নয় বছরেও অনিশ্চিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, কক্সবাজারে মানবিক সংকট গভীরতর
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। নয় বছর পার হলেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে।
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত ৩৩টি শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠী বসবাস করছে। মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল এই জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক চাহিদা পূরণ করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, যার মধ্যে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি অন্যতম।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়ায় সহায়তা কার্যক্রমে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে শরণার্থীদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ক্যাম্পগুলোতে সীমিত শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় তরুণদের বড় একটি অংশ বেকার সময় কাটাচ্ছে। এতে মানবপাচার, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন।
শিবির এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অপরাধচক্রের সক্রিয়তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। খুন, অপহরণ, সহিংসতা ও অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি মাঝে মাঝে জটিল হয়ে উঠছে।
স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং কম মজুরিতে শ্রম দিতে রাজি হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি জনসংখ্যার চাপের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিবেশগত প্রভাবও উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছে। শরণার্থী বসতি স্থাপনের কারণে বনভূমি উজাড় এবং পাহাড় কাটার ঘটনা ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন।
সরকার কক্সবাজারের চাপ কমাতে বঙ্গোপসাগরের ভাসানচরে আবাসন প্রকল্প চালু করেছে। সেখানে ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ স্থানান্তর করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভাসানচরে আবাসন, দুর্যোগ সুরক্ষা এবং জীবিকাভিত্তিক কিছু কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জীবিকায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান কেবল মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মধ্যেই সম্ভব। বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে এবং যাচাইকৃত তালিকাও মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
তবে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এই মানবিক সংকট বহন করায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ভূমিকা পালন করে আসছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর উদ্যোগ এবং সমন্বিত কূটনৈতিক চাপ জরুরি।
ততদিন পর্যন্ত মানবিক সহায়তা, পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সহায়তা বৃদ্ধি এই সংকট ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreজুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত পলাতক আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের রায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বিক্রি করে পাওয়া অর্থ নিহতদের পরিবারের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাসহ যেসব দণ্ডিত পলাতক আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ রয়েছে, তাঁদের সম্পত্তি দ্রুত শনাক্ত করে সরকারের হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হবে। চিফ প্রসিকিউটর জানান, শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফসহ প্রায় ১১ থেকে ১২ জন দণ্ডিত আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট রায় ও আদেশ যাচাই করে পর্যায়ক্রমে সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের সময়সীমা রয়েছে। যেসব পলাতক আসামি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করেননি, তাঁদের ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে। ফলে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে আইনগত বাধা নেই বলে মনে করছে প্রসিকিউশন। পলাতক আসামিরা নিজেদের সম্পত্তি বিক্রি বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করে দিতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন চিফ প্রসিকিউটর। এ কারণে রায় বাস্তবায়নের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সম্পত্তি শনাক্ত, মূল্যায়ন ও বিক্রির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের। তবে বাজেয়াপ্তযোগ্য