সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

শরণার্থী

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিবাসী পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিয়মে মেডিকেইড হারাচ্ছেন কিছু অভিবাসী, চিকিৎসার খরচ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ফেডারেল নিয়মের কারণে কিছু শ্রেণির বৈধ অভিবাসী সরকারি স্বাস্থ্যবিমা মেডিকেইডের পূর্ণ সুবিধা হারিয়েছেন। এতে শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং মানবপাচার ও পারিবারিক সহিংসতার শিকার কিছু মানুষের চিকিৎসার খরচ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ও যাঁদের নিয়মিত ব্যয়বহুল চিকিৎসা প্রয়োজন, তাঁদের পরিবারগুলো বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছে। ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু অ-মার্কিন নাগরিকের জন্য মেডিকেইড এবং শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সব বৈধ অভিবাসী কিংবা বাংলাদেশি প্রবাসীর স্বাস্থ্যবিমা বন্ধ হয়ে গেছে—এমন ধারণাও সঠিক নয়। কারা সুবিধা পাবেন, তা নির্ভর করে তাঁদের অভিবাসন-অবস্থা, বয়স, গর্ভাবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নিয়মের ওপর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ২০২৫ সালের কর ও সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত আইনের আওতায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার পরিষেবা কেন্দ্র ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল অঙ্গরাজ্যগুলোকে নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয়। এরপর ১ অক্টোবর থেকে বিধিনিষেধ কার্যকর হয়। মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের যোগ্য ব্যক্তি ও পরিবারকে চিকিৎসার খরচ মেটাতে সহায়তা করে। কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকার যৌথভাবে এই কর্মসূচির অর্থায়ন করে। চিকিৎসকের পরামর্শ, হাসপাতালে ভর্তি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বহনে অনেক পরিবার এই সুবিধার ওপর নির্ভর করে। ফলে যোগ্যতা হারালে তাঁদের নিজস্ব আয় থেকে চিকিৎসার খরচ জোগানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। নতুন নিয়মে শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী, মানবপাচারের শিকার এবং পারিবারিক সহিংসতার শিকার কিছু ব্যক্তি সুবিধা হারিয়েছেন। তবে প্রত্যেকের অভিবাসন-অবস্থা আলাদা হওয়ায় সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। গ্রিন কার্ডধারীদের ক্ষেত্রেও এই নির্দিষ্ট পরিবর্তন একইভাবে প্রযোজ্য নয়। তাঁদের স্বাস্থ্যবিমার যোগ্যতা নির্ধারণে অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হয়। কত মানুষ এই পরিবর্তনের কারণে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারিয়েছেন, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের হিসাব অনুযায়ী, অ্যারিজোনায় ১ অক্টোবর প্রায় ২৯ হাজার বৈধ অভিবাসী মেডিকেইডের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফ্লোরিডায় সম্ভাব্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার। এ ছাড়া নয়টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ২ লাখ ৮১ হাজারের বেশি অভিবাসী সুবিধা হারাতে পারেন বলে অনুমান করা হয়েছে। এসব সংখ্যা অঙ্গরাজ্যভিত্তিক তথ্য ও হিসাবের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রভাবিত মানুষের চূড়ান্ত সংখ্যা হিসেবে এগুলোকে দেখা ঠিক হবে না। নতুন নিয়মের প্রভাব বোঝাতে অ্যারিজোনার টাকসনের একটি পরিবারের অভিজ্ঞতা সামনে এসেছে। মারিয়া চাকনের ছেলে যিশু ১৭ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে নিজে শ্বাস নিতে পারেন না। তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাসের যন্ত্র, খাবার দেওয়ার নল এবং প্রতিদিনের ওষুধ প্রয়োজন। পরিবারটির ভাষ্য অনুযায়ী, ছেলের চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য মাসে প্রায় ২৫ হাজার ডলার ব্যয় হতো, যার বড় অংশ বহনে মেডিকেইড সহায়তা করত। তাঁর মা জানিয়েছেন, ছেলের একটি ওষুধের দামই মাসে প্রায় সাত হাজার ডলার হতে পারে। স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারানোর পর ছেলের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কীভাবে চালিয়ে যাবেন, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। এটি একটি পরিবারের অভিজ্ঞতা; অন্যদের চিকিৎসার প্রয়োজন ও ব্যয় ভিন্ন হতে পারে। স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারালে কিছু মানুষ নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা পিছিয়ে দিতে পারেন। এতে রোগের অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার পর জরুরি বিভাগে যেতে হতে পারে। রোগীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি হাসপাতাল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের ওপরও অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের ২০২৫ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বাস্থ্যবিমা নীতির পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে ২০৩৪ সালের মধ্যে আরও ৭৫ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যবিমার বাইরে চলে যেতে পারেন। তবে এই পূর্বাভাস শুধু অভিবাসীদের নিয়ে করা হয়নি। তাই পুরো সংখ্যাটিকে মেডিকেইড হারানো অভিবাসীর সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। নতুন নিয়মের কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে মেডিকেইডের কেন্দ্রীয় অর্থায়ন অব্যাহত রাখার সুযোগ থাকতে পারে। পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যগুলো নির্দিষ্ট শর্তে বৈধভাবে বসবাসরত শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য মেডিকেইড অথবা শিশুদের স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা চালু রাখতে পারে। যাঁরা নিজেদের স্বাস্থ্যবিমার যোগ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন, তাঁদের সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের মেডিকেইড দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যক্তিগত অবস্থার ভিত্তিতে নিয়ম জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, নতুন বিধিনিষেধের প্রভাব সবার ওপর এক নয়। তবে যাঁরা সুবিধা হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য চিকিৎসার খরচ বহন করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের গ্রিন কার্ড আবেদনের শর্তগুলো স্পষ্ট করেছে ইউএসসিআইএস
এক বছর পর গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন শরণার্থীরা, মানতে হবে যেসব শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়া শরণার্থীদের জন্য গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা স্পষ্ট করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। দেশটিতে শরণার্থী হিসেবে প্রবেশের পর নির্দিষ্ট সময় পূর্ণ হলে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।   ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এক বছর পর স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করা আইনগতভাবে প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’। এর জন্য ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে হয়।   গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে শরণার্থীকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। প্রথমত, যথাযথভাবে ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ২০৭ ধারার অধীনে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ভর্তি হতে হবে।   তৃতীয়ত, আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। চতুর্থত, শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর অন্তত এক বছর দেশটিতে শারীরিকভাবে অবস্থান করতে হবে। ইউএসসিআইএসের নীতিমালা অনুযায়ী, এই এক বছরের শারীরিক উপস্থিতির বিষয়টি আবেদন নিষ্পত্তির সময়ও বিবেচনা করা হয়।   পঞ্চমত, আবেদনকারীর শরণার্থী হিসেবে ভর্তির মর্যাদা বাতিল বা সমাপ্ত হয়ে যাওয়া যাবে না। ষষ্ঠত, অন্য কোনো উপায়ে এরই মধ্যে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড পাওয়া থাকলে এই একই ভিত্তিতে আবার আবেদন করা যাবে না।   সপ্তমত, আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। কোনো কারণে আবেদনকারী গ্রহণযোগ্য না হলে এবং আইনের আওতায় সেই অযোগ্যতার জন্য ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ওয়েভারের মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ থাকতে পারে।   ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার জন্য সাধারণত কোনো ফাইলিং ফি দিতে হয় না। বায়োমেট্রিক সেবার ক্ষেত্রেও শরণার্থীদের জন্য ফি নেওয়া হয় না।   গ্রিন কার্ড পাওয়ার মাধ্যমে একজন শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার পান। যারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তাদের জন্য এই মর্যাদা ভবিষ্যতে আরও স্থায়ীভাবে দেশটিতে থাকার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে।   তবে যোগ্যতা পূরণ করলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর পরিস্থিতি, প্রয়োজনীয় নথি এবং গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো ইউএসসিআইএস যাচাই করে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও ফর্মের সর্বশেষ তথ্য দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসী ও শরণার্থীদের সহায়তার তহবিল বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন
অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী, শরণার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবার জন্য কংগ্রেস অনুমোদিত প্রায় ৮১০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ অর্থ বাতিলের প্রস্তাব ইতোমধ্যে কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন ব্যবস্থাপনা ও বাজেট দপ্তর (ওএমবি)।   গত শুক্রবার প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, আবাসন ও নগর উন্নয়ন এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন খাতে অনুমোদিত অর্থ বাতিলের কথা বলা হয়েছে।   ‘রিসিশন’ নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদিত নির্দিষ্ট সরকারি বরাদ্দ বাতিলের জন্য আইনপ্রণেতাদের কাছে প্রস্তাব দিতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে অ-মার্কিন নাগরিকদের সহায়তায় ফেডারেল করদাতাদের অর্থ ব্যবহারের অবসান ঘটানোর প্রশাসনের লক্ষ্য এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে ‘আমেরিকানদের অগ্রাধিকার’ দেওয়ার নীতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিয়ে কংগ্রেসের ভেতরেই আপত্তি উঠেছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতার অভিযোগ, কংগ্রেস যে অর্থ অনুমোদন করেছে, তা নির্বাহী শাখা একতরফাভাবে বাতিল করতে পারে না।   রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ কংগ্রেসের সম্মতি ছাড়া বাতিলের যেকোনো চেষ্টা আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপ মোকাবিলায় তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করবেন বলেও জানিয়েছেন।   ডেমোক্র্যাট সিনেটর জেফ মার্কলিও প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া নির্দিষ্ট খাতের বরাদ্দ বাতিলের চেষ্টা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাকে এমনভাবে বাড়িয়ে দেয়, যেন তিনি একাই ঠিক করতে পারেন কোন খাতে সরকারি অর্থ ব্যয় হবে।   এই উদ্যোগকে ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্ষমতায় ফেরার পর প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।   এর আগে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতিতেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টে এর বৈধতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   এ ছাড়া বৈধ মর্যাদা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কিছু শরণার্থী ও অভিবাসীর ক্ষেত্রে আটক এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ জোরদারের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। ভিসার মর্যাদা পরিবর্তনের আবেদন করা বিদেশিদের জন্যও নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে।   ফলে ৮১০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল বাতিলের এই প্রস্তাব কংগ্রেসে কীভাবে এগোয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে কংগ্রেসের প্রক্রিয়া ও অনুমোদনের বিষয়টি সামনে থাকবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
বৈধ পথে শরণার্থী নেওয়ার কর্মসূচি ফের চালু করছে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে শরণার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য বন্ধ থাকা একটি কর্মসূচি আবার চালু করছে দেশটির সরকার। নিরাপদ ও বৈধ পথে যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের যুক্তরাজ্যে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়াই এর লক্ষ্য। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন করে চালু হওয়া কর্মসূচিতে শুরুতে কয়েকশ শরণার্থীকে নেওয়া হবে এবং এদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হতে পারেন আফগান নারী ও কিশোরী এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থী।   সোমবার লিভারপুলে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, অভিবাসন ব্যবস্থায় ন্যায্যতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। একই সঙ্গে যুদ্ধ, নিপীড়ন ও সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য নিরাপদ ও বৈধ পথ চালু রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নতুন কর্মসূচির আওতায় প্রথম শরণার্থীদের চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যে আসার কথা রয়েছে।   নতুন পরিকল্পনাটি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং ইন্টারন্যাশনাল রিফিউজি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। ইউএনএইচসিআর বিভিন্ন দেশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থীদের শনাক্ত ও মূল্যায়নের মাধ্যমে পুনর্বাসনের জন্য সুপারিশ করবে। এর আগে যুক্তরাজ্যের আফগানিস্তানভিত্তিক একটি পুনর্বাসন পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হলো।   সরকার জানিয়েছে, নতুন কর্মসূচির পাশাপাশি শরণার্থীদের জন্য আরও তিনটি নিরাপদ ও বৈধ পথ চালু করা হচ্ছে। এসব ব্যবস্থায় স্থানীয় সম্প্রদায়, বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান শরণার্থীদের যুক্তরাজ্যে আসার ক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারবে। স্থানীয় সম্প্রদায় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবাসন, সমাজে একীভূত হওয়া এবং কাজ খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে।   অক্টোবর থেকে দাতব্য ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রদায়ভিত্তিক পৃষ্ঠপোষক হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবে। এই ব্যবস্থায় প্রথম শরণার্থীরা আগামী বছরের শরতে যুক্তরাজ্যে আসতে পারেন। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শরণার্থী শিক্ষার্থীদের পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারবে। কর্মসংস্থানভিত্তিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের বসন্তে এবং ওই পথেও পরবর্তীতে শরণার্থীদের যুক্তরাজ্যে আসার সুযোগ তৈরি হবে।   যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, নতুন পুনর্বাসন কর্মসূচি ও তিনটি পৃষ্ঠপোষকতা পথ মিলিয়ে শুরুতে শরণার্থীর সংখ্যা কয়েকশ হবে। পরে অনিয়মিত অভিবাসন কমার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা বছরে কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তবে প্রতি বছর মোট কতজনকে এসব বৈধ পথে নেওয়া হবে, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট সীমা বা সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। সরকার বলছে, এর মাধ্যমে একদিকে ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থীদের জন্য বৈধ পথ রাখা হবে, অন্যদিকে অনিয়মিত পথে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ নিরুৎসাহিত করা হবে।   শাবানা মাহমুদ বলেন, যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা মানুষের প্রতি ব্রিটিশ জনগণের মানবিক দায়িত্ববোধ এখনো রয়েছে। তবে তার মতে, শরণার্থী গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে এবং নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। যেসব সম্প্রদায় নতুন শরণার্থীদের গ্রহণ করবে, তাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সক্ষমতাও থাকতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   এই উদ্যোগের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য সরকার অভিবাসন ব্যবস্থায় বেশ কিছু কঠোর পরিবর্তনও আনছে। বৈধ পথে আসা কিছু অভিবাসীর স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির জন্য অপেক্ষার সময় বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। লেবার পার্টির ভেতর থেকেও এসব পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। হাউজিং সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেনার সম্প্রতি বলেছেন, কিছু প্রস্তাবের কারণে অভিবাসীদের জন্য আগের নিয়মের তুলনায় নতুন বাস্তবতা তৈরি হতে পারে এবং তিনি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন।   সরকারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া ১২ মাসে যুক্তরাজ্যের নিরাপদ ও বৈধ মানবিক পথগুলোতে মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৩০টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই ছিল যুক্তরাজ্যে আগে থেকেই অবস্থানরত মানুষের থাকার অনুমতি বাড়ানোর বিষয়। একই সময়ে শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে যুক্তরাজ্যে নেওয়ার কার্যক্রমও অব্যাহত ছিল।   যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, নতুন পুনর্বাসন নীতির আওতায় যারা আসবেন, তাদের পাঁচ বছরের মধ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। সরকার এটিকে অনিয়মিত পথে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার তুলনায় একটি নিয়ন্ত্রিত ও বৈধ বিকল্প হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে সরকার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অনিয়মিত অভিবাসন কমানোর পদক্ষেপও চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।   সূত্র: যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
শিবির ছেড়ে নিজ এলাকায় ফিরছেন সিরিয়ার বা স্তু চ্যুত পরিবারগুলো
শিবির ছাড়ছেন সিরিয়ার বা স্তু চ্যুতরা, জানুয়ারি থেকে ফিরেছেন ৬০ হাজারের বেশি

সিরিয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৬০ হাজারের বেশি অভ্যন্তরীণভাবে বা স্তু চ্যুত মানুষকে বিভিন্ন বা স্তু চ্যুতি শিবির ও আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে সহায়তা করা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর সিরিয়ার শিবিরগুলো থেকে রোববারও কয়েকশ পরিবারকে দেশের বিভিন্ন প্রদেশে তাদের নিজ এলাকায় পাঠানো হয়েছে।   জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, জুলাই ও আগস্টে বা স্তু চ্যুতদের ঘরে ফেরার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই দুই মাসে মোট ৩৮ হাজার ৮৩৬ জন বা স্তু চ্যুতি কেন্দ্র ছেড়েছেন। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৬০০ জনকে বিশেষভাবে সহায়তা করা হয়েছে। একই সময়ে ১৩০টি বা স্তু চ্যুতি কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   ওসিএইচএ বলছে, এসব প্রত্যাবর্তন সিরিয়ার ‘নো ক্যাম্পস ভিশন’ বা শিবিরমুক্ত ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে বা স্তু চ্যুত মানুষের ফিরে যাওয়া তাদের নিজ এলাকার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করছে।   রোববার উত্তর সিরিয়ার শিবিরগুলো থেকে ২৬৩টি পরিবারকে নিয়ে একটি বহর তাদের নিজ এলাকায় রওনা হয়। এসব পরিবার দক্ষিণ ইদলিব এবং হামা, আলেপ্পো ও দামেস্ক প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ফিরে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, ইদলিবের স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকল্যাণ ও শ্রম অধিদপ্তর জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা, মুজান অর্গানাইজেশন, সিরিয়ান আরব রেড ক্রিসেন্ট এবং জরুরি ও দু র্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সহায়তায় এই কার্যক্রম সমন্বয় করেছে।   