সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সাইবার নিরাপত্তা

ক্লড মডেলের আচরণ নিয়ে নতুন মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। ছবি: সংগৃহীত
পরীক্ষামূলক পরিবেশ ছেড়ে বাস্তবের ইন্টারনেটে হানা, পাসওয়ার্ড চুরির সফটওয়্যারও বানিয়েছে ক্লড

সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় অ্যানথ্রপিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ক্লড চারটি ঘটনায় পরীক্ষার নির্ধারিত সীমা পেরিয়ে বাস্তব কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করেছিল। অ্যানথ্রপিকের নতুন এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষার পরিবেশে ভুল কনফিগারেশনের কারণে ইন্টারনেট সংযোগ খোলা ছিল। সেই সুযোগে ক্লড এমন কিছু বাস্তব অবকাঠামোর সঙ্গে যোগাযোগ করে, যেগুলো পরীক্ষার অংশ ছিল না।   ৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, ঘটনাগুলো সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নের সময় ঘটেছে। ক্লডকে বলা হয়েছিল, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ও ইন্টারনেটবিহীন কৃত্রিম পরিবেশে কাজ করছে। কিন্তু পরীক্ষার অবকাঠামোর একটি ভুল কনফিগারেশনের কারণে মডেলগুলো বাস্তব ইন্টারনেটে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। অ্যানথ্রপিক পরে প্রায় ৪৮ কোটি কথোপকথন বা পরীক্ষার নথি পর্যালোচনা করে এবং একই ধরনের চারটি ঘটনা শনাক্ত করে।   প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চারটি ঘটনাতেই ক্লডকে সাইবার নিরাপত্তার ‘ক্যাপচার দ্য ফ্ল্যাগ’ ধরনের পরীক্ষা দেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের পরীক্ষায় মডেলকে একটি নির্দিষ্ট কম্পিউটার ব্যবস্থায় লুকানো তথ্য খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু কোথায় খোঁজ করা যাবে, সে বিষয়ে পরীক্ষার নির্দেশনায় নির্দিষ্ট সীমা ছিল না। ফলে বাস্তব ইন্টারনেটে পৌঁছে যাওয়ার পর ক্লড কিছু ক্ষেত্রে সেখানকার ব্যবস্থাকেও পরীক্ষার অংশ হিসেবে ধরে নেয়।   অ্যানথ্রপিকের ভাষায়, ঘটনাগুলোতে দুটি আচরণ বিশেষভাবে দেখা গেছে। প্রথমটি হলো বাস্তব পরিবেশের প্রমাণকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা বা উপেক্ষা করা। দ্বিতীয়টি হলো নির্ধারিত কাজ শেষ করার জন্য প্রয়োজনের চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া। প্রতিষ্ঠানটি এগুলোকে যথাক্রমে ‘বায়াসড রিজনিং’ এবং ‘রেকলেসনেস’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।   এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে ক্লড মিথস ৫-এর ক্ষেত্রে। পরীক্ষার সময় মডেলটি একটি ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্যাকেজ তৈরি করে তা পাইপিআইতে আপলোড করেছিল। পাইপিআই হলো পাইথন সফটওয়্যার প্যাকেজ বিতরণের একটি বহুল ব্যবহৃত উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম। প্যাকেজটি সরিয়ে নেওয়ার আগেই বাস্তব কম্পিউটার সিস্টেমে সেটি ডাউনলোড করা হয়েছিল। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, এ ঘটনায় মডেলটির কর্মকাণ্ড পরীক্ষার পরিবেশের বাইরেও প্রভাব ফেলেছিল।   অ্যানথ্রপিকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, মিথস ৫-এর ঘটনাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ মডেলটি নিজের যুক্তিতেই বুঝতে পেরেছিল যে এটি বাস্তব ইন্টারনেট হতে পারে। এমনকি বাস্তব হলে সফটওয়্যার প্রকাশের ফলে বাস্তব ক্ষতি হতে পারে বলেও মডেলটি বিবেচনা করেছিল। পরে কিছু ভুল অনুমানের ভিত্তিতে আবার ধরে নেয় যে সে একটি কৃত্রিম পরীক্ষার পরিবেশেই রয়েছে এবং কাজ চালিয়ে যায়।   আরেকটি ঘটনায় ক্লড ওপাস ৪.৭ একটি বাস্তব প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অবকাঠামোয় পৌঁছে যায়। পরীক্ষার জন্য তৈরি কাল্পনিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাস্তব একটি প্রতিষ্ঠানের নামের মিল থাকায় মডেলটি বাস্তব প্রতিষ্ঠানটিকেই পরীক্ষার লক্ষ্য হিসেবে ধরে নেয়। পরে সেটির বিভিন্ন ব্যবস্থায় প্রবেশ করে তথ্য ও পরিচয়পত্রসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, চারটি পৃথক পরীক্ষায় একই বাস্তব প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।   এই ঘটনায় মডেলটি বাস্তব ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করছে এমন কিছু লক্ষণও পেয়েছিল। কিন্তু সেটি গভীরভাবে যাচাই করেনি যে বাস্তব প্রতিষ্ঠানটিতে প্রবেশের অনুমতি আদৌ দেওয়া হয়েছিল কি না। অ্যানথ্রপিকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরবর্তী পর্যায়ে মডেলটি ওই প্রতিষ্ঠানের আরও তথ্য সংগ্রহ করে, প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে কিছু সেটিং পরিবর্তন করে এবং একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্যও দেখে।   অন্য একটি ঘটনায় ক্লড ওপাস ৪.৬-এর একটি পুরোনো সংস্করণ পরীক্ষার নির্ধারিত লক্ষ্য মেশিনে কাজ করতে গিয়ে সেটিকে অপ্রাপ্য করে ফেলে। এরপর মডেলটি আটবার কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করলেও পরীক্ষার আরেকটি ত্রুটির কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে একটি তৃতীয় পক্ষের কম্পিউটারে পৌঁছে যায় এবং সংরক্ষিত পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রশাসনিক পর্যায়ের প্রবেশাধিকার পায়। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, সেশন শেষ হওয়ার আগে মডেলটি ব্যক্তিগত তথ্যও দেখেছিল।   