সম্পত্তির মোট পরিমাণ কিংবা আর্থিক মূল্য এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। চিফ প্রসিকিউটর জানান, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ এবং মূল্যায়নের পরই জানা যাবে কত অর্থ পাওয়া যেতে পারে। ফলে নিহতদের পরিবারগুলো কত টাকা ক্ষতিপূরণ পাবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই রায়ে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়। সেই আদেশ কার্যকর করার অংশ হিসেবেই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর গত এক বছরে দুটি ট্রাইব্যুনাল থেকে আটটি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৭২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। কারাগারে থাকা যেসব দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আপিল নিষ্পত্তির পর রায় বাস্তবায়নের বিষয়টি নির্ধারিত হবে। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমিনুল ইসলাম বলেন, বিদ্যমান আইনি বিধানের আওতায় রায় বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আলাদা বিধিমালা তৈরি করা হলে কার্যক্রম পরিচালনা আরও সহজ হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর পর সম্পত্তি শনাক্ত, সরকারি হেফাজতে নেওয়া এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ বিতরণের পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সম্পত্তি বিক্রি কিংবা নিহতদের পরিবারের মধ্যে অর্থ বিতরণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, এমন তথ্য জানানো হয়নি। সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট নিউজ
'পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশের হত্যার অধিকার আছে '- তথ্য উপদেষ্টা
ঢাকার ডেমরায় কারখানা থেকে উদ্ধার বিরল হালকা গোলাপি রঙের গোখরা, লোকজন হতবাক
বাংলাদেশিদের শেনজেন ভিসার আবেদন নেবে না সুইডেন দূতাবাস ,জানাল বিকল্প নিয়ম
বাবার বেকারত্ব, সংসারে অভাব-অনটন আর নানা সীমাবদ্ধতা-সবকিছুকে পেছনে ফেলে সাফল্য অর্জন করেছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার যমজ দুই বোন রহিমা সরদার ও রাবেয়া সরদার। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে দুজনই পেয়েছে জিপিএ-৫। রহিমা ও রাবেয়া উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের রামকার্জি গ্রামের বাসিন্দা। তারা রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজের শিক্ষার্থী। কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৪২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র দুজন। তারা দুজনই যমজ বোন রহিমা ও রাবেয়া। এ ছাড়া উপজেলার সাতটি কলেজ, তিনটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও চারটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে তারাই একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জনকারী। তাদের বাবা মনির হোসেন সরদার রিজু ও মা নাসিমা বেগম। তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট দুই মেয়ে রহিমা ও রাবেয়া। বাবা বেকার থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে চলছে তাদের সংসার। সীমিত আয়ের মধ্যে দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে মা-বাবাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে আর্থিক সংকট তাদের পড়াশোনায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। এই যমজ দুই বোনের পড়াশোনায় সহযোগিতা করেছেন কয়েকজন শিক্ষক ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রাইভেট শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন, আহসান হাবিব ও সোহেল স্যার তাদের মধ্যে একজনকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ ভর্তি ও ফরম পূরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক সহযোগিতা করেছে। পাশাপাশি উপবৃত্তিও পেয়েছে তারা। মেয়েদের সাফল্যে আবেগাপ্লুত মা নাসিমা বেগম বলেছেন, "আমার স্বামী বেকার। অনেক কষ্ট করে মেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছি। প্রাইভেট শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন, আহসান হাবিব ও সোহেল স্যার দুই বোনের মধ্যে একজনকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। কলেজের অধ্যক্ষ স্যার ভর্তি, ফরম পূরণসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে নামমাত্র টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া তারা উপবৃত্তিও পেয়েছে। সবার সহযোগিতা না পেলে হয়তো মেয়েদের পক্ষে এত ভালো ফল করা সম্ভব হতো না"। নিজেদের পরিশ্রমের কথা জানিয়ে রহিমা ও রাবেয়া বলেছেন,"বাবার কষ্ট কিছুটা হলেও কমাতে এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে আমরা ভালো ফল করার লক্ষ্য নিয়ে পড়াশোনা করেছি। কলেজে যাতায়াত ও খাওয়া-দাওয়ার সময়টুকু বাদে প্রায় সব সময়ই পড়াশোনা করতাম। ঘুমও হতো খুব সীমিত। এখন আমাদের স্বপ্ন, ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা। সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছি"। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহা. জহুরুল ইসলাম বলেছেন, "রাজারহাট উপজেলার ১৪টি কলেজের মধ্যে এই যমজ দুই বোনই মানবিক শাখা থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তাদের এ অসাধারণ সাফল্যে আমরা আনন্দিত। কলেজের পক্ষ থেকে দুজনকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই"। আর্থিক সংকটের মধ্যেও রহিমা ও রাবেয়ার এমন সাফল্য এলাকাবাসীকে গর্বিত করেছে। তাদের এই অর্জন এলাকার অন্য শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় মনোযোগী হতে এবং স্বপ্নপূরণে সাহস জোগাবে-এমনটাই আশা করছেন স্থানীয়রা।
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির মাধ্যমে কুশ ল্যাব নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ, ঢাকায় গ্রেপ্তার তৌসিফ
আসামে দেখা গেল যুবদলের ব্যানার, চিন্তায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ
প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ইউটিউব দেখে ইয়াবা কারখানা, টঙ্গীতে বাপ্পি গ্রেপ্তার
ঢাকার একটি মেসে বসে ফেসবুকে মজার কার্টুন ও মিম তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের কাছে টি-শার্টসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছেন বাংলাদেশের দুই তরুণ। কুমিল্লার লাকসামের দুই ভাই নাজমুস শাহাদাত ও নাজমুস সাকিবের এই উদ্যোগ এখন আন্তর্জাতিক অনলাইন ব্যবসায় রূপ নিয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, ২০২৪ সালেই তাঁদের ব্যবসার পরিমাণ ছিল প্রায় এক কোটি টাকা। তাঁদের পরিচালিত বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে সম্মিলিত ফলোয়ারের সংখ্যা ৪০ লাখের বেশি। প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাজমুস শাহাদাত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। তাঁর বড় ভাই নাজমুস সাকিব পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের খরচ চালানো এবং পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর চিন্তা থেকেই দুই ভাই অনলাইনে আয়ের পথ খুঁজতে শুরু করেন। শুরুতে তাঁদের হাতে বড় কোনো পুঁজি ছিল না। ছিল একটি ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে কিছু করার আগ্রহ। শাহাদাত প্রথমে সাংবাদিকতায় ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করেন। কিছুদিন কাজও করেন এই পেশায়। পরে ইউটিউবে বিভিন্ন ছবি দিয়ে স্লাইড শো তৈরি করে আপলোড করতে থাকেন। কিন্তু সেখান থেকে প্রত্যাশিত দর্শক কিংবা আয় কোনোটিই আসছিল না। এরপর দুই ভাই ফেসবুকের কনটেন্ট থেকে আয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে শুরু করেন। বিশেষ করে ছবি, রিল ও অন্যান্য কনটেন্টের মাধ্যমে দর্শক তৈরি এবং সেখান থেকে ব্যবসার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করেন তাঁরা। এ সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে কার্টুন ছবি তৈরি করতে শুরু করেন শাহাদাত। এসব কার্টুনের সঙ্গে যুক্ত করা হতো দৈনন্দিন জীবন, বয়স, অবসর এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবিত্ত মানুষের পরিচিত অভিজ্ঞতা নিয়ে মজার মন্তব্য। বিশেষ করে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার সঙ্গে মিল রেখে তৈরি রসিকতাগুলো ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হতে থাকে। নিজেদের ফেসবুক পেজে পোস্ট করার পাশাপাশি বিভিন্ন বড় গ্রুপেও সেগুলো শেয়ার করতেন দুই ভাই। প্রথম দিকে তেমন সাড়া না পেলেও একসময় তাঁদের তৈরি কয়েকটি মিম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বাড়তে থাকে ফলোয়ার ও দর্শকের সংখ্যা। এরপর তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে একাধিক ফেসবুক কমিউনিটি গ্রুপ তৈরি করেন। এসব গ্রুপে নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট দর্শকগোষ্ঠী গড়ে তোলার চেষ্টা চালান। ফেসবুকের ইনসাইট বিশ্লেষণ করে তাঁরা দেখতে পান, তাঁদের কনটেন্টের দর্শকদের প্রায় ৮০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। বিশেষ করে মধ্যবয়সী ও প্রবীণদের মধ্যে এসব মিমের জনপ্রিয়তা বেশি। এই তথ্য থেকেই নতুন ব্যবসার পরিকল্পনা করেন তাঁরা। দুই ভাই ভাবতে শুরু করেন, ফেসবুকে জনপ্রিয় হওয়া মজার কথাগুলো যদি টি-শার্টে ছাপিয়ে বিক্রি করা যায়, তাহলে কেমন হয়। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে যুক্ত হন তাঁদের খালাতো ভাই মোহাম্মদ হাসান রাফি। ডিজাইনের কাজে দক্ষ রাফিকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা অনলাইন পণ্য বিক্রির উদ্যোগ শুরু করেন। তবে নিজেরা কোনো কারখানা স্থাপন করেননি। পণ্য তৈরি কিংবা সরবরাহের জন্যও বড় বিনিয়োগ করতে হয়নি তাঁদের। তাঁরা বেছে নেন প্রিন্ট অন ডিমান্ড ব্যবসার মডেল। এই পদ্ধতিতে ক্রেতার অর্ডার পাওয়ার পর নির্ধারিত ডিজাইন অনুযায়ী পণ্য তৈরি করা হয়। এ জন্য একটি বিদেশি প্রিন্ট অন ডিমান্ড প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেন তাঁরা। নিজেদের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ডিজাইনের পণ্য প্রদর্শন করেন। কোনো ক্রেতা অর্ডার দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পণ্য প্রিন্ট, প্যাকেজিং এবং ডেলিভারির দায়িত্ব পালন করে। ফলে বাংলাদেশে বসেই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশের ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁদের। প্রথমে টি-শার্ট দিয়ে ব্যবসা শুরু হলেও পরে পণ্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে সোয়েটশার্ট, হুডি ও টাম্বলার ফ্লাস্ক। প্রতিটি পণ্যের ডিজাইনে গুরুত্ব দেওয়া হয় তাঁদের ফেসবুক দর্শকদের পছন্দের বিষয়গুলোকে। জনপ্রিয় মিমের রসিকতা এবং পরিচিত জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতাই হয়ে উঠেছে এসব পণ্যের মূল আকর্ষণ। প্রথম আলোকে শাহাদাত জানিয়েছেন, ব্যবসার শুরুর কয়েক মাস তাঁরা আয় করার চেয়ে দর্শক তৈরি এবং ফেসবুক কমিউনিটি গড়ে তোলার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কোনো পেইড বিজ্ঞাপন কিংবা পোস্ট বুস্ট না করে নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। পরে সেই দর্শকদের একটি অংশ তাঁদের অনলাইন স্টোরের ক্রেতায় পরিণত হয়। তাঁদের ব্যবসায় মৌসুমি চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিক্রি বেশি হয় বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন ও ক্রিসমাসের মতো উৎসবকে সামনে রেখে বিশেষ ডিজাইনের পণ্য তৈরি করেন তাঁরা। এসব উৎসবের সময় উপহার কেনাকাটা বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের পণ্যের চাহিদাও বাড়ে। বর্তমানে কাউ ক্রনিকলস, ডাকস গন ওয়াইল্ড, হার্ড হিউমার ও হিলারিয়াস ক্যাটসহ বিভিন্ন নামে ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ পরিচালনা করছেন তাঁরা। উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব পেজ ও গ্রুপ মিলিয়ে তাঁদের ফলোয়ার সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে। দুই ভাইয়ের দাবি, ২০২৪ সালে তাঁদের ব্যবসার পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকায় পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকেও স্বীকৃতি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। তবে এক কোটি টাকা তাঁদের মোট বিক্রির পরিমাণ, নাকি সব খরচ বাদ দেওয়ার পর মুনাফা, সে বিষয়ে সরবরাহ করা তথ্যে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। আয়ের এই হিসাবও উদ্যোক্তাদের নিজস্ব বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত। এই উদ্যোগের সঙ্গে এখন ১৫ জনের বেশি তরুণ যুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের কেউ কনটেন্ট তৈরি, কেউ ডিজাইন, আবার কেউ অনলাইন ব্যবসার বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করছেন। ফলে দুই ভাইয়ের ব্যক্তিগত আয়ের চেষ্টা থেকে শুরু হওয়া উদ্যোগটি অন্য তরুণদের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশে বসে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট বয়সের মানুষের পছন্দ বুঝে কনটেন্ট তৈরি এবং সেই দর্শকদের কাছে পণ্য বিক্রির এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক ই-কমার্সের একটি উদাহরণ। এখানে শুধু ভাইরাল কনটেন্ট নয়, দর্শকদের আগ্রহ বিশ্লেষণ, নিয়মিত যোগাযোগ এবং পণ্য নির্বাচনের কৌশলও ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ঢাকার মেসে একটি ল্যাপটপ দিয়ে শুরু করা দুই ভাইয়ের উদ্যোগ এখন দেশের বাইরের ক্রেতাদের কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে। নিজেদের পড়াশোনার খরচ চালানোর উদ্দেশ্যে শুরু করা কাজটি তাঁদের দাবি অনুযায়ী কোটি টাকার ব্যবসায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বসে বিদেশি বাজারের জন্য ডিজিটাল কনটেন্ট ও পণ্য তৈরির সম্ভাবনাও তুলে ধরেছে তাঁদের অভিজ্ঞতা। সূত্র: প্রথম আলো
পিলখানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ গ্রেপ্তার
পা দিয়ে লিখে এসএসসির পর এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ রাব্বির, স্বপ্ন বিজ্ঞানী হওয়ার