ইদলিবের সমাজকল্যাণ ও শ্রম বিভাগের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ বাকির জানান, বেশির ভাগ পরিবার দক্ষিণ ইদলিবের শহর ও গ্রামগুলোতে ফিরছে। প্রেসিডেন্টের ৫৯ নম্বর ডিক্রির আওতায় এই বহরটি আয়োজিত হয়েছে বলে তিনি জানান।   আলেপ্পো ও ইদলিবের শিবিরগুলোর প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম সমন্বয়কারী মানাফ হাম্মাম বলেন, পরিবারগুলোর স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার আবেদনের ভিত্তিতেই এসব প্রত্যাবর্তন আয়োজন করা হচ্ছে। যাত্রীদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস এবং তাদের মালপত্র পরিবহনের জন্য ট্রাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যারা ফিরতে চান, তাদের নিবন্ধন এখনো চলছে এবং আরও কয়েকটি বহর পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।   ফিরে যাওয়া কয়েকটি পরিবারের সদস্য সানাকে জানিয়েছেন, বহু বছর বা স্তু চ্যুত থাকার পর নিজ এলাকায় ফিরতে পেরে তারা স্বস্তি বোধ করছেন। তবে তাদের অনেকেরই ফিরতে হচ্ছে ব্যাপকভাবে ক্ষ তি গ্র স্ত গ্রাম এবং সীমিত মৌলিক সেবার মধ্যে।   ইদলিবের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ডিক্রিটি জারির পর থেকে ইদলিব ও আলেপ্পোর বিভিন্ন শিবির থেকে হাজারো পরিবারকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরিয়ে নিতে বেশ কয়েকটি প্রত্যাবর্তন বহরের আয়োজন করেছে।   তবে ওসিএইচএ সতর্ক করেছে, বা স্তু চ্যুতদের প্রয়োজন এখন ধীরে ধীরে শিবির থেকে তাদের ফিরে যাওয়া এলাকাগুলোর দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এসব এলাকায় পর্যাপ্ত আবাসনের অভাব, ক্ষ তি গ্র স্ত অবকাঠামো, দুর্বল জনসেবা এবং কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ তাদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এতে আবারও বা স্তু চ্যুত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।   জাতিসংঘের সংস্থাটি বলছে, মানুষকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারের জন্য অবকাঠামো এবং জনসেবা পুনর্গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে ক্ষ তি গ্র স্ত এলাকায় বেকারি, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, হাসপাতাল, স্কুল, সড়ক, সেতু এবং আবাসন পুনর্বাসনের কাজ চলছে।   উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার রাক্কা প্রদেশে পুনরুদ্ধারের কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। পানি, বিদ্যুৎ ও সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নতিও হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক দুর্বলতা এখনো বড় বাধা হয়ে আছে, যা ফিরে আসা মানুষের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও স্থায়ী সমাধানের পথে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।   ২০১১ সালের মার্চে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃ হ যু দ্ধে ১ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ বা স্তু চ্যুত হয়। এর মধ্যে ৭৪ লাখের বেশি মানুষ দেশের ভেতরেই বা স্তু চ্যুত হয়েছে বলে জাতিসংঘের তথ্য। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বিদেশে পালিয়ে যাওয়া বা দেশের ভেতরে বা স্তু চ্যুত হওয়া ১৮ লাখ ৭০ হাজারের বেশি সিরীয় নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গদের জন্য বিশেষ সুবিধা, ১৭,৫০০ জনকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দেবে যুক্তরাষ্ট্র
দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গদের জন্য বিশেষ সুবিধা, ১৭,৫০০ জনকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দেবে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বের অন্যান্য দেশের নিপীড়িত মানুষের জন্য শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি কার্যত কঠোর ও সীমিত রাখলেও দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ছাড় দিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশটির ১৭ হাজার ৫০০ শ্বেতাঙ্গ ‘আফ্রিকানার’কে আগামী এক বছরে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।   কংগ্রেসের কাছে পাঠানো মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক নোটিশের বরাতে সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৭ অর্থবছরে নির্ধারিত এই বিশেষ শরণার্থী কোটার সিংহভাগই দেওয়া হবে ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে, যাদের ওপর বর্ণবাদী কারণে নির্যাতন চলছে বলে দাবি করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।   ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্ণবাদ-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকায় ডাচ ও ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত এই আফ্রিকানাররা তীব্র বৈষম্য ও দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে জানিয়েছে, ক্ষতিপূরণ ছাড়াই কৃষি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, শিক্ষা ও চাকরিতে সমান সুযোগ বিনষ্টকারী সরকারি নীতি এবং জাতিগত বিদ্বেষমূলক সহিংসতার মুখে পড়ছে এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী।   