এর এই জোনিং আবেদনটি বাতিল করার জোর দাবি জানান। তবে তার এই কড়া বিরোধিতা এবং বিভিন্ন উসকানিমূলক অভিযোগ সত্ত্বেও সিটি কাউন্সিল সর্বসম্মতভাবে মসজিদ নির্মাণের পক্ষেই রায় দিয়েছে। কাউন্সিল সদস্যদের মতে, মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাবটি শহরের সব নিয়মকানুনের সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ।   সিটি কাউন্সিলের শুনানিতে কিথ সেলফ তথাকথিত ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’ বা রাজনৈতিক ইসলাম এবং শরিয়া আইনকে স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কাউন্সিল সদস্যদের সতর্ক করে তিনি দাবি করেন যে, বাল্যবিবাহ বা অনার কিলিংয়ের মতো ঘটনা এখানে ঘটবে না—এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই। তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় কোনো বাহিনী স্থানীয়দের বাঁচাতে আসবে না। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যে ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর মাধ্যমে নির্যাতনের কিছু অভিযোগও তুলে ধরেন, যেখানে তিনি প্রায় আড়াই লাখ ভুক্তভোগীর কথা উল্লেখ করেন। তবে সরকারি বা নির্ভরযোগ্য কোনো নথিতে তার এই পরিসংখ্যানের সত্যতা যাচাই করা যায়নি।   ভার্জিনিয়া পার্কওয়ে এবং ক্রুচার ক্রসিংয়ের কাছাকাছি প্রস্তাবিত এই মসজিদটি নিয়ে ২০২৪ সাল থেকেই বিতর্ক চলে আসছিল। শুরুতে যানজট এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে কিছু উদ্বেগ থাকলেও পরবর্তীতে অ্যাসোসিয়েশন তাদের নকশা পরিবর্তন করে এবং যানজট ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নিজস্ব সমীক্ষা চালায়। মূলত উত্তর টেক্সাসে মুসলিম সম্প্রদায়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে রাজনৈতিক মহলের নজরদারি এবং রিপাবলিকান নেতাদের একাংশের কট্টর অবস্থানের কারণেই এই বিতর্ক বড় আকার ধারণ করে। এমনকি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মসজিদটির নির্ধারিত স্থানে লাগানো একটি সাইনবোর্ডে বড় আকারের ক্রস চিহ্ন এঁকে এবং যিশু খ্রিস্টের নাম লিখে তা ভাঙচুর করার ঘটনাও ঘটেছিল।   শুনানিতে দেড় শতাধিক মানুষের দীর্ঘ মন্তব্য ও কিথ সেলফের মতো প্রভাবশালী রাজনীতিকের সরাসরি হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও ম্যাকিনি সিটি কাউন্সিল এই প্রকল্পটির জোনিং আবেদনটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করে। সিটি কাউন্সিলের সদস্য জাস্টিন বেলার এই প্রকল্প ঘিরে রাজনৈতিক বাগাড়ম্বরের তীব্র সমালোচনা করেন। বিষয়টিকে ‘নির্বাচনি বছরে ভীতি ছড়ানোর অপকৌশল’ হিসেবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মানুষকে আলাদা করে বা বিভাজন তৈরি করে ক্ষমতা লাভের চেষ্টা অত্যন্ত সস্তা একটি উপায়। জোনিং আবেদনটি পাস হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ভবিষ্যতে প্রতিটি ধাপে আলাদাভাবে ভবন নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমতি নিতে হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
দশ বছরে প্রথমবার অর্থনীতিতে রিপাবলিকানদের ছাড়িয়ে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি বেশি আস্থা মার্কিন ভোটারদের

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো অর্থনীতি পরিচালনায় রিপাবলিকান পার্টির চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। রয়টার্স ও ইপসোসের সর্বশেষ জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, অর্থনীতি সামলানোর ক্ষেত্রে ৩৭ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের ওপর আস্থা রাখছেন, যেখানে রিপাবলিকানদের প্রতি আস্থা ৩৬ শতাংশের। আরও ২৭ শতাংশ কোনো পক্ষকে বেছে নেননি বা অন্য মত দিয়েছেন।   জরিপে আরও দেখা গেছে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটরা জাতীয় পর্যায়ে রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৪২ শতাংশ, আর রিপাবলিকানদের ৩৭ শতাংশ। স্বতন্ত্র (ইন্ডিপেনডেন্ট) ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছে।   জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদন (অ্যাপ্রুভাল) রেটিং কমে ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম সর্বনিম্ন। মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।   এটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনীতি ইস্যুতে রিপাবলিকানরা জনমত জরিপে এগিয়ে থাকত। রয়টার্স/ইপসোসের এই ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেই প্রবণতায় পরিবর্তন আসছে এবং অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের মনোভাব নতুন দিকে মোড় নিচ্ছে।    জরিপটি ৩০ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজার ৫০৫ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে পরিচালিত হয়। এর সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ±২ শতাংশ।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন কংগ্রেসে প্রবীণ রাজনীতিকদের আধিপত্যে অসন্তুষ্ট ভোটাররা, তরুণ নেতৃত্ব চান ৫৮% মার্কিনি I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মার্কিন কংগ্রেসে প্রবীণ রাজনীতিকদের আধিপত্যে অসন্তুষ্ট ভোটাররা, তরুণ নেতৃত্ব চান ৫৮% মার্কিনি

৭১ বছর বয়সী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সাম্প্রতিক মৃত্যু এবং ৮৪ বছর বয়সী সিনেটর মিচ ম্যাককনেলের অসুস্থতার পর মার্কিন রাজনীতিতে প্রবীণ নেতাদের বয়স নিয়ে চলমান বিতর্ক আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত জুনে পড়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং পরবর্তীতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে ম্যাককনেল ভোটদান থেকে বিরত রয়েছেন। বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেস দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বয়স্ক কংগ্রেসে পরিণত হয়েছে। সিএনএনের এক নতুন জরিপে দেখা গেছে, কংগ্রেসের এমন প্রবীণ জনসংখ্যাকে দেশের বেশিরভাগ মানুষ একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন এবং তারা নির্বাচিত কর্মকর্তাদের শারীরিক সুস্থতার বিষয়ে আরও বেশি স্বচ্ছতা দাবি করছেন।   আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচন মার্কিন ভোটারদের জন্য কংগ্রেসের এই বয়স কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলার একটি বড় সুযোগ হতে পারে। সিএনএনের জরিপ অনুযায়ী, ৫৮ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন কংগ্রেসের বয়স্ক আইনপ্রণেতাদের এই আধিক্য একটি বড় সমস্যার কারণ। ৩৫ বছরের কম বয়সী নাগরিকদের মধ্যে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৬৮ শতাংশ। এছাড়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নাগরিক মনে করেন, নির্বাচিত কর্মকর্তাদের এমন সব মেডিকেল তথ্য প্রকাশ করা উচিত যা তাদের দায়িত্ব পালনে প্রভাব ফেলতে পারে। যেখানে ২০০৪ সালে ৬১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করত যে প্রেসিডেন্টদের মেডিকেল রেকর্ড গোপন রাখার অধিকার রয়েছে, সেখানে বর্তমানে মাত্র ৩৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে রাজনৈতিক নেতাদের তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখার অধিকার রয়েছে।   রাজনীতিতে প্রবীণদের আধিপত্য নিয়ে অসন্তোষ এখন দলীয় সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। জরিপে দেখা গেছে, উভয় প্রধান দলের ৭০ শতাংশ সমর্থকই ৭০ বছরের বেশি বয়সী কাউকে দলের প্রার্থী হিসেবে দেখলে অস্বস্তি বা হতাশা প্রকাশ করবেন। গত জুলাইয়ে ফক্স নিউজের এক জরিপে দেখা যায়, ৮৫ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার আইনপ্রণেতাদের জন্য একটি বাধ্যতামূলক অবসরের বয়স নির্ধারণের পক্ষে মত দিয়েছেন এবং তাদের অর্ধেকই চান এই বয়সসীমা ৭০ বছরের নিচে হোক। বর্তমানে কংগ্রেসের এক-তৃতীয়াংশের বেশি সিনেটরের বয়স ৭০-এর ঊর্ধ্বে। আসন্ন নভেম্বরের নির্বাচনে ২০ জন বর্তমান সিনেটর পুনরায় লড়ছেন, যাদের বয়স ৩৯ থেকে ৮৩ বছরের মধ্যে। যদি তারা সবাই জয়ী হন, তবে ২০৩৩ সালে তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় অর্ধেকের বেশি সিনেটরের বয়স ৭০ ছাড়িয়ে যাবে। তবে আশার বিষয় হলো মিচ ম্যাককনেল, ডিক ডারবিন (৮১) এবং জিন শাহিন (৭৯)-এর মতো কয়েকজন প্রবীণ সিনেটর এ বছরই অবসর নিচ্ছেন।   