নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) সদরদপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিন বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ সদস্য পদোন্নতি লাভ করেছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আনন্দ ও গর্বের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৮ মে এনওয়াইপিডির সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মকর্তার হাতে পদোন্নতির সনদ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের কমিশনার জেসিকা টিশ।
পদোন্নতি পাওয়া বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তারা হলেন পুলিশ কর্মকর্তা তান্নি চন্দা, যিনি সার্জেন্ট পদে উন্নীত হয়েছেন। এছাড়া পুলিশ কর্মকর্তা সাফায়েত জামিল এবং পুলিশ কর্মকর্তা আশফাকুর রহমান ডিটেকটিভ পদে পদোন্নতি লাভ করেন। এই পদোন্নতির মাধ্যমে তিনজনই তাদের দায়িত্বের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এই অর্জনে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি ক্যাপ্টেন একেএম আলম, সহ-সভাপতি সার্জেন্ট ডিটেকটিভ স্কোয়াড এরশাদুর সিদ্দিক এবং সাধারণ সম্পাদক ডিটেকটিভ জামিল সারোয়ার এক যৌথ শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, এটি ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি সমগ্র বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয়।
বাপার গণমাধ্যম সমন্বয়কারী সার্জেন্ট জসিম মিয়া বলেন, কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই এই পদোন্নতি এসেছে। এই অর্জন আগামী প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
প্রবাসী কমিউনিটির নেতারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ও সাফল্য মূলধারার সমাজে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় করছে।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও পেশাদার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে পরিচিত। সেখানে বহু বাংলাদেশি-আমেরিকান সদস্য কর্মরত রয়েছেন, যারা নিজ নিজ দায়িত্বে দক্ষতা ও সেবার মাধ্যমে নিয়মিতভাবে স্বীকৃতি অর্জন করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে বিশ্বজুড়ে অনেকের মনেই চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এই প্রযুক্তির কারণে মানুষের পেশা পুরোপুরি হুমকির মুখে পড়বে, এমনটি মানতে নারাজ খোদ মাইক্রোসফটের একজন সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। তাঁর মতে, এআই কাজের গতি বাড়িয়ে ডেডলাইন বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দারুণভাবে সাহায্য করলেও, এটি কখনোই মানুষের সম্পূর্ণ বিকল্প হতে পারবে না। সম্প্রতি ৩৪ বছর বয়সী এই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার রাহুল দেবিকর এআই নিয়ে তাঁর দীর্ঘ বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল এলাকার বাসিন্দা রাহুল ২০১৮ সাল থেকে টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন। গত কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে সফটওয়্যার তৈরির পুরো প্রক্রিয়াকে আমূল বদলে দিয়েছে, তিনি তা একদম কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। কাজের ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো স্বীকার করে তিনি জানান, এআই টুলস মূলত উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু সফটওয়্যার আর্কিটেকচার বা সূক্ষ্ম সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে মানুষের অভিজ্ঞতা ও তদারকির কোনো বিকল্প নেই। এআই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কাজের গতি বাড়ানোর একটি বড় উদাহরণও দিয়েছেন রাহুল। তিনি সম্প্রতি ‘মাইক্রোসফট ৩৬৫ এজেন্টস এসডিকে’ নামক একটি ওপেন-সোর্স লাইব্রেরি তৈরির প্রজেক্টে কাজ করেছেন, যা মূলত এআই এজেন্ট তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়। মাইক্রোসফটে এটিই ছিল তাঁর প্রথম ওপেন-সোর্স প্রজেক্ট। তিনি জানান, এআইয়ের সহায়তায় মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই একটি সাধারণ ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে প্রজেক্টটি পাবলিক প্রিভিউ পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, এআই মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং কর্মদক্ষতা বাড়ানোর এক অসাধারণ হাতিয়ার।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি স্কুলে শ্রেণিকক্ষে মানবসদৃশ (হিউম্যানয়েড) রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) শিক্ষক-সহকারী আনার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সেনেকা জাতিগোষ্ঠীর অ্যালেগেনি অঞ্চলে অবস্থিত সালামানকা হাইস্কুলে এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি শুরু করতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তবে শিক্ষকেরা এই উদ্যোগকে ‘অযৌক্তিক’ বলে আখ্যায়িত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, মানুষের মতো দেখতে রোবট এনে মূলত মহান শিক্ষকতা পেশাকে চরমভাবে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি, স্থানীয় আদিবাসীদের একাংশও এই প্রকল্পটিকে তাদের সংস্কৃতির প্রতি চরম উদাসীনতা হিসেবে দেখছেন। ‘স্যালি’ নামের এই হিউম্যানয়েড রোবটটি তৈরি করেছে টরন্টোভিত্তিক কোম্পানি রিয়েলবোটিকস, যার দাম পড়েছে ৫৭ হাজার ৫৯০ মার্কিন ডলার। সালামানকা হাইস্কুলের পরিচালনাকারী ক্যাটারাগাস কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথমবারের মতো এ ধরনের হিউম্যানয়েড রোবট ও এআই শিক্ষক-সহকারী ব্যবহার করতে যাচ্ছে। রিয়েলবোটিকস এম-সিরিজের এই রোবটটি স্বাভাবিক কথোপকথন, মুখের অভিব্যক্তি ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা দেবে। যেসব শিক্ষার্থীর এটি ব্যবহারের অনুমতি থাকবে, তারা চাইলে দিনে ২৪ ঘণ্টাই ভার্চ্যুয়ালি এই রোবটের সহায়তা নিতে পারবে বলে কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। তবে অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সালামানকা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ওই হাইস্কুলের শিক্ষক লেসি পিহলব্লাড। রিয়েলবোটিকসের সফটওয়্যার ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষণ, তথ্য সংগ্রহের ধরন এবং রোবটটির রেকর্ডিং ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য যখন শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে সরে আসার কথা ভাবছে, তখন এমন উদ্যোগকে চরম ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন তিনি। আরও মানুষের মতামত নেওয়ার আগ পর্যন্ত স্কুল ডিস্ট্রিক্টকে এই রোবট ও সফটওয়্যারের ব্যবহার স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এই শিক্ষক নেতা। শিক্ষক নেতাদের মতে, শিশুদের সামাজিক বিকাশের জন্য মানবিক সম্পর্ক অত্যন্ত জরুরি। সালামানকা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের মূল সংগঠন ‘নিউইয়র্ক স্টেট ইউনাইটেড টিচার্স’-এর সভাপতি মেলিন্ডা পারসনের মতে, অল্প বয়সী শিক্ষার্থীরা কেবল মানুষের সঙ্গে মিশতে এবং দ্বন্দ্ব মেটাতে শিখছে। এমন সময়ে তাদের সামনে প্রাণহীন যন্ত্র দাঁড় করিয়ে দেওয়া মোটেও ভালো কোনো বুদ্ধি নয়। অন্যদিকে, সালামানকা হাইস্কুলের প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী আদিবাসী আমেরিকান। এমন একটি স্কুলে হিউম্যানয়েড রোবট পরীক্ষার স্থান হিসেবে বেছে নেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, যদিও এ বিষয়ে সেনেকা জাতিগোষ্ঠীর নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্মার্টওয়াচ বা ফিটনেস ব্যান্ড পরার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজের মধ্যেই রক্তচাপের প্রবণতা, হৃদস্পন্দন, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ও শ্বাসপ্রশ্বাসের হার পর্যবেক্ষণ করবে টয়লেট সিট। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রচেস্টারভিত্তিক স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কাসানা বাজারে এনেছে এমনই সেন্সরযুক্ত ‘স্মার্ট সিট’। প্রাথমিকভাবে এর দাম রাখা হয়েছে ১৯৯ ডলার। চলতি জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যটির বিক্রি শুরু করেছে কাসানা। সাধারণ টয়লেটের প্রচলিত সিট খুলে তার জায়গায় নতুন এই সিট বসানো যায়। এরপর ব্যবহারকারী যখনই সেখানে বসবেন, সিটে থাকা বিভিন্ন সেন্সর স্বয়ংক্রিয়ভাবে শারীরিক তথ্য সংগ্রহ করবে। সেই তথ্য দেখা যাবে কাসানার মোবাইল অ্যাপে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, স্মার্ট সিট রক্তচাপের প্রবণতা, হৃদস্পন্দন, হার্ট রেট ভ্যারিয়েবিলিটি, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের হারসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সূচক পর্যবেক্ষণ করতে পারে। ব্যবহারকারীকে আলাদা করে কোনো ডিভাইস পরতে বা প্রতিবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা মনে রাখতেও হয় না। এই প্রযুক্তির পেছনে রয়েছে প্রায় এক দশকের গবেষণা। রচেস্টার ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে শুরু হওয়া গবেষণা থেকে প্রযুক্তিটির বিকাশ ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা নিকোলাস কন ২০১৮ সালে কাসানা প্রতিষ্ঠা করেন। পণ্যটির গবেষণা, উন্নয়ন ও উৎপাদনের বড় অংশই হয়েছে রচেস্টার এলাকায়। কাসানা এখন পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ২০২২ সালে সিরিজ বি বিনিয়োগে আসে ৩ কোটি ডলার। কোম্পানির প্রেসিডেন্ট অস্টিন ম্যাককর্ডের মতে, স্মার্ট সিটের অন্যতম বড় সুবিধা হলো স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহারকারীকে নতুন কোনো অভ্যাস গড়ে তুলতে হয় না। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য সূচক পর্যবেক্ষণ করতে হয় এমন মানুষের জন্য প্রযুক্তিটি কাজে লাগতে পারে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে কাসানা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বর্তমানে বাজারজাত করা স্মার্ট সিটটি সাধারণ স্বাস্থ্য ও সুস্থতা পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি। এটি কোনো রোগ নির্ণয়ের যন্ত্র নয় এবং চিকিৎসক বা প্রচলিত চিকিৎসা পরীক্ষার বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা উচিত নয়। ব্যবহারকারীর শারীরিক সূচকের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন ও প্রবণতা বুঝতে সহায়তা করাই এর উদ্দেশ্য। কাসানার প্রযুক্তির আগের সংস্করণ ‘হার্ট সিট’ ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ছাড়পত্র পেয়েছিল হৃদস্পন্দন ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরিমাপের জন্য। তবে বর্তমানে সরাসরি গ্রাহকদের জন্য বিক্রি হওয়া ‘স্মার্ট সিট’কে কোম্পানি চিকিৎসা যন্ত্র নয়, বরং সাধারণ স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ পণ্য হিসেবে বাজারজাত করছে। কাসানার ওয়েবসাইটে স্মার্ট সিটের সীমিত সময়ের প্রাথমিক মূল্য ১৯৯ ডলার দেখানো হয়েছে। এই দামের সঙ্গে প্রথম বছরের সেবাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কোম্পানিটি আশা করছে, দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক একটি কাজের সঙ্গে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ যুক্ত হওয়ায় বিশেষ করে বয়স্কদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত পরিবর্তন বুঝতে প্রযুক্তিটি নতুন সুযোগ তৈরি করবে।