চতুর্থ ঘটনায় অ্যানথ্রপিকের একটি অভ্যন্তরীণ গবেষণা মডেল নির্ধারিত লক্ষ্য ছাড়িয়ে পাশের কিছু ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। পরে সেটি বুঝতে পারে যে বাস্তব অবকাঠামোর মুখোমুখি হয়েছে। এই পর্যায়ে মডেলটি কাজ থামিয়ে দেয় বলে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে। তবে অ্যানথ্রপিক স্পষ্ট করেছে, ঘটনাগুলোকে এমনভাবে দেখা উচিত নয় যে ক্লড নিজে থেকে কোনো নতুন লক্ষ্য তৈরি করে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। চারটি ঘটনাতেই মডেলগুলো তাদের দেওয়া সাইবার নিরাপত্তা কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছিল। কোনো ঘটনায় একাধিক এআই মডেলের মধ্যে সমন্বয়, আলাদা কোনো গোপন লক্ষ্য বা নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা পাওয়া যায়নি।   প্রতিষ্ঠানটির মতে, এসব ঘটনার তাৎক্ষণিক কারণ ছিল পরীক্ষার অবকাঠামোর ভুল কনফিগারেশন। অর্থাৎ ক্লডকে ইন্টারনেটবিহীন পরিবেশে কাজ করতে বলা হলেও বাস্তবে সেই সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ ছিল না। জুলাইয়ে অ্যানথ্রপিক প্রথম তিনটি ঘটনার কথা প্রকাশ করার পর আরও বড় পরিসরে নথি পর্যালোচনা করে জানুয়ারির একটি অতিরিক্ত ঘটনা শনাক্ত করে। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, চারটি ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষগুলোকে তারা অবহিত করেছে। পাশাপাশি স্বাধীন তদন্তের জন্য মূল্যায়ন সংস্থা এমইটিআর-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে। এই তদন্তে অ্যানথ্রপিকের কর্মীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার বাইরের নথিও পর্যালোচনা করার সুযোগ থাকবে।   ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন এআই ব্যবস্থাকে আরও বেশি স্বায়ত্তশাসিত ক্ষমতা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সফটওয়্যার লেখা, সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষা, গবেষণা এবং অন্যান্য কাজে এআইকে নিজে থেকে একাধিক ধাপ সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে একটি মডেল কোনো নির্দেশনা ভুলভাবে বুঝলে বা পরিবেশ সম্পর্কে ভুল ধারণা করলে তার প্রভাব কতদূর যেতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।   অ্যানথ্রপিক নিজেও বলেছে, ভবিষ্যতের আরও শক্তিশালী এআই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একই ধরনের ভুলের সম্ভাব্য ক্ষতি আরও বড় হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, উন্নত এআই ব্যবস্থাকে নির্ভরযোগ্যভাবে মানুষের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা এখনো একটি অমীমাংসিত প্রযুক্তিগত সমস্যা। তাই মডেলের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পরীক্ষার অবকাঠামো, নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি।   তবে প্রতিষ্ঠানটি এটিও জানিয়েছে, তাদের বর্তমান পরীক্ষায় এখন এই নির্দিষ্ট ধরনের পরিস্থিতি যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যানথ্রপিক মনে করছে, অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সূত্র: অ্যানথ্রপিক, নিউজউইক।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
ডার্ক ওয়েবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপুলসংখ্যক রেকর্ড বিক্রির দাবি নিয়ে তদন্ত করছে এফবিআই। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ কোটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ফাঁসের দাবি, তদন্তে এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির দাবিকে কেন্দ্র করে তদন্ত করছে এফবিআই। ‘নেক্সাস’ নামে একটি ডার্ক ওয়েব মার্কেটপ্লেসে বিপুলসংখ্যক ড্রাইভিং লাইসেন্স ও অন্যান্য পরিচয়পত্রের ডিজিটাল কপি বিক্রির তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর এ তদন্ত শুরু হয়। তবে ১৫ কোটি ৩০ লাখ রেকর্ডের সংখ্যা এখনো সরকারি ভাবে নিশ্চিত নয় এবং এটিকে ১৫ কোটি ৩০ লাখ মানুষের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলেও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।   সাইবার নিরাপত্তা সাংবাদিক ব্রায়ান ক্রেবসের পরিচালিত সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রেবসঅনসিকিউরিটির প্রতিবেদনে ১ সেপ্টেম্বর প্রথম নেক্সাসের বিষয়টি সামনে আসে। মার্কেটপ্লেসটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের রেকর্ড থাকার দাবি করেছিল। এর পাশাপাশি ১ কোটির বেশি পরিচয়পত্র, ৩০ লাখের বেশি ভ্রমণ নথি বা আন্তর্জাতিক পরিচয়পত্র এবং অন্তত ৫ লাখ ৭৯ হাজার মেডিকেল কার্ডের রেকর্ড থাকার দাবিও করা হয়।   এফবিআইয়ের নিউ অরলিন্স কার্যালয় পরে ঘটনাটি তদন্তের কথা নিশ্চিত করেছে। তদন্ত চলমান থাকায় সংস্থাটি ফাঁস হওয়া তথ্যের প্রকৃত পরিমাণ, উৎস বা কতজন মানুষের তথ্য এতে রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।   ঘটনাটির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, প্রকাশিত তথ্য শুধু নাম বা পরিচয় নম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার দাবি করা হয়নি। প্রতিবেদনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের সামনের ও পেছনের ছবি এবং কিছু ক্ষেত্রে ইনফ্রারেড ও অতিবেগুনি রশ্মির মাধ্যমে ধারণ করা ছবিসহ পরিচয়পত্রের বিস্তারিত স্ক্যান থাকার কথা বলা হয়েছে। এসব তথ্য পরিচয় চুরি, জালিয়াতি এবং বিভিন্ন ধরনের পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়ায় অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   ক্রেবসঅনসিকিউরিটির অনুসন্ধানে কিছু রেকর্ডের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুসন্ধানের সময় প্রতিবেদক নিজের ড্রাইভিং লাইসেন্সের রেকর্ডও নেক্সাসে দেখতে পেয়েছেন। কয়েকটি রেকর্ডের স্ক্যানের সময়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাস্তব জীবনে পরিচয়পত্র ব্যবহারের সময়ের মিলও পাওয়া যায়। এসব তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ডার্ক ওয়েবে থাকা অন্তত কিছু রেকর্ড বাস্তব এবং সাম্প্রতিক সময়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল।   