সাধারণ মার্কিন জনসংখ্যার সঙ্গে কংগ্রেসের বয়সের এই ব্যবধান বেশ স্পষ্ট। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী হাউসের সদস্যদের বয়স অন্তত ২৫ এবং সিনেটরদের বয়স অন্তত ৩০ হতে হয়, যার ফলে কংগ্রেসের গড় বয়স স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বেশি থাকে। তবে ২০২৫ সালের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, যেখানে মাত্র ১৯ শতাংশ সাধারণ আমেরিকানের বয়স ৬৫ বছরের বেশি, সেখানে বর্তমান মার্কিন সিনেটরদের গড় (মিডিয়ান) বয়স ৬৬ বছর। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক সিনেটরই ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে অবস্থান করছেন। বর্তমানে ৯২ বছর বয়সী আইওয়ার রিপাবলিকান সিনেটর চাক গ্রাসলি হলেন সিনেটের সবচেয়ে বয়স্ক সদস্য। প্রেসিডেন্ট প্রো টেম্পোর হিসেবে তিনি প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকারের সারিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন, যা গত মে মাসে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনার সময় তার অনুপস্থিতির কারণে নতুন করে আলোচনায় আসে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
Donald Trump listens as Mehmet Oz speaks
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ধাক্কা, গুরুত্বপূর্ণ চার লড়াইয়ে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ চারটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ে রিপাবলিকানদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। নতুন জরিপের গড় ফলাফলে দেখা গেছে, এপ্রিল মাসে যেখানে রিপাবলিকানরা এগিয়ে ছিল, জুলাইয়ে সেখানে ভোটের সমীকরণ বদলে গেছে।   ভোটহাব (VoteHub)-এর ২১ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপ বিশ্লেষণে দেখা যায়, আইওয়া, মিশিগান ও ওহাইওর সিনেট নির্বাচনের পাশাপাশি ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এখন গড় হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন।   আইওয়ায় রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসনের বিপরীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেক এখন সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। এপ্রিলে রিপাবলিকানদের গড়ে ০.৭ শতাংশের লিড থাকলেও জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ০.৫ শতাংশের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।   মিশিগানে অবসর নেওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসন ঘিরেও পাল্টেছে পরিস্থিতি। এপ্রিলে রিপাবলিকানদের গড়ে ১.৯ শতাংশ এগিয়ে থাকার চিত্র থাকলেও জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটদের গড় লিড দাঁড়িয়েছে ১.৮ শতাংশ।   ওহাইওর সিনেট নির্বাচনেও রিপাবলিকানদের প্রাথমিক সুবিধা হারিয়ে গেছে। এপ্রিলের গড়ে রিপাবলিকানরা ০.৩ শতাংশ এগিয়ে থাকলেও সর্বশেষ জরিপে ডেমোক্র্যাটরা ০.৯ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। একইভাবে ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে এপ্রিলের সামান্য রিপাবলিকান লিড জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটদের ০.৯ শতাংশের গড় ব্যবধানে রূপ নিয়েছে।   তবে জরিপে এগিয়ে থাকলেও বাজিভিত্তিক নির্বাচনী পূর্বাভাস প্লাটফর্মগুলোর মূল্যায়ন ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। কালশি ও পলিমার্কেট -এর মতো পূর্বাভাস বাজার এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি দেখাচ্ছে, বিশেষ করে আইওয়া ও ওহাইওর কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে। অন্যদিকে মিশিগান সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনাই বেশি বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ের ভোটের চিত্র খুব বেশি পরিবর্তিত না হলেও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে ভোটারদের মনোভাব বদলাতে শুরু করেছে। ফলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত মিলছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০