জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি সরকারের কাছে সংবিধানের অংশ মানা হচ্ছে, আবার অংশ উপেক্ষিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, একই দিনে দুই ভোট হলেও আচরণ ভিন্ন। আপনি গোশত খাচ্ছেন, ঝোলটা হারাম বলছেন। জনগণ এত বোকা নয়, তারা সব বুঝে। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আয়োজিত এক আলোচনা সভায় শফিকুর রহমান বলেন, পরিবর্তিত বাংলাদেশে শাসক বদলালেও শোষণ থেমে যায়নি। আমরা চাই, দেশ গণতান্ত্রিক ট্রেনের মতো চলুক। তবে প্রশাসনিক পদে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে লোক বসানো হচ্ছে, যা সংবিধানবিরোধী। আমরা তা মেনে নিই না। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, আপনারা বলছেন সংবিধান মেনে চলব, কিন্তু ভোটের অধিকার জনগণের, আপনার নয়। যদি ভোটকে অগ্রাহ্য করার চেষ্টা করা হয়, দেশের মানুষ তার প্রতিকার নিতে প্রস্তুত। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও সামরিক বাহিনী জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে দমাতে চেয়েছিল। তারা খুন, লুণ্ঠন ও ধ্বংস চালালেও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা নিঃশেষ হয়নি। দেশের পতাকা ও মানচিত্রের মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে পারলে ভালো হতো, কিন্তু নেতৃত্বের ব্যর্থতা, লোভ ও দুর্নীতি তা ব্যাহত করেছে। দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শুধু টাকা হাতানোর জন্যই নয়, মানুষের অধিকার হরণ, অযোগ্যদের যোগ্য স্থানে বসানো এবং যোগ্যদের অবমাননা সবচেয়ে বড় দুর্নীতি। যতক্ষণ এটি সমাজ থেকে চলে যাবে না, স্বাধীনতার সুফল ভোগ সম্ভব নয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সবুর ফকির। সঞ্চালক ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। প্রধান অতিথি ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সভা শুরু হয় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর মহানগর শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক গান “এই দেশ আমার বাংলাদেশ” পরিবেশন করা হয়।
মহান স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি ২৬ মার্চ যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও দুঃশাসনমুক্ত একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা নিয়েই সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও দীর্ঘ সময় পরেও সেই লক্ষ্য পূরণে ঘাটতি রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। জামায়াত আমির আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান হয়েছে এবং পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশা—দেশে আর কোনো ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক বা ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি হবে না। তিনি বলেন, জনগণ চায় এমন একটি পরিবেশ, যেখানে তারা ভীতি ছাড়াই চলাফেরা ও মতপ্রকাশ করতে পারবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার কথাও বলেন। বিবৃতিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়নের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন এবং গণভোটে বিপুল সমর্থন থাকা সত্ত্বেও এর বাস্তবায়নে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সবশেষে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপিকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে পরিণতি ‘ফ্যাসিবাদীদের মতো’ হতে পারে। সোমবার মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা এলাকায় নিজ বাসভবনে গ্রামবাসী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে দেশের সাধারণ মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁদের সেই ত্যাগ ও প্রত্যাশা উপেক্ষা করা হলে তা কেউ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, অতীতে যারা অন্যায়-অত্যাচার করেছে, তাদের পরিণতি দেশের মানুষ দেখেছে—সেই বাস্তবতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জনগণের ট্যাক্সের অর্থে গড়ে ওঠা সম্পদের অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বা প্রশাসন জনগণের মালিক নয়, বরং তাদের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। জামায়াত আমীর অভিযোগ করেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কিছু গোষ্ঠী চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছে, যা জনগণ আর দেখতে চায় না। এ ধরনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যক্তিগত বিলাসিতা বা সুবিধা অর্জনের জন্য নয়; বরং জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা উচিত। নিজ দলের অবস্থান তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, তারা কোনো প্লট বা ট্যাক্সমুক্ত গাড়ির সুবিধা গ্রহণ করেননি এবং ভবিষ্যতেও তা করবেন না। নির্বাচন নিয়ে জনমনে থাকা প্রশ্নের কথাও তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভোট ও ফলাফলের মধ্যে অসামঞ্জস্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে এবং কিছু বেসরকারি সংস্থাও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরিবর্তন আসবে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