তদন্তে লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্সভিত্তিক পরিচয় যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান আইডিস্ক্যান ডটনেটের নামও উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ব্যবসাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স, অঙ্গরাজ্যের পরিচয়পত্র, পাসপোর্টসহ সরকারি পরিচয়পত্র স্ক্যান ও যাচাইয়ের প্রযুক্তি সরবরাহ করে। তবে নেক্সাসে থাকা সব তথ্যের উৎস আইডিস্ক্যান ডটনেট, এমনটি এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।   আইডিস্ক্যান ডটনেট জানিয়েছে, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঘটনার বিষয়ে তারা তদন্ত করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক অবস্থান অনুযায়ী, তাদের গ্রাহকদের তথ্য অননুমোদিতভাবে ব্যবহার বা কপি করা হয়ে থাকতে পারে কি না এবং হলে এর পরিমাণ কত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখনো চূড়ান্তভাবে কতজন গ্রাহক বা ব্যক্তির তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।   নেক্সাসের সাইটটি প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই ডার্ক ওয়েব থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। তবে সাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে সেখানে থাকা তথ্যের অন্য কোনো কপি মুছে গেছে। তথ্য অন্যত্র সংরক্ষিত বা ছড়িয়ে পড়েছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ।   এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গাড়ি ভাড়া, ব্যাংকিং, ঋণ, চাকরি, বয়স যাচাই কিংবা অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স স্ক্যান করা হয়। ফলে এ ধরনের তথ্য চুরি হলে তা ভবিষ্যতে পরিচয় যাচাইয়ের বিভিন্ন ধাপে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।   তবে এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য এমন কোনো সরকারি তালিকা বা অনুসন্ধান ব্যবস্থা চালু হয়নি, যেখানে ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ফাঁস হয়েছে কি না তা সরাসরি যাচাই করা যাবে। তাই নেক্সাসের ১৫ কোটি ৩০ লাখ রেকর্ডের দাবি দেখে প্রত্যেক লাইসেন্সধারীর তথ্য ফাঁস হয়েছে ধরে নেওয়াও ঠিক হবে না।   সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের পরিস্থিতিতে অচেনা ফোন, ইমেইল বা খুদে বার্তায় ব্যক্তিগত তথ্য, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ছবি, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা ব্যাংকিং তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ব্যাংক ও ঋণসংক্রান্ত অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন বা নতুন কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।   এফবিআইয়ের তদন্ত এবং আইডিস্ক্যান ডটনেটের অভ্যন্তরীণ ফরেনসিক পর্যালোচনা শেষ হলে ফাঁস হওয়া তথ্যের প্রকৃত উৎস, পরিমাণ এবং কতজন মানুষের তথ্য এতে জড়িত, সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে। আপাতত ১৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের দাবিটি একটি ডার্ক ওয়েব মার্কেটপ্লেসের দেওয়া সংখ্যা, নিশ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা নয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
জিরো ক্লিক অ্যাটাকের মাধ্যমে স্মার্টফোনের নিয়ন্ত্রণ না নিয়েই মেসেজিং অ্যাপের তথ্য চুরি করতে সক্ষম গ্রাফাইট। ছবি: সংগৃহীত
ফোনে গোপনে নজরদারি করতে পারে ‘গ্রাফাইট’, এই স্পাইওয়্যার নির্মাতার সঙ্গে আইসিইর ২০ লাখ ডলারের চুক্তি

একটি স্মার্টফোনে গোপনে ঢুকে ব্যক্তিগত বার্তা ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করতে পারে ‘গ্রাফাইট’ নামের শক্তিশালী স্পাইওয়্যার। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এর কিছু আক্রমণে ফোনের মালিককে কোনো লিংকে ক্লিক করা, ফাইল খোলা কিংবা কোনো সফটওয়্যার ডাউনলোড করার প্রয়োজনও হয় না। এমন প্রযুক্তি তৈরি করা প্রতিষ্ঠান প্যারাগন সলিউশন্সের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর ২০ লাখ ডলারের একটি চুক্তি রয়েছে।   গ্রাফাইটকে বাণিজ্যিক নজরদারি প্রযুক্তির একটি শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়। এটি সরকারের গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কাছে বিক্রি করা হয়। বহুল আলোচিত পেগাসাসের মতো গ্রাফাইটও এমন প্রযুক্তির অংশ, যেগুলো নির্দিষ্ট ব্যক্তির স্মার্টফোনে গোপনে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা দেয়। তবে প্যারাগনের প্রযুক্তির বিষয়ে সব তথ্য প্রকাশ্যে নেই। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, তারা যাচাই করা সরকারি সংস্থার কাছেই প্রযুক্তি বিক্রি করে এবং সাংবাদিক বা নাগরিক সমাজের সদস্যদের বেআইনিভাবে নজরদারির অনুমতি দেয় না। কিন্তু ইতালি ও ইউরোপের কয়েকটি ঘটনায় গবেষকেরা গ্রাফাইটের ব্যবহার নিয়ে ফরেনসিক প্রমাণ পাওয়ার পর প্রযুক্তিটির ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   গ্রাফাইট কীভাবে ফোনে ঢোকে গ্রাফাইটের সবচেয়ে আলোচিত সক্ষমতার একটি হলো ‘জিরো-ক্লিক’ আক্রমণ। সাধারণ সাইবার হামলায় ব্যবহারকারীকে কোনো ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করতে, সংযুক্ত ফাইল খুলতে বা কোনো অ্যাপ ইনস্টল করতে হয়। কিন্তু জিরো-ক্লিক আক্রমণে ব্যবহারকারীর এমন কোনো ভুল করার প্রয়োজন নেই। স্মার্টফোনে আসা বার্তা, ছবি বা অন্য কোনো তথ্য প্রদর্শনের আগে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা ও প্রক্রিয়াজাত করে। এই প্রক্রিয়ার কোনো নিরাপত্তা দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিশেষভাবে তৈরি তথ্য ফোনে পৌঁছালে আক্রমণকারী ডিভাইসে ক্ষতিকর কোড চালানোর সুযোগ পেতে পারে। এরপর ফোনের ভেতরে স্পাইওয়্যারের অংশ বসিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।   