এমনকি আফ্রিকানারদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগে সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তাদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে পরিচালিত হতে যাওয়া এই পুনর্বাসন কর্মসূচি প্রসঙ্গে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা, এই আফ্রিকানাররা মার্কিন সমাজের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেবে এবং মার্কিন করদাতাদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বোঝা হবে না।   যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ আফ্রিকায় আফ্রিকানারদের ওপর 'গণহত্যা' চলছে বলে দাবি করে আসছেন, তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার শুরু থেকেই এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে। অতীতে ওভাল অফিসে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সামনে ট্রাম্প দেশটির খামারগুলোতে কৃষক হত্যার ভিডিও দেখিয়ে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।   তবে স্বাধীন বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকার খামারগুলোতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো দেশটির সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও অপরাধ প্রবণতারই একটি অংশ, যা সব বর্ণের নাগরিককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে; একে শুধু শ্বেতাঙ্গদের ওপর নির্দিষ্ট 'গণহত্যা' হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার মার্কিন দাবিকে চরম বিতর্কিত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নয় বছরেও অনিশ্চিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, কক্সবাজারে মানবিক সংকট গভীরতর

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। নয় বছর পার হলেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে।   কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত ৩৩টি শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠী বসবাস করছে। মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল এই জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক চাহিদা পূরণ করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, যার মধ্যে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি অন্যতম।   তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়ায় সহায়তা কার্যক্রমে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে শরণার্থীদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।   ক্যাম্পগুলোতে সীমিত শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় তরুণদের বড় একটি অংশ বেকার সময় কাটাচ্ছে। এতে মানবপাচার, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন।   শিবির এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অপরাধচক্রের সক্রিয়তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। খুন, অপহরণ, সহিংসতা ও অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি মাঝে মাঝে জটিল হয়ে উঠছে।   স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং কম মজুরিতে শ্রম দিতে রাজি হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি জনসংখ্যার চাপের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।   পরিবেশগত প্রভাবও উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছে। শরণার্থী বসতি স্থাপনের কারণে বনভূমি উজাড় এবং পাহাড় কাটার ঘটনা ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন।   সরকার কক্সবাজারের চাপ কমাতে বঙ্গোপসাগরের ভাসানচরে আবাসন প্রকল্প চালু করেছে। সেখানে ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ স্থানান্তর করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভাসানচরে আবাসন, দুর্যোগ সুরক্ষা এবং জীবিকাভিত্তিক কিছু কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে।   এদিকে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জীবিকায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান কেবল মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মধ্যেই সম্ভব। বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে এবং যাচাইকৃত তালিকাও মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করেছে।   তবে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এই মানবিক সংকট বহন করায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ভূমিকা পালন করে আসছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর উদ্যোগ এবং সমন্বিত কূটনৈতিক চাপ জরুরি।   ততদিন পর্যন্ত মানবিক সহায়তা, পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সহায়তা বৃদ্ধি এই সংকট ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Unknown জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সসহ ইউরোপে নতুন অভিবাসন আইন কার্যকর

