সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#স্বাস্থ্যসংবাদ

চোখের বিরল রোগের চিকিৎসায় ক্ষুদ্র ইমপ্লান্ট
চোখের বিরল রোগে নতুন আশার আলো, চালের দানার সমান যন্ত্রে সুরক্ষিত থাকতে পারে দৃষ্টি

চোখের বিরল রোগে দৃষ্টিশক্তি হারানোর গতি কমাতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে চালের দানার সমান একটি ক্ষুদ্র ইমপ্লান্ট। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে এই যন্ত্রের পরীক্ষা ও প্রয়োগের মাধ্যমে এমন রোগীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যাঁরা ধীরে ধীরে চোখের কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছেন। তবে এই চিকিৎসায় ইতিমধ্যে হারিয়ে যাওয়া দৃষ্টি ফিরে আসে না। এর মূল লক্ষ্য রোগের অগ্রগতি ধীর করা এবং যতটা সম্ভব অবশিষ্ট দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা।   ম্যাকুলার টেলাঞ্জিয়েকটেশিয়া বা ম্যাকটেল (MacTel) নামের বিরল চোখের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই চিকিৎসা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রোগটি চোখের রেটিনার কেন্দ্রীয় অংশ ম্যাকুলাকে প্রভাবিত করে। ম্যাকুলা মানুষের সূক্ষ্ম ও স্পষ্ট দৃষ্টির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখ চিনতে পারা, বই পড়া, টেলিভিশন দেখা কিংবা ছোট অক্ষরের লেখা বোঝার মতো কাজের ক্ষেত্রে এই অংশের ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ম্যাকটেলে আক্রান্ত হিদার হ্যারিস-কেডি নিজের চোখের দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন অনুভব করেছেন। তাঁর ভাষায়, একটি চোখ বন্ধ করলে অন্য চোখ দিয়ে কারও মুখ স্পষ্টভাবে দেখতে পারেন না। তখন সামনে থাকা মানুষের চুল ও চারপাশের দেয়াল দেখা গেলেও মুখটি আর পরিষ্কার বোঝা যায় না। বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই রোগের সঙ্গে বসবাস করছেন হিদার। প্রথমে তাঁর ডান চোখে সমস্যা দেখা দেয়। পরে বাম চোখেও একই ধরনের পরিবর্তন শুরু হয়। দৃষ্টিশক্তি কতটা কমেছে, তা বোঝার জন্য তাঁকে প্রায়ই একটি চোখ ঢেকে পরীক্ষা করতে হতো। প্রতিদিনের এই অনিশ্চয়তা তাঁর জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছিল। রেটিনা বিশেষজ্ঞ ডিন এলিয়টের মতে, ম্যাকটেল সাধারণত প্রথম দিকে ঝাপসা দৃষ্টি এবং চোখের কেন্দ্রের আশপাশে ছোট ছোট দৃষ্টিহীন অংশ তৈরি করে। রোগটি বাড়তে থাকলে মানুষের সূক্ষ্মভাবে দেখার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে পড়া, টেলিভিশন দেখা এবং পরিচিত মানুষের মুখ শনাক্ত করার মতো দৈনন্দিন কাজেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। এলিয়ট যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাস আই অ্যান্ড ইয়ার প্রতিষ্ঠানের রেটিনা বিভাগের সাবেক পরিচালক। রোগটি বিরল হওয়ায় এ ধরনের রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তবে আগে এই রোগের অগ্রগতি ধীর করার জন্য অনুমোদিত কোনো চিকিৎসা ছিল না। গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছালে অনেক রোগীর পক্ষে বই পড়া কিংবা টেলিভিশন দেখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ত।   হিদারকে দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় বিবর্ধক কাচ বা ম্যাগনিফাইং গ্লাস রাখতে হতো। বাক্সের গায়ে লেখা নির্দেশনা কিংবা ছোট অক্ষরের তথ্য পড়তে এগুলো ব্যবহার করতেন তিনি। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে। একসময় হয়তো আর দেখতে পারবেন না, গাড়ি চালাতে পারবেন না—এমন আশঙ্কা তাঁকে তাড়া করত। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে শুধু তাঁর নিজের জীবন নয়, স্বামীর জীবনও বদলে যেত। দৈনন্দিন কাজে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ভয়ও ছিল তাঁর। এই পরিস্থিতিতে হিদারের জন্য আশার কারণ হয়ে আসে এনসেলটো (ENCELTO) নামের ক্ষুদ্র ইমপ্লান্ট। চালের একটি দানার সমান আকারের এই যন্ত্র অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের ভেতরে বসানো হয়। এর বিশেষ কোষগুলো এমন একটি প্রোটিন তৈরি ও সরবরাহ করে, যা রেটিনার আলোকসংবেদনশীল কোষগুলোকে সুরক্ষা দিতে এবং রোগের অগ্রগতি ধীর করতে সাহায্য করে। রেটিনার এই কোষগুলোকে ফটোরিসেপ্টর বলা হয়। এগুলো আলো গ্রহণ করে দৃষ্টিসংক্রান্ত সংকেত তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ম্যাকটেলের কারণে এসব কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ কমতে থাকে। এনসেলটো থেকে নির্গত সিলিয়ারি নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর বা সিএনটিএফ নামের প্রোটিন এই কোষগুলোর ক্ষয় কমানোর উদ্দেশ্যে কাজ করে। ইমপ্লান্টটির কার্যকারিতা যাচাই করতে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, যন্ত্রটি ম্যাকুলার আলোকসংবেদনশীল কোষের ক্ষয় উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর করতে পারে। এই ফলাফল চিকিৎসাটির অনুমোদনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। রেটিনা বিশেষজ্ঞ এলিয়ট এই প্রযুক্তিকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির মতো বিস্ময়কর বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, ক্ষুদ্র একটি যন্ত্র চোখের ভেতরে বসিয়ে প্রয়োজনীয় প্রোটিন সরবরাহ করার ধারণাটি একসময় কল্পনাতীত মনে হতো। ২০২৫ সালের ৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) প্রাপ্তবয়স্কদের ইডিওপ্যাথিক ম্যাকটেল টাইপ-২ চিকিৎসায় এনসেলটোর অনুমোদন দেয়। এটি রোগটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত প্রথম চিকিৎসা। হিদার হ্যারিস-কেডি বোস্টনের ম্যাস আই অ্যান্ড ইয়ারে এই ইমপ্লান্ট গ্রহণকারী প্রথম রোগী হন। তবে এই চিকিৎসার খরচ বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এলিয়টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইমপ্লান্টটির দাম প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। তাঁর মতে, চিকিৎসাটির উদ্দেশ্য রোগীর দৃষ্টিশক্তি দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখা। তবে চিকিৎসার কার্যকারিতা নিয়ে আশাবাদ থাকলেও এটি হারানো দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো পদ্ধতি নয়। রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার উপযোগিতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। হিদার হ্যারিস-কেডির জন্য এই চিকিৎসা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন তাঁর চোখে কিছুটা দৃষ্টিশক্তি তখনো অবশিষ্ট ছিল। ইমপ্লান্ট পাওয়ার পর তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, অন্তত রোগটির অগ্রগতি থামানোর সুযোগ পাওয়া গেছে। ম্যাকটেলের মতো বিরল রেটিনার রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য এই চিকিৎসা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। যদিও সবার ক্ষেত্রে ফলাফল এক হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই, তবু রোগের কারণে দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ হারানোর প্রক্রিয়া ধীর করতে পারা চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। বিশেষ করে যাঁরা এখনো আংশিক দৃষ্টিশক্তি ধরে রেখেছেন, তাঁদের জন্য রোগের অগ্রগতি কমানোর এই সুযোগ দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
আলঝেইমার শনাক্তে নতুন রক্ত পরীক্ষায় আশার আলো
স্মৃতিশক্তি হারানোর রোগ শনাক্তে নতুন অগ্রগতি, প্রথম রক্ত পরীক্ষায় অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রে আলঝেইমার রোগ শনাক্তের ক্ষেত্রে নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে। ২০২৫ সালের মে মাসে দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) প্রথমবারের মতো এমন একটি রক্ত পরীক্ষার অনুমোদন দেয়, যা আলঝেইমার রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারে। আগে এই রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের অ্যামাইলয়েড প্লাক শনাক্ত করতে সাধারণত মেরুদণ্ডের তরল পরীক্ষা অথবা ব্যয়বহুল পিইটি স্ক্যানের মতো পদ্ধতির প্রয়োজন হতো। নতুন পরীক্ষায় সাধারণ রক্তের নমুনা ব্যবহার করা হয়, ফলে রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম কষ্টকর হতে পারে।   