সংবিধান পরিবর্তন ও সংশোধনকে সময়ের দাবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই সংবিধান সময়ের প্রয়োজনে সংশোধন করা হয়, তাই জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকারকেও দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। রোববার সকালে সিলেট সার্কিট হাউস-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির, যিনি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাও। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে সেই প্রত্যাশার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। গণভোটের কিছু অংশ বাস্তবায়িত হলেও বাকি অংশ এখনো উপেক্ষিত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-কে ঘিরেও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে তাদের আপত্তি নেই, তবে বর্তমান ব্যক্তিকে নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তির অভাব নেই। সরকারের ইতিবাচক কাজকে সমর্থনের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, জনস্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। রাজনৈতিকভাবেই নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্রুত এ নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন এবং তার দল সে জন্য অপেক্ষা করছে। গত নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, তারা নির্বাচন বর্জন করেননি এবং ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যানও করেননি। তবে নির্বাচন নিয়ে টিআইবি ও সুজন-এর মতো সংগঠনের প্রতিবেদন পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক বলে উল্লেখ করেন তিনি। মতবিনিময় সভায় দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তিস্তা নদী সংশ্লিষ্ট মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন এগিয়ে এলে পূর্ণ সমর্থন দেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—এমনটাই জানিয়েছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের কল্যাণে প্রয়োজন হলে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতাও করবে তার দল। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনের আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও উপস্থিত ছিলেন। শফিকুর রহমান তিস্তা নদীকে ‘উত্তরাঞ্চলের কান্না’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সমাধান না হওয়ায় মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে। অতীতে কেন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি, তা সবার জানা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি ঝুলে থাকার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার ‘তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ গ্রহণ করে, যা ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ নামে পরিচিত। ২০১৬ সালে সমীক্ষার মাধ্যমে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন সময়ে চীন ও ভারত আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বড় অবকাঠামো চীনের সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করেই সহযোগিতা করে আসছে, যা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উদাহরণ। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি চীনের অর্থায়নে হাসপাতাল নির্মাণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সুবিধা তৈরির ঘোষণার কথাও উল্লেখ করেন।
সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিয়েছেন। শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনের ঢাকা লেডিস ক্লাবে জামায়াত ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি বলেন, বিরোধী দল হিসেবে আমরা আপনারা কণ্ঠের পাহারাদারি করব, তবে এই দায়িত্ব সরকারকেও দিতে হবে। শফিকুর রহমান বলেন, “জাতীয় ইস্যু ও স্বার্থে আমরা আপস করব না। বিএনপি জাতীয় স্বার্থে অনড় থাকলে জামায়াত পাশে থেকে শক্তি জোগাবে।” তিনি July অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের অর্জিত মুক্তি রক্ষা করতে জোর দেন এবং ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান। বিরোধীদলীয় নেতা সাংবাদিকতাকে রাষ্ট্রের ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, গত ১৫ বছরে দেশের সাংবাদিকরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলে যারা কণ্ঠ বলেছিল, তাদের দমন করা হয়েছিল। আমরা সেই ব্যর্থতা আর দেখতে চাই না। তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে আমরা আপনাদের কণ্ঠের পাহারাদারি করব। কিন্তু সরকারি দলও যদি একইভাবে দায়িত্ব পালন করে, তাহলে রাষ্ট্রের চার স্তম্ভ সঠিকভাবে কার্যকর হবে। ইফতার অনুষ্ঠানে জামায়াত ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, দেশ রূপান্তর সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, প্রবীণ সাংবাদিক সালাহউদ্দিন বাবর ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম সহ অন্যান্য বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি পদক্ষেপ। তিনি নিজেকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যদিও সংসদের স্পিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এখনো পাননি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদায়নের অনুরোধ জানান। চিঠিতে বলা হয়, এ ধরনের পদায়নের মাধ্যমে বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতি সরকারের কাছে উপস্থাপন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রচলিত কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। কারণ সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা আলাদা। বিরোধী দলের কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাকে সরাসরি সরকারি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব সেই বিভাজনকে অস্পষ্ট করে দিতে পারে। এই বিতর্ক অনেকের কাছে ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর গঠিত দশম জাতীয় সংসদের পরিস্থিতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তখন জাতীয় পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দল হলেও দলের কয়েকজন সদস্য একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে একই দলের সদস্যরা সরকার ও বিরোধী উভয় ভূমিকায় ছিলেন যা রাজনৈতিক অস্বাভাবিকতা হিসেবে আলোচিত হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক রিদওয়ানুল হক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে প্রশ্ন তুলেছেন, বিরোধী দলের নেতা যদি তার উপদেষ্টাকে সরাসরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগের প্রস্তাব দেন, তবে তা বিরোধী রাজনীতির ভূমিকাকে দুর্বল করতে পারে। বর্তমান বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ডা. শফিকুর রহমান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, বিরোধী দলের নেতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষমতা কেবল সংসদের স্পিকারের হাতে। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে স্পিকার বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং পরে তা সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। যদিও জামায়াতের সংসদীয় দল তাকে তাদের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে বলে জানা গেছে, তবে সেই সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে কার্যকর হয়নি। এই বিলম্বের অন্যতম কারণ হলো সংসদের শীর্ষ পদে শূন্যতা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর থেকে স্পিকারের পদটি শূন্য রয়েছে। একই সময়ে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার হওয়ায় তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। ফলে স্পিকার না থাকায় বিরোধী দলের নেতা স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও থেমে আছে। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ডা. শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর এটিই প্রথমবার কোনো জামায়াত প্রধানের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন বলে আলোচনা হয়। সেদিন তিনি নিজেকে “বিরোধী দলীয় নেতা” হিসেবে পরিচয় দেন এবং বলেন, এটি রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের অংশ হিসেবেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তবে স্পিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছাড়া এই দাবির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম জানিয়েছেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ইতোমধ্যে বৈঠকে নেতা, উপনেতা ও চিফ হুইপ নির্বাচন করেছেন। তবে স্পিকার না থাকায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ওই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর বিরোধী দলের নেতৃত্ব সম্পর্কিত বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হতে পারে। তাই রাজনৈতিকভাবে ডা. শফিকুর রহমান নিজেকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে উপস্থাপন করলেও আইনগত স্বীকৃতি পেতে তাকে এখনো সংসদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে অবিলম্বে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, চলমান উত্তেজনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রোববার (১ মার্চ) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামীর এই আমির। বার্তায় শফিকুর রহমান লেখেন, খামেনির মৃত্যুসংবাদে তিনি গভীরভাবে শোকাহত এবং শোকসন্তপ্ত ইরানি জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন ইরানের জনগণ এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ও শক্তি অর্জন করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ইতোমধ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়লে তা কেবল একটি দেশের নয়, সমগ্র অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। পবিত্র রমজান মাসে যেকোনো হামলা বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শফিকুর রহমান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি। বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘ ও বিশ্বনেতাদের কার্যকর ভূমিকা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অভিযোগ করেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট না নিয়ে, বরং নানা কৌশল ও ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছরে মানুষ অনেক পালাবদল দেখলেও ইসলামি আদর্শের সরকার দেখেনি। এবার যুবসমাজসহ দেশের ৬৯ শতাংশ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিলেও ডিজিটাল কারচুপি ও কায়দা করে ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে।” তিনি নির্বাচনী পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, অনেক কেন্দ্রে বিদ্যুৎ বন্ধ করে ভোটের ফল পরিবর্তন করা হয়েছে এবং জামায়াতের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে ‘সব ঘাটে শক্ত পাহারা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। কয়েকটি