সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#সোশ্যালসিকিউরিটি

নভেম্বরের সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতার সময়সূচি
জন্মতারিখ অনুযায়ী নভেম্বরের সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট, কোন দিন অ্যাকাউন্টে আসবে আপনার টাকা

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসের সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা পাওয়ার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। সুবিধাভোগীদের জন্মতারিখ ও ভাতার ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন দিনে অর্থ পাঠানো হবে। তবে মাসের শুরুতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে—সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম (এসএসআই) বা সম্পূরক নিরাপত্তা ভাতার নভেম্বরের অর্থ পাওয়া যাবে ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার। অন্যদিকে, মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে জন্ম নেওয়া সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীরা অর্থ পাবেন ১০ নভেম্বর, মঙ্গলবার।   সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, অবসরভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং যোগ্য পরিবারের সদস্যদের জন্য দেওয়া সুবিধার অর্থ সাধারণত মাসের দ্বিতীয়, তৃতীয় অথবা চতুর্থ বুধবার পাঠানো হয়। এই সময়সূচি মূলত ১৯৯৭ সালের ১ মে বা তার পরে যাঁরা সুবিধা পেতে শুরু করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থ পাওয়ার নির্দিষ্ট দিন নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীর জন্মতারিখের ওপর।   নভেম্বর মাসে দ্বিতীয় বুধবার ১১ নভেম্বর। দিনটি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ছুটি ভেটেরান্স ডে হওয়ায় ওই দিনের নির্ধারিত অর্থ এক দিন আগে, অর্থাৎ ১০ নভেম্বর পাঠানো হবে। বাকি দুটি অর্থ প্রদানের তারিখে পরিবর্তন নেই।   নভেম্বরের সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা পাওয়ার সময়সূচি হলো—   - ৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার: যাঁরা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে থেকেই সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা পাচ্ছেন। - ১০ নভেম্বর, মঙ্গলবার: যাঁদের জন্ম মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে। - ১৮ নভেম্বর, বুধবার: যাঁদের জন্ম মাসের ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে। - ২৫ নভেম্বর, বুধবার: যাঁদের জন্ম মাসের ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে। এসএসআই ভাতার অর্থ আসবে ৩০ অক্টোবর নভেম্বরের এসএসআই ভাতার ক্ষেত্রে সময়সূচিতে আলাদা পরিবর্তন রয়েছে। সাধারণত প্রতি মাসের প্রথম দিনে এ অর্থ দেওয়া হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর রোববার হওয়ায় নভেম্বরের ভাতা আগের কর্মদিবস, অর্থাৎ ৩০ অক্টোবর শুক্রবার পাঠানো হবে।   এসএসআই মূলত সীমিত আয় ও সম্পদের অধিকারী বয়স্ক ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একটি কর্মসূচি। যাঁরা এ সুবিধা পান, তাঁদের মনে রাখা দরকার, অক্টোবরের শেষ দিনে অর্থ জমা হলেও সেটি নভেম্বর মাসের ভাতা। এটি অতিরিক্ত কোনো মাসের অর্থ নয়; ক্যালেন্ডারের কারণে অর্থ দেওয়ার তারিখ এগিয়ে আনা হয়েছে।   একই ব্যক্তি যদি এসএসআই ও সোশ্যাল সিকিউরিটি—দুই ধরনের সুবিধা পান, তাহলে দুই অর্থের সময়সূচি আলাদা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এসএসআইয়ের নভেম্বরের অর্থ ৩০ অক্টোবর এবং সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ ৩ নভেম্বর পাওয়ার কথা। নির্ধারিত দিনে অর্থ না এলে কী করবেন নির্ধারিত দিনে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতার অর্থ জমা না হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। কখনো কখনো ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেনের তথ্য হালনাগাদ হতে দেরি হতে পারে। তাই অর্থ জমা না হওয়ার কারণ নিশ্চিত করতে ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।   ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগের পরও অর্থ না পাওয়া গেলে সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো যাবে। এ জন্য ১-৮০০-৭৭২-১২১৩ নম্বরে ফোন করা যেতে পারে। শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য টিটিওয়াই নম্বর ১-৮০০-৩২৫-০৭৭৮। প্রয়োজনে স্থানীয় সোশ্যাল সিকিউরিটি অফিসেও যোগাযোগ করা যাবে।   সুবিধাভোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অর্থ পাওয়ার তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে জন্মতারিখের পাশাপাশি তাঁরা কোন ধরনের সুবিধা পান এবং কখন থেকে সুবিধা পাচ্ছেন, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। তাই নিজের অর্থ পাওয়ার তারিখ নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়সূচি দেখে নেওয়া উচিত।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির প্রায় ৫ কোটি রেকর্ড সংশোধন
