যুক্তরাষ্ট্রে বছরে দুইবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের প্রথা বাতিল করে ডে-লাইট সেভিং টাইম (ডিএসটি) সারা বছর চালুর উদ্যোগ আরও এক ধাপ এগিয়েছে। মঙ্গলবার প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ‘সানশাইন প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ পাস হয়েছে। এখন বিলটি সিনেটে অনুমোদনের অপেক্ষায়। সিনেটে পাস হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে স্বাক্ষর করবেন বলে জানিয়েছেন। বিলটি আইনে পরিণত হলে অ্যারিজোনা ও হাওয়াই ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব অঙ্গরাজ্য সারা বছর ডে-লাইট সেভিং টাইম অনুসরণ করবে। এর ফলে সন্ধ্যায় সূর্যের আলো কিছুটা বেশি সময় থাকবে, তবে শীতকালে অনেক এলাকায় সকাল ৮টার আগে সূর্যোদয় হবে না। আইনপ্রণেতাদের দাবি, বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের ঝামেলা দূর হবে, সন্ধ্যার অতিরিক্ত আলো অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে ঘুম ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশ এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন। আমেরিকান একাডেমি অব স্লিপ মেডিসিনের মুখপাত্র ও ঘুম বিশেষজ্ঞ ডা. কারিন জনসনের ভাষ্য, ডে-লাইট সেভিং টাইম মানুষের স্বাভাবিক জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে মানুষ কখনোই পুরোপুরি এ সময়সূচির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, সন্ধ্যায় অতিরিক্ত আলো থাকলেও মানুষ নতুন করে বেশি ব্যায়াম শুরু করে না। বরং যাঁরা আগে থেকেই ব্যায়াম করতেন, তাঁরা সময় পরিবর্তন করেন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে স্থূলতা ও হৃদ্রোগের হার বাড়ার মতো উদ্বেগজনক প্রবণতাও কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে। অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্লিপ অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ প্রোগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক মাইকেল গ্র্যান্ডনার বলেন, এক ঘণ্টার সময় পরিবর্তনের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহে মানুষ মানিয়ে নিতে পারলেও সমস্যা থেকে যায় অন্য জায়গায়। কারণ, ডে-লাইট সেভিং টাইমে মানুষ সূর্যের প্রকৃত অবস্থানের তুলনায় জৈবিকভাবে ‘দেরিতে’ বসবাস করে। কোটি মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে এই সামান্য ঘুমের ঘাটতিও জনস্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। রাশ ইউনিভার্সিটি সিস্টেম ফর হেলথের চিকিৎসক ডা. জেমস রাউলি বলেন, সকালে প্রাকৃতিক আলো মানুষের শরীরকে জাগিয়ে তুলতে এবং রাতে অন্ধকার ঘুমের প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করে। এ স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হলে হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মানুষের খাদ্যাভ্যাসও বদলে যায়। তখন বেশি চিনি ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়, যা স্থূলতা ও বিপাকজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর-কিশোরীরা এ পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক শিক্ষার্থী এমনিতেই পর্যাপ্ত ঘুম পায় না। শীতকালে অন্ধকার সকালে স্কুলে যেতে হলে তাদের ঘুমের ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পড়াশোনা, মানসিক স্বাস্থ্য, আচরণ এবং সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতার ওপর। ডা. জনসনের মতে, ঘুমের ঘাটতির কারণে অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তাদের মনোযোগ, প্রতিক্রিয়ার গতি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে গেছে। কিন্তু চিকিৎসার পর তারা উপলব্ধি করেন, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবন কতটা প্রভাবিত হচ্ছিল। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ডে-লাইট সেভিং টাইমের প্রভাব সবার ক্ষেত্রে সমান হবে না। উত্তরাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে, বিশেষ করে একটি টাইম জোনের পশ্চিম প্রান্তে বসবাসকারীরা তুলনামূলক বেশি জৈবিক সময়ের অসামঞ্জস্যের মুখে পড়তে পারেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মার্চের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত ডে-লাইট সেভিং টাইম এবং বাকি সময় স্ট্যান্ডার্ড টাইম কার্যকর থাকে। নতুন বিলটি আইনে পরিণত হলে বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের প্রয়োজন থাকবে না। তবে ঘুম ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বড় অংশের মত, যদি একটি সময়ব্যবস্থা স্থায়ী করতেই হয়, তাহলে ডে-লাইট সেভিং টাইম নয়; বরং স্থায়ী স্ট্যান্ডার্ড টাইমই মানুষের জৈবঘড়ি ও স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপযোগী হবে। যদিও প্রতিনিধি পরিষদে ডে-লাইট সেভিং টাইম স্থায়ীকরণের বিল পাস হওয়ার পর সেই বিকল্প প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সৃষ্টি করে নতুন সিনেটর হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ডারলাইন গ্রাহাম নরডোন। গত মঙ্গলবার এক জাঁকজমকপূর্ণ ও আবেগঘন পরিবেশে তিনি তার প্রয়াত ভাই, দক্ষিণ ক্যারোলিনার প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের স্থলাভিষিক্ত হন। মার্কিন সিনেটের দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সিনেটর পদে কর্মরত অবস্থায় মারা যাওয়ার পর তার আপন ভাই বা বোন সেই শূন্য আসনের দায়িত্ব নিয়ে সিনেটর হিসেবে শপথ নিলেন। ডারলাইনের এই আনুষ্ঠানিক যোগদানের মধ্য দিয়ে মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকান দল আবারও তাদের ৫৩-৪৭ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেল। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে হালকা নীল রঙের পোশাকে ডারলাইন গ্রাহাম নরডোন সিনেটর হিসেবে তার শপথবাক্য পাঠ করেন। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তটির সাক্ষী হতে সিনেট কক্ষে উপস্থিত ছিলেন অধিকাংশ বর্তমান সিনেটর, বেশ কয়েকজন প্রাক্তন সিনেটর, হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভে দক্ষিণ ক্যারোলিনার প্রতিনিধি দল এবং ক্যাবিনেট সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ও মার্কো রুবিওসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা। গত শনিবার ৭১ বছর বয়সে হৃদ্রোগজনিত জটিলতায় (অর্টিক ডিসেকশন) লিন্ডসি গ্রাহামের আকস্মিক প্রয়াণের পর দক্ষিণ ক্যারোলিনার গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার ডারলাইনকে এই পদের জন্য মনোনীত করেছিলেন। ১৯৯৫ সাল থেকে কংগ্রেসে দক্ষিণ ক্যারোলিনার প্রতিনিধিত্ব করা লিন্ডসি গ্রাহাম মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও কট্টরপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শৈশবে ১৯৭৬ ও ১৯৭৭ সালে মাত্র ১৫ মাসের ব্যবধানে বাবা-মা উভয়কে হারানোর পর লিন্ডসি গ্রাহাম তার চেয়ে আট বছরের ছোট বোন ডারলাইনকে পরম যত্নে আগলে রাখেন এবং আইনিভাবে দত্তক নেন। বর্তমানে ৬২ বছর বয়সী ডারলাইন এতকাল দক্ষিণ ক্যারোলিনায় প্রচারণাবিমুখ ও সাধারণ জীবনযাপন করলেও, ভাইয়ের কংগ্রেস ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় সবসময় জাতীয় মঞ্চে তার পাশে থেকেছেন। পেশাগত জীবনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানে নিয়োজিত থাকা ডারলাইন আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে, লিন্ডসি গ্রাহামের মৃত্যুর কারণে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের পক্ষে কে পূর্ণ মেয়াদের জন্য লড়বেন, তা নিয়ে দক্ষিণ ক্যারোলিনার রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যে জোর গুঞ্জন ও আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের আকস্মিক মৃত্যুর পর শোকের আবহ কাটতে না কাটতেই তাঁর শূন্য হওয়া সিনেট আসনকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে জোর রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। একই সময়ে গ্রাহামের মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চললেও এফবিআই জানিয়েছে, তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে তদন্তে সহায়তা করছে। গ্রাহামের দপ্তর জানায়, ৭১ বছর বয়সী এই সিনেটর শনিবার রাতে স্বল্প সময়ের অসুস্থতার পর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর খবরে ওয়াশিংটন ও নিজ অঙ্গরাজ্য সাউথ ক্যারোলাইনায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুর আগে তিনি এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। সাউথ ক্যারোলাইনার আইন অনুযায়ী, গ্রাহামের শূন্য আসনে নতুন প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য দ্রুত বিশেষ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগামী ১১ আগস্ট রিপাবলিকান দলের প্রাথমিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে ২৫ আগস্ট রান-অফ নির্বাচন হবে। প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় শুরু হবে ২১ জুলাই। এদিকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে কয়েকজন রিপাবলিকান নেতার নাম ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাউথ ক্যারোলাইনার লেফটেন্যান্ট গভর্নর পামেলা ইভেট, কংগ্রেস সদস্য ন্যান্সি মেস, রাসেল ফ্রাই এবং রালফ নরম্যান। এছাড়া ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকেও নির্বাচন করার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি। তবে তিনি আপাতত ট্রেজারি সেক্রেটারির দায়িত্বেই থাকতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। রিপাবলিকান দলের শীর্ষ নেতাদের একটি অংশ চাইছেন, প্রতিনিধি পরিষদের কোনো সদস্যকে সিনেটে না পাঠাতে। কারণ, প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বর্তমানে খুবই অল্প ব্যবধানে রয়েছে। কোনো সদস্য সিনেটে চলে গেলে সেই ব্যবধান আরও কমে যেতে পারে। গ্রাহামের মৃত্যু সিনেটেও বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পররাষ্ট্রনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা, ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি ইউক্রেন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছিলেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এই সফরের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলের একটি অংশে তাঁর মৃত্যু নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপরাধমূলক ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জরুরি চিকিৎসা সেবার অডিও রেকর্ড অনুযায়ী, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বুকে ব্যথার অভিযোগে তাঁর ক্যাপিটল হিলের বাসভবনে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য ফোন করা হয়েছিল। রাশিয়াবিষয়ক কর্মী বিল ব্রাউডার প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ফরেনসিক পরীক্ষা করা উচিত। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সংস্থা বা আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সন্দেহজনক মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়নি। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল রোববার জানান, গ্রাহামের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে এফবিআই তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সম্পদ প্রস্তুত রেখেছে। তবে তদন্তের প্রকৃতি বা কোনো নির্দিষ্ট অনুসন্ধান চলছে কি না—সে বিষয়ে সংস্থাটি বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। লিন্ডসি গ্রাহাম সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে টানা পঞ্চম মেয়াদের জন্য সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যু শুধু সাউথ ক্যারোলাইনায় নয়, ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্যেও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা ও ভাড়া নেওয়ার ক্রমবর্ধমান খরচ কমাতে এবং দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিদলীয় বিল সিনেটে ব্যাপক সমর্থনে পাস হয়েছে। আইনপ্রণেতারা বলছেন, নতুন এই উদ্যোগ আবাসন সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে বাড়ির দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করবে। সোমবার সিনেটে ‘২১শ শতাব্দীর রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট’ ৮৫–৫ ভোটে পাস হয়। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের সমর্থন পাওয়া এই বিল এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো হবে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়ির দাম ও ভাড়া দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় আবাসন সংকট একটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিলটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় আবাসন নীতিগত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইনটিতে নতুন বাড়ি নির্মাণের পথে থাকা বিভিন্ন প্রশাসনিক বাধা কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, নতুন আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধি এবং কিছু ক্ষেত্রে একক পরিবারের বাড়ি কেনায় বড় কর্পোরেট বিনিয়োগকারীদের প্রভাব সীমিত করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিলটি চূড়ান্ত করার আগে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। পরে উভয় পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সংস্করণ তৈরি করা হয়। সিনেট ব্যাংকিং কমিটির চেয়ারম্যান টিম স্কট বলেন, বছরের পর বছর ধরে চলা কাজের ফল হিসেবে এই আইন আবাসন খরচ কমানো, সরবরাহ বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সিনেট ব্যাংকিং কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেন, নতুন আইন আবাসন নির্মাণে বিদ্যমান বাধা দূর করবে এবং বাজারে আরও বাড়ি যোগ করতে সহায়তা করবে। তার মতে, আবাসনকে শুধু বিনিয়োগের পণ্য হিসেবে না দেখে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি। হোয়াইট হাউসও বিলটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। বিশেষ করে একক পরিবারের বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বড় কর্পোরেট বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা সীমিত করার প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিলটিতে ৪৫টিরও বেশি ধারা রয়েছে। এর মধ্যে আবাসন নির্মাণে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা, পরিবেশগত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, উদ্ভাবনী আবাসন তহবিল গঠন এবং প্রবীণদের জন্য আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন বলেন, এই আইন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে এবং আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যেও এই বিলের পক্ষে ব্যাপক সমর্থন প্রমাণ করে যে আবাসন সংকট এখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ। বিলটি এখন প্রতিনিধি পরিষদে আলোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখানে অনুমোদন পেলে এটি আইনে পরিণত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বাড়ির মালিকদের জন্য বড় ধরনের কর ছাড়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন আইনপ্রণেতারা। নতুন এই উদ্যোগ অনুযায়ী, নিজস্ব বসতবাড়ির ক্ষেত্রে আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত সম্পত্তি কর ছাড়ের সুবিধা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এখন বিষয়টি ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে সাধারণ ভোটে জনগণের মতামতের জন্য তোলা হবে। মঙ্গলবার গভর্নরের ডাকা বিশেষ অধিবেশনে ফ্লোরিডা সিনেট প্রস্তাবটি পাস করে। এতে বলা হয়েছে, যেসব বাড়িতে মালিক নিজে বসবাস করেন, সেসব বাড়ির ওপর নির্ধারিত কিছু সম্পত্তি কর কমানো হবে। তবে শিক্ষা খাতের কর এই সুবিধার আওতার বাইরে থাকবে। ফ্লোরিডা সিনেটের সভাপতি বেন অ্যালব্রিটন বলেন, নিজের একটি বাড়ি থাকা দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকান স্বপ্নের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ২৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে এই কর ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, এতে সাধারণ পরিবারগুলো আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাবে। প্রস্তাবটির সমর্থক সিনেটর ব্রায়ান আভিলা বলেন, নিজের জমি ও বাড়িতে স্বাধীনভাবে বসবাস করা দেশটির মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা। তিনি জানান, নতুন এই উদ্যোগ পরিবারগুলোর ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, সড়ক ও অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবার অর্থায়ন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রস্তাব কার্যকর করতে হলে নির্বাচনে অন্তত ৬০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন প্রয়োজন হবে। ভোটাররা অনুমোদন দিলে ধাপে ধাপে এই কর ছাড় চালু করা হবে। এদিকে, নতুন পরিকল্পনায় একজন বাড়ির মালিক কত টাকা সাশ্রয় করতে পারবেন, তা জানাতে অঙ্গরাজ্য প্রশাসন একটি নতুন ওয়েবসাইট চালু করেছে। সেখানে বাসিন্দারা নিজেদের সম্ভাব্য কর ছাড়ের হিসাব দেখতে পারবেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্লোরিডায় বাড়ির দাম ও সম্পত্তি কর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্তদের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কর কমানোর এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে ইরানে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা খর্ব করতে কোমর বেঁধে মাঠে নামছে মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাটরা। আগামী সপ্তাহেই এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের ওপর সিনেটে ভোটাভুটি আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন সিনেট মাইনোরিটি লিডার চাক শুমার। বুধবার নিউ ইয়র্ক সিটিতে নিজের কার্যালয়ের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে শুমার বলেন, কংগ্রেসের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধার করা এখন সময়ের দাবি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো প্রেসিডেন্টের পক্ষেই একক সিদ্ধান্তে দেশকে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়—সেটি এখন হোক বা ভবিষ্যতে। সম্প্রতি ট্রাম্পের এক হুমকির পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে শুমার বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে বর্ণনা করেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ঘোষিত সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতিকে ‘ভঙ্গুর’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো স্থায়ী সমাধান বা সুপরিকল্পিত কৌশল নয়। শুমার অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এই যুদ্ধের লক্ষ্য, সময়সীমা বা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কোনো সন্তোষজনক উত্তর নেই। প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ডকে ‘বিপজ্জনক ও অস্থির’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভাগ ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’র (ডিএইচএস) মাসব্যাপী চলমান আংশিক অচলাবস্থা নিরসনে অবশেষে ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন মার্কিন সিনেটররা। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং দফায় দফায় ভোট বাতিলের পর, রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষের আইনপ্রণেতারা এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগটির অর্থায়নে একমত হয়েছেন। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বেতন না পাওয়া হাজার হাজার ফেডারেল কর্মীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। তহবিলের অভাবে বিভাগটির কার্যক্রম এতদিন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। নতুন এই চুক্তির আওতায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পূর্ণ অর্থায়ন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। রিপাবলিকানদের সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করার দাবি এবং ডেমোক্র্যাটদের অভিবাসন নীতিতে সংস্কারের বিষয়ে উভয় পক্ষই নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে। সিনেটে বিলটি পাসের পর এখন তা হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে পাঠানো হবে। সেখানে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্বাক্ষর করলেই এটি পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হবে। মূলত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এবং সীমান্ত নীতি নিয়ে দুই দলের মধ্যে তীব্র মতবিরোধের জেরে ডিএইচএস-এর বাজেট আটকে ছিল। এর ফলে কোস্টগার্ড, টিএসএ (TSA) এবং সিক্রেট সার্ভিসের মতো সংবেদনশীল সংস্থার কর্মীরা বেতন ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছিলেন। বিশেষ করে মার্কিন বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা কর্মীদের ঘাটতির কারণে সাধারণ যাত্রী ও ফ্লাইট চলাচলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। সিনেটের প্রভাবশালী নেতারা এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই মুহূর্তে কার্যক্রম স্বাভাবিক করা জরুরি ছিল। এখন সবার চোখ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের দিকে; সেখানে রক্ষণশীল রিপাবলিকানরা এই বিলটি কীভাবে গ্রহণ করেন, তার ওপরই নির্ভর করছে মার্কিন প্রশাসনের এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধান। সূত্র: সিবিএস নিউজ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।