আসনের মধ্যেই সংসদে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, জনগণের ভোটের ন্যূনতম মর্যাদা রক্ষা করতে তারা সংসদে যাচ্ছেন। সেখানে নিজের স্বার্থ নয়, বরং জনগণের অধিকার আদায়ে কাজ করবেন। সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার প্রস্তাব সরকার অনুসরণ করেছে এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মরদেহ সরকারি খরচে আনার সিদ্ধান্তও স্বাগত জানান। মিরপুর-কাফরুল এলাকার ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি ঘোষণা করেন, “রমজানে কোনো চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। কেউ চাঁদা চাইলে আমাদের জানান, আমরা সরাসরি প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।” পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে দায়িত্ব পেলে মাসে একদিন সরাসরি জনগণের সঙ্গে মিলিত হয়ে সমালোচনা গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও দেন।
নির্বাচনী জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের রাজনীতিতে বইছে নতুন হাওয়া। সৌজন্য আর ইতিবাচক রাজনীতির বার্তা দিতে এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তেরোতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আগামীকাল তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সাথে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য: সাক্ষাতের সময়: আগামীকাল সন্ধ্যা ৭টায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় শফিকুর রহমানের বাসভবনে এবং রাত ৮টায় বাড্ডায় নাহিদ ইসলামের বাসভবনে যাওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। নিশ্চিত বার্তা: বিএনপির মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার বিবিসি বাংলাকে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উদ্দেশ্য: বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত ‘ইতিবাচক রাজনীতির অংশ’ হিসেবে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের পর শীর্ষ নেতাদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান আগামীর রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন দেশজুড়ে চলছে তুমুল আলোচনা।
চলমান পরিস্থিতিতে গুজবে কান না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান। ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান লিখেছেন, “প্রিয় দেশবাসী, লাইলাতুল গুজব চলছে। সবাই সাবধান, এই সমস্ত গুজবকে পাত্তাই দেবেন না। ইনশা আল্লাহ সত্যের বিজয় অবশ্যম্ভাবী।” তার এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। চলমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য এড়িয়ে সচেতন থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটগ্রহণের আভাস মিলেছে। বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের জরিপে অংশ নেওয়া ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দেবেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পিইপিএস) রাউন্ড-৩’ শীর্ষক এ জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জরিপের প্রধান ফলাফল উপস্থাপন করেন ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জরিপের প্রধান মো. রুবাইয়াত সারওয়ার। তিনি জানান, রাউন্ড-৩ জরিপে মূলত ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের ভোট প্রদানের ইচ্ছা এবং নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে জনমত তুলে ধরা হয়েছে। এই রাউন্ডটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে আগের রাউন্ডে অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের মতামতের পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে জনমত পরিবর্তিত হতে পারে। ভোটদানের ইচ্ছা জরিপে অংশ নেওয়া ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, তারা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দেবেন। আগের রাউন্ডে যারা ভোট দেবেন বলেছিলেন, তাদের মধ্যে ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ আবারও ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। যারা আগে ভোট দেবেন না বলেছিলেন, তাদের ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবার ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আর যারা আগে মতামত প্রকাশ করেননি, তাদের ৮৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবার ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। জেন জি প্রজন্মের মধ্যে ভোটদানের আগ্রহ তুলনামূলক কম হলেও সামগ্রিকভাবে হার এখনো বেশি। গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা ও মতামত প্রায় ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ২২ শতাংশ জানান, তারা গণভোটের বিষয়ে জানেন না। জনসংখ্যাগত ও রাজনৈতিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা ও মতামতে পার্থক্য দেখা গেছে। জরিপের রাউন্ড-২-এর প্যানেল তথ্যেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে ধারণা জরিপের রাউন্ড-৩-এ ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে—যা রাউন্ড-২-এর তুলনায় বেশি। স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আস্থা বেড়ে ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিয়ে ধারণার উন্নতি হয়েছে। ৮২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, তারা নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন। আগের