আলঝেইমার অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, নতুন পরীক্ষাটি রক্তের নমুনার মাধ্যমে মস্তিষ্কে অ্যামাইলয়েড প্লাকের উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। এই প্লাক আলঝেইমার রোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। তবে পরীক্ষাটি একাই রোগ নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়নি; রোগীর উপসর্গ, চিকিৎসার ইতিহাস এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফলের সঙ্গে মিলিয়ে চিকিৎসকদের ফলাফল মূল্যায়ন করতে হবে।   এই অগ্রগতিকে ঘিরে আশার কথা জানিয়েছেন আলঝেইমার অ্যাসোসিয়েশনের স্বেচ্ছাসেবক জোলিন ডি ব্র্যাঙ্গো। তাঁর শ্বশুর এই রোগে মারা গেছেন। রোগী, পরিবারের সদস্য, পরিচর্যাকারী এবং ভবিষ্যতে নিজেরাও আক্রান্ত হতে পারেন—এমন মানুষের জন্য নতুন পরীক্ষাটি আশার বার্তা নিয়ে এসেছে বলে মনে করেন তিনি। ডি ব্র্যাঙ্গোর ভাষায়, আলঝেইমার শুধু কারও নাম ভুলে যাওয়া কিংবা নিজের পরিচয় মনে করতে না পারার বিষয় নয়। রোগটি ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। একসময় মস্তিষ্ক শরীরের অন্যান্য অংশকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও হারাতে থাকে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা রোগটির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং রোগী ও পরিবারের ওপর এর মানসিক চাপের বিষয়টি তুলে ধরে। নতুন পরীক্ষাটি তৈরি করেছে ফুজিরেবিও ডায়াগনস্টিকস। এর নাম লুমিপালস জি পিটাউ২১৭/বিটা-অ্যামাইলয়েড ১-৪২ প্লাজমা রেশিও। এটি রক্তের প্লাজমায় থাকা দুটি প্রোটিনের মাত্রা পরিমাপ করে এবং তাদের অনুপাত হিসাব করে। এই অনুপাতের মাধ্যমে মস্তিষ্কে অ্যামাইলয়েড প্লাক থাকার সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ফলে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে পিইটি স্ক্যান বা মেরুদণ্ডের তরল সংগ্রহের মতো পদ্ধতির প্রয়োজন কমতে পারে।   এফডিএর মূল্যায়নে ৪৯৯ জনের রক্তের নমুনা নিয়ে করা একটি ক্লিনিক্যাল গবেষণার তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল। পরীক্ষায় যাঁদের ফল পজিটিভ এসেছিল, তাঁদের ৯১ দশমিক ৭ শতাংশের ক্ষেত্রে পিইটি স্ক্যান বা মেরুদণ্ডের তরল পরীক্ষায় অ্যামাইলয়েড প্লাকের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছিল। অন্যদিকে, যাঁদের ফল নেগেটিভ এসেছিল, তাঁদের ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের ক্ষেত্রে তুলনামূলক পরীক্ষাগুলোতেও প্লাকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে কিছু রোগীর ফল অনিশ্চিত ছিল। এ কারণে চিকিৎসকের মূল্যায়ন ছাড়া শুধু এই পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করা ঠিক হবে না।   আলঝেইমার রোগের এখনো কোনো নিরাময় নেই। তবে কিছু ওষুধ রোগের অগ্রগতি ধীর করতে পারে। দ্রুত রোগ শনাক্ত করা গেলে উপযুক্ত রোগীরা আগেভাগে চিকিৎসার সুযোগ পেতে পারেন। ডি ব্র্যাঙ্গোর মতে, রোগের অগ্রগতি ধীর করার চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে আরও কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ পেতে পারেন। প্রিয়জন যেন পরিবারের সদস্যদের চিনতে পারেন এবং পছন্দের কাজগুলো করতে পারেন—সেই সময়টুকুও পরিবারের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। এফডিএর তৎকালীন কমিশনার মার্টিন এ. মাকারি বলেন, আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা স্তন ক্যানসার ও প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত মানুষের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের প্রায় ১০ শতাংশ এই রোগে আক্রান্ত। ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোগ নির্ণয়ের নতুন প্রযুক্তি রোগীদের জন্য সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আলঝেইমার স্মৃতি ও চিন্তাশক্তিকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সময়ের সঙ্গে রোগটি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতাও কমে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে এ রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন, আর বিশ্বজুড়েও বহু মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন। এটি ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে পরিচিত ধরন। তবে নতুন রক্ত পরীক্ষা সবার জন্য সাধারণ স্ক্রিনিংয়ের বিকল্প নয়। এটি মূলত ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং আলঝেইমার বা জ্ঞানীয় সক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ রয়েছে—এমন রোগীদের মূল্যায়নে চিকিৎসকদের সহায়তার জন্য অনুমোদিত হয়েছিল। ভুল পজিটিভ বা ভুল নেগেটিভ ফলের সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরীক্ষা মিলিয়েই রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ভারতীয় পুলিশ সদস্যের পাকস্থলী থেকে উদ্ধার ৪০টি ছুরি
পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে, পরীক্ষায় পুলিশ সদস্যের পাকস্থলীতে মিলল ৪০টি ছুরি

তীব্র পেটব্যথা ও দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর এক ভারতীয় পুলিশ সদস্যের পাকস্থলী থেকে বের করা হলো ৪০টি ছুরি। ২০১৬ সালের আগস্টে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরের একটি হাসপাতালে ঘটে এই ঘটনা। ৪২ বছর বয়সী ওই পুলিশ সদস্য প্রায় দুই মাস ধরে একের পর এক ছুরি গিলে ফেলেছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকেরা প্রথমে ২৮টি ছুরি বের করেন। পরে আরও পরীক্ষা করে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত ১২টি ছুরির সন্ধান পান তাঁরা। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ৪০টি ছুরি।   হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকদের প্রথমে ধারণা হয়েছিল, তাঁর পাকস্থলীতে হয়তো টিউমার বা ক্যানসারজাতীয় কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে। এ কারণে তাঁর এন্ডোস্কপি ও সিটি স্ক্যান করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, পাকস্থলীর ভেতরে রয়েছে অসংখ্য ধাতব বস্তু। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেগুলো আসলে বিভিন্ন আকারের ছুরি।   চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশনের সময় প্রথমে ২৮টি ছুরি বের করা হয়। কিন্তু পাকস্থলীর ভেতরে আরও কিছু রয়ে গেছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকায় পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। তখন আরও ১২টি ছুরির সন্ধান মেলে। সেগুলোও বের করে আনা হয়।   ছুরিগুলোর সব কটিই একই অবস্থায় ছিল না। কিছু ভাঁজ করা অবস্থায় ছিল, কিছু খোলা ছিল, আবার কয়েকটি মরিচা ধরে ভেঙেও গিয়েছিল। খোলা ছুরিগুলোর কোনো কোনোটি প্রায় ১৮ সেন্টিমিটার লম্বা ছিল। এগুলোর ধারালো অংশ পাকস্থলীর দেয়ালে ক্ষত তৈরি করেছিল। অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর শরীরের ভেতরে উল্লেখযোগ্য রক্তক্ষরণও হয়।   চিকিৎসকদের কাছে ওই ব্যক্তি জানান, প্রথমবার ছুরি গেলার পর তাঁর অদ্ভুত এক অনুভূতি হয়েছিল। এরপর বিষয়টি ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়। তিনি প্রায় দুই মাস ধরে দিনে একটি করে ছুরি গিলতেন বলে জানান। কেন এমন করতেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি।   অস্ত্রোপচারে যুক্ত চিকিৎসক জতিন্দর মালহোত্রা জানান, তাঁর দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনে এ ধরনের ঘটনা আগে দেখেননি। রোগীর আচরণের পেছনে মানসিক স্বাস্থ্যের কোনো সমস্যা থাকতে পারে বলে চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়। তাই অস্ত্রোপচারের পর তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও পরামর্শ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। তবে পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট কোনো মানসিক রোগ নিশ্চিত করা হয়নি।   অস্ত্রোপচারের পর রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। চিকিৎসকদের কাছে তিনি জানান, ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কাজ করবেন না। এই ঘটনা চিকিৎসকদের কাছেও ছিল অত্যন্ত বিরল ও জটিল। শরীরের ভেতরে ধারালো বস্তু প্রবেশ করানো প্রাণঘাতী অভ্যন্তরীণ ক্ষত ও রক্তক্ষরণের কারণ হতে পারে। তাই এমন কোনো প্রবণতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