সিটিজেন ল্যাবের গবেষণা অনুযায়ী, প্যারাগনের অবকাঠামো ও গ্রাফাইটের সঙ্গে যুক্ত একটি জিরো-ক্লিক আক্রমণ শনাক্ত করতে হোয়াটসঅ্যাপকে সহায়তা করেছিল তাদের গবেষণা। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াটসঅ্যাপ প্রায় ৯০ জন ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে জানায় যে তারা প্যারাগনের স্পাইওয়্যারের লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারেন। আক্রান্তদের মধ্যে সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সদস্যও ছিলেন। হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রে আক্রমণের একটি পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পিডিএফ ফাইল ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল। লক্ষ্যবস্তুদের একটি গ্রুপে যুক্ত করে তাদের কাছে ওই ধরনের ফাইল পাঠানো হয়েছিল। গবেষকদের কাছে এটিই গ্রাফাইটের জিরো-ক্লিক সক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে ওঠে।   এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনও কেন পুরোপুরি রক্ষা করতে পারে না গ্রাফাইটের মতো স্পাইওয়্যার নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো, হোয়াটসঅ্যাপ বা সিগন্যালের মতো অ্যাপের বার্তা যদি এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনে সুরক্ষিত থাকে, তাহলে সেগুলো কীভাবে পড়া সম্ভব? এর উত্তর হলো, এনক্রিপশন বার্তাকে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে যাওয়ার সময় সুরক্ষা দেয়। কিন্তু বার্তাটি ব্যবহারকারীর ফোনে পৌঁছে অ্যাপ যখন সেটিকে পড়ার উপযোগী করে, তখন সেটি ডিভাইসের ভেতরেই দৃশ্যমান হয়ে যায়। স্পাইওয়্যার যদি আগে থেকেই সেই ফোনে প্রবেশ করতে পারে, তাহলে এনক্রিপশন ভাঙার প্রয়োজন ছাড়াই ডিভাইসের ভেতরে থাকা তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে। এই কারণেই গ্রাফাইটের মতো স্পাইওয়্যার শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা নয়, বরং পুরো ডিভাইসের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।   ইতালিতে সাংবাদিক ও অভিবাসন অধিকারকর্মীদের ফোনে গ্রাফাইট গ্রাফাইট নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তদন্তগুলোর একটি হয়েছে ইতালিতে। সিটিজেন ল্যাব কয়েকজন ইতালীয় নাগরিকের ফোন ফরেনসিকভাবে পরীক্ষা করে প্যারাগনের স্পাইওয়্যারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চিহ্ন খুঁজে পায়। লুকা কাসারিনি ও জুসেপ্পে কাচ্চি নামে দুই অভিবাসন অধিকারকর্মীর অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গ্রাফাইট-সংশ্লিষ্ট স্পাইওয়্যার ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। ইতালীয় সাংবাদিক ফ্রানচেস্কো কানচেল্লাতোকেও হোয়াটসঅ্যাপ সতর্ক করেছিল যে তার ফোন লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারে। ২০২৬ সালের মার্চে রোম ও নেপলসের প্রসিকিউটরদের তদন্তে তিনটি ফোনেই ক্ষতিকর সফটওয়্যারের চিহ্ন পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের মতে, কাসারিনি, কাচ্চি ও কানচেল্লাতোর ফোনে একই সময়ের কাছাকাছি অস্বাভাবিক কার্যক্রম দেখা যায় এবং সেগুলো গ্রাফাইটের কার্যপ্রণালির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ইতালীয় তদন্তে কাসারিনি ও কাচ্চির বিরুদ্ধে গ্রাফাইট ব্যবহারের সঙ্গে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রমের সম্পর্ক পাওয়া গেলেও সাংবাদিক কানচেল্লাতোর ক্ষেত্রে একই ধরনের সরকারি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত এখনো তার ফোনে কে নজরদারি চালিয়েছিল, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছে। ইতালীয় গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাসারিনি ও কাচ্চির ওপর গ্রাফাইট ব্যবহার আইনগত অনুমোদনের ভিত্তিতে করা হয়েছিল। সাংবাদিক কানচেল্লাতোর ক্ষেত্রে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই বলেও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। এই ঘটনায় একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি দাবি করে যে তার প্রযুক্তি শুধু আইনসম্মত নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, তাহলে বাস্তবে কোনো সরকারি সংস্থা সেই প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করছে, তা কতটা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব?   প্যারাগনের নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের ছবিও আলোচনায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাফাইট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় প্যারাগনের একজন শীর্ষ আইন কর্মকর্তার লিংকডইনে দেওয়া একটি ছবিকে ঘিরে। ছবিতে পেছনের একটি বড় পর্দায় গ্রাফাইটের নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের মতো একটি ইন্টারফেস দেখা যায়। পরে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হলেও সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা ছবিটি সংরক্ষণ করেন। ছবিতে একটি ফোন নম্বর, ‘ভ্যালেন্তিনা’ নামে একটি পরিচিতি, বার্তা ও তথ্য সংগ্রহের রেকর্ড এবং বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু বিভাগ দেখা যাচ্ছিল বলে সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা জানান। সেখানে হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল, টেলিগ্রাম ও লাইনসহ কয়েকটি যোগাযোগ অ্যাপের চিহ্নও দেখা যায়। এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্যানেল থেকে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ডিভাইসে নজরদারি পরিচালনা, সংগৃহীত তথ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং অনুমোদনের মেয়াদ সম্পর্কিত তথ্য দেখার সুযোগ থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।   