- প্রচ্ছদ
- Topic
স্টুডেন্ট ভিসা
অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বৈধ পাসপোর্টধারীদের আলাদা ইংরেজি ভাষা পরীক্ষার স্কোর জমা দিতে হয় না। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নিয়মে এসব দেশের নাগরিকরা ইংরেজি পরীক্ষার প্রমাণ থেকে ছাড়ের আওতায় রয়েছেন। ছাড় পাওয়া পাঁচ দেশ হলো - যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট দেশের বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে। তবে এই সুবিধা শুধু নাগরিকত্বের ভিত্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীও ইংরেজি পরীক্ষার স্কোর জমা দেওয়া থেকে ছাড় পেতে পারেন। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ফরেন অ্যাফেয়ার্স বা ডিফেন্স স্পনসরড শিক্ষার্থী, নির্দিষ্ট এক্সচেঞ্জ শিক্ষার্থী এবং কিছু নির্দিষ্ট কোর্সে ভর্তি শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। এ ছাড়া গত পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা বা আয়ারল্যান্ডে নির্দিষ্ট সময় ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা সম্পন্ন করলেও কিছু ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়া যায়। অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় থাকার সময় গত দুই বছরের মধ্যে নির্দিষ্ট মাধ্যমিক বা উচ্চতর যোগ্যতা অর্জন করলেও কিছু ছাড় প্রযোজ্য হতে পারে। বাংলাদেশ এই পাঁচ দেশের তালিকায় নেই। তাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা শুধু বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকার কারণে এই নির্দিষ্ট ছাড় পাবেন না। তবে তারা অন্য কোনো ছাড়ের শর্ত পূরণ করলে ইংরেজি পরীক্ষার প্রমাণ থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন। অন্যদিকে ছাড়ের আওতায় না থাকা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে নির্দিষ্ট অনুমোদিত পরীক্ষার ফল গ্রহণ করে। এর মধ্যে আইইএলটিএস, পিটিই, টোফেল, কেমব্রিজ, সেলপিপ, ওইটি, এমইটি এবং ল্যাঙ্গুয়েজসার্ট রয়েছে। ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট থেকে এসব পরীক্ষার নিয়ম ও গ্রহণযোগ্য স্কোরে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এটি শুধু স্টুডেন্ট ভিসার বিষয় নয় - অস্ট্রেলিয়ার কিছু অন্যান্য ভিসাতেও পাঁচ দেশের নাগরিকদের পাসপোর্ট ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। যেমন কম্পিটেন্ট ইংলিশ ও ফাংশনাল ইংলিশ-এর সরকারি সংজ্ঞাতেও একই পাঁচ দেশের নাগরিকদের কথা বলা হয়েছে।
বিবাহিত শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পরিবার পেছনে ফেলে যাওয়া সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি। তবে বিশ্বের এমন ১৪টি দেশ রয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাঁদের পড়াশোনার পাশাপাশি স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন। ডিপেন্ডেন্ট ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিটের মাধ্যমে এই সুযোগ দেওয়া হলেও দেশভেদে এই ভিসার নিয়মকানুন এবং কাজের অনুমতিতে রয়েছে ব্যাপক ভিন্নতা। নাইজেরিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম লেজিট ডট এনজি এবং ভ্যানগার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু দেশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের পূর্ণকালীন কাজের অধিকার দিলেও অন্য দেশগুলোতে এ ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বা পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যেসব দেশে পরিবারের জন্য নিয়মকানুন অপেক্ষাকৃত সহজ, তার মধ্যে অন্যতম অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। দেশ দুটিতে শিক্ষার্থীরা মূল ভিসা আবেদনের সময়ই পরিবারের সদস্যদের যুক্ত করতে পারেন কিংবা পরবর্তীতে আলাদাভাবে আবেদন করতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ায় স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রীরা কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা ছাড়া কাজ করার সুযোগ পান। তবে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গীরা সাধারণত প্রতি পাক্ষিকে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। কানাডায় যোগ্য শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রীকে মূল ভিসার মেয়াদের সমান সময়ের জন্য ওপেন ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়। জার্মানিতে অন্তত