সোশ্যাল সিকিউরিটির প্রায় ৫ কোটি রেকর্ড সংশোধনের কথা জানাল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের তথ্যভান্ডারে প্রায় ৫ কোটি রেকর্ড সংশোধনের কথা জানিয়েছে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসএসএ)। মৃত্যুর তারিখ ও নাগরিকত্বের তথ্য হালনাগাদের এই কার্যক্রমকে সংস্থাটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিসরের রেকর্ড সংশোধন উদ্যোগ বলা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসএসএ জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এই কার্যক্রম চলছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে পরিচয় যাচাই এবং ভুল ব্যক্তির কাছে অর্থ পরিশোধ ঠেকাতে তথ্যভান্ডারের নির্ভুলতা বাড়ানো এর উদ্দেশ্য।  কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১ কোটি ৭০ লাখ রেকর্ডে মৃত্যুর তারিখ যুক্ত করা হয়েছে। এসব রেকর্ডে আগে এই তথ্য ছিল না। সংস্থাটির নিজস্ব ব্যবস্থা ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য ব্যবহার করে সেগুলো হালনাগাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকত্বের তথ্য অনুপস্থিত ছিল, এমন প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ রেকর্ড হালনাগাদ করেছে এসএসএ। এ কাজে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা ‘সেভ’ থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। আরও ৮৫ লাখ রেকর্ডে নাগরিকত্বের ভুল তথ্য সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এসএসএর কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক বিসিগনানো বলেছেন, সরকারি সেবার যথাযথ ব্যবস্থাপনার জন্য সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের তথ্য নির্ভুল থাকা প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় সরকার ও অঙ্গরাজ্যগুলোর বিভিন্ন সংস্থা পরিচয় যাচাইয়ে এই রেকর্ড ব্যবহার করে। ভবিষ্যতে হাতে তথ্য প্রবেশ করানোর সময় ভুল কমাতে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণও জোরদার করা হয়েছে। এসএসএর ভাষ্য, সঠিক তথ্য সংরক্ষণ সরকারি কর্মসূচিতে প্রতারণা প্রতিরোধ এবং প্রাপ্য ব্যক্তির কাছে সুবিধা পৌঁছানোর ব্যবস্থা শক্তিশালী করবে।  সূত্র: সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও কেটিভিইউ ফক্স ২

অলিনা রহমান অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির অক্টোবরের অর্থপ্রদান
যুক্তরাষ্ট্রে ২১ অক্টোবর আসছে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ, জন্মতারিখ অনুযায়ী পাবেন সুবিধাভোগীরা

যুক্তরাষ্ট্রে লাখো সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগী চলতি সপ্তাহে অক্টোবর মাসের নিয়মিত অবসরভাতা ও অন্যান্য সুবিধার অর্থ পেতে যাচ্ছেন। আগামী বুধবার, ২১ অক্টোবর, যেসব সুবিধাভোগীর জন্মমাসের তারিখ ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে, তাদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা হওয়ার কথা। ২০২৬ সালের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে পরবর্তী কিস্তি দেওয়া হবে ২৮ অক্টোবরও। যোগ্যতার শর্ত পূরণকারী কিছু অবসরপ্রাপ্তের মাসিক সুবিধার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১৮১ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে সবাই এই পরিমাণ পাবেন না; কর্মজীবনের আয়, অবসর নেওয়ার বয়স এবং কখন থেকে সুবিধা নেওয়া শুরু করেছেন, তার ওপর অর্থের পরিমাণ নির্ভর করে।   যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসএসএ) সাধারণত সুবিধাভোগীদের জন্মতারিখ অনুযায়ী মাসের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বুধবারে অর্থ পাঠায়। এই নিয়ম মূলত তাদের জন্য, যারা ১৯৯৭ সালের এপ্রিলের পর সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধা নেওয়া শুরু করেছেন এবং একই সঙ্গে সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই পান না। চলতি মাসের সময়সূচি অনুযায়ী, যাদের জন্মদিন মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে, তাদের অর্থ ১৪ অক্টোবর দেওয়া হয়েছে। যাদের জন্মদিন ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে, তারা ২১ অক্টোবর অর্থ পাবেন। আর যাদের জন্মদিন ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে, তাদের অর্থ পাঠানোর নির্ধারিত দিন ২৮ অক্টোবর। তবে সব সুবিধাভোগীর ক্ষেত্রে এই সময়সূচি প্রযোজ্য নয়। যারা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে থেকেই সোশ্যাল সিকিউটির অর্থ পাচ্ছেন, তাদের সাধারণত মাসের ৩ তারিখে অর্থ দেওয়া হয়। যারা সোশ্যাল সিকিউরিটি ও এসএসআই—দুই ধরনের সুবিধাই পান, তাদের সাধারণত এসএসআইয়ের অর্থ মাসের ১ তারিখে এবং সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ ৩ তারিখে দেওয়া হয়। নির্ধারিত দিনে অর্থ না পৌঁছালে এসএসএ যোগাযোগ করার আগে আরও তিনটি ডাক-যোগাযোগের দিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দেয়। মাসে সর্বোচ্চ কত ডলার পাওয়া যেতে পারে সোশ্যাল সিকিউটির অবসরভাতার পরিমাণ সবার জন্য এক নয়। একজন কর্মী কর্মজীবনে কত আয় করেছেন, কোন বয়সে অবসর নিয়েছেন এবং কখন থেকে সুবিধা দাবি করেছেন—এসব বিষয় মাসিক অর্থ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে সর্বোচ্চ সুবিধার উদাহরণ হিসেবে, ২২ বছর বয়স থেকে প্রতি বছর সামাজিক নিরাপত্তা করের আওতাভুক্ত সর্বোচ্চ আয় করা কোনো কর্মী ৭০ বছর বয়সে অবসর নিলে মাসে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১৮১ ডলার পেতে পারেন। একই ধরনের আয় থাকলে পূর্ণ অবসরের বয়সে অবসর নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মাসিক সুবিধা ৪ হাজার ১৫২ ডলার। আর ৬২ বছর বয়সে অবসর নিলে সর্বোচ্চ পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৬৯ ডলার। অর্থাৎ, আগে অবসর নিয়ে সুবিধা দাবি করলে সাধারণত মাসিক অর্থের পরিমাণ কমে যায়। অন্যদিকে পূর্ণ অবসরের বয়স পার হওয়ার পর ৭০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করলে বিলম্বিত অবসর সুবিধার কারণে মাসিক অর্থ বাড়তে পারে। তবে ৭০ বছরের পর অপেক্ষা করলেও এই ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সুবিধা বাড়ে না। অবসরভাতা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য অধিকাংশ কর্মীর ৪০টি সোশ্যাল সিকিউরিটি ক্রেডিট প্রয়োজন হয়, যা সাধারণত প্রায় ১০ বছর কাজ করার মাধ্যমে অর্জন করা যায়। ২০২৬ সালে প্রতি ১ হাজার ৮৯০ ডলার যোগ্য আয়ের বিপরীতে একটি ক্রেডিট পাওয়া যায়। বছরে সর্বোচ্চ চারটি ক্রেডিট অর্জন করা সম্ভব। তবে কত ক্রেডিট রয়েছে, তা মূলত সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে কাজে লাগে; মাসিক অর্থের পরিমাণ নির্ধারণে কর্মজীবনের আয় ও অবসরের বয়সও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৭ সালে বাড়ছে সুবিধার অর্থ অক্টোবরের ২১ তারিখে যেসব অর্থ পাঠানো হবে, সেগুলো ২০২৬ সালের জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা (COLA) অনুযায়ী নির্ধারিত। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছিল। তবে ২০২৭ সালের জন্য নতুন করে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নতুন সমন্বয়ের ফলে প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন নাগরিকের সোশ্যাল সিকিউরিটি ও এসএসআই সুবিধায় পরিবর্তন আসবে। এর মধ্যে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীর বর্ধিত অর্থ ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। অন্যদিকে প্রায় ৭৩ লাখ এসএসআই গ্রহীতার বর্ধিত অর্থ দেওয়া শুরু হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। কেউ কেউ দুই ধরনের সুবিধাই পান বলে এই সংখ্যাগুলো পরস্পরের সঙ্গে আংশিকভাবে মিলে যেতে পারে। এসএসএর হিসাব অনুযায়ী, ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গড় মাসিক সুবিধা প্রায় ৭৫ ডলার বাড়বে। তবে প্রত্যেকের প্রকৃত বৃদ্ধি এক হবে না; ব্যক্তিগতভাবে বর্তমানে কত অর্থ পাওয়া হচ্ছে, তার ওপর নতুন পরিমাণ নির্ভর করবে। জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয়ের উদ্দেশ্য হলো মূল্যবৃদ্ধির কারণে সুবিধাভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা যাতে অতিরিক্ত কমে না যায়, তা কিছুটা সুরক্ষিত রাখা। এ বৃদ্ধির হিসাব করা হয় শহরাঞ্চলের মজুরিভোগী ও কেরানি পেশাজীবীদের ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই-ডব্লিউয়ের পরিবর্তনের ভিত্তিতে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম মন্ত্রণালয়ের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো এই সূচকের তথ্য প্রকাশ করে। নতুন সুবিধার তথ্য কখন জানা যাবে যারা ব্যক্তিগত ‘মাই সোশ্যাল সিকিউরিটি’ অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন, তারা নভেম্বরের শেষ দিক থেকে নিজেদের ২০২৭ সালের কোলা-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অনলাইনে দেখতে পারবেন। যাদের অনলাইন অ্যাকাউন্ট নেই বা যারা কাগজে বিজ্ঞপ্তি পেতে চান, তাদের কাছে ডিসেম্বর মাসে ডাকযোগে নতুন সুবিধার তথ্য পাঠানো হবে। সুবিধাভোগীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২১ অক্টোবরের অর্থপ্রাপ্তির তারিখ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্মতারিখ ও সুবিধা পাওয়ার শ্রেণির ওপর। আর ৫ হাজার ১৮১ ডলারের সর্বোচ্চ মাসিক অঙ্কটি কেবল নির্দিষ্ট আয় ও অবসরের শর্ত পূরণকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই প্রত্যেকের নিজস্ব সুবিধার পরিমাণ ও পরবর্তী অর্থপ্রাপ্তির তারিখ জানতে ব্যক্তিগত সোশ্যাল সিকিউরিটি হিসাবের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবরে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বিতরণের নির্ধারিত সময়সূচি
অক্টোবরের সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট শুরু, জন্মতারিখ অনুযায়ী জেনে নিন টাকা পাওয়ার নির্ধারিত দিন

যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা বা সোশ্যাল সিকিউরিটির অক্টোবর মাসের অর্থ পেতে যাচ্ছেন লাখো উপকারভোগী। নির্ধারিত মাসিক সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী বুধবার, ১৪ অক্টোবর, অর্থ পাবেন যেসব উপকারভোগীর জন্ম মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে। এরপর জন্মতারিখ অনুযায়ী অক্টোবরের বাকি দিনগুলোতেও পর্যায়ক্রমে সুবিধাভোগীদের অর্থ পাঠানো হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রবীণ নাগরিকদের পাশাপাশি যোগ্য অন্যান্য ব্যক্তির জন্যও সামাজিক নিরাপত্তার অর্থ গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা। অনেকেই এই অর্থ দিয়ে বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিলসহ দৈনন্দিন ব্যয় মেটান। তাই প্রতি মাসে ঠিক কোন তারিখে অর্থ পাওয়া যাবে, তা জানা উপকারভোগীদের জন্য জরুরি। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তি ১৯৯৭ সালের ১ মে বা তার পরে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাওয়া শুরু করেছেন, তাঁদের অর্থ পাঠানোর তারিখ নির্ধারিত হয় জন্মতারিখের ভিত্তিতে। মাসের কোন তারিখে জন্ম, তার ওপর নির্ভর করে সাধারণত মাসের দ্বিতীয়, তৃতীয় অথবা চতুর্থ বুধবারে অর্থ দেওয়া হয়। অক্টোবরের বাকি অর্থ বিতরণের সময়সূচি হলো—   ১৪ অক্টোবর, বুধবার: যাঁদের জন্ম মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে।   ২১ অক্টোবর, বুধবার: যাঁদের জন্ম মাসের ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে।   ২৮ অক্টোবর, বুধবার: যাঁদের জন্ম মাসের ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে। অর্থাৎ, ১৪ অক্টোবর যাঁরা অর্থ পাবেন না, তাঁদের জন্যও মাসের পরবর্তী বুধবারগুলোতে নির্ধারিত কিস্তি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এই সময়সূচি মূলত জন্মতারিখভিত্তিক নিয়মের আওতায় থাকা উপকারভোগীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিছু সুবিধাভোগীর জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে। যাঁরা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে থেকেই সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পেয়ে আসছেন, তাঁদের অনেকের অর্থ সাধারণত প্রতি মাসের ৩ তারিখে দেওয়া হয়। তবে ওই তারিখ সপ্তাহান্ত বা সরকারি ছুটির দিনে পড়লে আগের কার্যদিবসে অর্থ পাঠানো হতে পারে। একইভাবে, যাঁরা সামাজিক নিরাপত্তার অর্থের পাশাপাশি সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই পান, তাঁদের ক্ষেত্রেও আলাদা সময়সূচি প্রযোজ্য হতে পারে। এসএসআই মূলত সীমিত আয় ও সম্পদসম্পন্ন যোগ্য প্রবীণ, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেয়। সাধারণত প্রতি মাসের প্রথম কার্যদিবসে এই অর্থ দেওয়া হয়। অক্টোবর মাসের এসএসআই অর্থ ১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার বিতরণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের বাকি সময়ের এসএসআই অর্থ বিতরণের সূচিতেও রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ। নভেম্বর মাসের অর্থ দেওয়া হবে ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার। কারণ, ১ নভেম্বর রবিবার হওয়ায় নির্ধারিত