প্যারাগনের প্রতিষ্ঠা ও মালিকানা প্যারাগন সলিউশন্স প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালে ইসরায়েলে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক এবং ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০-এর সাবেক কমান্ডার এহুদ শ্নোরসন। ২০২৪ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্টনার্স প্যারাগন অধিগ্রহণে সম্মত হয় বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। চুক্তিটির মূল্য কমপক্ষে ৫০ কোটি ডলার বলে তখন জানানো হয়েছিল। পরে প্যারাগনের শেয়ার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মূল প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরিত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ্যে আসে। প্যারাগন নিজেকে অন্যান্য বিতর্কিত বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যার প্রতিষ্ঠানের তুলনায় দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরে। তাদের বক্তব্য, প্রযুক্তিটি গণতান্ত্রিক দেশের যাচাই করা সরকারি সংস্থার কাছে বিক্রি করা হয় এবং সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সদস্যদের বেআইনিভাবে লক্ষ্যবস্তু করা নিষিদ্ধ। কিন্তু ইতালির ঘটনাগুলো সেই দাবির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কারণ কোনো প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা বাইরের মানুষের পক্ষে যাচাই করা কঠিন।   আইসিইর সঙ্গে ২০ লাখ ডলারের চুক্তি প্যারাগন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ আরও বেড়েছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর সঙ্গে ২০ লাখ ডলারের চুক্তির কারণে। আইসিইর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস বিভাগের সঙ্গে প্যারাগনের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের এক বছরের চুক্তি ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তিটির মূল্য ছিল ২০ লাখ ডলার। কয়েক দিনের মধ্যেই সেটি নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয় এবং ৮ অক্টোবর ‘স্টপ-ওয়ার্ক’ আদেশ দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল চুক্তিটি বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যার ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ২০২৩ সালের নির্বাহী আদেশে এমন বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যার ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, যেগুলো জাতীয় নিরাপত্তা বা মানবাধিকার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রায় এক বছর পর, ২০২৫ সালের আগস্টের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথিতে জানানো হয়, আইসিইর চুক্তির ওপর থাকা ‘স্টপ-ওয়ার্ক’ আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে প্যারাগনের সঙ্গে চুক্তিটি কার্যকর করার পথ আবার খুলে যায়। তবে প্রকাশ্য চুক্তির নথিতে গ্রাফাইটের নাম সরাসরি উল্লেখ নেই। সেখানে প্যারাগনের কাছ থেকে কনফিগার করা মালিকানাধীন সমাধান, সফটওয়্যার লাইসেন্স, হার্ডওয়্যার, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণের কথা রয়েছে। ফলে আইসিই ঠিক কোন নজরদারি সক্ষমতা পেয়েছে বা ব্যবহার করতে চায়, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। এই জায়গাটিই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ গ্রাফাইট যদি চুক্তির আওতায় থাকে বা ভবিষ্যতে ব্যবহার করা হয়, তাহলে প্রচলিত তল্লাশি বা জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই কোনো ব্যক্তির ফোন থেকে যোগাযোগ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার হাতে চলে যেতে পারে।   অভিবাসী ও সাংবাদিকদের ওপর ব্যবহারের আশঙ্কা আইসিই মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা সংস্থা। ফলে প্যারাগনের মতো শক্তিশালী নজরদারি প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের চুক্তি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও গোপনীয়তা অধিকারকর্মীদের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অভিবাসী, আইনজীবী, সাংবাদিক, অধিকারকর্মী বা অন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে কি না। চুক্তির প্রকাশ্য নথিতে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের নিয়ম, ব্যবহারের সীমা এবং স্বাধীন নজরদারির বিস্তারিত তথ্য নেই। বিতর্কের মূল জায়গা এখানেই। কোনো স্মার্টফোনে গ্রাফাইটের মতো প্রযুক্তি সফলভাবে প্রবেশ করলে ব্যবহারকারী নিজে বিষয়টি বুঝতেই নাও পারেন। ফোনে কোনো অস্বাভাবিক বার্তা, পপ-আপ বা সতর্কতা দেখা না দিয়েও তথ্য সংগ্রহ হতে পারে। ফলে সাধারণ নিরাপত্তা সতর্কতা মেনে চলা একজন ব্যবহারকারীর পক্ষেও এমন আক্রমণ ঠেকানো কঠিন হতে পারে। সিটিজেন ল্যাবের গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৯০টি ঘটনা সম্ভবত প্যারাগনের মোট নজরদারি কার্যক্রমের একটি অংশ মাত্র। কারণ সব ধরনের সংক্রমণ একই পদ্ধতিতে শনাক্ত করা সম্ভব নয় এবং অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি কখনোই সতর্কবার্তা পেতে পারেন না। ফলে গ্রাফাইটের ঘটনা শুধু একটি স্পাইওয়্যার বা একটি প্রতিষ্ঠানের বিতর্কে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সরকারি নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের সীমা, নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সাংবাদিকদের তথ্যসূত্রের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার জবাবদিহি নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে।   বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ হলো, প্রযুক্তি ব্যবহারের পর কোনো ব্যক্তি যদি জানতে না পারেন যে তার ফোনে নজরদারি চালানো হয়েছে, তাহলে সেই নজরদারির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও সীমিত হয়ে যায়। আর এ কারণেই গ্রাফাইটের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি নয়, স্বাধীন তদারকি ও স্পষ্ট আইনি সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন অধিকারকর্মীরা। সূত্র: দ্য সিটিজেন ল্যাব

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এআই-নির্ভর সাইবার হামলার আশঙ্কা, সতর্ক করল কর্তৃপক্ষ

যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ, বর্জ্যপানি, বিদ্যুৎ ও রাসায়নিক স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি সাইবার হামলাকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে শিল্পকারখানা ও পানি শোধনাগারে ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা খুঁজতে হামলাকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর সরঞ্জাম ব্যবহার করছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।   সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থা (সিআইএসএ), এফবিআই, এনএসএ এবং অন্যান্য অংশীদার সংস্থার সতর্কতার ভিত্তিতে বিষয়টি সামনে এসেছে। এতে সিমেন্সের এস৭ সিরিজের প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার বা পিএলসিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পানি শোধনাগার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাসায়নিক কারখানা ও বিভিন্ন শিল্প স্থাপনার স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের যন্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।   সিমেন্সের নিজস্ব নিরাপত্তা সতর্কতাতেও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে তাদের এস৭ পিএলসি চলমান সাইবার হুমকি অভিযানের সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জুলাইয়ের হালনাগাদ সতর্কতায় এস৭-১২০০ পিএলসিকেও নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে সিমেন্স জানিয়েছে, তাদের শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় এ হুমকির মাধ্যমে সফলভাবে হামলা চালানোর কোনো ঘটনা এখনো তারা শনাক্ত করেনি।   সতর্কতায় বলা হয়েছে, হামলাকারীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে উন্মুক্ত থাকা এমন পিএলসি খুঁজছে, যেগুলো পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করছে অথবা যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই অনলাইনে সংযুক্ত রয়েছে। এসব যন্ত্রে প্রবেশাধিকার পাওয়া গেলে হামলাকারীরা সংশ্লিষ্ট শিল্প নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্কে আরও গভীরভাবে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।   বিষয়টি বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ, এসব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শুধু কম্পিউটারে তথ্য সংরক্ষণ করে না। এগুলো বাস্তব জগতের যন্ত্রপাতি ও শিল্প প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। ফলে কোনো সিস্টেমে সফলভাবে অনুপ্রবেশ করা গেলে পানি শোধনের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়া কিংবা রাসায়নিক উৎপাদন ব্যবস্থায় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।   তবে সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। এই সতর্কতার মূল লক্ষ্য পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর পরিচালকদের। কোনো নির্দিষ্ট এলাকার পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পানি ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়েছে, এমন তথ্যও প্রকাশিত হয়নি।   সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, এআই ব্যবহারের কারণে সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্ত করা এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো প্রযুক্তি, ভুলভাবে কনফিগার করা যন্ত্র এবং সরাসরি ইন্টারনেটে যুক্ত শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হামলাকারীদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।   পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হতে পারে। কারণ এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সেবা এবং অনেক পানি ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের পুরোনো যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি এখনো ব্যবহৃত হয়। এসব ব্যবস্থা আধুনিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনা ব্যয়বহুল ও জটিল হতে পারে।   সিআইএসএ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইন্টারনেটে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উন্মুক্ত পিএলসি বিচ্ছিন্ন করা, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও ফার্মওয়্যার হালনাগাদ করা এবং নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে। সিমেন্সও গ্রাহকদের সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার, শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ারওয়ালসহ অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।   