দীর্ঘ এক দশকের রাজনৈতিক আলোচনা, বিতর্ক ও সমঝোতার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় নীতি “মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট” কার্যকর হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) থেকে ইউরোপজুড়ে এই নীতির বাস্তবায়ন শুরু হয়, যার মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির নতুন কাঠামো চালু করা হয়েছে।   ইউরোপীয় কমিশনের মতে, অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও সমন্বিত, কার্যকর ও নিয়ন্ত্রিত করাই এই নতুন চুক্তির মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে ২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটের পর ইউরোপজুড়ে যে রাজনৈতিক চাপ ও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটেই এই সংস্কার আনা হয়েছে।   নতুন নীতির আওতায় ইইউর বাহ্যিক সীমান্ত দিয়ে অনিয়মিতভাবে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের জন্য বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে অভিবাসীদের পরিচয়, জাতীয়তা, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি যাচাই করা হবে। প্রাথমিক যাচাই সাধারণত সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন গ্রহণের সম্ভাবনা কম বলে বিবেচিত হবে, তাদের আবেদন সীমান্ত পর্যায়েই দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান আশ্রয় প্রক্রিয়া কমবে বলে আশা করছে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ।   ইতালি, গ্রিস, স্পেন ও মাল্টার মতো সীমান্তবর্তী দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অভিবাসন চাপের মুখে ছিল। নতুন চুক্তির অধীনে অন্যান্য সদস্য দেশকে আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ, আর্থিক সহায়তা অথবা প্রশাসনিক সহযোগিতার মাধ্যমে দায়িত্ব ভাগাভাগি করতে হবে। এই ব্যবস্থাকে “সংহতি প্রক্রিয়া” বলা হচ্ছে।   চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ইউরোড্যাক ডাটাবেজ আরও উন্নত করা হয়েছে। এতে আঙুলের ছাপ, মুখাবয়বের ছবি এবং অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে একজন ব্যক্তি একাধিক দেশে একাধিকবার আশ্রয় আবেদন করতে না পারেন এবং প্রক্রিয়া আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়।   তবে নতুন ব্যবস্থার প্রথম দিনেই ইউরোড্যাক সিস্টেমে কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয়, যা কয়েকটি সদস্য দেশের কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব ফেলে। ইউরোপীয় কমিশন একে প্রাথমিক প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে।   মানবাধিকার সংগঠনগুলো নতুন নীতির কিছু দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, সীমান্ত পর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে অনেক আশ্রয়প্রার্থী যথাযথ আইনি সহায়তা ও ন্যায্য শুনানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।   বিশ্লেষকদের মতে, এই সংস্কার ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর দিকে নিয়ে যাবে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতিতে এটি অন্যতম বড় সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আগামী দিনে ইউরোপের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অভিবাসন নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

Unknown জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়া শরণার্থীদের প্রায় সবাই দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ

চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়া শরণার্থীদের প্রায় সবাই দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানার সম্প্রদায়ের সদস্য। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৯৪৮ জন শরণার্থী গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যাদের সিংহভাগই দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা এক বিতর্কিত নীতির আওতায় দেশটিতে শরণার্থী গ্রহণের সামগ্রিক সংখ্যা কমিয়ে এনে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।   ওই নীতিতে বলা হয়েছিল, আফ্রিকানারদের পাশাপাশি নিজ দেশে বৈষম্যের শিকার অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষদেরও আশ্রয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।পরিসংখ্যানের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়া ৬ হাজার ৬৬৮ জন মার্কিন শরণার্থীর মধ্যে মাত্র তিনজন ছাড়া বাকি সবাই দক্ষিণ আফ্রিকার বাসিন্দা। সামগ্রিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী গ্রহণের সংখ্যা এবার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গরা নিজ দেশে প্রতিনিয়ত জাতিগত নিপীড়ন ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার এই গুরুতর অভিযোগ বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে গণহত্যা বা রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের দাবি মোটেও বাস্তবসম্মত নয়।   এদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার ও দেশটির অনেক বিশিষ্ট শ্বেতাঙ্গ নাগরিকও ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, মার্কিন শরণার্থী কর্মসূচিকে নিছক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অযথাই প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা সমালোচনা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন তাদের গৃহীত এই নীতিতে সম্পূর্ণ অনড় অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক দক্ষিণ আফ্রিকান শ্বেতাঙ্গকে আশ্রয় দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী গ্রহণের সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনাও মার্কিন প্রশাসনের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