এক বছর মেয়াদি কোর্সে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা পরিবার নিয়ে যেতে পারেন। তবে এর জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা, উপযুক্ত বাসস্থান, বিবাহ সনদ, সঙ্গীর বয়স অন্তত ১৮ বছর হওয়া এবং প্রাথমিক পর্যায়ের জার্মান ভাষা জানার প্রমাণ দেখাতে হয়। জার্মানিতে শিক্ষার্থীদের যোগ্য সঙ্গীরা কাজেরও অনুমতি পান। ডেনমার্ক এবং ফিনল্যান্ডও পরিবার নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ সহায়ক। ডেনিশ এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ইন্টিগ্রেশন বা সিরি এর মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বসবাসের অনুমতি পেলে সঙ্গীরা পূর্ণকালীন কাজ করতে পারেন। এছাড়া সুইডেন এবং নিউজিল্যান্ডেও শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য বসবাসের অনুমতির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে নেদারল্যান্ডসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গীরা বসবাসের অনুমতি পেলেও সরাসরি বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ পান না। অন্যদিকে কিছু দেশ সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য নিয়মে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। যুক্তরাজ্য ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে তাদের নীতিমালা কঠোর করেছে। নতুন নিয়মে কেবল পিএইচডি, অন্যান্য ডক্টরেট ডিগ্রি বা নির্দিষ্ট কিছু গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর কোর্সের শিক্ষার্থীরাই পরিবার নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার সম্পূর্ণ খরচ বহনকারী সরকারি বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের কোর্স ছয় মাসের বেশি, তারাও এই সুবিধা পান। এই সুবিধার আওতায় স্বামী, স্ত্রী বা অন্তত দুই বছর ধরে একসঙ্গে বসবাসকারী অবিবাহিত সঙ্গীরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। এদিকে পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দ্রুত ভিসার আবেদন করার তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের ভিসা ও অভিবাসন সংস্থা ইউকেভিআই। সংস্থাটি জানিয়েছে, আবেদনে দেরি হলে ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে। আবেদনের ক্ষেত্রে বৈধ পাসপোর্ট এবং ক্যাস বা কনফার্মেশন অব এক্সেপ্টেন্স ফর স্টাডিজ সহ ছয়টি মূল বিষয় নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এফ ১ ভিসা নিয়ে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এফ ২ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এফ ২ ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের কাজের অনুমতি নেই। সিঙ্গাপুরে এই নিয়ম বেশ কঠোর। স্নাতক বা অধিকাংশ স্নাতকোত্তর কোর্সের শিক্ষার্থীরা সাধারণ স্টুডেন্ট পাসের মাধ্যমে পরিবার নেওয়ার সুযোগ পান না। সেখানে পরিবারের সদস্যদের জন্য লং টার্ম ভিজিট পাসের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হতে পারে। মালয়েশিয়ায় মাস্টার্স বা পিএইচডির মতো দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসের মাধ্যমে পরিবারের জন্য ডিপেন্ডেন্ট পাসের আবেদন করতে পারেন। হংকংয়ে স্থানীয় পূর্ণকালীন ডিগ্রি কোর্সে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। তবে আলাদা অনুমতি ছাড়া তারা কাজ করতে পারেন না। চীনে ১৮০ দিনের বেশি অবস্থানের জন্য এস ১ ভিসা এবং স্বল্পমেয়াদি অবস্থানের জন্য এস ২ ভিসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা দেশটিতে যাওয়ার আবেদন করতে পারেন। শিক্ষাবিদ ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বিদেশে পড়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন ওয়েবসাইটের সর্বশেষ নীতিমালা যাচাই করে নেওয়া জরুরি। সূত্র: লেজিট ডট এনজি ও ভ্যানগার্ড
যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিনের প্রচলিত ভিসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। নতুন নীতির আওতায় শিক্ষার্থীরা আর অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ‘স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস’ ধরে রেখে দেশটিতে থাকতে পারবেন না। পরিবর্তে তাদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদের অবস্থানের নিয়ম চালু করা হতে পারে। ব্লুমবার্গ ল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিনের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ (ডিওএস) সুবিধা বাতিল করে নির্দিষ্ট মেয়াদভিত্তিক অবস্থানের নিয়ম চালুর প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে হোয়াইট হাউস। বর্তমানে ‘এফ’ ক্যাটাগরির স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা তাদের একাডেমিক প্রোগ্রাম চলমান থাকা এবং ভিসার শর্ত মেনে চলার ভিত্তিতে কোর্স সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারেন। অর্থাৎ তাদের থাকার সময়সীমা নির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত থাকে না। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদের অনুমোদন দেওয়া হবে। সেই মেয়াদের মধ্যে পড়াশোনা শেষ না হলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান অব্যাহত রাখতে তাদের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন করে মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করতে হবে। হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি) ইতোমধ্যে চূড়ান্ত প্রবিধানটির পর্যালোচনা সম্পন্ন করেছে। এটি কোনো নতুন নিয়ম কার্যকরের আগে শেষ দিকের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে নীতিটি প্রকাশ ও বাস্তবায়নের পথ এখন অনেকটাই পরিষ্কার। নতুন নীতিমালা শুধু এফ ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেই নয়, জে এক্সচেঞ্জ ভিজিটর, আই ক্যাটাগরির ভিসাধারী এবং তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য সর্বোচ্চ চার বছরের অবস্থানের অনুমতি নির্ধারণ করা হতে পারে। যেসব শিক্ষার্থীর ডিগ্রি বা গবেষণা কার্যক্রম শেষ করতে চার বছরের বেশি সময় প্রয়োজন হবে, তাদের অতিরিক্ত সময়ের জন্য পৃথক আবেদন করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) ২০২৫ সালে প্রথম এই পরিবর্তনের প্রস্তাব উত্থাপন করে। যদিও এর মূল ধারণা প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সামনে আসে, তখন তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। এবার হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় নিয়মটি যেকোনো সময় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হতে পারে। এটি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা ব্যবস্থাপনা, একাডেমিক পরিকল্পনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সব ধরনের ভিসা ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব আবেদন ফিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউকে হোম অফিস জানিয়েছে, নতুন এই ফি ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। নতুন হার অনুযায়ী, ৬ মাস পর্যন্ত ভিজিট ভিসা ফি ৬ পাউন্ড বাড়িয়ে ১৩৫ পাউন্ড করা হচ্ছে। ২ বছর মেয়াদি ভিজিট ভিসা ৩১ পাউন্ড বৃদ্ধি পেয়ে ৫০৬ পাউন্ড, ৫ বছর মেয়াদি ভিসা ৫৫ পাউন্ড বাড়িয়ে ৯০৩ পাউন্ড এবং ১০ বছর মেয়াদি ভিসা ৬৯ পাউন্ড বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ১২৮ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারী ও তার নির্ভরশীলদের জন্য ফি ৩৪ পাউন্ড বাড়িয়ে ৫৫৮ পাউন্ড করা হচ্ছে। একাডেমিক কাজের জন্য ৬ থেকে ১২ মাস মেয়াদি ভিজিট ভিসা ১৪ পাউন্ড বাড়িয়ে ২৩৪ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। একই হারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা ভিসার ফিও বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে দক্ষ কর্মীদের স্পন্সরশিপ ভিসার ক্ষেত্রে ৩ বছর পর্যন্ত কাজের জন্য ফি ৫০ পাউন্ড এবং ৩ বছরের বেশি হলে ৯৯ পাউন্ড বৃদ্ধি পাবে। হেলথ কেয়ার কর্মীদের জন্য ৩ বছর পর্যন্ত আবেদনে ২০ পাউন্ড এবং এর বেশি হলে ৩৮ পাউন্ড বাড়ছে। সিজনাল ওয়ার্কারদের আবেদন ফি ২১ পাউন্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের ভেতরে দক্ষ কর্মীদের স্পন্সরশিপ ভিসার ক্ষেত্রে ৩ বছর পর্যন্ত কাজের জন্য ফি ৫৮ পাউন্ড এবং ৩ বছরের বেশি হলে ১১৪ পাউন্ড বাড়ানো হচ্ছে। ভিজিটর ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনের ফি ৭২ পাউন্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া বিমানবন্দরে ট্রানজিট ভিসা আড়াই পাউন্ড এবং স্থল সীমান্ত দিয়ে ট্রানজিট ভিসা সাড়ে ৪ পাউন্ড বাড়ানো হচ্ছে। ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথোরাইজেশন (ইটিএ) ফি ৪ পাউন্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা ফি ১৯৭ পাউন্ড বাড়ানো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।