এদিকে সিমেন্সের কয়েকটি এস৭-সংশ্লিষ্ট পণ্যের নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে ২০২৬ সালেও একাধিক সতর্কতা প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ত্রুটির ক্ষেত্রে সফটওয়্যার হালনাগাদ করে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   সাইবার হামলার ঝুঁকি শুধু বড় অবকাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাড়ির রাউটার ও স্মার্ট ডিভাইসে শক্তিশালী আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, সম্ভব হলে বহুস্তরীয় যাচাই চালু রাখা এবং নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ করা উচিত।   এ ছাড়া অচেনা ই-মেইল, খুদে বার্তা বা ফোনে দেওয়া সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এআইয়ের সাহায্যে তৈরি করা বিশ্বাসযোগ্য দেখতে বার্তা ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা বাড়তে পারে বলে ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।   সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ঘিরে সাইবার হুমকি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি মূলত সম্ভাব্য হামলা ও প্রস্তুতি শনাক্ত হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। সিআইএসএ ও অন্যান্য সংস্থার সতর্কতার পাশাপাশি সিমেন্সও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ওয়ালমার্টের নামে ভুয়া ফোনকল দিয়ে গ্রাহকদের লক্ষ্য করছে প্রতারক চক্র। ছবি: সংগৃহীত
ওয়ালমার্টের নামে ভুয়া রোবো কল, ৯০০ ডলার চুরির নতুন ফাঁদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ওয়ালমার্টের গ্রাহকদের লক্ষ্য করে নতুন ধরনের একটি ফোনভিত্তিক প্রতারণার ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে। ভুয়া স্বয়ংক্রিয় ফোনকলের মাধ্যমে গ্রাহকদের জানানো হচ্ছে, তাদের নামে ওয়ালমার্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ৯১৯ দশমিক ৪৫ ডলারের একটি কেনাকাটা হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো ভয় দেখিয়ে ব্যক্তিগত ও ব্যাংকিং তথ্য হাতিয়ে নেওয়া।   ভোক্তা সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রতারকরা স্বয়ংক্রিয় কণ্ঠে একটি বার্তা শোনায়। সেখানে দাবি করা হয়, গ্রাহকের নামে একটি প্লেস্টেশন ৫ এবং একটি থ্রিডি হেডসেট কেনা হয়েছে, যার মূল্য ৯১৯ দশমিক ৪৫ মার্কিন ডলার। বার্তায় আরও বলা হয়, যদি গ্রাহক এই কেনাকাটা না করে থাকেন, তাহলে অর্ডার বাতিল করতে নির্দিষ্ট একটি নম্বর চাপতে বা একই নম্বরে দ্রুত যোগাযোগ করতে হবে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বার্তার উদ্দেশ্য হলো বড় অঙ্কের অর্থের কথা বলে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, যাতে গ্রাহক তাড়াহুড়ো করে প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (FCC) আগেই এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। সংস্থাটির মতে, ফোনে যোগাযোগ করার পর প্রতারকরা নিজেদের ওয়ালমার্টের সহায়তা কেন্দ্রের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ব্যাংক হিসাব, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে।   এছাড়া নিউ জার্সি সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ইন্টিগ্রেশন সেল (NJCCIC) ২০২৫ সালের এক সতর্কবার্তায় জানায়, অনেক ক্ষেত্রে প্রতারকরা অর্ডার বাতিল বা অর্থ ফেরতের কথা বলে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারে দূর থেকে প্রবেশাধিকার (রিমোট অ্যাকসেস) চায়। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, কেউ যদি এমন প্রবেশাধিকার দিয়ে দেন, তাহলে প্রতারকরা ক্ষতিকর সফটওয়্যার ইনস্টল করতে, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে বা পরে অর্থ দাবি করে ব্ল্যাকমেইল করতেও পারে। কিছু ক্ষেত্রে ভুয়া অর্থ ফেরতের অজুহাতে উপহার কার্ড কিনতেও বলা হয়।   প্রতারণার এই কৌশল নতুন নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিট-এ কয়েক বছর ধরেই একই ধরনের ফোনকল পাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন অনেক ব্যবহারকারী। ২০২৪ সালের একটি পোস্টে এক ব্যক্তি জানান, তার বয়স্ক বাবা প্রায় এই প্রতারণার শিকার হতে বসেছিলেন। তিনি অন্যদেরও পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের এ ধরনের ফোনকল সম্পর্কে সচেতন রাখার পরামর্শ দেন।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ফোনকল পেলে কখনোই আতঙ্কিত হয়ে কলব্যাক করা উচিত নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে সন্দেহজনক কেনাকাটার দাবি করা হলে, প্রথমে ওই প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করে তথ্য যাচাই করা উচিত। ওয়ালমার্টের ক্ষেত্রেও গ্রাহকদের সরাসরি নিজেদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে কেনাকাটার ইতিহাস পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক ফোনকল, বার্তা বা ই-মেইলে দেওয়া নম্বর বা লিংক ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।   বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন ও টেলিফোনভিত্তিক প্রতারণা দ্রুত বাড়ছে। তাই ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক হিসাবের বিবরণ, একবার ব্যবহারযোগ্য পাসকোড (ওটিপি) কিংবা কোনো ধরনের দূরবর্তী প্রবেশাধিকার অপরিচিত ব্যক্তির কাছে না দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