বায়জিদ হাসান জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
লেবাননে মানবিক বিপর্যয়, চরম সংকটে জনজীবন

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (UNHCR) তথ্যমতে, দেশটিতে বর্তমানে এক ভয়াবহ 'মানবিক বিপর্যয়' দেখা দিয়েছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে লেবাননের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ, অর্থাৎ ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের অভিযান জোরদার করার ফলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ ধ্বংস হওয়ায় প্রায় দেড় লাখ মানুষ মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ফলে সেখানে জরুরি ত্রাণ বা মানবিক সাহায্য পৌঁছানোও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। UNHCR-এর প্রতিনিধি ক্যারোলিনা লিন্ডহোম বিলিং জানিয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়েও মানুষ নিরাপদ বোধ করছেন না। আশ্রয়কেন্দ্রের খুব কাছেই বোমা হামলার ঘটনা ঘটছে, যা সাধারণ মানুষ এবং শিশুদের ওপর চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে। বেশিরভাগ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে স্কুলগুলো ব্যবহার করা হলেও সেখানে তিল ধারণের জায়গা নেই।  বিশেষ করে বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ক্লাসরুমের মেঝেতে অমানবিক পরিবেশে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকের কাছেই এটি দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার সপরিবারে পালিয়ে বেড়ানোর ঘটনা। বিলাপ করতে করতে ভুক্তভোগীরা কেবল একটি কথাই বলছেন— তারা আর কিছু নয়, শুধু নিজ ঘরে ফিরে যেতে চান।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় বাস্তুচ্যুত ৪০ লাখ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। গত এক মাসেরও কম সময়ে ইরান ও লেবাননে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২ লাখ ইরানি নাগরিক অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এটি দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর (UNHCR) জানিয়েছে, যুদ্ধের ২৭তম দিনে এসে এই সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে অন্তত ৮৫ হাজার বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৮২টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং ৬০০টি স্কুল। হাসপাতাল, তেল শোধনাগার এবং পানি শোধন প্ল্যান্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। অনেক ইরানি নাগরিক বর্তমানে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আশ্রয়ের চেষ্টা করছেন, যদিও সীমান্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠোর। এদিকে লেবাননে ইসরায়েলি স্থল অভিযান ও বিমান হামলায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের লিটানি নদী থেকে জাহরানি নদী পর্যন্ত বিশাল এলাকা জুড়ে উচ্ছেদ আদেশ জারি করেছে। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল (NRC) বলছে, লেবাননের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৪ শতাংশ এখন ইসরায়েলি উচ্ছেদ আদেশের আওতায়। লেবাননের প্রতি পাঁচজন নাগরিকের মধ্যে একজন বর্তমানে গৃহহীন। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র না পেয়ে রাস্তা বা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। ইতোমধ্যে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ লেবানন ছেড়ে সিরিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন, যাদের অর্ধেকই শিশু। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটস-এর নির্দেশে দক্ষিণ লেবাননের প্রধান সেতুগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এতে দক্ষিণ লেবাননের সঙ্গে দেশটির বাকি অংশের ভৌগোলিক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই পদক্ষেপকে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব স্থায়ী করার এবং একটি 'বাফার জোন' তৈরির অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, ইরানে এ পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশাল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষের চাপ পার্শ্ববর্তী দেশ এবং বৈশ্বিক শরণার্থী পরিস্থিতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। ওদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি পক্ষ থেকে আক্রমণ আরও জোরদার করার হুমকি আসায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Unknown মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

এক ঠিকানায় ৫০টি পার্সেল, ওয়ালমার্ট চালকের সন্দেহেই ধরা পড়ল ১৪ লাখ ডলারের জালিয়াতি

এক ঠিকানায় ৫০টি পার্সেল, ওয়ালমার্ট চালকের সন্দেহেই ধরা পড়ল ১৪ লাখ ডলারের জালিয়াতি

অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০