রাউন্ডে এই হার ছিল ৭৮ শতাংশ। রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ে ধারণা জরিপের উত্তরদাতারা স্থানীয় ও জাতীয় পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য করেছেন। অনেকেই বলেছেন, তাদের এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাত বেশি নয়। তবে জাতীয় পর্যায়ে সংঘাত তুলনামূলক বেশি হচ্ছে বলে তাদের ধারণা। এলাকাভিত্তিক সম্ভাব্য বিজয়ী আগামীকাল নির্বাচন হলে নিজেদের এলাকায় কোন দলের প্রার্থী জিততে পারেন—এই প্রশ্নে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপি প্রার্থীর নাম বলেছেন। তবে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন। রাউন্ড-২-এর তুলনায় বিএনপির সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে উল্লেখের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ১ দশমিক ১ শতাংশ। ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে প্রত্যাশা জরিপে ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হবেন। ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। ২ দশমিক ৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী এনসিপির আহ্বায়ক ও ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের এক দফার ঘোষক নাহিদ ইসলামকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ২২ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা জানেন না ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী কে হবেন। এটি নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দেয়। ভোটের সিদ্ধান্ত ৭৪ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, তারা কোন দলকে ভোট দেবেন, সে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—যা আগের রাউন্ডগুলোর তুলনায় বেশি। তবে নারী উত্তরদাতাদের ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন। বিপরীতে পুরুষ উত্তরদাতাদের ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ জানান, তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভোট পছন্দের পরিবর্তন জরিপে রাউন্ড-৩ এবং আগের রাউন্ডগুলোর মধ্যে ভোট পছন্দে পরিবর্তন দেখা গেছে। সামগ্রিকভাবে বিএনপি তাদের মূল সমর্থন ধরে রেখেছে এবং আগের রাউন্ডে জামায়াত বা এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলা কিছু ভোটার থেকেও সমর্থন পাচ্ছে। যদিও বিএনপি থেকে জামায়াত এবং জামায়াত থেকে বিএনপিতে কিছু ভোট স্থানান্তর হয়েছে, তবু মোট হিসাবে জামায়াতের দিকেই নিট পরিবর্তন বেশি, যা তাদের বর্তমান ভোট ভাগে প্রভাব ফেলেছে। বিএনপি উল্লেখযোগ্যভাবে আওয়ামী লীগের ভোট থেকে লাভবান হচ্ছে। একই সঙ্গে রাউন্ড-৩-এ কিছু জামায়াত সমর্থক তাদের ভোট পছন্দ প্রকাশ করেননি। তুলনামূলকভাবে জামায়াতের ভোটব্যাংকে অস্থিরতা বিএনপির চেয়ে বেশি দেখা যায়। এছাড়া জামায়াত ও এনসিপির জোটের কারণে এনসিপির কিছু ভোট বিএনপির দিকে চলে গেছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগের ভোট বণ্টন আগের আওয়ামী লীগ ভোটারদের ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন। আর ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন। শেষ পর্যন্ত কারা কত ভোট পেতে পারে যারা তাদের ভোট পছন্দ জানিয়েছেন, তাদের মতে, বিএনপি ও তাদের জোট ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেতে পারে। জামায়াত ও তাদের জোট পেতে পারে ৩১ শতাংশ ভোট। ১৩ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের ভোট পছন্দ প্রকাশ করেননি। বিএনপির ভোট বাড়ার কারণ জরিপে দেখা যায়, আগে যারা সিদ্ধান্তহীন ছিলেন বা ভোট পছন্দ প্রকাশ করেননি, তাদের মধ্য থেকে বিএনপি জামায়াতের তুলনায় বেশি ভোট পেয়েছে। বিএনপির সম্ভাব্য ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটের মধ্যে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ এসেছে আগে সিদ্ধান্তহীন ও অনির্ধারিত ভোটারদের কাছ থেকে। জামায়াতের সম্ভাব্য ৩১ শতাংশ ভোটের মধ্যে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ এসেছে একই গোষ্ঠী থেকে। জরিপে আরও দেখা যায়, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সিদ্ধান্তহীন ভোটার বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন। জামায়াত ও এনসিপি জোটের প্রভাব বিএনপির প্রার্থীদের তুলনায় জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীদের সম্পর্কে ভোটারদের সচেতনতা তুলনামূলক কম। জামায়াত ও এনসিপি তুলনামূলকভাবে কিছু নির্দিষ্ট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, অথচ এই জরিপ জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত ফলাফল বিশ্লেষণ করেছে—এ কারণে ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভোটব্যাংকে অস্থিরতা রয়েছে এবং প্রচারণা কৌশলের ধরন অনুযায়ী বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে ব্যবধান কমে আসতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত আসন বণ্টনে প্রভাব ফেলতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ এম. শাহান, ভয়েস ফর রিফর্মের যুগ্ম আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক শফিকুল রহমান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ব্রেইনের সদস্য জ্যোতি রহমান এবং ইনোভেশন কনসালটিংয়ের পোর্টফোলিও ডিরেক্টর তাসমিয়া রহমান।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।