স্কটল্যান্ডের নির্বাচনে ইসরায়েলি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনলাইন হস্তক্ষেপের অভিযোগ

স্কটল্যান্ডের সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনলাইন হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাককোরের বিরুদ্ধে। ফ্রান্সের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ভিজিনাম দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানটি সমন্বিত ভুয়া অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি) এবং স্কটিশ সরকারকে লক্ষ্য করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়েছে।   ফরাসি সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বিভিন্ন প্রক্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে একাধিকবার স্কটিশ সরকার, এসএনপি এবং জন সুইনির বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক প্রচারণা পরিচালিত হয়। একই ধরনের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের পৌর নির্বাচন, ফ্রান্স, টোগো এবং অ্যাঙ্গোলার নির্বাচনী প্রক্রিয়াতেও পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভিজিনামের ডিজিটাল হস্তক্ষেপ বিভাগের প্রধান মার্ক-অঁতোয়ান ব্রিলাঁ বলেন, তদন্তে ব্ল্যাককোরকে এই কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এসব অপারেশনের পেছনে কারা ছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত স্কটল্যান্ডের আঞ্চলিক নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনী সময়জুড়ে একটি সমন্বিত অনলাইন প্রচারণা চালানো হয়। এ উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অন্তত ২৫৬টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয় এবং প্রায় ১ হাজার ৪০০টি মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়।   প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জন সুইনিকে লক্ষ্য করে ৬৫২ বার, এসএনপিকে লক্ষ্য করে ৩৩৮ বার এবং স্কটিশ সরকারকে লক্ষ্য করে ১১২ বার প্রচারণামূলক বার্তা ছড়ানো হয়েছে।   স্কটিশ সরকার ও ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি দীর্ঘদিন ধরে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা করে আসছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপও নিয়েছে স্কটিশ প্রশাসন।   ব্ল্যাককোর নিজেদেরকে “আধুনিক তথ্যযুদ্ধের জন্য নির্মিত একটি অভিজাত ইনফ্লুয়েন্স ও সাইবার প্রযুক্তি কোম্পানি” হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট সরিয়ে ফেলা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েল সরকার জানিয়েছে, ফরাসি প্রতিবেদনের বিস্তারিত পর্যালোচনার পর বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তবে বিদেশি নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।   এদিকে জন সুইনি বলেছেন, অনলাইন বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা গণতন্ত্রের জন্য একটি বাস্তব ও তাৎক্ষণিক হুমকি। এ ধরনের হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।   ফ্রান্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও বিদেশি প্রভাব বিস্তারের অনুরূপ ঝুঁকি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
এমএফএস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা রুখতে সরকারের ৭ পদক্ষেপ

মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে হ্যাকার ও প্রতারক চক্রের কারসাজি ঠেকাতে সরকার সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (৬ এপ্রিল) সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এমএফএস প্রযুক্তিগতভাবে নিরাপদ হলেও গ্রাহকদের অসচেতনতা এবং প্রতারকদের নতুন কৌশলের কারণে মানুষ আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে।   প্রতারক চক্র দমনে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে প্রথমত, একটি এনআইডির বিপরীতে একটি এমএফএস প্রোভাইডারের অধীনে একটি মাত্র হিসাব চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের মোবাইল নম্বরটি তার নিজস্ব এনআইডিতে নিবন্ধিত কি না, তা যাচাই করতে বিটিআরসির সহায়তায় একটি সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর প্রক্রিয়া চলছে। দ্বিতীয়ত, গ্রাহকদের পিন নম্বর সুরক্ষা ও সচেতনতা বাড়াতে এমএফএস প্রোভাইডারদের নিয়মিত এসএমএস, ভয়েস মেসেজ ও গণমাধ্যমে প্রচারণার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   তৃতীয়ত, এমএফএস এজেন্টদের অস্বাভাবিক লেনদেনের ওপর কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। চতুর্থত, গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রোভাইডারদের নিজস্ব অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। পঞ্চমত, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের এই উদ্যোগগুলোর মূল লক্ষ্য হলো ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের জন্য শতভাগ নিরাপদ করে তোলা।   ষষ্ঠত, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন বিভাগ নিয়মিত ঝুঁকি নিরূপণ ও পরিদর্শন কার্যক্রম চালাচ্ছে। সর্বশেষ, সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-এ (বিএফআইইউ) রিপোর্ট করা হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অনলাইন ব্যাংকিং সেবায় সব ব্যাংকে ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ (২এফএ) নিশ্চিত করা হয়েছে, যা গ্রাহকের লেনদেনকে আরও সুরক্ষিত করবে বলে অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তাবাস্সুম এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০