অর্থ আগের কার্যদিবসে পাঠানো হবে। ডিসেম্বর মাসের অর্থ দেওয়া হবে ১ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার। আর ২০২৭ সালের জানুয়ারির অর্থ দেওয়া হবে ৩১ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার। ১ জানুয়ারি সরকারি ছুটি থাকায় জানুয়ারির এসএসআই অর্থ আগের দিন পাঠানোর কথা রয়েছে। এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি: এসএসআইয়ের অর্থ পাওয়ার তারিখ এবং সাধারণ সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার তারিখ এক নয়। কেউ যদি দুই ধরনের সুবিধাই পান, তাহলে তাঁর সামাজিক নিরাপত্তার অর্থ সাধারণত মাসের ৩ তারিখে এবং এসএসআইয়ের অর্থ মাসের প্রথম দিনে দেওয়ার নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তবে ছুটি বা সপ্তাহান্তের কারণে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। উপকারভোগীদের নিজস্ব অর্থ পাওয়ার তারিখ নিশ্চিত করতে তাঁদের ব্যক্তিগত সামাজিক নিরাপত্তা অ্যাকাউন্টে থাকা পেমেন্টের তথ্য দেখা উচিত। নির্ধারিত তারিখে অর্থ না এলে ব্যাংক বা পেমেন্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য যাচাই করা যেতে পারে। একই সঙ্গে নিজের সুবিধার ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য সময়সূচি মিলিয়ে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে, অক্টোবর মাসে সামাজিক নিরাপত্তার অর্থ বিতরণ চলবে জন্মতারিখ ও সুবিধার ধরন অনুযায়ী। ১৪, ২১ ও ২৮ অক্টোবর সাধারণ মাসিক কিস্তির গুরুত্বপূর্ণ তারিখ। অন্যদিকে, এসএসআই সুবিধাভোগীদের জন্য নভেম্বরের অর্থ ৩০ অক্টোবরেই পাঠানো হবে। তাই সুবিধাভোগীদের নিজেদের পেমেন্টের ধরন বুঝে নির্ধারিত তারিখ জেনে রাখা প্রয়োজন।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০
সরকারি সুবিধার অর্থ নিয়ে জা লি য়া তির বিরুদ্ধে কঠোর শা স্তির প্রস্তাব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
আমেরিকানদের সঙ্গে জা লি য়া তি ঠেকাতে কঠোর ট্রাম্প, ফাঁ কি দিলেই দীর্ঘ জে ল

যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার, মেডিকেইড ও সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মসূচির অর্থ নিয়ে জা লি য়া তি করলে এবার কঠোর শা স্তির মুখে পড়তে হতে পারে। এ ধরনের অ প রা ধে দো ষী ব্যক্তিদের জন্য বাধ্যতামূলক ন্যূনতম জে লের মেয়াদ চালুর আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে জা লি য়া তির বিষয়টি জানার পরও তা ঠেকাতে ব্যর্থ রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।   শনিবার প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প কংগ্রেসকে এ বিষয়ে নতুন আইন করার আহ্বান জানান। তার প্রস্তাব কার্যকর হলে মেডিকেয়ার, মেডিকেইড ও সোশ্যাল সিকিউরিটি থেকে অর্থ আ ত্ম সা ৎ করে দো ষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্যারোল বা প্রবেশনে সাজা এড়ানোর সুযোগ থাকবে না।   ট্রাম্প বলেন, আমেরিকানদের অর্থ নি য়ে যারা জা লি য়া তি করবে, তাদের দীর্ঘ সময়ের জন্য জে লে যেতে হবে। চু রি করা অর্থের পরিমাণ যত বেশি হবে, শা স্তির মেয়াদও তত বাড়বে বলে জানান তিনি। একই ব্যক্তি দ্বিতীয়বার একই ধরনের অ প রা ধে দো ষী হলে তার শা স্তি দ্বিগুণ করার প্রস্তাবও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।   শুধু জা লি য়া তিকারীদের বিরুদ্ধেই নয়, বিষয়টি জেনেও ব্যবস্থা না নেওয়া রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিকদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের কথা বলেছেন ট্রাম্প। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা যদি জা লি য়া তির বিষয়টি জানেন এবং তা ঠেকানোর ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা না নেন, তাহলে আমেরিকান করদাতাদের যে অর্থ ক্ষ তি হয়েছে, তার জন্য তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হতে পারে।   ট্রাম্পের ভাষ্য, এই উদ্যোগের দুটি লক্ষ্য রয়েছে—একদিকে সরকারি সুবিধা কর্মসূচির অর্থ নিয়ে জা লি য়া তি করা ব্যক্তিদের নিরুৎসাহিত করা, অন্যদিকে যেসব কর্মকর্তা এসব অ নি য় ম দেখেও চোখ বন্ধ করে থাকেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা।   মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড হলো যোগ্য আমেরিকানদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি। অন্যদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মসূচির আওতায় অবসরকালীন আয়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়।   ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন তার প্রশাসন সরকারি সুবিধা কর্মসূচিতে জা লি য়া তি ঠেকাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত জা লি য়া তির অভিযোগে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে অ ভি য়ো গ আনে। এসব মামলায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ভুয়া দাবি জড়িত থাকার কথা জানানো হয়েছিল।   মার্চে ট্রাম্প ফেডারেল সুবিধা কর্মসূচিতে জা লি য়া তি, অপচয় ও অ প ব্যবহারের বিরুদ্ধে কাজ করতে ‘টাস্ক ফোর্স টু এলিমিনেট ফ্রড’ গঠন করেন। এর লক্ষ্য হলো সরকারি বিভিন্ন সুবিধা কর্মসূচিতে অ নি য় ম শনাক্ত করা এবং করদাতাদের অর্থ সুরক্ষিত রাখা।   তবে ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাব এখনো আইন হয়নি। বাধ্যতামূলক ন্যূনতম জে ল এবং কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়ের বিধান কার্যকর করতে কংগ্রেসকে আইন পাস করতে হবে।   ভিডিও বার্তার শেষ দিকে জা লি য়া তিকারীদের উদ্দেশে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এখন থেকে তাদের ওপর নজর রাখা হবে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০
২০৩২ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা চলছে
সোশ্যাল সিকিউরিটির টাকা ফুরিয়ে আসছে, ট্রাস্ট ফান্ড শেষ হতে পারে ২০৩২ সালে

সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর ও সারভাইভার সুবিধার জন্য ব্যবহৃত ট্রাস্ট ফান্ড ২০৩২ সালে শেষ হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, তহবিলের রিজার্ভ দ্রুত কমে আসছে। ফলে কংগ্রেস সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্তদের সুবিধা নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।   সোশ্যাল সিকিউরিটির এই তহবিল মূলত কর্মীদের বেতন থেকে আদায় করা পে-রোল ট্যাক্সের অর্থের ঘাটতি পূরণে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে সুবিধা দেওয়ার ব্যয় এবং সংগৃহীত অর্থের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হওয়ায় ট্রাস্ট ফান্ডের রিজার্ভ থেকে সেই ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে। তবে এই রিজার্ভ দ্রুত কমে যাওয়ায় ২০৩২ সালকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে।   তহবিলের অর্থ শেষ হয়ে গেলে বর্তমান আইনে সরকার শুধু তখনকার সময়ে সংগৃহীত অর্থের ভিত্তিতে সুবিধা পরিশোধ করতে পারবে। অর্থাৎ, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনো পরিবর্তন না এলে নির্ধারিত হারে পুরো সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ২০৩২ সালে ঠিক কত শতাংশ সুবিধা কমবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়।   সিনেটর বিল ক্যাসিডি ও ডিক ডারবিনসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা সতর্ক করেছেন, তহবিলের ঘাটতি পূরণে ব্যবস্থা না নিলে সুবিধা উল্লেখযোগ্য হারে কমতে পারে। তাদের দেওয়া একটি হিসাব অনুযায়ী, গড়ে ২ হাজার ৮৬ ডলার মাসিক সুবিধা পাওয়া কেউ ভবিষ্যতে কয়েকশ ডলার পর্যন্ত কম সুবিধা পেতে পারেন।   তবে এ ধরনের হিসাবকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। কারণ সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থায়ন নিয়ে কংগ্রেসে আইন পরিবর্তন হলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। নতুন রাজস্ব সংগ্রহ, কর কাঠামো পরিবর্তন, সুবিধার নিয়মে পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সমাধান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।   সমস্যা মোকাবিলায় ক্যাসিডি, ডারবিনসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা প্রমিজ অ্যাক্ট (PROMISE Act) নামে একটি দ্বিদলীয় প্রস্তাবও এনেছেন। এর লক্ষ্য সরাসরি সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা কমানো নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে তহবিলকে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল রাখার জন্য সমাধান তৈরির একটি প্রক্রিয়া শুরু করা।   প্রস্তাব অনুযায়ী, সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড জনগণের মতামত নিয়ে এমন একটি আইন প্রস্তাব তৈরি করবে, যাতে অন্তত ৫০ বছর ট্রাস্ট ফান্ডকে আর্থিকভাবে টেকসই রাখা যায়। পরে সেই প্রস্তাব কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠিয়ে পর্যালোচনা ও সংশোধনের সুযোগ থাকবে।   সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়ে সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়ে আইনপ্রণেতা ও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ রাজস্ব বাড়ানোর পক্ষে, কেউ সুবিধার কাঠামো পরিবর্তনের কথা বলছেন। অবসরের বয়স পরিবর্তন এবং উচ্চ আয়ের মানুষের কাছ থেকে আরও বেশি কর আদায়ের প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।   তাই ২০৩২ সাল ঘিরে এখন যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, সেটি মূলত ট্রাস্ট ফান্ডের রিজার্ভ শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে। কংগ্রেস আগামী বছরগুলোতে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের লাখো অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধার পরিমাণ কী হবে।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট বাড়ার নতুন পূর্বাভাস
২০২৭ সালে বাড়বে সোশ্যাল সিকিউরিটি! মিলছে ৩.৪ থেকে ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধির আভাস

যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীদের মাসিক পেমেন্ট ২০২৭ সালে ২০২৬ সালের তুলনায় কিছুটা বেশি বাড়তে পারে। আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর বিভিন্ন সংস্থার নতুন হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছরের কস্ট অব লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট বা কোলা ৩.৪ থেকে ৩.৬ শতাংশের মধ্যে হতে পারে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নয়। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর অক্টোবর মাসে ২০২৭ সালের চূড়ান্ত কোলা ঘোষণা করা হবে।   ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটির কোলা ছিল ২.৮ শতাংশ। আইন অনুযায়ী, প্রতি বছর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে কোলা নির্ধারণ করা হয়। এ জন্য ব্যবহৃত হয় ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ফর আরবান ওয়েজ আর্নার্স অ্যান্ড ক্লেরিক্যাল ওয়ার্কার্স বা সিপিআই-ডব্লিউ।   আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, এক বছর আগের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্য ৩.৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে কোলা নির্ধারণে ব্যবহৃত সিপিআই-ডব্লিউ বেড়েছে ৩.৫ শতাংশ। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সংস্থা ২০২৭ সালের কোলার নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে। কমিটি ফর আ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেট ৩.৪ শতাংশ বৃদ্ধির হিসাব দিয়েছে। এএআরপি তাদের সর্বশেষ পূর্বাভাসে ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে।   সিনিয়র সিটিজেনস লিগও ৩.৫ শতাংশ কোলা হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের হিসাবে, এই হারে বৃদ্ধি হলে গড়ে মাসিক সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট প্রায় ৬৭.৯০ ডলার বাড়তে পারে। গড় পেমেন্ট ১ হাজার ৯৪০.০৮ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৭.৯৮ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে এই হিসাব গড় সুবিধাভোগীর জন্য এবং প্রত্যেক ব্যক্তির প্রকৃত পেমেন্ট একই হারে বাড়বে এমন নয়।   এএআরপির আর্থিক নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রিচ জনসন বলেছেন, অনেক বয়স্ক মানুষ তাদের আয়ের বড় অংশের জন্য সোশ্যাল সিকিউটির ওপর নির্ভর করেন। তাই কোলা কত হতে পারে, তার আগাম ধারণা তাদের আগামী বছরের বাজেট পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারে। তবে তিনি জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য এখনো বাকি থাকায় বর্তমান পূর্বাভাস চূড়ান্ত নয়।   সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, ২০২৭ সালের কোলা ২০২৬ সালের অক্টোবরে ঘোষণা করা হবে। সেপ্টেম্বরের সিপিআই তথ্য প্রকাশের পর ১৪ অক্টোবর চূড়ান্ত হিসাব নির্ধারণের কথা রয়েছে। ফলে এখন যে ৩.৪ থেকে ৩.৬ শতাংশের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত হার কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।   তবে কোলা বাড়লেই যে বয়স্ক আমেরিকানদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা একই হারে বাড়বে, তা নিশ্চিত নয়। সিনিয়র সিটিজেনস লিগের নির্বাহী পরিচালক শ্যানন বেন্টন উল্লেখ করেছেন, বয়স্ক মানুষের খরচের ধরন কর্মজীবীদের তুলনায় আলাদা। বিশেষ করে হেলথ কেয়ারসহ বিভিন্ন খাতে তাদের ব্যয়ের চাপ সিপিআই-ডব্লিউ সূচকে পুরোপুরি প্রতিফলিত নাও হতে পারে।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
১২ লাখ ডলারের সঞ্চয়ে স্টেটভেদে বদলে যাচ্ছে অবসরজীবনের হিসাব