অলিনা রহমান অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফ্লোরিডায় নতুন রোবটিক স্তন ক্যানসার সা
প্রথমবারের মতো রোবটিক নিপল-স্পেয়ারিং সার্জারি, নতুন আশায় স্তন ক্যানসার রোগীরা

স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন ধরনের রোবটিক সার্জারি নিয়ে আশার আলো দেখছেন ফ্লোরিডার চিকিৎসকেরা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্তন অপসারণের প্রয়োজন হলেও রোগীর নিপল ও আশপাশের ত্বক সংরক্ষণের সুযোগ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসার পর স্বাভাবিক শারীরিক গঠন ও অনুভূতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে নতুন এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় নতুন রোবটিক নিপল-স্পেয়ারিং মাস্টেকটমি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন অ্যাডভেন্টহেলথের স্তন সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. দেবিনা ম্যাকক্রে। তিনি এই অঞ্চলে প্রথম সার্জন হিসেবে নতুন পদ্ধতিটি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ জন্য তিনি কয়েক মাস ধরে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং শত শত ঘণ্টা এই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতিতে ব্যয় করেছেন। নিপল-স্পেয়ারিং মাস্টেকটমিতে স্তনের ক্যানসার আক্রান্ত টিস্যু অপসারণ করা হলেও নিপল ও স্তনের ওপরের ত্বক যতটা সম্ভব অক্ষত রাখা হয়। পরে প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে স্তন পুনর্গঠন করা যেতে পারে। প্রচলিত পদ্ধতিতে সাধারণত স্তনের নিচের দিকে তুলনামূলক বড় কাটার প্রয়োজন হয়। এতে অস্ত্রোপচারের পর অনুভূতি কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। রোবটিক পদ্ধতিতে ছোট একটি কাটার মাধ্যমে বিশেষ ক্যামেরা ও রোবটিক যন্ত্র স্তনের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। সার্জন সরাসরি রোগীর শরীরের ভেতরে হাত না দিয়ে একটি কনসোল থেকে যন্ত্রগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন। উচ্চ-রেজল্যুশনের ক্যামেরায় অস্ত্রোপচারের জায়গাটি বড় করে দেখা যায়, ফলে গুরুত্বপূর্ণ টিস্যু ও রক্তনালিগুলো আরও নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে কাজ করা সম্ভব হয়। এই প্রযুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হলো নিপল ও ত্বকে রক্তপ্রবাহ যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ন রাখা। এর ফলে পুনর্গঠনের পর চেহারা আরও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে স্নায়ু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টিস্যু সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে নিপলে অনুভূতি ধরে রাখা বা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। ডা. ম্যাকক্রের মতে, স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় শুধু রোগ থেকে মুক্ত হওয়াই শেষ কথা নয়। চিকিৎসার পর একজন রোগী কীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন এবং নিজের শরীর নিয়ে কেমন অনুভব করবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। রোগীদের সাহস দেওয়া এবং তাদের জানানো যে চিকিৎসার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—এই বিষয়টিকেই তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে এখনো অল্পসংখ্যক সার্জন এই রোবটিক নিপল-স্পেয়ারিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। ফলে এটি