- প্রচ্ছদ
- Topic
রিয়াদ
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সম্ভাব্য বিপদের সতর্কবার্তা জারি করেছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সামরিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে এই সতর্কতা জারি করা হয়। জাতীয় জরুরি আগাম সতর্কতা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় বাসিন্দাদের কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ এবং নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ২০২৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার জারি করা ওই সতর্কবার্তায় বিপদের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, রিয়াদ ও রাজধানীর কাছের আল-খারজ এলাকায় বিপদ কেটে গেছে। তবে সতর্কতার সময় রিয়াদের আকাশে বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায় এবং প্রধান বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় ধোঁয়া দেখা যায় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। সতর্কবার্তাটি এমন এক সময়ে আসে, যখন সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হা মলার আশঙ্কা বাড়ছিল। ইয়েমেনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী সৌদি আরবের রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে হা মলার দাবি করেছে। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো, বিমানবন্দর এবং লোহিত সাগরসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও নিরাপত্তা উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে অক্টোবরে হা মলার নতুন ঢেউয়ের পর। ১৭ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হুথিরা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হা মলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর স্থাপনাও রয়েছে। এসব ঘটনায় প্রাণহানি ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির জনবহুল উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ২০১৪ সালে সানা দখলের পর থেকে গোষ্ঠীটির সঙ্গে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের সরকারপন্থী বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে আসছে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন নয়; তবে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হা মলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তার মূল উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য বিপদের সময় বাসিন্দাদের নিরাপদ রাখা। এ ধরনের বার্তা পেলে নিরাপদ ভবন বা কক্ষের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া, জানালা থেকে দূরে থাকা এবং পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সতর্কবার্তা জারি হওয়া মানেই নির্দিষ্ট এলাকায় হা মলা হয়েছে—এমন নয়। কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ভিত্তিতেই বিপদের প্রকৃতি ও পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা নির্ধারণ করা জরুরি।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে ধারাবাহিক আ ক্র ম ণের পর যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা থেকে সৌদি আরবে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে ডেল্টা এয়ারলাইনস। চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট চালুর কথা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে ২০২৭ সালের মার্চে। তবে মার্চের ঠিক কোন তারিখে ফ্লাইট চালু হবে, তা এখনো জানায়নি এয়ারলাইনসটি। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডেল্টা। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি রাজধানীর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নি হ ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক শ মানুষ। পরিস্থিতির কারণে বিমান চলাচল ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডেল্টা জানিয়েছে, অঞ্চলটির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ফ্লাইট চালুর সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া, রিয়াদ এয়ার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে তারা। আটলান্টা থেকে রিয়াদে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনাটি ডেল্টার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালে সৌদি আরবের নতুন বিমান সংস্থা রিয়াদ এয়ারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ঘোষণা দিয়েছিল ডেল্টা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। রুটটি চালু হলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো এয়ারলাইনসের মাধ্যমে সৌদি আরবে সরাসরি যাত্রী পরিবহনের নতুন সুযোগ তৈরি হতো। তবে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ এখন এই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার হুতি বিদ্রোহীরা কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানায়। একই সঙ্গে মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দর ছাড়া সৌদি আরবের অন্য বিমানবন্দরগুলোকে অনিরাপদ বলে সতর্ক করে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোকে। এমন হুমকির পর বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ফ্লাইটের তারিখ পরিবর্তনের কারণে যেসব যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রভাবিত হয়েছে, তাদের বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ডেল্টা। যাত্রীরা এয়ারলাইনসটির ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ দেখতে পারবেন। প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী, টিকিট বাতিল করে অর্থ ফেরত নেওয়া অথবা ভবিষ্যৎ ভ্রমণের জন্য ক্রেডিট পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। যাত্রার তারিখ ও টিকিটের শর্ত অনুযায়ী সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। ডেল্টার প্রকাশিত ভ্রমণ-সংক্রান্ত নির্দেশনায় ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত রিয়াদগামী, রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া কিংবা রিয়াদ হয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সুযোগের কথা বলা হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী যাত্রীরা অতিরিক্ত ফি ছাড়াই ফ্লাইট পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে যাত্রীরা টিকিট পরিবর্তন বা বাতিল করার আগে ডেল্টার সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো এয়ারলাইনস সৌদি আরবে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে না। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসির বাইরের ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং লস এঞ্জেলেস থেকে সৌদি আরবে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে। ফলে ডেল্টার পরিকল্পিত আটলান্টা-রিয়াদ রুটটি চালু হলে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগে নতুন একটি সংযোগ যুক্ত হতো। ফ্লাইট চালুর সময় পিছিয়ে গেলেও সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়নি ডেল্টা। তবে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তার ওপর নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা নির্ভর করবে। আপাতত যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্ধারিত তারিখে ফ্লাইট চালু হচ্ছে না এবং নতুন সময়সূচি অনুযায়ী যাত্রার পরিকল্পনা করতে হবে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের প্রবাসী শাহেদ আহম্মেদ। শনিবার (১০ অক্টোবর) কর্মস্থলে ফেরার পথে বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন তিনি। রিয়াদে পৌঁছে স্ত্রী কাকলি বেগমকে জানিয়েছিলেন, জেদ্দায় পৌঁছানোর পর আবার ফোন করবেন। কিন্তু সেই ফোন আর আসেনি। পরদিন পরিবার তাঁর মৃত্যুর খবর পায়। রোববার (১১ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করে। তাঁদের একজন শাহেদ আহম্মেদ। অন্যজন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের নাসরুল্লাহ বদরপুরি। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তখন সেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন। পরিবারের বরাতে কালবেলা জানিয়েছে, রিয়াদে পৌঁছানোর পর শাহেদ স্ত্রীকে ফোন করে নিজের অবস্থানের কথা জানান। সেখান থেকে জেদ্দায় যেতে আরও প্রায় দেড় ঘণ্টা লাগবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। জেদ্দায় পৌঁছে আবার যোগাযোগ করার কথা ছিল। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি স্বজনেরা। শাহেদের স্বজন মাসুম রানা জানান, প্রায় এক মাস দেশে ছুটি কাটিয়ে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় নিজের কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল। পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে ফিরে যাওয়ার এই যাত্রাপথেই হামলার শিকার হন শাহেদ। এখন তাঁর মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন স্ত্রী ও স্বজনেরা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাহেদের বয়স ৩২ বছর। তিনি মাদলা গ্রামের রফিকুল ইসলাম মিঠু ও শাহেরা বেগমের ছেলে। তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন। প্রায় দুই বছর আগে শাহেদও সেখানে যান। তাঁর মা ওমরাহ পালনের জন্য বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। দেশে রয়েছেন স্ত্রী এবং দুই ছেলে কাউছার ও আব্দুল্লাহ। তাঁদের বয়স যথাক্রমে ১১ ও ৬ বছর। শাহেদের মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর মাদলা গ্রামের বাড়িতে শোক নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা চান। শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমান আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছেন, সরকারি খরচে মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি নিজেও খোঁজ রাখছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে শাহেদের কর্মস্থল সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায়। তিনি সাদ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানির জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ছুটি শেষে রিয়াদ হয়ে সেই কর্মস্থলেই ফিরছিলেন। একই প্রতিবেদনে জানানো হয়, হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসাধারী। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জানিয়েছে, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। বিমানবন্দরে হামলার পর আটকে পড়া বাংলাদেশি যাত্রীদেরও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিহত অন্য বাংলাদেশি নাসরুল্লাহ বদরপুরিও রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জানান, নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ সরকার বহন করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সৌদি কর্তৃপক্ষ ও নিহতদের নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। হামলায় বাংলাদেশিদের প্রাণহানির ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শাহেদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। শনিবার, ১০ অক্টোবরের এই হামলায় নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ রোববার হতাহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত ১২ জনের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক। এ ছাড়া বাংলাদেশি দুই নাগরিকের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের একজন করে নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করেছে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে। হামলায় বিমানবন্দরের স্থাপনায়ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিমাণ নির্ধারণে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। হামলার কারণে যাত্রীদের চলাচল ও বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। এই হামলার জন্য ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিমানবন্দরে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, বেসামরিক বিমানবন্দর ও যাত্রীদের লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তবে হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও দায় স্বীকারের তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। একই সপ্তাহে সৌদি আরবের বিমান চলাচল অবকাঠামোতে একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। ফলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। রিয়াদের বিমানবন্দরে সর্বশেষ হামলায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকের প্রাণহানি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয়, তাঁদের পরিবারের কাছে খবর পৌঁছানো এবং আহত বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন কি না—এসব বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে। সূত্র: সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, আল জাজিরা ও সৌদি গেজেট।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন মো. আলমগীর ও মো. ফরহাদ। তাদের দুজনের বাড়িই গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ এলাকায়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে ঠিক কোন স্থানে, কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে এবং এতে অন্য কেউ আহত হয়েছেন কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। দুর্ঘটনার পর আলমগীর ও ফরহাদের মরদেহ রিয়াদের সুমাইসি হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে তাদের স্বজনদের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবরে তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এদিকে চলতি সেপ্টেম্বরেই সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় একাধিক বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে আল-খুরমা এলাকায় প্রবাসীদের বহনকারী একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ওই ঘটনায় চালকসহ চার বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের লামার তালুক গ্রামের আব্দুল করিম (করিম উদ্দিন নামেও উল্লেখ করা হয়েছে) ও খালিদ আহমদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছিল। তারা দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে জেদ্দা বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই তাদের বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। সর্বশেষ রিয়াদের দুর্ঘটনায় নিহত আলমগীর ও ফরহাদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া বা জানাজার বিষয়ে এখনো নির্ভরযোগ্যভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে দুর্ঘটনার কারণ ও মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।