যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এখন “শেষের পথে” বলে মন্তব্য করেছেন মাইক জনসন। বুধবার মার্কিন গণমাধ্যমকে হাউস স্পিকার বলেন, আমি মনে করি আমরা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ গুটিয়ে আনছি। এটি দ্রুত শেষ হবে এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলছে। মাইক জনসনের এই মন্তব্য এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর এক বক্তব্যের পর। ট্রাম্প বলেছেন, তার প্রশাসন ইরানের ‘সঠিক ব্যক্তিদের’ সঙ্গে সংলাপ চালাচ্ছে, যারা চুক্তি করতে আগ্রহী। অন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবকে ‘বাড়াবাড়ি’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই অবস্থার মধ্যে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ প্রতিরোধ ও কূটনৈতিক সমাধান নিয়েই মূলত আলোচনা তীব্র হয়েছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি
ইরানে ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে সামরিক অভিযান চালানোর প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এখন অস্ত্র উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরুর পর থেকে ইরানের পাল্টা জবাবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় দেশটিকে এই পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও গোলাবারুদের উৎপাদন বাড়াবে। পেন্টাগনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’ বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন জোরদার করা হবে। এছাড়া উচ্চ উচ্চতায় উড়তে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত ‘টার্মিনাল হাই আল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড)’ ব্যবস্থার লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ যন্ত্রের উৎপাদনও বাড়ানো হবে। পেন্টাগন আরও জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ প্রতিরক্ষা শিল্পকে ‘যুদ্ধকালীন উৎপাদন’ পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান। এর পাশাপাশি নেভিগেশন সিস্টেম এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উৎপাদনও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে
লেবানন থেকে ছোড়া হিজবুল্লাহর ড্রোন প্রতিহত করতে বড় ধরনের সমস্যার কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সামরিক সূত্রগুলো বলছে, ড্রোন প্রতিরোধে তাদের সফলতার হার খুবই কম। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ-এর বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত ড্রোন থামানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এগুলো প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উত্তর সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি বসতিগুলো পুরোপুরি খালি না করেই সেনাবাহিনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা। সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, লেবানন সীমান্তে চলমান সংঘর্ষের নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই এবং এটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহ বর্তমানে কম উচ্চতায় উড়তে সক্ষম ছোট ড্রোন ব্যবহার করছে, যেগুলো রাডারে ধরা কঠিন এবং প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিতর্কিত মন্তব্য নতুন ভূ-রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের একটি অংশ হলো ইরানের বিশাল তেল মজু নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েল ইরানের সামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তু এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। সংঘাত দ্রুত লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। গোলান মালভূমি এবং বাগদাদে হামলার খবর পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল এনার্জি ডমিনেন্স কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক জ্যারড অ্যাজেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ইরানের বিশাল তেলের মজুদ সন্ত্রাসীদের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এটি পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যপ্রাচ্যে হস্তক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণকে আরও জোরালোভাবে প্রকাশ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রমাণিত তেল মজু রাখে এবং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সামরিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়েছে। কিছু ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বীমা কোম্পানিগুলোও কভারেজ প্রত্যাহার করতে শুরু করেছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলা শুরুর পর এক হাজারের বেশি বেসামরিক নিহত হয়েছে, যার মধ্যে শিশুদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বেসামরিকদের সুরক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত এখন শুধুমাত্র ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক জোট এতে জড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে। চীনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ, উত্তর কোরিয়ার সমর্থন এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিলিশিয়া গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ পরিস্থিতি আরও জটিল করছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত বৈশ্বিক রাজনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, মানবিক বিপর্যয় ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব ততই বেড়ে যাবে। সূত্র: ওয়াশিংটন হেরাল্ড
ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় দেশটিতে অবস্থানরত পোল্যান্ডের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে এবং যেকোনো সময় নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে নতুন করে ইরানে ভ্রমণ না করারও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, বৃহস্পতিবার ওয়ারশর কাছে জিয়েলোনকা শহরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডোনাল্ড টাস্ক এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘দয়া করে অবিলম্বে ইরান ত্যাগ করুন এবং কোনো পরিস্থিতিতেই এই দেশে ভ্রমণ করবেন না।’ সংঘাতের আশঙ্কাকে বাস্তব উল্লেখ করে তিনি জানান, নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ খুব দ্রুত সীমিত হয়ে যেতে পারে। ডোনাল্ড টাস্ক আরও বলেন, কয়েক ঘণ্টা বা স্বল্প সময়ের মধ্যেই মানুষকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তাই এ সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের আহ্বান উপেক্ষা করলে গুরুতর পরিণতি হতে পারে। বর্তমানে ইরানে কতজন পোলিশ নাগরিক অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি পোল্যান্ড সরকার। এ বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা দেবে পোলিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন সূত্র ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চললেও ওয়াশিংটন ও তেলআবিব ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিকভাবে মুখোমুখি অবস্থানের দিকে এগোচ্ছে। গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র স্বল্প সময়ের জন্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।