১২ লাখ ডলারে অবসরজীবন, কোনো স্টেটে ৪৪ বছর আবার কোথাও মাত্র ১৩ বছর

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষের ধারণা, স্বচ্ছন্দে অবসরজীবন কাটাতে প্রায় ১২ লাখ ডলার সঞ্চয় থাকা দরকার। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত শ্রোডার্সের এক জরিপেও এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে অবসরের পর এই অর্থ কতদিন চলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে বসবাস করছেন তার ওপর।   ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মানিলায়ন ১২ লাখ ডলার অবসর সঞ্চয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কত বছর চলতে পারবেন, তার একটি হিসাব করেছে। এতে দুটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে—একটি ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রতি মাসে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পাবেন, অন্য ক্ষেত্রে পাবেন না।   হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা। সেখানে ৬৭ বছর বয়সে অবসর নিলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ৪৪ দশমিক ৬ বছর চলতে পারে। অর্থাৎ সঞ্চয় শেষ হতে পারে ১১১ বছর বয়সের কাছাকাছি গিয়ে। সোশ্যাল সিকিউরিটি না থাকলেও এই অর্থ সেখানে প্রায় ২৩ দশমিক ৪ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে।   এরপর রয়েছে আলাবামা, মিসিসিপি, কানসাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। এসব রাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলার যথাক্রমে প্রায় ৪৩ দশমিক ১, ৪২, ৪০ দশমিক ৮ ও ৪০ দশমিক ৫ বছর চলতে পারে। ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, মিসৌরি, টেনেসি ও আরকানসাসেও একই অর্থ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় চলার হিসাব পাওয়া গেছে। টেনেসিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ বছর এবং সুবিধা ছাড়া প্রায় ২২ বছর চলতে পারে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোতে একই পরিমাণ অর্থ অনেক দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানিলায়নের বিশ্লেষণে হাওয়াইকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবস্থানগুলোর একটি হিসেবে পাওয়া গেছে। সেখানে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা থাকলেও ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ১৩ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে। হাওয়াইয়ের পর ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, আলাস্কা ও নিউইয়র্কেও অবসরের নির্দিষ্ট বাজেট তুলনামূলক দ্রুত শেষ হওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে।   তবে ১২ লাখ ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছানোও অনেক আমেরিকানের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। শ্রোডার্সের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগে তারা সাত অঙ্কের সঞ্চয় করতে পারবেন।   সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়েও অনিশ্চয়তা   এদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের দিকে কর্মসূচিটির তহবিল সংকটে পড়তে পারে এবং সংস্কার না হলে সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আইনপ্রণেতারা আলোচনা করছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন ও বিল ক্যাসিডি এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর তহবিলকে অন্তত ৫০ বছর আর্থিকভাবে টেকসই রাখার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের পথ তৈরি করা।   ক্যাসিডি ও সিনেটর টিম কেইন-এর আরেকটি প্রস্তাবে ৭৫ বছরের জন্য শেয়ারবাজারসহ তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক অর্থ ট্রেজারি বিভাগের অতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে জোগানের কথা রয়েছে।   অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি মোরেনো সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক করের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত এই কর প্রযোজ্য। তাদের যুক্তি, উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর করের আওতা বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যেতে পারে।   তবে রক্ষণশীল কয়েকটি সংগঠন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, কর বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে মজুরি ও কর্মসংস্থানে।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০