এখনো সবার জন্য উন্মুক্ত কোনো নিয়মিত চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসাগত প্রয়োজন বিবেচনা করে নির্বাচিত রোগীদের ক্ষেত্রেই এটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। মেয়ো ক্লিনিকও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি কেন্দ্রে রোবটিক নিপল-স্পেয়ারিং মাস্টেকটমি নিয়ে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, রোবটিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে ছোট কাটার মাধ্যমে অস্ত্রোপচার, উন্নত দৃশ্যমানতা এবং সূক্ষ্মভাবে টিস্যু অপসারণের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি নিপল ও ত্বকের রক্তপ্রবাহ সংরক্ষণ এবং পরবর্তী পুনর্গঠনের ফল আরও ভালো করার সম্ভাবনাও রয়েছে। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার অনেক রোগীর জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন অভিজ্ঞতা। তাই চিকিৎসার কার্যকারিতা বজায় রেখে শরীরের স্বাভাবিক গঠন ও অনুভূতি যতটা সম্ভব সংরক্ষণ করতে পারলে তা রোগীদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলে নির্বাচিত রোগীদের জন্য চিকিৎসার আরেকটি বিকল্প তৈরি হবে। তবে পদ্ধতিটি কত দ্রুত আরও রোগীর জন্য সহজলভ্য হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট নয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল ও রোগীদের জন্য সম্ভাব্য সুবিধা আরও পরিষ্কার হবে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
এমএস চিকিৎসায় পরিবর্তিত এইচআইভির ওষুধের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা
এইচআইভির ওষুধ বদলে এমএস চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা, গবেষণায় মিলল সাড়া জাগানো ফল

এইচআইভি চিকিৎসায় ব্যবহৃত এক ধরনের ওষুধে পরিবর্তন এনে তৈরি করা নতুন একটি ওষুধ মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস বা এমএসের কারণে তৈরি হওয়া কিছু গুরুতর সমস্যা কমাতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ)-এর অর্থায়নে করা গবেষণায় প্রাণীর ক্ষেত্রে আগে থেকেই তৈরি হওয়া দৃষ্টিশক্তি হারানো ও চলাফেরার সমস্যায় উন্নতির দেখা মিলেছে। তবে এখনো মানুষের ওপর এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়নি।   গবেষণায় **কামুভুডিন-৯ বা কে-৯** নামের পরীক্ষামূলক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এটি এইচআইভি ও হেপাটাইটিস বি চিকিৎসায় ব্যবহৃত এনআরটিআই শ্রেণির অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ থেকে তৈরি একটি পরিবর্তিত সংস্করণ। গবেষকদের ধারণা, কে-৯ মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে থাকা **ইনফ্ল্যামাসোম** নামের একটি প্রক্রিয়া সক্রিয় হতে বাধা দেয়, যা অতিরিক্ত সক্রিয় হলে স্নায়ুকোষের ক্ষতি ও মৃ ত্যু ঘটাতে পারে।   গবেষণায় এমএসের মতো উপসর্গ তৈরি করা ইঁদুরকে কয়েক দিন পর কে-৯ দেওয়া হয়। তখন তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে স্নায়বিক সমস্যা, চলাফেরার দুর্বলতা ও দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি দেখা দিয়েছিল। চিকিৎসার পর গবেষকরা দেখতে পান, কে-৯ দেওয়া প্রাণীগুলো শুধু নতুন স্নায়বিক ক্ষতি থেকে সুরক্ষিতই থাকেনি, বরং আগের কিছু চলাফেরার সমস্যা ও দৃষ্টিশক্তির ক্ষতিও অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে।   গবেষকদের মতে, কে-৯ স্নায়ুর প্রধান অংশ **অ্যাক্সন** এবং তাকে ঘিরে থাকা সুরক্ষামূলক আবরণ **মাইলিন শিথ**কে ক্ষয় থেকে রক্ষা করতে পারে। এই অংশগুলো মস্তিষ্ক ও শরীরের মধ্যে স্নায়ুর সংকেত পৌঁছে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণীদের রক্তে স্নায়ুর ক্ষতির একটি জৈবচিহ্নও কম পাওয়া গেছে, যা চিকিৎসাটির সম্ভাব্য স্নায়ু-সুরক্ষাকারী প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।   গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল মানুষের স্বাস্থ্য-তথ্য বিশ্লেষণ। যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য পর্যালোচনা করে গবেষকরা দেখতে পান, এইচআইভি বা হেপাটাইটিস বি চিকিৎসায় ব্যবহৃত এনআরটিআই ওষুধ গ্রহণকারীদের মধ্যে এমএস শনাক্ত হওয়ার হার কম ছিল। যাদের আগে থেকেই এমএস ছিল, তাদের মধ্যেও পরবর্তী সময়ে রোগের পুনরাবৃত্তির হার তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তবে এই তথ্য থেকে সরাসরি বলা যায় না যে ওই ওষুধগুলো এমএস প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করে।   এমএস হলো কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি রোগ, যা মস্তিষ্ক ও শরীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে স্বাভাবিক তথ্য আদান-প্রদানে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে সুস্থ স্নায়ু টিস্যুতে আক্রমণ করাই মূল সমস্যা। প্রচলিত চিকিৎসাগুলো সাধারণত এই রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে নতুন করে রোগের আক্রমণ বা রিল্যাপ্স কমানোর চেষ্টা করে, কিন্তু আগে থেকে তৈরি হওয়া স্নায়ুর ক্ষতি সাধারণত ঠিক করতে পারে না।   নতুন গবেষণায় অবশ্য আরেকটি প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গবেষকদের মতে, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার আক্রমণ সরাসরি সবসময় স্নায়ুকোষ ধ্বংস করে না; বরং এটি মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের ভেতরে থাকা

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
জিএলপি-১ ওষুধে বিরল চোখের রোগের সম্ভাব্য ঝুঁকি
জনপ্রিয় ওজন কমানোর ওষুধে হঠাৎ দৃষ্টি হারানোর শঙ্কা, যা বলছে গবেষণা

ওজন কমানো ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত জনপ্রিয় জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ ওজেম্পিক, ওয়েগোভি ও মাউঞ্জারো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ওষুধ ব্যবহারের সঙ্গে খুবই বিরল একটি চোখের রোগের সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে গবেষণা চলছে। রোগটির নাম নন-আর্টেরিটিক অ্যান্টেরিয়র ইস্কেমিক অপটিক নিউরোপ্যাথি, সংক্ষেপে এনএআইওএন। এতে হঠাৎ করে, সাধারণত কোনো ব্যথা ছাড়াই, দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন ব্যক্তি এসব ওষুধের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণের মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, ওষুধ ব্যবহারের সম্ভাব্য এই ঝুঁকি সম্পর্কে যথেষ্ট সতর্ক করা হয়নি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গবেষণাই প্রমাণ করেনি যে জিএলপি-১ ওষুধ সরাসরি এনএআইওএনের কারণ। ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও এসব অভিযোগের বিরোধিতা করে জানিয়েছে, রোগীদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে তারা সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।   এনএআইওএন কী?   চোখের অপটিক নার্ভে পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ না পৌঁছালে এনএআইওএন হতে পারে। মায়ো ক্লিনিকের চক্ষু ও নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ ড. জন চেনের মতে, ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এটি হঠাৎ অপটিক নার্ভের সমস্যার অন্যতম সাধারণ কারণ। সাধারণত কোনো ব্যথা ছাড়াই হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যায় এবং এই ক্ষতি অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী হতে পারে। বর্তমানে এনএআইওএনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহার না করলেও ডায়াবেটিস থাকা ব্যক্তিদের এই রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ ছাড়া রাতে রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে যাওয়া এবং অপটিক নার্ভের গঠনের কিছু বৈশিষ্ট্যও এই রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।   জিএলপি-১ ওষুধের সঙ্গে যোগসূত্রের প্রমাণ কতটা?   এই সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা শুরু হয় ২০২৪ সালে। বোস্টনের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গবেষণায় দেখা যায়, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং সেমাগ্লুটাইড ব্যবহারকারী কিছু রোগীর মধ্যে এনএআইওএন হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। সেমাগ্লুটাইড হলো ওজেম্পিক ও ওয়েগোভির প্রধান সক্রিয় উপাদান।   এরপর আরও বড় পরিসরে বেশ কয়েকটি গবেষণা হয়েছে। তবে এসব গবেষণার ফল এক নয়। কোনো কোনো গবেষণায় সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও অন্য কিছু গবেষণায় তেমন সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। ফলে এখন পর্যন্ত জিএলপি-১ ওষুধের কারণে এনএআইওএন হয়—এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।   ইউরোপীয় মেডিসিনস এজেন্সি বা ইএমএ পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে সেমাগ্লুটাইড-ভিত্তিক কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে এনএআইওএনকে খুব বিরল সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে সতর্কতা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত জিএলপি-১ ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই সমস্যা প্রতি ১০ হাজারে প্রায় একজনের হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।   তবে নর্থ আমেরিকান নিউরো-অপথালমোলজি সোসাইটি এবং আমেরিকান একাডেমি অব অপথালমোলজি জানিয়েছে, কিছু গবেষণায় সামান্য বাড়তি ঝুঁকির ইঙ্গিত থাকলেও অন্য গবেষণায় কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তাদের মতে, এনএআইওএনের সামগ্রিক ঝুঁকি কম।   যুক্তরাষ্ট্রে এখনো নির্দিষ্ট সতর্কতা নেই   যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বা এফডিএ বর্তমানে জিএলপি-১ ওষুধের লেবেলে এনএআইওএনকে নির্দিষ্ট ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা দেয়নি। তবে এফডিএর সেনটিনেল ইনিশিয়েটিভ এই সম্ভাব্য নিরাপত্তা সংকেত নিয়ে বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।   এফডিএ জানিয়েছে, বাজারে আসার পরও ওষুধগুলোর নিরাপত্তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া সম্ভাব্য ঝুঁকির তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন হলে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   অন্যদিকে, ওজেম্পিক ও ওয়েগোভির প্রস্তুতকারক নোভো নরডিস্ক জানিয়েছে, তারা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সব রিপোর্ট গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের হওয়া ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণের মামলাগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। মাউঞ্জারো ও জেপবাউন্ডের প্রস্তুতকারক এলি লিলিও জানিয়েছে, তারা ওষুধগুলোর নিরাপত্তা তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করছে।   ব্যবহারকারীদের কী করা উচিত?   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু এই সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জিএলপি-১ ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়। ডায়াবেটিস ও গুরুতর স্থূলতার চিকিৎসা না করলেও চোখসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের জন্য প্রমাণিত স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে।   যারা সেমাগ্লুটাইড বা অন্য কোনো জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহার করছেন এবং কোনো উপসর্গ নেই, তারা চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের উদ্বেগ চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। তবে কারও যদি হঠাৎ করে কোনো ব্যথা ছাড়াই দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, তাহলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।   বিশেষজ্ঞদের মতে, জিএলপি-১ ওষুধের সঙ্গে এনএআইওএনের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিটি বিরল বলেই মনে হচ্ছে এবং এসব ওষুধ সরাসরি এই রোগ সৃষ্টি করে—এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০